Tuesday, November 24, 2015

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাহি ওয়াসালামকে নিজেদের মত সাধারন মানুষ বলাটা কাফের-মুশরিকদের রীতিঃ

এ সম্পর্কে আল-কুরআনের কতিপয় আয়াতআয়াত দ্বারা উদাহরণ দেয়া হলঃ– 

® হযরত নূহ আলাইহিস সালাম এর সম্প্রদায়ঃ-

فقال الملؤا الذين كفروا من قومه ماهذا الابشر مثلكم 

অর্থ : তাঁর (নুহ আঃ এর) সম্প্রদায়ের সর্দারেরা তাদের অনুসারীদের বলল, ” এ লোকটি তোমাদের মতই একজন মানুষ ছাড়া আর কিছু নয় !” 
★ সূরা মু’মিনুন ২৪ 

® সামুদ জাতির লোকেরা হযরত সালেহ আলাইহিস সালাম সম্পর্কে বলেছিলোঃ-

قالوا انما انت من المسحرين ما انت الا بشر مثلنا 

অর্থ : তোমাকে যাদু করা হয়েছে। তুমি আমাদের মত মানুষ ছাড়া আর কি ? 
★ সূরা শুয়ারা ১৫৩-১৫৪ 

® ইনতাকিয়া শহরের অধিবাসীরাও হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম এর প্রতিনিধিদের বলেছিলোঃ-

 قالوا ما انتم الا بشر مثلنا 

অর্থ – তোমরা তো আমাদের মতই মানুষ !” 
★ সূরা ইয়াসিন ১৫ 

® ফেরাউন ও তার অনুসারীরা মুসা আলাইহিস সালাম ও হারুন আলাইহিস সালাম সম্পর্কে বলেছিলোঃ-

 فقالوا انؤمن لبشرين مثلنا 

অর্থ : আমরা কি আমাদের মত দু’জন মানুষের উপর ঈমান আনব ? 
★ সূরা মু’মিনুন ৪৭  

® আল্লাহর হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে লক্ষ্য করে কাফেররা বলতোঃ– 

واسروا النجوي الذين ظلموا هل هذا الابشر متلكم 

অর্থ : এ জালেমরা পরস্পর এবলে কানাঘুষা করে যে, এ লোকটি ( নবীজী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তোমাদের মত মানুষ ছাড়া আর কি ?”
★ সূরা আম্বিয়া ৩

Monday, November 23, 2015

গায়েবানা জানাযা সুন্নাহ পরিপন্থী (২য় পর্ব)


Hadiths :


আল্লাহর রাসুল (সঃ) জীবনে ১বার হাবশার বাদশা নাজাশীর মৃত্যুতে সাহাবীদের নিয়ে তার গায়েবানা জানাযা আদায় করেছেন | (সহীহ বুখারী ১/১৯৭,৪৪৩,৪৪৬,হাঃ১১৮৮,১২৫৪,১২৬৩ সহীহ মুসলিম ১/৬৫৬ হাঃ৯৫২) 


Explanation : 

মাযহাবের ইমামগন ও মুহাদ্দিসগনের আকিদাঃ


এ হাদীসটিকে মুহাদ্দিস গন নানা ভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তবে এরপর রাসুলুল্লাহ (সঃ) বা কোন সাহাবী বা তাবেয়ী বা তাবে তাবেয়ীন কোনদিন কোন মুসলিমের গায়েবানা জানাযা পড়েছেন বলে জানা যায় না। (লামেউদ দুরারী ৪/৪৩২;ফত হুল ক্বদীর ১/৪৩২) 

বহু সাহাবী দূর দুরান্তে শহীদ হয়েছে কেউ মারা গেছে কিন্তু রাসুলুল্লাহ (সঃ) কারো গায়েবানা জানাযা পড়েন নাই। ঈমাম শাফেয়ী ছাড়া বাকী তিন ইমাম এর বিরোধি ছিল তবে শাফেয়ীদের এক্ষেত্রে শর্ত হচ্ছেঃদূর দুরান্ত মাইয়েত যার জানাযা পড়ানো হয় নাই তার জন্য ই এ জানাযা সবাই একবার ই আদায় করা যাবে | 
(যাদুল মা'আদ লিবনেল কাইয়ুম রাহ,) 

হানাফী, মালেকী ও হাম্বলীদের ও ঊলামায়েকেরামদের মতে জানাযার নামাযে মৃত ব্যাক্তি সামনে থাকা জরুরী নতুবা গায়েবানা জানাযা পড়া যাবেনা আর গায়েবানা জানাযা সুন্নাহ সম্মত নয় |
Reference :
★ বাহরুর রায়েক;
★  ফতোয়ায়ে শামী; 
★ আহকামুল মাইয়েত; 
★ বেহেশতী জেওয়ার; 
★ যাদুল মা'আদ- বাবে সলাতুল জানায়েয;
★ আল মাজমূ'-৫/২৫৩;
★ আল মুগনী ২/৩৮৬;
★ যারকানী ২/১০; 
★ ইলাউস সুনান ২/২৩৪;
★ ফয়দুল বারী ২/৪৬৯;
★ মুগনী মুহতাজ ১/১৬৫;
★ কাশফুল কান্না ২/১২৬;
★ শরহুছ ছগীর ১/৫৬৯) 


ইমাম আযম আবু হানীফা (রাহ.) ও তার অনুগামী সকল ইমাম এবং ইমাম মালেক (রাহ.)এর মতে- গায়েবানা জানাযা জায়েয নেই। চাই দাফনের আগে হোক বা পরে। মাইয়্যিত শহরের ভিতরে থাক বা বাইরে। (মাবসূতে সারাখসী- ২/৬৭, দারুল কুতুবিল ইলমিয়া, বৈরুত, মানহুল জালীল- ১/৩৭৬ পৃষ্ঠা)।

ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহ.) থেকে জায়েয হওয়ার একটি উক্তি থাকলেও স্বীয় শাগরিদ ইবনে আবী মুসা তাঁর থেকে নাজায়েয হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। হাম্বলী মাযহাবের প্রসিদ্ধ ফিক্বাহ্বিদ আল্লামা ইবনে কুদামা (রাহ.) এ প্রসঙ্গে লিখেছেন, অর্থাৎ- “ইমাম মালেক (রাহ.) ও ইমাম আবু হানীফা (রাহ.) উভয়ে বলেন, গায়েবানা জানাযা জায়েয নেই। ইমাম আহমদ (রাহ.) থেকে ইবনে আবী মুসা উক্ত ইমামদ্বয়ের অনুরূপ (নাজায়েয হওয়ার) একটি উক্তি বর্ণনা করেছেন।” (আলমুগনী, ইবনে কুদামা (রাহ.)- ২/৩৮৬ পৃষ্ঠা)।

ইমাম শাফেয়ী (রাহ.) ও ইমাম আহমদ বিন হাম্বল (রাহ.)এর মতে মাইয়্যিত ভিন্ন শহরে থাকলে গায়েবানা জানাযা জায়েয। কিন্তু শহরের ভিতরে থাকার মাইয়্যেতের গায়েবানা জানাযা জায়েজ নয়। মাইয়্যেতকে উপস্থিত করতে হবে। (আল-ফিকহুল ইসলামী ওয়া আদিল্লাতুহু- ১/৫০৪, মাকতাবাতুল হক্কানিয়্যাহ, পাকিস্তান, আল মাজমু- ৫/২৫৩)।

আল্লামা ইবনু আবদিল বার (রাহ.) গায়েবানা জানাযা নাজায়েয হওয়ার উক্তিকে জমহুর ফুক্বাহা তথা সংখ্যাগরিষ্ঠ উলামায়ে কেরামের মতামত বলে অভিহিত করেছেন। যেমনটি উল্লেখ করেছেন তাবলিগিদের গুরু মাওলানা যাকারিয়া। তিনি বলেন, “হানাফী ও মালেকী ওলামাগণ বলেন, গায়েবানা জানাযা শরীআত সম্মত নয়। ইবনু আবদিল বার (রাহ.) এ উক্তিকে অধিকাংশ ওলামাদের মত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।” (লামিউদ দারারী- ৪/৪৩২ পৃষ্ঠা)।


গায়েবানা জানাযা জায়েয প্রবক্তাদের দলীল ও তার খন্ডনঃ

দলীল

বুখারী শরীফে হযরত আবু হুরাইরা (রা) সূত্রে একটি বর্ণনায় রয়েছে, “মহানবী (সা.) সাহাবায়ে কেরামকে বাদশাহ নাজাশীর মৃত্যু সংবাদ দিলেন। অতঃপর জানাযার জন্য অগ্রসর হলেন। সাহাবায়ে কেরাম তাঁর পিছনে কাতার বন্দী হয়ে দাঁড়ালে নবীজী (সা.) চারটি তাকবীর বললেন।” (বুখারী শরীফ, দিল্লী- ১/ ১৬৭ পৃষ্ঠা)।

একই বর্ণনা সহীহ ইবনে হিব্বানে (১/১৬৭) হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে ।

আর নাজাশী যেহেতু মদীনায় উপস্থিত ছিল না, অথচ রাসূল সাঃ তাদের নাজাশীর জানাযা নামায পড়িয়েছেন, তাই বুঝা গেল যে, গায়েবানা জানাযা পড়া জায়েজ। রাসূল সাঃ থেকেই গায়েবানা জানাযা পড়ার প্রমাণ রয়েছে।



উত্তর

১ম জবাব

প্রথমে আমরা দেখে নেই উক্ত হাদীসটি কোন রাবী বর্ণনা করেছেন? উক্ত হাদীসের বর্ণনাকারীগণ নাজাশীর জানাযা সংশ্লিষ্ট হাদীস থেকে গায়েবানা জানাযা জায়েজ হবার দলীল হিসেবেই বুঝেছেন না ভিন্ন কিছু?

উক্ত হাদীসের প্রসিদ্ধতম রাবী রয়েছেন তিনজন। যথা-

১- হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ।

২- হযরত জাবের বিন আব্দুল্লাহ রাঃ।

৩- হযরত ইমরান বিন হুসাইন রাঃ।



বাদশা নাজাশী ইন্তেকাল করেছেন নবম হিজরীর রজব মাসে। {হাশিয়ায়ে মুয়াত্তা মালিক-২০৮}

আর হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ ইন্তেকাল করেছেন ৫৯ হিজরীতে। অর্থাৎ উক্ত ঘটনার পর হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ প্রায় ৫০ বছর জীবিত ছিলেন। হযরত জাবের বিন আব্দুল্লাহ রাঃ ইন্তেকাল করেছেন ৭৯ হিজরীতে ইন্তেকাল করেছেন। সেই হিসেবে তিনি উক্ত ঘটনার পর ৭০ বছর জীবিত ছিলেন। আর হযরত ইমরান বিন হুসাইন রাঃ উক্ত ঘটনার পর জীবিত ছিলেন প্রায় ৪৩ বছর।

কিন্তু হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ এ ৫০ বছরের মাঝে, হযরত জাবের রাঃ পুরো ৭০ বছরের মাঝে এবং হযরত ইমরান বিন হুসাইন রাঃ তার জীবনের এই ৪৩ বছরের মাঝে কোনদিন কারো গায়েবানা জানাযা পড়েছেন, কিংবা গায়েবানা জানাযা পড়তে বলেছেন কেউ প্রমাণ দেখাতে পারবে?

এত দীর্ঘ বেঁচে থাকার পরও উক্ত ঘটনা থেকে এসকল সাহাবাগণ যদি গায়েবানা জানাযা জায়েজের প্রমাণই বুঝে থাকতেন, তাহলে তাদের জমানায় ইন্তেকাল হওয়া অসংখ্য সাহাবীদের গায়েবানা জানাযা তাদের পড়ার কথা। কিন্তু একজনের গায়েবানা জানাযা পড়ানোর কোন প্রমাণ না কোন হাদীস গ্রন্থে আছে না কোন ইতিহাস গ্রন্থে পাওয়া যায়। যা পরিস্কার প্রমাণ করছে যে, উক্ত ঘটনা দ্বারা কোন সাহাবী গায়েবানা জানাযা জায়েজ বুঝেননি। বরং বিষয় ছিল ভিন্ন। আসলে কি হয়েছিল তখন? আমরা যদি উক্ত ঘটনার বর্ণনা সম্বলিত সকল হাদীসকে সামনে রাখি, তাহলে আমাদের কাছে উক্ত বিষয়টি পরিস্কার হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।



২য় জবাব



নাজাশীর ঘটনা সম্বলিত হাদীসমূহ





হযরত ইমরান বিন হুসাইন রাঃ বলেন- وَمَا نَحْسِبُ الْجِنَازَةَ إِلَّا مَوْضُوعَةً بَيْنَ يَدَيْهِতথা আমরা জানাযার ব্যাপারে এটাই অনুধাবন করছিলাম যে, তা আমাদের সামনে রাখা আছে। {মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-২০০০৫}



হযরত ইমরান বিন হুসাইন রাঃ বলেন- وَهُمْ لَا يَظُنُّونَ إِلَّا أَنَّ جَنَازَتَهُ بَيْنَ يديهতথা “সাহাবায়ে কেরামের বিশ্বাস এটাই ছিল যে, জানাযা হুযূর (সা.)এর সামনে উপস্থিত। {সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-৩১০২}



এছাড়া উক্ত বর্ণনাটি হযরত আবান (রাহ.) সূত্রে হযরত ইমরান ইবনে হাছীন থেকে বর্ণিত হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে যে, “যখন নবীজী (সা.)এর পিছনে জানাযা পড়েছি, তখন নাজাশীর লাশকে আমাদের সামনে উপস্থিত দেখতে পেয়েছি।” (উমদাতুল কারী শরহুল বুখারী- ৭/৩৩, মাকতাবায়ে তাওফীকিয়া, মিসর; ফাতহুল বারী- ৩/২৪৩ দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ)।



আবু আওয়ানাতে এ শব্দ এসেছে যে, نحن لا نرى ان الجنازة قدمناতথা আমরা দেখছিলাম যে, আমাদের সামনে জানাযা রাখা।



উপরোক্ত সকল বর্ণনার দিকে তাকালে পরিস্কার হয়ে যাবে, নাজাশীর জানাযা বর্ণনাকারী সাহাবীগণ কেন উক্ত ঘটনা দ্বারা গায়েবানা জায়েজের দলীল মনে করেননি। নাজাশীর জানাযার বর্ণনা করলেও জীবনে কোনদিন নিজে গায়েবানা জানাযা পড়েননি। কারণ তারা পরিস্কার বুঝেছিলেন নাজাশীর জানাযার নামাযটি গায়েবানা জানাযা নয়। বরং উপস্থিত ব্যক্তির জানাযা। রাসূল সাঃ এর মুজেযা স্বরূপ নাজাশীকে নবীজী সাঃ এর সামনে উপস্থিত করে দেয়া হয়েছিল। আর সেই জানাযা সামনে নিয়ে নবীজী সাঃ জানাযা পড়িয়েছেন। আর সামনে নিয়ে জানাযা পড়ার নাম উপস্থিত ব্যক্তির জানাযা গায়েবানা জানাযা নয়। সাহাবাগণ এ ভেদ জানার কারণে কোন সাহাবী জীবনে কোনদিন গায়েবানা জানাজা পড়েননি। কিংবা গায়েবানা জানাযা পড়ার দাবিও করেননি, কিংবা গায়েবানা জানাযার পক্ষে উক্ত হাদীসের দলীলও পেশ করেননি। কারণ তারা জানতেন আসলে উক্ত ঘটনাটি একটি মুজেজা। যাতে নাজাশী গায়েব ছিল না, আল্লাহর কুদরতে নবীজী সাঃ এর মুজেজা স্বরূপ উপস্থিত ছিল।



দূরের বস্তু উপস্থিত হয়ে যাওয়ার মুজেজার প্রমাণ কি?



আল্লাহ তাআলার জন্য কোন কিছুই অসম্ভব নয়। নবীদের মুজেজা আর ওলীদের কারামত সত্য। এটাই আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআতের আকিদা। রাসূল সাঃ থেকে আল্লাহ তাআলা অনেক মুজেজা প্রকাশিত করেছেন। এর মাঝে এটাও ছিল যে, মাঝে মাঝে দূরের বস্তুকে কাছে করে দিতেন। এসব করায় রাসূল সাঃ এর নিজের কোন ক্ষমতা ছিল না। পুরোটাই আল্লাহ প্রদত্ব।


বেশ কিছু মুজেজাপূর্ণ ঘটনায় দূরের বস্তু কাছে দেখেছেন রাসূল সাঃ। যেমন-



রাসূল সাঃ মদীনায় ছিলেন। তুমুল যুদ্ধ চলছিল তখন মুতা প্রান্তরে। সাহাবাগণ জীবন বাজি রেখে দ্বীনের জন্য লড়াই করে যাচ্ছিলেন। মদীনায় বসে শত শত মাইল দূরের মুতা প্রান্তরের বর্ণনা রাসূল সাঃ দিচ্ছিলেন। বলতেছিলেন, “জায়েদ ঝান্ডা নিয়েছে এবং শহীদ হয়ে গেছে। তারপর ঝান্ডা জাফর নিয়েছে সেও শহীদ হয়ে গেছে। তারপর ঝান্ডা আব্দুল্লাহ বিন রাওয়াহা নিয়েছে সেও শহীদ হয়ে গেছে।” এ পর্যায়ে রাসূল সাঃ কেঁদে দিলেন। বলতে লাগলেন-“এবার ঝান্ডা খালিদ বিন ওয়ালিদ নিয়েছে আর বিজয়ী হয়ে গেছে।”। {সহীহ বুখারী-১/১৬৭}



মক্কায় অবস্থান করা অবস্থায় হাজার মাইল দূরের বাইতুল মাকদিসের পূর্ণ হালাত দেখে দেখে কাফেরদের প্রশ্নের জবাব দিয়েছিলেন। {বুখারী-১/৫৪৮}



হাবশা, মুতা আর বাইতুল মাকদিসতো দূনিয়ার স্থান। আমাদের নবীতো মদীনায় বসে থেকে জান্নাত ও জাহান্নাম দেখেছেন। {বুখারী-১/৭৭,১০৩,১২৬,১৪৪,১৬৪}



৩য় জবাব

এ ঘটনা রাসূল সাঃ এর সাথে বৈশিষ্টমন্ডিত। যদি রাসূল সাঃ এর সাথে বৈশিষ্টমন্ডিত না হতো, তাহলে রাসূল সাঃ পরবর্তীতে অন্যান্য সাহাবীদের গায়েবানা জানাযা পড়তেন। খুলাফায়ে রাশেদীন ও অন্যান্য সাহাবাগণও পড়তেন। অথচ কারো থেকেই গায়েবানা জানাযা পড়ার কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। মালেকী মাযহাবের ইমাম আল্লামা ইল্লিশ রহঃ লিখেছেনঃ “মদীনায় নাজাশীর গায়েবানা জানাযা পড়ার বিষয়টি রাসূলের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ছিল। কেননা, উম্মত রাসূলের জানাযা আদায় করার প্রতি অধিক আগ্রহী হওয়া সত্ত্বেও তাঁর গায়েবানা জানাযা আদায় করেনি। এবং নাজাশীর লাশকে অলৌকিকভাবে রাসূলের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। ফলে রাসূল (সা.) নাজাশীর লাশ সামনে দেখেই তার জানাযা পড়েছেন। যেমন, মাইয়্যিত ইমামের সামনে থাকা অবস্থায় ইমাম মাইয়িতকে দেখতে পায়, কিন্তু অনেক মুক্তাদী দেখতে পায় না। আর এ ক্ষেত্রে নামায সহীহ হওয়ার ব্যাপারে কোন মতানৈক্য নেই।” (মানহুল জালীল- ১/৩১৬-৩১৭)।

৪র্থ জবাব

শায়েখ জাকারিয়া লিখেনঃ, “আমার নিকট সঠিক এটাই মনে হয় যে, ইমাম বুখারী (রাহ.) এ মাসআলাটিতে হানাফী ও মালেকী মতকে সমর্থন করেছেন এবং “আল-জানাযাতু আলাস সুফূফ” তথা ‘জানাযাতে কাতারবন্দী হওয়া’ শিরোনাম স্থাপন করে ইঙ্গিত করেছেন যে, নাজাশীর জানাযা দৃশ্যমান ছিল; গায়েব ছিল না। আর এটাই উক্ত মাযহাবদ্বয়ের প্রসিদ্ধ ব্যাখ্যা (যা আলোচ্য বিষয়কে সমর্থন করে)। তাইতো হাদীস থাকা সত্ত্বেও তিনি “আল-গায়েবু আলাস সফূফ” তথা ‘অনুপস্থিত ব্যক্তির জানাযা’ অধ্যায় স্থাপন করেননি। তাছাড়া বুখারী শরীফে শিরোনাম স্থাপনের নীতিমালার ৬৫ নম্বরে উল্লেখ রয়েছে, কোন মাসআলা ইমাম বুখারী (রাহ.)এর মতামতের পরিপন্থী হলে শিরোনাম হিসেবে উল্লেখ করেন না”। (হাশীয়া লামিউদ দারারী শরহুল বুখারী- ২/১২২, মাকতাবাতুল আশরাফিয়া দিল্লী)।

সুতরাং বুঝা গেল যে, ইমাম বুখারী রহঃ নিজেই উক্ত হাদীসকে গায়েবানা জানাযা জায়েজের দলীল মনে করেন নি।



Sunday, November 22, 2015

ইসলামের দৃষ্টিতে গায়েবানা জানাযা সুন্নাহ পরিপন্থীঃ


    গায়েবানা জানাযা`` হুযুর পাক(ছ. ও সা. বেশুমার) একবার মাত্র করেছিলেন। এ কর্ম (আ'মল) মহান আল্লাহ্ পাক হুযুর পাক (ছ. ও সা. বেশুমার)'কে প্রদত্ত ইখতিয়ারের অনন্য বৈশিষ্ঠের নিদর্শণ।


    • অমুসলিম দেশে জানাযা ছাড়াই দাফন হওয়ার কারণে হুযুর পাক (ছ. ও সা. বেশুমার), বাদশাহ নাজাশী (তাঁর প্রতি সালাম)'র অনূপস্থিত (গায়েবানা) জানাযা পড়েছিলেন (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/১৬৫২) (আল-জাওহারুন নাক্বী শরহ সুনানুল বায়হাক্বী ৪/৫১)।

    • বাদশাহ্ নাজাশী (তাঁর প্রতি সালাম)'র দূরবর্তী স্থানে থাকা অবস্থায় পৃথিবীর তৎকালীন মানুষ জানতে না পারলেও তাঁর মুছলিম হওয়ার জ্ঞান এবং মরে যাওয়ার পর জানাযা ছাড়া কবরস্থ হওয়ার জ্ঞান, মহান আল্লাহ্ পাক প্রদত্ত তাঁর (ছ. ও সা. বেশুমার) মুজিযা বা অদৃশ্য (গয়িব) জ্ঞান (ইলম)। সুতরাং, জানাযা হয়েছে এরূপ ব্যক্তির গায়েবানা জানাযা পড়া জায়েয নয় (বিস্তারিত দ্র. ছালাতুর রাসূল, পৃঃ ১৫১-১৫২)।


    • ইবনু ওমর (তাঁর প্রতি সালাম) তাঁর ভাই আছেম(তাঁর প্রতি সালাম) এর জানাযা তিনদিন পরে কবরকে সামনে রেখে পড়েছেন (বায়হাক্বী ৪/৪৯ পৃঃ)
    • ছাহাবি হাযরাত ইমরান বিন হুছাইন (সকলের প্রতি ছালাম) বলেন, ``[বাদশাহ্ নাজাশী(তাঁর প্রতি ছালাম)'র যানাজা কালে এটাই অনূধাবন করছিলাম যে, তাঁর মুবারাক দেহ আমাদের সামনে মওজুদ (রাখা) রয়েছে।`` মাছনাদে আহমাদ:২০০০৫।



    • ছাহাবি হাযরাত ইমরান বিন হুছাইন (সকলের প্রতি ছালাম) বলেন, ``সম্মানিত ছাহাবি (সকলের প্রতি ছালাম)'গণের বিশ্বাস এটাই ছিল যে, বাদশাহ্ নাজাশী(তাঁর প্রতি ছালাম)'র মুবারাক দেহ হুযুর পাক (ছ. ও ছালাম বেশুমার)'র সামনে মওজুদ (রাখা) রয়েছে।`` ছহীহ ইবনে হিব্বান:৩১০২।



    •  হাযরাত আবান (তাঁর প্রতি ছালাম)'র সূত্রে ছাহাবি হাযরাত ইমরান বিন হুছাইন (সকলের প্রতি ছালাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে। সেখানে বর্ণিত হয়েছে, ``যখন হুযুর পাক (ছ. ও ছালাম বেশুমার)'র পেছনে যানাজা পড়ছিলাম তখন বাদশাহ্ নাজাশী(তাঁর প্রতি ছালাম)'র মুবারাক দেহ আমাদের সামনে হাযির (উপস্থিত) দেখতে পাচ্ছিলাম``।


    ★ উমদাতুল ক্বরি শারহুল বুখারি: ৭/৩৩; মাকতাবাতুল তাওফিকিয়া, মিশর; 
    ★ আল ফাতহুল বারি: ৩/২৪; দারুল ক্বুতুবুল ইলমিয়্যাহ্।

    এরুপ অনূধাবন হুযুর পাক (ছ. ও ছালাম বেশুমার)'কে আল্লাহ্ পাক প্রদত্ত তাঁর (ছ. ও ছালাম বেশুমার) সম্মানিত ছাহাবি (সকলের প্রতি ছালাম)'গণের প্রতি মুযিজা (আল্লাহ্ পাক পদত্ত গয়িবি ক্ষমতা)।



    হুযুর পাক (ছ. ও ছালাম বেশুমার), চার খলিফা (সকলের প্রতি ছালাম) সহ সকল সম্মানীত ছাহাবি (সকলের প্রতি ছালাম), তাবিয়িন (সকলের প্রতি ছালাম) কোন দিন কারো অনূপস্থিত (গয়িব) যানাজা করেন নিঃ

    • আল্লামা ইবনুল কায়্যিম বলেন, ``মুছলমানদের এমন অনেক ব্যাক্তি মৃত্যুর স্বাদ নিয়েছেন যাঁরা হুযুর পাক (ছ. ও ছা. বেশুমার) থেকে দূরে (জাহিরিতে গয়িব) ছিলেন; কিন্তু তিনি কারো অনূপস্থিত (গয়িবানা) যানাজা করেন নি।`` যাদুল মা'আদ:১/৫১৯।

    মুহাম্মদুর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নাম শুনে বৃদ্ধা আংগুল বা শাহাদাত আংগুলিতে চুম্বন করাঃ



    হাদীস নং-১

    ‘‘হযরত ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বাহ (রা) বলেন, 

    বনী ইসরাঈলের মধ্যে এক ব্যক্তি ছিল অত্যন্ত পাপী, যে ২০০ বছর পর্যন্ত আল্লাহর নাফরমানী করেছে। যখন সে মৃত্যুবরণ করে মানুষেরা তাকে এমন স্থানে নিক্ষেপ করল, যেখানে আবর্জনা ফেলা হতো। তখন হযরত মুসা (আ) এর প্রতি ওহী এলো যে, লোকটিকে ওখান থেকে তুলে যেন তার ভালভাবে জানাযার নামায পড়ে তাঁকে দাফন করা হয়। হযরত মুসা (আ) আরজ করলেন, হে আল্লাহ! বনী ইসরাঈল সাক্ষ্য দিচ্ছে যে, লোকটি ২০০ বছর পর্যন্ত তোমার নাফরমানী করেছিল। ইরশাদ হলো, হ্যাঁ, তবে তার একটি ভাল অভ্যাস ছিল। যখন সে তাওরাত শরীফ তেলাওয়াত করতো, যতবার আমার হাবীব হযরত মুহাম্মদ (সা) এর নাম মোবারক দেখত তখন সেটা ততবার চুম্বন করে চোখের উপর রাখত এবং তার প্রতি দুরূদ পাঠ করত। এজন্য আমি তাকে ক্ষমা করে দিয়েছি এবং সত্তর জন হুর স্ত্রী স্বরূপ তাকে দান করেছি।’’ 
    *উক্ত হাদীসের ব্যাপারে কোনো মুহাদ্দিস মন্তব্য করেননি। তাদের নীরবতা পালন দ্বারা বুঝা গেল হাদিসটি গ্রহণ করেছেন বলে এই হাদিসের ব্যাপারে কোন মুহাদ্দিসের বিরোধীতা পাওয়া যায়নি।

    Reference :

    ক. ইমাম আবু নঈম : হুলিয়াতুল আউলিয়া : ৩/১৪২ পৃ.
    খ. আল্লামা বুরহানুদ্দীন হালভী : সিরাতে হালবিয়্যাহ ১ম খন্ড পৃষ্ঠা-৮৩ 
    গ. আল্লামা শফী উকাড়ভী : জিকরে জামীল : ৩৫৪ পৃষ্ঠা
    ঘ. জালালুদ্দীন সুয়ূতি : খাসায়েসুল কোবরা :১/­৩০,হাদিস : ৬৮, মাকতুত-তাওফিকহিয়্যাহ, বয়রুত।
    ঙ. আল্লামা আবদুর রহমান ছাফূরী : নুযহাতুল মাযালিস : ২/১৪২ পৃ.
    চ. আল্লামা দিয়ার বকরী : আল খামীস ফি আহওয়ালে আনফাসে নাফীস : ১/২৮২ পৃ.

    হাদীস নং ২

    * এ ব্যাপারে হযরত আদম (আ) এর আমলঃ
    বিখ্যাত মুফাস্সির আল্লামা ইসমাঈল হাক্কী (রহ) তাঁর উল্লেখযোগ্য তাফসীর তাফসীরে ‘রুহুল বায়ানে’ লিখেন,
    -‘‘কাসাসুল আম্বিয়া কিতাবে বর্ণিত আছে যে, হযরত আদম (আ) জান্নাতে অবস্থানকালে মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সা)‘র সাথে সাক্ষাতের জন্যে আগ্রহ প্রকাশ করেন। অত:পর আল্লাহ তা‘য়ালা তাঁর নিকট ওহী প্রেরণ করেন যে, হে আদম! তিনি তোমার পৃষ্ঠ হতে শেষ যামানায় প্রকাশ হবেন। তা শুনার পর তিনি জান্নাতে অবস্থানকালে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা জানালেন। বিনিময়ে আল্লাহ তায়ালা ওহী প্রেরণ করলেন, যে নূরে মুহাম্মদী (সা) তোমার ডান হাতের শাহাদাত আঙ্গুলীর মধ্যে স্থানান্তরিত করেছি, তখন সে অঙ্গ হতে তাসবীহ পাঠ আরম্ভ হলো। এজন্যই এই আঙ্গুলকে তাসবীহ পাঠকারী আঙ্গুল বলা হয়। যেমন ‘রওযাতুল ফায়েক’ কিতাবেও বর্ণিত আছে, অথবা আরেক বর্ণনায় রয়েছে, আল্লাহ তায়ালা আপন হাবীব (সা) এর সৌন্দর্য প্রকাশ করলেন দুই বৃদ্ধাঙ্গুলীর উপর যেভাবে আয়নাতে দেখা যায়। তখন আদম (আ) দুই বৃদ্ধাঙ্গুলে চুম্বুন করে স্বীয় চোখের উপর মালিশ করলেন। এটি দলীল হিসেবে প্রমাণিত হলো যে, তাঁর সন্তানাদীর জন্য। অতঃপর জিবরাঈল (আ) এই ঘটনা হুযুর (সা) কে জানালেন। হুযুর (সা) বললেন, যেই ব্যক্তি আযানের মধ্যে আমার নাম মোবারক শুনে দুই বৃদ্ধাঙ্গুলী চুম্বন করবে আর চোখে মালিশ করবে, সে কখনো অন্ধ হবে না।’’

    Reference :

    ক.আল্লামা ইসমাঈল হাক্কী : তাফসীরে রুহুল বয়ান : ৭/২২৯ : সূরা মায়েদা আয়াত : ৫৭ নং এর ব্যাখ্যা খ.আবদুর রহমান ছাফুরী, নুযাহাতুল মাযালিস,২/৭৪পৃ.

    হাদীস নং-৩

    * হযরত খিযির (আ) কর্তৃক রাসূল (সা) এর নাম শুনে চুমু খাওয়ার আমল বর্ণিতঃ

    ইমাম আবু আব্বাস আহমদ বিন আবি বকর ইয়ামানী (রহ) তাঁর লিখিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ موجبات الرحمة و عزائم المغفرة এর মধ্যে হযরত খিযির (আ) থেকে বর্ণিত আছে, যে ব্যক্তি মুয়াজ্জিনের কণ্ঠে ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মদার রাসূলূল্লাহ’ শোনে বলবে مرحبا بحبيبى و قرة عينى محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم ) মারহাবা বি হাবিবি ওয়া কুররাতো আইনী মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ (সা) অতঃপর স্বীয় বৃদ্ধাঙ্গুলীদ্বয় চুম্বন করে চোখে লাগাবে, তাহলে তার চোখে কখনও ব্যথা হবে না এবং সে কোন দিন অন্ধ হবে না।’’ 

    Reference :

    ক. আল্লামা ইমাম সাখাভী : মাকাসিদুল হাসানা : ১/৩৮৩ : হাদিস : ১০২১
    খ. আল্লামা আযলূনী : কাশফুল খাফা : ২/২৭০ : হাদিস : ২২৯৬
    গ. আল্লামা মোল্লা আলী ক্বারী : মওদ্বুআতুল কবীর : ১০৮ পৃ
    ঘ. আল্লামা মুফতী আহমদ ইয়ার খাঁন নঈমী : জাআল হক : ২/২৪৬ পৃ

    হাদীস নং-৪

    *হযরত আবু বকর (রা) এর আমল এবং সনদ তাত্ত্বিক বিশ্লেষনঃ

    হযরত আবু বকর (রা) হতে বর্ণিত, তিনি মুয়ায্যিনকে ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার’ রাসূলূল্লাহ বলতে শোনলেন, তখন তিনিও তা বললেন এবং বৃদ্ধাঙ্গুলীদ্বয়ে চুমু খেয়ে তা চোখে বুলিয়ে নিলেন। তা দেখে রাসূল (সা) ইরশাদ করেন : যে ব্যক্তি আমার বন্ধুর ন্যায় আমল করবে, তার জন্য আমার সুপারিশ বৈধ হয়ে গেল।’’ 
    উক্ত হাদিসটি সম্পর্কে গ্রহণযোগ্য মুহাদ্দিসগণের মতামত আমি তুলে ধরব, যাঁরা হাদিসটি সম্পর্কে বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন।

    ১. ইমাম সাখাভীর অভিমতঃ

    আল্লামা ইমাম সাখাভী (রহ) হযরত আবু বকর (রা) এর বর্ণিত হাদিসটি সংকলন করে বলেন, لا يصح ‘হাদিসটি সহিহ নয়।’ 

    হাদিসটি সহিহ নয় বললে, “হাসান” হাদিস বুঝায়। এমনকি মোল্লা আলী ক্বারী (রহ) বলেন, لا يصح لا ينافى الحسن-
    -‘‘কোন মুহাদ্দিসের বক্তব্য হাদিসটি সহিহ নয়-তা দ্বারা হাদিসটি “হাসান” হওয়াতে কোন অসুবিধা বা নিষেধ করে না।’’ ইতিপূর্বে আমি ইমাম সাখাভীর বক্তব্যও পেশ করেছি।
    বুঝা গেল, হাদিসটি কমপক্ষে “হাসান” হাদিস যা দলীল হিসেবে দাড় করানোর গ্রহণযোগ্যতা রাখে। 
    (প্রমানিত হাদিস জাল বানানোর স্বরুপ উন্মোচন বই)

    ২. আল্লামা মোল্লা আলী ক্বারী (রহ) এর অভিমতঃ

    আল্লামা মোল্লা আলী ক্বারী (রহ) তাঁর গ্রন্থে ইমাম সাখাভী (রহ.)‘র রায় পেশ করে সমাধানের কথা বলেন যে-
    ‘‘আমার কথা হলো হাদিসটির সনদ যেহেতু হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা) পর্যন্ত প্রসারিত (মারফূ হিসেবে প্রমাণিত), সেহেতু আমলের জন্য এতটুকুই যথেষ্ট। কেননা হুযুর (সা) ইরশাদ করেছেন, তোমরা আমার পর আমার সুন্নাত ও আমার খোলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাতকে আকড়ে ধরো।’’ 
    দেখুন! আল্লামা মোল্লা আলী ক্বারী (রহ) বলেছেন যে, এতটুকুই যথেষ্ট যেহেতু হযরত আবু বকর (রা) আমলটি করেছেন এবং তিনি পর্যন্ত সনদটি প্রসারিত।

    Reference :

    খ. ইমাম আবদুর রহমান সাখাভী : মাকাসিদুল হাসানা : ৩৮৩ : হাদিস : ১০২১
    গ. আল্লামা ইমাম আযলূনী : কাশফুল খাফা : ২/২৫৯ : হাদিস : ২২৯৬
    ঘ. আল্লামা মোল্লা আলী ক্বারী : আসরারুল মারফূ : ৩১২ পৃষ্ঠা : হাদিস : ৪৫

    শায়খুল ইসলাম ডাঃ তাহেরুল কারেদীর বই সমুহ ডাউনলোড করুনঃ


    ডঃ তাহেরুল কাদেরীর ৮০০ বইয়ের মধ্যে বাংলা অনুদিত যেসব বই নেটে এসেছে সব এক সাথেঃ

    click করতে সমস্যা? নিচের সকল বইয়ের জন্য এখানে যানঃ

    https://goo.gl/psoruA

    ১) মাকামে মাহমুদঃ

    http://www.amarislam.com/maqam--e--mahmud.html

    ২) স্মরনীয়দের সান্নিধ্যেঃ

    http://www.amarislam.com/shoronioder-shanniddhe.html

    ৩) হাদিসের আলোকে শাফায়াতে সাইয়্যেদুল মুরসালিনঃ

    http://www.amarislam.com/hadis--er--aloke-shafayat--e--syed--ul--mursalin.html

    ৪) নবী করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নামাজের পদ্ধতিঃ

    http://www.amarislam.com/nabi-karim--er--namaz--er--poddhoti.html

    ৫) নবীদ্রোহীদের নিদর্শনঃ

    http://www.amarislam.com/nabi-drohider-nidorshon.html

    ৬) হায়াতুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) :

    http://www.amarislam.com/hayat--un--nabi.html

    ৭) হাদিসের আলোকে প্রিয় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাহি ওয়াসাল্লাম) এর পরকালীন জীবনঃ

    http://www.amarislam.com/hadis--er--aloke-prio-nabir-porokalin-jibon.html

    ৮) ইমান ও ইসলামঃ

    http://www.amarislam.com/imaan-o-islam.html

    ৯) শরীয়তের আলোকে জশনে মিলাদুন্নবী (দুরুদ) :

    http://www.mediafire.com/download/1qhdl9g9cvkkysu/Shariat-er+Aloke+Jashne+Miladunnabi+%28SAWS%29.pdf

    ১০) আত্মার বিপর্যয় ও প্রতিকারঃ

    http://www.amarislam.com/attar-biporjoy-o-tar-protiker.html

    ১১) সন্ত্রাস ও খারেজী ফিতনা (১ম ভাগ)

    http://www.mediafire.com/download/jeet4tdo2fmy26y/Khareji+Fitna+1st+part.pdf

    ১২) ইসলামের বুনিয়াদি শিক্ষাঃ

    http://www.amarislam.com/islamer-buniyadi-shikhkha-imaan.html

    ১৩) কুরআনুল কারীমে নবী চরিত্রঃ

    http://www.amarislam.com/quran-karime-nabi-choritro.html

    ১৪) দোয়া ও দোয়ার নিয়মাবলিঃ

    http://www.amarislam.com/dua--o--duar-niyamaboli.html

    ১৫) ইছলে সওয়াব এর শরয়ী বিধানঃ

    http://www.amarislam.com/isal--e--sawab--er--shoroe-biddhan.html

    ১৬) তাসাউফের আসল রুপঃ

    http://www.amarislam.com/tasauf-er-ashol-rup.html

    ১৭) ইমাম ও মুহাদ্দিসিনের দৃষ্টিতে উসীলার বৈধ্যতাঃ

    http://www.amarislam.com/imam-o-muhaddisin--er--drishtite-wasilar-boidhota.html

    ১৮) আস সীরীনে জামালে মোস্তফা (দুরুদ)

    http://www.amarislam.com/a---siran--e--jamal--e--mustafa.html

    ১৯) মদীনার সনদ এর আইনী বিশ্লেষনঃ

    http://www.amarislam.com/madinar-shonod--er--ainy-bisleshon.html

    ২০) হাদিসের আলোকে হাসনাইন কারিমের পদমর্যাদাঃ

    http://www.amarislam.com/hadis--er--aloke-hasnain-karim--er--podo-morzada.html

    ২১) ইলম ও আলিমের মর্যাদাঃ

    http://www.amarislam.com/ilm--o--alim--er--morzada.html

    Thursday, November 19, 2015

    লা-মাযহাবীদের শায়খ নাসিরুদ্দীন আলবানী স্বরুপ উন্মোচনঃ


    ♦ উক্ত ভাইদের মূলত “বুখারী শরীফ মানি” এই দাবিতেই সোচ্চার দেখা যায় বেশি।
    (যদিও কতটুুুকু মানেন তা গোড়ায় হাত দিলেই বুঝায় যায়) তাই শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী সাহেব ইমাম বুখারী সম্পর্কে কি বলেছেন তা দিয়েই শুরু করছিঃ

    ★ ইমাম বোখারী (রহঃ) কে অমুসলিম আখ্যায়িত করা-

    •• শায়খ নাসীরুদ্দিন আলবানী (রহঃ) ইমাম বোখারী (রহঃ) কে অমুসলিম আখ্যায়িত করেছেন। ইমাম বোখারী (রহঃ) বোখারী শরীফের “কিতাবুত তাফসীর” এ সূরা কাসাস এর ৮৮ নং আয়াতের যে ব্যাখ্যা করেছেন, সে সম্পর্কে নাসীরুদ্দিন আলবানী (রহঃ) লিখেছেন,


    ♣ ﺍﻥ ﻫﺬﺍ ﺍﻟﺘﺄﻭﻳﻞ ﻻ ﻳﻘﻮﻝ ﺑﻪ ﻣﺆﻣﻦ ﻣﺴﻠﻢ ﻭﻗﺎﻝ ﺇﻥ ﻫﺬﻩ ﺍﻟﺘﺄﻭﻳﻞ ﻫﻮ ﻋﻴﻦ ﺍﻟﺘﻌﻄﻴﻞ .

    •• “এ ধরণের ব্যাখ্যা কোন মুমিন-মুসলমান দিতে পারে না। তিনি বলেন, এ ধরণের ব্যাখ্যা মূলতঃ কুফরী মতবাদ “তা’তীলের” অন্তর্ভূক্ত।


    ★ ইমাম বোখারী (রহঃ) সূরা কাসাসের ৮৮ নং আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখেছেন,

    ♣ ﻛُﻞُّ ﺷَﻰْﺀٍ ﻫَﺎﻟِﻚٌ ﺇِﻻَّ ﻭَﺟْﻬَﻪُ ﺇﻻ ﻣﻠﻜﻪ , ﻭﻳﻘﺎﻝ : ﺇﻻ ﻣﺎ ﺃُﺭﻳﺪ ﺑﻪ ﻭﺟﻪ ﺍﻟﻠﻪ-

    •• “আল্লাহর সত্তা ব্যতীত সব কিছুই ধ্বংস হয়ে যাবে”

    • এখানে তিনি “ওয়াজ্হুন” শব্দের ব্যাখ্যা করেছেন “মুলকুন” তথা আল্লাহর রাজত্ব। তখন অর্থ হবে, সবকিছু ধ্বংস হবে, তাঁর রাজত্ব ব্যতীত। অথবা “ওয়াজহুন” দ্বারা যা উদ্দেশ্য হবে, তা ব্যতীত সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাবে।

    ★[ফাতাওয়াশ শায়েখ আলবানী, পৃষ্ঠা-৫২৩, মাকতাবাতুত তুরাছিল ইসলামী, প্রথম প্রকাশ ১৯৯৪ইং]

    ★★ আর ইমাম বোখারী যদি সালাফীদের নিকট অমুসলিমই হয়ে থাকে, তবে আহলে হাদীস বা সালাফীরা কিভাবে ইমাম বোখারী বর্ণিত হাদীস গ্রহণ করে?


    ♦হানাফী মাযহাবকে খ্রিস্টধর্মের সাথে তুলনাঃ

    •• শায়াখ নাসীরুদ্দিন আলবানী (রহঃ) হানাফী মাযহাবকে খ্রিস্টধর্মের সাথে তুলনা করে লিখেছেন,

    ♣ﻫﺬﺍ ﺻﺮﻳﺢ ﻓﻲ ﺃﻥ ﻋﻴﺴﻰ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻳﺤﻜﻢ ﺑﺸﺮﻋﻨﺎ ﻭﻳﻘﻀﻲ ﺑﺎﻟﻜﺘﺎﺏ ﻭﺍﻟﺴﻨﺔ ﻻ ﺑﻐﻴﺮﻫﻤﺎ ﻣﻦ ﺍﻻﻧﺠﻴﻞ ﺃﻭ ﺍﻟﻔﻘﻪ ﺍﻟﺤﻨﻔﻲ ﻭ ﻧﺤﻮﻩ-

    •• “এ থেকে স্পষ্ট যে, হযরত ঈসা (আঃ) আমাদের শরীয়ত অনুযায়ী ফয়সালা দিবেন এবং কিতাব ও সুন্নাহের মাধ্যমে বিচার করবেন। তিনি ইঞ্জিল, হানাফী ফিকহ কিংবা এজাতীয় অন্য কিছু দ্বারা বিচার করবেন না”


    ★ [আল্লামা মুনযীরি (রহঃ) কৃত “মুখতাসারু সহিহীল মুসলিম” এর উপর শায়েখ নাসীরুদ্দিন আলবানী (রহঃ) এর টিকা সংযোজন, তৃতীয় সংস্করণ, ১৯৭৭, আল-মাকতাবুল ইসলামি, পৃষ্ঠা-৫৪৮]

    ★এ খানে শায়খ নাসীরুদ্দিন আলবানী খুব সহজে হানাফী মাযহাবকে খ্রিস্টধর্মের বিকৃত ইঞ্জিলের সাথে তুলনা করেছেন; অথচ তিনি এতটুকু চিন্তা করেননি যে, তাঁর নিজের পিতা একজন সুদৃঢ় হানাফী আলেম। আমরা সকলেই জানি, কেউ যদি ইঞ্জিল অনুযায়ী বিবাহ-শাদী করে, তবে ইসলামে তার বিবাহ বিশুদ্ধ হবে না।
    শায়খ নাসীরুদ্দিন আলবানী (রহঃ) এর নিজের বক্তব্য অনুযায়ী তাঁর পিতা এমন একটি মতবাদের মাধ্যমে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন, যা বিকৃত ইঞ্জিলের সমগোত্রীয়। এখন তিনি যদি হানাফী মাযহাবকে বিকৃত ইঞ্জিলের সাথে তুলনা করেন, তবে আমাদের কারও আপত্তি করার পূর্বে তাঁর নিজেরই সতর্ক হওয়া উচিৎ। কেননা একথা বলার দ্বারা তার নিজের পিতা-মাতারই বিবাহ বিশুদ্ধ হয় না।



    ♦ এছাড়া তিনি তার জীবনে দীর্ঘ একটি সময় নিজেও হানাফী ছিলেন। তাঁর জীবনীতে লেখা হয়েছে,

    ﺍﻟﺤﻨﻔﻲ ( ﻗﺪﻳﻤﺎً ) ، ﺛﻢ ﺍﻹﻣﺎﻡ ﺍﻟﻤﺠﺘﻬﺪ ﺑﻌﺪ-

    [সাবাতু মুয়াল্লাফাতিল আলবানী, আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আশ্-শামরানী, পৃষ্ঠা-২, ১৬]


    তাব
    লিগ 
    জামাত  
    এর 
    সাথে   
    চুলাচুলি লড়াইঃ











    ﻭﻳﻘﻮﻝ ﻋﻨﻪ : ﺇﻧﻪ ﻏﺪﺓ ﻛﻐﺪﺓ ﺍﻟﺒﻌﻴﺮ
    ﺛﻢ ﻳﻘﻮﻝ ﻣﺴﺘﻬﺰﺋﺎ ﺿﺎﺣﻜﺎ : ﺃﺗﻌﺮﻓﻮﻥ ﻏﺪﺓ-

    •• “আল্লাহ তায়ালা তোমার হাত অবশ করে দিক এবং তোমার জিহ্ক্ষাকে কর্তন করুক ।

    [কাশফুন নিকাব, পৃষ্ঠা-৫২]

    ★• তিনি আরও বলেন , সে হল উটের প্লেগ রোগের মত একটা মহামারী (গুদ্দাতুল বায়ীর)। অতঃপর তিনি হাসতে হাসতে উপহাস করে বললেন, তোমরা কি জানো, উটের প্লেগ কী?

    ★ ড. ইউসুফ আল-কারযাবী সম্পর্কে শায়েখের উক্তিঃ 
    তিনি ড. ইউসুফ আল-কারযাবী সম্পর্কে বলেছেন,











    ♣ ﺍﺻﺮﻑ ﻧﻈﺮﻙ ﻋﻦ ﺍﻟﻘﺮﺿﺎﻭﻱ ﻭﺍﻗﺮﺿﻪ ﻗﺮﺿﺎ-

    •• “তুমি ইউসুফ কারযাবী থেকে তোমার দৃষ্টি ফিরিয়ে রাখো এবং তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করো”

    তার সম্পর্কে আরও বলেছেন,

    ♣ ﺇﻥ ﻳﻮﺳﻒ ﺍﻟﻘﺮﺿﺎﻭﻱ ﻳﻔﺘﻲ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﺑﻔﺘﺎﻭﻯ ﻣﺨﺎﻟﻔﺔ ﻟﻠﺸﺮﻳﻌﺔ ﻭ ﻟﻪُ ﻓﻠﺴﻔﺔ ﺧﻄﻴﺮﺓ-

    •• “ইউসুফ আল-কারযাবী শরীয়ত বিরোধী ফতোয়া প্রদান করে, তার কাছে রয়েছে ভয়ঙ্কর সব দর্শন”

    ♦শাইখুল ইসলাম আল্লামা ইবনে তাইমিয়া 

    ••হাদীসুল গদীর সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে শায়েখ নাসীরুদ্দিন আলবানী (রহঃ) আল্লামা ইবনে তাইমিয়া সম্পর্কে লিখেছেন,

    ♣ﺇﻧﻨﻲ ﺭﺃﻳﺖ ﺷﻴﺦ ﺍﻹﺳﻼﻡ ﺍﺑﻦ ﺗﻴﻤﻴﺔ ، ﻗﺪ ﺿﻌﻒ ﺍﻟﺸﻄﺮ ﺍﻷﻭﻝ ﻣﻦ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ ، ﻭﺃﻣﺎ ﺍﻟﺸﻄﺮ ﺍﻵﺧﺮ ، ﻓﺰﻋﻢ ﺃﻧﻪ ﻛﺬﺏ ! ﻭﻫﺬﺍ ﻣﻦ ﻣﺒﺎﻟﻐﺎﺗﻪ ﺍﻟﻨﺎﺗﺠﺔ ﻓﻲ ﺗﻘﺪﻳﺮﻱ ﻣﻦ ﺗﺴﺮﻋﻪ ﻓﻲ ﺗﻀﻌﻴﻒ ﺍﻷﺣﺎﺩﻳﺚ ﻗﺒﻞ ﺃﻥ ﻳﺠﻤﻊ ﻃﺮﻗﻬﺎ ﻭﻳﺪﻗﻖ ﺍﻟﻨﻈﺮ ﻓﻴﻬﺎ . ﻭﺍﻟﻠﻪ ﺍﻟﻤﺴﺘﻌﺎﻥ-

    ••আমি শায়খ ইবনে তাইমিয়াকে দেখেছি, তিনি হাদীসের প্রথম অংশকে দুর্বল বলেছেন এবং হাদীসের শেষ অংশকে তিনি মিথ্যা মনে করেছেন। আমার ধারণামতে “হাদীসকে যয়ীফ বলার ক্ষেত্রে এটি ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) এর বাড়াবাড়ি, যা তাঁকে হাদীসটি যয়ীফ বলতে উদ্বুদ্ধ করেছে; অথচ তিনি হাদীস বর্ণনার বিভিন্ন পরম্পরা খতিয়ে দেখেননি। এবং এ ব্যাপারে গভীর দৃষ্টিপাত করেননি।”


    ♠ [সিলসিলাতুস সহীহা, খণ্ড-৪, পৃষ্ঠা-৩৪৩-৩৪৪, হাদীস নং ১৭৫০


    ★ ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) “কালিমুত তাইয়্যিব” নামক বিখ্যাত একটি কিতাব রচনা করেছেন। শায়খ নাসীরুদ্দিন আলবানী (রহঃ) সে কিতাবের হাদীসগুলো বিশ্লেষণ করে একটি কিতাব লিখেছেন, সহীহুল কালিমিত তাইয়্যিব। এ কিতাবে নাসীরুদ্দিন আলবানী লিখেছেন-


    ♣ ﺃﻧﺼﺢ ﻟﻜﻞ ﻣﻦ ﻭﻗﻒ ﻋﻠﻲ ﻫﺬﺍ ﺍﻟﻜﺘﺎﺏ ( ﺍﻟﻜﻠﻢ ﺍﻟﻄﻴﺐ ﻹﺑﻦ ﺗﻴﻤﻴﺔ ) ﻭ ﻏﻴﺮﻩ : ﺃﻥ ﻻ ﻳﺒﺎﺩﺭ ﺇﻟﻲ ﺍﻟﻌﻤﻞ ﺑﻤﺎ ﻓﻴﻪ ﻣﻦ ﺍﻷﺣﺎﺩﻳﺚ، ﺇﻻ ﺑﻌﺪ ﺍﻟﺘﺄﻛﻴﺪ ﻣﻦ ﺛﺒﻮﺗﻬﺎ، ﻭ ﻗﺪ ﺳﻬﻠﻨﺎ ﻟﻪ ﺍﻟﺴﺒﻴﻞ ﺇﻟﻲ ﺫﻟﻚ ﺑﻤﺎ ﻋﻠﻘﻨﺎ ﻋﻠﻴﻪ ، ﻓﻤﺎ ﻛﺎﻥ ﺛﺎﺑﺘﺎ ﻣﻨﻬﺎ ﻋﻤﻞ ﺑﻪ … ﻭﺇﻻ ﺗﺮﻛﻪ، ( ﺻﺤﻴﺢ ﺍﻟﻜﻠﻢ ﺍﻟﻄﻴﺐ – ﺹ -৪)-

     “যারা আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) এর এ কিতাবটি সম্পর্কে অবগত রয়েছে, তাদেরকে নসীহত করব, এ কিতাবে যে সমস্ত হাদীস রয়েছে, সেগুলোর প্রতি তারা যেন আমল করতে অগ্রসর না হয়, যতক্ষণ না হাদীসগুলো শক্তিশালীভাবে প্রমাণিত হয়। আমি এর উপর যে টিকা সংযোজন করেছি, এর মাধ্যমে প্রত্যেকের জন্য বিষয়টি সহজ করে দিয়েছি। সুতরাং যে সমস্ত হাদীস প্রমাণিত হবে, সেগুলোর উপর আমল করা হবে, নতুবা সেটি পরিত্যাগ করা হবে”

    ♠ [সহীহুল কালিমিত তাইয়্যিব, পৃষ্ঠা-৪]


    শায়েখ নাসীরুদ্দিন আলবানীর এ কথা উল্লেখ করে আল্লামা হাবীবুর রহমান আজমী (রহঃ) লিখেছেন,

    ♣ ﻭ ﻟﻴﺲ ﻳﻌﻨﻲ ﺍﻷﻟﺒﺎﻧﻲ ﺑﺬﻟﻚ ﺇﻻ ﺃﻧﻪ ﻳﺠﺐ ﻋﻠﻲ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﺃﻥ ﻳﺘﺨﺬﻭﻩ ﺇﻣﺎﻣﺎ ﻭ ﻳﻘﻠﺪﻭﻩ ﺗﻘﻠﻴﺪﺍ ﺃﻋﻤﻲ، ﻭﻻ ﻳﻌﺘﻤﺪﻭﺍ ﻋﻠﻲ ﺇﺑﻦ ﺗﻴﻤﻴﺔ ﻭ ﻻ ﻋﻠﻲ ﻏﻴﺮﻩ ﻣﻦ ﺍﻟﺜﻘﺎﺕ ﺍﻷﺛﺒﺎﺕ ﻣﻦ ﺍﻟﻤﺤﺪﺛﻴﻦ، ﻓﻲ ﺛﺒﻮﺕ ﺍﻷﺣﺎﺩﻳﺚ ﺣﺘﻲ ﻳﺴﺄﻟﻮﺍ ﺍﻷﻟﺒﺎﻧﻲ ﻭ ﻳﺮﺟﻌﻮﺍ ﺇﻟﻲ ﺗﺤﻘﻴﻘﺎﺗﻪ !-

    •• “অর্থাৎ নাসীরুদ্দিন আলবানীর একথা বলার দ্বারা মূল উদ্দেশ্য হল, মানুষ যেন আবশ্যকভাবে তাঁকে ইমাম বানায় এবং তাঁর অন্ধ অনুকরণ করে। এবং যতক্ষণ পর্যন্ত আলবানীকে জিজ্ঞেস না করবে এবং তার বিশ্লেষণকে গ্রহণ না করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লামা ইবনে তাইমিয়াসহ অন্য কোন বিশ্বস্ত ও গভীর পাণ্ডিত্যের অধিকারী মুহাদ্দিসের হাদীসের উপরও নির্ভর করবে না।

    জালালুদ্দীন সূয়ূতী (রহঃ) সম্পর্কে শায়খ নাসীরুদ্দিন আলবানী লিখেছেন,

    ♣ ﻓﻴﺎ ﻋﺠﺒﺎً ﻟﻠﺴﻴﻮﻃﻲ ﻛﻴﻒ ﻟﻢ ﻳﺨﺠﻞ ﻣﻦ ﺗﺴﻮﻳﺪ ﻛﺘﺎﺑﻪِ ﺍﻟﺠﺎﻣﻊ ﺍﻟﺼﻐﻴﺮ ﺑﻬﺬﺍ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ-

    “কী আণ্ডর্য! জালালুদ্দিন সূয়ূতী তাঁর জামে সগীরে কিভাবে এ হাদীস উল্লেখ করতে একটু লজ্জাবোধ করলেন না!
    তিনি জালালুদ্দিন সূয়ূতী (রহঃ) সম্পর্কে আরও লিখেছেন-

    ♣ ﻭﺟﻌﺠﻊ ﺣﻮﻟﻪُ ﺍﻟﺴﻴﻮﻃﻲ-

    অর্থাৎ- জালালু্িদ্দন সূয়ূতী (রহঃ) হাঁক-ডাক ছেড়ে থাকেন।
    •√• [সিল-সিলাতুজ জয়িফা, খণ্ড-৪, পৃষ্ঠা-১৮৯]

    ★ইমাম হাকেম, ইমাম যাহাবী এবং আল্লামা মুনযিরি (রহঃ) সম্পর্কে শায়েখের উক্তিঃ

    শায়খ নাসীরুদ্দিন আলবানীর দৃষ্টিতে একটা হাদিস সহীহ নয়, অথচ অন্যান্য মুহাদ্দিস তাকে সহীহ বলায় তিনি হাদীসের বিখ্যাত তিন মুহাদ্দিস ইমাম হাকেম, ইমাম যাহাবী, ইমাম মুনযিরি (রহঃ) সম্পর্কে বলেছেন,

    ♣ ﻭﻗﺎﻝ ﺍﻟﺤﺎﻛﻢ : ” ﺻﺤﻴﺢ ﺍﻻﺳﻨﺎﺩ ” ! ﻭﻭﺍﻓﻘﻪ ﺍﻟﺬﻫﺒﻲ ! ﻭﺃﻗﺮﻩ ﺍﻟﻤﻨﺬﺭﻱ ﻓﻲ ” ﺍﻟﺘﺮﻏﻴﺐ ” ( ৩ / ১৬৬ ) ! ﻭﻛﻞ ﺫﻟﻚ ﻣﻦ ﺇﻫﻤﺎﻝ ﺍﻟﺘﺤﻘﻴﻖ ، ﻭﺍﻻﺳﺘﺴﻼﻡ ﻟﻠﺘﻘﻠﻴﺪ ، ﻭﺇﻻ ﻓﻜﻴﻒ ﻳﻤﻜﻦ ﻟﻠﻤﺤﻘﻖ ﺃﻥ ﻳﺼﺤﺢ ﻣﺜﻞ ﻫﺬﺍ ﺍ ﻻﺳﻨﺎﺩ-

    → “হাকেম বলেছেন, হাদীসটির সনদ সহীহ। 
    → ইমাম যাহাবী তাঁর সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেছেন।
    → ইমাম মুনযিরি (রহঃ) “তারগীব ও তারহীব” নামক কিতাবে তার স্বীকৃতি দিয়েছেন। আর এটি হয়েছে, তত্ত্ব-বিশ্লেষণের প্রতি উদাসীনতা, তাকলীদের প্রতি আত্মসমর্পণ (অন্ধানুকরণ), নতুবা একজন বিশ্লেষণধর্মী আলেম কিভাবে একে সহীহ বলতে পারেন।”

    হাফেয তাজুদ্দিন সুবকী (রহঃ) সম্পর্কে শায়েখ নাসীরুদ্দিন আলবানী মন্তব্য করেছেন-

    ♣ﻭﻟﻜﻨﻪ ﺩﺍﻓﻊ ﻋﻨﻪ ﺑﻮﺍﺯﻉ ﻣﻦ ﺍﻟﺘﻌﺼﺐ ﺍﻟﻤﺬﻫﺒﻲ ، ﻻ ﻓﺎﺋﺪﺓ ﻛﺒﺮﻯ ﻣﻦ ﻧﻘﻞ ﻛﻼﻣﻪ ﻭﺑﻴﺎﻥ ﻣﺎ ﻓﻴﻪ ﻣﻦ ﺍﻟﺘﻌﺼﺐ 
    ♠মাযহাব অনুসরণের গোঁড়ামি তাঁকে প্ররোচিত করেছে। তাঁর কথা উল্লেখ করে এবং তাঁর গোঁড়ামির কথা আলোচনা করে তেমন উল্লেখযোগ্য কোন উপকারিতা নেই।

    ♠ [সিল-সিলাতুজ যয়িফা, খণ্ড-২, পৃষ্ঠা-২৮৫]

    ★শায়েখ হাবীবুর রহমান আজমী (রহঃ) তাঁর সম্পর্কে লিখেছেন,

    ♣ ﺍﻟﺸﻴﺦ ﻧﺎﺻﺮ ﺍﻟﺪﻳﻦ ﺍﻻﻟﺒﺎﻧﻲ ﺷﺪﻳﺪ ﺍﻟﻮﻟﻮﻉ ﺑﺘﺨﻄﺌﺔ ﺍﻟﺤﺬﺍﻕ ﻣﻦ ﻛﺒﺎﺭ ﻋﻠﻤﺎﺀ ﺍﻻﺳﻼﻡ ﻭﻻ ﻳﺤﺎﺑﻰ ﻓﻲ ﺫﻟﻚ ﺃﺣﺪﺍ ﻛﺎﺋﻨﺎ ﻣﻦ ﻛﺎﻥ ، ﻓﺘﺮﺍﻩ ﻳﻮﻫﻢ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ ﻭﻣﺴﻠﻤﺎ ، ﻭﻣﻦ ﺩﻭﻧﻬﻤﺎ ، ﻭﻳﻐﻠﻂ ﺍﺑﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﺒﺮ ﻭﺍﺑﻦ ﺣﺰﻡ ﻭﺍﻟﺬﻫﺒﻲ ﻭﺍﺑﻦ ﺣﺠﺮ ﻭﺍﻟﺼﻨﻌﺎﻧﻰ ، ﻭﻳﻜﺜﺮ ﻣﻦ ﺫﻟﻚ ﺣﺘﻰ ﻳﻈﻦ ﺍﻟﺠﻬﻠﺔ ﻭﺍﻟﺴﺬﺝ ﻣﻦ ﺍﻟﻌﻠﻤﺎﺀ ﺍﻥ ﺍﻻﻟﺒﺎﻧﻲ ﻧﺒﻎ ﻓﻲ ﻫﺬﺍ ﺍﻟﻌﺼﺮﻧﺒﻮﻏﺎ ﻳﻨﺪﺭ ﻣﺜﻠﻪ-

    ♦“শায়েখ নাসীরুদ্দিন আলবানী পৃথিবী বিখ্যাত গভীর পাণ্ডিত্যের অধিকারী আলেমদের ভুল ধরার ব্যাপারে চরম বেপরোয়া। এ পথে তিনি কাউকেই মুক্তি দেননি। আপনি দেখবেন! সে ইমাম বোখারী (রহঃ), ইমাম মুসলিমসহ অপরাপর ইমামদের ব্যাপারে বিরূপ মন্তব্য করে। তিনি যুগশ্রেষ্ঠ আলেম ইবনে আব্দুল বার (রহঃ), ইবনে হাযাম (রহঃ), ইমাম যাহাবী (রহঃ) ইবনে হাজার আসকালানী (রহঃ), ইমাম সানআনী (রহঃ) সহ আরও অনেককে ভুল সাব্যস্ত করার চেষ্টা করেছেন। অথচ অনেক অজ্ঞ এবং সাধারণ আলেম তাঁকে বর্তমান যুগের বিরল ব্যক্তিত্ব মনে করে থাকেন।”

    ♦ বিশ্বের যে সমস্ত আলেম শায়খ নাসীরুদ্দিন আলবানীর এসমস্ত ভ্রান্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে আলোকপাত করেছেন এবং এ সম্পর্কে কিতাব লিখেছেন তাদের কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হল-

    ★১. শায়খ হাবীবুর রহমান আজমী। তাঁর রচিত কিতাবের নাম-

    ♣ ﺍﻷﻟﺒﺎﻧﻲ ﺷﺬﻭﺫﻩ ﻭﺃﺧﻄﺎﺅﻩ-

    ★২. উত্তর আফ্রিকার বিখ্যাত মুহাদ্দিস আব্দুল্লাহ আল-গুমারী। তাঁর কিতাবের নাম হল-

    ♣” ﺍﻟﻘﻮﻝ ﺍﻟﻤﻘﻨﻊ ﻓﻲ ﺍﻟﺮﺩ ﻋﻠﻰ ﺍﻷﻟﺒﺎﻧﻲ ﺍﻟﻤﺒﺘﺪﻉ “_
    .
    ★৩. শায়েখ আব্দুল আযীয গুমারী-

    ♣ ” ﺑﻴﺎﻥ ﻧﻜﺚ ﺍﻟﻨﺎﻛﺚ ﺍﻟﻤﻘﻌﺪﻱ ﺑﺘﻀﻌﻴﻒ ﺍﻟﺤﺎﺭﺙ “-

    ★৪. শায়েখ মুহাম্মাদ বিন আহমাদ আল-খাজরাযী

    ♣ ” ﺍﻷﻟﺒﺎﻧﻲ ﺗﻄﺮﻓﺎﺗﻪ “-

    ★৫. উস্তাদ বদরুদ্দিন হাসান দিয়াব দামেশকী-

    ♣ ” ﺃﻧﻮﺍﺭ ﺍﻟﻤﺼﺎﺑﻴﺢ ﻋﻠﻰ ﻇﻠﻤﺎﺕ ﺍﻷﻟﺒﺎﻧﻲ ﻓﻲ ﺻﻼﺓ ﺍﻟﺘﺮﺍﻭﻳﺢ “-

    ★৬. শামের বিখ্যাত মুহাদ্দিস আব্দুল্লাহ আল-হারারী,

    ♣ﺍﻟﺘﻌﻘﺐ ﺍﻟﺤﺜﻴﺚ ﻋﻠﻰ ﻣﻦ ﻃﻌﻦ ﻓﻴﻤﺎ ﺻﺢ ﻣﻦ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ-

    ★৭. শায়েখ আব্দুল্লাহ বিন বায 

    ♣” ﺃﻳﻦَ ﻳﻀﻊ ﺍﻟﻤﺼﻠﻲ ﻳﺪﻩ ﻓﻲ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﺑﻌﺪ ﺍﻟﺮﻓﻊ ﻣﻦ ﺍﻟﺮﻛﻮﻉ ”

    ★৮. শায়েখ ইসমাইল বিন মুহাম্মাদ আনসারী 

    ♣” ﺗﺼﺤﻴﺢُ ﺣﺪﻳﺚ ﺻﻼﺓ ﺍﻟﺘﺮﺍﻭﻳﺢ ﻋﺸﺮﻳﻦ ﺭﻛﻌﺔ ﻭﺍﻟﺮﺩّ ﻋﻠﻰ ﺍﻷﻟﺒﺎﻧﻲ ﻓﻲ ﺗﻀﻌﻴﻔﻪ “_

    ★৯. শায়েখ আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ 

    ♣ ” ﻛﻠﻤﺎﺕٌ ﻓﻲ ﻛﺸﻒ ﺃﺑﺎﻃﻴﻞ ﻭﺍﻓﺘﺮﺍﺀﺍﺕ “-

    ★১০. শায়েখ হাসান বিন আলী আস-সাক্কাফ

    ♣ ﻗﺎﻣﻮﺱ ﺷﺘﺎﺋﻢ ﺍﻷﻟﺒﺎﻧﻲ ﻭﺃﻟﻔﺎﻇﻪ ﺍﻟﻤﻨﻜﺮﺓ ﻓﻲ ﺣﻖ ﻋﻠﻤﺎﺀ ﺍﻷﻣﺔ ﻭﻓﻀﻼﺋﻬﺎ ﻭﻏﻴﺮﻫﻢ-






    ★১১. শায়েখ হাসান বিন আলী আস-সাক্কাফ,

    ♣ ” ﺍﻟﺒﺸﺎﺭﺓُ ﻭﺍﻹﺗﺤﺎﻑ ﻓﻴﻤﺎ ﺑﻴﻦ ﺍﺑﻦ ﺗﻴﻤﻴﺔ ﻭﺍﻷﻟﺒﺎﻧﻲ ﻓﻲ ﺍﻟﻌﻘﻴﺪﺓ ﻣﻦ ﺍﻻﺧﺘﻼﻑ “-

    ★★★আমরা এখানে সামান্য কয়েকটি কিতাবের নাম উল্লেখ করেছি। শায়েখ নাসীরুদ্দিন আলবানীর ভ্রান্ত বিষয়গুলির সম্পর্কে যুগশ্রেষ্ঠ অধিকাংশ আলেম স্বতন্ত্র কিতাব লিখেছেন।

    • “সাবাতু মুয়াল্লাফাতিল আলবানী”

    ♦ এর গ্রন্থকার এ ধরণের ৫৭ টি কিতাবের নাম উল্লেখ করেছেন। এ সমস্ত গ্রন্থে শায়খ নাসীরুদ্দিন আলবানীর ভ্রান্তিগুলো আলোচনা করা হয়েছে।

    ♦বিখ্যাত সালাফী আলেমদের মধ্যে যারা শায়েখ নাসীরুদ্দিন আলবানী (রহঃ) এর এ সমস্ত ভ্রান্ত বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করেছেন, তাদের কয়েকজনের নাম নিচে উল্লেখ করা হল-

    ★১. শায়েখ আব্দুল্লাহ বিন বায 


    ★৩. শায়েখ হামুদ বিন আব্দুল্লাহ 


    ★৩. ড. বকর বিন আব্দুল্লাহ আবু যায়েদ।


    ★৪. শায়েখ আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আদ-দাবীশ 


    ★৫. সফর বিন আব্দুর রহমান।


    ★৬. মুহাদ্দিস আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান সা’আদ।


    ★৭. শায়েখ আব্দুল্লাহ বিন মা’নে আল-উতাইবি।


    ★৮. শায়েখ ফাহাদ বিন আব্দুল্লাহ আস-সুনাইদ।


    ★৯. আবু আব্দুল্লাহ মুস্তফা আল-আদাবী।

    ♦জামেয়াতুল ইমাম মুহাম্মাদ বিন সাউদ এর দাওয়া বিভাগের প্রধান ড.আব্দুল আযীয আল-আসকার শায়েখ নাসীরুদ্দিন আলবানী (রহঃ) এবং তাঁর অনুসারীদের সম্পর্কে লিখেছেন,

    ♣ ﺍﻷﻟﺒﺎﻧﻲ ﻭﺍﺗﺒﺎﻋﻪ ﻟﻴﺴﻮﺍ ﺳﻠﻔﻴﺔ—

    ♠ “আলবানী এবং তার অনুসারীরা মূলতঃ সালাফী নয়”

    অর্থাৎ এরা সালাফী (পূর্ববর্তীদের অনুসারী) হওয়ার দাবী করে কিন্তু বাস্তবে এরা সালাফী নয়।


    ★★সউদী আরবের প্রধান মুফতী আবদুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ বিন বায এর নাছির উদ্দীন আলবানী সম্পর্কে অভিমত ঃ


    ★ (ক) ﺧﻄﺄ ﻇﺎﻫﺮ ، ﻟﻢ ﻳﺴﺒﻘﻪ ﺇﻟﻴﻪ ﺃﺣﺪ ﻓﻴﻤﺎ ﻧﻌﻠﻢ ﻣﻦ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﻌﻠﻢ ، ﻭﻫﻮ ﻣﺨﺎﻟﻒ ﻟﻸﺣﺎﺩﻳﺚ ﺍﻟﺼﺤﻴﺤﺔ—
    ••. নাছির উদ্দীন আলবানী এমন প্রকাশ্য ভুল করেছেন যাহা আমাদের জানা মতে পূর্বের কোন আলেম এমনটি করেননি। তিনি আরো বলেন- আলবানী সাহেব ছহীহ হাদীস সমূহের বিরোধিতাকারী।


    ♠ (সূত্র: সালাসু রাসায়েল ফিসসালাত : ইবনে বাজ ১/২৮)

    ★ (খ) ﻗﺪ ﻳﺼﺤِّﺢ ﺑﻌﺾ ﺍﻷﺣﺎﺩﻳﺚ ﻭﻳﺨﻄﺊ، ﻭﻗﺪ ﻳﻀﻌِّﻒ ﻭﻳﺨﻄﺊ؛-
    •• কখনো তিনি ছহীহ হাদীসকে জয়ীফ/দূর্বল বলে ভুল করেন,

    •• আবার কখনো দূর্বল হাদীসকে তিনি ছহীহ বলে ভুল করেন।


    ♠ (সূত্র : দরুস ইবনে বাজ : ১১/২৬, ২. মাজমুআয়ে ফতুয়া ইবনে বাজ : ২৫/৭১)
    .
    .
    .
    .
    .
    ★আলবানী সাহেবের তাহকীকের প্রকৃত অবস্থা:
    .
    .
    ★১. উদা বিন হাসান উদা ৫০০ হাদীসের একটি সঙ্কলন বের করেছেন। এই কিতাবে যে ৫০০ হাদীস উল্লেখ করা হয়েছে, এগুলো মুলত:

    ‘ আলবানী সাহেবের তারাজু বা পূর্বের মতামত থেকে ফিরে আসার ব্যাপারে আালোচনা করা হয়েছে। অর্থাৎ আলবানী সাহেব পূর্বে একটা হাদীসকে সহীহ বলেছেন, পরে মত পরিবর্তন করে সেটাকে যয়ীফ বলেছেন। এধরনের রুজু দু’একটি হাদীসে ঘটেনি। এখানে মোট পাচ শ হাদীস উল্লেখ করা হয়েছে।
    .
    .
    ★★★ এই কিতাবটি আলবানী সাহেব এর নিজস্ব ওযেস সাইট আলবানী ডট নেটে পাওয়া যায়। নিচের লিংক দেকে ডাউন লোড করুন।

    #http://www.alalbany.net/?p=5282


    ★২. আবুল হাসান মুহাম্মাদ হাসান আশ-শাযখ্র আলবানী সাহেব এর রুজু বা পূর্বের মতামত থেকে প্রত্যাবর্তনের উপর একটি সঙ্কলন বের করেছন। এখানেও ৩০০ এর বেশি হাদীসের উপর আলোচনা করা হয়েছে।
    ★ এ কিতাবটি আলবানী ডট কমে পাওয়া যাবে।
    নিচের লিংক থেকে ডাউন লোড করুন।
    #http://www.alalbany.net/?p=5262
    .
    .
    .
    .
    ★৩. আলবানী সাহেবের তারাজু নিয়ে লেখা আরেকটি কিতাব হলো, আত-তাম্বিহাতুল মালিহা আলা মা তারাজায়া আনহুল আল্লামা আল-আলবানী।
    • এটি নিচের লিংক থেকে ডাউন লোড করুন। এ কিতাবেও আলবানী সাহেব এর সহীহ ও যয়ীফ বলার ক্ষেত্রে পূর্বের মত থেকে প্রত্যাবতর্ সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে এবং আলবানী সাহেবের রুজু করা হাদীস সঙ্কলন করা হযেছে।

    • ডাউনলোড লিংক,
    #http://www.alalbany.net/?p=5043
    .
    .


    ★৫. আলবানী সাহেব পূর্বের অবস্থান থেকে ফেরার পাশাপাশি প্রচুর স্ববিরোধীতায় লিপ্ত হযেছেন। একই রাবীকে কোথাও যয়ীফ, কোথাও সহীহ বলা, একই হাদীসকে কোথাও সহীহ এবং কোথাও সহীহ বলাকে তানাকুয বা স্ববিরোধীতা বলে। আলবানী সাহেব এতো বেশি পরিমাণ স্ববিরোধীতা করেছেন যে, এ বিষয়ে তিনি অনেক সমালোচনার মুখে পড়েছেন। একজন সুস্থ ধারার মুহাদ্দিস দু’একটি হাদীসের ক্ষেত্রে এমন করতে পারেন, কিন্তু তিনি শত শত হাদীসের ক্ষেত্রে এধরণের স্ববিরোধতিা করেছেন। শায়খ হাসান বিন আলী আস-সাক্কাফ আলবানী সাহেবের এ ধরণের স্ববিরোধীতার উপর কিতাব লিখেছেন। কিতাবের নাম, তানাকুযাতুল আলবানিল ওয়াজিহাত। এটি তিন খন্ডে প্রকাশিত হয়েছে। তিন খন্ডে আলবানী সাহেবের মোট ১৩০০ স্ববিারোধী বক্তব্য উল্লেখ করা হযেছে। লেখক দাবী করেছেন, আমি আলবানী সাহেবের মোট সাত হাজার স্ববিরোধী বক্তব্য পেযেছি। এই তিন খন্ডে আমি ১৩০০ বক্তব্য প্রকাশ করেছি। বাকীগুলো তিনি আস্তে আস্তে প্রকাশ করবেন।
    .
    .
    .
    .
    ★৫. শায়খ সাইদ আল মামদুহ আলবানী সাহেব এর সহীহ ও যয়ীফ এর উপর তুলনামূলক আলোচনা করে ইলমুল হাদীসের আঙ্গিকে আট শ হাদীসের ব্যাপারে আলবানী সাহেবের ভুল ধরেছেন। অথাৎ একটা হাদীস আলবানী সাহেব এর নিকট যয়ীফ, কিন্তু সেটি বাস্তবে সহীহ আবার একটি হাদীসকে তিনি সহীহ বলেছেন, বাস্তবে সেটি যয়ীফ, এজাতীয় আট শ হাদীসের উপর আলোচনা করেছেন। তিনি এর উপর, আত-তা’রীফ বিআওহামি মান কাস সামাস সুনান ইলা সহীহ ও যয়ীফ নামে ছয় খন্ডের কিতাব লিখেছেন। প্রত্যেক খণ্ডই প্রায় ৫০০ পৃ. এর উপরে।
    .
    .
    .
    .
    ★৬. শায়খ হাম্মাদ বিন হাসান আল-মিসরী ৩০০ শ এর বেশি রাবীর জীবনী আলোচনা করেছেন, যাদের ব্যাপারে আলবানী সাহেব বলেছেন, তাদের কোন জীবনী কোন কিতাবে পাইনি অথবা তারা অপরিচিত, অথচ তাদের জীবনী তিনি যে কিতাব দেখেছেন তাতে বিদ্যমান রয়েছে এবং তারা পরিচিত রাবী। তিনি নাম্বার সহ প্রত্যেক রাবীর নাম ও তার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য আলোচনা করেছেন।

    • নিচের সাইটে তার আলোচনা গুলো পাওয়া যাবে।
    #http://www.ahlalhdeeth.com/vb/showthread.php?t=316200
    .
    .
    .

    ★★★
    আলবানি সাহেব ভুল-ভ্রান্তি বিশ্লেষণ করে বাজারে নিয়মিত নতুন নতুন বই আসছে। এর অধিকাংশ বইয়ের লেখক আলবানী সাহব এর ছাত্র ও সালাফী ঘরানার আলেম। সুতরা এসমস্ত ভুলের ব্যাপারে অবগত না হয়ে যেসমস্ত সালাফী বন্ধুরা অন্ধভাবে, যাচাই-বাছাই ছাড়া আলবানী সাহেবের অনুসরণ করছেন, তাদেরকে অন্ধ অনুসারী ছাড়া আর কি বলা যেতে পারে?
    ♦অতএব, সর্বশেষ কথা হল, তাবেয়ী ইবনে সিরিন (রহঃ) বলেছেন,
    # ﺇﻥَّ ﻫﺬﺍ ﺍﻟﻌﻠﻢ ﺩﻳﻦ ؛ ﻓﺎﻧﻈﺮﻭﺍ ﻋﻤَّﻦ ﺗﺄﺧﺬﻭﻥ ﺩﻳﻨﻜﻢ-
    •• “নিশ্চয় এই ইলম দ্বীনের অন্তর্ভূক্ত। সুতরাং লক্ষ্য রেখো! কার নিকট থেকে তুমি তোমার দ্বীন গ্রহণ করছো”





    কবর জিয়ারত সম্পর্কেঃ


    জিহাদে শহীদগণের কবর জিয়ারত প্রসংগেঃ

    ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ (রা) বর্ণনা করেন যে, নবী করীম (সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বছরের প্রারম্ভে ওহুদ যুদ্ধে শহীদদের সমাধি জেয়ারতে যেতেন এবং বলতেন: السلام عليکم بما صبرتم فنعم عقبي الدار.

    আপনাদের উপর সালাম! আপনারা আপনাদের ধৈর্যের ফলস্বরূপ আখেরাতে কি চমৎকার জায়গাই না পেয়েছেন।

    আবু বকর, উমর এবং ওসমান (রা) একই ভাবে জেয়ারতে যেতেন।

    সুত্র: –

    ১. মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক: ৩:৫৭৩

    ২. আইনি, উমদাদুল কারী, ৮:৭০

    ৩. তাবরী, জামি আল কুরআন, ১৩:১৪২

    ৪. ইমাম সুউতি, দারুল ময়ানসুর, ৪:৬৪১

    ৫. তাফসীর ইবনে ই কাসীর।


    কবর জিয়ারত মৃত্যুর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়ঃ-



    ★ মহানবী (সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: “তোমরা ক্কবর জিয়ারত কর কারণ এই অভ্যাস পরকালের কথা মনে করিয়ে দেয়। (এ হাদিসে নির্দেশ দেয়া হয়েছে)

    সুত্র:

    ১. মুসলিম ১:৬৭১ .. ৯৭৬

    ২. হাকীম আল মুস্তাদরাক: ১:৫৩১ .. ১৩৯০


    ★ হযরত বুরহিদাহ্ রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত রসুলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আমি তোমাদেরকে কবর জিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম, এখন তোমরা তা করতে পারো।
    (মুসলিম শরীফ)

    ★ হযরত ইবনে মসউদ রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নিশ্চয়ই রসুলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আমি তোমাদেরকে কবর জিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম, এখন তোমরা তা করতে পার। কেননা উহা দুনিয়ার আসক্তিকে কমায় এবং আখিরাতকে স্মরণ করায়। 
    (ইবনে মাযাহ)



    রওজা মোবারক জিয়ারতঃ


    পবিত্র মহানবী (সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ‘র রওজা জিয়ারতের ফজিলত: –

    নবী করীম (সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: যে আমার রওজা জিয়ারত করবে, কিয়ামতের দিনে তাঁর জন্যে আমার শাফায়াত অবধারিত।

    সুত্র:

    ১. দারুল কুতনী, আল সুনান ২: ২৭৮)

    ২. বায়হাকি, শোহবুল ঈমান ৩: ৪৯০, এবং ৪১৫৯ এবং ৪১৬০)

    ৩. হাকীম তিরমিজি, নাওয়াদিরুল উসুল ২: ৬৭)


    প্রতিনিয়ত অবিরাম ফেরেশতাদের রৌজা মোবারক জিয়ারতঃ




    রওজা মোবারক কে ঘিরে কিয়ামত পর্যন্ত ৭০ হাজার ফেরেশতাদের অবিরাম সকাল সন্ধ্যা 
    জিয়ারত ও
     দুরুদ শরীফ পাঠঃ 


    হযরত ওয়াহাব বিন মুনাব্বাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেছেন,
    প্রতিদিন ফজরের সময় আসমান থেকে ৭০ হাজার ফেরেশতা 
    নবী পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের, রাওযা শরীফে অবতরণ করেন । তারা চতুর্দিক থেকে রাওযা শরীফ পরিবেষ্টন করে রাখেন, এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত নবী পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর দরূদ শরীফ পাঠ করতে থাকেন। অতঃপর সন্ধ্যা হয়ে গেলে এই ফেরেশতাগণ আবার উর্ধগমন করেন এবং তখনই আবার সমপরিমান ফেরেশতা অবতরণ করেন এবং ফজর পর্যন্ত পূর্ববর্তীদের ন্যায় দরূদ শরীফ পাঠ করতে থাকেন। যারা একবার আসবেন , তারা আর দ্বিতীয় বার আসার সুযোগ পাবে না । (সুবহানাল্লাহ)
    Reference :
    ★ ইমাম বায়হাকীঃ শু’আবুল ঈমানঃ খন্ড ৩, হাদিস নং ৪১৭০, ৩৮৬২
    ★ ইমাম গাজ্জালিঃ ইহয়াউ উলূমিদ্দীনঃ৪ : ৫২২ পৃ
    ★ ইবনুল জাওজীঃ আল ওয়াফা বি আহওয়ালিল মোস্তফাঃ হাদিস ১৫৭৮
    ★ ইমাম জুরকানীঃ যুরকানী শরীফ ৭ : ৩৭৯ 
    ★ হিদায়াতুস সালিকঃ ১ : ১১৪
    ★ ইমাম ইবনে কাসীরঃ তাফসীরে ইবনে কাসীরঃ সুরা আহযাব
    ★ ইমাম দারিমীঃ সুনানে দারিমীঃ ৯৪


    মাতা-পিতার 
    কবর 
    জিয়ারতঃ





    ★ তাবেয়ী মুহম্মদ বিন নোমান রহমতুল্লাহি আলাইহি হতে বর্ণিত রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন॥ যে ব্যক্তি প্রত্যেক শুক্রবার আপন মা॥বাপের অথবা তাঁদের মধ্যে একজনের কবর জিয়ারত করবে, তাকে ক্ষমা করে দেয়া হবে এবং মা॥বাপের সহিত সদ্ব্যব্যবহারকারী বলে লেখা হবে। (বায়হাকী)




    ইমাম ও মুহাদ্দিসগনের বর্ননাঃ


    ★ হযরত ওমর ইবনে আব্দুল আযীয রহমতুল্লাহি আলাইহি শামদেশ হতে উট সওয়ার শুধু রওজায়ে পাকে তাঁর সালাম জানানোর জন্য পাঠিয়ে দিতেন।


    ★ হযরত ইমাম শাফেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি যিনি শাফেয়ী মাযহাবের প্রতিষ্ঠাতা তিনি যখন কোন মাসআলা সমস্যার সমাধানে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তেন তখন আলমে ইসলামীর সর্বশ্রেষ্ঠ ইমামে আযম ইমাম আবু হানিফা নোমান বিন সাবেত কুফী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর মাজার শরীফে এসে জিয়ারত করে তখায় দু’রাকাত নামাজ পড়তেন। এরপর হযরত ইমামে আযম ইমাম আবু হানিফা রহমতুল্লাহি আলাইহি এর উসিলা দিয়ে আল্লাহ্ পাকের দরবারে ইমাম শাফেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর সমস্যা জানাতেন। আল্লাহ্ পাক তাঁর দোয়া কবুল করতেন অর্থাৎ মাসআলার যে সমস্যার জালে আবদ্ধ হয়ে তিনি সেখানে যেতেন ইমামে আযম রহমতুল্লাহি আলাইহি এর উসিলার বরকতে তা খুলে যেত। অতঃপর স্বীয় স্থানে প্রত্যাবর্তন করতেন। উল্লেখ্য ইমাম শাফেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর এ আগমন শুরু হত ফিলিস্তিন হতে, আর এই সূদুর ফিলিস্তিন থেকে আগমনের একমাত্র নিয়ত ছিল মাজার জিয়ারত করা। অন্য কোন উদ্দেশ্যে বাগদাদ এসে মাজার জিয়ারত করা নয় (আন্ নাসিয়াতুলিল ওহাবী)




    ★ এ প্রসঙ্গে ইমাম শাফেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন:


    অর্থঃ নিশ্চয়ই আমি ইমাম আযম আবু হানিফা রহমতুল্লাহি আলাইহি হতে বরকত হাসিল করি। যখন আমার কোন সমস্যা দেখা দেয় আমি তাঁর মাজার শরীফে এসে প্রথমে দু’রাকাত নামাজ আদায় করি। অতঃপর তাঁর উসিলা দিয়ে আল্লাহ্ পাকের নিকট সমস্যা সমাধানের জন্য প্রার্থনা করি। তা অতি তাড়া তাড়ি সমাধান হয়ে যায়। (মুকাদ্দিমা,শামী ১ম খন্ড ৫৫ পৃঃ)

    ★ হুজ্জাতুল ইসলাম আল্লামা ইবনে হাযার আসকালানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনি দিয়েছেন এভাবেঃ

    জেনে রাখুন পুরুষ ও মহিলাদের জন্য কবর জিয়ারত করা এ সমস্ত হাদীসের রায় অনুযায়ী মোস্তাহাব প্রমাণিত, তবে মহিলাদের ব্যাপারে মতানৈক্য আছে।(ফতহুল বারী ফি শরহে বোখারী ৩য় খন্ড ১১৮ পৃষ্ঠা)

    ★ আল্লামা ইবনে আবেদীন শামী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন:

    → কবর জিয়ারত এতে কোন অসুবিধা নেই, বরং এটা মোস্তাহাব। (ফতওয়ায়ে শামী)

    → পুরুষের জন্য কবর জিয়ারত করা মোস্তাহাব। (ফিক্বহুস সুন্নাহ্, ১ম খন্ড পৃঃ৪৯৯)


    → দূরবর্তী স্থানেও (কবর) জিয়ারতের জন্য গমন করা মোস্তাহাব। (শামী ২য় খন্ড ২৪২ পৃঃ)


    → ওহোদ পাহাড়ের শহীদগণের (কবর) জিয়ারত করা মোস্তাহাব। ইবনে শায়বা হতে বর্ণিত আছে যে, “রসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতি বৎসরান্তে ওহোদের শহীদগণের (কবর) জিয়ারত করতে আসতেন। অতঃপর বলতেন, তোমাদের প্রতি সালাম, যেমন তোমরা ধৈর্য্য ধারণ করেছিলে তেমনি পরকালে উত্তম বাসস্থান লাভ করেছ। (ফতোয়ায়ে শামী)

    ★ আরো বর্ণিত আছে যে, পরবর্তীতে খলিফাতুল মোসলেমীন হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাদিআল্লাহু আনহু ও আমিরুল মো’মেনীন হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিআল্লাহু আনহু হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর এই ধারাকে বজায় রেখেছিলেন। (উমদাতুল ফিক্বাহ)

    ★ বিখ্যাত হাদীস বিশারদ আল্লামা বদরুদ্দিন আইনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উল্লেখ করেন: সাইয়্যিদাহ্ ফাতিমা রাদিআল্লাহু আনহু প্রতি শুক্রবার হযরত হামযাহ্ রাদিআল্লাহু আনহু এর কবর জিয়ারত করতে যেতেন, অনুরূপভাবে হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রাদিআল্লাহু আনহু স্বীয় ভ্রাতা আবদুর রহমান রাদিআল্লাহু আনহু এর কবর জিয়ারত করার জন্য মক্কা শরীফ যেতেন। (উমদাতুল ক্বারী ফি শরহে বোখারী)

    ★ শায়েখ ওলি উদ্দীন ইরাকী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন আমার পিতা জয়নুদ্দীন ইরাকী এবং শায়েখ আব্দুর রহমান ইবনে রজব হাসলী, হযরত ইব্রাহীম খলীল আলাইহিস সালাম এর জিয়ারতে বলেছিলেন; যখন শহরের নিকটবর্তী হলেন তখন ইবনে রজব বলতে লাগলেন, আমি খলীলুল্লাহ্ আলাইহিস সালাম এর মসজিদে নামাজ পড়ার নিয়ত করে নিলাম যেন জিয়ারতের নিয়ত না থাকে। আমার পিতা বললেন, আপনিতো হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর এরশাদের বিপরীত আমল করলেন। হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: তিন মসজিদ ব্যতীত অন্য কোন মসজিদের জন্য সফর করা যায় না অথচ আপনি চতুর্থ এক মসজিদের নিয়ত করলেন আর আমি হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর এরশাদের উপর আমল করেছি। হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা কবর জিয়ারত করতে থাকবে। এমন কোন হাদীস নেই যাতে নবী আলাইহিস সালাম গণের কবরকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সুতরাং আমি হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর এরশাদ মোতাবেক আমল করেছি। (ফাযায়েলে হজ্ব, জুরক্বানী)

    ★ ইমামে রাব্বানী আফজালুল আউলিয়া শায়েখ আহমদ সিরহিন্দী ফারুকী মোজাদ্দেদে আলফেসানী রহমতুল্লাহি আলাইহি, সুলতানুল হিন্দ হাবীবুল্লাহ ইমামুত্ব ত্বারীকত হযরত খাজা মুঈনুদ্দিন চিশতী আজমিরী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর মাজার শরীফ জিযারত করতে গিয়েছিলেন। আর এতে জিয়ারত ভিন্ন অন্য কোন উদ্দেশ্য ছিল না।(সীরাতে মোজাদ্দেদে আলফেসানীরহমতুল্লাহি আলাইহি।

    ★ আল্লামা আবদুর রহমান যাফিরী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন:

    কবর জিয়ারত এর ক্ষেত্রে নিকট ও দূরের কোন পার্থক্য নাই। (কিতাবুল ফিক্বাহ আলা মাযাহিবিল আরবা ১ম খন্ড ৫৪০ পৃঃ)

    ★ হাকিমূল উম্মত মাওলানা আশ্রাফ আলী থানভী বলেন॥ “পুরুষদের জন্য কবর জিয়ারত করা মোস্তাহাব। জিয়ারত করার অর্থ দেখাশুনা। সপ্তাহে অন্ততঃ একদিন কবর জিয়ারত করা উচিৎ। সেই দিন শুক্রবার হওয়াই সবচেয়ে ভাল। বুজুর্গানে দ্বীনের কবর জিয়ারত করার জন্য সফরে যাওয়াও দুরস্ত আছে”। 
    (এমদাদুল ফতওয়া)

    বিপদে আপদের সময় যেসব দোয়া পড়বেনঃ

    বিপদ-মসিবতে পাঠ করার জন্য কতিপয় দোয়া  এবং এর জন্য আমল: ♦১) উম্মে সালমা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ও...