Showing posts with label মাযহাব. Show all posts
Showing posts with label মাযহাব. Show all posts

Sunday, October 4, 2015

যুগে যুগে মাযহাবের অনুসারী ছিলেন এমন ইমামগনের তালিকা :

মাযহাবের অনুসারী বিখ্যাত হাদীস বিশারদগণ

--------------------------------
যারা হানাফী মাযহাবের অনুসারী ছিলেন -
--------------------------------
১. ইমাম ত্বহাবী (রহঃ)
২. ইমাম যাইলায়ী (রহঃ)
৩. আল্লামা আইনী (রহঃ)
৪. আল্লামা আলাবী (রহঃ)
৫. আল্লামা ইবনে বালবান (রহঃ)
৬. ইমাম আলমুত্তাকি আল-হিন্দি (রহঃ)
৭. মোল্লা আলী ক্বারী (রহঃ)
৮. শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলবী (রহঃ)
৯. শাহ আনওয়ার শাহ কাশ্মিরী (রহঃ)
১০. আব্দুল হাই লাখনবী (রহঃ)
১১. শায়খ যাকারিয়া কান্ধলবী (রহঃ)

উস্তাদ-ছাত্র সম্পর্কঃ



প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য যে, বড় বড় মুহাদ্দিসগণ যারা
হাদীসের কিতাব রচনা করেছেন, তাদের প্রায়
সকলেই পরোক্ষভাবে ইমাম আবু হানীফা (রহঃ) এর
ছাত্র। হাদীস গ্রহণের ক্ষেত্রে এই উস্তাদ-ছাত্র
সম্পর্কের কয়েকটি নমুনা নিচে পেশ করা হল- ‪

‎ইমাম‬ আবু হানিফা (রহঃ)→ ইমাম আবু ইউসুফ (রহঃ) → বিখ্যাত মুহাদ্দিস ইয়াহ্ইয়া ইবনে মুঈন→
ইমাম বোখারী (রহঃ)

ইমাম‬ আবু হানীফা (রহঃ) → ইমাম আবু ইউসুফ (রহঃ) → বিখ্যাত মুহাদ্দিস ইয়াহ্ইয়া ইবনে মুঈন→
ইমাম মুসলিম (রহঃ)

ইমাম‬ আবু হানীফা (রহঃ) → ইমাম আবু ইউসুফ (রহঃ) → বিখ্যাত মুহাদ্দিস ইয়াহ্ইয়া ইবনে মুঈন→
ইমাম আবু দাউদ (রহঃ) → ইমাম নাসায়ী (রহঃ)

ইমাম‬ আবু হানীফা (রহঃ) → ইমাম আবু ইউসুফ (রহঃ) → বিখ্যাত মুহাদ্দিস ইয়াহ্ইয়া ইবনে মুঈন→
বিখ্যাত মুহাদ্দিস আবু ইয়ালা (রহঃ)

‎ইমাম‬ আবু হানীফা (রহঃ) → আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক (রহঃ) → মুহাদ্দিস ইয়াহ্ইয়া ইবনে আকছাম
(রহঃ) → ইমাম তিরমিযি (রহঃ) → ইমাম ইবনে মাজাহ (রহঃ)

‎ইমাম‬ আবু হানীফা (রহঃ) → ইমাম মুহাম্মাদ (রহঃ) → ইমাম শাফেয়ী (রহঃ) → ইমাম আহমাদ
ইবনে হাম্বল (রহঃ) ‪

‎ইমাম‬ আবু হানীফা (রহঃ) → শায়েখ মুসঈর বিন কুদাম (রহঃ) → ইমাম বোখারী (রহঃ) → ইমাম
ইবনে খোজাইমা (রহঃ) → ইমাম দারে কুতনী (রহঃ)

ইমাম‬ আবু হানীফা (রহঃ) → শায়েখ মুসঈর বিন কুদাম (রহঃ) → ইমাম বোখারী (রহঃ) → ইমাম ইবনে খোজাইমা→ ইমাম হাকেম (রহঃ) → ইমাম বাইহাকী (রহঃ)

‎ইমাম‬ আবু হানীফা (রহঃ) → শায়েখ মক্কী বিন ইবরাহিম (রহঃ) → শায়েক আবু আওয়ানা (রহঃ) →ইমাম
তাবরানী (রহঃ)

ইমাম‬ আবু হানীফা (রহঃ) → শায়েখ মক্কী বিন ইবরাহিম (রহঃ) → শায়েখ আবু আওয়ানা (রহঃ) →
ইবনে আদী (রহঃ)।

-----------------------------
যারা মালেকী মাযহাবের অনুসরণ করেছেন-
-----------------------------
১. আল্লামা ইবনু আব্দিল বার (রহঃ)
২. আল্লামা কাযী ইয়ায (রহঃ)
৩. ইবনুল মুনীর (রহঃ)
৪. ইবনে বাত্তাল (রহঃ)
৫. আল্লামা ইবনুল আরাবী (রহঃ)
৬. আল্লামা যারকানী (রহঃ)

যারা শাফেয়ী মাযহাবের অনুসরণ করেছেন-
------------------------------
১. ইমাম তিরমিযি (রহঃ)
২. আল্লামা ইবনে খোজাইমা (রহঃ)
৩. ইমাম দারে কুতনী (রহঃ)
৪. ইমাম হাকেম (রহঃ)
৫. ইমাম বাইহাকী (রহঃ)
৬. খতীবে বাগদাদী (রহঃ)
৭. ইমাম রওয়ানী (রহঃ)
৮. ইমাম ইবনে আসাকির (রহঃ)
৯. আল্লামা ইবনুস সালাহ (রহঃ)
১০. ইমাম নববী (রহঃ)
১১. ইমাম ইবনে জামাআ (রহঃ)
১২. আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী (রহঃ)
১৩. ইমাম সাখাবী (রহঃ)
১৪. জালালুদ্দিন সূয়ূতী (রহঃ)

যারা হাম্বলী মাযহাবের অনুসরণ করেছেন,
-----------------------------
১. ইমাম আবু দাউদ (রহঃ)
২. ইমাম নাসায়ী (রহঃ)
৩. ইমাম ইবনে মাজা (রহঃ)
৪. ইমাম দারিমী (রহঃ)
৫. আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ (রহঃ)
৬. আল্লামা ইবনুল জাওযী (রহঃ)
৭. আল্লামা ইবনে রজব হাম্বলী (রহঃ)
৮. ইবনু আব্দিল হাদী (রহঃ)

মাযহাবের অনুসারী বিখ্যাত তাফসীরবিদগণ

---------------------------
যারা হানাফী মাযহাব অনুসরণ করেছেন-
----------------------------
১. ইমাম জাছ্ছাস (রহঃ)
২. ইমাম আলুসী (রহঃ)
৩. ইমাম নাসাফী (রহঃ)
৪. কাযী সানাউল্লাহ পানিপতি (রহঃ)
যারা মালেকী মাযহাবের অনুসরণ করেছেন,
-----------------------------
১. আবু বকর ইবনুল আরাবী (রহঃ)
২. ইমাম কুরতুবী (রহঃ)
৩. ইমাম ইবনে আ’শূর (রহঃ)
যারা শাফেয়ী মাযহাবের অনুসরণ করেছেন,
-----------------------------
১. ইমাম বাগাবী (রহঃ)
২. ইবনে কাসীর (রহঃ)
৩. ইমাম বায়যাবী (রহঃ)
৪. জালালুদ্দিন সূয়ূতী (রহঃ)
৫. জালালুদ্দিন মহল্লী (রহঃ)
৬. ইমাম যারকাশী (রহঃ)
যারা হাম্বলী মাযহাবের অনুসরণ করেছেন,
----------------------------
১. ইবনুল যাওযী (রহঃ)
২. আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম (রহঃ)

মাযহাবের অনুসারী উসুলে ফিকাহের বিখ্যাত

ইমামগণ


------------------------------
যারা হানাফী মাযহাবের অনুসরণ করেছেন-
-----------------------------
১. আল্লামা ইবনুল হুমাম (রহঃ)
২. ইমাম সারাখসী (রহঃ)
৩. ইমাম বাযদবী (রহঃ)
৪. ইমাম শাশী (রহঃ)
৫. ইবনে আমীর আলহাজ্ব (রহঃ)
যারা মালেকী মাযহাবের অনুসরণ করেছেন-
---------------
১. ইবনুল হাজেব (রহঃ)
২. ক্বারাফী (রহঃ)
৩. ইবনুল আরাবী (রহঃ)
৪. ইমাম শাতবী (রহঃ)
যারা শাফেয়ী মাযহাবে অনুসরণ করেছেন-
------------------------------
১. ইমাম জুয়াইনি (রহঃ)
২. হুজ্জাতুল ইসলাম ইমাম গাজালী (রহঃ)
৩. আল্লামা আ’মাদী (রহঃ)
৪. আল্লামা রাযী (রহঃ)
৫. আল্লামা শিরাযী (রহঃ)
৬. আল্লামা ইবনুস সুবকি (রহঃ)
৭. জালাল আলমাহাল্লী (রহঃ)
যারা হাম্বলী মাযহাবের অনুসরণ করেছেন-
-----------------------------
১. ইবনে কুদামা (রহঃ)
২. ইবনুন নাজ্জার (রহঃ)
৩. আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ)
৪. ইবনুল কাইয়্যিম (রহঃ)

রাজনৈতিক ও ভৌগলিকভাবে মাযহাবের অনুসরণ



আমরা যদি ইসলামের রাজা-বাদশা ও
বিশ্বজয়ীদের দিকে লক্ষ করি, তবে দেখা যাবে তাদের সকলেই কোন কোন মাযহাবের অনুসারী
ছিলেন।
যারা হানাফী মাযহাবের অনুসরণ করেছেন-
-----------------------------
১. আব্বাসীয় খিলাফতকালে প্রায় ৫০০শ’ বছর যাবৎ
হানাফী মাযহাবের অনুসরণ করেন। তখন রাষ্ট্রীয়ভাবে হানাফী মাযহাব পালিত হত।
ইবনু আব্দিল বার (রহঃ) লিখেছেন-
ইমাম আবু ইউসুফ রহ.(ইমাম আবু হানীফা রহ. এর
বিশিষ্ট ছাত্র) আব্বাসীয় খলিফা, মাহদী, হাদী
এবং হারুনুর রশিদের সময়ে সমগ্র খিলাফতের
কাযীউল কুযাত (প্রধান বিচারপতি ছিলেন) ২. উসমানী খলিফাগণ দীর্ঘ সাড়ে ছয় শ’ বছর যাবৎ
হানাফী মাযহাবের অনুসরণ করেছেন।
৩. ভারত উপমহাদেশের প্রায় সকল সম্রাটরাই
হানাফী মাযহাবের অনুসারী ছিলেন। গজনী,
মামলুক, খলজী, সৈয়দ, লোদী, তুঘলক, মুঘল সকলেই
হানাফী মাযহাবের অনুসারী ছিলেন।


১. পূর্ব থেকে এখনও পৃথিবীর যে সমস্ত অঞ্চলে হানাফী মাযহাব অনুসরণ করা হয়-
--------------------------------
সুদান, মিশর, জর্দান, সিরিয়া, ইরাক, তুরস্ক,
উজবেকিস্তান, আলবেনিয়া, কাজাখস্তান,
তাজিকিস্তান, কিরগিজিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, রাশিয়া, চীন, তুরষ্ক, বলকান, আজারবাইজান,
ইইক্রেন, শাম, ইণ্ডিয়া, পাকিস্তান, বাংলাদেশ,
আফগানিস্তান, আলবেনিয়া, বসনিয়া,
হার্জেগোভিনা মারিশাছ লিভান্ট ইত্যাদি।


২. যে সমস্ত অঞ্চলে মালেকী মাযহাব অনুসরণ করা
হয়-
-----------------------------
উত্তর আফ্রিকা, পশ্চিম আফ্রিকা, ইউনাইটেড আরব
আমীরাত, কুয়েত,সওদী আরবের কিছু অংশ, উমান,
লিবিয়া, নাইজেরিয়া, আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া,
মরক্কো, পশ্চিম সাহারা, চাদ এবং মধ্যপ্রাচ্যের
বিভিন্ন রাষ্ট্রে মালেকী মাযহাব অনুসরণ করা হয়। ইউরোপে বিশেষভাবে স্পেনে মালেকী মাযহাবের
অনুসরণ করা হত।
৩. যে সমস্ত অঞ্চলে শাফেয়ী মাযহাব অনুসরণ করা
হয়-
------------------------------
দক্ষিণপূর্ব এশিয়া, উত্তরপূর্ব আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য এবং ভারত উপমহাদেশের কিছু অংশ।
৪. সওদী আরবে বিশেষভাবে হাম্বলী মাযহাব
অনুসরণ করা হয়ে থাকে।
আমরা এখানে যুগশ্রেষ্ঠ আলেমগণের যে সংখ্যা
উল্লেখ করেছি, এটি খুবই সামান্য। আলোচনা দীর্ঘ
হওয়ায় যুগশ্রেষ্ঠ অসংখ্য আলেমের নাম উল্লেখ করা হয়নি।



এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য মুহাদ্দিস,
মুফাসসির এবং ফকীহগণের জীবনীর উপর লেখা
গ্রন্থগুলো দেখা যেতে পারে। যেমন-

১. আল্লামা ইবনে খাল্লকািন (রহঃ) কর্তৃক রচিত
“ওফায়াতুল আ’য়ান”। 

২. মিশর ওযারাতুল আওকাফ থেকে প্রকাশিত
“মাউসুআতুল আ’লাম”।

৩. আল-জাওয়াহিরুল মুজিয়্যা ফি তাবাকাতিল
হানাফিয়্যা, আব্দুল কাদের বিন মুহাম্মাদ বিন
মুহাম্মাদ (রহঃ)

৪. তাবাকাতুল ফুকাহা, আবু ইসহাক শিরাযী (রহঃ)

৫. তবাকাতুল হানাবেলা, আল্লামা ইবনু আবি
ইয়ালা।

৬. আদ-দিবাজুল মাযহাব ফি মা’রিফাতি আ’য়ানি
উলামিল মাযহাব। মালেকী মাযহাবের উলামায়ে
কেরামের জীবনীর উপর রচিত।

৭. তবাকাতুল শাফেয়ীয়া আলকুবরা, আল্লামা তাজুদ্দিন সুবকী (রহঃ)



Thursday, January 29, 2015

মাযহাবের তাকলিদ বা অনুসরন :-


সকল মাযহাবই সঠিক পথের অনুসারী এবং মানুষকে সঠিকভাবে পথ প্রদর্শন করে গেছেন:-

আল্লাহ তায়ালার কাছে ফুক্বাহাদের মর্যাদা
আল্লাহ তায়ালা কতটা মর্যাদা দিয়েছেন ফুক্বাহায়ে কিরামকে, হাদীস কুরআনের বিভিন্ন বর্ণনা দেখলেই তা আমাদের বুঝে আসে।

عَنْ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- « إِذَا حَكَمَ الْحَاكِمُ فَاجْتَهَدَ فَأَصَابَ فَلَهُ أَجْرَانِ وَإِذَا حَكَمَ فَاجْتَهَدَ فَأَخْطَأَ فَلَهُ أَجْرٌ

হযরত আমর বিন আস রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-“যখন কোন বিশেষজ্ঞ হুকুম দেয়, আর তাতে সে ইজতিহাদ করে তারপর সেটা সঠিক হয়, তাহলে তার জন্য রয়েছে দু’টি সওয়াব। আর যদি ইজতিহাদ করে ভুল করে তাহলে তার জন্য রয়েছে একটি সওয়াব। {সহীহ বুখারী, হাদিস নং-৬৯১৯, সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং-৩৫৭৬, সহীহ মুসলিম, হাদিস নং-৪৫৮৪}

আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন-

وَلَكِنَّ الْمُنافِقِينَ لا يَفْقَهُونَ} [المنافقون:7]

অর্থাৎ মুনাফিকরা ফক্বীহ হতে পারেনা। [সুরা মুনাফিকুন-৭]
সুতরাং ফক্বীহ কখনো মুনাফিক হতে পারেনা।

আর রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-একজন ফক্বীহ শয়তানের উপর একশত আবেদের চেয়ে’ বেশি কষ্টকর। [সুনানে তিরমিযী, হাদিস নং-২২২]

“সোজা রাস্তায় যারা চলবে তারা হবে সফলকাম। আর যারা বাকি আঁকাবাঁকা রাস্তায় চলবে তারা হবে ধ্বংস”। {সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং-১১}

আল্লামা ইমাম কুরতুবী রঃ তাফসীরে কুরতুবীতে লিখেন-

وقد مضى في "آل عمران" معنى قوله عليه السلام : "تفرقت بنو إسرائيل على اثنتين وسبعين فرقة وأن هذه الأمة ستفترق على ثلاث وسبعين" . الحديث. وقد قال بعض العلماء العارفين : هذه الفرقة التي زادت في فرق أمة محمد صلى الله عليه وسلم هم قوم يعادون العلماء ويبغضون الفقهاء ، ولم يكن ذلك قط في الأمم السالفة.( الجامع لأحكام القرآن
المؤلف : أبو عبد الله محمد بن أحمد بن أبي بكر بن فرح الأنصاري الخزرجي شمس الدين القرطبي (المتوفى : 671)

প্রথম উম্মতের মাঝে ইজতিহাদ ছিলনা। তাই ইজতিহাদের দুশমনও ছিলনা। এই উম্মতের মাঝে ইজতিহাদ আছে। তাই ইজতিহাদের দুশমনও আছে। আর এই উম্মতের অতিরিক্ত জাহান্নামী ফিরক্বা হল ইজতিহাদের দুশমন ফুক্বাহায়ে কিরামের দুশমন দল। {তাফসীরে কুরতুবী, তাফসীর সূরাতুল আনআম}


আহলে হাদিস নেতা ইমাম তাইমিয়া এর মতে- ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহ) সাধারন লোকদেরকে ইসহাক, আবু উবাইদা, আবু সাওর ও আবু মুসয়াব প্রমুখ ইমামের তাকলীদ করার নির্দেশ দিতেন। ইমাম আবু দাউদ, উসমান বিন সাইদ ইরাহীম আর হারবী,আবু বাকার আল-আসরম, আবু যরয়া, আবু হাতিম সিজিস্তানী, ইমাম মুসলিম প্রমুখ ছাত্রদেরকে তাকলীদের ব্যাপারে  বলতেন- তোমাদের জন্য শরীয়তের উৎস আকড়ে ধরাই ওয়াজিব।
( ফাতোয়ায়ে ইবনে তাইমিয়া)

এখন বলুন শরীয়তের উতস কি? নিশ্চই কুরআন হাদিস। হাদিস কারা সংকলন করেছে? নিশ্চই তাবেয়ী তাবে-তাবেয়ীগন নাকি লা-মাযহাবীদের জন্য নাজিল হয়েছিল আলাদাভাবে? তাহলে কোনটা সঠিক হাদিস বুঝেছি কিভাবে? যারা সংকলন করেছে তারা বলেছে এটা উমুখ উমুখ বর্ননা করেছে এটা বিশ্বাসযোগ্য এটা সহীহ। আমরা তাদের কথামতই মেনে নিয়েছিলাম প্রথমে সহিহ কি দুর্বল কি আর জাল কি? আর আজ লা- মাযহাবী শয়তান গুলো তাদের থেকে শিখে গুরো কে চিনে না,বাহ!!!

হানাফী মাযহাব এর তাক্বলিদ সম্পর্কে বলি কেন এই মাযহাবের তাক্বলিদ করব :-

ভাই জাকির নায়েক কি ধারনা আবু হানিফা রহ. কুরআন ও হাদীস জানতেন না
বা কুরআন ও হাদীস বাদ দিয়ে বাইবেল ও গীতা থেকে মাসআলা বের করেছে !!!!!

1. ইমাম বোখারীর অন্যতম উস্তাদ মক্কী বিন ইব্রাহীম (রহ.) (মৃতু- 215 হিঃ) যার সনদে ইমাম বুখারী (রহ.) অধিকাংশ ‘সুলাসিয়্যাত হাদীস’ বর্ণনা করেছেন। এই মক্কী বিন ইব্রাহীম (রহ.) ইমাম আবু হানীফা (রহ.) এর ছাত্র। তিনি ইমাম আবু হানীফা (রহ.) সম্পর্কে বলেন,
“আবু হানীফা তাঁর সময়কালের শ্রেষ্ঠ আলেম ছিলেন” - মানাক্বেবে ইমাম আজম রহ. 1/95

আবার হাফিয মযযী (রহ.) বলেন: মক্কী বিন ইব্রাহীম ইমাম আবু হানীফা (রহ.) সম্পর্কে বলেন,
“তিনি তাঁর কালের সবচে’ বড় আলিম ছিলেন” – তাহ্যীবুত তাহযীব-এর টিকা- 10ম খন্ড, 452পৃ.

(এখানে একটি কথা বিশেষভাবে স্মরণ রাখতে হবে, প্রাচীন আলিমগণ ‘ইলম’ বলতে ‘ইলমে হাদীস’ই বুঝাতেন। তাই ইমাম আবু হানীফা (রহ.) কে বড় আলিম বলার অর্থ- ‘হাদীস শাস্ত্রের বড় আলিম’ এতে কোন সন্দেহ নেই।)

2. ইমাম আবু দাউদ বলেন,
নিঃসন্দেহে আবু হানীফা ছিলেন একজন শেষ্ঠ ইমাম।- তাহজীব 1/445

3. জরহে তাদিলের (সনদ পর্যালোচনা শাস্ত্র) অন্যতম ইমাম ইয়াহ্‌ইয়া ইবনে মুঈন (মৃতু- 233হিঃ) বলেন,
“আবু হানীফা ছিলেন হাদীস শাস্ত্রের গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি”- তাহবীবুত্তাহজীব 5/630

4. আলী ইবনে মাদানী (মৃতু- 234 হিঃ) বলেন,
“আবু হানীফা হাদীস শাস্ত্রে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি। তার মধ্যে কোন দোষক্রুটি ছিল না। - জামঈ বয়ানিল ইল্ম 2/1083

5. প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস হাফিজ ইয়াহ্ইয়া বিন হারুন (মৃতু- 206 হিঃ) বলেন,
“আবু হানীফা ছিলেন সমকালীন শ্রেষ্ঠতম জ্ঞানী ও সত্যবাদী” –আহবারে আবু হানীফা 36

6. আল্লামা হাফিয ইবনে হাজার আসক্বালানী রহ. বলেন-
“ইমাম আবু হানীফা রহ.-র মুত্যু সংবাদ শুনে ফিক্বাহ ও হাদীস শাস্ত্রের সুপ্রসিদ্ধ ইমাম, শাফঈ মাযহাবের প্রধানতম সংকলক হযরত ইবনে জরীহ রহ. গভীর শোক প্রকাশ করে বলেছিলেন,
“আহ! ইলমের কি এক অফুরন্ত খনি আজ আমাদের হাতছাড়া হলো”। -


তাহযীবুত্তাহযীব খন্ড ১, পৃ: ৪৫০)

7: একবার হযরত ইয়াহয়া ইবনে মুঈনকে প্রশ্ন করা হলো- হাদীসশাস্ত্রে আবু হানীফা রহ. কি আস্থাভাজন ব্যক্তি? সম্ভবতঃ প্রচ্ছন্ন সংশয় আঁচ করতে পেরে দৃপ্তকন্ঠে তিনি উত্তর দিলেন- হ্যা, অবশ্যই তিনি আস্থাভাজন! অবশ্যই তিনি আস্থাভাজন! (মানাকিবুল ইমামমুল আ’যামি লিলমাওয়াফিক- খন্ড:1, পৃষ্ঠা 192)

দেখুন ওনারা কি কখনো হাদিসের বহির্ভুত জ্ঞান কাউকে প্রচার করতেন কিনা?
১- ইমাম আবু হানীফা (রহঃ)-এর নসিহত :

(ক) ‘যখন ছহীহ হাদীছ পাবে, জেনো সেটাই আমার মাযহাব’।(হাশিয়াহ ইবনে আবেদীন ১/৬৩।)
(খ) ‘আমরা কোথা থেকে গ্রহণ করেছি, তা না জেনে আমাদের কথা গ্রহণ করা কারো জন্য বৈধ নয়’।(ঐ ৬/২৯৩।)
(গ) ‘যে ব্যক্তি আমার দলীল জানে না, আমার কথা দ্বারা ফৎওয়া প্রদান করা তার জন্য হারাম’।(ড. অছিউল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আব্বাস, আত-তাক্বলীদ ওয়া হুকমুহু ফী যুইল কিতাব ওয়াস-সুন্নাহ, পৃঃ ২০।)
(ঘ) ‘নিশ্চয়ই আমরা মানুষ। আমরা আজকে যা বলি, আগামীকাল তা থেকে ফিরে আসি’।(ঐ।)
(ঙ) ‘তোমার জন্য আফসোস হে ইয়াকুব (আবু ইউসুফ)! তুমি আমার থেকে যা শোন তাই লিখে নিও না। কারণ আমি আজ যে মত প্রদান করি, কাল তা প্রত্যাখ্যান করি এবং কাল যে মত প্রদান করি, পরশু তা প্রত্যাখ্যান করি’।(ঐ।)
(চ) ‘আমি যদি আল্লাহর কিতাব (কুরআন) ও রাসূলুললাহ (ছাঃ)-এর কথার (হাদীছ) বিরোধী কোন কথা বলে থাকি, তাহ’লে আমার কথাকে ছুঁড়ে ফেলে দিও’।(ছালেহ ফুল্লানী, ইক্বাযু হিমাম, পৃঃ ৫০।)


২- ইমাম মালেক (রহঃ)-এর নসিহত :

(ক) ‘আমি একজন মানুষ মাত্র। আমি ভুল করি, আবার ঠিকও করি। অতএব আমার সিদ্ধান্তগুলো তোমরা যাচাই কর। যেগুলো কুরআন ও সুন্নাহর অনুকূলে হবে সেগুলো গ্রহণ কর। আর যেগুলো কুরআন ও সুন্নাহর প্রতিকূলে হবে তা প্রত্যাখ্যান কর’।(ইমাম ইবনু হাযম, আল-ইহকাম ফী উছূলিল আহকাম, ৬/১৪৯।)
(খ) ‘রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর পরে এমন কোন ব্যক্তি নেই, যার সকল কথাই গ্রহণীয় বা বর্জনীয়, একমাত্র রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ব্যতীত’।(ঐ ৬/১৪৫।)


৩- ইমাম শাফেঈ (রহঃ)-এর নসিহত :

(ক) ‘যদি তোমরা আমার বইয়ে রাসূল (ছাঃ)-এর সুন্নাহ বিরোধী কিছু পাও, তাহ’লে রাসূল (ছাঃ)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী বল এবং আমার কথাকে প্রত্যাখ্যান কর’। অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, ‘তোমরা রাসূল (ছাঃ)-এর কথারই অনুসরণ কর এবং অন্য কারো কথার দিকে দৃকপাত কর না’।(ইমাম নববী, আল-মাজমূ, ১/৬৩।)
(খ) ‘আমি যেসব কথা বলেছি, তা যদি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর ছহীহ হাদীছের বিপরীত হয়, তবে রাসূল (ছাঃ)-এর হাদীছই অগ্রগণ্য। অতএব তোমরা আমার তাক্বলীদ কর না’।(ইবনু আবী হাতেম, পৃঃ ৯৩, সনদ ছহীহ।)
(গ) ‘রাসূলুললাহ (ছাঃ)-এর প্রত্যেকটি হাদীছই আমার কথা, যদিও আমার নিকট থেকে তোমরা তা না শুনে থাক’।(ঐ।)


৪- ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (রহঃ)-এর নসিহত :

(ক) ‘তুমি আমার তাক্বলীদ কর না এবং তাক্বলীদ কর না মালেক, শাফেঈ, আওযাঈ ও ছাওরীর। বরং তাঁরা যে উৎস হ’তে গ্রহণ করেছেন, সেখান থেকে তোমরাও গ্রহণ কর’।(ইলামুল মুওয়াক্কি’ঈন, ২/৩০২।)
(খ) ‘যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর হাদীছকে প্রত্যাখ্যান করল, সে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেল’।(মুকাদ্দামাতু ছিফাতি ছালাতিন নাবী (ছাঃ), পৃঃ ৪৬-৫৩।)

এইগুলো পড়ে কি মনে হচ্ছে যে তারা কুরআন সুন্নাহ বিরোধী মতামতকে গ্রহন করতে কখনো বলেছেন? নাকি দিয়েছেন?



ভারতবর্ষের গাইরে মুক্বাল্লিদ্ ও পৃথিবীর অন্যান্য গাইরে মুক্বাল্লিদ্দের মধ্যে যোগসূত্র নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোন থেকে নেয়া :-



১।



তৃতীয় শতাব্দীর শুরু লগ্নে ২০২ হিজরীতে প্রখ্যাত মুহাদ্দিস দাউদে যাহেরীর জন্ম। তিনি শরীয়তের সকল পর্যায়ে কিয়াস বর্জন করে কেবল কুরআন-হাদীসের প্রত্যক্ষ ও যাহেরী অর্থের ভিত্তিতে চলার মতবাদ রচনা করেন। তাঁর মতে ক্বিয়াস শরীয়তের কোন দলীল হতে পারে না। যদিও এ ক্বিয়াস কোরআন-হাদীসের আলোকে এবং কোন বিষয়ে কুরআন-হাদীসের স্পষ্ট উক্তি না থাকা সত্ত্বেই হোক না কেন! এ জন্যই তাকে দাউদে যাহেরী বা “ প্রত্যক্ষদর্শী ” এবং তাঁর অনুসারীদেরকে যাহেরিয়া বলা হয়।



( মু’জামুল মুয়াল্লিফিন, উমর রেজাঃ পৃ-১/৭০০ জীবনী নং-৫২৪০ ও আল-আলম খাইরুদ্দীনঃ পৃ-২/৩৩৩ )


২।



চতুর্থ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে ৩৮৪ হিজরীতে আল্লামা ইবনে হাযাম যাহেরীর জন্ম হয়। তিনি প্রথমে ছিলেন শাফেয়ী মায্হাবের অনুসারী। পরবর্তীতে তিনি দাউদে যাহেরীর মায্হাব অবলম্বন করেন এবং এক পর্যায়ে সকল মায্হাব ত্যাগ করে তাক্বলীদ্কে হারাম বলতে আরম্ভ করেন। এমনকি মুজতাদিহ ইমামগণকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও লাগামহীনভাবে তাদের প্রতি কটুক্তি করতে থাকেন। তার এ বাড়াবাড়ির অসংখ্য নযীর তার রচনাবলীতে বিদ্যমান রয়েছে।

৩।



হিজরী ৮ম শতাব্দীর ইমাম আল্লামা ইবনে তাইমিয়্যা  (মৃতঃ ৭২৮ হিজরী) ও হাফেজ ইবনুল ক্বাইয়্যিম (রহঃ) (মৃতঃ ৭৫১ হিঃ) হাম্বলী মায্হাবের অন্যতম অনুসারী ছিলেন। তবে কিছু কিছু ইজতেহাদী বিষয়ে তাদের ব্যতিক্রমধর্মী মতামত তথা যাহেরিয়াদের সঙ্গে সামঞ্জস্যতা ছিল।



এ কারণেই আল্লামা ইবনে বতুতা (রহঃ) ইবনে তাইমিয়্যা সম্বন্ধে লিখেনঃ



“ ইবনে তাইমিয়্যা কিছু বিষয়ে দক্ষতার সাথে আলোচনা করেন, তবে তার মাথায় কিছু ব্যতিক্রমধর্মী (বাতিল) চিন্তা-চেতনাও রয়েছে। ”



( তুহ্ফাতুন নাজ্জার থেকে মাওলানা ইসমাইল সাম্বলী প্রনীত তাক্বলীদে আইম্মাঃ পৃ-৫৩ )

এবং হাফেজ যাহাবী (রহঃ) ইবনুল ক্বাইয়্যিম সম্বন্ধে লিখেনঃ



“ তিনি নিজস্ব মতেই আত্নতৃপ্ত। মাথায় কিছু বৈচিত্র্য রয়েছে, যার ফলে গর্হিত অনেক কিছু প্রকাশ পেয়েছে। ”



( আলমু’জাম থেকে তাক্বলীদে আইম্মাঃ পৃ-৫৪ )


৪।



দ্বাদশ শতাব্দীর প্রখ্যাত আলিম মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওহ্হাব নজদী (মৃতঃ ১২০৬ হিঃ) মূলত হাম্বলী মায্হাবেরই মুক্বাল্লিদ্ ছিলেন।

তবে অনেক বিষয়ে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ির ফলে তাঁর সঙ্গে তদানীন্তন সউদী আলেম উলামাদের মহামতানৈক্য সৃষ্টি হয়। তিনিই মহানবী (সঃ) এর রওজার উপর বিস্তৃত গম্বুজটি ভেঙ্গে দেয়ার পরিকল্পনা করেন এবং ভিন্ন মতাবল্মীদেরকে পবিত্র হজ্ব পালনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন ও তাদেরকে কাফির, মুশরিক ইত্যাদি জঘন্যতম আখ্যায় আখ্যায়িত করতে থাকেন। ফলে ভয়াবহ ফিৎনা-ফাসাদ ও বিশ্ব মুসলিম সমাজে পারস্পরিক কোন্দলের সূচনা হয়। পক্ষান্তরে যারা তার মতবাদের তাক্বলীদ করতে থাকে তাদেরকে মুসলমানগণ ওহ্হাবী বলে আখ্যায়িত করতে থাকেন। এদিকে ভারতবর্ষের লা-মায্হাবীরাও যেহেতু নিছক ঝগড়া-বিবাদ ও মুসলমানদের মধ্যে মতানৈক্য সৃষ্টির ষড়যন্ত্র হিসেবে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওহ্হাব নজদীর অন্তঃসারশূণ্য বিচিত্র মতবাদ গ্রহণ করে যেত, তাই তাদেরকেও মুসলমানগণ ওহ্হাবী বলে আখ্যায়িত করতে থাকেন। আর তারা নিজেদেরকে মুহাম্মদী বা আহলে হাদীস বলে প্রচারের চেষ্টায় মেতে উঠে।




৫।



এ ধারার শেষ ব্যক্তি ক্বাযী শাওকানী (মৃতঃ ১২৫৫ হিজরী) মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওহ্হাব নজদীরই সমসাময়িক ছিলেন। তিনি প্রথমতঃ ছিলেন শিয়া মতালম্বী। তার রচনাবলী প্রায়ই পরস্পর বিরোধপূর্ণ ও নিরপেক্ষতাহীন মতামতে ভরপুর।



দৃষ্টান্ত স্বরূপ বলা যেতে পারে হানাফী মায্হাব অনুযায়ী “ বিতর ” নামায্ ওয়াজীব। এ মতামত খন্ডন করার জন্য ইমাম শাওকানী হাদীসে মুয়া’য্ (রঃ) পেশ করেছেন, যাতে বলা হয়েছে যে, “ আল্লাহপাক রাত্র দিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামায্‌ ওয়াজিব্‌ তথা ফরয করেছেন ” এ ছাড়াও তিনি হাদীসে আ’রাবী পেশ করেছেন, যাতে মহানবী (সঃ) গ্রাম্য লোকটিকে মাত্র পাঁচ ওয়াক্ত নামায্‌ আদায় করতে বলায় তিনি প্রশ্ন করেন যে আমার উপর এ ছাড়া কি আর কোন নামায্‌ আছে? তদুত্তরে মহানবী (সঃ) ইরশাদ করেন “ না, এ ছাড়া সমস্তই নফল। ”



এ হাদীস দু’টির মাধ্যমে শাওকানী সাহেব প্রমাণ করেন যে, পাঁচ ওয়াক্ত নামায্‌ ব্যতীত আর কোন নামায্‌ই ওয়াজিব বা ফরয নয়। তাই “ বিতর ” নামায্‌ও পাঁচ ওয়াক্তের বহির্ভূত বিধায় ওয়াজিব হতে পারে না বরং নফল নামাযেরই অন্তর্ভূক্ত।



( নাইলুল আওতারঃ পৃ - ৩/৩১ )



কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপ ও হাস্যকর বিষয় হল যে, তিনি মাত্র এর কয়েক পৃষ্ঠা পরই “ তাহিয়্যাতুল মসজিদ ” নামাযের বর্ণনায় উপরোক্ত হাদীসগুলো দৃষ্টিগোচর করে পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের বহির্ভূত “ তাহিয়্যাতুল মসজিদ ” নামায্‌কে ওয়াজিব প্রমাণের ব্যর্থ প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। অথচ তিনি নিজেও “ তাহিয়্যাতুল মসজিদ ” সুন্নত হওয়ার পক্ষে সকল উলামায়ে কিরামের ইজ্‌মা (সর্বসম্মত রায়) নকল করেছেন।



( নাইলুল আওতারঃ পৃ - ৩/৬৮ )



সুতরাং তার এ ধরণের কর্মকাণ্ড পক্ষপাতিত্ব, অনিরপেক্ষতা ও নিছক গোঁড়ামি বৈ আর কি?



৬) উল্লেখ্য যে, ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ, ইবনুল ক্বাইয়্যিম ও মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওহ্‌হাব  তারা ছিলেন হাম্বলী মাযহাবের মুক্বাল্লিদ ও অনুসারী। যদিও তাদের মধ্যে কিছু বিতর্কিত বিষয়ও ছিল। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বর্তমান গাইরে মুক্বাল্লিদ্‌রা তাদের গুণগত বিষয়গুলো উপেক্ষা করে কেবল বিতর্কিত বিষয়গুলো অবলম্বন করতঃ মুসলমানদের মধ্যে ফিৎনা-ফাসাদ ও মতানৈক্যের যোগান দিচ্ছে।




গাইরে মুক্বাল্লিদ্দের বিচিত্র নাম ও এর রহস্যঃ



১।



নবজাত শিশুর যেমন প্রথমেই কোন নাম থাকে না, কিছু দিন পর তার একটা নাম রাখা হয়, পছন্দ না হলে প্রয়োজনে তাও আবার পরিবর্তন করা হয়, অনুরুপভাবে ভারতবর্ষে নবজন্মা গাইরে মুক্বাল্লিদ নামক বিদ্‌য়া’ত ও ভয়াবহ ফিৎনাটিরও প্রাথমিক পর্যায়ে কোন নাম ছিল না। তাদের ভ্রান্ত তৎপরতা লক্ষ্য করে জনগণ যখন তাদেরকে “ ওহ্‌হাবী ” বা “ লা-মায্‌হাবী ” বলতে থাকে তখন তারা নিজেদেরকে “ মুহাম্মদী ” বলে ঘোষণা করে এবং পর্যায়ক্রমে সুবিধামত “ মুয়াহ্‌হিদ ” “ গাইরে মুক্বাল্লিদ ” “ আহ্‌লে হাদীস ” ইত্যাদি নাম বরাদ্দ করতে থাকে। সউদী আরবে তেল, পেট্রোলের পয়সা জমজমাট হওয়ার মুরাদে আরবীদেরকে ধোঁকা দিয়ে পেট পালার ব্যবস্থা হিসেবে বর্তমানে তারাই “ সালাফী ” নামে আত্নপ্রকাশ করেছে।


২।



এ ব্যাপারে গাইরে মুক্বাল্লিদ্‌দেরই অন্যতম ব্যক্তি মৌলভী মুহাম্মাদ শাহজাহানপুরীর উক্তি ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া তাদের অনেকেরই বই-পুস্তকে এর অসংখ্য প্রমাণ রয়েছে। তন্মধ্য হতে গাইরে মুক্বাল্লিদ আলিম মৌলভী আসলাম জিরাজপুরী তার বিশিষ্ট রচনা “ নাওয়াদিরাতে ” লিখেন,



“ প্রথমত এ জামাত নিজেদের বিশেষ কোন নাম রাখেনি। মাও: ইসমাইল শহীদ (রহ.) এর শাহাদাতের পর প্রতিপক্ষের লোকেরা যখন দুর্নাম করা জন্য তাদেরকে ওহ্হাবী বলতে শুরু করে, তখন তারা নিজেরদেকে “ মুহাম্মাদী ” বলতে থাকে, অত:পর এ নামটি পরিহার করে “ আহলে হাদীস ” উপাধি চয়ন করে যা আজ পর্যন্ত বলবৎ রয়েছে। ”



(নাওয়াদিরাতঃ পৃ: ৩৪২)


মুহাম্মাদী কে?




ইতিপূর্বে আলোচিত হয়েছে যে, ১২৪৬ হিজরীর পর এই উপমহাদেশে সৃষ্ট বিদ্‌য়া’ত ও নতুন ফিরক্বাটিকে মুসলমানগণ যখন ওহ্‌হাবী বলে আখ্যায়িত করতে থাকেন তখন তারা নিজেদেরকে মুহাম্মাদী বলে দাবী করে। সে হিসেবে মৌলভী আব্দুল হক্ব বেনারসী ও মৌঃ নজীর হুসাইন ভারতবর্ষের প্রথম মুহাম্মাদী নামের দাবীদার। অনুরূপ ভাবে তাদের তদানীন্তন অনুসারীরাও মুহাম্মাদী নামেই আত্নপ্রকাশ করতো। এ ধারায় নবাব ছিদ্দিক্ব হাসান খান ১২৮৫ হিজরীতে মৌঃ আব্দুল হক্ব বেনারসী থেকে লিখিত ভাবে মুহাম্মাদী উপাধি লাভ করেন।



( মায্‌হাবে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহঃ পৃ – ৩৬ )












মুহাম্মাদী নামের রহস্য



১।



মুহাম্মাদী বলে তারা বুঝাতে চায় যে, তারা সরাসরি নবী মুহাম্মাদ (সঃ) এর অনুসারী, তারা কোন মায্‌হাবের তাক্বলীদ বা অনুসরণ করে না তাই তারা হানাফী নয়, নয় শাফেয়ী, মালেকী বা হাম্বলী; বরং তারা মুহাম্মাদী। কিন্তু প্রশ্ন জাগে মুহাম্মাদ (সঃ) এর সত্যিকার অনুসারীদেরকেই যদি মুহাম্মাদী বলতে হয়, তাহলে হযরত সাহাবায়ে কিরাম (রঃ) ও তাবেয়ীনই তো এর সর্ব প্রথম ও সর্বাধিক উপযুক্ত ধারক ও বাহক, তাঁরা কেন তা গ্রহণ করেননি? তাঁদের উপাধি মুহাম্মাদী নয় কেন? এ শব্দের ব্যবহার ও প্রয়োগের সূচনা ১২০০ হিজরীর পরে কেন?



২।



নবাব ছিদ্দিক্ব হাসান খান অবশ্য এ প্রশ্নের উত্তর দিতে যেয়ে চতুর্থ শতাব্দীর শেষার্ধের মুহাদ্দিস আবু হাফস উমার বিন আহমদ ইবনে শাহীন এর কথা উল্লেখ করেছেন যে, ইবনে শাহীনের নিকট কোন মায্‌হাবের আলোচনা আসলে তিনি বলতেনঃ “ আমি মুহাম্মাদী মায্‌হাবের ”।



( তাযকিরাতুল হুফ্‌ফাজঃ পৃ – ৩/১৮৪; হেদায়াতুল মাসাইল ছিদ্দিক্ব হাসান খানঃ পৃ - ৫২৫)



কিন্তু মুহাদ্দিস ইবনে শাহীনের এ উক্তি নকল করার দ্বারা তাদের কী লাভ? তিনিও তো ৪র্থ শতাব্দীর শেষার্ধের লোক। তাঁর মৃত্যু ৩৮৫ হিজরীতে। আর চার ইমামের অনুসরণের ধারা তো এর অনেক পূর্বেকার। সুতরাং তাদের বক্তব্য অনুযায়ী তারাই ৪র্থ শতাব্দীর শেষার্ধে বিদ্‌য়া’তের সূচনাকারী দল। এ ছাড়া, ইবনে শাহীন তো কেবল মাত্র একজন বিশেষজ্ঞ আলিম ছিলেন। শরীয়তের সর্বক্ষেত্রে অনুসরণ যোগ্য হিসেবে মুসলিম উম্মাহ তাকে গ্রহণ করেননি। হাফেয যাহাবী (রহঃ) তাঁর অসংখ্য ভুল ত্রুটির এক বিরাট দাস্তান উল্লেখ করেছেন।



( তাযকিরাতুল হুফ্‌ফাজঃ পৃ – ৩/১৮৪ )

তিনি তো কোন সাহাবী ছিলেন না, তাবেয়ীও ছিলেন না। গাইরে মুক্বাল্লিদ্‌রা কি কোন সাহাবী বা তাবেয়ী অথবা হুজুর (সঃ) এর পবিত্র হাদীসে উল্লেখিত উত্তম যুগ তথা স্বর্ণযুগের কারও উপাধি মুহাম্মাদী প্রমাণ করতে পারবেন? সকল মুহাম্মাদী নামের ধব্জাধারীরা একত্রিত হয়েও যদি সক্ষম হবেন বলে মনে করেন তবে প্রমাণ করে দিন।






Monday, January 19, 2015

প্রশ্নোত্তরে মাযহাবের তাক্বলিদ (পর্ব ২)


♦♦যার যার মাযহাব সুন্দর ভাবে পালন করা উচিত ♦♦

যে যার যার মাযহাব অনুসরণ করবে।

—ইমাম মালেক

খলীফা আবু জাফর মানসুর আগ্রহ প্রকাশ করলেন যে, আমি চাই গোটা মুসলিম সম্রাজ্যে এক ইলমের (অর্থাৎ মুয়াত্তা মালিকের) অনুসারী হোক। আমি সকল এলাকার কাযী ও সেনাপ্রধানদের নিকট এ ব্যাপারে ফরমান জারি করতে চাই।

ইমাম মালিক (রহ.) বললেনঃ
[ইবনে সা'দের বর্ণনায়]

يا أمير المؤمنين ! لا تفعل هذا، فإن الناس قد سبقت إليهم أقاويل، وسمعوا أحاديث، ورووا روايات، وأخذ كل قوم بما سبق إليهم وعملوا.

অর্থাৎ "হে আমীরুল মু'মিনীন! এমনটি করবেন না। কেননা, লোকেরা সাহাবীগণের বক্তব্য শুনেছে, হাদীস শুনেছে, রেওয়ায়েত বর্ণনা করেছে এবং প্রত্যেক জনগোষ্ঠী তাই গ্রহণ করেছে, যা তাদের নিকট পৌঁছেছে এবং তদানুযায়ী আমল করেছে।"

[আততবাকাত ৪৪০]

খতীব বাগদাদীর বর্ণনায় আছে, ইমাম মালিক (রহ.) বললেন,

يا أمير المؤمنين ! إن إختلاف العلماء رحمة من الله تعالى هذه الأمة، يتبع ما صح عنده، وكل على هدى، وكل يريد الله تعالى.

অর্থাৎ "হে আমীরুল মু'মিনীন! নিঃসন্দেহে আলেমগণের মতপার্থক্য আল্লাহর পক্ষ থেকে এ উম্মতের জন্য রহমহত। প্রত্যেকে তাই অনুসরণ করে, যা তাদের নিকট সহীহ সাব্যস্ত হয়েছে, প্রত্যেকেই হেদায়াতের উপর প্রতিষ্ঠিত এবং প্রত্যেকেই আল্লাহর (সন্তুষ্টি) কামী।

[কাশফুল খাফা, আলআজলূনী ১/৫৭-৫৮; উকূদুল জুমান আসসালেহী ১১]



♦♦প্রশ্ন: হাদিস থাকতে মাযহাব কেন মানব?মাযহাব মানার উপকারিতা কি?


উত্তর:-
হাদিস সহিহ কিনা দ্বয়ীফ কোন হাদিসের কি ব্যাখ্যা তা রাসুল(সা) থেকে  সাহাবীগন শিখেছেন আর সাহাবীগন থেকে তাবেয়ী, আর তাবেয়ীগন থেকে তাবে-তাবেয়ীগন।আর তাদের থেকে সকল ইমাম,মুজতাহিদ,মুহাদ্দিসিনগন শিখেছেন।
সাহাবীগন হাদিস লিখেন নি আর তাবেয়ী ও তাবে-তাবেয়ীগন সেই সব হাদিস সংকলন করেছেন যদি মাযহাব (৪ মাযহাব তাবেয়ী ও তাবে-তাবেয়ীগন থেকে) এর তাক্বলিদ নাই করে কেউ তাহলে লা-মাযহাবী মুর্খরা এই হাদিস পেল কোথায় ???

তা ছাড়া হাদিসের মান নির্নয়ে মাযহাবের ভুমিকা অপরিহার্য।
যেমন এক হাদীসের ক্ষেত্রে একাধিক
বক্তব্য এসেছে। এক হাদীসকে একদল
মুহাদ্দিস
সহীহ বলেছেন, অপরদল তাকে হাসান
বলেছেন,
কেউবা জঈফ বলেছেন।
যেহেতু হাদীস সহীহ বা জঈফ হওয়ার কোন
দলীল কুরআন বা হাদীসে বর্ণিত নয়। এসবই
গবেষকদের গবেষণার সৃষ্টি। যদি কুরআন
বা হাদীসে কোন হাদীসকে সহীহ বা জঈফ
বলা হতো, তাহলে আমরা কিছুতেই
কারো গবেষণা মেনে হাদীসকে সহীহ বা জঈফ
মানতাম না। বরং সরাসরি কুরআন ও
হাদীসে বর্ণিত সহীহ এবং জঈফকেই
মেনে নিতাম। কিন্তু যেহেতু কুরআন ও
হাদীসে সহীহ বা জঈফের কথা উল্লেখ নেই,
তাই আমাদের মূলনীতি হল, যিনি কুরআন ও
হাদীসের শব্দের সাথ তার অন্তর্নিহিত অর্থ
সম্পর্কে সম্মক অবগত, সেই
সাথে যিনি আল্লাহর নবীর বলা শ্রেষ্ঠ যুগের
মুহাদ্দিস ফক্বীহ তার কথার
আলোকে হাদীসকে সহীহ ও জঈফ নির্ণিত
করবো।

তথা শ্রেষ্ঠ যুগের মুহাদ্দিস ফক্বীহ
যে হাদীসকে গবেষণা করে সহীহ সাব্যস্ত
করে আমলযোগ্য হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন,
তার
হাদীসকে সহীহ ধরে আমল করবো। আর
তিনি যে হাদীসকে জঈফ বা কোন কারণ
সংশ্লিষ্ট সাব্যস্ত করে বাদ দিয়েছেন,
আমরা উক্ত হাদীসকে আমলহীন ধরে আমল
করবো না।
শ্রেষ্ঠ যুগের পরের কোন মুহাদ্দিসের
গবেষণা মেনে হাদীস সহীহ বা জঈফ বলার
চেয়ে শ্রেষ্ঠ যুগের মুহাদ্দিস ফক্বীহের
গবেষণা মেনে হাদীসকে সহীহ বা জঈফ
বলা কি অধিক নিরাপদ নয়?
আরেকটি লক্ষ্যণীয় বিষয়
ইমাম আবু হানীফা রহঃ এর জন্ম ৮০ হিজরী।
মৃত্যু-১৫০ হিজরী।
ইমাম মালিক রহঃ এর জন্ম-৯৩ হিজরী।
মৃত্যু-১৭৯।
ইমাম শাফেয়ী রহঃ এর জন্ম-১৫০ হিজরী।
মৃত্যু-২০৪ হিজরী।
ইমাম আহমাদ বিন বিন হাম্বল রহঃ এর
জন্ম-১৬৪, মৃত্যু-২৪১ হিজরী।
ইমাম আবু ইউসুফ রহঃ এর জন্ম-১১৩
হিজরী এবং মৃত্যু-১৮২ হিজরী।
ইমাম মুহাম্মদ রহঃ এর জন্ম ১৩১
হিজরী এবং মৃত্যু-১৮৯ হিজরী।
বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ ইমাম মুহাম্মদ
রহঃ নাবালেগ থেকে বালিগ হওয়ার
সাথে সাথেই ইমাম আবু হানীফা রহঃ এর
শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন।

মুহাদ্দিসীনদের জন্ম ও মৃত্যু
মুহাম্মদ বিন ইসমাঈল বুখারী রহঃ এর
জন্ম-১৯৪ হিজরী এবং মৃত্যু ২৫৬ হিজরী।
মুসলিম বিন হাজ্জাজ ইমাম মুসলিম রহঃ এর
জন্ম ২০৪ হিজরী এবং মৃত্যু ২৬১ হিজরী।
মুহাম্মদ বিন ঈসা বিন সাওরা ইমাম
তিরমিজী জন্ম-২১০ হিজরী এবং মৃত্যু ২৭৯
হিজরী।
মুহাম্মদ বিন ইয়াজিদ ইমাম ইবনে মাজাহ এর
জন্ম-২০৯ হিজরী এবং মৃত্যু-২৭৩ হিজরী।
সুলাইমান বিন আসআস ইমাম আবু দাউদ রহঃ এর
জন্ম- ২০২ হিজরী এবং মৃত্যু-২৭৫ হিজরী।
আবু আব্দুর রহমান আহমদ ইমাম
নাসায়ী রহঃ এর
জন্ম ২১৫ হিজরী এবং মৃত্যু ৩০৩ হিজরী।
এই হল সিহাহ সিত্তার জন্ম ও মৃত্যুর সন।
লক্ষ্য
করুন যে,
ইমাম আবু হানীফা রহঃ এর মৃত্যুর ৪৪ বছর পর
জন্ম লাভ করেছে ইমাম বুখারী রহঃ।
ইমাম মুসলিম রহঃ এর জন্ম গ্রহণ করেছেন
৫৪
বছর পর।
ইমাম তিরমিজী রহঃ জন্ম গ্রহণ করেছেন ৬০
বছর পর।
ইমাম আবু দাউদ রহঃ জন্ম লাভ করেছেন ৫২
বছর পর।
ইমাম ইবনে মাজাহ রহঃ জন্ম গ্রহণ করেছেন
৫৯ বছর পর।
ইমাম নাসায়ী রহঃ জন্ম গ্রহণ করেছেন ৬৫
বছর পর।

ইলমে হাদীসের সাথে সম্পর্ক রাখেন এমন
একজন সাধারণ শিক্ষার্থীও জানেন যে,
হাদীস
সহীহ বা জঈফ হয় মৌলিকভাবে সনদের
দুর্বলতার কারণে। আরে অনেক কারণেও হয়,
তবে মূল কারণ সনদের দুর্বলতা। অর্থাৎ
সনদের
মাঝে দুর্বল রাবী থাকার কারণে সহীহ
হাদীসও জঈফ হয়ে যায়, এমনকি মুনকারও
হয়ে যায়। আর সনদের মাঝে রাবীগণ
শক্তিশালী থাকার কারণে হাদীস সহীহ
হয়ে থাকে।আমরা যদি ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করি যে,
ইমাম আবু হানীফা রহঃ যখন হাদীসের
আলোকে মাযহাব সংকলিত করেন, তখন
যে হাদীস সনদের শক্তিশালীত্বের
কারণে সহীহ ছিল, উক্ত হাদীসটি ৪০/৫০
বছর পরেও সহীহ থাকা শর্ত কি না? অবশ্যই
নয়। কারণ, একটি হাদীস যখন ইমাম আবু
হানীফা রহঃ দেখলেন, সে হাদীসটি তার
কাছে সহীহ, কারণ তার মাঝে এবং সাহাবীর
মাঝে একজন বা সর্বোচ্চ দুইজনের মাধ্যম
বিদ্যমান। সেই একজন বা দুইজনও শ্রেষ্ঠ যুগের
লোক। তাদের মাঝে হাদীস জঈফ হওয়ার কোন
কারণ বিদ্যমান হওয়া প্রায় অসম্ভব।


যেখানে ইমাম আবু হানীফা রহঃ নিজেই একজন
জাঁদরেল মুহাদ্দিস এবং জারাহ তাদীলের
ইমাম। সেখানে তিনি কোন সহীহ হাদীস
ছাড়া গ্রহণ করতেই পারেন না।
যেমনটি আমাদের গায়রে মুকাল্লিদরাও
অকপটে স্বীকার করে প্রচার করে বেড়ায় যে,
ইমাম আবু হানীফা রহঃ বলেছেন“যখন হাদীস
সহীহ হবে, তখন সেটাই আমার মাযহাব”।
তাই তিনি হাদীসের ভিত্তিতে যেসব
মাসআলা বলেছেন, তার সব ক’টিই ছিল সহীহ
হাদীস। যেহেতু তার এবং রাসূল সাঃ এর
মাঝে মাধ্যম ছিল দুই বা একজন। তাই সনদের
মাঝে দুর্বলতা আসা ছিল খুবই দূরের কথা।
কিন্তু উক্ত হাদীসটি, যেটাকে ইমাম আবু
হানীফা রহঃ সনদ শক্তিশালী হওয়ার
কারণে সহীহ হিসেবে মত দিয়ে তার
মাঝে নিহিত মাসআলাকে সহীহ সাব্যস্ত
করেছেন, ঠিক সেই হাদীসটিই ৪০/৫০ বছর
পর সনদের দুর্বলতার কারণে পরবর্তীদের
কাছে যেতে পারে।
কারণ ইমাম আবু হানীফা রহঃ এর
কাছে যে হাদীস সহীহ হিসেবে এল সনদ
শক্তিশালী হওয়ার দ্বারা উক্ত
হাদীসটি যদি পরবর্তীতে কোন দুর্বল
রাবী বর্ণনা করে, তাহলে উক্ত হাদীসটি উক্ত
দুর্বল ব্যক্তির বর্ণনার কারণে যার
কাছে বর্ণনা করল, তার কাছে উক্ত
হয়ে যাচ্ছে দুর্বল তথা জঈফ।

 কিন্তু সে হাদীস
কিন্তু ইমাম আবু হানীফা রহঃ এর জমানায়
সহীহই ছিল। সেটি জঈফ
হয়েছে পরবর্তীতে এসে। তাহলে সহীহ
থাকা অবস্থায় উক্ত হাদীসের
ভিত্তিতে যেহেতু ইমাম আবু
হানীফা রহঃ স্বীয় মাযহাব দাঁড়
করিয়ে ফেলেছেন, তাই ৪০/৫০ বছর পরের
কোন মুহাক্কিকের কাছে জঈফ সুত্রে পৌঁছার
কারণে জঈফ মনে হলেও আবু হানীফা রহঃ এর
মাযহাব কিন্তু জঈফ হাদীস নির্ভর
হয়ে যাচ্ছে না।
আরো সহজভাবে বুঝুন! ইমাম আবু
হানীফা রহঃ তাবেয়ী হিসেবে চার জন
সাহাবী থেকে সরাসরি হাদীস পেয়েছেন।
যথা-
হযরত আব্দুল্লাহ বিন উনাইস রাঃ থেকে।
হযরত আব্দুল্লাহ বিন আবী আওফা রাঃ থেকে।
হযরত আব্দুল্লাহ বিন হারেস রাঃ থেকে।
হযরত আনাস বিন মালিক রাঃ থেকে।
এখন বলুন, এ চারজন থেকে পাওয়া হাদীস
বা সুন্নতে নববীতে কোন জুউফ
তথা দুর্বলতা পাওয়ার সুযোগ আছে?
তাহলে তাদের বক্তব্যের আলোকে তিনি যেসব
মাসআলা তার ফিক্বহে হানাফীতে সংকলিত
করেছেন, তা জঈফ হাদীস নির্ভর হয় কি করে?
তবে উক্ত হাদীসগুলোই পরবর্তীতে কোন দুর্বল
হাদীস বর্ণনাকারী বলার কারণে দুর্বল হতেই
পারে। বিশেষ করে যেখানে ৪০
থেকে ৬০/৭০ বছরের পর।

সুতরাং হানাফী মাযহাবের যেসকল
মাসআলা হাদীস নির্ভর। কিন্তু সহীহ
হাদীসের উপর নির্ভর করে মাসআলা সংকলিত
হওয়ার পর পরবর্তী কোন হাদীস সংকলকের
কাছে আসার পর পরবর্তী কোন রাবীর
দুর্বলতার কারণে হাদীসটি জঈফ হয়ে গেলেও
হানাফী মাযহাবকে দুর্বল হাদীস সম্বলিত
বলে এড়িয়ে যাওয়াটা হবে অযৌক্তিক
এবং বিবেকশূণ্য মতামত।
তবে কোন মুজতাহিদ এর
বিরোধিতা করে ভিন্নমত পোষণ করতে পারেন
তার ইজতিহাদী যোগ্যতার কারণে।
যেমনটি ইমাম শাফেয়ী, ইমাম মালিক ও ইমাম
আহমাদ বিন হাম্বল রহঃ প্রমূখগণ করেছেন।
কোন ইজতিহাদের যোগ্যতা নেই এমন কোন
সাধারণ মুসলমানের কোন অধিকার নেই, মনমত
একটি মতকে পরবর্তী মুহাদ্দিসের বক্তব্যের
আলোকে একটি প্রাধান্য দিয়ে দেয়া। আর
মুহাদ্দিস ফক্বীহ ইমামের মতকে ভুল
বলে আখ্যায়িত করা। এরকম আচরণ চরম
ধৃষ্টতা বৈ কিছু নয়।


মুজতাহিদ ভুল করলেও একটি সওয়াব
ﻋَﻦْ ﻋَﻤْﺮِﻭ ﺑْﻦِ ﺍﻟْﻌَﺎﺹِ ﻗَﺎﻝَ ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ
ﺍﻟﻠَّﻪِ -ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ « – ﺇِﺫَﺍ ﺣَﻜَﻢَ
ﺍﻟْﺤَﺎﻛِﻢُ ﻓَﺎﺟْﺘَﻬَﺪَ ﻓَﺄَﺻَﺎﺏَ ﻓَﻠَﻪُ ﺃَﺟْﺮَﺍﻥِ ﻭَﺇِﺫَﺍ
ﺣَﻜَﻢَ ﻓَﺎﺟْﺘَﻬَﺪَ ﻓَﺄَﺧْﻄَﺄَ ﻓَﻠَﻪُ ﺃَﺟْﺮٌ
হযরত আমর বিন আস রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল
সাঃ ইরশাদ করেছেনঃ যখন কোন বিশেষজ্ঞ
হুকুম বলতে গিয়ে ইজতিহাদ করে, আর তার
ইজতিহাদ সঠিক হয়, তাহলে তার জন্য
রয়েছে দু’টি সওয়াব। আর যদি ইজতিহাদে ভুল
হয়, তাহলে তার জন্য রয়েছে একটি সওয়াব।
{সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৬৯১৯, সহীহ
মুসলিম, হাদীস নং-৪৫৮৪, সুনানে আবু দাউদ,
হাদীস নং-৩৫৭৬}
মুজতাহিদের অনুসারী মুকাল্লিদের কোন
চিন্তার কারণ নেই। অতিরিক্ত পন্ডিতিরও
কোন দরকার নেই। কারণ রাসূল
সাঃ ঘোষণা অনুযায়ী মুজতাহিদের
যদি মাসআলা বলতে ভুলও হয়, তাহলেও
তিনি একটি নেকি পাচ্ছেন। আর সঠিক
হলে দুইটি নেকি পাবেন।
তাই মুজতাহিদের ইজতিহাদকৃত মাসআলায় চলার
দ্বারা সওয়াব পাওয়া নিশ্চিত।

মাযহাব বার বার পরিবর্তন করে কেউ যেন মাসআলা নিয়ে বিভ্রান্ত না হয় সেজন্যই ইবনে তাইমিয়া বলেনঃ “লাগামহীনভাবে যে মাযহাবযখন মনে চায়, সেটাকে মানা সুষ্পষ্ট হারাম
ও অবৈধ। {ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়া-২/২৪১}

উম্মতের ইজমা হয়ে গেছে যে, এ ৪র্থ
শতাব্দির পর থেকে লাগামহীনভাবে যখন
যে মাযহাব ইচ্ছে সে মাযহাব
মানা যাবে না। সুনির্দিষ্টভাবে
একটি মাযহাবকে মানতে হবে।
{আলইনসাফ-৫২, ৫৭-৫৯, মাদারে হক-৩৪১,
ইন্তিসারুল হক বজওয়াবে মিয়ারে হক-১৫৩,
আলমুআফাকাত-৪/১৪৬, আলমাজমূহ শরহুল
মুহাজ্জাব-১/৯১}



♦♦কথিত আহলে হাদীস ও নামধারী জামাতে ইসলাম ও লা-মাযহাবী  ফিতনাবাজদের ২০টি ওয়াসওয়াসার জবাব:-

প্রশ্ন-১
আবু হানিফার উস্তাদ হাম্মাদ কোন মাযহাব
মানতেন?
ইলজামী জবাব==
ইমাম বুখারী বুখারী সংকলনের আগে মানুষ
সহীহ হাদীস কোথা থেকে দেখে আমল করত?
ইমাম বুখারীর উস্তাদ মক্কী বিন ইবরাহীম
কোন সহীহ কিতাবের হাদীস মানতেন?
প্রশ্ন নং-২
হাম্মাদের উস্তাদ ইবরাহিম নাখয়ি কোন
মাযহাব মানতেন?
ইলজামী জবাব==
ইমাম বুখারী বুখারী সংকলনের আগে মানুষ
সহীহ হাদীস কোথা থেকে দেখে আমল করত?
মক্কী বিন ইবরাহীমের উস্তাদ ইবনে জুরাইজ
কোন সহীহ কিতাবের হাদীস মানতেন?
প্রশ্ন নং-৩
আবু হানিফারর ছাত্ররা কেন তার ফতোয়ার ৩
ভাগের ২ ভাগের বিরোধতা করলেন?
ইলজামী জবাব==
ইমাম বুখারীর ছাত্র ইমাম তিরমিজী কেন
ইমাম বুখারীর সহীহকে অনেক ক্ষেত্রেই তরক
করে দিয়ে অন্য হাদীস গ্রহণ করেছেন?
প্রথম কথা হল, তাহলে বুঝা যায়
হানাফী মাযহাবের
আলেমরা বা মানুষরা ইমাম আবু
হানিফাকে অন্ধ অনুসরন করে না।
তো আপনি কি বলতে চাচ্ছেন কেন অন্ধ অনুসরন
করে নি ?


প্রশ্ন নং-৪
আবু ইউসুফ ও মুহামমাদের মাঝে দুশমনি শুরু হয়
কেন?
ইলজামী জবাব==
হযরত মুয়াবিয়া রা. ও হযরত আয়েশা রা. এর
সাথে হযরত আলী রা. এর দুশমনি শুরু হল কেন ?
এখন কে ভ্রান্ত এবং জাহান্নামী ?
প্রশ্ন নং-৫
ইসা আ. কোন মাযহাব মানবেন?
তিনি নাকি ইজতেহাদ করবেন। নবি রাসুলরাও
আবার ইজতেহাদ করেন? তবে ওহি আসার
দরকার কি ছিল?
ইলজামী জবাব==
ঈসা আ. কোন হাদীসের কিতাব মানবেন?
সিহাহ সিত্তা নাকি অন্য কিতাব? সহীহ
হাদীস মানবেন নাকি হাসান হাদীস?
নাকি তিনি নিজেই হাদীসের
পরিভাষা প্রণয়ন করবেন? নবী রাসূলরাও
কি সহীহ হাসান, জঈফ
ইত্যাদি শব্দে হাদীসের
বিভক্তি করে থাকেন?
হাদীসের যে বলা হলেছে ইজতেহাদের ভুল
হলে এক সওয়াব – তা বলা হয়েছে কেন ?
নবী স. কি উম্মতের
সাথে মসকরা করে গেছেন?
প্রশ্ন নং-৬
মুসলিম খলীফা কোন মাযহাব হতে নির্বাচিত
হবেন?
ইলজামী জবাব==
মুসলিম খলীফারা কার পরিভাষা মেনে হাদীস
সহীহ জঈফ হিসেবে আমল করবেন? ইমাম
বুখারীর না ইমাম মুসলিম নাকি অন্য কারো?
পূর্ববর্তী মুসলিম খলিফারা কার
বানানো সহীহ জঈফ পরিভাষার অনুসরন
করতেন?


প্রশ্ন নং-৭
ইতিহাসে ২১ জন আবু হানিফা পাওয়া যায়।
কোন আবু হানিফা হানাফি মাযহাব বানালেন?
ইলজামী জবাব==
ইতিহাসে অসংখ্য মুহাম্মদ বিন ইসমাইল
পাওয়া যায়, কার নামে বুখারী শরীফ
বানানো হল?
প্রশ্ন নং-৮
হানাফি মাযহাব ঠিক হলে পরে আরো কোন
মাযহাব আসলো?
ইলজামী জবাব==
প্রতি কিরাতই সঠিক হলে, সাত কিরাতে কুরআন
নাজিল হল কেন? ইমাম বুখারীর সহীহ এর
সংজ্ঞা সঠিক হলে পরবর্তীতে তার
ছাত্ররা নতুন করে সহীহের সংজ্ঞা বানালেন
কেন?
প্রশ্ন নং-৯
হানাফি ফেকার কিতাব যেমন : হেদায়া,
শরহে বেকায়া ইতা্যাদি কিতাবগুলিতে মাযহাব
মানা ফরজ/ নফল/ সুন্নাত / ওয়াজিব /
মুস্তিহাব — এর পক্ষ্যে কোন দলীল নেই কেন?
ইলজামী জবাব==
বুখারী শরীফকে সহীহ হাদীসের গ্রন্থ
মানতে হবে একথা কুরআন ও সহীহ হাদীসের
কোথাও নেই কেন?
প্রশ্ন নং-১০.
সাধারণ জনতা তাকলীদ করবে কারন সে হক ও
বাতিল বুঝে না।
তবে সে কিভাবে বুঝবে হানাফি মাযহাবই
ঠিক? সে কিভাবে দেওবন্দি, ব্রেলভি ও
হাজার হাজার পীরের মধ্য
হতে হককে বেছে নিবে? ।
ইলজামী জবাব==
লক্ষ লক্ষ জাল হাদীস পৃথিবীতে বিদ্যমান।
তাহলে এই সকল জাল হাদীস থেকে সহীহ
হাদীসগুলো কিভাবে বেছে নিবে সাধারণ
মানুষ?



প্রশ্ন নং-১১
দলীল সহ জানার জন্য কেন আদেশ করা হল
তাকলিদ যদি করাই সঠিক হতো?
ইলজামী জবাব==
দলীলসহই যদি সবার দ্বীন মানার আদেশ
হয়ে থাকে, তাহলে সূরা ফাতিহাতে কেন
নিয়ামতপ্রাপ্ত বান্দাদের অনুসরনের
কথা বলা হয়েছে দলীলের কথা উল্লেখ
না করেই?
কুরআন ও হাদীসের আলোকে জানাবেন আশা করি
প্রশ্ন নং-১২
দুজন আলেমদের মধ্যে মতবিরোধ
হওয়া এবং তাদের নামে মাজহাব
বানানো কি এক বিষয় কিনা?
ইলজামী জবাব==
আলেমের মতভেদ আর মুজতাহিদের মতভেদ এক
বস্তু নয়। এমন সাধারণ কথাও
যিনি বুঝতে পারেন না তিনি এমন
জ্ঞানী সাজার অপচেষ্টা কেন করছেন আমাদের
বুঝে আসে না।
আলেমের মতভেদ আর মুজতাহিদের মতভেদকে এক
পাল্লায় মাপা আর দুই ডাক্তারের মতভেদ আর
দুই শিশুর মতভেদকে এক পাল্লায় মাপার মতই
আহমকী বৈ কিছু নয়। আগে সাধারণ
ডিগ্রিধারী আলেম আর মুজতাহিদের
সংজ্ঞাটি শিখে নিন। তারপর এ উদ্ভট কিয়াস
করতে আসুন।
প্রশ্ন নং-১৩
যদি এক বিষয় হয়, তবে সাহাবীগণও
তো ইখতিলাফ (মতবিরোধ) করেছেন। তাদের
নামে কেন মাজহাব হলো না?
ইলজামী জবাব==
সহীহ নামের
কিতাবতো ইবনে খুজাইমা রহঃ এবং ইবনে হিব্বান
রহঃ এবং মুস্তাদরাক সংকলকও করেছেন, কিন্তু
তাদের কিতাব কেন সিহাহ সিত্তায় শামিল
হলো না?
হাদীসের সকংলকনতো সাহাবাগণও করেছেন,
তাহলে তাদের সংকলিত গ্রন্থকে কেন সিহাহ
সিত্তায় শামিল করা হয়নি?



প্রশ্ন নং-১৪
আর যদি এক বিষয় না হয় তবে আলেমদের
মতভেদকে কেন্দ্র করে ৪ মাজহাব
বানানোটা কি ভুল নয়? ৪। যদি ভুল হয়
তবে সেটা স্বীকারনা করা কি শয়তানের
লক্ষণ নয়?
ইলজামী জবাব==
আলেমদের মতভেদকে কেন্দ্র করে হাদীসের
খন্ড খন্ড করে, সহীহ লিগাইরিহী, সহীহ
লিজাতিহী, হাসান লিজাতিহী, হাসান
লিগাইরিহী,
ইত্যাদি নামে হাদীসকে দ্বিখন্ডিত
করা কিভাবে জায়েজ হয়েছে?
হাদীসের কিতাবকে বিভক্ত করে সিহাহ
সিত্তা বলে অসংখ্য সহীহ
হাদীসওয়ালা অন্যান্য কিতাবের সাথে কেন
এমন বিমাতাসূলভ আচরণ করা হলো? হাদীসের
মাঝে এমন বিভক্তি করতে কোন সহীহ
হাদীসে নির্দেশ এসেছে?
১২৪৬হিজরীর সৃষ্ট বিদআতি মাযহাব কথিত
আহলে হাদীসী মাযহাবে ভন্ডামীপূর্ণ
মতাদর্শী অনুসারীদের ভন্ডামী প্রকাশিত
হওয়ার পরও নিজেদের ভুল স্বীকার
না করা কি শয়তানী কর্ম নয়?


প্রশ্ন নং-১৫
মাজহাবীরা বলে থাকে জানা না থাকলে আলেমদের
জিজ্ঞেস করতে হবে। কোন আলেমকে কোন
ফাতওয়া জিজ্ঞেস করা মানেই কি এই
যে সে আলেমের নামে মাজহাব
বানিয়ে তাতে প্রবেশ করা কি এক বিষয়?
ইলজামী জবাব==
আপনি আগে ডিগ্রিধারী আলেম্ ও মুজতাহিদ
শব্দের তাহকীকটি শিখে আসুন।
তাহলে বুঝতে পারবেন আপনার
প্রশ্নটি একটি আহমকী ও অজ্ঞতাসূচক প্রশ্ন।
মুজতাহিদের অনুসরণকে সাধারণ আলেমের
অনুসরণের কিয়াস করা কুরআনের কোন আয়াত
বা হাদীস দ্বারা প্রমানিত?
জাহিলীপূর্ণ প্রশ্ন এটি। মুজতাহিদ ও
গায়রে মুজতাহিদের পার্থক্যও
যিনি বুঝতে সক্ষম নয় তিনি এসেছেন জ্ঞান
ঝাড়তে। মুজতাহিদ
গবেষণা করে ফাতওয়া দিবেন। আর সেই
ফাতাওয়া জেনে সাধারণ আলেম অজ্ঞ সাধারণ
মুসলিমদের জানাবে।
দুটি ভিন্ন বস্তকে গুলিয়ে ফেলা আহমকের কাজ।
প্রশ্ন নং-১৬
যদি কিছু আলেম কোন ভুল সিদ্ধান্ত নেয়,
তারপরেও কি আপনি সেই আলেমদের ভুল
সিদ্ধান্তের অনুসরণ করে যাবেন?
উত্তর
আলেম আর মুজতাহিদ এক বস্তু নয়। মুজতাহিদের
ভুলেও একটি সওয়াব নিহিত। ভুল করেছেন
কি না? সেটি বুঝতে পারবে আরেকজন
মুজতাহিদ। যেমন ডাক্তারের প্রেশক্রিপশনের
ভুল বুঝেতে পারবে আরেকজন ডাক্তার। মুচি নয়।
মুজতাহিদ ভুল করেছেন কিনা? সেটি আপনার
মত জাহিল অন্য ভাষায় মুচি ডাক্তারের ভুল
ধরবে কিভাবে?


প্রশ্ন নং-১৭
আল্লাহ তো আমাদের ভালো মন্দের জ্ঞান
দিয়েছেন। আপনি যদি সেটা ব্যবহার
না করেন, তবে নিজের এই ভুলের জন্য কি জবাব
দিবেন?
ইলজামী জবাব==
আমাদের প্রশ্নতো সেটাই। কুরআন ও সহীহ
হাদীসের অনুসরণের দাওয়াত দিচ্ছেন,
মুজতাহিদের অনুসরণকে শিরক বলছেন। অথচ
কুরআন ও সহীহ হাদীস দিয়ে দুই রাকাত নামায
দেখাতে পারেন না কারো কারো না অন্ধ
তাকলীদ করে। চোখে আঙ্গুল দিয়ে বারবার
ভুলগুলো ধরিয়ে দেবার পরও
গোড়ামী যে অহর্নিশি করে যাচ্ছেন এর
কি জবাব দিবেন হাশরের ময়দানে?
প্রশ্ন নং-১৮
আবু তালেব অন্ধভাবে তার পূর্ব পুরুষদের
আকড়ে ধরেছিলেন। আপনিও কি সেই একই ভুল
করবেন?
ইলজামী জবাব==
একই প্রশ্ন আপনাদের জন্য। অন্ধভাবে পূর্ব পুরুষ
আব্দুল হক বানারসী, মুহাম্মদ হুসাইন
বাটালবী, মিয়া নজীর আহমাদ, নওয়াব
সিদ্দিক হাসান খান, নাসীরুদ্দীন
আলবানী প্রমুখ পূর্ব পুরুষদের বিদআতি মতবাদ
আঁকড়ে ধরে থাকবেন, নাকি বিবেকটাও একটু
খাটাবেন?


প্রশ্ন নং-১৯
সূরা রুমের
৩১-৩২নং আয়াতে যারা দ্বীনকে বিভক্তকরে (আলেমরা)
এবং যারা দলে দলে বিভক্ত হয়(আলেমদের
ফাতওয়ার অনুসারীরা)তাদের সবাইকে মহান
আল্লাহ”””মুশরিক””” বলে ফাতওয়া দিয়েছেন।
আপনারা ৪ মাজহাবের ১টায় প্রবেশ
করে বিভক্ত হয়ে সেই মুশরিকের খাতায়
যে নাম লেখাননি তার কোন প্রমাণ কি আপনার
নিকট আছে?
ইলজামী জবাব==
এই উপমহাদেশে কোন ধর্মী’য় বিভক্তি ছিল
না। ১২৪৬ হিজরী থেকে নতুন
বিদআতি মাযহাব আব্দুল হক বানারসীর
মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত করে মুসলিমের
মাঝে যে অনৈক্য আর বিভক্তির নোংরা খেলায়
মেতেছেন আপনারা এর জন্য কুরআনের
আয়াতটিকে আপনাদের একবারও মনে পড়ছে না।
নিজের দলীলেইতো নিজে মুশরিক
হয়ে যাচ্ছেন।
এই শিরক থেকে খাটি ঈমান কি আপনাদের
কখনোই নসীব হবে না? নাকি আল্লাহ
অন্তরে মোহর মেরে দিয়েছেন? এভাবে দ্বন্দ
আর বিভক্তির ভয়ানক খেলায়
মেতে আপনারা যে মুশরিকের খাতায় নাম
লেখাননি এর কোন প্রমাণ কি আপনাদের
কাছে আছে?
প্রশ্ন নং-২০
সূরা আনআম এর
১৫৯নং আয়াতে বলা হয়েছে যারাদ্বীনকে বিভক্ত
করে ও দলে দলে ভাগ হয়, তাদের
সাথে নাবী সাঃ এর কোন”””সম্পর্ক”””নেই।
বিভক্তির ফাতওয়া মেনে দলে দলে ভাগ
হওয়ার পরেও কি আপনি এই দাবী করতে পারেন
যে আপনার সাথে নাবী সাঃ এর কোন সম্পর্ক
আছে?
ইলজামী জবাব==
শুব্বানে আহলে হাদীস।
আহলে হাদীস আন্দোলন বাংলাদেশ।
জমিয়তে আহলে হাদীস বাংলাদেশ।
গুরাবায়ে আহলে হাদীস।
আহলে হাদীস যুব আন্দোলন
ইত্যাদি নামে মুসলমানদের দলে দলে ভাগ
করার পরও আপনি কি দাবি করতে পারেন যে,
আপনাদের সাথে রাসূল সাঃ এর কোন সম্পর্ক
আছে?







প্রশ্নোত্তরে মাযহাবের তাক্বলিদ (পর্ব ১)


♦♦প্রশ্ন :- এক মাযহাব থেকে অন্য মাযহাবে স্থানান্তর: একটি বিশ্লেষণাত্মক পর্যালোচনা

উত্তর:-

শায়খ আওয়ামাহ
আসারুল হাদীসিশ শরীফ… নামক কিতাবে লিখেছেন-
ﺇﻥ ﻫﺬﺍ ﺍﻟﺘﻨﻘﻞ ﻣﻦ ﺍﻟﻤﺬﻫﺐ ﺍﻟﺤﻨﻔﻲ ﺇﻟﻲ
ﺍﻟﻤﺬﻫﺐ ﺍﻟﺸﺎﻓﻌﻲ ﻓﻲ ﻫﺬﻩ ﺍﻟﻤﺴﺄﻟﺔ ،
ﻳﺠﺮ ﺇﻟﻲ ﺍﻟﺘﻨﻘﻞ ﻓﻲ ﻏﻴﺮﻫﺎ ﺇﻟﻲ ﺍﻟﻤﺬﻫﺐ
ﺍﻟﻤﺎﻟﻜﻲ ﻣﺜﻼ، ﻭ ﺇﻟﻲ ﺍﻟﺘﻨﻘﻞ ﺇﻟﻲ ﺍﻟﻤﺬﻫﺐ
ﺍﻟﺤﻨﺒﻠﻲ ﻓﻲ ﻣﺴﺄﻟﺔ ﺃﺧﺮﻱ. ﻭ ﻫﻜﺬﺍ ﺗﻌﻮﺩ
ﺍﻟﺴﻠﺴﻠﺔ ﺇﻟﻲ ﺃﻭﻟﻬﺎ ﻓﻲ ﻣﺴﺄﻟﺔ ﺭﺍﺑﻌﺔ، ﺃﻭ
ﺇﻟﻲ ﻣﺬﺍﻫﺐ ﺃﺧﺮﻱ ﻣﻨﺪﺭﺳﺔ ﻏﻴﺮ
ﺍﻟﻤﺬﺍﻫﺐ ﺍﻷﺭﺑﻌﺔ

কোন একটি মাসআলায় ইমাম আবু হানীফা (রহঃ) এর
মাযহাব থেকে ইমাম শাফেয়ী (রহঃ) এর
মাযহাবে স্থানান্তর, এ ব্যক্তিকে অন্য
একটি মাসআলায় উদাহরণ স্বরূপ ইমাম মালেক
(রহঃ) এর মাযহাবে স্থানান্তরের প্রতি উদ্বুদ্ধ
করবে, কখনও অন্য মাসআলায় ইমাম আহমাদ বিন
হাম্বল (রহঃ) এর মাযহাবে স্থানান্তর করবে।
একইভাবে চতুর্থ কোন মাসআলায়
সে চক্রাকারে প্রথম মাযহাব অথবা অন্য কোন
ইমামের মাযহাব অনুসরণ করবে।
এভাবে তার ক্রমাগমন শুধু চার মাযহাবে সীমাবদ্ধ
থাকবে না। শায়খ আওয়ামাহ বলেন-

ﻳﺆﻭﻝ ﺑﻪ ﺍﻷﻣﺮ ﺇﻟﻲ ﺃﻥ ﻳﺠﺘﻬﺪ ﻟﻨﻔﺴﻪ
ﺍﻟﺨﺮﻭﺝ ﻋﻦ ﺍﻟﻤﺬﺍﻫﺐ ﺍﻷﺭﺑﻌﺔ…… ﻭ ﻋﻦ
ﺍﻷﺭﺑﻌﻴﻦ…

পরিশেষে এ ব্যক্তি শুধু চার মাযহাব থেকেই বের
হওয়াকে পছন্দ করবে না বরং সে এধরণের চল্লিশ
মাযহাব থেকে বের হয়ে যাবে।
হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযীয (রহঃ) বলেন-

ﻣﻦ ﺟﻌﻞ ﺩﻳﻨﻪ ﻏﺮﺿﺎ ﻟﻠﺨﺼﻮﻣﺔ ﻛﺜﺮ ﺗﻨﻘﻠﻪ

যে ব্যক্তি নিজের দ্বীনকে তর্ক-বিতর্কের
লক্ষ্যবস্তু বানায় তার স্থানান্তর ও অভিবাসন
বৃদ্ধি পায়।

যে ব্যক্তি মনে করে যে, ইমামদের অনুসরণ ব্যতীত
শুধু দলিলের অনুরসণ করবে, তবে সে এমন মতামতের
অবতারনা করবে যা ইতোপূর্বে কেউ করেনি; অথচ
সে নিজেকে নাসিরুস সুন্নাহ (সুন্নতের সাহায্যকারী)
মনে করে বসে আছে। দলিলের অনুসরণের
নামে মূলতঃ সে তার প্রবৃত্তিকে দলিল হিসেবে গ্রহণ
করেছে। প্রবৃত্তিপূজা মানুষের মাঝে তখন
এমনভাবে জেঁকে বসে যে, সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ) এর
প্রতি বিষোদগার করতেও কুণ্ঠা বোধ করে না।

ইমাম মালেক (রহঃ) বলেন-

ﺳﻠﻤﻮﺍ ﻟﻸﻳﻤﺔ ﻭ ﻻ ﺗﺠﺎﺩﻟﻮﻫﻢ، ﻓﻠﻮ ﻛﻨﺎ ﻛﻠﻤﺎ
ﺟﺎﺀﻧﺎ ﺭﺟﻞ ﺃﺟﺪﻝ ﻣﻦ ﺭﺟﻞ ﺇﺗﺒﻌﻨﺎﻩ: ﻟﺨﻔﻨﺎ
ﺃﻥ ﻧﻘﻊ ﻓﻲ ﺭﺩ ﻣﺎ ﺟﺎﺀ ﺑﻪ ﺟﺒﺮﻳﻞ ﻋﻠﻴﻪ
ﺍﻟﺴﻼﻡ

তোমরা ইমামদের আনুগত্য করো এবং তাদের
সাথে বিতর্কে লিপ্ত হয়ো না। আমাদের
কর্মপন্থা যদি এই হত যে, যখনই আমাদের নিকট
শক্তিশালী কোন যুক্তিবিদ আগমন করতো আর
আমরা তার অনুসরণ করতাম, তবে আশঙ্কা করি যে,
আমরা হযরত জিবরীল (আঃ) এর আনীত বিষয়েরও
বিরোধীতায় লিপ্ত হয়ে পড়ব।
আল্লামা ইবনে আব্দুল বার (রহঃ) আল-
ইন্তেকা নামক কিতাবে হযরত ইমাম মালেক (রহঃ)
এর ঘটনা উল্লেখ করেছেন। ইমাম মালেক (রহঃ) এর
ছাত্র মায়ান বিন ঈসা (রহঃ) বলেন- একদা আবুল
জুয়াইরিয়া নামক এক ব্যক্তি ইমাম মালেক (রহঃ)
এর নিকট মসজিদে নববীতে আগমন করল। এ
লোকটি মুরজিয়া হওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত ছিল।

সে এসে ইমাম মালেক (রহঃ) কে বলল-

ﻳﺎ ﺃﺑﺎ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ! ﺇﺳﻤﻊ ﻣﻨﻲ ﺷﻴﺌﺎ ، ﺃﻛﻠﻤﻚ
ﺑﻪ ﻭ ﺃﺣﺎﺟﻚ ﻭ ﺃﺧﺒﺮﻙ ﺑﺮﺃﻱ. ﻗﺎﻝ ﻣﺎﻟﻚ:
ﻓﺈﻥ ﻏﻠﺒﺘﻨﻲ؟ ﻗﺎﻝ: ﺍﺗﺒﻌﺘﻨﻲ. ﻗﺎﻝ ﻣﺎﻟﻚ:
ﻓﺈﻥ ﻏﻠﺒﺘﻚ ؟ ﻗﺎﻝ: ﺇﺗﺒﻌﺘﻚ، ﻗﺎﻝ: ﻓﺈﻥ
ﺟﺎﺀﻧﺎ ﺭﺟﻞ ﻓﻜﻠﻤﻨﺎﻩ ﻓﻐﻠﺒﻨﺎ؟ ﻗﺎﻝ : ﺗﺒﻌﻨﺎﻩ .
ﻗﺎﻝ ﺃﺑﻮ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﻣﺎﻟﻚ :
ﺑﻌﺚ ﺍﻟﻠﻪ ﻣﺤﻤﺪﺍ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ
ﺑﺪﻳﻦ ﻭﺍﺣﺪ، ﻭ ﺃﺭﺍﻙ ﺗﻨﻘﻞ، ﻗﺎﻝ ﻋﻤﺮ ﺑﻦ
ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻌﺰﻳﺰ: ﻣﻦ ﺟﻌﻞ ﺩﻳﻨﻪ ﻋﺮﺿﺔ
ﻟﻠﺨﺼﻮﻣﺎﺕ ﺃﻛﺜﺮ ﺍﻟﺘﻨﻘﻞ

“হে আবু আব্দুল্লাহ! আমার কথা শ্রবণ করুন,
আমি আপনার সাথে আলোচনা করব, বিতর্ক করব
এবং আমার মতামত উল্লেখ করব। ইমাম মালেক
(রহঃ) তাকে বললেন-যদি তুমি আমার উপর
বিজয়ী হয়ে যাও? সে বলল- আপনি আমার অনুসরণ
করবেন। ইমাম মালেক (রহঃ) পুনরায় জিজ্ঞেস
করলেন-যদি আমি তোমার উপর বিজয়ী হই?
সে বলল- আমি আপনার অনুসরণ করব। ইমাম মালেক
বললেন- আমাদের নিকট যদি তৃতীয় কোন
ব্যক্তি আসে এবং আমরা তার সাথে বিতর্ক
করি এবং সে আমাদের উপর বিজয়ী হয়? সে বলল-
আমরা তার অনুসরণ করব। ইমাম মালেক
তাকে বললেন- আল্লাহ তায়ালা হযরত মুহাম্মাদ
(সঃ) কে একই ধর্ম দিয়ে প্রেরণ করেছেন।
আমি তোমাকে দেখছি-এদিক সেদিক ছুঁটাছুঁটি করছ!
হযরত উমর বিন আব্দুল আযীয (রহঃ) বলেন-
যে ব্যক্তি তার দ্বীনকে বিতর্কের লক্ষ্যবস্তু
বানায়, তার ছুঁটাছুঁটি বৃদ্ধি পায়”
বর্তমানে এধরণের ছুঁটাছুঁটিকে যারা নিজেদের আদর্শ
হিসেবে গ্রহণ করেছে এবং সুন্নাহ অনুসরণের
নামে মুসলিম উম্মাাহকে ধোঁকা দিচ্ছে, তাদের
বাস্তবতা অনুসন্ধান করলে এর ব্যতিক্রম
পরিলক্ষিত হবে না। এদের মূল শ্লোগান দলিলের
অনুসরণ হলেও, তাদের কাছে উলামায়ে কেরামের
বিচ্যুতি, একক মতামত ও বিরল বক্তব্য গুলোই
গ্রহণযোগ্য ও পছন্দনীয়। তাদের কাছে প্রকৃত
দলিল সেটিই যা বর্জনীয় হওয়ার ব্যাপারে সকলেই
একমত।

ইমাম আওযায়ী (রহঃ) বলেন-

ﻣﻦ ﺃﺧﺬ ﺑﻨﻮﺍﺩﺭ ﺍﻟﻌﻠﻤﺎﺀ ﺧﺮﺝ ﻣﻦ ﺍﻹﺳﻼﻡ

যে ব্যক্তি উলামায়ে কেরামের বিরল
বক্তব্যগুলো গ্রহণ করবে, সে ইসলাম থেকে বের
হয়ে যাবে।

সুলাইমান আত-তাইমী (রহঃ) বলেন-

ﻟﻮ ﺃﺧﺬﺕ ﺑﺮﺧﺼﺔ ﻛﻞ ﻋﺎﻟﻢ ﺍﺟﺘﻤﻊ ﻓﻴﻚ
ﺍﻟﺸﺮ ﻛﻠﻪ

“যদি তুমি প্রত্যেক আলেমের রুখসতকে গ্রহণ করো,
তবে তোমার মাঝে সব ধরণের অকল্যাণ ও
নিকৃষ্টতা একত্র হবে”

ইমাম মালেক (রহঃ) এর উস্তাদ ইবরাহীম বিন
আবি আবালাহ (রহঃ) বলেন-

ﻣﻦ ﺣﻤﻞ ﺷﺎﺫ ﺍﻟﻌﻠﻤﺎﺀ ﺣﻤﻞ ﺷﺮﺍ ﻛﺜﻴﺮﺍ، ﻭ
ﻗﺎﻝ ﻣﻌﺎﻭﻳﺔ ﺑﻦ ﻗﺮﺓ: ﺇﻳﺎﻙ ﻭ ﺍﻟﺸﺎﺫ ﻣﻦ
ﺍﻟﻌﻠﻢ

যে ব্যক্তি উলামায়ে কেরামের বিরল ও একক
মতামতের অনুসরণ করে সে অনেক অকল্যাণের বাহক
হয়। হযরত মুয়াবিয়া বিন কুররা (রহঃ) বলেন-
সাবধান! বিরল বক্তব্য থেকে বিরত থাক।

আল্লামা যাহেদ আল-কাউসারী (রহঃ) ইবরাহীম বিন
আবি আবালাহ্ (রহঃ) এর বক্তব্য এভাবে উল্লেখ
করেছেন-

ﻣﻦ ﺃﺧﺬ ﺷﻮﺍﺫ ﺍﻟﻌﻠﻤﺎﺀ ﺿﻞ

যে ব্যক্তি উলামায়ে কেরামের বিরল ও শায
বক্তব্যের অনুসরণ করল সে পথভ্রষ্ট হয়ে গেল।
ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহঃ) হযরত
ইহইয়া আল-কাত্তান (রহঃ) এর
উক্তি বর্ণনা করেন-

ﻟﻮ ﺃﻥ ﺇﻧﺴﺎﻧﺎ ﺇﺗﺒﻊ ﻛﻞ ﻣﺎ ﻓﻲ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ ﻣﻦ
ﺭﺧﺼﺔ ﻟﻜﺎﻥ ﺑﻪ ﻓﺎﺳﻘﺎ

কেউ যদি হাদীসের প্রত্যেক রুখসতের অনুসরণ করে,
তবে ঐ ব্যক্তি ফাসেক হয়ে যাবে।

ইমাম আব্দুর রাজ্জাক (রহঃ) হযরত মা’মার
থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন-

ﻟﻮ ﺃﻥ ﺭﺟﻼ ﺃﺧﺬ ﺑﻘﻮﻝ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﻤﺪﻳﻨﺔ ﻓﻲ
ﺇﺳﺘﻤﺎﻉ ﺍﻟﻐﻨﺎﺀ ﻭ ﺇﺗﻴﺎﻥ ﺍﻟﻨﺴﺎﺀ ﻓﻲ
ﺃﺩﺑﺎﺭﻫﻦ ، ﻭ ﺑﻘﻮﻝ ﺃﻫﻞ ﻣﻜﺔ ﻓﻲ
ﺍﻟﻤﺘﻌﺔ ، ﻭ ﺍﻟﺼﺮﻑ ﻭ ﺑﻘﻮﻝ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﻜﻮﻓﺔ
ﻓﻲ ﺍﻟﻤﺴﻜﺮ ﻛﺎﻥ ﺷﺮ ﻋﺒﺎﺩ ﺍﻟﻠﻪ

কেউ যদি গান শোনা ও মহিলাদের
গুহ্যদ্বারে সঙ্গমের ব্যাপারে মদীনাবাসীর মতামত
গ্রহণ করে এবং মুত’আ ও সরফ পদ্ধতিতে ক্রয়-
বিক্রয়ে মক্কা বাসীর মতামত এবং মাদকদ্রব্যের
ব্যাপারে কুফাবাসীর মতামত গ্রহণ
করে তবে সে আল্লাহর সর্বনিকৃষ্ট
বান্দা হিসেবে পরিগণিত হবে।
উপরোক্ত বক্তব্য থেকে স্পষ্টরূপে প্রতীয়মান হয়
যে, ইজতেহাদের অযোগ্য ব্যক্তির জন্য তালফীক
বৈধ নয়। আল্লামা ইবনে আব্দুল বার (রহঃ) এ
ব্যাপারে ইজমার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন-

ﻫﺬﺍ ﺇﺟﻤﺎﻉ ﻻ ﺃﻋﻠﻢ ﻓﻴﻪ ﺧﻼﻑ

এ বিষয়টির উপর ইজমা হয়েছে। এর সাথে মতানৈক্য
করেছে এমন কারও বিষয়ে আমার জানা নেই।

আল্লামা কারমী বলেন-

ﺇﻋﻠﻢ ﺃﻧﻪ ﻗﺪ ﺫﻫﺐ ﻛﺜﻴﺮ ﻣﻦ ﺍﻟﻌﻠﻤﺎﺀ ﺇﻟﻲ
ﻣﻨﻊ ﺟﻮﺍﺯ ﺍﻟﺘﻘﻠﻴﺪ ﺣﻴﺚ ﺃﺩﻱ ﺇﻟﻲ ﺍﻟﺘﻠﻔﻴﻖ
ﻣﻦ ﻛﻞ ﻣﺬﻫﺐ

“জেনে রেখ! অধিকাংশ উলামায়ে কেরাম তালফীক
অবৈধ হওয়ার মতামত ব্যক্ত করেছেন”


শামসুল আইম্মা ইমাম হালওয়ানী (রহঃ) বলেন-

ﻭﻫﺬﺍ ﺍﻟﺬﻱ ﺗﻘﺮﺭ ﻣﻦ ﺇﺷﺘﺮﺍﻁ ﻋﺪﻡ
ﺍﻟﺘﻠﻔﻴﻖ ﻫﻮ ﺍﻟﻤﻌﺘﻤﺪ ﻋﻨﺪﻧﺎ ﻭ ﻋﻨﺪ ﺍﻟﺤﻨﻔﻴﺔ
ﻭ ﺍﻟﺤﻨﺎﺑﻠﺔ ﻓﻼ ﻳﺠﻮﺯ ﻓﻲ ﻋﺒﺎﺩﺓ ﻭﻻ ﻏﻴﺮﻫﺎ
ﻭﺍﻟﻘﻮﻝ ﺑﺠﻮﺍﺯﻩ ﺿﻌﻴﻒ ﺟﺪﺍ

তালফীক অবৈধ হওয়ার
ব্যাপারে যে সিদ্ধান্তটি স্থির হয়েছে এটি আমাদের
নিকট গ্রহণযোগ্য। এবং এটি হানাফী ও হাম্বলীদের
নিকটও গ্রহণযোগ্য। সুতরাং ইবাদত বা অন্য কোন
ক্ষেত্রে তালফীক বৈধ নয়। তালফীক বৈধ হওয়ার
ব্যাপারে যে বক্তব্য রয়েছে সেটি নিতান্তই দূর্বল।
আল্লামা হালওয়ানী আরও বলেন,

ﻓﻠﺬﻟﻚ ﻛﺎﻥ ﺍﻟﺘﻠﻔﻴﻖ ﺑﺎﻃﻼ ﻣﺤﺮﻣﺎ ﻭ ﻫﻮ
ﺍﻟﺬﻱ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﻤﺤﻘﻘﻮﻥ ﻣﻦ ﺃﺋﻤﺘﻨﺎ ﻭ
ﻏﻴﺮﻫﻢ

এজন্য তালফীক বাতিল ও হারাম। অধিকাংশ গবেষক
ইমামমদের মত এটি।

যাইনুদ্দিন কাসেম (রহঃ) তাউকীফুল হুক্কাম
ফি গাওয়ামিদিল আহকাম নামক কিতাব
থেকে বর্ণনা করেছেন-

ﺍﻥ ﺍﻟﺤﻜﻢ ﺍﻟﻤﻠﻔﻖ ﺑﺎﻃﻞ ﺑﺈﺟﻤﺎﻉ
ﺍﻟﻤﺴﻠﻤﻴﻦ

তালফীকের পদ্ধতিতে নির্ণীত হুকুম মুসলমানদের
সর্বসম্মতিক্রমে বাতিল।

ফতওয়ায়ে শামী তে রয়েছে-

“.. ﻭﺃﻥ ﺍﻟﺤﻜﻢ ﺍﻟﻤﻠﻔﻖ ﺑﺎﻃﻞ ﺑﺎﻹﺟﻤﺎﻉ”
ﻗﺎﻝ ﺷﺎﺭﺣﻪ- ﻣﺜﺎﻟﻪ ﻣﺘﻮﺿﺄ ﺳﺎﻝ ﻣﻦ ﺑﺪﻧﻪ
ﺩﻡ، ﻭ ﻟﻤﺲ ﺇﻣﺮﺃﺓ، ﺛﻢ ﺻﻠﻲ ﻓﺈﻥ ﺻﺤﺔ
ﺻﻼﺗﻪ ﻣﻠﻔﻘﺔ ﻣﻦ ﺍﻟﻤﺬﻫﺐ ﺍﻟﺸﺎﻓﻌﻲ ﻭ
ﺍﻟﺤﻨﻔﻲ، ﻭ ﺍﻟﺘﻠﻔﻴﻖ ﺑﺎﻃﻞ، ﻓﺼﺤﺘﻪ ﻣﻨﺘﻔﻴﺔ

অর্থাৎ তালফীকের পদ্ধতিতে নির্ণীত হুকুম
সর্বসম্মতিক্রমে বাতেল। (ব্যাখ্যাকার বলেন)
তালফীকের উদাহরণ হল, কোন ওযুকারী ব্যক্তির
শরীর থেকে রক্ত বের হল (এর
দ্বারা হানাফী মাযহাব অনুযায়ী ওযু ভেঙ্গে যাবে),
আবার সে কোন মহিলাকে স্পর্শ করল (এর
দ্বারা শাফেয়ী মাযহাব অনুযায়ী ওযু ভেঙ্গে যাবে), এ
অবস্থায় যদি সে নামায আদায় করে তবে তার নামায
বাতিল। কেননা তালফীক বাতিল।
আল্লামা আব্দুল গণী নাবুলুসী (রহঃ) বলেন,

ﺇﺫﺍ ﻋﻠﻤﺖ ﺫﻟﻚ ﻇﻬﺮ ﻟﻚ ﻋﺪﻡ ﺻﺤﺔ
ﺍﻟﺘﻠﻔﻴﻖ ﻓﻲ ﻭﺟﻪ ﻣﻦ ﺍﻟﻮﺟﻮﻩ ﺇﺟﻤﺎﻋﺎ

যখন তুমি উক্ত বিষয় সম্পর্কে অবগত হলে, তখন
তোমার সামনে স্পষ্ট হয়ে গেল যে,
সর্বসম্মতিক্রমে কোন অবস্থাতেই তালফীক বৈধ
নয়।
ইমাম নববী রহ. বলেন,

ﻭﻭﺟﻬﻪ ﺍﻧﻪ ﻟﻮ ﺟﺎﺯ ﺍﺗﺒﺎﻉ ﺃﻱ ﻣﺬﻫﺐ ﺷﺎﺀ ﻻ
ﻓﻀﻰ ﺇﻟﻰ ﺍﻥ ﻳﻠﺘﻘﻂ ﺭﺧﺺ ﺍﻟﻤﺬﺍﻫﺐ
ﻣﺘﺒﻌﺎ ﻫﻮﺍﻩ ﻭﻳﺘﺨﻴﺮ ﺑﻴﻦ ﺍﻟﺘﺤﻠﻴﻞ ﻭﺍﻟﺘﺤﺮﻳﻢ
ﻭﺍﻟﻮﺟﻮﺏ ﻭﺍﻟﺠﻮﺍﺯ ﻭﺫﻟﻚ ﻳﺆﺩﻯ ﺇﻟﻰ
ﺍﻧﺤﻼﻝ ﺭﺑﻘﺔ ﺍﻟﺘﻜﻠﻴﻒ ﺑﺨﻼﻑ ﺍﻟﻌﺼﺮ
ﺍﻻﻭﻝ ﻓﺎﻧﻪ ﻟﻢ ﺗﻜﻦ ﺍﻟﻤﺬﺍﻫﺐ ﺍﻟﻮﺍﻓﻴﺔ
ﺑﺄﺣﻜﺎﻡ ﺍﻟﺤﻮﺍﺩﺙ ﻣﻬﺬﺑﺔ ﻭﻋﺮﻓﺖ: ﻓﻌﻠﻰ
ﻫﺬﺍ ﻳﻠﺰﻣﻪ ﺍﻥ ﻳﺠﺘﻬﺪ ﻓﻲ ﺍﺧﺘﻴﺎﺭ ﻣﺬﻫﺐ
ﻳﻘﻠﺪﻩ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﺘﻌﻴﻴﻦ

“ব্যক্তি তাকলীদের অপরিহার্যতার কারণ এই যে,
মুক্ত তাকলীদের অনুমতি দেয়া হলে প্রবৃত্তি তাড়িত
মানুষ সকল মাজহাবের অনুকূল বিষয়গুলোই শুধু
বেছে নিবে। ফলে হালাল-হারাম ও বৈধ-অবৈধ
নির্ধারণের এখতিয়ার এসে যাবে তার হাতে। প্রথম
যুগে অবশ্য ব্যক্তি তাকলীদ সম্ভব ছিলো না।
কেননা ফিকাহ বিষয়ক মাজহাবগুলো যেমন সুবিন্নস্ত
ও পূর্ণাংগ ছিলো না তেমনি সর্বত্র সহজলভ্যও
ছিলো না। কিন্তু এখন তা সুবিন্যস্ত ও পূর্ণাংগ
আকারে সর্বত্র সহজলভ্য। সুতরাং যে কোন
একটি মাজহাব বেছে নিয়ে একনিষ্টভাবে তা অনুসরণ
করাই এখন অপরিহার্য”। (আল মাজমু শরহুল
মুহায্যাব, ১/১৯)


এ কারণেই শায়েখ
ইবনে তাইমিয়া বলেনঃ “লাগামহীনভাবে যে মাযহাব
যখন মনে চায়, সেটাকে মানা সুষ্পষ্ট হারাম
ও অবৈধ।(অর্থাৎ যেটা মানবে একটাকেই মানবে এতে বিভ্রান্ত হবে না){ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়া-২/২৪১}


উম্মতের ইজমা হয়ে গেছে যে, এ ৪র্থ
শতাব্দির পর থেকে লাগামহীনভাবে যখন
যে মাযহাব ইচ্ছে সে মাযহাব
মানা যাবে না। সুনির্দিষ্টভাবে
একটি মাযহাবকে মানতে হবে।

{আলইনসাফ-৫২, ৫৭-৫৯, মাদারে হক-৩৪১,
ইন্তিসারুল হক বজওয়াবে মিয়ারে হক-১৫৩,
আলমুআফাকাত-৪/১৪৬, আলমাজমূহ শরহুল
মুহাজ্জাব-১/৯১}




সুতরাং বর্তমানে সাধারণ মানুষের না বুঝে,
শরীয়তের জ্ঞান অর্জন না করে প্রবৃত্তির
চাহিদা অনুযায়ী স্বেচ্ছাচারী হওয়ার কোন সুযোগ
নেই।



♦♦প্রশ্ন:- সাহাবীগন কি তাক্বলিদ করতেন?


উত্তর:-  হয়তো গায়রে মুকাল্লিদ
ভাইদের মন খারাপ হতে পারে। এ ব্যাপারে এমন দুজন ব্যাক্তির
কথাকে পেশ করবো যারা গায়রে মুকাল্লিদ ভাইদের
কাছেও গ্রহনযোগ্য আলেম এবং তারাও এ দুজন
ব্যাক্তিকে সালাফ মনে করেন।
এ দুই জন বিখ্যাত আলেম হলেন -

(১) আলী ইবনুল মাদিনী রহঃ , (ইমাম
বুখারী রাহঃ এর বিশিষ্ট উস্তাদ) ।
(২) ইবনুল কাইয়েম জাওজী রহঃ ,
(ইবনে তাইমিয়া রাহঃ এর বিশিষ্ট ছাত্র) ।


এবার তাদের কথাগুলো বলি-
আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম (রহঃ) লিখেছেন,
ﻭﺍﻟﺬﻳﻦ ﺣﻔﻈﺖ ﻋﻨﻬﻢ ﺍﻟﻔﺘﻮﻯ ﻣﻦ ﺃﺻﺤﺎﺏ
ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻣﺎﺋﺔ
ﻭﻧﻴﻒ ﻭﺛﻼﺛﻮﻥ ﻧﻔﺴﺎ ﻣﺎ ﺑﻴﻦ ﺭﺟﻞ ﻭﺍﻣﺮﺃﺓ
ﻭﻛﺎﻥ ﺍﻟﻤﻜﺜﺮﻭﻥ ﻣﻨﻬﻢ ﺳﺒﻌﺔ: ﻋﻤﺮ ﺑﻦ
ﺍﻟﺨﻄﺎﺏ ﻭﻋﻠﻲ ﺑﻦ ﺃﺑﻲ ﻃﺎﻟﺐ ﻭﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ
ﺑﻦ ﻣﺴﻌﻮﺩ ﻭﻋﺎﺋﺸﺔ ﺃﻡ ﺍﻟﻤﺆﻣﻨﻴﻦ ﻭ ﺯﻳﺪ
ﺑﻦ ﺛﺎﺑﺖ ﻭﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ ﻭﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ
ﺑﻦ ﻋﻤﺮ .
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহী ওসাল্লাম এর
সাহাবীদের মধ্যে যাদের ফতোয়া সংরক্ষণ
করা হয়েছে তাদের সংখ্যা নারী-পুরুষ মিলিয়ে প্রায়
একশ’ ত্রিশজন। এদের
মধ্যে সবচেয়ে বেশি ফতোয়া প্রদান করতেন
সাতজন।

১. উমর ইবনে খাত্তাব (রাঃ)
২. আলী ইবনে আবী তালেব (রাঃ)
৩. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)
৪. উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা (রাঃ)
৫. যায়দ ইবনে সাবেত (রাঃ)
৬. আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ)
৭. আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

একশ’ ত্রিশজন সাহাবীর মধ্যে যাদের
ফতোয়ার সংখ্যা খুব বেশি নয় আবার খুব কমও নয়,
অর্থাৎ যাদের ফতোয়ার সংখ্যা মাধ্যমিক স্তরের,
তাদের সংখ্যা হল, তেরজন।
এ বিশজন ব্যতীত একশ’ ত্রিশজন সাহাবীর
অবশিষ্ট সকলেই যে ফতোয়া প্রদান করেছেন, তার
সংখ্যা খুবই কম। (ই’লামুল মুয়াক্বিয়ীন আন
রাবিক্ষল আলামিন, আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম
(রহঃ), খণ্ড-১, পৃষ্ঠা-১২) ।


এখানে বিবেচনার বিষয় হল, কোথায় সোয়া লক্ষ
আর কোথায় একশ-দু’শ সাহাবী! অবশিষ্ট
সাহাবীরা তাহলে কী করেছেন? স্পষ্টতঃ অন্যান্য
সাহাবীরা ফতোয়ার ক্ষেত্রে যে সমস্ত
সাহাবী অভিজ্ঞ ছিলেন, তাদের অনুসরণ করেছেন
র্অথাৎ মুজতাহীদ সাহাবীর তাকলদি করছেনে।
স্পষ্ট হয়ে গেলো প্রায় সকল সাহাবী মুকাল্লিদ
ছিলেন।
এ সম্পর্কে ইমাম আলী ইবনুল মাদীনী রাহ.(১৬১
হি.-২৩৪ হি.)-এর বিবরণ :
তিনি সাহাবায়ে কেরামের সময়ের তিনজন
সাহাবীর মাযহাব বর্ননা করেছেন যাদের মাযহাব ও
তরীকার উপর আমল ও ফতওয়া জারি ছিল। এই তিন
সাহাবীর শাগরিদগণ তাঁদের মত ও সিদ্ধান্ত
গুলো সংরক্ষণ করেছেন,তা প্রচার প্রসার করেছেন।
যে তিন সাহাবীর মাযহাব ছিলো প্রচলিত ছিলো আর
অন্য সাহাবীরা সেই মাযহাবের অনুশরণ করতেন
তারা হলেন
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা.(মৃত্যু: ৩২ হিজরী),
যায়েদ ইবনে ছাবিত রা.(জন্ম: হিজরত পূর্ব ১১ ও
মৃত্যু: ৪৫ হিজরী)ও
আবদুল্লাহ ইবনে আববাস রা.(জন্ম: হিজরত পূর্ব
৩ ও মৃত্যু: ৬৮ হিজরী)।



আলী ইবনুল মাদীনী রাহ.এর
আরবী বাক্যটি নিম্নরূপ-
ﻭﻟﻢ ﻳﻜﻦ ﻓﻲ ﺃﺻﺤﺎﺏ ﺭﺳﻮﻻﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ
ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻣﻦ ﻟﻪ ﺻُﺤَﻴْﺒَﺔٌ، ﻳﺬﻫﺒﻮﻥ
ﻣﺬﻫﺒﻪ، ﻭﻳﻔﺘﻮﻥ ﺑﻔﺘﻮﺍﻫﻮﻳﺴﻠﻜﻮﻥ
ﻃﺮﻳﻘﺘﻪ، ﺇﻻ ﺛﻼﺛﺔ : ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﻣﺴﻌﻮﺩ
ﻭﺯﻳﺪ ﺑﻦ ﺛﺎﺑﺖ ﻭﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ ﺭﺿﻲ
ﺍﻟﻠﻬﻌﻨﻬﻢ، ﻓﺈﻥ ﻟﻜﻞ ﻣﻨﻬﻢ ﺃﺻﺤﺎﺑﺎ ﻳﻘﻮﻣﻮﻥ
ﺑﻘﻮﻟﻪ ﻭﻳﻔﺘﻮﻥ ﺍﻟﻨﺎﺱ .
এরপর আলী ইবনুল মাদীনী রাহ. তাঁদের
প্রত্যেকের মাযহাবের অনুসারী ও তাঁদের মাযহাব
মোতাবেক ফতওয়া দানকারী ফকীহ তাবেয়ীগণের নাম
উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন,
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা.-এর যে শাগরিদগণ তাঁর
কিরাত অনুযায়ী মানুষকে কুরআন শেখাতেন,তাঁর
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মানুষকে ফতওয়া দিতেনএবং তাঁর
মাযহাব অনুসরণ করতেন তারা হলেন এই ছয়জন
মনীষী:
আল কামাহ(মৃত্যু: ৬২ হিজরী),
আসওয়াদ(মৃত্যু: ৭৫ হিজরী),
মাসরূক(মৃত্যু: ৬২ হিজরী),
আবীদাহ(মৃত্যু: ৭২ হিজরী),
আমর ইবনে শুরাহবীল(মৃত্যু: ৬৩ হিজরী)ও
হারিস ইবনে কাইস(মৃত্যু: ৬৩ হিজরী)।
ইবনুল মাদীনী রাহ. বলেছেন,ইবরাহীম নাখায়ী রাহ.
(৪৬-৯৬ হিজরী) এই ছয়জনের নাম উল্লেখ
করেছেন।


ইমাম আলী ইবনুল মাদীনী রাহ.-এর উপরোক্ত
বিবরণের সংশ্লিষ্ট আরবীপাঠ নিমণরূপ-
ﺍﻟﺬﻳﻦ ﻳﻘﺮﺅﻥ ﺍﻟﻨﺎﺳﺒﻘﺮﺍﺀﺗﻪ ﻭﻳﻔﺘﻮﻧﻬﻢ
ﺑﻘﻮﻟﻪ ﻭﺑﺬﻫﺒﻮﻥ ﻣﺬﻫﺒﻪ …
এরপর আলী ইবনুল মাদীনী রাহ. লিখেছেন,আবদুল্লাহ
ইবনে মাসউদ রা.-এর (ফকীহ) শাগরিদদের
সম্পর্কে এবং তাঁদের মাযহাবের
বিষয়ে সবচেয়ে বিজ্ঞ ছিলেন ইবরাহীম(নাখায়ী)
(৪৬-৯৬ হিজরী) এবং আমের ইবনে শারাহীল
শাবী(১৯-১০৩ হিজরী)। তবে শাবী মাসরূক রাহ.-
এর মাযহাব অনুসরণ করতেন।
আরবী পাঠ নিমণরূপ-
ﻭﻛﺎﻥ ﺃﻋﻠﻢ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﻜﻮﻓﺔﺑﺄﺻﺤﺎﺏ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ
ﻭﻣﺬﻫﺒﻬﻢ ﺇﺑﺮﺍﻫﻴﻢ ﻭﺍﻟﺸﻌﺒﻲ ﺇﻻ ﺃﻥ
ﺍﻟﺸﻌﺒﻲ ﻛﺎﻥ ﻳﺬﻫﺐ ﻣﺬﻫﺐ ﻣﺴﺮﻭﻕ .
এরপর লিখেছেন-
ﻭﻛﺎﻥ ﺃﺻﺤﺎﺏ ﺯﻳﺪ ﺑﻦ ﺛﺎﺑﺘﺎﻟﺬﻳﻦ ﻳﺬﻫﺒﻮﻥ
ﻣﺬﻫﺒﻪ ﻓﻲ ﺍﻟﻔﻘﻪ ﻭﻳﻘﻮﻣﻮﻥ ﺑﻘﻮﻟﻪ ﻫﺆﻻﺀ
ﺍﻻﺛﻨﻰ ﻋﺸﺮ …
অর্থাৎ যায়েদ ইবনে ছাবিত রা.-এর যে শাগরিদগণ
তাঁর মাযহাবের অনুসারী ছিলেন এবং তাঁরমত ও
সিদ্ধান্ত সমূহ সংরক্ষণ ও প্রচার প্রসার করতেন
তাঁরা বারোজন।
তাঁদের নাম উল্লেখ করার পর ইবনুল মাদীনী রাহ.
লেখেন,এই বারো মনীষীও তাদের মাযহাবের
বিষয়ে সবচেয়ে বিজ্ঞ ছিলেন ইবনে শিহাব
যুহরী(৫৮-১২৪ হিজরী),
ইয়াহইয়া ইবনে সায়ীদ আনসারী(মৃত্যু: ১৪৩
হিজরী),

আবুযযিনাদ(৬৫-১৩১ হিজরী)এবং
আবু বকর ইবনে হাযম(মৃত্যু১২০ হিজরী)।
এদের পরে ইমাম মালেক ইবনে আনাসরাহ.
(৯৩-১৭৯ হিজরী)।
এরপর ইবনুল মাদীনী রাহ. বলেছেন-
‘তদ্রূপ আবদুল্লাহ ইবনে আববাসরা.-এর
যে শাগরিদগণ তাঁরমত ও সিদ্ধান্ত সমূহ সংরক্ষণও
প্রচার করতেন,সে অনুযায়ী ফতওয়া দিতেন এবং তার
অনুসরণকরতেন,তাঁরা ছয়জন।
ﻭﻛﻤﺎ ﺃﻥ ﺃﺻﺤﺎﺏ ﺍﺑﻦ ﻋﺒﺎﺳﺴﺘﺔ ﺍﻟﺬﻳﻦ
ﻳﻘﻮﻣﻮﻥ ﺑﻘﻮﻟﻪ ﻭﻳﻔﺘﻮﻥ ﺑﻪ ﻭﻳﺬﻫﺒﻮﻥ
ﻣﺬﻫﺒﻪ .
এরপর তিনি তাদের নাম উল্লেখ করেন।
ইমাম ইবনুল মাদীনী রাহ.-এর পূর্ণ
আলোচনা তাঁর‘ কিতাবুল ইলালে’(পৃষ্ঠা:
১০৭-১৩৫, প্রকাশ: দারুব
নিলজাওযীরিয়ায,১৪৩০হিজরী।) বিদ্যমান
আছে এবং ইমাম বায়হাকী রাহ.-এর ‘আলমাদ
খালইলাস সুনানিল কুবরা’তে ও (পৃষ্ঠা:
১৬৪-১৬৫) সনদ সহ উল্লেখিত হয়েছে।
সুতরাং মনে রাখতে হবে, ইমামগণের
ফিকহী মাযহাবের যে মতপার্থক্য তাকে বিভেদ
মনে করা অন্যায়ও
বাস্তবতার বিকৃতি এবং সাহাবায়ে কেরামের নীতিও
ইজমার বিরোধিতা।



♦♦প্রশ্ন : চার খলীফার তাকলীদ রেখে চার ইমামের তাকলীদ কেন? আমাদের উচিত শুধু কুরআন ও হাদিস অনুযায়ী চলা তাক্বলিদ করা কুরআন হাদিসে নেই তাই এগুলো মানা বিদআত।

জবাব :- আপনার প্রশ্নটি সম্পুর্ন  অযৌক্তিক । না বুঝার কারণে আপনার মনে এমন প্রশ্ন উদয় হয়েছে। ভাই আপনে নিজেও তো তাক্বলিদ করেন আর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত করবেন অথচ সেটাকে না বুঝে নিজেই বিদআত বলতেসেন।এই হল আপনাদের মত নামধারী আহলে হাদিসের সমস্যা।

আমাকে simple একটা জবাব দিন রাসুলুল্লাহ (সা) যে এত হাদিস বলে গেছেন এগুলোর প্রমান কি?
প্রশ্নকর্তা: বুখারী,মুসলিম ও অন্যান্য সহিহ কিতাব।

তাহলে আপনে আমাকে বলুন ইমাম বুখারীকে মানেন কিনা?
প্রশ্নকর্তা : জ্বি অবশ্যই মানি মানব না কেন?

এখন বলুন তাক্বলিদ অর্থ কি?
প্রশ্নকর্তা: কাউকে অনুসরন করা বা মানা

যাই হোক তাহলে আপনি ইমাম বুখারীর তাক্বলিদ করেন স্বীকার করলেন।
প্রশ্নকর্তা: আমরা ওনার লিপিবদ্ধ হাদিস মানি।

তাহলে অন্যরাও তো হাদিস লিপিবদ্ধ করেছেন তাদের মানেন না?
প্রশ্নকর্তা: সহিহ বলে বা বিশ্বস্ত বলে ইমাম বুখারীকে মানি।

জ্বি অবশ্যই সহিহ বলেই মানবেন বিশ্বস্ত বলেই মানবেন কিন্তু বুখারী ও মুসলিমে যে ১০ - ১২ হাজার হাদিস আছে এগুলো কি রাসুলের ২৩ বছরের সম্পুর্ন কথা?আর এত অল্প হাদিসে কি মানব জীবনের সকল সমস্যার সমাধান সম্ভব?না সম্ভব না।

আর ইমামে আজম (রহ) কে মানতে নিষেধ করেন বুখারী শরীফের হাদিস মানতে বলেন ইমামে আজম বড় ছিলেন নাকি ইমাম বুখারী বড় ছিলেন?ইমামে আজম  ছিলেন ইমাম বুখারীর পিতার উস্তাদের উস্তাদ। আজকে ইমাম বুখারীর যে হাদিস পেয়েছেন ওনার লিপিবদ্ধ করা হাদিস মানতেসেন এটাও ইমাম বুখারীর তাক্বলিদ করা হচ্ছে কারন যদিও আপনে অন্য কিতাবের তাক্বলিদ করছেন না ঠিকই বুখারী শরীফের তাক্বলিদ করছেন।

তখন যদি ইমামে আজম সহ আরো কিছু স্বনামধন্য ইমাম হাদিস সংগ্রহ না করতেন তাহলে ইমাম বুখারী(রহ)'র জন্যও ওই সব সনদ সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে যেত কারন যারা মৃত্যুবরন করে গেছে তাদের কাছ থেকে আর কোনদিন হাদিস পাওয়া সম্ভব নয়। কোন সাহাবায়ে কেরাম হাদিস লিখে সংগ্রহ করেন নি।তখন যদি ইমামে আজমের মত মহান ইমামগন এর আবির্ভাব না হত তাহলে কি হত এই মুসলিম উম্মাহর। ওনারা কুরআন হাদিস পড়ে জেনে ফতোয়া বের করেছেন যেমন ইমামে আজম (লক্ষাধিক হাদিসের হাফেজ ছিলেন) ওনাকে তাক্বলিদ বা অনুসরন করা মানে হল ওনার হাদিসের ফয়সালা মোতাবেক চলা। তিনি বহু সাহাবীর সাথে সাক্ষাতও করেছিলেন এবং হাদিস শ্রবন করেছেন।

তাবেয়ী ইমাম আবু
হানীফা এবং তাবে তাবেয়ী ইমাম
শাফেয়ী, মালিক ও আহমাদ
বিন হাম্বল রহঃ এর তাকলীদের মাধ্যমে কুরআন, হাদীস এবং খুলাফায়ে রাশেদীনের ফাতওয়াও পাওয়া যায়। আর আমাদের কাছে কুরআন হাদীসের সাথে সাহাবাগণও অনুসরণীয়।

ﻭﻋﻠﻴﻜﻢ ﺑﺴﻨﺘﻲ ﻭﺳﻨﺔ
ﺍﻟﺨﻠﻔﺎﺀ ﺍﻟﺮﺍﺷﺪﻳﻦ ﻣﻦ
ﺑﻌﺪﻱ ﻋﻀﻮﺍ ﻋﻠﻴﻬﺎ
ﺑﺎﻟﻨﻮﺍﺟﺬ

হযরত ইরবাজ বিন সারিয়া রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ
করেছেনঃ তোমরা আমার সুন্নতকে আঁকড়ে ধর। এবং খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নতকে আঁকড়ে ধর আমার পরে। এগুলোকে মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধর। {আলমুজামুল কাবীর লিততাবরানী, হাদীস নং-৬১৮,
সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-৪২, সুনানে বায়হাকী কুবরা,
হাদীস নং-২০১২৫, সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং-১৫০, সুনানে দারেমী, হাদীস নং-৯৫, সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-১৭৯, কানযুল উম্মাল, হাদীস নং-৯২২, মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদীস নং-৩২৯, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-১৭১৪২,
মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-৪২০১, মুসনাদুশ শামীন, হাদীস নং-৪৩৭, মাশকিলুল আসার, হাদীস নং-৯৯৮}


♦♦প্রশ্ন: হানাফী ,শাফেয়ী ,মালেকী ,হাম্বলী হতে আল্লাহ ও রাসূল সাঃ নির্দেশ দেননি ।।

উত্তর:- এটা কোন দল না এটা ইসলামের সঠিকভাবে অনুসরন করার জন্য ওনারা সঠিক মাসআলা মাসায়েল বলে গেছেন।

আপনারা দলের কথা বলতেসেন কিন্তু কথিত আহলে হাদিস দল আপনারা নিজেরা করেন নি?

আপনাদের আহলে হাদীসদের
কয়েকটি দল
১) জমিয়তে আহলে হাদীস
বাংলাদেশ।
২) আহলে হাদীস আন্দোলন
বাংলাদেশ।
৩) আহলে হাদীস যুব
আন্দোলন।
৪)
ফিরক্বায়ে গুরাবায়ে আহলে হাদীস।
৫) কানফারেন্স
আহলে হাদীস।
৬) আমীরে শরীয়ত সূবাহ
বাহার।
৭)
ফিরক্বায়ে সানাবিয়্যাহ।
৮)
ফিরক্বায়ে আতায়িয়্যাহ।
৯) ফিরক্বায়ে শরীফিয়্যাহ।
১০)
ফিরক্বায়ে গজনবিয়্যাহ।
১১)
ইন্তিখাবে মৌলবী মুহীউদ্দীন।
১২) জামাআতুল মুসলিমীন।


এভাবে আহলে হাদীস নাম
দিয়ে দলে দলে বিভক্ত
হওয়ার নির্দেশ না আল্লাহ
দিয়েছেন, না রাসূল
সাঃ দিয়েছেন। তাই এসব
আহলে হাদীস
নামধারীরা কেন পরিত্যজ্য
নয়?

শুধু দলে দলে বিভক্তই
হয়নি ওরা। বরং একদল
আরেক দলকে গোমরাহ,
মুশরিক
ইত্যাদি বলে গালাগালিও
করে থাকে। যা তাদের
লেকচার ও বিভিন্ন
লেখা বই পড়লে যেকোন
পাঠকই বুঝতে পারবেন।
এভাবে বিভক্তির
দিকে আহবানকারীর
মুখে একতার কথা মানায়
কি না? এটি আম
তৌহিদী জনতার হাতেই
ছেড়ে দিলাম এর বিচারের
ভার।
আল্লাহ তাআলা একতার
নামে বিভক্তির
দিকে আহবানকারী ভ্রান্ত
আহলে হাদীস
ফিরক্বা থেকে মুসলিম
জাতিকে হিফাযত করুন।


♦♦প্রশ্ন: রাসূল সাঃ এর অনুসরণ না করে ইমাম আবূ হানীফার অনুসরণ কেন ?

উত্তর:- আপনারা লা-মাযহাবীরা তাক্বলিদ বিদাত বলেন কিন্তু ঠিক ঘেটে ঘেটে নাসিরুদ্দিন আলবানীর ফতোয়া,  ইবনে তাইমিয়া, বায সাহেবের ফতোয়া পড়েন ও মানেন তা কুরআন হাদিসে আছে কিনা তখন সেটাও দেখার প্রয়োজন করেন না।
তাদের তাক্বলিদ করলে শিরিক হয় না আর ৪ মাযহাবের তাক্বলিদ করলে যারা তাবেয়ী ও তাবে তাবেয়ী ছিলেন তাদের তাক্বলিদ করলে শিরিক বিদাত তাই না?ভালই বিচার আপনাদের।

আফসোস হয় এসব কথিত আহলে হাদীসদের কর্মকান্ড দেখে যেখানে পবিত্র কুরআনে,

"জ্ঞানীদের অনুসরণ করার কথা বলা হয়েছে [সূরা নহল-৪৩}

সেখানে তারা জাহিল ও মুর্খদের শায়েখ বানিয়ে তাদের অনুসরণ করছে। যাদের
ব্যাপারে রাসূল সাঃ স্পষ্ট বলেছেন,

"তারা ইলমহীনতার কারণে নিজেরাও গোমরা হবে, আবার
অন্যদেরও গোমরাহ করবে।"

{মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-৬৫১১, বুখারী, হাদীস নং-১০০, মুসলিম, হাদীস নং-২৬৭৩} আল্লাহ তাআলা আমাদের এ ভ্রান্ত ফিরক্বা থেকে হিফাযত করুন। আমীন। ছুম্মা আমীন।

এখন কথা হল আহলে হাদিসের মুর্খ আলিমদের শাইখগনের তাক্বলিদ শিরিক হয় না আর তাবেয়ী তাবে তাবেয়ীগনের তাক্বলিদ করলে শিরিক বলে ফতোয়া দেয়।হায়রে মুর্খের দল।


♦♦প্রশ্ন:- চার মাযহাবের দ্বারা বিভক্তি এসেছেঃ মাযহাব ছেড়ে তাই একতার প্রয়োজন।এ মাযহাব কি সালফে সালেহীন গনের যুগে পালন করা হত?

উত্তর:-

সালাফে সালেহীনের মাযহাব
১। ইমাম
বুখারী রহঃ শাফেয়ী মাজহাবের
অনুসারী।
সুত্রঃ নবাব ছিদ্দিক হাসান
খান লিখিত আবজাদুল উলুম
পৃষ্ঠা নং ৮১০,
আলহিত্তা পৃষ্ঠা নং ২৮৩।
শাহ ওয়ালিউল্লাহ
রহঃ লিখিত আল-ইনসাফ
পৃষ্ঠা নং ৬৭।

আল্লামা তাজ উদ্দীন
সুবকী রহঃ লিখিত
ত্ববকাতুশ
শাফেয়ী পৃষ্ঠা নং ২/২।

২। ইমাম মুসলিম
রহঃ শাফেয়ী মাজহাবের
অনুসারী।
সুত্রঃ ছিদ্দিক হাঃ খান
লিখিত আল-
হিত্তা পৃষ্ঠা নং ২২৮।

৩। ইমাম
তিরমিজী নিজে মুজ্তাহিদ
ছিলেন। তবে হানাফী ও
হাম্বলী মাজহাবের
প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন।
সুত্রঃ শা ওয়ালিউল্লাহ
রহঃ লিখিত আল-ইনসাফ
পৃষ্ঠা নং ৭৯।
৪। ইমাম নাসাঈ
শাফেয়ী মাজহাবের
অনুসারী ছিলেন।
সুত্রঃ নওয়াব সিদ্দীক
হাসান খান লিখিত আল-
হিত্তা পৃষ্ঠা নং ২৯৩।
৫। ইমাম আবুদাউদ
রহঃ শাফেয়ী।
সুত্রঃ আল-
হিত্তা পৃষ্ঠা নং ২২৮।
আল্লামা আনোয়ার শাহ
কাশ্মিরী রহঃ ইবনেতাইমিয়ার
উদ্ধৃতি দিয়ে ফয়জুল
বারী ১/৫৮ তে ইমাম
আবুদাউদ
রহঃ কে হাম্বলী বলে উল্লেখ
করেছেন।
৬। ইমাম ইবনে মাজাহ
শাফেয়ী মাজহাবের অনুসারী।
সুত্রঃ ফয়জুল
বারী ১/৫৮।
এ গেল ছিহাহ ছিত্তার
ইমামগণের মাজহাব।
অন্যান্য ইমামগণের
মাজহাব নবাব ছিদ্দীক
হাসান খান সাহেবের আল-
হিত্তা থেকে।
৭। মিশকাত শরিফ
প্রণেতা শাফেয়ী, পৃঃ ১৩৫
৮। ইমাম
খাত্তাবী রহঃ শাফেয়ী,
পৃঃ ১৩৫
৯। ইমাম
নববী রহঃ শাফেয়ী,
পৃঃ ১৩৫
১০। ইমাম
বাগভী রহঃ শাফেয়ী,
পৃঃ ১৩৮
১১। ইমাম
ত্বহাবী হাম্বলী, পৃঃ১৩৫
১২। বড় পীর আঃ কাদের
জিলানী রহঃ হাম্বলী,
পৃঃ ৩০০
১৩। ইমাম
ইবনে তাইমিয়া হাম্বলী,
পৃঃ ১৬৮
১৪। ইবনে কায়্যিম
রহঃ হাম্বলী, পৃঃ ১৬৮
১৫। ইমাম ইবনে আব্দিল
বার রহঃ মালেকী, পৃঃ ১৩৫
১৬। ইমাম আব্দুল হক
মুহাদ্দেসে দেহলবীরহঃহানাফী,
পৃঃ ১৬০
১৭। শাহ ওয়ালিউল্লাহ
দেহলবী রহঃ হানাফী,
পৃঃ ১৬০-১৬৩
১৮। ইমাম ইবনে বাত্তাল
রহঃ মালেকী, পৃঃ ২১৩
১৯। ইমাম
হালাবী রহঃ হানাফী পৃঃ ২১৩
২০। ইমাম শামসুদ্দীন আবু
আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ
ইবনে আব্দুদদায়েম
রহঃ শাফেয়ী, পৃঃ ২১৫
২১। ইমাম বদরুদ্দীন
আঈনী রহঃ হানাফী,
পৃঃ ২১৬
২২। ইমাম
যারকানী রহঃ শাফেয়ী,
পৃঃ ২১৭
২৩। ইমাম
ক্বাজী মুহিব্বুদ্দীন
হাম্বলী, পৃঃ ২১৮
২৪। ইমাম ইবনে রজব
হাম্বলী, পৃঃ ২১৯
২৫। ইমাম
বুলকিনী শাফেয়ী, পৃঃ ২১৯
২৬। ইমাম
মার্যুকী মালেকী পৃঃ ২২০
২৭। ইমাম জালালুদ্দীন
বকরী শাফেয়ী, পৃঃ২২০
২৮। ইমাম
কাস্তাল্লানী শাফেয়ী,
পৃঃ ২২২
২৯। ইমাম
ইবনে আরাবী মালেকী,
পৃঃ ২২৪
এমন কি ওহাবীরা তাদের মডেল
৩০। আব্দুল ওয়াহ্হাব নজদীকে ও
হাম্বলী বলে উল্লেখ
করেছেন নওয়াব সিদ্দিক
হাসান খান তার আল-
হিত্তাতু ফিস সিহাহিস
সিত্তাহ’র ১৬৭ পৃষ্ঠায়।
৩১। ইমাম তাহাবী রহঃ ছিলেন
হানাফী রহঃ এর অনুসারী।

প্রশ্নোত্তরে হানাফী মাযহাব


প্রশ্ন ১:-
আমরা শুনেছি,হানাফী মাজহাবের অনেক সিদ্ধান্ত ইমাম
আবু হানীফা (রাহ.) এর মত থেকে কিছু কিছু ভিন্ন রয়েছে । এর কিছু উদাহরণ জানাতে পারবেন কি?
জাযাকাল্লাহু খাইরান,
মোঃ গুলশানুর রহমান

জবাব :-

আপনার জানা কথাটি সঠিক।এখানে একটা জিনিস খেয়াল রাখবেন ""ইমামে আজম তাবেয়ী ছিলেন তখন কোন পরিস্থিতিতে কোন মাসআলা দিয়েছিলেন আর ওনার মাযহাবের ইমামগন কেউ কোন যুগে কোন পরিস্থিতিতে পরে ফতোয়া দিয়েছিলেন তা অবশ্যই বিবেচনার বিষয় তাই কাউকে হুট করে ভুল বলে দিতে পারবেন না এটা কোকামী ছাড়া আর কিছু হবে না।""

ফিক্বহে হানাফীর অনেক মাসআলায় ইমাম আবু হানীফার সাগরীদ ইমাম আবু ইউসুফ রহ., ইমাম মুহাম্মদ রহ. এবং ইমাম যুফার বা অন্যান্যদের মতের
উপরও ফাতওয়ার অনেক নজীর রয়েছে। নিম্নে কয়েকটি উপমা উপস্থাপন করা হল ।ইমাম আবু ইউসুফ রহ. এর মতের উপর ফতোয়ার উপমা:-

১. ইমাম আবু হানীফা রহ. এবং মুহাম্মদ রহ. এর মতে এক বিচারক যখন ফায়সার জন্য অন্য
বিচারকের কাছে পত্র লিখে। তখন উক্ত পত্রে কি লিখা আছে তা পত্র বাহককে পড়ে শুনিয়ে তারপর তার সামনে সিলমহর মেরে হস্তান্তর করতে হবে। নতুবা এই
পত্রটি বিচার কার্য সমাধার জন্য
কার্যকরী হবেনা।

পক্ষান্তরে ইমাম আবু হানিফার ছাত্র ইমাম আবু ইউসুফ রহ. এর মতে কেবল
পত্র লিখে তা বাহককে না জানিয়েও তা অন্য বিচারকের
কাছে প্রেরণ করলে এ দ্বারা বিচার কার্য পরিচালনা করা যাবে। এই
মতের উপরই ফতোয়া। সুতরাং এখানে ইমাম আবু হানীফা রহ. ও মুহাম্মদ রহ. এর মত আমলযোগ্য নয়। (হেদায়া-৩/১২৩-১২৪)
এখানে স্থান কাল পাত্র বিশেষে ২জনের ফতোয়াই কাজে লাগতে পারে।

২. যখন কোন বোকা টাইপের স্বাক্ষ্য কাযীর মজলিসে স্বাক্ষ্য দিতে হাজির হয় তখন স্বাক্ষিকে বিচারক
স্বাক্ষ্যের পদ্ধতি শিখিয়ে দিতে পারবেনা। এটা জায়েজ নয় ইমাম আবু হানীফা রহ. ও মুহাম্মদ রহ.
এর মতে।

কিন্তু ইমাম আবু
ইউসুফ রহ. এর মতে অবুঝ
ব্যক্তিকে শিখিয়ে দেয়া কেবল
জায়েজই নয় উত্তমও। এই মতের উপরই ফতোয়া । (ফাতওয়ায়ে শামী-৮/৫৩)

ইমাম মুহাম্মদ রহ. এর মতের উপর ফাতওয়ার
উপমা
১. মিরাস তথা ত্যাজ্য সম্পত্তি বন্টনের প্রায় সকল মাসআলায় ইমাম মুহাম্মদ রহ এর বক্তব্যের
উপর ফতোয়া।

২. ইমাম আবু হানীফা রহ. এর মতে ওযুর পানি নাপাক। তাই এটি গায়ে লাগলে কাপড় নাপাক হয়ে যাবে। আর ইমাম মুহাম্মদ রহ. বলেন- অযুর পানি পাক। তবে এর দ্বারা পবিত্রতা অর্জন
করা যাবেনা । ফাতওয়া এই
মতের উপর। ইমাম যুফার রহ. এর মতের উপর ফাতওয়ার উপমা

১. যে অসুস্থ্য ব্যক্তি দাড়িয়ে নামায পড়তে পারেনা সে ব্যক্তি যেভাবে ইচ্ছে বসে নামায পড়তে পারবে ইমাম আবু হানীফা রহ. এবং আবু ইউসুফ ও মুহাম্মদ রহ. এর মতে। কিন্তু ইমাম যুফার রহ. এর মতে তাশাহুদের সুরতে বসে নামায পড়তে হবে। ফাতওয়া এই
মতের উপর। (ফাতওয়ায়ে শামী-২/৫৬৫)

২. তিন ইমামের মতে বাড়ির আঙ্গিনা দেখার দ্বারা ক্রয় করার সময়ের দেখার হক সাকিত হয়ে যায়। কিন্তু ইমাম যুফার রহ. এর
মতে বাড়ির আঙ্গিনা দেখার দ্বারা ভিতরাংশ দেখার হক সাকিত হয়না। এই মতে উপরই ফিক্বহে হানাফীর ফাতওয়া। (ফাতওয়ায়ে শামী-৭/১৫৮)

এরকম অসংখ উদাহরণ রয়েছে যেখানে ইমাম আবু হানীফা রহ. এর বক্তব্যের
উপর ফাতওয়া নয়। বিস্তারিত জানতে দেখুন- মুফতী সালমান
মানসুরপুরী দাঃ বাঃ এর লিখা “ফাতওয়া নাওয়িসী কি রাহনুমা উসূল”।



বিপদে আপদের সময় যেসব দোয়া পড়বেনঃ

বিপদ-মসিবতে পাঠ করার জন্য কতিপয় দোয়া  এবং এর জন্য আমল: ♦১) উম্মে সালমা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ও...