Showing posts with label মন্দ কাজসমুহ. Show all posts
Showing posts with label মন্দ কাজসমুহ. Show all posts

Friday, September 11, 2015

আত্মহত্যা মহাপাপ যা জাহান্নামে নিয়ে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট :-





শরীয়তের দৃষ্টিতে আত্মহত্যা



★★★ পবিত্র কুরআন থেকে :




পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে,

﴿ كُلُّ نَفۡسٖ ذَآئِقَةُ ٱلۡمَوۡتِۖ ثُمَّ إِلَيۡنَا تُرۡجَعُونَ ٥٧ ﴾ [العنكبوت: ٥٧]

‘প্রতিটি প্রাণ মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করবে, তারপর আমার কাছেই তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।’ {সূরা আল-আনকাবূত, আয়াত : ৫৭}

আর এ মৃত্যু দান করেন একমাত্র তিনিই। তিনি ছাড়া কেউ কাউকে মৃত্যু দিতে পারে না।

আল্লাহ তা’আলা বলেন,

﴿ هُوَ يُحۡيِۦ وَيُمِيتُ وَإِلَيۡهِ تُرۡجَعُونَ ٥٦ ﴾ [يونس : ٥٦]

‘তিনিই জীবন দান করেন এবং মৃত্যু ঘটান আর তাঁর কাছেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন হবে।’ {সূরা ইউনুস, আয়াত : ৫৬}


আল্লাহ রাববুল আলামীন বলেন,

﴿ وَلَا تَقۡتُلُوٓاْ أَنفُسَكُمۡۚ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ بِكُمۡ رَحِيمٗا ٢٩ وَمَن يَفۡعَلۡ ذَٰلِكَ عُدۡوَٰنٗا وَظُلۡمٗا فَسَوۡفَ نُصۡلِيهِ نَارٗاۚ وَكَانَ ذَٰلِكَ عَلَى ٱللَّهِ يَسِيرًا ٣٠ ﴾ [النساء : ٢٩، ٣٠]

‘আর তোমরা নিজেদের হত্যা করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি দয়ালু। এবং যে কেউ জুলুম করে, অন্যায়ভাবে তা (আত্মহত্যা) করবে, অবশ্যই আমি তাকে অগ্নিদগ্ধ করবো, আল্লাহর পক্ষে তা সহজসাধ্য।’ {সূরা আন-নিসা, আয়াত : ২৯-৩০}

আরেক আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿ وَلَا تُلۡقُواْ بِأَيۡدِيكُمۡ إِلَى ٱلتَّهۡلُكَةِ ﴾ [البقرة: ١٩٥]

‘আর তোমরা নিজ হাতে নিজদেরকে ধ্বংসে নিক্ষেপ করো না।’ {সূরা আল-বাকারা, আয়াত : ১৯৫}






★★★ হাদীসে নাববী থেকে :



রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও তাই কাজটি থেকে নানাভাবে বারণ করেছেন। এ থেকে মানুষকে সতর্ক করেছেন। যেমন : -

ছাবিত বিন যিহাক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

« مَنْ قَتَلَ نَفْسَهُ بِشَىْءٍ فِى الدُّنْيَا عُذِّبَ بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ».

‘যে ব্যক্তি দুনিয়াতে কোনো বস্তু দিয়ে নিজেকে হত্যা করবে, কিয়ামতের দিন তাকে সে বস্তু দিয়েই শাস্তি প্রদান করা হবে।’ [বুখারী : ৫৭০০; মুসলিম : ১১০]

অপর এক হাদীছে রয়েছে,
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

« مَنْ تَرَدَّى مِنْ جَبَلٍ فَقَتَلَ نَفْسَهُ ، فَهْوَ فِى نَارِ جَهَنَّمَ ، يَتَرَدَّى فِيهِ خَالِدًا مُخَلَّدًا فِيهَا أَبَدًا ، وَمَنْ تَحَسَّى سَمًّا فَقَتَلَ نَفْسَهُ ، فَسَمُّهُ فِى يَدِهِ ، يَتَحَسَّاهُ فِى نَارِ جَهَنَّمَ خَالِدًا مُخَلَّدًا فِيهَا أَبَدًا ، وَمَنْ قَتَلَ نَفْسَهُ بِحَدِيدَةٍ ، فَحَدِيدَتُهُ فِى يَدِهِ ، يَجَأُ بِهَا فِى بَطْنِهِ فِى نَارِ جَهَنَّمَ خَالِدًا مُخَلَّدًا فِيهَا أَبَدًا ».

‘যে ব্যক্তি নিজেকে পাহাড়ের ওপর থেকে নিক্ষেপ করে আত্মহত্যা করবে, সে জাহান্নামে যাবে। সেখানে সর্বদা সে ওইভাবে নিজেকে নিক্ষেপ করতে থাকবে অনন্তকাল ধরে। যে ব্যক্তি বিষপান করে আত্মহত্যা করবে, সে তার বিষ তার হাতে থাকবে। জাহান্নামে সর্বদা সে ওইভাবে নিজেকে বিষ খাইয়ে মারতে থাকবে অনন্তকাল ধরে। যে কোনো ধারালো অস্ত্র দ্বারা আত্মহত্যা করেছে তার কাছে জাহান্নামে সে ধারালো অস্ত্র থাকবে যার দ্বারা সে সর্বদা নিজের পেটকে ফুঁড়তে থাকবে। [সহীহ বুখারী : ৫৪৪২; মুসলিম : ১০৯]

আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

« مَنْ خَنَقَ نَفْسَهُ فِي الدُّنْيَا فَقَتَلَهَا خَنَقَ نَفْسَهُ فِي النَّارِ ، وَمَنْ طَعَنَ نَفْسَهُ طَعَنَهَا فِي النَّارِ ، وَمَنِ اقْتَحَمَ ، فَقَتَلَ نَفْسَهُ اقْتَحَمَ فِي النَّارِ».

‘যে ব্যক্তি ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে সে দোজখে অনুরূপভাবে নিজ হাতে ফাঁসির শাস্তি ভোগ করতে থাকবে। আর যে বর্শার আঘাত দ্বারা আত্মহত্যা করে- দোজখেও সে সেভাবে নিজেকে শাস্তি দেবে। আর যে নিজেকে নিক্ষেপ করে আত্মহত্যা করবে, কিয়ামতের দিন সে নিজেকে উপর থেকে নিক্ষেপ করে হত্যা করবে।’ [সহীহ ইবন হিব্বান : ৫৯৮৭; তাবরানী : ৬২১]

জুনদুব ইবন আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

« كَانَ فِيمَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ رَجُلٌ بِهِ جُرْحٌ فَجَزِعَ فَأَخَذَ سِكِّينًا فَحَزَّ بِهَا يَدَهُ فَمَا رَقَأَ الدَّمُ حَتَّى مَاتَ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى بَادَرَنِي عَبْدِي بِنَفْسِهِ حَرَّمْتُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ ».

‘তোমাদের পূর্বেকার এক লোক আহত হয়ে সে ব্যথা সহ্য করতে পারেনি। তাই সে একখানা চাকু দিয়ে নিজের হাত নিজেই কেটে ফেলে। এর পর রক্তক্ষরণে সে মারা যায়। আল্লাহ বলেন, আমার বান্দা নিজেকে হত্যা করার ব্যাপারে বড় তাড়াহুড়া করে ফেলেছে। তাই আমি তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিলাম।’ [বুখারী : ৩২৭৬; মুসলিম : ১১৩]



★★★ আত্মহত্যা তো দূরে থাক মৃত্যু কামনাও বৈধ নয়




রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

« لاَ يَتَمَنَّيَنَّ أَحَدُكُمُ الْمَوْتَ لِضُرٍّ نَزَلَ بِهِ فَإِنْ كَانَ لاَ بُدَّ مُتَمَنِّيًا فَلْيَقُلِ اللَّهُمَّ أَحْيِنِى مَا كَانَتِ الْحَيَاةُ خَيْرًا لِى وَتَوَفَّنِى إِذَا كَانَتِ الْوَفَاةُ خَيْرًا لِى ».

‘তোমাদের কেউ যেন কোনো বিপদে পতিত হয়ে মৃত্যু কামনা না করে। মৃত্যু যদি তাকে প্রত্যাশা করতেই হয় তবে সে যেন বলে, ‘হে আল্লাহ আমাকে সে অবধি জীবিত রাখুন, যতক্ষণ আমার জীবনটা হয় আমার জন্য কল্যাণকর। আর আমাকে তখনই মৃত্যু দিন যখন মৃত্যুই হয় আমার জন্য শ্রেয়।’ [বুখারী : ৫৬৭১; মুসলিম : ৬৯৯০]



★★★ আত্মহত্যাকারী জানাযা না পড়ানো




জাবের বিন সামুরা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

أُتِىَ النَّبِىُّ -صلى الله عليه وسلم- بِرَجُلٍ قَتَلَ نَفْسَهُ بِمَشَاقِصَ فَلَمْ يُصَلِّ عَلَيْهِ.

‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমীপে এক ব্যক্তিকে আনা হলো যিনি নিজেকে তরবারীর ফলা দিয়ে মেরে ফেলেছে। ফলে তিনি তার জানাযা পড়লেন না।’ [মুসলিম : ২৩০৯]

অপর বর্ণনায় রয়েছে, জাবের বিন সামুরা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

أَنَّ رَجُلا مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَصَابَتْهُ جِرَاحٌ ، فَآلَمَتْ بِهِ ، فَدَبَّ إِلَى قَرْنٍ لَهُ فِي سَيْفِهِ فَأَخَذَ مِشْقَصًا فَقَتَلَ نَفْسَهُ فَلَمْ يُصَلِّ عَلَيْهِ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ” .

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এক সাহাবী আহত হন। এটি তাকে প্রচণ্ড যন্ত্রনা দেয়। তখন তিনি হামাগুড়ি দিয়ে একটি শিংয়ের দিকে এগিয়ে যান, যা তার এক তরবারির মধ্যে ছিল। এরপর তিনি এর ফলা নেন এবং আত্মহত্যা করেন। এ কারণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জানাযা পড়ান নি। [তাবরানী : ১৯২৩]


★★★ আত্মহত্যাকারীর কি জানাযা পড়া যাবে না?


এ হাদীসের ব্যাখ্যায় প্রখ্যাত হাদীস ব্যাখ্যাতা ইমাম নাববী রহ. বলেন,


” وفي هذا الحديث دليل لمن يقول : لا يصلى على قاتل نفسه لعصيانه , وهذا مذهب عمر بن عبد العزيز والأوزاعي , وقال الحسن والنخعي وقتادة ومالك وأبو حنيفة والشافعي وجماهير العلماء : يصلى عليه , وأجابوا عن هذا الحديث بأن النبي صلى الله عليه وسلم لم يصل عليه بنفسه زجرا للناس عن مثل فعله , وصلت عليه الصحابة ” انتهى .

‘এ হাদীসকে তাঁরা প্রমাণ হিসেবে পেশ করেন, মানুষকে সতর্ক করার জন্য যারা আত্মহত্যাকারীর জানাযা পড়া হবে না বলে মত দেন। এটি উমর বিন আব্দুল আযীয ও আওযাঈ রহ.-এর মত। তবে হাসান বছরী, ইবরাহীম নখঈ, কাতাদা, মালেক, আবূ হানীফা, শাফেঈ ও সকল আলিমের মতামত হলো, তার জানাযা পড়া হবে। উপরোক্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় তাঁরা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মূলত অন্যদেরকে এ ধরনের মন্দ কাজ থেকে সতর্ক করার জন্যই আত্মহত্যাকারীর জানাযা পড়ানো থেকে বিরত থেকেছেন। আর সাহাবীগণ তাঁর স্থলে এমন ব্যক্তির জানাযা পড়েছেন। [নাববী, শারহু মুসলিম : ৭/৪৭]


★★★ আত্মহত্যাকারী কি চিরস্থায়ী জাহান্নামী ?



আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন,

﴿ إِنَّ ٱللَّهَ لَا يَغۡفِرُ أَن يُشۡرَكَ بِهِۦ وَيَغۡفِرُ مَا دُونَ ذَٰلِكَ لِمَن يَشَآءُۚ وَمَن يُشۡرِكۡ بِٱللَّهِ فَقَدۡ ضَلَّ ضَلَٰلَۢا بَعِيدًا ١١٦ ﴾ [النساء : ١١٦]

‘নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমা করেন না তাঁর সাথে শরীক করাকে এবং এ ছাড়া যাকে চান ক্ষমা করেন। আর যে আল্লাহর সাথে শরীক করে সে তো ঘোর পথভ্রষ্টতায় পথভ্রষ্ট হল।’ {সূরা আন-নিসা, আয়াত : ৪৮}





Friday, June 12, 2015

আল-কুরআনের আয়াত গোপন কারীর পরিনাম :-





কুরআন কারীমের আয়াত গোপন করার পরিণাম 

সুরা: আল বাকারাহ্ 

আয়াত নং ১৫৯-১৬০ 
انَّ الَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَا أَنزَلْنَا مِنْ الْبَيِّنَاتِ وَالْهُدَى مِنْ بَعْدِ مَا بَيَّنَّاهُ لِلنَّاسِ فِي الْكِتَابِ أُوْلَئِكَ يَلْعَنُهُمْ اللهُ وَيَلْعَنُهُم...ْ اللَّاعِنُونَ (১৫৯) إِلَّا الَّذِينَ تَابُوا وَأَصْلَحُوا وَبَيَّنُوا فَأُوْلَئِكَ أَتُوبُ عَلَيْهِمْ وَأَنَا التَّوَّابُ الرَّحِيمُ (১৬০) 

অনুবাদ: 
আয়াত নং ১৫৯:- নিশ্চয় যারা গোপন করে, যা বিস্তারিত তথ্য এবং হেদায়েতের কথা নাযিল করেছি মানুষের জন্য; কিতাবের মধ্যে বিস্তারিত বর্ণনা করার পরও; সেই সব লোকের প্রতিই আল্লাহর অভিসম্পাত এবং অন্যান্য অভিসম্পাতকারীগণেরও। 


আয়াত নং ১৬০:- তবে যারা তওবা করে এবং বর্ণিত তথ্যাদির সংশোধন করে মানুষের কাছে তা বর্ণনা করে দেয়, সে সব লোকের তওবা আমি কবুল করি এবং আমি তওবা কবুলকারী পরম দয়ালু। 
এই আয়াতদ্বয়ে আল্লাহ তা'আলা বলেন, যারা মানুষের হেদায়েতের কথা কিতাবের মধ্যে বিস্তারিত বর্ণনা করার পর তা গোপন করে, সেই সব লোকের প্রতিই আল্লাহর অভিসম্পাত তবে যারা তওবা করে এবং কিতাবের মধ্যে বর্ণিত তথ্যাদি মানুষের কাছে বর্ণনা করে, সে সব লোকের তওবা আল্লাহ কবুল করেন। 


ইব্নু কাসীর (রহঃ) ১৫৯-১৬০ নং আয়াতের বর্ণনায় বলেন, এখানে ঐসব লোককে ভীষণভাবে ধমক দেয়া হয়েছে যারা আল্লাহ তা'আলার কথাগুলো এবং শরীয়তের বিষয়গুলো গোপন করতো। কিতাবীরা হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর প্রশংসা বিষয়ক কথাগুলো গোপন করে রাখতো। এ জন্যেই এরশাদ হচ্ছে যে, সত্যকে গোপনকারীরা অভিশপ্ত। 

*** বিশুদ্ধ হাদীসের মধ্যে বিদ্যমান রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: 'যে ব্যক্তি শরীয়তের কোন বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হয় এবং তা সে গোপন করে, কিয়ামতের দিন তাকে আগুনের লাগাম পরানো হবে।' হযরত আবু হুরাইরা (রা) বলেন: এই আয়াতটি না থাকলে আমি একটি হাদিসও বর্ণনা করতাম না। হযরত বারা বিন আযিব (রাঃ) বর্ণনা করেন: আমরা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) সঙ্গে একটি জানাযায় উপস্থিত ছিলাম। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন: কবরের মধ্যে কাফিরের কপালে এত জোরে হাতুড়ী মারা হয় যে, মানব ও দানব ছাড়া সব প্রাণী ওর শব্দ শুনতে পায় এবং ওরা সবাই তার প্রতি অভিশাপ দেয়। অভিসম্পাতকারীগণ তাদের প্রতি অভিসম্পাত করে থাকে। এ কথার অর্থ এটাই। অর্থাৎ সব প্রাণীর অভিশাপ তাদের ওপর রয়েছে। 
হাদীস শরীফে রয়েছে যে, আলেমের জন্যে প্রত্যেক জিনিসই ক্ষমা প্রার্থনা করে থাকে- এমন কি সমুদ্রের মাছও (ক্ষমা প্রার্থনা করে থাকে), এই আয়াতের মধ্যে রয়েছে যে, যারা 'ইলম'-কে গোপন করে আল্লাহ তাদের প্রতি অভিসম্পাত বর্ষণ করেন এবং ফেরেশতাগণ, সব মানুষ ও প্রত্যেক অভিসম্পাতকারী অভিসম্পাত করে থাকে। অর্থাৎ প্রত্যেক বাকশক্তিহীন (জীব) অভিসম্পাত দান করে থাকে। এরপর আল্লাহ তা'আলা ঐসব মানুষকে অভিশপ্তদের মধ্য হতে বের করে নেন যারা তাদের এ কাজ হতে বিরত হয় এবং সম্পূর্ণরূপে সংশোধিত হয়। আর পূর্বে যা গোপন করেছিল এখন তা প্রকাশ করে দেয়। সেই 'তওবা' কবুলকারী দয়ালু আল্লাহ এসব মানুষের তওবা কবুল করেছেন। (তাফসির ইব্নু কাসির ১ম, ২য় ও ৩য় খণ্ড, পৃ. ৪৬৫)

Thursday, June 4, 2015

গীবত জঘন্যতম পাপ :-


★★★ গীবত কি এবং এর পাপ :

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «أَتَدْرُونَ مَا الْغِيبَةُ؟» قَالُوا: اللهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ: «ذِكْرُكَ أَخَاكَ بِمَا يَكْرَهُ» قِيلَ أَفَرَأَيْتَ إِنْ كَانَ فِي أَخِي مَا أَقُولُ؟ قَالَ: «إِنْ كَانَ فِيهِ مَا تَقُولُ، فَقَدِ اغْتَبْتَهُ، وَإِنْ لَمْ يَكُنْ فِيهِ فَقَدْ بَهَتَّهُ»

হযরত আবু হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লম বলেছেনঃ তোমরা কি জান, গীবত কি? তাঁরা বললেনঃ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভাল জানেন। তিনি বললেনঃ গীবত হল তোমার ভাইয়ের সম্পর্কে এমন কিছু আলোচনা করা, যা সে অপছন্দ করে। প্রশ্ন করা হলঃ আমি যা বলেছি তা যদি আমার ভাইয়ের মধ্যে থেকে থাকে, তাহলে আপনি কি বলেন? তিনি বললেনঃ তুমি তার সম্পর্কে যা বলেছ তা যদি তার মধ্যে থাকে, তাহলেই তুমি তার গীবত করলে। আর যদি তা তার মধ্যে না থাকে, তাহলে তো তুমি তার প্রতি অপবাদ আরোপ করলে।

★ সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-২৫৮৯, ৭০,
★ সুনানে নাসায়ী কুবরা, হাদীস নং-১১৪৫৪,
★ সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-৫৭৫৮,
★ শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং-৬২৯৩,
★ মুজামে ইবনে আসাকীর, হাদীস নং-১৪১৭,
★ সুনানে কুবরা লিলবায়হাকী, হাদীস নং-২১১৬৩


★ গীবতের দুই সুরত। এক হল গীবত করা। আর আরেক হল গীবত শোনা। উভয়ই গোনাহের কাজ। এরকম গোনাহের কাজ থেকে বিরত থাকার সহজ উপায় হল, গীবত করতে মনে চাইলেই কুরআনের আয়াত ও রাসূল সাঃ এর হাদীস মনে করা। যেমন-

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اجْتَنِبُوا كَثِيرًا مِّنَ الظَّنِّ إِنَّ بَعْضَ الظَّنِّ إِثْمٌ ۖ وَلَا تَجَسَّسُوا وَلَا يَغْتَب بَّعْضُكُم بَعْضًا ۚ أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَن يَأْكُلَ لَحْمَ أَخِيهِ مَيْتًا فَكَرِهْتُمُوهُ ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ ۚ إِنَّ اللَّهَ تَوَّابٌ رَّحِيمٌ [٤٩:١٢]

মুমিনগণ, তোমরা অনেক ধারণা থেকে বেঁচে থাক। নিশ্চয় কতক ধারণা গোনাহ। এবং গোপনীয় বিষয় সন্ধান করো না। তোমাদের কেউ যেন কারও পশ্চাতে নিন্দা না করে। তোমাদের কেউ কি তারা মৃত ভ্রাতার মাংস ভক্ষণ করা পছন্দ করবে? বস্তুতঃ তোমরা তো একে ঘৃণাই কর। আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু। {সূরা হুজুরাত-১২}

وَيْلٌ لِّكُلِّ هُمَزَةٍ لُّمَزَةٍ [١٠٤:١]

প্রত্যেক পশ্চাতে ও সম্মুখে পরনিন্দাকারীর দুর্ভোগ, {সূরা হুমাজা-১}

عَنْ أَبِي سَعْدٍ، وَجَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ، قَالَا: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ” الْغِيبَةُ أَشَدُّ مِنَ الزِّنَا “، قَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ وَكَيْفَ الْغِيبَةُ أَشَدُّ مِنَ الزِّنَا؟ قَالَ: ” إِنَّ الرَّجُلَ لَيَزْنِي فَيَتُوبُ فَيَتُوبُ اللهُ عَلَيْهِ “وَفِي رِوَايَةِ حَمْزَةَ ” فَيَتُوبُ فَيَغْفِرُ لَهُ، وَإِنَّ صَاحِبَ الْغِيبَةِ لَا يُغْفَرُ لَهُ حَتَّى يَغْفِرَهَا لَهُ صَاحِبُهُ

হযরত আবু সাঈস এবং জাবের বিন আব্দুল্লাহ রাঃ থেকে বর্ণিত। উভয়ে বলেন, রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেনঃ গীবত করা ব্যভিচার করার চেয়েও জঘন্য। সাহাবাগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! গীবত করা ব্যভিচারের চেয়ে জঘন্য হয় কি করে? রাসূল সাঃ বললেনঃ নিশ্চয় ব্যভিচারকারী ব্যভিচার করে তওবা করে থাকে, ফলে আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করে দেন।

অন্য বর্ণনায় এসেছে, কিন্তু গীবতকারীকে ক্ষমা করা হয় না, যতক্ষণ না যার গীবত করেছে সে তাকে ক্ষমা করে।

★ শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং-৬৩১৫,
★ আলমুজামুল আওসাত, হাদীস নং-৬৫৯০


★★★ গীবত করা কখন জায়েজ কখন নাজায়েজ?



১- জুলুম থেকে নিচে বাঁচতে, অন্যকে বাঁচাতে। এমন ব্যক্তির কাছে গীবত করতে পারবে, যে একে প্রতিহত করতে পারবে।

২- খারাপ কাজ বন্ধ করার জন্য সাহায্য চাইতে এমন ব্যক্তির কাছে গীবত করতে পারবে যে তা বন্ধ করার ক্ষমতা রাখে।

৩- বিষয়টি সম্পর্কে শরয়ী সমাধান জানতে গীবত করে মূল বিষয় উপস্থাপন করা জায়েজ আছে। যেমন বলা যে, আমাকে অমুক ব্যক্তি আমার উপর জুলুম করেছে, তাই আমারও কি তাকে আঘাত করা জায়েজ আছে? ইত্যাদি

৪- সাধারণ মুসলমানদের দ্বীনী ও দুনিয়াবী ধোঁকা ও খারাবী থেকে বাঁচাতে গীবত করা জায়েজ। যেমন সাক্ষ্য সম্পর্কে, হাদীস, আসার ও ইতিহাস বর্ণনাকারী সম্পর্কে, লেখক, বক্তা ইত্যাদি সম্পর্কে দোষ জনসম্মুখে বলে দেয়া, যেন তার ধোঁকা ও মিথ্যাচার থেকে মানুষ বাঁচতে পারে। উদাহরণতঃ মতিউর রহমান মাদানী, তাউসীফুর রহমান এমন ভ্রান্ত মানসিকতা ও মিথ্যাচারকারী ব্যক্তিদের দোষ মানুষের কাছে বলা সাধারণ মুসলমানদের ঈমান আমল হিফাযতের জন্য জায়েজ।

৫- প্রাকাশ্যে যদি কেউ শরীয়তগর্হিত করে, তাহলে তার খারাবী বর্ণনা করা এমন ব্যক্তির কাছে যারা এর দ্বারা বিভ্রান্ত হওয়া থেকে বাঁচতে পারে। যেমন কেউ প্রকাশ্যে মদ খায়, তাহলে মানুষের সামনে তার সরাসরি বদনাম করা জায়েজ আছে। যেন এমন খারাপ কাজ করতে ভবিষ্যতে কেউ সাহস না করে।

৬- কারো পরিচয় প্রকাশ করতে। যেমন কেউ কানা। তার পরিচয় দেয়া দরকার। কিন্তু নাম কেউ চিনতেছে না। কিন্তু কানা বলতেই সবাই চিনে ফেলে। তখন কানা বলা বাহ্যিক দৃষ্টিতে গীবত হলেও এটা বলা জায়েজ আছে। এতে গীবতের গোনাহ হবে না। {তাফসীরে রুহুল মাআনী- ১৪/২৪২, সূরা হুজরাত-১২}

সমকামিতা পশুত্বের নিদর্শন :-

সমকামিতা বিকৃত রূচির নোংরা ব্যক্তিদের কাজ। এটি কোন প্রকৃত মানুষের কাজ নয়। পশুত্বের নিদর্শন এহেন জঘন্য কাজ। মানুষ অন্য প্রাণী থেকে শ্রেষ্ঠ হওয়ার একটি মৌলিক কারণের মাঝে রয়েছে, মানুষ ভদ্রতা ও শালীনতা জানে। অন্য কোন প্রাণী ভদ্রতা ও শালীনতা কি জিনিস বুঝে না। মানুষের লজ্জা রয়েছে। অন্য কোন প্রাণীর লজ্জা নামক এই ভূষণটি নেই।


আল্লাহ তাআলা হযরত লুত আঃ এর জমানার লোকদের শুধুমাত্র এই কারণেই সমূলে ধ্বংস করে দিয়েছিলেন যে, তারা সমকামি ছিল।

★ আল-কোরআনে বর্নিত হয়েছে :-



وَجَاءَهُ قَوْمُهُ يُهْرَعُونَ إِلَيْهِ وَمِنْ قَبْلُ كَانُوا يَعْمَلُونَ السَّيِّئَاتِ قَالَ يَا قَوْمِ هَؤُلَاءِ بَنَاتِي هُنَّ أَطْهَرُ لَكُمْ فَاتَّقُوا اللَّهَ وَلَا تُخْزُونِ فِي ضَيْفِي أَلَيْسَ مِنْكُمْ رَجُلٌ رَشِيدٌ (78) قَالُوا لَقَدْ عَلِمْتَ مَا لَنَا فِي بَنَاتِكَ مِنْ حَقٍّ وَإِنَّكَ لَتَعْلَمُ مَا نُرِيدُ (79) قَالَ لَوْ أَنَّ لِي بِكُمْ قُوَّةً أَوْ آوِي إِلَى رُكْنٍ شَدِيدٍ (80) قَالُوا يَا لُوطُ إِنَّا رُسُلُ رَبِّكَ لَنْ يَصِلُوا إِلَيْكَ فَأَسْرِ بِأَهْلِكَ بِقِطْعٍ مِنَ اللَّيْلِ وَلَا يَلْتَفِتْ مِنْكُمْ أَحَدٌ إِلَّا امْرَأَتَكَ إِنَّهُ مُصِيبُهَا مَا أَصَابَهُمْ إِنَّ مَوْعِدَهُمُ الصُّبْحُ أَلَيْسَ الصُّبْحُ بِقَرِيبٍ (81) فَلَمَّا جَاءَ أَمْرُنَا جَعَلْنَا عَالِيَهَا سَافِلَهَا وَأَمْطَرْنَا عَلَيْهَا حِجَارَةً مِنْ سِجِّيلٍ مَنْضُودٍ (82

আর তাঁর কওমের লোকেরা স্বতঃস্ফুর্তভাবে তার (গৃহ) পানে ছুটে আসতে লাগল। পূর্ব থেকেই তারা কু-কর্মে তৎপর ছিল। লূত (আঃ) বললেন-হে আমার কওম, এ আমার কন্যারা রয়েছে, এরা তোমাদের জন্য অধিক পবিত্রতমা। সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং অতিথিদের ব্যাপারে আমাকে লজ্জিত করো না, তোমাদের মধ্যে কি কোন ভাল মানুষ নেই।

তারা বলল তুমি তো জানই, তোমার কন্যাদের নিয়ে আমাদের কোন গরজ নেই। আর আমরা কি চাই, তাও তুমি অবশ্যই জান।

লূত (আঃ) বললেন-হায়, তোমাদের বিরুদ্ধে যদি আমার শক্তি থাকত অথবা আমি কোন সূদৃঢ় আশ্রয় গ্রহণ করতে সক্ষম হতাম।

মেহমান ফেরেশতাগন বলল-হে লূত (আঃ) আমরা তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ হতে প্রেরিত ফেরেশতা। এরা কখনো তোমার দিকে পৌঁছাতে পারবে না। ব্যস তুমি কিছুটা রাত থাকতে থাকতে নিজের লোকজন নিয়ে বাইরে চলে যাও। আর তোমাদের কেউ যেন পিছনে ফিরে না তাকায়। কিন্তু তোমার স্ত্রী নিশ্চয় তার উপরও তা আপতিত হবে, যা ওদের উপর আপতিত হবে। ভোর বেলাই তাদের প্রতিশ্রুতির সময়, ভোর কি খুব নিকটে নয়?

অবশেষে যখন আমার হুকুম এসে পৌঁছাল, তখন আমি উক্ত জনপদকে উপরকে নীচে করে দিলাম এবং তার উপর স্তরে স্তরে কাঁকর পাথর বর্ষণ করলাম।   {সূরা হুদ-৭৮-৮২}


★ হাদিসে বর্নিত আছে :-

عَنْ أَبِي مُوسَى قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ” إِذَا أَتَى الرَّجُلُ الرَّجُلَ فَهُمَا زَانِيَانِ، وَإِذَا أَتَتِ الْمَرْأَةُ الْمَرْأَةَ فَهُمَا زَانِيَانِ “

হযরত আবূ মুসা আশআরী রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, যে পুরুষ পুরুষের সাথে নোংরা কাজে লিপ্ত হয়, উভয়ে জিনাকারী সাব্যস্ত হবে। তেমনি যে নারী আরেক নারীর সাথে কুকর্মে লিপ্ত হয় উভয়ে জিনাকারী সাব্যস্ত হবে। {শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং-৫০৭৫, সুনানুল কুবরা লিলবায়হাকী, হাদীস নং-১৭০৩৩}


★ অপর হাদিসে আছে :-

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ” اقْتُلُوا الْفَاعِلَ وَالْمَفْعُولَ بِهِ، فِي عَمَلِ قَوْمِ لُوطٍ،

হযরত ইবনে আব্বাস রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, লুত আঃ এর কওমের মত কুকর্মে লিপ্ত উভয়কে হত্যা করে ফেল। {মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-২৭২৭, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-২৫৬১, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৪৪৬২, সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং-১৪৫৬, সুনানে দারাকুতনী, হাদীস নং-৩২৩৪}

Friday, March 6, 2015

স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত এবং স্ত্রীকে প্রহার করা সম্বন্ধে :-


স্বামী-স্ত্রীর দাম্পত্য জীবনে আল্লাহ তায়ালা চান তারা যেন পরস্পর সুখে ও স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে পারে। কিন্তু, মাঝে মাঝে বিভিন্ন কারণে তাদের সেই মধুর জীবনে অমানিশার কালো মেঘ উকি দিতে পারে। সেসব বিষয়ের সমাধান নিয়েই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আলোচনা করেছেন সুরা নিসার ৩৪ ও ৩৫ নং আয়াতে।
আল্লাহ তায়ালা বলেন:

وَاللَّاتِي تَخَافُونَ نُشُوزَهُنَّ فَعِظُوهُنَّ وَاهْجُرُوهُنَّ فِي الْمَضَاجِعِ وَاضْرِبُوهُنَّ فَإِنْ أَطَعْنَكُمْ فَلَا تَبْغُوا عَلَيْهِنَّ سَبِيلًا إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيًّا كَبِيرًا (34) وَإِنْ خِفْتُمْ شِقَاقَ بَيْنِهِمَا فَابْعَثُوا حَكَمًا مِنْ أَهْلِهِ وَحَكَمًا مِنْ أَهْلِهَا إِنْ يُرِيدَا إِصْلَاحًا يُوَفِّقِ اللَّهُ بَيْنَهُمَا إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيمًا خَبِيرًا   (৩৫)

অর্থাৎ, তোমরা যে সমস্ত স্ত্রীদের মধ্যে অবাধ্যতার আশংকা কর তাদেরকে সদুপদেশ দাও, তাদের শয্যা ত্যাগ কর এবং প্রহার কর। যদি তাতে তারা তোমাদের অনুগত হয়ে যায় তাহলে তাদের সম্বন্ধে (বড় ধরণের) আর কোন সিদ্ধান্ত নিওনা। আল্লাহ তায়ালা সবার উপরে শ্রেষ্ঠ। আর যদি তাদের মধ্যে বিরোধের আশংকা কর তাহলে, তার পরিবার ও তোমার পরিবারের মধ্যকার একেকজন লোককে দিয়ে শালিস করতে প্রেরণ কর। তারা উভয়ের মাঝে মীমাংসা চাইলে আল্লাহ তায়ালা তাওফিক দিয়ে দিবেন। নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা সর্বজ্ঞ ও সবকিছু অবহিত। (সুরা নিসা: ৩৪-৩৫)

এই আয়াত দু’টোতে আল্লাহ তায়ালা স্বামী স্ত্রীর মধ্যে কোনরূপ সমস্যা ও মনোমালিন্যতার সৃষ্টি হলে তা সমাধানের বেশ কয়েকটা সমাধান দিয়ে দিয়েছেন। ইসলাম কর্তৃক প্রদত্ত অধিকারের বাইরে স্ত্রী তার স্বামীর অবাধ্য হলে সেগুলো অবলম্বন করে সমস্যা সমাধানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে আয়াতগুলোতে। নিম্নে ক্রমানুসারে সেগুলো উল্লেখ করা হল।

১। বুঝিয়ে শুনিয়ে তাকে সংশোধন করতে হবে।
২।নিজের ঘরের মধ্যেই তার বিছানা পৃথক করে দেবে।ঘরের বাইরে বিছানা করে দিলে ব্যাপারটা তৃতীয়পক্ষের কানে চলে যেতে পারে।ফলে,সহজে সমাধানের পথ রুদ্ধ হয়ে যেতে পারে।
৩।মৃদু প্রহার করবে।অমানুসিকভাবে প্রহার ইসলামে নিষিদ্ধ।
৪।ছেলে-মেয়ে উভয়ের পক্ষ থেকে একজন করে লোক নিয়ে সালিশ করতে হবে।
  ৫। উপরের একটা বিষয় অনুসরণের দ্বারাই যদি স্ত্রী সংশোধিত হয়ে যায় তাহলে,পরবর্তী দফা বাস্তবায়নের কোন প্রয়োজন নেই।সংশোধনের পর কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে এখানে নিষেধ করা হয়েছে।



ইসলামিক স্কলারগণ এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন: স্ত্রী যদি কোন অপরাধ করে থাকে তাহলে, তাকে বুঝিয়ে শুনিয়ে সংশোধন করতে হবে। কারণ, সেও মানুষ। আর মানুষ মাত্রই ভুল করে থাকে। তাকে বুঝাতে পারলে সামনে তার এ ভুল আর হবে না। যদি তাতেও তার সংশোধন না হয় তাহলে, তার শয্যা পৃথক করে দিতে হবে। এখানে ঘর পৃথক করতে নিষেধ করে দেয়া হয়েছে। কেননা, ঘর পৃথক করে দিলে সংশোধনের পরিবর্তে আরও ক্ষতির সমুহ সম্ভাবনা রয়েছে। সেজন্য তাকে নিজ ঘরের মধ্যে রেখেই পৃথক শয্যায় রাখতে হবে যেন সে, তার ভুল বুঝতে পেরে ফিরে আসে। তখন ফিরে আসলে ভাল কথা। এখানে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের উচিত বিষয়টা তৃতীয় কারও কানে না দিয়ে নিজেদের মধ্যে মিটমাট করে নেওয়ার ব্যবস্থা করা। নিজেদের সমস্যা নিজেরা সমাধান করে নেয়ার চেয়ে উত্তম সমাধান পৃথিবীতে আর দ্বিতীয়টি নেই। নিজেদের ভিতরের এ ব্যাপারটা তৃতীয়পক্ষ জেনে ফেললে তাতে সমস্যার সমাধান হওয়া কিছুটা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। এতে স্বামী স্ত্রীর মধ্যকার দ্বিতীয় জনের (যার বিরুদ্ধে তৃতীয় পক্ষের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে) মনোকষ্ট হওয়াটাই স্বাভাবিক। ফলে, তাদের মধ্যকার বিশ্বাসে ফাটল ধরতে পারে।

তবে, এখানে আরেকটা কথা বলতে হয়-তা হল সর্বদা স্বামীর উদার দিল সম্পন্ন হওয়া উচিত। এমনও হতে পারে যে, স্ত্রী তার ভুল বুঝতে পেরে ফিরে আসতে চায়; কিন্তু, মনের মধ্যকার লজ্জা ভাঙ্গতে পারছে না। সেই পরিস্থিতি স্বামীকেই আচ করে নিতে হবে। তাহলে, আশা করা যায় দাম্পত্য জীবনে অমানিশার কালো মেঘ উকি দিতেও সাহস পাবে না ইনশাল্লাহ। সর্বোপরি একে অপরের জন্য ত্যাগ স্বীকার করার মানসিকতা থাকা দরকার।

উপরোক্ত উপদেশ এবং শয্যা-ত্যাগেও যদি সে সংশোধন না হয় তাহলে, তাকে মৃদু প্রহারের অনুমতি দেয়া হয়েছে। তবে, শর্ত করা হয়েছে যে, প্রহার যেন কঠোর না হয়।

তবে, বহু সংখ্যক হাদীসে প্রহারকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। কারণ, ভালবাসা ও মহব্বতে যত সহজে কাজ হয়, মারধর করে ততসহজে সে কাজ করানো যায় না। একজন ছাত্রকে ভালবেসে যতটুকু শিক্ষা দেয়া যায়, প্রহার করে ততটুকু শিক্ষা দেয়া সম্ভব হয় না।

রাসুল (সাঃ) বলেছেন:- তোমাদের মধ্যে ওই ব্যক্তি উত্তম নয় যে, তার স্ত্রীদেরকে প্রহার করে।

আবু দাউদ শরীফসহ বেশ কিছু হাদীসের কিতাবে এসেছে- রাসুল (সাঃ) বলেছেন:
لاَ تَضْرِبُوا إِمَاءَ اللَّهِ
অর্থাৎ, তোমরা আল্লাহর বান্দীদেরকে (স্ত্রীদেরকে) মারধোর করো না। (আবু দাউদ, নাসায়ী, দারেমী, মুসতাদরাকে হাকেম, বায়হাকী)

একবার রাসুল (সাঃ) এর বাড়ীতে প্রচুর সংখ্যক মহিলা (বায়হাকী শরীফে এসেছে ৭০জনের কথা) এসেছিলেন তাদের স্বামীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করতে যে, হে আল্লাহর রাসুল (সাঃ)! আমার স্বামী আমাকে প্রহার করে। পরের দিন সকাল বেলা রাসুল (সাঃ) ঘোষণা করে দিলেন, গতরাতে আমার পরিবারের কাছে অনেক মহিলা এসেছিলেন তাদের স্বামীর বিরুদ্ধে মারধোর করার অভিযোগ নিয়ে। শুনে রাখ! আল্লাহর কসম, ঐ ব্যক্তিরা ভাল নয়। (আমার মতে এর সর্বোত্তম অনুবাদ হল-ওরা মানুষ নয়!! অর্থাৎ, মানুষেরা এমন কাজ করতে পারে না। ) (আবু দাউদ, বায়হাকী, নাসায়ী, ইবনে হিব্বান,মুসনাদে শাফেয়ী, মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক )

বুখারীসহ বিভিন্ন হাদীসের কিতাবে বলা হয়েছে যে, রাসুল (সাঃ) বলেছেন:
فَاضْرِبُوهُنَّ ضَرْبًا غَيْرَ مُبَرِّحٍ

অর্থাৎ, …….. তাদেরকে এমনভাবে প্রহার কর যেন তা “মুবাররিহ” না হয়।

“মুবাররিহ” এর ব্যাখ্যায় হযরত আ’তা (রাঃ) বলেছেন: আমি মুফাসসিরদের সরদার হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) কে এর অর্থ জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বলেছেন-এর অর্থ হচ্ছে মিসওয়াক কিংবা অনুরুপ কিছু দিয়ে প্রহার করা। (তাফসীরে কুরতুবী, তাফসীরে বগভী,ফাতহুল ক্বাদীর, রুহুল মাআ’নী, তাবারী, শা’রাবী,খাযেন,বাহরুল মুহীত, তাফসীরে ইবনে হাতেম,দুররুল মানসুর)

উল্লেখ্য যে, এখানে মিসওয়াক বা অনুরুপ কিছু দিয়ে মৃদু প্রহার করার অনুমতি রয়েছে তবে, তা দিয়ে গুতা দেয়ার অনুমতি নেই।


আমরা সকলেই জানি শুরাইহ নামক একজন বিচারক ছিলেন হযরত আলী (রাঃ) এর খেলাফত আমলে। তিনি ছিলেন ন্যায় বিচারের একজন মুর্ত প্রতীক। আলী (রাঃ) খলীফা (রাষ্ট্রপ্রধান) থাকাকালে তিনি একবার আলী (রাঃ) এর বিরুদ্ধেও বিচারে রায় দিয়েছিলেন। তার দাম্পত্য জীবনের একটা ঘটনা খুবই প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। উক্ত ঘটনা নিম্নে উল্লেখ করা হল।


বিচারক শুরাইহ বনী তামীম গোত্রের এক মেয়েকে বিবাহ করেছিলেন। বিবাহ পরবর্তী একান্ত সাক্ষাতের দিনের কথা প্রসংগে তিনি বলেছেন:


সেদিন আমি ওজু করলাম। তিনিও (স্ত্রী) ওজু করলেন। আমি নামাজ পড়লাম তিনিও আমার সাথে নামাজে দাড়ালেন। নামাজ শেষ করে আল্লাহ তায়ালার কাছে দুয়া করলাম তিনি যেন তার মধ্যে বরকত দান করেন এবং তার সকল অনিষ্ট থেকে আমাকে হেফাজত করেন।

তিনি হামদ ও সানা পড়ে কথাবার্তা শুরু করলেন। তাদের কথোপকথন নিম্নে উপস্থাপিত হল।

স্ত্রী: আমি আপনার নিকট একজন অপরিচিত মেয়ে। আমি জীবনে কখনো আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির পথ ছাড়া অন্য কোন পথে চলি নাই। আর আপনিও আমার কাছে অপরিচিত। আমি আপনার স্বভাব সম্বন্ধে জানি না। আপনি কি কি পছন্দ করেন আর কি কি অপছন্দ করেন তা আমার জানা নেই। সুতরাং, সে বিষয়গুলো আমাকে বলে দিলে আমি আপনার পছন্দানুযায়ী কাজ করব এবং, অপছন্দনীয় কাজ বা জিনিস থেকে দূরে থাকব।

কাজী শুরাইহ: (গুনে গুনে বলে দিলেন) আমি অমুক অমুক জিনিস, কথা, কাজ ও খাদ্যকে পছন্দ করি। আর অমুক অমুক জিনিস, কথা, কাজ ও খাদ্যকে অপছন্দ করি।

স্ত্রী: আপনি আপনার শ্বশুর বাড়ীর আত্মীয়দের সম্বন্ধে বলুন। আপনি কি চান যে, তারা আপনার বাড়ীতে বেড়াতে আসুক?

কাজী শুরাইহ: আমি বিচারক মানুষ। আমি চাই না যে, তারা আমাকে বিরক্ত করুক। (বিরক্তির পর্যায়ে না গেলে সমস্যা নেই )

স্ত্রী: আপনার প্রতিবেশীর মধ্যকার কাদেরকে আপনার বাড়ীতে আসতে অনুমতি দিবেন?

কাজী শুরাইহ: অমুক অমুক আসতে পারে। (এক এক করে সব বর্ণনা করে দিলেন)

কাজী শুরাইহ বলেন: আমি ঐ দিন তার কাছে শ্রেষ্ঠ রাত অতিবাহিত করলাম। তার নিকট ৩ দিন থেকে কোর্টে (বিচারিক কাজে) গেলাম। এরপর থেকে এমন কোন দিন পাইনি যে দিনটা আমার কাছে আগের দিনের চেয়ে উত্তম নয়।

এভাবে একবছর অতিবাহিত হল। কাজী শুরাইহ দেখলেন তার বাড়ীতে একজন বৃদ্ধা মহিলা উপদেশ ও নসীহতমুলক কথাবার্তা বলছে।

কাজী শুরাইহ: (স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে) যায়নাব! এই বৃদ্ধা লোকটি কে?

স্ত্রী: আমার শ্রদ্ধেয় মা জননী।

কাজী শুরাইহ: (শাশুড়ীকে উদ্দেশ্য করে) আমাদের বাড়ীতে আপনাকে স্বাগতম।

শাশুড়ী: হে, আবু উমাইয়া! (কাজী শুরাইহীর উপাধী, অর্থ হল-উমাইয়ার পিতা। আরবদের বৈশিষ্ট্য হল- তারা বড় সন্তানের নাম ধরে পিতাকে ডাকে) আপনারা কেমন আছেন? কেমন যাচ্ছে আপনাদের দৈনন্দিন জীবনযাপন?

কাজী শুরাইহ: আলহামদুলিল্লাহ, খুব সুন্দরভাবেই চলছে আমাদের জীবনযাপন।

শাশুড়ী: আপনার স্ত্রীকে কেমন পেয়েছেন?

কাজী শুরাইহ: আলহামদুলিল্লাহ, আমি তাকে অত্যন্ত উত্তম স্ত্রীরূপে পেয়েছি। তাকে পেয়েছি জীবনের উত্তম সংগীনী হিসেবে। আপনারা তাকে উত্তমরূপেই মানুষ করে গড়ে তুলেছেন। তাকে উত্তমভাবে আদব-কায়দা শিক্ষা দিয়েছেন।

শাশুড়ী: মহিলাদের দুই অবস্থায় কখনো মন খারাপ থাকে না। প্রথমটি হল-স্বামীর কাছ থেকে কিছু পেলে আর পুত্র সন্তান প্রসব করলে। যদি এমন কোন বিষয় দেখেন যা আপনাকে ক্রোধান্বিত করে তার ঔষধ হচ্ছে-প্রহার করা।……

কাজী শুরাইহ বলেন আমার বাড়ীতে আমার শাশুড়ী প্রতি বছর একবার করে আসতেন। আমাদের বাড়ীতে এসে তার কলিজার টুকরা সন্তানকে বিভিন্ন উপদেশ এবং নসীহত করে যেতেন।

তিনি বলেন: আমি এ স্ত্রীর সাথে গত বিশ বছর দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করলাম অথচ, তার উপর আমি কখনো রাগ করিনি(রাগান্বিত হওয়ার মত কিছু পাইনি)। অন্য কথায় বলা যায়-আমাদের ভিতর বিগত বিশ বছরের দাম্পত্য জীবনে কোন মনমালিন্যের ঘটনা সংঘটিত হয়নি। তবে, শুধুমাত্র একদিন আমি তার উপর রাগান্বিত হয়েছিলাম। তবে, সেদিনকার পরিস্থিতির জন্য আমি নিজেই দোষী ছিলাম। বরং, আমিই তার উপর জুলুম করেছিলাম। বাস্তবে তার কোন দোষ ছিল না।

এ ঘটনাটা আমাদের দাম্পত্য জীবনের জন্য একটা আদর্শ হতে পারে।

Monday, February 9, 2015

যিনা কি ? ইসলামে যিনার শাস্তি কি ?

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ “নারীদের পুরোটাই হচ্ছে “আওরাহ” বা সতর (শরীরের যে অংশ ঢেকে রাখা বাধ্যতামূলক)। যখন সে ঘর থেকে বের হয় শয়তান তাকে চোখ তুলে দেখে। নারী ঘরের মধ্যে অবস্থানকালেই আল্লাহর বেশি নৈকট্য প্রাপ্ত থাকে।”(সুনানে আত-তিরমিজি ও ইবনে হিব্বান)

এই যদি হয় রাসূল ﷺ বাণী তা হলেতো বর্তমানে যা দেখা যাচ্ছে অধিকাংশ মেয়েরা বের্পদা ভাবে চলা চল করে এবং কি খোলা মেলা চলা ফেরা করতে পছন্দ করে। এবার দেখি ইসলাম কি বলে যিনার ব্যাপারে।

পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফের মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেছেন,

وَلاَ تَقْرَبُواْ الزِّنَى إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاء سَبِيلاً

অর্থ: “আর তোমরা ব্যভিচারের নিকটবর্তীও হয়ো না। নিশ্চয়ই এটা অশ্লীল কাজ এবং নিকৃষ্ট পন্থা।” (পবিত্র সূরা বনী ইসরাঈল শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৩২)

দুনিয়াতে তাদের জন্য কি শাস্তি- সে সম্পর্কে পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

الزَّانِيَةُ وَالزَّانِي فَاجْلِدُوا كُلَّ وَاحِدٍ مِّنْهُمَا مِئَةَ جَلْدَةٍ وَلَا تَأْخُذْكُم بِهِمَا رَأْفَةٌ فِي دِينِ اللَّهِ إِن كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَلْيَشْهَدْ عَذَابَهُمَا طَائِفَةٌ مِّنَ الْمُؤْمِنِينَ

অর্থ: “ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী, এদের প্রত্যেককে তোমরা একশ করে চাবুক মারবে। মহান আল্লাহ পাক উনার (শাস্তির) বিধান কার্যকর করতে তোমরা যেন তাদের প্রতি দয়ার বশবর্তী না হও। যদি তোমরা মহান আল্লাহ পাক ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসী হয়ে থাকো। আর মু’মিনদের একটি দল যেন তাদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করে।” (পবিত্র সূরা নূর শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ২)



রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ “কোন বেগানা নারীর প্রতি দৃষ্টি দেওয়া চোখের যিনা, অশ্লীল কথাবার্তা বলা জিহ্বার যিনা, অবৈধভাবে কাউকে স্পর্শ করা হাতের যিনা, ব্যাভিচারের উদ্দেশ্যে হেঁটে যাওয়া পায়ের যিনা, খারাপ কথা শোনা কানের যিনা আর যিনার কল্পণা করা ও আকাংখা করা মনের যিনা। অতঃপর লজ্জাস্থান একে পূর্ণতা দেয় অথবা অসম্পূর্ণ রেখে দেয়”। সহীহ আল-বুখারী, সহীহ আল-মুসলিম,সুনানে আবু দাউদ, সুনানে আন-নাসায়ী।

যিনা হারামঃ আল্লাহ তাআ’লা যিনাকে হারাম ঘোষণা করে বলেনঃ “তোমরা যিনার কাছেও যাবে না। কেননা তা অত্যন্ত নির্লজ্জ এবং খারাপ কাজ”। সূরা বনী ইসরাঈলঃ ৩২।

কোরআন শরিফ থেকে যিনার শাস্তিঃ আল্লাহ পাক যিনাকারী পুরুষ ও নারীর শাস্তির কথা ঘোষণা করে বলেন “যিনাকার যিনাকারী পুরুষ এদের প্রত্যেককে একশ’ করে বেত্রাঘাত কর। আল্লাহর বিধান বাস্তবায়নে তাদের প্রতি যেন তোমাদের মনে কোন দয়ার উদ্রেক না হয়, যদি তোমরা আল্লাহর প্রতি ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসী হও। আর তাদের শাস্তি প্রদানকালে যেন মুসলমানদের একটি দল উপস্থিত হয়।” (সূরা-নূর, আয়াত-২)

যিনার শাস্তি হাদিস শরিফ থেকেঃ রাসুল ﷺ বলেছেনঃ “আমি স্বপ্নে একটি চুলা দেখতে পেলাম যার উপরের অংশ ছিল চাপা আর নিচের অংশ ছিল প্রশস্ত আর সেখানে আগুন উত্তপ্ত হচ্ছিল, ভিতরে নারী পুরুষরা চিল্লাচিল্লি করছিল। আগুনের শিখা উপরে আসলে তারা উপরে উঠছে, আবার আগুন স্তিমিত হলে তারা নিচে যাচ্ছিল, সর্বদা তাদের এ অবস্থা চলছিল, আমি জিবরীল আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করলামঃ এরা কারা? জিবরাইল আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললঃ তারা হল, অবৈধ যৌনচারকারী নারী ও পুরুষ। সহীহ আল-বুখারী।

যিনার শাস্তি হাদিস শরিফ থেকেঃ হযরত আবূ হুরায়রা (রাঃ) ও যায়দ ইবনে খালিদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। দুই ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ ﷺ এর নিকট অভিযোগ উত্থাপন করল। একজন বলল, ইয়া রাসূলুল্লাহ আমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাব মোতাবেক ফয়সালা করে দিন। অপরজন ছিল অধিক বুদ্ধিমান। সেও বলল, হ্যাঁ, ইয়া রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাব মোতাবেক ফয়সালা করে দিন। রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, আচ্ছা বল। লোকটি বলল, আমার ছেলে এই ব্যক্তির কাজ করত। সে তার স্ত্রীর সাথে যিনা করল। তখন তারা আমাকে বলল যে, আমার ছেলেকে প্রস্তর নিক্ষেপ করে হত্যা করা হবে। তখন আমি আমার ছেলের মুক্তিপণ হিসেবে একশত বকরী ও আমার একটি বাঁদী দিয়ে দিলাম। তারপর আমি আলেমদের জিজ্ঞাসা করলাম। তাঁরা বলল, আমার ছেলেকে একশত বেত্রাঘাত করতে হবে এবং এক বছরের জন্য দেশান্তর করতে হবে। আর তার স্ত্রীকে প্রস্তর নিক্ষেপে হত্যা করতে হবে।
তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, শোন, আমার জান যার হাতে তার শপথ করে বলছি, আমি অবশ্যই তোমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাব মোতাবেক ফয়সালা করব। তোমার বকরী এবং বাঁদী তোমার নিকট ফিরিয়ে দেয়া হবে। তোমার ছেলেকে একশত বেত্রাঘাত করে হবে এবং এক বছরের জন্য দেশান্তর করা হবে। তারপর উনায়স আসলামী (রাঃ) কে বললেন, হে উনায়স! এই লোকের স্ত্রীর নিকট যাও। যদি সে স্বীকার করে, তবে তাকে প্রস্তর নিক্ষেপ করে হত্যা করো। তারপর মহিলাটি যিনার কথা স্বীকার করলে তাকে প্রস্তর নিক্ষেপে হত্যা করা হল।” (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ, আবূ দাউদ, ইবনে মাজাহ, মুসনাদে আহমদ, মুয়াত্তা মালিক, দায়িমী)

হে নারী ও পরুষ সাবধান হও অবাধ যৌনচার থেকে….কারণ কেয়ামতের দিন নিজেদের বুঝা নিজেকেই উঠাতে হবে কেউ কারো গুনাহের বুঝা উঠাবে না….!!! আল্লাহ আমাদের সহী বুঝ দান করুক আমীন….!!


Thursday, February 5, 2015

পুরুষদের টাকনোর নিচে কাপড় পরিধানের শাস্তি





মুলকথা :-

১) টাকনোর নিচে কাপড় থাকলে সেই অংশটুকু জাহান্নামে যাবে।

২) আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাদের দিকে ফিরেও তাকাবেন না বা রহমতের দৃষ্টিতে তাকাবেন না।

৩) এটা হল অহংকার। আর আল্লাহ অহংকার কারীকে পছন্দ করেন না।

৪) আল্লাহ এমন ব্যক্তির নামায গ্রহন করবেন না, যে তার লুঙ্গি-কাপড় ঝুলিয়ে দিয়ে নামায আদায় করে।নামায পড়ে ফেললে সেই নামায বাতিল পুনরায় ওযু করে নামায পড়তে হবে।

৫) নিয়ম হল হাটুর নিচে ও টাকনোর মধ্যবর্তী স্থানে পরা বা সমস্যা হলে টাকনোর উপরে কাপড় পরলেই হবে।


এই ৫ টি কথা নিচের সকল হাদিসের মুলকথা :-


জাবের ইবন সুলাইম রা. হতে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেন, “টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে কাপড় পড়ার ব্যাপারে সাবধান হও। কারণ, তা অহংকারের অন-র্ভূক্ত। আর আল্লাহ অহংকার করাকে পছন্দ করেন না।” (আবু দাঊদ)।


আবূ হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত৷
তিনি বলেন,
নাবী (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন; ইযারের বা পরিধেয় বস্ত্রের যে অংশ পায়ের গোড়ালির গিঁটের নীচে (টাখনুর নিচে) থাকবে, সে অংশ জাহান্নামে যাবে৷
[সহীহ বুখারী হাঃ ৫৭৮৭],

আবূ হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত,
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ
সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন; আল্লাহ কিয়ামত দিবসে সে ব্যক্তির দিকে (দয়ার)
দৃষ্টি দিবেন না, যে ব্যক্তি অহংকার বশতঃ ইযার বা পরিধেয় বস্ত্র পায়ের গিঁটের নিচে (টাখনুর নিচে) ঝুলিয়ে পরিধান
করে৷
[সহীহ বুখারী হাঃ ৫৭৮৮;
মুসলিম হাঃ ২০৮৭],

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, পুরুষের শরীরের যে কোন পোশাক টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে পড়া হারাম। পোশাক যদি টাখনুর নিচে ঝুলে যায়, তাহলে টাখনুর নিচের ঐ অংশকে জাহান্নামের অংশ বলে ধরা হল।
[বুখারী হাঃ ৫৪৫০],

আবূ হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু একদিন এক লোক পায়ের গিঁটের নিচে (টাখনুর নিচে) লুঙ্গি-কাপড় ঝুলিয়ে নামায পড়ছিলো। তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যাও, পুনরায় ওযু কর। সে গিয়ে আবার ওযু করে এলো। তিনি আবার বললেন যাও, পুনরায় ওযু কর। একজন বললো ইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! কেন আপনি তাকে ওযূ করার আদেশ দিচ্ছেন, তারপর নীরাবতা পালন করেছেন? তিনি বললেন : এ লোক তার লুঙ্গি-কাপড় পায়ের গিঁটের (টাখনুর নিচে) ঝুলিয়ে নামায পড়ছিলো। অথচ আল্লাহ এমন ব্যক্তির নামায গ্রহন করবেন না, যে তার লুঙ্গি-কাপড় ঝুলিয়ে দিয়ে নামায আদায় করে। এ হাদীসটি মুসলিমের শর্তে আবূ দাঊদ সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন।
[আবূ দাঊদ হাঃ ৪০৮৬],

আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত,
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
একলোক গোডালির গিঁটের নিচে (টাখনুর নিচে) কাপড় পরিধান করে রাস্তা দিয়ে হাটছিল৷ হঠাৎ তাকে মাটির সাথে ধ্বসিয়ে দেওয়া হল৷ এভাবে কিয়ামত পর্যন্ত
লোকটি ধ্বসতেই থাকবে৷
[বুখারী]

এটি আবূ হুরাইরাহ
রাদিয়াল্লাহু আনহু
হতেও বর্ণিত হয়েছে৷
[বুখারী]



আবু যর রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা কিয়ামতের দিন তিন শ্রেনীর লোকের সাথে কথা বলবেন না, তাদের প্রতি ফিরে তাকাবেন না এবং তাদেরকে গুনাহ থেকে পবিত্রও (মুক্ত) করবেন না। তাছাড়া তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন তিনবার কথাগুলি বললেন। আবূ যার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, হে আল্লাহর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! এসব বিফল মনোরথ ও বঞ্চিত কারা? তিনি বললেন :

(১) অহংকারবশে যে লোক লুঙ্গি-কাপড় পায়ের গিঁটের নিচে (টাখনুর নিচে) ঝুলিয়ে দেয়,

(২) উপকার করে যে লোক খোটা দেয় বা বলে বেড়ায় এবং

(৩) মিথ্যা শপথ করে যে লোক তার মালসামগ্রী বিক্রয় করে। হাদীসটি ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন। তার অপর এক বর্ণনায় রয়েছে : যে লোক তার লুঙ্গি হেঁচরিয়ে চলে।
[সহীহ মুসলিম হাঃ ১০৬; তিরমিযী হাঃ ১২১১; নাসায়ী হাঃ ১৫৬৩; আবূ দাঊদ হাঃ ৪০৮৭; ইবনে মাজাহ হাঃ ২২০৮],


ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত আছে তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন তহবন্দ বা পায়জামা, জামা ও পাগড়ীই ঝুলিয়ে দেয়া হয়। যে লোক অহংকার বশত এমন কিছু ঝুলিয়ে দিবে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা কিয়ামতের দিন তার প্রতি তাকাবেন না। হাদীসটি আবূ দাঊদ ও নাসায়ী সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন।
[সহীহ আবূ দাঊদ, তাহক্বীক্ব আলবানী হাঃ ৩৪৫০, ৪০৯৪; সহীহ আল-জামি হাঃ ২৭৭],


হজরত ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, যে ব্যক্তি অহংকারের বশীভূত হয়ে নিজের কাপড় অত্যন্ত নিচে [টাখনুর নিচে] পরিধান করবে, আল্লাহ তায়ালা কিয়ামত দিবসে তার প্রতি রহমতের দৃষ্টিতে তাকাবেন না। [বুখারি শরিফ, খ. ২, পৃ. ৮৬০]


ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অহংকারবশত যে ব্যক্তি তার বস্ত্র বা কাপড় পায়ের গিঁটের নিচে (টাখনুর নিচে) ঝুলিয়ে চলবে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা কিয়ামতের দিন তার দিকে ফিরেও তাকবেন না। উম্মু সালমা রাদিয়াল্লাহু আনহা বললেন, তাহলে মহিলারা তাদের আচঁলের ব্যাপারে কি করবে? তিনি বললেন, তারা পায়ের গিঁট থেকে এক বিঘত পরিমান ঝুলিয়ে রাখবে। উম্মু সালমা রাদিয়াল্লাহু আনহা বললেন, এতে তো তাদের পা অনাবৃত হয়ে পড়বে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন তাহলে তারা একহাত পরিমান নিচে পর্যন্ত ঝুলতে পারে, এর চাইতে বেশি যেন না ঝুলায়। এ হাদীসটি আবূ দাঊদ ও তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। হাদীসটি হাসান সহীহ।
[সহীহ আল-জামি হাঃ ৬১৮৭; গাইয়াতুল মারাম হাঃ ৯০; সহীহ আবূ দাউদ হাঃ ৩৪৬৭, ৪০৮৫; তিরমিযী হাঃ ১৭৩১],


ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সম্মুখ দিয়ে গেলাম। তখন আমার লুঙ্গি-কাপড় পায়ের গিঁটের নিচে (টাখনুর নিচে) ঝুলন্ত ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : হে আবদুল্লাহ! তোমার লুঙ্গি-কাপড় উপরে উঠাও। তা আমি উপরে উঠালাম। তিনি আবার বললেন : আরো উঠাও। আমি তা আরো উঠালাম। তাঁর নির্দেশক্রমে এভাবে আমি তা উঠাতেই থাকলাম। লোকদের মধ্যে একজন বললো, তা কতদূর উঠাতে হবে? তিনি বললেন পায়ের নলার অর্ধেক পর্যন্ত।
[মুসলিম হাঃ ২০৮৬],


ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অহংকার বশত যে লোক তার কাপড় পায়ের গিঁটের নিচে (টাখনুর নিচে) ঝুলিয়ে দেয়, কিয়ামতের দিন তার প্রতি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা ফিরে তাকাবেন না। আবূ বাকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার পায়জামা তো প্রায়ই ঝুলে যায়, আমি যদি সচেতন না থাকি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন তাদের মধ্য তুমি অন্তর্ভুক্ত নও, যারা অহংকারের বর্শবর্তী হয়ে কাপড় ঝুলিয়ে রাখে। হাদীসটি ইমাম বুখারী বর্ণনা করেছেন এবং এর অংশবিশেষ মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
[বুখারী হাঃ ৩৬৬৫, ৫৭৮৪; মুসলিম হাঃ ২০৮৫],


আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মুসলিমের লুঙ্গি বা পায়জামা হাঁটু ও পায়ের গিঁটের বা টাখনুর মাঝামাঝি জায়গা পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। তবে তা পায়ের নলার মাঝখান হতে পায়ের গিঁটের মাঝামাঝি থাকাও দোষের নয়। যে অংশটুকু পায়ের গিঁটের নিচে (টাখনুর নিচে) থাকবে তা, জাহান্নামে যাবে। অহংকার বর্শবর্তী হয়ে যে ব্যক্তি লুঙ্গি বা পায়জামা নীচের দিকে ঝুলিয়ে দেয়, কিয়ামতের দিন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তার দিকে ফিরেও তাকবেন না। আবূ দাঊদ হাদীসটি সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন।
[সহীহ আবূ দাঊদ, তাহক্বীক্ব আলবানী হাঃ ৩৪৪৯, ৪০৯৩],


হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে শুনেছি, মুমিন বান্দাদের জন্য পায়জামা পরিধান করার (উত্তম ও সুন্দর) পদ্ধতি হলো 'নিছফ্ সাক্ব'- অর্ধহাঁটু পর্যন্ত পরিধান করা। অর্থাৎ পায়ের গোছার মধ্যখান পর্যন্ত বা অর্ধহাঁটু অথবা পায়ের গিঁটের মধ্যখান পর্যন্ত হলে গুনাহ হবে না, তা বৈধ। যা এর নিচে হবে, তা জাহান্নামে যাবে (তার পরিণাম জাহান্নাম)। বর্ণনাকারী বলেন, এ কথাটি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তিনবার বলেছেন। অতঃপর তিনি বলেন, আল্লাহ তায়ালা ওই ব্যক্তির দিকে চোখ তুলেও তাকাবেন না, যে অহংকার ও বড়ত্বের বশীভূত হয়ে কাপড় হিঁচড়ে চলে। [আবু দাউদ শরিফ, ইবনে মাজাহ শরিফ]


হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.)-এর হাদিস থেকে অনুভূত হয়, মুমিনদের জন্য উত্তম হলো লুঙ্গি বা পায়জামা 'নিছফ্ সাক্ব'- অর্ধহাঁটু হওয়া। তবে পায়ের গিঁট পর্যন্ত পরিধান করা বৈধ। কিন্তু তারও নিচে পরিধান করা বৈধ নয়; বরং বড় গুনাহ, তার ওপর জাহান্নামের হুকুম এসেছে। (মারেফুল হাদিস, পৃ. ২৯০, খ. ২)


বিশর রাহিমাহুল্লাহ বললেন, একদা ইবনু হানযালিয়্যা রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। আবূ দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে বললেন, আমাদের এমন কিছু কথা বলুন, আমারা যাতে লাভবান হই এবং আপনার ক্ষতি না হয়। তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, খুরাইম আসাদী কি চমৎকার লোক। তার চূল যদি বেশি লম্বা না হতো এবং তার লুঙ্গি-কাপড় যদি পায়ের গিঁটের নিচে (টাখনুর নিচে) না পড়তো। কথাটি খুরাইমের কানে পৌঁছে গেল। কাঁচি নিয়ে তিনি দ্রুত কান পর্যন্ত নিজের চুল কেটে ফেললেন এবং নিজের পায়জামাটি হাটু ও পায়ের গিঁটের মাঝখানের অর্ধেক পর্যন্ত উঠিয়ে নিলেন। হাদীসটি আবূ দাঊদ উত্তম সনদে বর্ণনা করেছেন।
[আবূ দাঊদ হাঃ ৪০৮৯],


আবূ জুরাই জাবির ইবনু সুলাইম রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত আছে তিনি বলেন,
আমি বললাম, আলাইকাস সালামু ইয়া রাসূলুল্লাহ! এভাবে দুবার বললাম। তিনি বললেন : আলাইকাস সালাম বলো না। কারণ, আলাইকাস সালাম এটা হলো মৃত ব্যক্তির উদ্দেশ্যে সালাম, বরং বল, আসসালামু আলাইকা। আমি বললাম, আপনি কি আল্লাহর রাসূল? তিনি বললেন : হ্যাঁ আমি সেই আল্লাহর রাসূল, কোন বিপদ-মুসিবাতে পতিত হলে তুমি যাঁর কাছে দুআ করলে তা যিনি দূর করেন, দুর্ভিক্ষে পড়ে তুমি যার কাছে দুআ করলে তোমার জন্য যিনি শস্য উৎপন্ন করেন, জনমানবহীন অথবা পানিবিহীন প্রান্তরে তোমার সাওয়ারী হারিয়ে গেলে তুমি যার কাছে দুআ করলে তোমাকে যিনি তা ফিরিয়ে দেন। জাবির ইবনু সুলাইম রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি বললাম, আমাকে উপদেশ দিন। তিনি বললেন : কখনো কাউকে গালি-গালাজ করো না। জাবির ইবনু সুলাইম বলেন, এরপর কখনো আযাদ, গোলাম, উট, বকরীকেও আমি গালি দেইনি। উত্তম ও পুন্যের কোন কাজকে তুচ্ছ মনে করো না। তোমার ভাইয়ের সাথে হাসিমুখে কথা বলবে। এটিও একটি সাওয়াবের কাজ। লুঙ্গি-কাপড় তোমার হাঁটুর নীচে অর্ধাংশ পর্যন্ত তুলে রাখবে। এতো দূর উঠাতে তোমার যদি বাঁধা থাকে তাহলে অন্তত পায়ের গিঁট (টাখনু) পর্যন্ত তুলে রাখবে। লুঙ্গি-কাপড় ঝুলিয়ে দেয়া থেকে বিরত থাকবে। কারণ, এটা অহংকারের অন্তর্ভুক্ত। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা অহংকার পছন্দ করেন না। তোমাকে কেউ যদি গালি দেয় অথবা তোমার সম্পর্কে যা সে জানে সে বিষয়ে তোমার দুর্নাম করে, তার সম্পর্কে তুমি যা জানো, সে বিষয়ে তার দুর্নাম করো না। কারণ, এর খারাপ পরিণতি তারই উপর বর্তাবে। হাদীসটি সহীহ সনদসহকারে আবূ দাঊদ ও তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।
[তিরমিযী হাঃ ২৭২; সহীহ আল জামি হাঃ ৭৪০২; সহীহ হাদীস সিরিজ হাঃ ১৪০৩; সহীহ আবূ দাঊদ, তাহক্বীক আলবানী হাঃ ৩৪৪২, ৪০৪৮],








বিপদে আপদের সময় যেসব দোয়া পড়বেনঃ

বিপদ-মসিবতে পাঠ করার জন্য কতিপয় দোয়া  এবং এর জন্য আমল: ♦১) উম্মে সালমা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ও...