Showing posts with label প্রশ্নোত্তর পর্ব. Show all posts
Showing posts with label প্রশ্নোত্তর পর্ব. Show all posts

Saturday, March 28, 2015

আপনাদের জিজ্ঞাসাবাদের প্রশ্নোত্তর পর্ব (১)

1) পেশাবের পর ঢিলা ব্যবহার ও তা নিয়ে হাটাহাটি করার হুকুম কি?


★ যেহেতু পানির দ্বারা নাপাক বেশি পরিস্কার হয়, তাই পানি দ্বারা ইস্তিঞ্জা করা সুন্নত। আর ঢিলা দ্বারা ইস্তিঞ্জা করা জায়েজ। {তিরমিজী-১/২৯, মুসতাদরাকে হাকেম-১/১৫৫, হেদায়া-১/৪৮, শরহে নুকায়া-১/৪৮, শরহে বেকায়া-১২৭}

عَطَاءُ بْنُ أَبِي مَيْمُونَةَ قَالَ: سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «إِذَا خَرَجَ لِحَاجَتِهِ، أَجِيءُ أَنَا وَغُلاَمٌ، مَعَنَا إِدَاوَةٌ مِنْ مَاءٍ، يَعْنِي يَسْتَنْجِي بِهِ»

আতা বিন আবী মাইমুনা বলেন, আমি শুনেছি আনাস বিন মালিক রাঃ বলেছেন, রাসূল সাঃ যখন প্রয়োজন সম্পন্ন [টয়লেটে যাবার জন্য] করার জন্য বের হতেন, তখন আমি ও আরেক ছেলে আসতাম। আমাদের সাথে পানির পাত্র থাকতো। অর্থাৎ এ দিয়ে রাসূল সাঃ ইস্তিঞ্জা করতেন। {বুখারী, হাদীস নং-১৫০}

হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-

وَمَنْ اسْتَجْمَرَ فَلْيُوتِرْ، مَنْ فَعَلَ فَقَدْ أَحْسَنَ، وَمَنْ لَا فَلَا حَرَجَ،

যে ব্যক্তি ঢিলা ব্যবহার করে সে যেন বেজোড় ব্যবহার করে। যে তা করবে সে উত্তম কাজ করল, আর যে করেনি তাতে কোন সমস্যা নেই। {সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৩৫}

ঢিলা হাতে হাটাহাটি করা

আসলে ঢিলা হাতে হাটাহাটি করা জরুরী বিষয় নয়। এটি দেখতেও সুন্দর দেখায় না। কিন্তু ইস্তিঞ্জার ক্ষেত্রে আবশ্যক হল পেশাব থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা। এটি আবশ্যকীয়।

ভাল করে বুঝে নেই। ঢিলা হাতে হাটাহাটি কোন জরুরী বিষয় বা সুন্নত নয়। কিন্তু পেশাবের ফোটা থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা আবশ্যকীয় বিষয়। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

এ বিষয়ে আমরা দু’টি হাদীস লক্ষ্য করি-



عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: مَرَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِقَبْرَيْنِ، فَقَالَ: ” إِنَّهُمَا لَيُعَذَّبَانِ، وَمَا يُعَذَّبَانِ فِي كَبِيرٍ، أَمَّا أَحَدُهُمَا: فَكَانَ لَا يَسْتَنْزِهُ مِنَ البَوْلِ – قَالَ وَكِيعٌ: مِنْ بَوْلِهِ – وَأَمَّا الْآخَرُ: فَكَانَ يَمْشِي بِالنَّمِيمَةِ “.

হযরত আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূল সাঃ দু’টি কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রম হচ্ছিলেন। বললেন, এ দু’টি কবরে আযাব হচ্ছে। কোন বড় কারণে আজাব হচ্ছে না। একজনের কবরে আজাব হচ্ছে সে পেশাব থেকে ভাল করে ইস্তিঞ্জা করতো না। আরেকজন চোগোলখুরী করতো। {মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-১৯৮০, বুখারী, হাদীস নং-১৩৬১}



عَنْ عِيسَى بْنِ يَزْدَادَ الْيَمَانِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا بَالَ أَحَدُكُمْ فَلْيَنْتُرْ ذَكَرَهُ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ»

হযরত ঈসাব বিন ইয়াযদাদ আলইয়ামানী তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, যখন তোমাদের কেউ পেশাব করে, তখন সে যেন তার লজ্জাস্থানকে তিনবার ঝেড়ে নেয় বা পবিত্র করে নেয়। {সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-৩২৬}

যেহেতু পেশাব এমন বস্তু। যার ছিটা শরীরে লাগলে কবরের আযাব হয়ে থাকে। আর হাদীসেও লজ্জাস্থানকে ঝেড়ে পবিত্র করার কথা এসেছে। তাই যাদের পেশাব করার পর পেশাবের ছিটা ফোটা ফোটা করে পড়ে, তাদের উচিত কিছুক্ষণ হেটে তা পবিত্র করা। নতুবা পেশাবের ছিটা শরীরে লাগার দরূন মারাত্মক গোনাহ হবে। যা কবরের আযাবের কারণ হবে। সেই সাথে কাপড় থাকবে নাপাক। আর নাপাক কাপড় দিয়ে নামায হয় না।




2)  তায়াম্মুমে দুইবার মাটিতে হাত মারার কোন দলীল আছে কি?



তায়াম্মুমে দুইবার হাত মারা

عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «التَّيَمُّمُ ضَرْبَتَانِ ضَرْبَةٌ لِلْوَجْهِ، وَضَرْبَةٌ لِلْيَدَيْنِ إِلَى الْمِرْفَقَيْنِ»

হযরত ইবনে উমর রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, তায়াম্মুম দুই জরব তথা দুইবার হাত মারা। একবার চেহারার জন্য, আরেকবার দুই হাত কনুই পর্যন্তের জন্য।

আলমুজামুল কাবীর, হাদীস নং-১৩৩৬৬,

সুনানে দারা কুতনী, হাদীস নং-৬৮৫,

মুস্তাদরাক আলাস সহীহাইন, হাদীস নং-৬৩৪,

সুনানে কুবরা লিলবায়হাকী, হাদীস নং-৯৯৭,

মারেফাতুস সুনান ওয়াল আসার, হাদীস নং-১৫৫৪,

কানযুল উম্মাল, হাদীস নং-২৬৬৮৮।

আল্লামা জারুল্লাহ সাদী, বলেন, হাদীসটি সহীহ। {আননাওয়াফেউল আতরাহ-১১০}

عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «التَّيَمُّمُ ضَرْبَةٌ لِلْوَجْهِ، وَضَرْبَةٌ لِلْكَفَّيْنِ

হযরত আবু উমামা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, তায়াম্মুমে চেহারার জন্য একবার মাটিতে হাত মারবে, আর দুই হাতের জন্য আরেকবার হাত মারবে। {আলমুজামুল কাবীর, হাদীস নং-৭৯৫৯, কানযুল উম্মাল, হাদীস নং-২৬৬৯২}

عَنْ جَابِرٍ , عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ” التَّيَمُّمُ: ضَرْبَةٌ لِلْوَجْهِ , وَضَرْبَةٌ لِلذِّرَاعَيْنِ إِلَى الْمِرْفَقَيْنِ

হযরত জাবের রাঃ থেকে বর্নিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, তায়াম্মুমে একবার চেহারার জন্য, আরেকবার দুই হাত কনুই পর্যন্তের জন্য মাটিতে হাত মারবে।{সুনানে দারা কুতনী, হাদীস নং-৬৯১, সুনানে কুবরা লিলবায়হাকী, হাদীস নং-৯৯৯}



3) টয়লেটে যাবার সময় মাথায় কাপড় রাখা কি হাদীস দ্বারা প্রমাণিত?



টয়লেটে যাবার সময় মাথায় কাপড় রাখা সুন্নত। এমনটিই রাসূল সাঃ থেকে হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।

عَنْ حَبِيبِ بْنِ صَالِحٍ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ” إِذَا دَخَلَ الْخَلَاءَ لَبِسَ حِذَاءَهُ، وَغَطَّى رَأْسَهُ

হযরত হাবীব বিন সালেহ রাঃ থেকে বর্র্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাঃ যখন টয়লেটে প্রবেশ করতেন, তখন জুতা পরিধান করতেন, এবং মাথা ঢেকে নিতেন।

সুনানে কুবরা লিলবায়হাকী, হাদীস নং-২৫৬।

খুলাসাতুল আহকাম, হাদীস নং-৩২৪।

আলফাতহুল কাবীর, হাদীস নং-৯০৭২।

কানযুল উম্মাল, হাদীস নং-১৭৮৭৬।

আশ শামায়েলুশ শরীফাহ, হাদীস নং-১৯৮।

মুহাদ্দিস আল্লামা মুহাম্মদ জারুল্লাহ সা’দী বলেন, এটি সহীহ মুরসাল। { আননাওয়াফেউল আতরাহ, বর্ণনা নং-২৩৭}

عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: «كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا دَخَلَ الْخَلَاءَ غَطَّى رَأْسَهُ

হযরত আয়শা রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাঃ যখন টয়লেটে প্রবেশ করতেন তখন মাথা ঢেকে নিতেন। {সুনানে কুবরা লিলবায়হাকী, হাদীস নং-৪৫৫, খুলাসাতুল আহকাম, হাদীস নং-৩২৩, হুলয়াতুল আউলিয়া}





4) ইমাম সাহেব ভুলে ওজু ছাড়া নামায পড়িয়ে ফেললে হুকুম কী?




ইমাম সাহেবসহ তার পিছনে যারা নামায পড়েছেন, তাদের কারো নামাযই হয়নি। সকলের জন্য উক্ত নামায পুনরায় কাযা করা আবশ্যক।

কারণ, পবিত্রতা ছাড়া নামায হয় না।

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلَاةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ وَامْسَحُوا بِرُءُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ إِلَى الْكَعْبَيْنِ وَإِنْ كُنْتُمْ جُنُبًا فَاطَّهَّرُوا وَإِنْ كُنْتُمْ مَرْضَى أَوْ عَلَى سَفَرٍ أَوْ جَاءَ أَحَدٌ مِنْكُمْ مِنَ الْغَائِطِ أَوْ لَامَسْتُمُ النِّسَاءَ فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا فَامْسَحُوا بِوُجُوهِكُمْ وَأَيْدِيكُمْ مِنْهُ مَا يُرِيدُ اللَّهُ لِيَجْعَلَ عَلَيْكُمْ مِنْ حَرَجٍ وَلَكِنْ يُرِيدُ لِيُطَهِّرَكُمْ وَلِيُتِمَّ نِعْمَتَهُ عَلَيْكُمْ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ (6

হে মুমিনগণ, যখন তোমরা নামাযের জন্যে উঠ, তখন স্বীয় মুখমন্ডল ও হস্তসমূহ কনুই পর্যন্ত ধৌত কর এবং পদযুগল গিটসহ। যদি তোমরা অপবিত্র হও তবে সারা দেহ পবিত্র করে নাও এবং যদি তোমরা রুগ্ন হও, অথবা প্রবাসে থাক অথবা তোমাদের কেউ প্রসাব-পায়খানা সেরে আসে অথবা তোমরা স্ত্রীদের সাথে সহবাস কর, অতঃপর পানি না পাও, তবে তোমরা পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করে নাও-অর্থাৎ, স্বীয় মুখ-মন্ডল ও হস্তদ্বয় মাটি দ্বারা মুছে ফেল। আল্লাহ তোমাদেরকে অসুবিধায় ফেলতে চান না; কিন্তু তোমাদেরকে পবিত্র রাখতে চান এবং তোমাদের প্রতি স্বীয় নেয়ামত পূর্ণ করতে চান-যাতে তোমরা কৃতজ্ঞাতা প্রকাশ কর।{৫: ৬, সূরা মায়িদা-৬}

عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا يَقْبَلُ اللَّهُ صَلَاةً إِلَّا بِطُهُورٍ،

হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেনঃ পবিত্রতা ছাড়া নামায গ্রহণযোগ্য হয় না। {সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-২৭২, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং- ১, সহীহ ইবনে খুজাইমা, হাদীস নং-৯, সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-৩৩৬৬}

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- « إِذَا رَقَدَ أَحَدُكُمْ عَنِ الصَّلاَةِ أَوْ غَفَلَ عَنْهَا فَلْيُصَلِّهَا إِذَا ذَكَرَهَا فَإِنَّ اللَّهَ يَقُولُ أَقِمِ الصَّلاَةَ لِذِكْرِى

অনুবাদ-যখন তোমাদের কেউ নামায ছেড়ে ঘুমিয়ে পড়ে, বা নামায থেকে গাফেল হয়ে যায়, তাহলে তার যখন বোধোদয় হবে তখন সে যেন তা আদায় করে নেয়। কেননা আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন-আমাকে স্মরণ হলে নামায আদায় কর।

সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-১৬০১

মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-১২৯৩২

সুনানে বায়হাকী কুবরা, হাদীস নং-৪১৮২

عن جابر بن عبد الله  : أن عمر بن الخطاب جاء يوم الخندق بعدما غربت الشمس فجعل يسب كفار قريش قال يا رسول الله ما كدت أصلي العصر حتى كادت الشمس تغرب قال النبي صلى الله عليه و سلم ( والله ما صليتها ) . فقمنا إلى بطحان فتوضأ للصلاة وتوضأنا لها فصلى العصر بعدما غربت الشمس ثم صلى بعدها المغرب

 [ 573 ، 615 ، 903 ، 3886 ]

হযরত জাবের বিন আব্দুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত-ওমর বিন খাত্তাব রা. খন্দকের দিন সূর্য ডুবার পর কুরাইশ কাফেরদের তিরস্কার করতে করতে এলেন। নবীজী সাঃ কে বললেন-“হে আল্লাহর নবী! আমি আসরের নামায পড়তে পারিনি এরই মাঝে সূর্য ডুবে গেছে”। নবীজী সাঃ বললেন-“হায় আল্লাহ! আমরাওতো পড়তে পারিনি! তারপর আমরা সমতল ভূমিতে দাঁড়ালাম। আর তিনি নামাযের জন্য অযু করলেন। আর আমরাও নামাযের জন্য অযু করলাম। তারপর সূর্য ডুবে গেলেও প্রথমে আমরা আসর পড়লাম। তারপর মাগরিব পড়লাম।(বুখারী শরীফ-হাদিস নং-৫৭১,৫৭৩,৬১৫,৯০৩,৩৮৮৬,)

عن أنس بن مالك قال : سئل رسول الله صلى الله عليه و سلم عن الرجل يرقد عن الصلاة أو يغفل عنها قال : كفارتها يصليها إذا ذكرها

হযরত আনাস বিন মালিক রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ কে নামায রেখে ঘুমিয়ে যাওয়া ব্যক্তি ও নামায সম্পর্কে গাফেল ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন-এর কাফফারা হল যখনই নামাযের কথা স্মরণ হবে তখনই তা আদায় করে নিবে।

সহীহ ইবনে খুজাইমা, হাদীস নং-৯৯১

মুসনাদে আবী আওয়ানা, হাদীস নং-১০৪১

মুসনাদে আবী ইয়ালা, হাদীস নং-৩০৬৫

মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-১৩২৬২

সুনানে নাসায়ী কুবরা, হাদীস নং-১৫৮৫

أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ كَانَ يَقُولُمَنْ نَسِيَ صَلَاةً فَلَمْ يَذْكُرْهَا إِلَّا وَهُوَ مَعَ الْإِمَامِ فَإِذَا سَلَّمَ الْإِمَامُ فَلْيُصَلِّ الصَّلَاةَ الَّتِي نَسِيَ ثُمَّ لِيُصَلِّ بَعْدَهَا الْأُخْرَى

অনুবাদ-হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাঃ বলতেন-যে ব্যক্তি নামাযের কথা ভুলে যায় তারপর তা স্মরণ হয় ইমামের সাথে জামাতে নামাযরত অব্স্থায়, তাহলে ইমাম সালাম ফিরানোর পর যে নামায ভুলে পড়েনি, তা আদায় করবে, তারপর অন্য নামায পড়বে।

মু্য়াত্তা মালিক, হাদীস নং-৫৮৪

সুনানে বায়হাকী কুবরা, হাদীস নং-৩০১২



5) স্বপ্নদোষ হলে গোসল না করে সমস্ত কাপড় পরিবর্তন করে ওযু করে নামায আদায় করলে হবে কি?



না, হবে না। গোসল করতে হবে। গোসল না করে যতই কাপড় পরিবর্তন করা হোক নামায পড়া জায়েজ হবে না।

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَقْرَبُوا الصَّلَاةَ وَأَنْتُمْ سُكَارَىٰ حَتَّىٰ تَعْلَمُوا مَا تَقُولُونَ وَلَا جُنُبًا إِلَّا عَابِرِي سَبِيلٍ حَتَّىٰ تَغْتَسِلُوا ۚ وَإِنْ كُنْتُمْ مَرْضَىٰ أَوْ عَلَىٰ سَفَرٍ أَوْ جَاءَ أَحَدٌ مِنْكُمْ مِنَ الْغَائِطِ أَوْ لَامَسْتُمُ النِّسَاءَ فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا فَامْسَحُوا بِوُجُوهِكُمْ وَأَيْدِيكُمْ ۗ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَفُوًّا غَفُورًا [٤:٤٣]

হে ঈমানদারগণ! তোমরা যখন নেশাগ্রস্ত থাক,তখন নামাযের ধারে-কাছেও যেওনা,যতক্ষণ না বুঝতে সক্ষম হও যা কিছু তোমরা বলছ,আর (নামাযের কাছে যেও না) ফরয গোসলের আবস্থায়ও যতক্ষণ না গোসল করে নাও। কিন্তু মুসাফির অবস্থার কথা স্বতন্ত্র আর যদি তোমরা অসুস্থ হয়ে থাক কিংবা সফরে থাক অথবা তোমাদের মধ্য থেকে কেউ যদি প্রস্রাব-পায়খানা থেকে এসে থাকে কিংবা নারী গমন করে থাকে, কিন্তু পরে যদি পানিপ্রাপ্তি সম্ভব না হয়,তবে পাক-পবিত্র মাটির দ্বারা তায়াম্মুম করে নাও-তাতে মুখমন্ডল ও হাতকে ঘষে নাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা ক্ষমাশীল। {সূরা নিসা-৪৩}




6) স্থায়ী কেপ লাগানো দাঁতের ভিতরে পানি প্রবেশ না করলে ওজু হবে কি?




না, কোন সমস্যা নেই। আপনার ফরজ গোসল মুখে পানি দিয়ে গড়গড়া করলেই আদায় হয়ে যাবে।

فى الفتاوى الهندية-  والصرام والصباغ ما في ظفرهما يمنع تمام الاغتسال وقيل كل ذلك يجزيهم للحرج والضرورةومواضع الضرورة مستثناة عن قواعد الشرع (الفتاوى الهندية-1/13)

প্রামান্য গ্রন্থাবলী:

১- ফাতাওয়া আলমগীরী-১/১৩

২-ফাতাওয়া শামী-১/২৮৪



7) অজুর পানি শরীর থেকে মুছে ফেলা কি ঠিক?





হাদিসে এসেছে যে, “রাসূল সা. অযু করে নেকড়া বা কাপড়ের টুকরা দিয়ে অযুর পানি মুছতেন”। তাছাড়া অন্য হাদিসে এসেছে যে, “অযুর পানির সাথে গোনাহ ঝরে যায়”।

আর গোনাহ ঝরা পানিকে না মুছে রেখে দেবার কোন মানে হয়না। আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

فى سنن الترمذى- حدثنا سفيان بن وكيع بن الجراح حدثنا عبد الله بن وهب عن زيد بن حباب عن أبي معاذ عن الزهري عن عروة عن عائشة قالت : كان لرسول الله صلى الله عليه و سلم خرقة ينشف بها بعد الوضوء (سنن الترمذى، ابواب الطهور، باب ما جاء في التمندل بعد الوضوء، رقم الحديث-53)

وفى صحيح مسلم- حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ ح وَحَدَّثَنَا أَبُو الطَّاهِرِ – وَاللَّفْظُ لَهُ – أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِى صَالِحٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- قَالَ « إِذَا تَوَضَّأَ الْعَبْدُ الْمُسْلِمُ – أَوِ الْمُؤْمِنُ – فَغَسَلَ وَجْهَهُ خَرَجَ مِنْ وَجْهِهِ كُلُّ خَطِيئَةٍ نَظَرَ إِلَيْهَا بِعَيْنَيْهِ مَعَ الْمَاءِ – أَوْ مَعَ آخِرِ قَطْرِ الْمَاءِ – فَإِذَا غَسَلَ يَدَيْهِ خَرَجَ مِنْ يَدَيْهِ كُلُّ خَطِيئَةٍ كَانَ بَطَشَتْهَا يَدَاهُ مَعَ الْمَاءِ – أَوْ مَعَ آخِرِ قَطْرِ الْمَاءِ – فَإِذَا غَسَلَ رِجْلَيْهِ خَرَجَتْ كُلُّ خَطِيئَةٍ مَشَتْهَا رِجْلاَهُ مَعَ الْمَاءِ – أَوْ مَعَ آخِرِ قَطْرِ الْمَاءِ – حَتَّى يَخْرُجَ نَقِيًّا مِنَ الذُّنُوبِ (صحيح مسلم، كتاب الطهارة، باب خُرُوجِ الْخَطَايَا مَعَ مَاءِ الْوُضُوءِ، رقم الحديث-600)

প্রামান্য গ্রন্থাবলী:

১. তিরমিযী শরীফ-হাদিস নং-৫৩

২. সহীহ মুসলিম শরীফ, হাদিস নং-৬০০

৩. সুনানে বায়হাকী, হাদিস নং-৮৪০

৪. মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদিস নং-৭১৪

৫. সুনানে দারে কুতনী, باب التنشف من ماء الوضوء হাদিস নং-১




8) ওষুধ খেয়ে হায়েজ বন্ধ করে মহিলারা যদি রমজানের রোযা রাখে তাহলে কি রোযা হবে?





তবে যদি কোন মহিলা রমজান আসার আগেই এবং হায়েজ শুরু হওয়ার আগে ওষুধ খেয়ে তা বন্ধ করে দেয়, তাহলে তার জন্য রোযা রাখা জায়েজ হবে। কোন সমস্যা নেই।
কিন্তু যদি রমজান চলে আসে, আর রক্ত জারি হয়ে যাওয়ার পর ওষুধ খেয়ে বন্ধ করে দেয়, তাহলে হায়েজের সর্বনিম্ন সীমা কমপক্ষে ৩ দিন পর্যন্ত রোযা রাখতে পারবে না। এর পর থেকে রাখতে পারবে। {কিতাবুল ফাতওয়া-৩/৪০৫}



9) ওযুর সময় সওয়াবের জন্য কোন দোয়া আছে কি?



আর অজুর মাঝে পড়বে

اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذَنْبِي ، وَوَسِّعْ لِي فِي دَارِي ، وَبَارِكْ لِي فِي رِزْقِي

বাংলা উচ্চারণ- আল্লাহুম্মাগফিরলী জাম্বী ওয়া ওয়াসসি’লী ফী দারী ওয়া বারিকলী ফী রিযকী। {সুনানে নাসায়ী কুবরা, হাদীস নং-৯৯০৮, কানযুল উম্মাল, হাদীস নং-৫০৮০, মুসনাদে আবী ইয়ালা, হাদীস নং-৭২৭৩, মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-২৯৩৯১}

অজুর শেষে আকাশের দিকে তাকিয়ে পড়বে

أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ

বাংলা উচ্চারণ- আশহাদু আন লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকালাহূ, ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু। {সুনানে নাসায়ী কুবরা, হাদীস নং-৯৯১২, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-১৬৯, সুনানে দারেমী, হাদীস নং-৭১৬, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-২৩৪, কানযুল উম্মাল, হাদীস নং-২৬০৭৪}




10) গর্দান মাসাহ করার হুকুম কি?




অনুবাদ-হযরত মুসা বিন তালহা বলেন-যে গর্দান মাসাহ করবে, সে কিয়ামতের দিন গলায় বেড়ি পরানো থেকে মুক্ত থাকবে। {কিতাবুত তুহুর-৩৭৩, হাদীস নং-৩৬৭}

হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী রহঃ বলেন-বর্ণনাটি সম্পর্কে একথা বলা যায় যে, যদিও তা একজন তাবেয়ীর কথা হিসেবে পাওয়া যাচ্ছে, কিন্তু বাস্তবিক পক্ষে তা রাসূলুল্লাহ সাঃ এর হাদীস গণ্য হবে। কেননা, তিনি ছাড়া অন্য কারো পক্ষে এমন সংবাদ দেওয়া সম্ভব নয়। {আত তালখীসুল হাবীর-১/৯২, হাদীস নং-৯৭}

এছাড়া আল্লামা বাগাভী রহঃ, ইবনে সাইয়িদুন্নাস রহঃ, শাওকানী রহঃ প্রমূখও অযুতে গর্দান মাসাহ করার কথা বলেছেন। {নাইলুল আওতার-১/২০৪}

কথিত আহলে হাদীসদের বড় ইমাম নওয়াব সিদ্দীক হাসান খান এ মতকে প্রাধান্য দিয়ে বলেন-গর্দান মাসাহ করাকে বিদআত বলা ভুল। আত তালখীসুল হাবীর গ্রন্থের উপরোক্ত বর্ণনা ও অন্যান্য বর্ণনা এ বিষয়ের দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য। তাছাড়া এর বিপরীত বক্তব্য হাদীসে আসেনি। {বুদূরুল আহিল্যাহ-২৮}


11) "" ওজিফা "" শব্দের অর্থ কি?


 وظیفہ - Wazifa “ওযীফা” অর্থ দৈনন্দিন বা নিয়মিত ও নির্ধারিত কর্ম বা কর্মসূচী।
এর অর্থ হল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কোরআন এর বিভিন্ন আয়াত তেলাওয়াতে নিয়োজিত থাকা তাছাড়া আল-আসমা উল হুসনা, তসবিহ, দোয়া, দুরুদ শরীফ ইত্যাদি পাঠ করা এগুলো পাঠ করাকেও ওজিফা বলে।

এটা সাধারনভাবে বেশি সুফী সাধক গনের ব্যবহৃত শব্দ যা
আল্লাহর সন্তুষ্টি হাসিলের জন্য বিভিন্ন তেলাওয়াত ও দোয়া-দুরুদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।



12) ওযু করার পর আয়নার দিকে তাকালে কি ওযু ভেংগে যাবে?




প্রশ্নকর্তার বুঝার সুবিধার্থে বলছি। এই আয়নার দিকে তাকালে ওযু ভেংগে যায় যিনি ফতোয়া দিয়েছেন তিনি ভ্রান্ত ফতোয়া দিয়েছে।

 তাই তার জবাবে বলতে চাই যদি আয়নার দিকে তাকালে ওযু ভেংগে যায় তাহলে কেউ নদী, পুকুর বা জলাশয়ের পানিতে ওযু করলে তাও ভেংগে যাবে কারন আয়না যেমন আলোর প্রতিসসরন এর মাধ্যমে একটা প্রতিচ্ছবি বা বিম্ব সৃষ্টি করে তেমনি স্বচ্ছ পানিও তা সৃষ্টি করে তাই নিজের চেহারা আয়নাতে দেখলে যদি ওযু ভেংগে যায় পানিতে দেখলে এমন কি স্টিল বা যেকোন স্বচ্ছ মাধ্যমে দেখলেই ভেংগে যাবে। তাই ওযু ভেংগে যাবে এই ফতোয়া ভুল। আশা করি বুঝতে পেরেছেন।




১৩) নামাযে ২ সেজদার মাঝখানে বসা অবস্থায় কি পড়তে হয়?



আল্লাহুম্মাগ ফিরলি ওয়ার হামনী ওয়াজবুরনী ওয়াহদিনী ওয়ারযুকনী।

অর্থ : হে আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করো, আমার প্রতি দয়া করো, আমাকে ক্ষতি থেকে রক্ষা করো, আমাকে সত পথ দেখাও এবং আমাকে রিজিক দান করো।

★ সহিহ তিরমিজি

অন্য বর্ননায়,

রাব্বিগ ফিরলি রাব্বিগ ফিরলি।

অর্থ : হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ক্ষমা করো, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ক্ষমা করো।

★ ইবনে মাজাহ

Tuesday, February 3, 2015

আবু হুরাইরা(রা.) কর্তৃক বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা এত অধিক কেন!


আসুন দেখি কিভাবে উনি এত হাদিস বর্ণনা করেছেন।

প্রথম কারণ:

আবু হুরাইরা(রা.) শেষ তিনটা বছর খেয়ে না খেয়ে রাসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর দরবারে পড়ে থাকতেন। তিনি ছিলেন আহলে সুফফার একজন। মুহাজিররা যখন বাজারে ব্যস্ত থাকতেন আর আনসাররা যখন নিজেদের সম্পদের দেখাশনা করতেন, তখনও তিনি রাসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর সাথে লেগে থাকতেন। ফলে অনেক হাদিস যেটা তার পক্ষে শোনা সম্ভব হতো সেটা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হতো না। উনি অন্যান্যদের তুলনায় কিভাবে বেশি হাদিস শিখেছেন শুনুন উনার নিজের জবানে:

দ্বিতীয় কারণ:

উনার বিস্ময়কর স্মরণশক্তি, যেটা ছিল আসলে রাসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর একটি মু’জিজা। একবার উনি স্মরণশক্তির ব্যাপারে অভিযোগ করায় রাসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উনাকে উনার চাদর বিছিয়ে দিতে বলেন, রাসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর উভয় হাত সেখানে চালনা করে চাদরটিকে জড়িয়ে নিতে বলেন। এরপর থেকে তিনি আর কোন হাদিস ভুলেন নাই।
এই দুটি কারণের ব্যাপারে বিস্তারিতভাবে জানতে নিচের হাদিস দুটি দেখুন:

Bukhari Sharif: Volume 003, Book 034, Hadith Number 263.
Bukhari Sharif: Volume 004, Book 056, Hadith Number 841.

এই দুটো কারণ যদি আমরা বিবেচনা নাও করি তবুও তৃতীয় কারণটিই তার হাদিস সংখ্যা বেশি হবার জন্য যথেষ্ট ছিল।

তৃতীয় কারণ:

উনার ছাত্র সংখ্যা অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি ছিল। ফলে উনার একটি বর্ণনা বিভিন্ন সনদে হাদিস সংগ্রাহকদের কাছে এসে অধিক সংখ্যক হাদিসে পরিণত হয়েছে।
[সাধারণভাবে, হাদিস=সনদ(বর্ণনার চেইন)+মতন(মূল বর্ণনা)]
আসুন কিছু বাস্তব উদাহরণ দেখি:

এক.

১.১
Abu Huraira (Allah be pleased with him) reported Allah's Apostle (may peace be upon him) as saying: A man must not make proposal of marriage to a woman when his brother has done so already. And he must not offer a price for a thing for which his brother had already offered a price; and a woman must not be combined in marriage with her father's sister, nor with her mother's sister, and a woman must not ask to have her sister divorced in order to deprive her of what belongs to her, but she must marry, because she will have what Allah has decreed for her. [Muslim Sharif :  Book: 8, Chapter: 4, Number: 3274]

উপরের হাদিসটি আবু হরাইরা(রা.) হতে একটি সনদে বর্ণিত। এই হাদিসটা একটু বিস্তৃত।
১.২
Abu Huraira (Allah be pleased with him) reported Allah's Messenger (may peace upon him) having said this: One should not combine a woman and her father's sister, nor a woman and her mother's sister in marriage. [Muslim Sharif :  Book: 8, Chapter: 4, Number: 3268]
১.৩
Abu Huraira (Allah be pleased with him) reported that Allah's Messenger (may peace be upon him) forbade combining of four women in marriage: a woman with her tather's sister, and a woman with her mother's sister. [Muslim Sharif :  Book: 8, Chapter: 4, Number: 3269]
১.৪
Abu Huraira (Allah be pleased with him) reported: I heard Allah's Messenger (may peace be upon him) say: Father's sister should not be combined with her brother's daughter, nor the daughter of a sister with her mother's sister. [Muslim Sharif :  Book: 8, Chapter: 4, Number: 3270]
১.৫
Abu Huraira (Allah be pleased with him) reported that Allah's Messenger (may peace be upon him) forbade a person to combine in marriage a womanarid her father's sister, and a woman and her mother's sister. Ibn Shihab said: So we regarded the paternal aunt of her (wife's) father and the maternal aunt of her (wife's) father at the same level. [Muslim Sharif :  Book: 8, Chapter: 4, Number: 3271]



১.৬
Abu Huraira (Allah be pleased with him) reported Allah's Messenger (may peace be upon him) as saying: One should not combine in marriage a woman with her father's sister, or her mother's sister. [Muslim Sharif :  Book: 8, Chapter: 4, Number: 3272]
১.৭
Abu Huraira (Allah be pleased with him) reported that Allah's Messenger (may peace be upon him) forbade the combining of a woman in marriage with her father's sister, or with her mother's sister, or that a woman should ask for divorce for her sister in order to deprive her of what belongs to her. Allah, the Exalted'and Majestic, is her Sustainer too. [Muslim Sharif :  Book: 8, Chapter: 4, Number: 3275]
১.৮
Abu Huraira (Allah be pleased with him) reported that Allah's Messenger (may peace be upon him) forbade to combine a woman and her father's sister, and a woman and her mother's sister. [Muslim Sharif :  Book: 8, Chapter: 4, Number: 3276]

কাজেই আমরা দেখছি আবু হুরাইরা(রা.) কর্তৃক বর্ণিত একটি মাত্র বর্ণনার অংশ বিশেষ বিভিন্ন সনদে/চেইনে হাদিস সংগ্রাহকদের নিকট পৌঁছার কারণে তা ৮টি হাদিসে পরিণত হয়েছে।

দুই.

আবু হুরাইরা(রা.) হতে বর্ণিত একই বর্ণনার বিভিন্ন সনদের ৪টি হাদিস:
২.১
Abu Huraira reported Allah's Messenger (may peace be upon him) as saying: Whenever you sight the new moon (of the month of Ramadan) observe fast. and when you sight it (the new moon of Shawwal) break it, and if the sky is cloudy for you, then observe fast for thirty days. [Muslim Sharif :  Book: 6, Chapter: 2, Number: 2378]
২.২
Abu Huraira reported Allah's Messenger (may peace be upon him) as saying: Observe fast on sighting it (the new moon) and break (fast) on sighting it (the new moon), but if the sky is cloudy for you, then complete the number (of thirty). [Muslim Sharif :  Book: 6, Chapter: 2, Number: 2379]
২.৩
Abu Huraira reported Allah's Messenger (may peace be upon him) as saying: Observe fast on sighting it (the new moon) and break it on sighting it. But if (due to clouds) the actual position of the month is concealed from you, you should then count thirty (days). [Muslim Sharif :  Book: 6, Chapter: 2, Number: 2380]


২.৪
Abu Huraira (Allah be pleased with him) narrated that the Messenger of Allah (may peace he upon him) made a mention of the new moon and (in this connection) said: Observe fast when you see it (the new moon) and break fast when you see it (the new moon of Shawwal), but when (the actual position of the month is) concealed from you (on account of cloudy sky), then count thirty days. [Muslim Sharif :  Book: 6, Chapter: 2, Number: 2381]

তিন.

৩.১
Abu Huraira (Allah be pleased with him) reported: Prayer in the mosque of Allah's Messenger (may peace be upon him) is more excellent than a thousand prayers in other mosques except the Masjid al-Haram, for Allah's Messenger (may peace be upon him) is the last of the Apostles, and his mosque is the last of the mosques. Abu Salama and Abu Abdullah (two of the narrators in this chain of narrations said: We had no doubt that what Abu Haraira (Allah be pleased with him) had said was from Allah's Messenger (may peace be upon him), and so we did not like to get an attestation from Abu Huraira about this hadith until Abu Huraira (Allah be pleased with him) died. We discussed it (the issue of getting attestation from Abu Huraira) amongst ourselves and blamed one another as to why we did not talk about it to Abu Huraira regarding it so that he could attribute its transmission to Allah's Messenger (may peace be upon him) in case he had heard It from him. While we were discussing it as we sat with 'Abdullah b. Ibrahlm b. Qariz; we made a mention of this hadith, and our omission (in getting its attestation) about its direct transmission by Abu Huraira from him (the Holy Proohet) ; thereupon Abdullah b. Ibrahim said to us: I bear witness to the fact that I heard Abu Huraira (Allah be pleased with him) say that Allah's Messenger (may peace be upon him) said: I am the last of the Apostles and my mosque is the last of the mosques. [Muslim Sharif :  Book: 7, Chapter: 90, Number: 3211]
এই হাদিসের লাল অংশটুকু বিভিন্ন সনদে আরো ৫টি হাদিসে এসেছে।
৩.২
Narrated Abu Huraira
Allah's Apostle said, "One prayer in my Mosque is better than one thousand prayers in any other mosque excepting Al-Masjid-AI-Haram." [Bukhari  Vol.2, Book 21, No.: 282]
৩.৩
Abu Huraira (Allah be pleased with him) narrated It directly from Allah's Apostle' (may peace be upon him) having said this: A prayer in my mosque is a thousand times more excellent than a prayer in any other mosque, except Masjid al-Haram (Mosque of the Ka'ba)." [Muslim Sharif :  Book: 7, Chapter: 90, Number: 3209]
৩.৪
Abu Huraira (Allah be pleased with him) reported Allah's Messenger (may peace be upon him) as saying: Prayer in my mosque is more excellent than a thousand prayers observed in other mosques except the Masjid al- Haram. [Muslim Sharif :  Book: 7, Chapter: 90, Number: 3210]
৩.৫
Yahya b. Sa'id (Allah be pleased with him) reported: I said to Abu Salih: Did you hear Abu Huraira (Allah be pleased with him) making a mention of the excellence of prayer in the mosque of Allah's Messenger (may peace be upon him)? He said: No (I did not hear directly from Abu Huraira), but I heard Abdullah b. Ibrahlm b. Qariz; say that' he had heard from Abu Huraira (Allah be pleased with him) that Allah's Messenger (may peace be upon him) had said: Prayer in this mosque of mine is better than a thousand prayers. or. is like one thousand prayers observed in other mosques besides It, except that it be in al-Masjid al-Haram. This hadith has been narrated by Yabya b. Sa'id with the same chain of transmitters. [Muslim Sharif :  Book: 7, Chapter: 90, Number: 3212]

৩.৬
Yahya related to me from Malik from Zayd ibn Rabah and Ubaydullah ibn Abi Abdullah Salman al-Agharr from Abu Hurayra that the Messenger of Allah, may Allah bless him and grant him peace, said, "A prayer in this mosque of mine is better than a thousand prayers in any other mosque, except the Masjid al-Haram (in Makka)." [Muatta Malik : Book 14, Number 14.4.9]

চার.

৪.১
Narrated Abu Huraira:
The Prophet said, "Whoever fasted the month of Ramadan out of sincere Faith (i.e. belief) and hoping for a reward from Allah, then all his past sins will be forgiven, and whoever stood for the prayers in the night of Qadr out of sincere Faith and hoping for a reward from Allah, then all his previous sins will be forgiven ." [Bukhari  Vol.3, Book 32, No.: 231]

এই হাদিস বা এর অংশবিশেষ বিভিন্ন চেইনে আরো তিনটি হাদিসে এসেছে:

৪.২
Abu Huraira reported Allah's Messenger (may peace be upon him) as saying: He who observed the fasts of Ramadan with faith and seeking reward (from Allah), all his previous sins would be forgiven, and he who observed prayer on Lailat-ul- Qadr with faith and seeking reward (from Allah), all his previous sins would be forgiven. [Muslim Sharif :  Book: 4, Chapter: 117, Number: 1664]
 ৪.৩
Narrated Abu Huraira:
The Prophet said, "Whoever established prayers on the night of Qadr out of sincere faith and hoping for a reward from Allah, then all his previous sins will be forgiven; and whoever fasts in the month of Ramadan out of sincere faith, and hoping for a reward from Allah, then all his previous sins will be forgiven." [Bukhari  Vol.3, Book 31, No.: 125]
৪.৪
Narrated Abu Huraira:
Allah's Apostle said, "Whoever establishes the prayers on the night of Qadr out of sincere faith and hoping to attain Allah's rewards (not to show off) then all his past sins will be forgiven." [Bukhari  Vol.1, Book 2, No.: 34]


পাঁচ.
আগেই বলেছি, সাধারণভাবে, হাদিস= সনদ(বর্ণনার চেইন/সূত্র)+মতন(বর্ণনা)
নিচে দেখুন আবু হুরাইরা(রা.) কর্তৃক বর্ণিত একটি মাত্র বর্ণনা বিভিন্ন চেইনে আসার ফলে কিভাবে ৬৮টি হাদিসে পরিণত হয়েছে:


★★★ Abu Huraira reported the Prophet saying: (that Almighty Allah has said) Every act of the son of Adam is for him; every good deed will receive tenfold except fasting. It is [exclusively] meant for me, and I [alone] will reward it. He abandons his food for My sake and abandons drinking for My sake and abandons his pleasure for My sake. When any one of you is fasting he should neither indulge in sex nor use obscene language. If anyone reviles him he should say, "I am fasting." The one who fasts has two [occasions] of joy: one when he breaks the fast and one on the day when he will meet his Lord. And the breath [of a fasting person] is sweeter to Allah than the fragrance of musk.





অথচ এই একই বর্ণনা অন্য ৭ জন সাহাবী হতে বিভিন্ন সনদে/চেইনে আসায় মাত্র ১৭টি হাদিসে পরিণত হয়েছে:





কাজেই আবু হুরাইরা(রা.) কর্তৃক বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা ৫০০০ বা তার চেয়ে কিছু বেশি হওয়া মোটেই আশ্চর্যজনক কোন বিষয় নয়।

Saturday, January 31, 2015

কালিমা তাইয়্যেবা তে রিসালাতের ঘোষনা কি সহিহ হাদিসে নেই?



Lecture : কালেমা তাইয়্যেবাহ নিয়ে মিথ্যাচার :-
Masum Billah Sunny

এখানে যে কয়েকটা Step এ পুরোটা lecture শেষ হবে দেখে নিন:-
STEP1: তাদের মিথ্যাচারের ভয়াবহতা প্রমানসহ সেগুলোর বিবরন।

STEP2: হযরত আদম (আ) এর দেখা কালিমা যা আরশের খুটিতে লেখা আছে- ""লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ"" একে জাল অপপ্রচারের জবাব।

STEP3: তাদের দাঁতভাঙা জবাবে অসংখ্য সহিহ হাদিস এর Reference সংগ্রহ করে দিলাম

STEP4: তারপর কিছু হাদিস বর্ননা করে সবগুলোর জবাব কুরআন ও হাদিস থেকে দেয়া হল।
দয়া করে post টি পুরোটা পড়বেন নয়তো আপনে অনেক মারাত্মক ভুল বুঝতে পারেন কারন post টি বিশাল বড়। বুঝার সুবিধার জন্য দাগ কেটে আলাদা করে দিলাম।

আজ এই আবর্জনা গুলোকে সাফ করে দিব চিরদিনের জন্য এই post পড়ার পর কোন দিন কেউ আর তাদের ধোকায় পড়বেন না আশা করছি।

→→→→→→→→→→→→→→→


ইদানিং বেশকিছু ওহাবী জামাতী ভন্ড আর দাওয়া group যারা মুলত peace tvর ভাইদের আরেক পরিচয়।অনেক দিন থেকেই লক্ষ করছি তারা বিভিন্ন website ,blog  ,facebook ,youtube এ কুরআন হাদিসে কোন কালিমা তাইয়্যেবাহ নেই বলে প্রচার করে আসতেসে তাদের মতে আমরা যে কালিমা পড়ি তা বিদাত ও ভুল। চাইলে প্রমান স্বরুপ ইন্টারনেট এ দেখে নিতে পারেন। (নাউজুবিল্লাহ)


সাধারণ মুসলমানকে কত বড় ধোকা দিচ্ছে এই ভন্ড ওহাবী জামাতী নামধারী আহলে হাদিস এর দল দেখুন ****

#SETP1:-

আগে তাদের ভয়াবহতা বুঝানোর জন্য তাদের কিছু মন্তব্য তুলে ধরলাম *****

'কালেমায়ে তাইয়্যিবাহ' কোনটি ??

১) "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ"।      নাকি 

অর্থঃ নাই কোন ইলাহ বা মা'বুদ আল্লাহ ছাড়া। 

২) "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ"।

অর্থঃ আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ বা মা'বুদ নাই - মুহাম্মদ(সাঃ) আল্লাহর রাসুল।

সারকথা হলঃ

দীর্ঘ ২৫ বছরের গবেষনায় "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ" - এই বাক্যটি সম্পর্কে কোন জাল হাদিস ছাড়া কুরআনে ও সহিহ হাদিসে পাওয়া যায় নাই। বিস্তারিত জানতে দেখুনঃ 

***বুখারীঃ ১/১২, ২৯, ৩/১২৮৭(ইঃফাঃবাঃ) এবং মুসলিমঃ ১/৪৫, ৪৭, ৫৭, ৬১(বাঃইঃসেঃ)। 


বাতিলদের আরো মন্তব্য দেখুন :-


শেষ নবী মুহাম্মদ সঃ বলেছেন :
যে-ই বলবে, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্” জান্নাতে যাবে।

শেষ নবী সঃ কোথাও, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ” একত্রে বলেন নি।

যে কেউ জেনে তা বলবে, ইয়াহুদী ও খৃষ্টানদের ন্যায় ওযাইর ও ঈসা আঃ কে আল্লাহর শরীক বানানোর পাপে মুশ্রিক ও কাফের হয়ে যাবে।

এতো দিন যারা না জেনে ভুলে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ” একত্রে বলেছে ও লিখেছে,
তারা তওবা করে এখন থেকে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” কালেমা তাইয়েবা ও তাওহীদ পড়ে ঈমান নবায়ন করবে।

ঘরে, মসজিদে, অফিসে, স্থাপনায় ও যেখানে যেখানে “লা ইল্লাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ” একত্রে লেখা আছে, তা মুছে ও সরিয়ে ফেলবে। এখন থেকে পৃথক পৃথক কলেমা তাইয়েবা ও কালেমা রিসালাত পড়বে, লিখবে ও শিখাবে।


Nawzubillah,Nawzubillah,Nawzubillah


কালেমা দারা আল্লাহ রাসুল কিতাব ফেরেশতা ও তকদির সবকিছুর উপর পর্নাংগ ইমান আনতে হবে শুধু তাওহীদ এর ঘোষনা দিয়ে আল্লাহকে রব মানলেন আর বাকি গুলোর প্রতি ইমান আনলেন না এটার নাম ইসলাম নয়।

নিচে তাদের কিছু মিথ্যাচার প্রমানসহ দেখুন :-

এখানে দেখুন ওহাবী আহলে হাদিস দের কালেমা তাইয়্যেবাহ নিয়ে সন্দেহ আর মিথ্যাচার :-

কালেমা তাইয়্যেবাহ এর step দেখুন :-

https://m.facebook.com/IslamForEveryLife/posts/763006673744791

দাওয়া ব্লগ যাদের আকিদাহ peace tv group আকিদাহ ওরফে নামধারী আহলে হাদিস যারা স্পস্টভাবে কালেমা তাইয়েবাকে ভুল বলেছে :-

http://www.onbangladesh.org/blog/blogdetail/detail/6778/maruf_rusafi/36999#.VBl0K7BuvFo

এই same post আবার copy peste মারসে আমার friendlist এর এই আহলে হাদিস ভাই আগে ভাবতাম reseacher এখন দেখি না বুঝেই copy peste মারে :-

https://m.facebook.com/notes/shakil-talukdar/কালেমায়ে-তাইয়্যিবাহ-কোনটি-/10200274802006742/?p=10&ref=bookmark

কালেমা তাইয়্যেবাহ এর step দেখুন:-

http://askislambd.weebly.com/gqa123.html

এখানে দেখুন ওহাবী জামাতিরা শুধু তাওহীদের ঘোষনা দিয়েছে কিন্তু রিসালাতের কোন ঘোষনা নেই।কেন??

http://www.jamiyat.org.bd/archives/3281

https://m.facebook.com/learn.jamat.shibir/posts/207492005983401

আহলে হাদিসও শুধু তাওহিদ এর ঘোষনা দিচ্ছে রিসালাতের ঘোষনা নেই কেন??

http://hadith.blog.com/2011/12/12/বর্তমানে-অধিকাংশ-মুসলিম/

এখানে কালেমা নিয়ে সন্দেহতো আছে ই এমনকি একমাত্র কুরআন ছাড়া সহীহ হাদিসকেও মানতে সন্দিহান কারন হাদিস রাসুল(সা) এর ওফাতের ২০০-৩০০ বছর পর সংকলিত হয়েছে বলে তারা ইসলামের মধ্যে আরেক টা মারাত্তক ফেরকা।

http://www.signofquran.com/upload/38.html


→→→→→→→→→→→→→→→

STEP 2 :-

হাদিসকে জাল বানানোর কত চেষ্টা ওইসব জাহান্নামী দের আল্লাহ উপযুক্ত প্রতিদান দিবেন । ওহাবী সালাফীরা প্রচার করছে এটি নাকি জাল হাদিস। কারন ১টাই এখানে নবীর শান লেখা আছে তাই তাদের গা জ্বলে। আসুন এটা যাচাই করি :-

ওহাবীদের ভাষ্য :- একটি বহুল প্রচলিত জাল হাদীসঃ

"আদম(আঃ) যখন গুনাহ করে ফেললেন, তিনি বললেনঃ হে আমার প্রভু! তোমার নিকট মুহাম্মাদকে সত্য জেনে প্রার্থনা করছি। আমাকে ক্ষমা করে দাও। আল্লাহ্‌ বললেনঃ হে আদম! তুমি কিভাবে মুহাম্মাদকে চিনলে, অথচ আমি তাঁকে সৃষ্টি করিনি? আদম বললেনঃ হে আমার প্রভু! আপনি আমাকে যখন আপনার হাত দ্বারা সৃষ্টি করেছিলেন এবং আমার মধ্যে আপনার আত্মা থেকে আত্মার প্রবেশ ঘটান, তখন আমি আমার মাথা উচু করেছিলাম। অতঃপর আমি আরশের স্তম্ভগুলোতে লেখা দেখেছিলাম "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ"। আমি জেনেছি যে, আপনার কাছে সর্বাপেক্ষা ভালবাসার সৃষ্টি ব্যতিত অন্য কাউকে আপনি আপনার নামের সাথে সম্পৃক্ত করবেন না। সত্যই বলেছ হে আদম! নিশ্চয়ই তিনি আমার নিকট সর্বাপেক্ষা ভালবাসার সৃষ্টি। তুমি তাঁকে হক জানার দ্বারা আমাকে ডাক। আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিবো। মুহাম্মাদ যদি না হত আমি তোমাকে সৃষ্টি করতাম না।"

এটি লোকমুখে হাদীসে কুদসি হিসাবে যথেষ্ট প্রসিদ্ধ। অথচ হাদীস বিশেষজ্ঞরা এ ব্যপারে একমত যে, এটি ভিত্তিহিন রেওয়ায়েত, মিথ্যুকদের বানানো কথা। রাসুল(সাঃ) এর হাদীসের সাথে এর সামান্যতম সম্পর্কও নেই।


 Lets See :-

★★আরশের খুটিতে লেখা আছে- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ [ﷺ]

হাদিসটি পড়ুন, প্লিজ,,↓

★হাদীস নং- 1

روى سيدنا عبد الله بن عمر رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم (لما اقترف آدم الخطيئة قال: يا رب أسألك بحق محمد إلا غفرت لي فقال الله تعالى يا آدم كيف عرفت محمدا ولم أخلقه؟ قال: يا رب إنك لما خلقتني رفعت رأسي فرأيت علي قوائم العرش مكتوبا لا إله إلا الله محمد رسول الله فعلمت أنك لم تضف إلى اسمك إلا أحب الخلق إليك فقال الله تعالى صدقت يا آدم إنه لأحب الخلق إلى وإذ سألتني بحقه فقد غفرت لك ولو لا محمد ما خلقتك

অনুবাদঃ
হযরত আব্দুল্লাহ বিন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুল [সাﷺ] বলেছেন, যখন আদম আলাইহিস সালামের নিকট তাঁর নিষিদ্ধ বৃক্ষের ফল ভক্ষণের বিষয়টি ধরা পড়ল, তখন তিনি বললেন, হে আল্লাহ, আমি মুহাম্মাদের [ﷺসা] ওয়াসীলা নিয়ে তোমার দরবারে ফরিয়াদ করছি, আমাকে ক্ষমা করে দাও।

অতঃপর আল্লাহ বললেন, হে আদম, তুমি মুহাম্মাদকে কীভাবে চিনলে, এখনো যাকে সৃষ্টি করি নাই?
তিনি বললেন, হে আল্লাহ, তুমি যখন আমাকে সৃষ্টি করেছিলে, আমি তখন আমার মাথা উঠিয়েছিলাম। তখন দেখতে পেয়েছিলাম, আরশের খুটিগুলোর উপর লেখা, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ। তখন আমি বুঝতে পেরেছিলাম, সমগ্র সৃষ্টির মধ্য সবচেয়ে প্রিয় না হলে তুমি তাঁর নাম তোমার নামের সাথে মিলাতে না।

অতঃপর আল্লাহ বললেন, হে আদম তুমি ঠিকই বলেছ। নিশ্চয়ই সমগ্র সৃষ্টির মধ্যে সে আমার সবচেয়ে প্রিয়, আর যেহেতু তুমি তাঁর ওয়াসীলা নিয়ে আমার নিকট দোয়া করেছ, তাই তোমাকে ক্ষমা করে দিলাম। আর(জেনে রাখ) মুহাম্মাদকে সৃষ্টি না করলে আমি তোমাকে সৃষ্টি করতাম না।

রেফারেন্সঃ


১-আল্লামা কাসতাল্লানী রহঃ {আল মাওয়াহেবুল লাদুনিয়্যাহ-২/৫২৫}
২-ইমাম বায়হাকী রহঃ {দালায়েলুন নাবায়িয়্যাহ}
৩-ইমাম হাকেম রহঃ {মুসতাদরাকে হাকেম}
৪-আল্লামা সুবকী রহঃ {শেফাউস সিকাম}
আরো বর্নিত আছে:-
৫-আল মুজামুল আওসাত, হাদীস নং-৬৫০২,
৬-আল মুজামুস সগীর লিত তাবরানী, হাদীস নং-৯৯২,
৭-আবু নুআইম রহ:
৮-আদ দুরার কিতাবে ইবনে আসাকীর রহঃ,
৯-মাযমাউজ যাওয়ায়েদ কিতাবে।
১০-ফাযায়েলে আমাল, ৪৯৭


যে সকল মুহাদ্দিসীন এ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেনঃ

১-★★ ইমাম হাকিম বলেছেন হাদিসটি সহীহ।
আল মুস্তাদরাক-২/৬১৫

২- ইমাম তকি উদ্দীন সুবকী বলেন, হাদিসটি হাসান।
শিফাউস সিকাম, পেইজ-১২০

৩- ইমাম তকী উদ্দীন দামেশকী বলেন, হাদীসটি বিশুদ্ধ।
দাফউ শুবহাহঃ ১/৭২

৪-★★ ইমাম কুস্তালানী (রহ) বলেন, হাদিসটি বিশুদ্ধ।
মাওয়াহিবুল লাদুনিয়াহঃ১/১৬

৫- ইমাম সামহুদী বলেন, হাদিসটি সহীহ।
ওয়াফাউল ওয়াফাঃ২/৪১৯

৬- ★★ ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ুতী বলেন, বিভিন্ন সনদে বর্ণিত এ হাদিসটি বিশুদ্ধ।
আল খাসাইসঃ১/৮

৭- ইবনু তাইমিয়্যাহ এ হাদীসটি দলীল হিসাবে তাঁর কিতাবে উল্লেখ করেছেন।
মাজমাউল ফাতাওয়াঃ২/১৫৯

সুতরাং প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিসগণের এসব মন্তব্যের পর আর কোন সন্দেহ থাকল না, নিঃসন্দেহে বলা যায় হাদিসটি সহীহ।


★ হাদীস নং- 2


আর এই পবিত্র কালিমা শরীফ সহীহ সনদে হাদীস শরীফে বর্নিত আছে। আসুন আমরা সনদ সহ হাদীস শরীফখানা লক্ষ্য করি-

حدثنا علي بن حمشاد العدل املاء هرون بن العباس الهاشمي ثنا جندل بن والق ثنا عمرو بن أوس الانصاري
حدثنا سعيد بن ابي عروبة عن قتادة عن سعيد بن المسيب عن ابن عباس رضي الله عنه قال اوحي الله الي عيسي عليه السلام يا عيسي امن بمحمد صلي الله عليه و سلم وامر من ادركه من امتك ان يؤمنوا به فلو لا محمد صلي الله عليه و سلم ما خلقت ادم عليه السلام ولولا محمد صلي الله عليه و سلم ما خلقت الجنة و النار ولقد خلقت العرش علي الماء فضطرب فكتبت عليه "لا اله الا الله محمد رسول الله صلي الله عليه و سلم فسكن. هذا حديث صحيح الاسناد

অর্থ: হযরত ইমাম হাকিম নিসাবুরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমাদের কাছে হাদীস শরীফ বর্ননা করেছেন হযরত আলী বিন হামশাদ আদল ইমলা রহমাতুল্লাহি আলাইহি। তিনি বলেন, আমাদের কাছে হাদীস শরীফ বর্ননা করেছেন হারূন বিন আব্বাস হাশেমী রহমাতুল্লাহি আলাইহি। তিনি বলেন, আমাদের কাছে হাদীস শরীফ বর্ননা করেছেন জানদাল বিল ওয়াকিল রহমাতুল্লাহি আলাইহি। তিনি বলেন আমাদের কাছে হাদীস শরীফ বর্ননা করেছেন হযরত আমর বিন আউস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু।

সনদ পরিবর্তন/ দ্বিতীয় সনদ :

হযরত ইমাম হাকিম রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমাদের কাছে হাদীস শরীফ বর্ননা করেছেন :-
★হযরত সাঈদ বিন আবু উরূবাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি ,
★তিনি হযরত ক্বাতাদাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি থেকে।
★ তিনি সাঈদ বিন মুসাঈয়িব রহমাতুল্লাহি আলাইহি থেকে,
★তিনি হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে।

তিনি বলেন-

" মহান আল্লাহ পাক তার রসূল হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম কে ওহী করলেন। হে হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম ! আপনি মুহাম্মাদ [সাﷺ] এর প্রতি ঈমান আনুন এবং আপনার উম্মতের মধ্যে উনাকে যারা পেতে চায় তাঁদের নির্দেশ করুন, তাঁরা যেন উনার প্রতি ঈমান আনে। যদি মুহাম্মদ [সাﷺ] না হতেন তবে আদম আলাইহিস সালাম কে সৃষ্টি করতাম না, যদি মুহাম্মদ [সাﷺ] সৃষ্টি না হতেন তবে জান্নাত এবং জাহান্নাম সৃষ্টি
করতাম না। আর যখন আমি পানির উপর আরশ সৃষ্টি করলাম তখন তা টলমল করছিলো, যখনই আরশের মধ্যে

لا اله الا الله محمد رسول الله [ﷺ]

লিখে দেই তৎক্ষণাৎ আরশ স্থির হয়ে যায়।"
এই হাদীস শরীফের সনদ সহীহ।"

দলীল-
★আল মুসতাদরাক আলাছ ছহীহাঈন লিল হাকীম নিসাবূরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি, - ★কিতাবু তাওয়ারীখিল মুতাক্বাদ্দিমীন- যিকরু আখবারী সাইয়্যিদুল মুরসালীন ওয়া খাতামুন নাব্যিয়িন মুহম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল মুত্তালিব মুছতাফা ছলাওয়াতুল্লাহি আলাইহি ওয়া আলিহীত ত্বহীরিন ৪র্থ খন্ড ১৫৮৩ পৃষ্ঠা।
★মুখতাছারুল মুসতাদরাক ২য় খন্ড ১০৬৭ পৃষ্ঠা


★• হাদীস নং-3


বিখ্যাত ইমাম হাফিজে হাদীস আল্লামা জালালুদ্দীন সূয়ুতি রহমাতুল্লাহি আলাইহি তাঁর কিতাবে উল্লেখ করেন-

عن ابن عباس رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلي الله عليه و سلم ما في الجنة شجرة عليها ورقة الا مكتوب عليها لا اله الا الله محمد رسول الله صلي الله عليه و سلم

অর্থ: হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্নিত, তিনি বলেন- হুজুর পাক [ﷺ] ইরশাদ মুবারক করেন, জান্নাতের এমন কোন গাছ নেই যার পাতার মধ্যে

لا اله الا الله محمد رسول الله [ﷺ]

এ বরকতময় কালিমা শরীফ লিখিত নেই। "

দলীল-
★খাছায়েছুল কুবরা ১ম খন্ড ১৩ পৃষ্ঠা।
★আল হিলইয়া লি আবু নুয়াইম রহমাতুল্লাহি আলাইহি।


★ হাদীস নং- 4


হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সূয়ুতি রহমাতুল্লাহি আলাইহি আরো বর্ননা করেন,-

عن حضرت جابر رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلي الله عليه و سلم مكتوب علي باب الجنة لا اله الا الله محمد رسول الله صلي الله عليه و سلم

অর্থ: হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ননা করেন, হুজুর পাক [ﷺসা] ইরশাদ মুবারক করেন, জান্নাতের দরজা মুবারকে লিখা রয়েছে-

لا اله الا الله محمد رسول الله [ﷺ]

দলীল-
★খাছায়িছুল কুবরা ১ম খন্ড


★ হাদীস নং- 5


কিতাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বর্ননা রয়েছে-

عن حضرت ابي الحسن علي بن عبد الله الهاشمي الرقي رحمة الله عليه قال : دخلت بلاد الهند، فرايت في بعض قرأها شجرة ورد اسود ينفتح عن وردة كبيرة طيبة الراءحة سوداء عليها مكتوب بخط ابيض لا اله الا الله محمد رسول الله صلي الله عليه و سلم ابو بكرن الصديق عليه السلام عمر الفاروق رضي الله عنه فشككت في ذاك وقلت انه معمول فعمدت الي حبة لم تفتح ففتحتها فرايت فيها كما رايت في ساءر الورد في البلد منه شيء كثير

অর্থ: হযরত ইবনে আসাকির রহমাতুল্লাহি আলাইহি এবং হযরত ইবনে নাজ্জার রহমাতুল্লাহি আলাইহি দু'জন স্বীয় ইতিহাসগ্রন্থে হযরত আবুল হাসান আলী ইবনে আব্দুল্লাহ আল হাশীমি আররক্বী রহমাতুল্লাহি আলাইহি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি ভারতবর্ষের কোন এক এলাকায় পৌঁছে একটি কালো রঙ্গের গোলাপ গাছ দেখলাম। এর অকটি ফুল অনেক বড়, যার রঙ কালো, সুগন্ধিনয় এবং অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর ছিলো। ঐ ফুলটির গায়ে সাদা হরফে লিখা ছিলো-

لا اله الا الله محمد رسول الله صلي الله عليه و سلم ابو بكرة صديق رضي الله غنه عمر الفاروق رضي الله عنه

আমি মনে মনে চিন্তা করলাম এবং আমার বিশ্বাস হলো নিশ্চয়ই এটা কারো কাজ হবে। তাই আমি অন্য একটি বন্ধ কলি খুলে দেখলাম। আশ্চর্যের বিষয় তাতেও এরূপ লিখা ছিলো। এধরনের গোলাপ গাছ সেখানে প্রচুর পরিমান ছিলো। " সুবহানাল্লাহ্ !!

দলীল-
★ইবনে আসাকির
★ইবনে নাজ্জার।


উপরোক্ত নির্ভরযোগ্য দলীল থেকে প্রমানিত হলো কালিমা শরীফ হচ্ছে " লা'ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহম্মদুর রসূলাল্লাহ [সাﷺ]

অথচ সালাফী ওহাবীপন্থী মুরতাদরা বলছে এধরনের কোন কালিমা শরীফ নাকি ইসলামে নাই। নাউযুবিল্লাহ !!

শুধু তাই নয় জামাতের মুরতাদ তারেখ মনোয়ার বলেছে কালিমা শরীফে " লা'ইলাহা ইল্লাল্লাহু " এই বাক্যের পাশাপাশি "মুহম্মদুর রসূলাল্লাহ [সাﷺ] লিখা শিরক। নাউযুবিল্লাহ !!


♦শাহ আব্দুল আজিজ মুহাদ্দিসে দেহলভী (রহ) বলেন, রাসুলুল্লাহ সাঃ এর হাদীস আল্লাহ তাআলার বাণীরই ব্যাখ্যা হয়ে থাকে। আমরা কুরআনের ব্যাখ্যা সর্ব প্রথম রাসূল সাঃ এর হাদীস দ্বারাই গ্রহণ করে থাকি।
কুরআনে কারীমে একথা রয়েছে যে, হযরত আদম আঃ কে কিছু কালিমা আল্লাহ তাআলা শিক্ষা দিয়েছেন, যা পড়ার দরূন তার তওবা কবুল হয়েছে। আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে হযরত আদম আঃ কে তওবার ওসীলা কালিমা শিক্ষা দেয়াটা ছিল একটি নেয়ামত। আর নেয়ামত সাধারণত কোন নেক আমলের কারণে পাওয়া যায়। হযরত আদম আঃ এর পাওয়া তওবার অসীলা সেসব কালিমা শিখতে পাওয়ার নেয়ামত কোন নেক আমলের কারণে পেয়েছিলেন? তা কুরআনে বর্ণিত নেই।
হাদীসের মাঝে সেই নেক আমলের কথাটি বর্ণনা করা হয়েছে। সেই নেক আমলটি হল, হযরত আদম আঃ রাসূল সাঃ এর ওসীলা দিয়ে আল্লাহর কাছে দুআ করেছিলেন। সুতরাং এ হাদীসটি কুরআনে কারীমের বিপরীত অর্থবোধক রইল কিভাবে?
রেফারেন্স :-
★ শাহ আব্দুল আজীজ মুহাদ্দেসে দেহলবী রহঃ প্রণীত তাফসীরে ফাতহুল আজীজ-১/১৮৩।


এ হাদীসের মূল বক্তব্যের উপর আরো দু’টি হাদীস রয়েছে। যথা-

عن عبد الله بن شقيق ؛ أن رجلا سأل النبي صلى الله عليه وسلم : متى كنت نبيا ؟ قال : كنت نبيا وآدم بين الروح والجسد (مصنف ابن ابى شيبة، كتاب المغازى، ما جاء في مبعث النبي صلى الله عليه وسلم، رقم الحديث-৩৭৭০৮)

অনুবাদ-আব্দুল্লাহ বিন শাকিক থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ কে এক লোক প্রশ্ন করল-আপনি কখন থেকে নবী? তিনি বললেন-আমি তখন থেকেই নবী যখন আদম আঃ রুহ ও শরীরের মাঝামাঝি ছিলেন।
Reference :-
★মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-৩৭৭০৮,
★মাশকিলুল আসার লিত তাহাবী, হাদীস নং-৫২২২,
★কানযুল উম্মাল ফি সুনানিল আকওয়াল ওয়াল ★আফআল, হাদীস নং-৩১৯১৭,
★জামেউল আহাদীস, হাদীস নং-১৫৮৩৫


عن العرباض بن سارية الفزاري قال : سمعت رسول الله صلى الله عليه و سلم يقول : ( إني عند الله مكتوب بخاتم النبيين وإن آدم لمنجدل في طينته (صحيح ابن حبان، كتاب التاريخ، باب من صفته صلى الله عليه و سلم وأخباره، رقم الحديث-৬৪০৪)

অনুবাদ-হযরত ইরবায বিন সারিয়্যা রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন-আমি রাসূল সাঃ কে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেছেন-নিশ্চয় আমি আল্লাহ তাআলার কাছে সর্বশেষ নবী হিসেবে লিপিবদ্ধ ছিলাম তখন, যখন আদম আঃ মাটিতে মিশ্রিত ছিলেন।
Reference :-
★সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-৬৪০৪,
★মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-১৭১৬৩,
★মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-৪১৯৯,
★মুসনাদুশ শামীন, হাদীস নং-১৪৫৫,
★শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং-৩২২২,
★মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদীস নং-৫৭৫৯,
★আল মু’জামুল কাবীর, হাদীস নং-৬৩১

সুতরাং এ বর্ণনাটিকে জাল বলাটা বাড়াবাড়ি আর কিছু নয়।


→→→→→→→→→→→→→→→

STEP 3 :-
"লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ" এর ব্যাপারে সহীহ সনদে অনেক হাদীস হাদীসের কিতাব সমূহে সহীহ সনদে বিদ্যমান আছে। আমি ভিন্ন করে নোট আকারে লিখবো ইনশাআল্লাহ্‌। আপাততো দুইটি হাদীস পেশ করছি।


পুরো lecture এর মুলনীতি :-

রিসালাতের ঘোষনা :- এ নিয়ে অনেক হাদিস আছে।
যেখান থেকে আমি [মাসুম বিল্লাহ সানি (আল্লাহর কসম! আমি যেহেতু খুজে বের করেছি আমিই নিজেই ১০০% এইসব Reference এর সত্যতার স্বীকৃতি দিচ্ছি ) এমন কিছু হাদিসের reference দিচ্ছি যেগুলোতে স্পস্টভাবে বিভিন্নভাবে একি সাথে তাওহীদ ও রিসালাতের ঘোষনা অর্থাত মুলত এইসব হাদিসে কালেমা তাইয়্যেবাহ ও কালেমা শাহাদাত এর সাক্ষ্য দেয়া হয়েছে ঠিক এই ভাবে:- 


(প্রথম)  :-
""""" আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নাই এবং মুহাম্মদ(সাঃ) আল্লাহর রাসুল এ কথার সাক্ষ্য দান।

(দ্বিতীয়)  :-

মুহাম্মদ(সা) বলেছেন যে, "আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসুল।

(তৃতীয়)  :-

সাহাবিগন বলেছেন,"আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই এবং আপনি আল্লাহর রাসুল।""""

(চতুর্থ) :-

কালেমা শাহাদাত এ রিসালাতের এর সাক্ষ্য:-

আমি সাক্ষ্য দেই যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নাই, তাঁর কোন শারীক নাই, তিনি একক এবং আমি আরো সাক্ষ্য দেই যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দা ও রসূল।

সবগুলোর একই উদ্দেশ্য যে, "

১) """আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নাই"" এই কথা দারা তাওহিদের ঘোষনা দেয়া সাথে সাথে

২) """মুহাম্মদ(সা) আল্লাহর রাসুল""" এই বলে রিসালাতের সাক্ষ্য প্রমান করা।

একসাথে এতগুলো হাদিস আমি post করতে পারছি না আর আপনাদের পড়ারও আগ্রহ থাকবে না তাই শুধু অধ্যায় সহ reference দিচ্ছি কেউ চাইলে check করতে পারেন।আমি একটা একটা করে সব হাদিস check করে দিয়েছি।


Name: Sahih Bukhari (সহীহ বুখারি)
publication: Islamic foundation Bangladesh

অধ্যায়:হাদিস নং
ইমান: ৭,২৪,৫১,
ইলম: ৮৭,১৩০,
সালাত: ৪৪৮
সালাতের ওয়াক্তসমুহ: ৪৯৮
আযান: ৭৯৬(শ)
তাহাজ্জুত: ১১২৯(শ)
জানাযা: ১২৪৭(শ),১২৮৫,১২৯১(শ)
যাকাত: ১৩১৩,১৪০৯
হজ্জ: ১৭৬০
ক্রয় বিক্রয়: ২০২৩
অংশিদারিত্ত: ২৩২২
জিহাদ: ২৬৯৮,২৭৭৪,২৮৪০,২৮৪৬(শ)
আম্বিয়া কেরাম(আ) : ৩১৯৩(শ),৩০৯৪,৩২৬৮(শ),৩৬৫৪,
যুদ্ধাভিযান: ৩৮৮৮,৩৮৯২,৪০০৯,৪০৩৩
তফসির : ৪১২৮,৪৫৪০
আহার: ৫০৪৯
রক্তপন: ৬৪১২
খবরে ওয়াহিদ: ৬৭৭০

Note: যেসব হাদিসের পাষে ""(শ)"" লিখলাম সেগুলোতে কালেমা শাহাদাত এর সাক্ষ্য রয়েছে।

Name: Sahih Muslim(সহীহ মুসলিম)
publication: Islamic foundation bangladesh

অধ্যায়: হাদিস নং
ইমান: ১,২১,২৩,২৪,৩৬,৪৫,৪৬,৪৭(শ),৪৯,৫৫,৫৬,২০৬(শ),২০৭,২২১
তাহারাত বা পবিত্রতা: ৪৪৪(শ),৪৪৫(শ),
সালাত: ৭২৬,৭৩৫,৭৮০(All=শ)
জুমুয়া: ১৮৮১(শ)
কসম: ৪২২৮,৪২৩০
জিহাদ: ৪৪৩৭,৪৭৬১(All= শ)
সাহাবীগনের ফজিলত: ৬০০৪,৬১৩৮,৬১৭১(শ)
জান্নাত ও জান্নাতের নিয়ামত ও জান্নাতবাসীদের বিবরন: ৬৯৫২(শ)
ফিতনা সমুহ ও কিয়ামতের নিদর্শন: ৭০৮২,৭০৯০

Note: যেসব হাদিসের পাষে ""(শ)"" লিখলাম সেগুলোতে কালেমা শাহাদাত এর সাক্ষ্য রয়েছে।

Name: Sonanu Nasai (সুনানু নাসাই)
Publication : Islamic foundation Bangladesh

অধ্যায়: হাদিস নং
পবিত্রতা: ১৪৮,১৮৯,
আযান: ৬৭৯
সুর্য ও চন্দ্র গ্রহন: ১৪৮৭(কালেমা তাইয়েবা)
জানাযা: ২০৫৪,২০৫৫,২১১৬,২১১৭
All=কালেমা শাহাদাত সম্পর্কিত হাদিস।

Note: যেসব হাদিসের পাষে ""(শ)"" লিখলাম সেগুলোতে কালেমা শাহাদাত এর সাক্ষ্য রয়েছে।

Name: Ibne Majah(ইবনে মাজাহ)
Publication : Islamic foundation Bangladesh
অধ্যায়:
রাসুল(সা) এর সুন্নতের অনুসরন: ৬৩,৭১,৭২,৮৭
পবিত্রতা ও এর সুন্নতসমুহ : ৪১৯,৪৬৯(শ)
আযান ও এর সুন্নত: ৭০৬,৭০৮,৭০৯,৭২১(শ),৮৯৯(শ)
সালাত কায়েম ও এর নিয়মকানুন: ৯০০,৯০১(শ)

Note: যেসব হাদিসের পাষে ""(শ)"" লিখলাম সেগুলোতে কালেমা শাহাদাত এর সাক্ষ্য রয়েছে।

Name:Musnade Ahmmad (মুসনাদে আহমদ):
হাদিস নং: ২১(শ),২২,২৩,৩৫

Name: Sahih Tirmizi(সহিহ তিরমিযি)
অধ্যায় : হাদিস নং
পবিত্রতা: ৫৫(শ)
সালাত: ২৮৯(শ), ২৯০
যাকাত: ৬২৩
রোজা: ৬৮৮
দাফন কাফন: ১০৭১(শ)
বিবাহ: ১১০৫(শ)
রক্তপন: ১৪০৬
Note: যেসব হাদিসের পাষে ""(শ)"" লিখলাম সেগুলোতে কালেমা শাহাদাত এর সাক্ষ্য রয়েছে।

Name: Riyadussalehin (রিয়াদুস সালেহীন)
হাদিস সংকলক: ইমাম নববী(রহ:)
Publication: তাওহীদ
হাদিস নং:
১/৬১,
৫/৭৯,
৮/৯৫,
৬/২১৩


→→→→→→→→→→→→→→→

STEP 4 :-

এ সম্পর্কে কিছু হাদিস তারপরও বর্ননা করা খুব দরকার বোধ করছি :
রিসালাত এর ঘোষনা দিয়ে ইমান আনা :-

1) “যেকোনো লোক মন থেকে সত্য জেনে এ-সাক্ষ্য দিবে যে,
আল্লাহ ব্যতীত হক কোন মা’বুদ নেই আর মুহাম্মাদ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর বান্দা ও
রাসূল, আল্লাহ তার জন্য জাহান্নাম হারাম করেছেন।“
[বুখারি, হাদিস নং ১২৮; মুসলিম : (১/৬১)]


রিসালাতের ঘোষনা আছে আযানে ও সালাতে :-


2) আযান ও ইকামতের সময় বলা হয়ঃ

"আশহাদু আল্লা ই-লাহা ইল্লাল্লাহ"।

"আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ"।

" লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ"।

***মুত্বাফাক্ব আলাইহ; আবু দাউদঃ ৫০০-০১, ৫০৪; আওনুল মা'বুদ, আবু মাহযুরাহ হ'তে, হা/৪৯৬; মিশকাতঃ ৬৪১,৬৪৫, ইবনু রাসনাল, আমীরুল ইয়ামানী ও শায়খ আলবানীঃ সুবুলুস সালামঃ ১৬৭; ১/২৫০; তামামুল মিননাহ ১৪৭ পৃঃ; লাজনা দায়েমাহ- ফতওয়া নম্বরঃ ১৩৯৬।


3) "সালাতের বৈঠকে"

আমরা সালাতের বৈঠকের সময় তাশাহহুদের/আত্বাহিয়াতুর মধ্যে পড়িঃ

"আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু"।

***মুত্বাফাক আলাইহ; মিশকাতঃ ৯০৯- সালাত অধ্যায়।


4) মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে,

এরপর আলী ইবনু আবূ তালেব (রাঃ) তাশাহুদ তাওহীদ ও রিসালাতের সাক্ষ্য বানী পাঠ করলেন, তারপর বললেনঃ, হে আবূ বাকর! আপনার মর্যাদা এবং আল্লাহ তা’আলা আপনাকে যে সম্মান প্রদান করেছেন, তা আমরা জানি। আর আল্লাহ তা আলা আপনাকে যে নিয়ামত প্রদান করেছেন, তাতে আমার কোন ঈর্ষা নেই।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন | সহীহ মুসলিম
অধ্যায়ঃ ৩২/ জিহাদ ও এর নীতিমালা | হাদিস নাম্বার: 4428

5) তাওহীদ ও রিসালাতের উপর যথাযতভাবে ইমান আনয়নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে :-

 উমার ইবনুল খাত্তাব থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে কোন মুসলিম ব্যাক্তি উত্তমরূপে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করার পর বলে (কালিমা শাহাদাত): আমি সাক্ষ্য দেই যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নাই, তাঁর কোন শারীক নাই, তিনি একক এবং আমি আরো সাক্ষ্য দেই যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দা ও রসূল, তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেয়া হবে। সে যে কোন দরজা দিয়ে ইচ্ছা তাতে প্রবেশ করবে।

সুনানে ইবনে মাজাহ
অধ্যায়ঃ ২/ পবিত্রতা ও তার সুন্নাতসমূহ | হাদিস নাম্বার: 470
তাখরীজ কুতুবুত সিত্তাহ: তিরমিযী ৫৫, নাসায়ী ১৪৮, আহমাদ ১৬৯৪২।

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

6) আবূ খায়সামা যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ইয়াহইয়া ইবনু ইয়া’মার (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন "
জিবরীল রসূলুল্লাহকে (সঃ) জিজ্ঞেস ইসলাম সম্পর্কে।

وَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ أَخْبِرْنِي عَنْ الْإِسْلَامِ.
فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه و سلم الْإِسْلَامُ أَنْ تَشْهَدَ أَنْ لَا إلَهَ إلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، وَتُقِيمَ الصَّلَاةَ، وَتُؤْتِيَ الزَّكَاةَ، وَتَصُومَ رَمَضَانَ، وَتَحُجَّ الْبَيْتَ إنْ اسْتَطَعْت إلَيْهِ سَبِيلًا.
قَالَ: صَدَقْت

তিনি [জিবরীল] বললেন, "হে মুহাম্মদ, আপনি আমাকে ইসলাম সম্পর্কে অবহিত করুন।"

রসূলুল্লাহ (সঃ) বললেন, "ইসলাম হচ্ছেঃ আপনি সাক্ষ্য দিবেন যে "লা ইলাহা ইল্লা আল্লাহ" এবং "মুহাম্মদুর রসূলুল্লাহ" [অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া ইবাদত পাওয়ার যোগ্য আর কেউ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রসূল], তুমি সালাত কায়েম করবে, যাকাত দান করবে, রমজানে রোজা রাখবে এবং আল্লাহর ঘরের হজ্জ করবে যদি সে পর্যন্ত যাওয়ার সক্ষমতা রাখ।"

এছাড়াও সূরা ফাতহ (৪৮ নং সূরা) এর ২৯ নং আয়াত আল্লাহ শুরু করেছেন "মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ" বলে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন | সহীহ মুসলিম
অধ্যায়ঃ ১/ কিতাবুল ঈমান | হাদিস নাম্বার: 1

7) তাওহীদ ও রিসালাতের ঘোষনা ইসলামের ৫টি ভিত্তির মধ্যে ১টির অন্তর্ভুক্ত :-

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، قَالَ أَخْبَرَنَا حَنْظَلَةُ بْنُ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ عِكْرِمَةَ بْنِ خَالِدٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " بُنِيَ الإِسْلاَمُ عَلَى خَمْسٍ شَهَادَةِ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، وَإِقَامِ الصَّلاَةِ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، وَالْحَجِّ، وَصَوْمِ رَمَضَانَ ".

পরিচ্ছদঃ ২/ রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর বানীঃ ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি
৭। উবায়দুল্লাহ্ ইবনু মূসা (রাঃ) ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি।

১। আল্লাহ্ ছাড়া ইলাহ্ নেই এবং নিশ্চয় মুহাম্মদ আল্লাহ্‌র রাসূল-এ কথার সাক্ষ্য দান।
২। সালাত (নামায/নামাজ) কায়েম করা
৩। যাকাত দেওয়া
৪। হাজ্জ (হজ্জ) করা এবং
৫। রামাদান এর সিয়াম পালন করা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন | সহীহ বুখারি (ইফা)
অধ্যায়ঃ ২/ ঈমান | হাদিস নাম্বার: 7

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)


8) আবূ সালামা ইয়াহইয়া ইবনু খালাফ বাসরী (রহঃ) আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি কোন ইলাহ নেই আল্লাহ্ ছাড়া, আর মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন | জামে তিরমিজী
অধ্যায়ঃ ১০/ কাফন-দাফন | হাদিস নাম্বার: 1071


9) মুহাম্মদ ইবনু বাশ্‌শার (রহঃ) আবূ জামরা (রহঃ) থেকে বর্ণিত,
রাসুল(সা) বললেনঃ তা হল এ সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ্ ছাড়া ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল , সালাত (নামায/নামাজ) কায়েম করা, যাকাত দেওয়া এবং রমযান এর সিয়াম পালন করা আর তোমাদের গনীমাতের মাল থেকে এক-পঞ্চমাংশ দান করবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন | সহীহ বুখারি (ইফা)
অধ্যায়ঃ ৩/ ইলম বা জ্ঞান | হাদিস নাম্বার: 87


10)  ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, "
যে কোন বান্দা আন্তরিকতার সাথে এ সাক্ষ্য দেবে যে, ‘আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল ’ তার জন্য আল্লাহ তা‘আলা জাহান্নাম হারাম করে দেবেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন | সহীহ বুখারি (ইফা)
অধ্যায়ঃ ৩/ ইলম বা জ্ঞান | হাদিস নাম্বার: 130


11) আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত,
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল ”।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন | সহীহ বুখারি (ইফা)
অধ্যায়ঃ ৮/ সালাত | হাদিস নাম্বার: 448

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)


12-14) হাফস ইবনু উমর রহ বারাআ ইবনু আযিব (রাঃ) সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মু'মিন ব্যাক্তিকে যখন তার কবরে বসানো হয় তখন তার কাছে উপস্থিত করা হবে ফিরিশতাগণকে। তারপর (ফিরিশতাগণের জিজ্ঞাসার জওয়াবে) সে সাক্ষ্য প্রদান করে যে == আল্লাহ ব্যতিত কোন ইলাহ নেই আর মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর রাসূল। ঐ বিষয়টির প্রতি ইঙ্গিত করেছে আল্লাহর কালাম- আল্লাহ পার্থিব জীবনে ও আখিরাতে অবিচল রাখবেন সে সকল লোককে যারা ঈমান এনেছে শ্বাশ্বত বাণীতে(কালেমা তাইয়েবা)। (১৪:২৭)

ইসলামিক ফাউন্ডেশন | সহীহ বুখারি (ইফা)
অধ্যায়ঃ ২০/ জানাযা | হাদিস নাম্বার: 1285

ইসলামিক ফাউন্ডেশন | সহীহ বুখারি (ইফা)
অধ্যায়ঃ ২০/ জানাযা | হাদিস নাম্বার: 1291

ইসলামিক ফাউন্ডেশন | সহীহ বুখারি (ইফা)
অধ্যায়ঃ ২১/ যাকাত | হাদিস নাম্বার: 1313



হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)


15-17) আবূ ‘আসীম যাহ্হাক ইবনু মাখলাক (রাঃ)… ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মু‘আয (রাঃ) কে (শাসকরূপে) ইয়ামান অভিমুখে প্রেরণকালে বলেন, সেখানের অধিবাসীদেরকে আল্লাহ ব্যতিত কোন ইলাহ নেই এবং আমি (মুহাম্মদ) আল্লাহর রাসূল - এ কথার সাক্ষ্যদানের দাওয়াত দিবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন | সহীহ বুখারি (ইফা)
অধ্যায়ঃ ৯/ সালাতের ওয়াক্তসমূহ | হাদিস নাম্বার: 498

ইসলামিক ফাউন্ডেশন | সহীহ বুখারি (ইফা)
অধ্যায়ঃ ১০/ আযান | হাদিস নাম্বার: 796

ইসলামিক ফাউন্ডেশন | সহীহ বুখারি (ইফা)
অধ্যায়ঃ ১৯/ তাহাজ্জুদ বা রাতের সালাত | হাদিস নাম্বার: 1129


18) আরো বর্নিত আছে :-

عن انس قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم دخلت الجنة فرأيت فى عارضتى الجنة مكتوبا ثلاثة اسطر بالذهب السطر الاول لاإله الا الله محمد رسول الله والسطر الثانى ما قدمنا وجدنا وما أكلنا ربحنا وما خلفنا خسرنا والسطر الثالث امة مذنبة ورب غفور- (رواه الرافعى وابن النجار وهو حديث صحيح الجامع الصغير-১/৬৪৫
হযরত আনাস র. বর্ণনা করেন যে, রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, আমি জান্নাতে প্রবেশ করে জান্নাতের উভয় পার্শে ৩টি লাইন লিখা দেখলাম।
১ম লাইন :- لاإله الا الله محمد رسول الله অর্র্থাৎ আল্লাহ ব্যতীত কোন মা’বুদ নাই মুহাম্মাদ (স.) আল্লাহ তাআ’লার রসুল।
২য় লাইন :- যা আমরা আগে পাঠিয়েছি তার প্রতিদান পেয়েছি, যা দুনিয়াতে পানাহার করেছি তা দ্বার লাভবান হয়েছি, আর যা দুনিয়াতে ছেড়ে এসেছি তাতে আমরা খতিগ্রস্ত হয়েছি।
৩য় লাইন :- উম্মত গুনাহগার এবং রব ক্ষমাকারী। (হাদিসটি সহীহ। রাফেঈ, ইবনে নাজ্জার, জামে সগীর))


19) অপর হাদিসে আছে :-

 روى الامام يونس بن بكير فى زيادات المغازى عن يوسف بن صهيب عن عبدالله بن بريدة عن ابيه قال انطلق ابو ذر ونعيم بن عم ابى ذ ر و انا معهم يطلب رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو مستتر با لجبل فقال له ابو ذر يا محمد اتيناك لنسمع ما تقول قال اقول لااله الا الله محمد رسول الله فآمن به ابوذروصاحبه – الاصابة -৬/৪৬৩ اسناده صحيص ورجاله ثقات

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে বুরায়দা তার পিতা হতে বর্ণনা করেন তিনি বলেন, আবু যর এবং তার চাচাত ভাই নুআইম নবী করিম স. কে তালাশ করছিলেন আর আমি তাদের সাথে ছিলাম। নবী করিম (স.) কে তখন পাহাড়ে লুকিয়েছিলেন। হযরত আবু যর তখন আওয়াজ দিয়ে বললেন ‘হে মুহাম্মাদ (স.) আমরা আপনার কথা শোনার জন্য আপনার নিকট এসেছি। তখন নবী করিম (স.) ইরশাদ করলেন, আমি তোমাদেরকে বলছি لااله الا الله محمد رسول الله অর্র্থাৎ আল্লাহ ব্যতীত কোন মা’বুদ নাই মুহাম্মাদ (স.) আল্লাহ তাআ’লার রসুল। অতঃপর আবু যর এবং তার সাথি এ কথার উপর ঈমান আনলেন।
(আল ইসাবা-৬/৪৬৩) উল্লোখ্য :- হাদিসটি সনদ সহীহ এবং বর্ণনাকারীগণ সকলেই নির্ভশীল।


20) আনাস ইবনু মালিক থেকে বর্ণিত,

 নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে কোন মুসলিম ব্যাক্তি উত্তমরূপে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করার পর তিনবার বলে (কালিমা শাহাদাত): আমি সাক্ষ্য দেই যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নাই, তাঁর কোন শারীক নাই, তিনি একক এবং আমি আরো সাক্ষ্য দেই যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দা ও রসূল, তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেয়া হবে। সে যে কোন দরজা দিয়ে ইচ্ছা তাতে প্রবেশ করবে।

★আবূল হাসান ইবুন সালামাহ আল-কাত্তান, ইব্রাহীম ইবনু নাস্র, আবূ নুআয়ম (রহঃ) থেকে এ সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তাখরীজ কুতুবুত সিত্তাহ: আহমাদ ১৩৩৮১ , আবূ দাঊদ ১০৫০ সহীহ, জামি সগীর ৬১৬৮, মাজাহ ১০৯০ সহীহ, তিরমিযী ৪৯৮ সহীহ, মিশকাত ১৩৮৩ সহীহ, ইরওয়াহ ৯৬, সহীহ আবূ দাউদ ১৬২, সহীহ তারগীব ২১৯
★ সুনানে ইবনে মাজাহ
অধ্যায়ঃ ২/ পবিত্রতা ও তার সুন্নাতসমূহ | হাদিস নাম্বার: 469


Friday, January 30, 2015

অমুসলিমদের প্রতি ইসলামের উদারতা

“হে মানবগোষ্ঠী! আমি তোমাদেরকে একজন পরুষ এবং একজন নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি যেন তোমরা পরস্পরকে চিনতে পার। নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে সেই সর্বাধিক সম্ভ্রান্ত যে সর্বাধিক মুত্তাকী।” (সূরা হুজরাতঃ১৩)


দ্বীনের ব্যাপারে কোন জোর-জবরদস্তি নেই (সূরা বাকারা, আয়াতঃ ২৫৬)


আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন,

﴿ ﻟَّﺎ ﻳَﻨۡﻬَﻯٰﻜُﻢُ ﭐﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻦِ ﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻟَﻢۡ ﻳُﻘَٰﺘِﻠُﻮﻛُﻢۡ ﻓِﻲ ﭐﻟﺪِّﻳﻦِ ﻭَﻟَﻢۡ ﻳُﺨۡﺮِﺟُﻮﻛُﻢ ﻣِّﻦ
ﺩِﻳَٰﺮِﻛُﻢۡ ﺃَﻥ ﺗَﺒَﺮُّﻭﻫُﻢۡ ﻭَﺗُﻘۡﺴِﻄُﻮٓﺍْ ﺇِﻟَﻴۡﻬِﻢۡۚ ﺇِﻥَّ ﭐﻟﻠَّﻪَ ﻳُﺤِﺐُّ ﭐﻟۡﻤُﻘۡﺴِﻄِﻴﻦَ ٨
﴾ [ ﺍﻟﻤﻤﺘﺤﻨﺔ : ٨ ]

‘আল্লাহ নিষেধ করেন না ওই লোকদের সঙ্গে সদাচার ও ইনসাফপূর্ণ ব্যবহার করতে যারা তোমাদের সঙ্গে ধর্মকেন্দ্রিক
যুদ্ধ করে নি এবং তোমাদের আবাসভূমি হতে তোমাদের বের করে দেয় নি। নিশ্চয় আল্লাহ ইনসাফকারীদের পছন্দ করেন। {সূরা আল-মুমতাহিনা, আয়াত : ৮}


إِنَّمَا يَنْهَاكُمُ اللَّهُ عَنِ الَّذِينَ قَاتَلُوكُمْ فِي الدِّينِ وَأَخْرَجُوكُم مِّن دِيَارِكُمْ وَظَاهَرُوا عَلَى إِخْرَاجِكُمْ أَن تَوَلَّوْهُمْ وَمَن يَتَوَلَّهُمْ فَأُوْلَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ

অর্থাৎ”আল্লাহ কেবল তাদের সাথে বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করেন, যারা ধর্মের ব্যাপারে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে, তোমাদেরকে দেশ থেকে বহিস্কৃত করেছে এবং বহিস্কারকার্যে সহায়তা করেছে। যারা তাদের সাথে বন্ধুত্ব করে তারাই জালেম”।
(সূরা মুমতাহিনা, আয়াত-৯)


“যখন তোমরা মানুষের মাঝে বিচার কার্য পরিচালনা করবে তখন ন্যায়পরায়ণতার সাথে বিচার করবে। আল্লাহ্ তোমাদেরকে যে উপদেশ দেন তা কতই না উত্তম।” (সুরা নিসাঃ ৫৮)

অন্য আয়াতে ইয়াহুদীদের প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তাঁর রাসুলকে নির্দেশ দিয়েছেন এই বলে যেঃ

“যদি ফয়সালা করেন তবে ন্যায়ভাবে ফয়সালা করুন। নিশ্চয় আল্লাহ্ সুবিচারকারীকে ভালবাসেন।” (মায়িদাঃ ৪২)



অতঃপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তোমার কর্তব্য তো কেবল সুস্পষ্ট বাণী পৌঁছে দেয়া মাত্র। বানী পৌঁছে দিয়ে শক্তি-প্রয়োগ চলে না।আমাদের এর বেশি কাজ নেই , শক্তি প্রয়োগ পরের কথা। তবে কেউ আক্রমণ করলে প্রতিহত করা ইসলামে দায়িত্ব। (সূরা নাহল, আয়াত-৮২)


তোমার পালনকর্তার পথের দিকে আহবান কর প্রাজ্ঞতা, বিচক্ষণতা ও ভাল উপদেশ শুনিয়ে এবং তাদের সাথে আলোচনা কর উত্তম পন্থায়। (সূরা নাহল, আয়াত-১২৫)


আল্লাহ তাআলা বলেন:
“আর তোমরা উত্তম
পন্থা ছাড়া আহলে কিতাবদের
সাথে বিতর্ক করো না। তবে তাদের
মধ্যে ওরা ছাড়া, যারা জুলুম
করেছে।”
[সূরা আনকাবুত, আয়াত: ৪৬]


আল্লাহ
তাআলা বলেন: “আর যদি মুশরিকদের
কেউ তোমার কাছে আশ্রয় চায়,
তাহলে তাকে আশ্রয় দাও,
যাতে সে আল্লাহর কালাম
শুনতে পারে। অতঃপর
তাকে পৌঁছিয়ে দাও তার নিরাপদ
স্থানে।”
[সূরা তওবা, আয়াত: ৬]


“তোমাদের মধ্যে ন্যায়বিচার
করতে আমি আদিষ্ট হয়েছি। আল্লাহ
আমাদের ও তোমাদের রব। আমাদের
কর্ম আমাদের এবং তোমাদের কর্ম
তোমাদের;
আমাদের ও তোমাদের মধ্যে কোন
বিবাদ-বিসম্বাদ নেই; আল্লাহ
আমাদেরকে একত্র করবেন
এবং প্রত্যাবর্তন তাঁরই কাছে।”
[সূরা আশ-শুরা, আয়াত:১৫]





আল্লাহ ইরশাদ করেন,

﴿ ﻭَﻟَﺎ ﺗَﺴُﺒُّﻮﺍْ ﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻳَﺪۡﻋُﻮﻥَ ﻣِﻦ ﺩُﻭﻥِ ﭐﻟﻠَّﻪِ ﻓَﻴَﺴُﺒُّﻮﺍْ ﭐﻟﻠَّﻪَ ﻋَﺪۡﻭَۢﺍ ﺑِﻐَﻴۡﺮِ ﻋِﻠۡﻢٖۗ ﻛَﺬَٰﻟِﻚَ
ﺯَﻳَّﻨَّﺎ ﻟِﻜُﻞِّ ﺃُﻣَّﺔٍ ﻋَﻤَﻠَﻬُﻢۡ ﺛُﻢَّ ﺇِﻟَﻰٰ ﺭَﺑِّﻬِﻢ ﻣَّﺮۡﺟِﻌُﻬُﻢۡ ﻓَﻴُﻨَﺒِّﺌُﻬُﻢ ﺑِﻤَﺎ ﻛَﺎﻧُﻮﺍْ ﻳَﻌۡﻤَﻠُﻮﻥَ
١٠٨ ﴾ [ ﺍﻻﻧﻌﺎﻡ : ١٠٨ ]

‘তারা আল্লাহ তা‘আলার বদলে যাদের ডাকে, তাদের
তোমরা কখনো গালি দিয়ো না, নইলে তারাও শত্রুতার কারণে না জেনে আল্লাহ তা‘আলাকেও গালি দেবে, আমি প্রত্যেক জাতির কাছেই তাদের কার্যকলাপ সুশোভনীয় করে রেখেছি, অতঃপর সবাইকে একদিন তার মালিকের কাছে ফিরে যেতে হবে, তারপর তিনি তাদের বলে দেবেন, তারা দুনিয়ার
জীবনে কে কী কাজ করে এসেছে’।
{সূরা আল আন‘আম, আয়াত : ১০৮}

♦ইসলাম কেবল সেই সমস্ত কাফির মুশরিকের বিরোদ্ধে যুদ্ধ করতে বলে যারা মুসলমান ও ইসলামের ক্ষতি করত্র চায় আর ইসলামের বিরোদ্ধে যুদ্ধ করে নিরিহ অমুসলিমকে মারতে বলে নি। যেমন

আয়াতের ভাষ্য হলো – ‘অবিশ্বাসীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করো না, ওরা মুসলমানদের অমঙ্গল কামনা করে ।’  [৩/১১৮]
এ ধরণের একই কথা বলা হয়েছে এই আয়াতগুলিতেও – ৪/১৪৪;  ৫/৫১,৫৭;  ৬০/১  ।

তাদের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে – ‘ ... নিশ্চয় কাফেরগণ তোমাদের শত্রু ।’  [৪/১০১]

 – ‘যে আল্লাহর, ফিরিস্তাদের, রাসূলদের, জিব্রাইলের ও মিকাঈলের শত্রু হয়, [সে জানিয়া রাখুক] আল্লাহ কাফিরদের শত্রু ।’ [২/৯৮]


হাবীব ইবন অলীদ থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সৈন্যদল প্রেরণকালে বলতেন,

« ﺍﻧْﻄَﻠِﻘُﻮﺍ ﺑِﺴْﻢِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ، ﻭَﻓِﻲ ﺳَﺒِﻴﻞِ ﺍﻟﻠَّﻪِ، ﺗُﻘَﺎﺗِﻠُﻮﻥَ ﻣَﻦْ ﻛَﻔَﺮَ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ،
ﺃَﺑْﻌَﺜُﻜُﻢْ ﻋَﻠَﻰ ﺃَﻥْ ﻟَﺎ ﺗَﻐُﻠُّﻮﺍ، ﻭَﻟَﺎ ﺗَﺠْﺒُﻨُﻮﺍ، ﻭَﻟَﺎ ﺗُﻤَﺜِّﻠﻮﺍ، ﻭَﻟَﺎ ﺗَﻘْﺘُﻠُﻮﺍ ﻭَﻟِﻴﺪًﺍ، ﻭَﻟَﺎ
ﺗَﺤْﺮِﻗُﻮﺍ ﻛَﻨِﻴﺴَﺔً، ﻭَﻟَﺎ ﺗَﻌْﻘِﺮُﻭﺍ ﻧَﺨْﻠًﺎ »

‘তোমরা আল্লাহ ও আল্লাহর নামে আল্লাহর পথে যাত্রা কর। তোমরা আল্লাহর প্রতি কুফরকারীদের বিরুদ্ধে লড়াই করবে। আমি তোমাদের কয়েকটি উপদেশ দিয়ে প্রেরণ করছি-
(যুদ্ধক্ষেত্রে) তোমরা বাড়াবাড়ি করবে না, ভীরুতা দেখাবে না, (শত্রুপক্ষের) কারো চেহারা বিকৃতি ঘটাবে না, কোনো শিশুকে হত্যা করবে না, কোনো গির্জা জ্বালিয়ে দেবে না এবং কোন গাছ
উৎপাটন করবে না।’
[আবদুর রাযযাক, মুসান্নাফ : ৯৪৩০]


এদিকে মু'তার যুদ্ধে রওনার প্রাক্কালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর
বাহিনীকে নির্দেশ দেন :

« ﻭَﻻَ ﺗَﻘْﺘُﻠُﻮﺍ ﺍﻣْﺮَﺃَﺓً ﻭَﻻَ ﺻَﻐِﻴﺮًﺍ ﺿَﺮَﻋًﺎ ﻭَﻻَ ﻛَﺒِﻴﺮًﺍ ﻓَﺎﻧِﻴًﺎ ﻭَﻻَ ﺗَﻘْﻄَﻌُﻦَّ ﺷَﺠَﺮَﺓً ﻭَﻻَ
ﺗَﻌْﻘِﺮُﻥَّ ﻧَﺨْﻼً ﻭَﻻَ ﺗَﻬْﺪِﻣُﻮﺍ ﺑَﻴْﺘًﺎ ».

'তোমরা কোনো নারীকে হত্যা করবে না, অসহায় কোনো শিশুকেও না; আর না অক্ষম বৃদ্ধকে। আর কোনো গাছ উপড়াবে না, কোনো খেজুর গাছ জ্বালিয়ে দেবে না। আর কোনো গৃহও ধ্বংস করবে না।’
[মুসলিম : ১৭৩১]

আরেক হাদীসে আছে, আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

« ﻛَﺎﻥَ ﺇﺫَﺍ ﺑَﻌَﺚَ ﺟُﻴُﻮﺷَﻪُ ، ﻗَﺎﻝَ : ﻻَ ﺗَﻘْﺘُﻠُﻮﺍ ﺃَﺻْﺤَﺎﺏَ ﺍﻟﺼَّﻮَﺍﻣِﻊِ ».

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের কোনো বাহিনী প্রেরণ করলে বলতেন,
‘তোমরা গির্জার অধিবাসীদের হত্যা করবে না।’
[ইবন আবী শাইবা, মুসান্নাফ : ৩৩৮০৪; কিতাবুল জিহাদ,
যুদ্ধক্ষেত্রে যাদের হত্যা করা নিষেধ
অধ্যায়]


আবূ বকর রাদিআল্লাহু আনহুও একই
পথে হাঁটেন। আপন খিলাফতকালে প্রথম
যুদ্ধের বাহিনী প্রেরণ
করতে গিয়ে তিনি এর
সেনাপতি উসামা ইবন যায়েদ রাদিআল্লাহু
আনহুর উদ্দেশে বলেন,

ﻳﺎ ﺃﻳﻬﺎ ﺍﻟﻨﺎﺱ، ﻓﻘﻮﺍ ﺃﻭﺻﻴﻜﻢ ﺑﻌﺸﺮ ﻓﺎﺣﻔﻈﻮﻫﺎ ﻋﻨﻲ : ﻻ ﺗﺨﻮﻧﻮﺍ ﻭﻻ ﺗﻐﻠﻮﺍ ﻭﻻ
ﺗﻐﺪﺭﻭﺍ، ﻭﻻ ﺗﻤﺜﻠﻮﺍ ﻭﻻ ﺗﻘﺘﻠﻮﺍ ﻃﻔﻼً ﺻﻐﻴﺮﺍً، ﻭﻻ ﺷﻴﺨﺎً ﻛﺒﻴﺮﺍً ﻭﻻ ﺍﻣﺮﺃﺓ، ﻭﻻ
ﺗﻌﺰﻗﻮﺍ ﻧﺨﻼً ﻭﻻ ﺗﺤﺮﻗﻮﻩ، ﻭﻻ ﺗﻘﻄﻌﻮﺍ ﺷﺠﺮﺓ ﻣﺜﻤﺮﺓ، ﻭﻻ ﺗﺬﺑﺤﻮ ﺷﺎﺓ ﻭﻻ ﺑﻘﺮﺓ،
ﻭﻻ ﺑﻌﻴﺮﺍً ﺇﻻ ﻟﻤﺂﻛﻠﻪ. ﻭﺳﻮﻑ ﺗﻤﺮﻭﻥ ﺑﺄﻗﻮﺍﻡ ﻗﺪ ﻓﺮﻏﻮﺍ ﺃﻧﻔﺴﻬﻢ ﻓﻲ ﺍﻟﺼﻮﺍﻣﻊ
ﻓﺪﻋﻮﻫﻢ ﻭﻣﺎ ﻓﺮﻏﻮﺍ ﺃﻧﻔﺴﻬﻢ ﻟﻪ .

‘হে লোক সকল, দাঁড়াও আমি তোমাদের
দশটি বিষয়ে উপদেশ দেব। আমার পক্ষ
হিসেবে কথাগুলো তোমরা মনে রাখবে।
কোনো খেয়ানত করবে না,
বাড়াবাড়ি করবে না,
বিশ্বাসঘাতকতা করবে না, (শত্রুদের) অনুরূপ
করবে না, ছোট বাচ্চাকে হত্যা করবে না,
বয়োবৃদ্ধকেও না আর নারীকেও না। খেজুর
গাছ কাটবে না কিংবা তা জ্বালিয়েও
দেবে না। কোনো ফলবতী গাছ কাটবে না।
আহারের প্রয়োজন ছাড়া কোনো ছাগল, গরু
বা উট জবাই করবে না। আর তোমরা এমন
কিছু লোকের সামনে দিয়ে অতিক্রম
করবে যারা গির্জাগুলোয় নিজেদের
ছেড়ে দিয়েছে। তোমরাও তাদেরকে তাদের
এবং তারা যা ছেড়ে নিজেদের জন্য
তাতে ছেড়ে দেবে।
[মুখতাসারু
তারীখি দিমাশক : ১/৫২; তারীখুত
তাবারী]


কোনো মুসলিম যদি কোনো অমুসলিমের
প্রতি অন্যায় করেন, তবে রোজ
কিয়ামতে খোদ নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বিপক্ষে লড়বেন
বলে হাদীসে এসেছে। একাধিক
সাহাবী থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

« ﺃَﻟَﺎ ﻣَﻦْ ﻇَﻠَﻢَ ﻣُﻌَﺎﻫِﺪًﺍ، ﺃَﻭِ ﺍﻧْﺘَﻘَﺼَﻪُ، ﺃَﻭْ ﻛَﻠَّﻔَﻪُ ﻓَﻮْﻕَ ﻃَﺎﻗَﺘِﻪِ، ﺃَﻭْ ﺃَﺧَﺬَ ﻣِﻨْﻪُ ﺷَﻴْﺌًﺎ
ﺑِﻐَﻴْﺮِ ﻃِﻴﺐِ ﻧَﻔْﺲٍ، ﻓَﺄَﻧَﺎ ﺣَﺠِﻴﺠُﻪُ ﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ »

‘সাবধান! যদি কোনো মুসলিম
কোনো অমুসলিম নাগরিকের ওপর নিপীড়ন
চালিয়ে তার অধিকার খর্ব করে, তার
ক্ষমতার বাইরে কষ্ট দেয় এবং তার
কোনো বস্তু জোরপূর্বক নিয়ে যায়,
তাহলে কিয়ামতের দিন আমি তার
পক্ষে আল্লাহর দরবারে অভিযোগ উত্থাপন
করব।’
[আবূ দাঊদ : ৩০৫২]

অপর এক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, আবদুল্লাহ
ইবন উমর রাদিয়াল্লাহু
‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

« ﻣَﻦْ ﻗَﺘَﻞَ ﻣُﻌَﺎﻫَﺪًﺍ ﻟَﻢْ ﻳَﺮِﺡْ ﺭَﺍﺋِﺤَﺔَ ﺍﻟﺠَﻨَّﺔِ، ﻭَﺇِﻥَّ ﺭِﻳﺤَﻬَﺎ ﺗُﻮﺟَﺪُ ﻣِﻦْ ﻣَﺴِﻴﺮَﺓِ ﺃَﺭْﺑَﻌِﻴﻦَ
ﻋَﺎﻣًﺎ»

‘যে মুসলিম কর্তৃক নিরাপত্তা প্রাপ্ত
কোনো অমুসলিমকে হত্যা করবে,
সে জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না। অথচ তার
ঘ্রাণ পাওয়া যায় চল্লিশ বছরের পথের দূরত্ব
থেকে’।
[বুখারী : ৩১৬৬]


আরেক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে,
আবী বাকরা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু
থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

« ﻣَﻦْ ﻗَﺘَﻞَ ﻣُﻌَﺎﻫِﺪًﺍ ﻓِﻲ ﻏَﻴْﺮِ ﻛُﻨْﻬِﻪِ ﺣَﺮَّﻡَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔَ »

‘যে ব্যক্তি চুক্তিতে থাকা কোনো অমুসলিম
হত্যা করবে আল্লাহ তার জন্য জান্নাত
হারাম করে দেবেন’।
[আবূ দাঊদ : ২৭৬০;
নাসাঈ : ৪৭৪৭, শাইখ
আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।]


বিভিন্ন সাদকা মুসলিমদের উপরই কেবল ধার্য হইবে। অমুসলিমদের উপর নামে মাত্র জিযিয়া ছাড়া অন্য কোন কিছু ধার্য করা যাবেনা।

যতদিন তাহারা (অমুসলিমগণ) ইসলামীরাষ্ট্রের সন্ধিকৃত এলাকায় বসবাস করিবে, তাহাদের উপর জিযিয়া ব্যতীত আর কিছুই ধার্য হইবে না।

(মুয়াত্তা মালিক :: যাকাত অধ্যায়)


“আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ নুফায়লী (র.)...মু'আয (রা) থেকে বর্ণিত । রাসূলুল্লাহ (সা) যখন মু'আয (রা)-কে ইয়ামনে প্রেরণ করেন, তখন তাঁকে এরূপ নির্দেশ দেন যে, প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির নিকট হতে এক দীনার অথবা এক দীনার মূল্যের মু'আফিরী নামক কাপড়, যা ইয়ামনে উৎপন্ন হয় (তা জিযিয়া হিসাবে গ্রহণ করবে)।” (সুনান আবু দাউদ: কর, খাজনা, অনুদান ও প্রশাসনিক দায়িত্ব অধ্যায়। হাদিস নং ৩০৩৮


কিছু হাদিসে আমরা মুহাম্মদ সাঃ এর সময়কার কিছু জিনিসের মূল্য দীনারে উল্লেখ করতে দেখি।

সুনানে নাসাঈ শরীফ :: কাসামহ্ অধ্যায় : অধ্যায় ৪৫ :: হাদিস ৪৮০৫-এর মাধ্যমে আমরা জানতে পারি, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর আমলে ছোট বড় মিলিয়ে ১০০ উটের মূল্য ৮০০ দিনার পর্যন্ত হতো।


একশত উটনীর মূল্য= ৮০০ দীনার হলে

একটির গড় মূল্য = ৮ দীনার।

সে সময় আরব দেশে উট অত্যন্ত সহজলভ্য ছিলো।

সেযুগে ভালো উটের দাম ছিলো প্রায় ৮ দীনার ।

আর এ যুগে ভালো উটের দাম - ৪০০ ডলার।

সুতরাং ৮ দিনার=৪০০ ডলার

অতএব ১ দিনার= ৪০০/৮=৫০ ডলার

এটা বাৎসরিক জিজিয়া । তাহলে মাসিক জিজিয়া হবে = ৫০/১২=৪.১৭ ডলার।


''আমি তাঁকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল এর জিম্মিদের (অর্থাৎ জিম্মাধীন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়) বিষয়ে ওয়াসিয়াত করছি যে, তাদের সাথে কৃত অঙ্গীকার যেন পুরা করা হয়। (তারা কোন শত্রু দ্বারা আক্রান্ত হলে) তাদের পক্ষাবিলম্বে যেন যুদ্ধ করা হয়, তাদের শক্তি সামর্থ্যের অধিক জিযিয়া (কর) যেন চাপানো না হয়।'' [সহীহ বুখারি (ইফা) অধ্যায়ঃ ৫০/ আম্বিয়া কিরাম (আঃ) । নাম্বার: ৩৪৩৫]


আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন,

﴿ ﻣَﻦ ﻗَﺘَﻞَ ﻧَﻔۡﺴَۢﺎ ﺑِﻐَﻴۡﺮِ ﻧَﻔۡﺲٍ ﺃَﻭۡ ﻓَﺴَﺎﺩٖ ﻓِﻲ ﭐﻟۡﺄَﺭۡﺽِ ﻓَﻜَﺄَﻧَّﻤَﺎ ﻗَﺘَﻞَ ﭐﻟﻨَّﺎﺱَ ﺟَﻤِﻴﻌٗﺎ
ﻭَﻣَﻦۡ ﺃَﺣۡﻴَﺎﻫَﺎ ﻓَﻜَﺄَﻧَّﻤَﺂ ﺃَﺣۡﻴَﺎ ﭐﻟﻨَّﺎﺱَ ﺟَﻤِﻴﻌٗﺎۚ ﴾ [ﺍﻟﻤﺎﺋﺪﺓ : ٣٢ ]

‘যে ব্যক্তি কাউকে হত্যা করা কিংবা যমীন
সৃষ্টি করা ছাড়া যে কাউকে হত্যা করল,
সে যেন সব মানুষকে হত্যা করল। আর
যে তাকে বাঁচাল, সে যেন সব
মানুষকে বাঁচাল’।
{সূরা আল-মায়িদা,
আয়াত : ৩২}


আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন,

﴿ ﻭَﭐﻟۡﻔِﺘۡﻨَﺔُ ﺃَﺷَﺪُّ ﻣِﻦَ ﭐﻟۡﻘَﺘۡﻞِۚ ﴾ [ ﺍﻟﺒﻘﺮﺓ : ١٩١ ]

‘আর ফিতনা হত্যার চেয়ে কঠিনতর’।
{সূরা আল-বাকারা, আয়াত : ১৯১}


আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন,

﴿ ﻳَٰٓﺄَﻳُّﻬَﺎ ﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺀَﺍﻣَﻨُﻮﺍْ ﻛُﻮﻧُﻮﺍْ ﻗَﻮَّٰﻣِﻴﻦَ ﻟِﻠَّﻪِ ﺷُﻬَﺪَﺁﺀَ ﺑِﭑﻟۡﻘِﺴۡﻂِۖ ﻭَﻟَﺎ ﻳَﺠۡﺮِﻣَﻨَّﻜُﻢۡ ﺷَﻨََٔﺎﻥُ
ﻗَﻮۡﻡٍ ﻋَﻠَﻰٰٓ ﺃَﻟَّﺎ ﺗَﻌۡﺪِﻟُﻮﺍْۚ ﭐﻋۡﺪِﻟُﻮﺍْ ﻫُﻮَ ﺃَﻗۡﺮَﺏُ ﻟِﻠﺘَّﻘۡﻮَﻯٰۖ ﻭَﭐﺗَّﻘُﻮﺍْ ﭐﻟﻠَّﻪَۚ ﺇِﻥَّ ﭐﻟﻠَّﻪَ ﺧَﺒِﻴﺮُۢ ﺑِﻤَﺎ
ﺗَﻌۡﻤَﻠُﻮﻥَ ٨ ﴾ [ ﺍﻟﻤﺎﺋﺪﺓ : ٨ ]

‘হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহর জন্য ন্যায়ের
সাথে সাক্ষদানকারী হিসেবে সদা দণ্ডায়ম
হও। কোনো কওমের প্রতি শত্রুতা যেন
তোমাদেরকে কোনোভাবে প্ররোচিত
না করে যে, তোমরা ইনসাফ করবে না।
তোমরা ইনসাফ কর, তা তাকওয়ার নিকটতর।
এবং আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয়
তোমরা যা কর, আল্লাহ সে বিষয়ে সবিশেষ
অবহিত’।
{সূরা আল-মায়িদা, আয়াত : ৮}



সর্বশেষে, আল্লাহ তাআলা বলেছেন:
বল,
‘হে কিতাবীগণ, তোমরা এমন কথার
দিকে আস, যেটি আমাদের মধ্যে ও
তোমাদের মধ্যে সমান যে,
আমরা একমাত্র আল্লাহ
ছাড়া কারো ইবাদত করব না। তার
সাথে কোন কিছুকে শরীক করব
না এবং আমাদের কেউ আল্লাহ
ছাড়া কাউকে রব হিসাবে গ্রহণ করব
না। তারপর যদি তারা বিমুখ হয়
তবে বল, ‘তোমরা সাক্ষী থাক যে,
নিশ্চয় আমরা মুসলিম’।
[সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ৬৪]







বিপদে আপদের সময় যেসব দোয়া পড়বেনঃ

বিপদ-মসিবতে পাঠ করার জন্য কতিপয় দোয়া  এবং এর জন্য আমল: ♦১) উম্মে সালমা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ও...