Sunday, June 21, 2015

প্রশ্নোত্তরে রমজান (পর্ব ১) :-



       ১ম অধ্যায়
সিয়াম : অর্থ ও হুকুম



সিয়াম : অর্থ ও হুকুম

প্রশ্ন ১ : সিয়ামের শাব্দিক অর্থ কি?
উত্তর : এটি আরবি শব্দ। সিয়ামের শাব্দিক অর্থ বিরত থাকা। ফার্সী ভাষায় এটাকে রোযা বলা হয়।

প্রশ্ন ২ : রমযান মাসের সিয়ামের হুকুম কি?
উত্তর : এটা ফরয।

প্রশ্ন ৩ : এটা কোন হিজরী সালে ফরয হয়েছে?
উত্তর : দ্বিতীয় হিজরীতে।

প্রশ্ন ৪ : সিয়াম ফরয হওয়ার দলীল জানতে চাই।
উত্তর :

(ক) আল্লাহ তা‘আলা বলেন :

﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ كُتِبَ عَلَيۡكُمُ ٱلصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى ٱلَّذِينَ مِن قَبۡلِكُمۡ لَعَلَّكُمۡ تَتَّقُونَ ١٨٣ ﴾ [البقرة: ١٨٣]

[১] ঈমানদারগণ!, তোমাদের উপর সিয়াম ফরয করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মাতের উপর। যাতে তোমরা মুত্তাকী হতে পার। (বাকারাহ : ১৮৩)

﴿ شَهۡرُ رَمَضَانَ ٱلَّذِيٓ أُنزِلَ فِيهِ ٱلۡقُرۡءَانُ هُدٗى لِّلنَّاسِ وَبَيِّنَٰتٖ مِّنَ ٱلۡهُدَىٰ وَٱلۡفُرۡقَانِۚ فَمَن شَهِدَ مِنكُمُ ٱلشَّهۡرَ فَلۡيَصُمۡهُۖ …١٨٥ ﴾ [البقرة: ١٨٥]

[২] রমযান হলো সেই মাস যে মাসে কুরআন নাযিল করা হয়েছিল। মানবজাতির জন্য হিদায়াত ও সুস্পষ্ট পথ নির্দেশক এবং হক ও বাতিলের পার্থক্য নির্ণয়কারী। কাজেই তোমাদের মধ্যে যারাই এ মাস পাবে তারা যেন অবশ্যই সিয়াম পালন করে। (বাকারাহ : ১৮৫)

(খ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :

بُنِيَ الإِسْلاَمُ عَلَى خَمْسٍ شَهَادَةِ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ وَإِقَامِ الصَّلاَةِ وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ وَصَوْمِ رَمَضَانَ وَحَجِّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيْلاً

ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি : এ মর্মে সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ছাড়া আর সত্যিকার কোন মাবুদ নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়েম করা, যাকাত দেয়া, হজ করা এবং রমযান মাসের সিয়াম পালন করা। (বুখারী : ৮; মুসলিম : ১৬)




           ২য় অধ্যায়
      فضل شهر رمضان
    রমযান মাসের ফযীলত




[১] এ মাসের সিয়াম পালন জান্নাত লাভের একটি মাধ্যম।
নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

مَنْ آمَنَ بِاللهِ وَبِرَسُولِهِ وَأَقَامَ الصَّلَاةَ وآتى الزَّكَاةَ وَصَامَ رَمَضَانَ كَانَ حَقًّا عَلَى اللهِ أَنْ يُدْخِلَهُ الْجَنَّةَ

অর্থাৎ যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনল, সালাত কায়েম করল, যাকাত আদায় করল, রমযান মাসে সিয়াম পালন করল তার জন্য আল্লাহর উপর সে বান্দার অধিকার হল তাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দেয়া। (বুখারী : ২৭৯০)


সিয়াম যেমন এ মাসে, কুরআনও নাযিল হয়েছে এ মাসেই। ইতিপূর্বেকার তাওরাত, যাবুর, ইঞ্জীলসহ যাবতীয় সকল আসমানী কিতাব এ মাহে রমযানেই নাযিল হয়েছিল। (সহীহ আল জামে)
এ মাসেই জিবরীল আলাইহিস সালাম নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কুরআন শুনাতেন এবং তাঁর কাছ থেকে তিলাওয়াত শুন্তেন। আর রাসূলের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীবনের শেষ রমযানে পূর্ণ কুরআন দু’বার খতম করেছেন। (মুসলিম)

[২] রমযান মাসে জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়।

إِذَا جَاءَ رَمَضَانَ فُتِحَتْ أَبْوَابُ الْجَنَّةَ وَأُغْلِقَتْ أَبْوَابُ النَّارِ وَصُفِّدَتِ الشَّيَاطِيْنَ (وَفِيْ لَفْظٍ سُلْسِلَتِ الشَّيَاطِيْنَ)

‘‘যখন রমযান আসে তখন জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয় আর জাহা্ন্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয় এবং শয়তানদের আবদ্ধ করা হয়।’’ (মুসলিম : ২৫৪৭)


[৩] এ রমযান মাসের লাইলাতুল কদরের এক রাতের ইবাদত অপরাপর এক হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও বেশি। অর্থাৎ ৮৩ বছর ৪ মাসের ইবাদতের চেয়েও বেশি সাওয়াব হয় এ মাসের ঐ এক রজনীর ইবাদতে।

(ক) আল্লাহ তা‘আলা বলেন :

﴿ لَيۡلَةُ ٱلۡقَدۡرِ خَيۡرٞ مِّنۡ أَلۡفِ شَهۡرٖ ٣ تَنَزَّلُ ٱلۡمَلَٰٓئِكَةُ وَٱلرُّوحُ فِيهَا بِإِذۡنِ رَبِّهِم مِّن كُلِّ أَمۡرٖ ٤ سَلَٰمٌ هِيَ حَتَّىٰ مَطۡلَعِ ٱلۡفَجۡرِ ٥ ﴾ [القدر: ٣،  ٥]

অর্থাৎ ‘‘কদরের এক রাতের ইবাদত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। এ রাতে ফেরেশতা আর রূহ (জিরীল আঃ) তাদের রবের অনুমতিক্রমে প্রত্যেক কাজে দুনিয়ায় অবতীর্ণ হয়। (এ রাতে বিরাজ করে) শান্তি আর শান্তি- তা ফজর উদয় হওয়া পর্যন্ত থাকে।’’ (সূরা ক্বদর : ৪-৫)

(খ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :

.....لله فِيْهِ لَيْلَةٌ خَيْرٌ مِّنْ أَلْفِ شَهْرٍ مَنْ حَرُمَ خَيْرُهَا فَقَدْ حَرُمَ

‘‘এ মাসে এমন একটি রাত রয়েছে যা হাজার রাতের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। যে ব্যক্তি এর কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হল সে মূলতঃ সকল কল্যাণ থেকেই বঞ্চিত হল।’’ (নাসায়ী : ২১০৬)

[৪] এ পুরো মাস জুড়ে দু‘আ কবূল হয় :-
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :

لِكُلِّ مُسْلِمٍ دَعْوَةٌ مُسْتَجَابَةٌ يَدْعُوْ بِهَا فِيْ رَمَضَانَ

অর্থাৎ ‘‘এ রমযান মাসে প্রত্যেক মুসলমান আল্লাহর সমীপে যে দু‘আই করে থাকে-তা মঞ্জুর হয়ে যায়।’’ (আহমাদ : ২/২৫৪)

[৫] এ মাসে মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেয়া হয়
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :

إِنَّ لِلَّهِ عُتَقَاءَ فِي كُلِّ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ، لِكُلِّ عَبْدٍ مِنْهُمْ دَعْوَةٌ مُسْتَجَابَةٌ

অর্থাৎ (মাহে রমাযানে) প্রতিরাত ও দিনের বেলায় বহু মানুষকে আল্লাহ তা‘আলা জাহান্নাম থেকে মুক্তির ঘোষণা দিয়ে থাকেন এবং প্রতিটি রাত ও দিনের বেলায় প্রত্যেক মুসলিমের দু‘আ- মুনাজাত কবূল করা হয়ে থাকে। (মুসনাদ আহমদ : ৭৪৫০)

[৬] এ মাস জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভের মাস
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :

يُنَادِيْ مُنَادٍ كُلَّ لَيْلَةٍ : يَا بَاغِىَ الْخَيْرَ أَقْبِلْ وَيَا بَاغِيَ الشَّرِّ أَقْصِرْ وَلله عُتَقَاءُ مِنَ النَّارِ وَذَلِكَ فِيْ كُلِّ لَيْلَةٍ

‘‘(এ মাসের)  প্রত্যেক রাতে একজন ঘোষণাকারী এ বলে আহবান করতে থাকে যে, হে কল্যাণের অনুসন্ধানকারী তুমি আরো অগ্রসর হও! হে অসৎ কাজের পথিক, তোমরা অন্যায় পথ চলা বন্ধ কর। (তুমি কি জান?) এ মাসের প্রতি রাতে আল্লাহ তা‘আলা কত লোককে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিযে থাকেন। (তিরমিযী : ৬৮২)

[৭] এ মাস ক্ষমা লাভের মাস
এ মাস ক্ষমা লাভের মাস। এ মাস পাওয়ার পরও যারা তাদের আমলনামাকে পাপ-পঙ্কিলতা মুক্ত করতে পারল না রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে ধিক্কার দিয়ে বলেছেন :

رَغِمَ أَنْفُ رَجُلٍ دَخَلَ عَلَيْهِ رَمَضَانَ ثُمَّ انْسَلَخَ قَبْلَ أَن يَّغْفِرَلَهُ

‘‘ঐ ব্যক্তির নাক ধূলায় ধুসরিত হোক যার কাছে রমযান মাস এসে চলে গেল অথচ তার পাপগুলো ক্ষমা করিয়ে নিতে পারল না।’’ (তিরমিযী : ৩৫৪৫)



[১০] রমযান মাসে সৎ কর্মের প্রতিদান বহুগুণে বৃদ্ধি করে দেয়া হয়
এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

مَنْ تَقَرَّبَ فِيْهِ بِخَصْلَةٍ مِنَ الْخَيْرِ كَانَ كَمَنْ أَدَّى فَرِيْضَةً فِيْمَا سِوَاهُ وَمَنْ أَدَّى فِيْهِ فَرِيْضَةٌ كَانَ كَمَنْ أَدَّى سَبْعِيْنَ فَرِيْضَةً فِيْمَا سِوَاهُ
‘যে ব্যক্তি রমযান মাসে কোন একটি নফল ইবাদত করল, সে যেন অন্য মাসের একটি ফরয আদায় করল। আর রমযানে যে ব্যক্তি একটি ফরয আদায় করল, সে যেন অন্য মাসের ৭০টি ফরয আদায় করল।’ (সহীহ ইবন খুযাইমা : ১৮৮৭)




[১১] এ মাসে একটি উমরা করলে একটি হজ্জ আদায়ের সওয়াব হয় এবং তা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে হজ্জ আদায়ের মর্যাদা রাখে।
ক- হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

فَإِنَّ عُمْرَةً فِيْ رَمَضَانَ ةَقْضِيْ حَجَّةً مَعِيْ

‘‘রমযান মাসে উমরা করা আমার সাথে হজ্জ আদায় করার সমতুল্য’’। (বুখারী : ১৮৬৩)
হাদীসে আছে,

খ-একজন মেয়েলোক এসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করল,

مَا يَعْدِلُ حَجَّةٌ مَعَكَ؟ فَقَالَ : عُمْرَةُ فِيْ رَمَضَانَ

‘‘কোন ইবাদতে আপনার সাথী হয়ে হজ্জ করার সমতুল্য সাওয়াব পাওয়া যায়? তিনি উত্তর দিলেন, ‘‘রমযান মাসে উমরা করা’’ (আবূ দাউদ : ১৮৯৯০)



      ৩য় অধ্যায়
    فضل الصيام
সিয়াম পালনের ফযীলত



প্রশ্ন ৬ : সিয়াম পালনকারীকে আল্লাহ কী কী পুরস্কার দেবেন?
উত্তর : সিয়াম পালনকারীকে যেসব পুরস্কার ও প্রতিদান আল্লাহ তা‘আলা দেবেন তার অংশ বিশেষ এখানে উল্লেখ করা হল :

[১] আল্লাহ স্বয়ং নিজে সিয়ামের প্রতিদান দেবেন।
হাদীসে কুদসীতে আছে, আল্লাহ তা‘আলা বলেন :

كُلُّ عَمَلِ بَنِىْ آَدَمَ لَهُ إِلاَّ الصِّيَامَ فَإِنَّهُ لِيْ وَأَنَا أَجْزِئ بِهِ

‘‘মানুষের প্রতিটি ভাল কাজ নিজের জন্য হয়ে থাকে, কিন্তু সিয়াম শুধুমাত্র আমার জন্য, অতএব আমি নিজেই এর প্রতিদান দেব। (বুখারী : ১৯০৪)

[২] সিয়াম অতি উত্তম নেক আমল
আবূ হুরাইরাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’র একটি হাদীসে তিনি বলেছিলেন :

يَا رَسُوْلَ اللهِ مُرْنِيْ بِعَمَلٍ، قَالَ عَلَيْكَ بِالصَّوْمِ فَإِنَّهُ لاَ عَدْلَ لَهُ

‘‘হে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমাকে একটি অতি উত্তম নেক আমলের নির্দেশ দিন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি সিয়াম পালন কর। কেননা এর সমমর্যাদা সম্পন্ন কোন আমল নেই।’’ (নাসাঈ : ২২২২)


[৪] জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য সিয়াম ঢাল স্বরূপ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :

اَلصِّيَامُ جُنَّةٌ يَسْتَجِنُّ بِهَا الْعَبْدُ مِنَ النَّارِ

‘‘সিয়াম ঢাল স্বরূপ। এ দ্বারা বান্দা তার নিজেকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করতে পার।’’ (আহমাদ : ১৫২৯৯)

[৫] জাহান্নাম থেকে বাঁচার জন্য সিয়াম একটি মজবুত দূর্গ
হাদীসে আছে,

اَلصِّيَامُ جُنَّةٌ وَحِصْنُ حَصِيْنٌ مِنَ النَّارِ

‘‘সিয়াম ঢালস্বরূপ এবং জাহান্নাম থেকে বাঁচার এক মজবুত দূর্গ।’’ (আহমাদ : ৯২২৫)

[৬] আল্লাহর পথে সিয়াম পালনকারীকে আল্লাহ জাহান্নাম থেকে দূরে রাখেন।
এ বিষয়ে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :

ا- مَا مِنْ عَبْدٍ يَصُوْمُ يَوْمًا فِيْ سَبِيْلِ اللهِ إِلاَّ بَاعَدَ اللهُ بِذَلِكَ وَجْهَهُ عَنِ النَّارِ سَبْعِيْنَ خَرِيْفًا

(ক) ‘‘যে কেউ আল্লাহর রাস্তায় (অর্থাৎ শুধুমাত্র আল্লাহকে খুশী করার জন্য) একদিন সিয়াম পালন করবে, তদ্বারা আল্লাহ তাকে জাহান্নামের অগ্নি থেকে সত্তর বছরের রাস্তা পরিমাণ দূরবর্তীস্থানে রাখবেন। (বুখারী : ২৮৪০; মুসলিম : ১১৫৩)

ب-مَنْ صَامَ يَوْمًا فِيْ سَبِيْلِ اللهِ بَاعَدَ اللهُ وَجْهَهُ عَنِ النَّارِ سَبْعِيْنَ خَرِيْفًا

(খ) ‘‘যে ব্যক্তি একদিন আল্লাহর পথে সিয়াম পালন করবে আল্লাহ তার কাছ থেকে জাহান্নামকে সত্তর বছরের রাস্তা দূরে সরিয়ে নেবেন। (মুসলিম : ১১৫৩)

ج-عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ يَا رَسُولَ اللهِ مُرْنِي بِأَمْرٍ يَنْفَعُنِي اللهُ بِهِ قَالَ عَلَيْكَ بِالصِّيَامِ فَإِنَّهُ لاَ مِثْلَ لَهُ

(গ) আবূ হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, ‘‘আমি আল্লাহর রাসূলকে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন একটি কাজের নির্দেশ দিন যার দ্বারা আমি লাভবান হতে পারি। তিনি বললেন, তুমি সিয়াম পালন কর। কেননা এর সমকক্ষ (মর্যাদা সম্পন্ন) কোন ইবাদত নেই। (নাসাঈ : ২২২১)



[৭] ইফতারের সময় বহু লোককে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন।
হাদীসে আছে :

إِنَّ للهِ تَعَالَى عِنْدَ كُلِّ فِطْرٍ عُتَقَاءُ مِنَ النَّارِ، وَذَلِكَ كُلّ لَيْلَةٍ

ইফতারের মূহূর্তে আল্লাহ রাববুল ‘আলামীন বহু লোককে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন। মুক্তির এ প্রক্রিয়াটি রমাযানের প্রতি রাতেই চলতে থাকে। (আহমাদ : ৫/২৫৬)

[৮] সিয়াম পালনকারীর মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে মিশ্কের চেয়েও উত্তম (সুগন্ধিতে পরিণত হয়)।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :

وَالَّذِيْ نَفْسِ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَخُلُوْفُ فَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللهِ مِنْ رِيْحِ الْمِسْكِ.

যার হাতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’র জীবন সে সত্তার শপথ করে বলছি, সিয়াম পালনকারীর মুখের গন্ধ আল্লাহ তা‘আলার কাছে মিশকের ঘ্রাণের চেয়েও প্রিয় হয়ে যায়। (বুখারী : ১৯০৪;   মুসলিম : ১১৫১)


[৯] সিয়াম পালনকারীর জন্য রয়েছে দু’টি বিশেষ আনন্দ মুহূর্ত।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :

لِلصَّائِمِ فَرْحَتَانِ فَرْحَةٌ عِنْدَ فِطْرِهِ وَفَرْحَةٌ عِنْدَ لِقَاءِ رَبِّهِ

সিয়াম পালনকারীর জন্য দু’টো বিশেষ আনন্দ মুহূর্ত রয়েছে : একটি হল ইফতারের সময়, আর দ্বিতীয়টি হল তার রবের সাথে সাক্ষাতের সময়। (বুখারী : ৭৪৯২; মুসলিম : ১১৫১)

[১০] সিয়াম কিয়ামাতের দিন সুপারিশ করবে
হাদীসে আছে,

اَلصِّيَامُ وَالْقُرْآنُ يَشْفَعَانِ لِلْعَبْدِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يَقُولُ الصِّيَامُ أَيْ رَبِّ مَنَعْتُهُ الطَّعَامَ وَالشَّهَوَاتِ بِالنَّهَارِ فَشَفِّعْنِي فِيهِ وَيَقُولُ الْقُرْآنُ مَنَعْتُهُ النَّوْمَ بِاللَّيْلِ فَشَفِّعْنِي فِيهِ قَالَ فَيُشَفَّعَانِ

সিয়াম ও কুরআন কিয়ামাতের দিন মানুষের জন্য এভাবে সুপারিশ করবে যে, সিয়াম বলবে হে আমার রব, আমি দিনের বেলায় তাকে (এ সিয়াম পালনকারীকে) পানাহার ও যৌনতা থেকে বিরত রেখেছি। তাই তার ব্যাপারে তুমি আমার সুপারিশ কবূল কর।
অনুরূপভাবে কুরআন বলবে, হে আমার রব, আমাকে অধ্যয়নরত থাকায় রাতের ঘুম থেকে আমি তাকে বিরত রেখেছি। তাই তার ব্যাপারে তুমি আমার সুপারিশ কবূল কর। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, অতঃপর উভয়ের সুপারিশই কবূল করা হবে। (আহমাদ : ২/১৭৪)

[১১] সিয়াম হল গুনাহের কাফফারা
(ক) আল্লাহ তাআলা বলেন,

﴿ ... إِنَّ ٱلۡحَسَنَٰتِ يُذۡهِبۡنَ ٱلسَّيِّ‍َٔاتِۚ ١١٤ ﴾ [هود: ١١٤]

নিশ্চয়ই নেক আমল পাপরাশি দূর করে দেয়। (সূরা হুদ : ১১৪)
(খ) নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

فِتْنَةُ الرَّجُلِ فِي أَهْلِهِ وَمَالِهِ وَوَلَدِهِ وَجَارِهِ تُكَفِّرُهَا الصَّلَاةُ وَالصَّوْمُ وَالصَّدَقَةُ (بخارى ومسلم(

পরিবার পরিজন, ধন-সম্পদ ও প্রতিবেশিদের নিয়ে জীবন চলার পথে যেসব গুনাহ মানুষের হয়ে যায় সালাত, সিয়াম ও দান খয়রাত সেসব গুনাহ মুছে ফেলে দেয়। (বুখারী : ৫২৫; মুসলিম : ১৪৪)


[১২] সিয়াম পালনকারীর এক রমযান থেকে পরবর্তী রমাযানের মধ্যবর্তী সময়ে হয়ে যাওয়া ছগীরা গুনাহগুলোকে মাফ করে দেয়া হয়।
ক- আল্লাহ তাআলা বলেন,

﴿ إِن تَجۡتَنِبُواْ كَبَآئِرَ مَا تُنۡهَوۡنَ عَنۡهُ نُكَفِّرۡ عَنكُمۡ سَيِّ‍َٔاتِكُمۡ وَنُدۡخِلۡكُم مُّدۡخَلٗا كَرِيمٗا ٣١ ﴾ [النساء: ٣١]

‘‘তোমরা যদি নিষিদ্ধ কবীরা গুনাহ থেকে বিরত থাক তাহলে তোমাদের ছগীরা গুনাহগুলোকে মুছে দেব এবং (জান্নাতে) তোমাদেরকে সম্মানজনক স্থানে প্রবেশ করাব। (সূরা নিসা : ৩১)

খ-রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :

اَلصَّلَوَاتُ الْخَمْسُ وَالْجُمُعَةُ إِلَى الْجُمُعَةِ وَرَمَضَانُ إِلَى رَمَضَانَ مُكَفَّرَاتٌ لِمَا بَيْنَهُنَّ إِذَا اجْتَنِبَتِ الْكَبَائِرُ

পাঁচ ওয়াক্ত সালাত এর মধ্যবর্তী সময় ও এক জুমুআ থেকে অপর জুমুআ এবং এক রমযান থেকে অপর রমযান পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়ের মধ্যে হয়ে যাওয়া ছগীরা গুনাহগুলোকে (উল্লেখিত ইবাদতের) কাফ্ফারাস্বরূপ মুছে দেয়া হয় সে যদি কবীরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকে। (মুসলিম : ২৩৩)

[১৩] সিয়াম পালনকারীর পূর্বেকার গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়।
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

مَنْ صَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ

যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সাওয়াব হাসিলের আশায় রমযানে সিয়াম পালন করবে, তার অতীতের সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। (বুখারী  : ৩৮; মুসলিম : ৭৬৯)

[১৪] সিয়াম যৌনপ্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণে রাখে
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ مَنْ اسْتَطَاعَ مِنْكُمْ الْبَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ فَإِنَّهُ أَغَضُّ لِلْبَصَرِ وَأَحْصَنُ لِلْفَرْجِ وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَعَلَيْهِ بِالصَّوْمِ فَإِنَّهُ لَهُ وِجَاءٌ

হে যুবকেরা! তোমাদের মধ্যে যে সামর্থ রাখে সে যেন বিবাহ করে।

কেননা বিবাহ দৃষ্টি ও লজ্জাস্থানের হেফাযতকারী। আর যে ব্যক্তি বিবাহের সামর্থ রাখেনা সে যেন সিয়াম পালন করে। কারণ এটা তার জন্য নিবৃতকারী। (অর্থাৎ সিয়াম পালন যৌন প্রবৃত্তি নিবৃত করে রাখে) (বুখারী : ১৯০৫; মুসলিম : ১৪০০)


[১৫] সিয়াম পালনকারীরা রাইয়ান নামক মহিমান্বিত এক দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

إِنَّ فِي الْجَنَّةِ بَابًا يُقَالُ لَهُ الرَّيَّانُ يَدْخُلُ مِنْهُ الصَّائِمُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ لاَ يَدْخُلُ مِنْهُ أَحَدٌ غَيْرُهُمْ يُقَالُ أَيْنَ الصَّائِمُونَ فَيَقُومُونَ لاَ يَدْخُلُ مِنْهُ أَحَدٌ غَيْرُهُمْ فَإِذَا دَخَلُوا أُغْلِقَ فَلَمْ يَدْخُلْ مِنْهُ أَحَدٌ

জান্নাতে একটি দরজা রয়েছে। যার নাম রাইয়্যান। কিয়ামতের দিন শুধু সিয়ামপালনকারীরা ঐ দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে। তাদের ছাড়া অন্য কেউ সেই দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। সেদিন ঘোষণা করা হবে, সিয়াম পালনকারীরা কোথায়? তখন তারা দাঁড়িয়ে যাবে ঐ দরজা দিয়ে প্রবেশ করার জন্য। তারা প্রবেশ করার পর ঐ দরজাটি বন্ধ করে দেয়া হবে। ফলে তারা ব্যতীত অন্য কেউ আর সেই দরজা দিয়ে জান্নাতে ঢুকতে পারবেনা। (বুখারী : ১৮৯৬; মুসলিম : ১১৫২)


প্রশ্ন ৭ : কী ধরনের শর্ত পূরণ সাপেক্ষে উপরে বর্ণিত অফুরন্ত ফযীলত ও সওয়াব হাসিল করা যাবে?

উত্তর : সিয়ামের বরকতময় সাওয়াব ও পুরস্কার হাসিলের জন্য নিম্নোক্ত শর্তাবলী পূরণ করা আবশ্যক।

[১] শুধুমাত্র আল্লাহকে খুশী করার জন্য সিয়াম পালন করতে হবে। মনের মধ্যে লোক দেখানোর ইচ্ছা বা অপরকে শুনানোর কোন ক্ষুদ্র অনুভূতি থাকতে পারবে না।

[২] সিয়াম পালন, সাহরী, ইফতার ও তারাবীহসহ সকল ইবাদত রাসূলের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুন্নাত তরীকামত পালন করতে হবে।

[৩] খাওয়া-দাওয়া ও যৌনাচার ত্যাগের মত মিথ্যা, প্রতারণা, সুদ, ঘুষ, অশ্লীলতা, ধোঁকাবাজি ও ঝগড়াবিবাদসহ সকল অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। চোখ, কান, জিহবা ও হাত পা সকল ইন্দ্রীয়কে অন্যায় কাজ থেকে হেফাযতে রাখতে হবে।




রাসূলু্ল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

أ-مَنْ لَمْ يَدَعْ قَوْلَ الزُّورِ وَالْعَمَلَ بِهِ وَالْجَهْلَ فَلَيْسَ للهِ حَاجَةٌ أَنْ يَدَعَ طَعَامَهُ وَشَرَابَهُ (بخارى)

ক) যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও কাজ এবং মুর্খতা পরিত্যাগ করতে পারলনা, তার রোযা রেখে শুধুমাত্র পানাহার বর্জনে আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই। (বুখারী : ১৯০৩)

ب-...فَإِذَا كَانَ يَوْمُ صَوْمِ أَحَدِكُمْ فَلاَ يَرْفَثْ يَوْمَئِذٍ وَلاَ يَصْخَبْ فَإِنْ سَابَّهُ أَحَدٌ أَوْ قَاتَلَهُ فَلْيَقُلْ إِنِّي امْرُؤٌ صَائِمٌ

খ) তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি সিয়াম পালন করবে সে যেন অশ্লীল আচরণ ও চেচামেচি করা থেকে বিরত থাকে। যদি কেউ তাকে গালি দেয় বা তার দিকে মারমুখী হয়ে আসে তবে সে যেন তাকে বলে ‘আমি রোযাদার’। (অর্থাৎ রোযা অবস্থায় আমি গালিগালাজ ও মারামারি করতে পারি না। (মুসলিম : ১১৫১)

ج-رُبَّ صَائِمٍ حَظُّهُ مِنْ صِيَامِهِ الْجُوعُ وَالْعَطَشُ وَرُبَّ قَائِمٍ حَظُّهُ مِنْ قِيَامِهِ السَّهَرُ (رواه أحمد)

গ) এমন অনেক রোযাদার আছে যার রোযা থেকে প্রাপ্তি হচ্ছে শুধুমাত্র ক্ষুধা ও তৃষ্ণা। তেমনি কিছু নামাযী আছে যাদের নামায কোন নামাযই হচ্ছে না। শুধু যেন রাত জাগছে। (অর্থাৎ সালাত আদায় ও সিয়াম পালন সুন্নাত তরীকামত না হওয়ার কারণে এবং মিথ্যা প্রতারণা ও পাপাচার ত্যাগ না করায় তাদের রোযা ও নামায কোনটাই কবুল হচ্ছে না) (আহমাদ : ৮৮৪৩)

[৪] চতুর্থতঃ ঈমান ভঙ্গ হয়ে যায় বা ঈমান থেকে বহিস্কৃত হয়ে যায় এমন কোন পাপাচার থেকে বিরত থাকা।




      ৫ম অধ্যায়
عقوبة تارك الصيام
সিয়াম ত্যাগকারীর শাস্তি


প্রশ্ন ১১ : যারা বিনা উযরে সিয়াম ভঙ্গ করে তাদের শাস্তি কী হবে?
উ: তারা ভীষণ শাস্তির সম্মুখীন হবে। এ বিষয়ে রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কয়েকটি হাদীস নিম্নে উল্লেখ করা হল :

[১] আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, একদিন আমি স্বপ্নে দেখলাম যে, একটি সম্প্রদায় উল্টোভাবে ঝুলছে। তাদের গালটি ফাড়া। তা থেকে রক্ত ঝরছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম এরা কারা? বলা হল, এরা ঐসব ব্যক্তি যারা বিনা উযরে রমযান মাসের সিয়াম ভঙ্গ করেছিল। (সহীহ ইবনে খুযাইমাহ)

[২] যে ব্যক্তি (রমাযানের) এ মুবারক মাসেও আল্লাহকে রাজী করাতে পারল না, সে বড়ই দুর্ভাগা। (ইবনে হিববান)

[৩] যে ব্যক্তি শরীয়তী উযর ছাড়া এ (রমযান) মাসে একটি রোযাও ছেড়ে দেবে, সে যদি এর বদলে সারা জীবনও সিয়াম পালন করে তবু তার পাপের খেসারত হবে না। (বুখারী)



৬ষ্ঠ অধ্যায়
رؤية الهلال
চাঁদ দেখা


প্রশ্ন ১২ : কিসের ভিত্তিতে সিয়াম পালন শুরু করতে হয়?
উত্তর : চাঁদ দেখার ভিত্তিতে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :

صُومُوا لِرُؤْيَتِهِ وَأَفْطِرُوا لِرُؤْيَتِهِ

[১] তোমরা চাঁদ দেখে রোযা রাখ এবং চাঁদ দেখেই তা ভঙ্গ কর (অর্থাৎ ঈদ কর)। (বুখারী : ১৯০৯; নাসাঈ : ২১১৬)

تَرَاءَى النَّاسُ الْهِلاَلَ فَأَخْبَرْتُ رَسُولَ اللهِ -صلى الله عليه وسلم- أَنِّي رَأَيْتُهُ فَصَامَهُ وَأَمَرَ النَّاسَ بِصِيَامِهِ

[২] ইবনে ‘উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, মানুষ দলে দলে চাঁদ দেখতে শুরু করল। এমনি সময় আমি চাঁদ দেখে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জানালাম। আমার এ সংবাদের উপর ভিত্তি করে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোযা রাখলেন এবং সবাইকে রোযা রাখার নির্দেশ দিলেন। (আবূ দাঊদ :  ২৩৪)

جَاءَ أَعْرَابِيٌّ إِلَى النَّبِيِّ -صلى الله عليه وسلم- فَقَالَ إِنِّي رَأَيْتُ الْهِلاَلَ يَعْنِي رَمَضَانَ فَقَالَ أَتَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ قَالَ : نَعَمْ، قَالَ : أَتَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ قَالَ: نَعَمْ، قَالَ : يَا بِلاَلُ أَذِّنْ فِي النَّاسِ فَلْيَصُومُوا غَدًا

[৩] এক গ্রাম্য ব্যক্তি এসে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জানালেন, আমি তো চাঁদ দেখেছি অর্থাৎ রমাযানের চাঁদ। অতঃপর রাসূল বললেন, তুমি কি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-(কালিমার) উপর ঈমান এনেছ? লোকটি উত্তর দিল : হ্যাঁ। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবার জিজ্ঞেস করলেন : তুমি কি আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ (অর্থাৎ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল) এ কথার উপর ঈমান এনেছ? লোকটি উত্তর দিল : হ্যাঁ। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাহাবী বেলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু কে বললেন, হে বেলাল! মানুষকে জানিয়ে দাও, তারা যেন আগামীকাল থেকে রোযা রাখে। (আবূ দাঊদ : ২৩৪০,  দুর্বল)


প্রশ্ন ১৩: আকাশ মেঘলা হলে বা অন্য কোন কারণে চাঁদ দেখা না গেলে কি করব?
উত্তর : এমন হলে ৩০ দিন পুরা করবে এবং এরপরের দিন থেকে সিয়াম পালন শুরু করবে। হাদীসে আছে-

الشَّهْرُ تِسْعٌ وَعِشْرُونَ لَيْلَةً فَلاَ تَصُومُوا حَتَّى تَرَوْهُ فَإِنْ غُمَّ عَلَيْكُمْ فَأَكْمِلُوا الْعِدَّةَ ثَلاَثِينَ

মাস হল ২৯ রাত্রি। তবে চাঁদ না দেখে তোমরা রোযা রেখ না। যদি আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে ফলে চাঁদ দেখা না যায়, তবে ত্রিশ দিন পূর্ণ কর। (বুখারী : ১৮০৮)


রোজা রাখা সম্পর্কে শরীয়তের আহকাম সম্পর্কিত আরো কিছু হাদিস :


হাদীসে আছে,
مَنْ صَامَ الْيَوْمَ الَّذِي يَشُكُّ فِيهِ النَّاسُ فَقَدْ عَصَى أَبَا الْقَاسِمِ -صلى الله عليه وسلم-

যে ব্যক্তি সন্দেহ সংশয়পূর্ণ দিনে রোযা রাখবে সে নিশ্চিতই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে অমান্য করল। (তিরমিযী : ৬৮৬)



لاَ تَصُومُوا قَبْلَ رَمَضَانَ صُومُوا لِلرُّؤْيَةِ وَأَفْطِرُوا لِلرُّؤْيَةِ فَإِنْ حَالَتْ دُونَهُ غَيَابَةٌ فَأَكْمِلُوا ثَلَاثِينَ

‘‘তোমরা রমযান শুরু হওয়ার আগেই রোযা রাখা শুরু করো না। চাঁদ দেখে রোযা শুরু কর এবং পরবর্তী চাঁদ দেখেই রোযা রাখা বন্ধ কর। যদি আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে তবে আরো একদিন অপেক্ষা করে (শাবান মাস) ত্রিশ দিন পূরণ কর।’’ (নাসাঈ : ২১৩০)


لاَ تَقَدَّمُوا رَمَضَانَ بِصَوْمِ يَوْمٍ وَلاَ يَوْمَيْنِ إِلاَّ رَجُلٌ كَانَ يَصُومُ صَوْمًا فَلْيَصُمْهُ

চাঁদ না দেখেই রোযা রাখা শুরু করে তোমরা রমযানকে এক বা দু’দিন এগিয়ে নিয়ে এসো না। (অর্থাৎ এক বা দু’দিন আগে থেকেই রোযা রাখা শুরু করে দিও না)।
তবে যে ব্যক্তি আগে থেকে নফল রোযা রাখতে অভ্যস্ত তার বিষয়টি ভিন্ন। (মুসলিম : ১০৮২)



রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :

الصَّوْمُ يَوْمَ تَصُومُونَ وَالْفِطْرُ يَوْمَ تُفْطِرُونَ وَالأَضْحٰى يَوْمَ تُضَحُّونَ

‘যেদিন সকলে রোযা রাখবে তোমরাও সেদিন রোযা রাখবে ; যেদিন সকলে ঈদ করবে তোমরাও সেদিন ঈদ করবে। যেদিন সকলে ঈদুল আযহা উদযাপন করবে তোমরাও সেদিনই তা করবে। (অর্থাৎ জনগণ বা জামাত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কোন কিছু করো না)’। (তিরমিযী : ৬৯৭)




প্রশ্ন ১৪: যদি এমন হয় যে, আমি চাঁদ দেখলাম। কিন্তু আমার সাক্ষ্য সরকার গ্রহণ করল না। এমতাবস্থায় কী করব?

উত্তর : এ অবস্থায় চুপচাপ থাকাই উত্তম। যাচাই বাছাই পূর্বক সরকার যে সিদ্ধান্ত দেবে সেটাই মেনে নেবেন। জামাতচ্যুত হওয়া বৈধ নয়। সকলের সাথে থাকাই এক্ষেত্রে ওয়াজিব। (কারন সরকার আপনার চেয়ে ভাল করে যাচাই করেই কোটি কোটি মানুষের জন্য ফয়সালা করবেন) (ফতওয়া ইবনে তাইমিয়া খণ্ড ২৫, পৃঃ ২১৪-২১৮)



৭ম অধ্যায়
على من يجب الصيام
সিয়াম কাদের উপর ফরয

প্রশ্ন ১৫: কাদের উপর সিয়াম পালন ফরয?

উত্তর : (১) প্রাপ্ত বয়স্ক, (২) সুস্থ বিবেক বুদ্ধিসম্পন্ন, (৩) মুকীম ও সমর্থবান এমন সব গুণ সম্পন্ন প্রত্যেক মুসিলম নর-নারীর উপর সিয়াম পালন করা ফরয।

প্রশ্ন ১৬ : কী অবস্থায় কাদের উপর সিয়াম ফরয নয়?

উ: নিম্নবর্ণিত দশপ্রকার মানুষের উপর সিয়াম পালন ফরয নয়, তারা হল :
[১] অমুসলিম
[২] অপ্রাপ্ত বয়স্ক/ অর্থাৎ নাবালেগ
[৩] পাগল
[৪] এমন বৃদ্ধলোক যে ভাল-মন্দ পার্থক্য করতে পারে না
[৫] এমন বৃদ্ধ ব্যক্তি যে রোযা রাখতে সমর্থ নয়। বা এমন রোগী যার রোগমুক্তির সম্ভাবনা নেই। এমন ব্যক্তিদের উপর ফিদইয়া দেয়া ওয়াজিব।
[৬] মুসাফির
[৭] রোগাক্রান্ত ব্যক্তি
[৮] ঋতুবতী মহিলা
[৯] গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী নারী
[১০] দুর্ঘটনায় পতিত বা বিপদগ্রস্ত লোককে রক্ষাকারী ব্যক্তি।



Friday, June 19, 2015

রমযান মাসের ফজিলত ও এ মাসের রোজা রাখা সম্পর্কে :-




★ ইফতারের দোয়া :

আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু ওয়া আলা রিজক্বিকা আফতারতু।

অর্থ : হে আল্লাহ। আমি আপনার জন্য রোজা রেখেছি এবং আপনার দেয়া রিজিক দ্বারা ইফতার করছি।
সুনানে আবু দাউদ : ২৩৫৮

★ সেহরীর নিয়্যত :

وَبِصَوْمِ غَدٍ نَّوَيْتَ مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ

ওয়া বিসাওমি গাদ্দিন নাওয়াইতু মিন সাহারী রামাজান -

অর্থ : আমি আগামীকালের রমজান মাসের রোজা রাখিবার ইচ্ছা প্রকাশ করিতেছি।



শয়তানকে জিঞ্জিরায় বন্দী করা হয় :-

★ হযরত সায়্যিদুনা আবু হুরাইরা(রাদ্বিআল্লাহ্‌ তা'আলা আনহু) ইরশাদ করেন, হুজুর আকরাম হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন, যখন রমযান মাস আসে তখন আসমানের দরজা খুলে দেয়া হয়। (বুখারী শরীফ, খন্ড-১ম, পৃষ্ঠা ৬২৬,হাদীস নং-১৮৯৯)

★ অন্য এক বর্ণনায় আছে যে, জান্নাতের দরজা খুলে দেয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেয়া হয়, শয়তানকে শিকলে বন্দী করা হয়। অপর এক বর্ণনায় রয়েছে, রহমতের দরজা খুলে দেয়া হয়।
(সহীহ মুসলিম, পৃ-৫৪৩,হাদীস নং-১০৭৯)।



রোযা রাখার ফযিলতঃ


(১) রোযার পুরস্কার আল্লাহ স্বয়ং নিজে প্রদান করবেনঃ হাদীসে কুদসীতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, বনী আদমের সকল আমল তার জন্য, অবশ্য রোযার কথা আলাদা, কেননা রোযা আমার জন্য এবং আমিই এর পুরস্কার দিব।’’ (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৮০৫, ৫৫৮৩ ও সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৭৬০)

(২) রোযা রাখা গোনাহের কাফফারা স্বরূপ এবং ক্ষমালাভের কারণঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সাওয়াবের আশায় রামাদান মাসে রোযা রাখবে, তার পূর্বের সকল গোনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে।’’ (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৯১০ ও সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৮১৭)

(৩) রোযা জান্নাত লাভের পথঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘‘জান্নাতে একটি দরজা রয়েছে যাকে বলা হয় ‘রাইয়ান’। কিয়ামতের দিন এ দরজা দিয়ে রোযাদারগণ প্রবেশ করবে। অন্য কেউ এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। রোযাদারগণ প্রবেশ করলে এ দরজা বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে আর কেউ সেখান দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না।’’ (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৭৯৭ ও সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৭৬৬ )

(৪) রোযাদারের জন্য রোযা শাফায়াত করবেঃ উত্তম সনদে ইমাম আহমাদ ও হাকেম বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘‘রোযা এবং কুরআন কিয়ামতের দিন বান্দার জন্য শাফায়াত করবে। রোযা বলবে, হে রব! আমি তাকে দিবসে পানাহার ও কামনা চারিতার্থ করা থেকে নিবৃত্ত রেখেছি। অতএব, তার ব্যাপারে আমাকে শাফায়াত করার অনুমতি দিন।’’ (মুসনাদ, হাদীস নং ৬৬২৬, আল-মুস্তাদরাক, হাদীস নং ২০৩৬)

(৫) রোযাদারের মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহর কাছে মিসকের সুগন্ধির চেয়েও উত্তমঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘‘যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ তার শপথ! রোযাদারের মুখের গন্ধ কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে মিসকের চেয়েও সুগন্ধিময়।’’ (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৮৯৪ ও সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৭৬২)

(৬) রোযা ইহ-পরকালে সুখ-শান্তি লাভের উপায়ঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘‘রোযাদারের জন্য দু’টো খুশীর সময় রয়েছে। একটি হলো ইফতারের সময় এবং অন্যটি স্বীয় প্রভু আল্লাহর সাথে মিলিত হওয়ার সময়।’’ (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৮০৫ ও সহীহ মুসলিম, হদীস নং ২৭৬৩)

(৭) রোযা জাহান্নামের অগ্নি থেকে মুক্তিলাভের ঢালঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় একদিন রোযা রাখে, আল্লাহ তাকে জাহান্নাম থেকে সত্তর বৎসরের দূরত্বে নিয়ে যান।’’ (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৬৮৫ ও সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৭৬৭ )

(৮) ইমাম আহমাদ বিশুদ্ধ সনদে বর্ণনা করেন - রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘‘রোযা ঢাল স্বরূপ। যা দ্বারা বান্দা নিজেকে আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষা করতে পারে, যেভাবে তোমাদের কেউ একজন যুদ্ধে নিজেকে রক্ষা করে।’’ (মুসনাদ, হাদীস নং ১৭৯০৯)

(৯) জাহান্নামের অগ্নি থেকে সত্তর বছরের রাস্তা পরিমাণ দূরবর্তী হওয়াঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘যে কেউ আল্লাহর রাস্তায় (অর্থাৎ শুধুমাত্র আল্লাহকে খুশী করার জন্য) একদিন সিয়াম পালন করবে, তা দ্বারা আল্লাহ তাকে জাহান্নামের অগ্নি থেকে সত্তর বছরের রাস্তা পরিমাণ দূরবর্তীস্থানে রাখবেন’’। [সহীহ মুসলিম : ২৭৬৭]

(১০)  রাসূল (সা.) বলেন,‘যে লোক ন্যায়সঙ্গত কারণ ছাড়া রমজানের একটি রোজা ভেঙে ফেলবে,এরপর সে
সারাজীবন রোজা রাখলেও তার ক্ষতি পূরণ হবে না’।
★ তিরমিজী,
★ নাসায়ী,
★ ইবনে মাজা,
★ ইবনে খুজায়মাহ

ইমাম বুখারির (র) সাথে হানাফি মাজহাবের সম্পর্ক :-


১।
ইমাম বুখারীর নাম হল-মুহাম্মদ বিন ইসমাইল রহঃ। ইমাম বুখারীর পিতার নাম হল ইসমাইল। সিয়ারু আলামিন নুবালা নামক রিজালশাস্ত্রের গ্রন্থে ইমাম বুখারী রহঃ এর বরাতে বর্ণনা করা হয়েছে-

إسحاق بن أحمد بن خلف، أنه سمع البخاري يقول: سمع أبي من مالك بن أنس، ورأى حماد بن زيد، وصافح ابن المبارك بكلتا يديه (سير اعلام النبلاء، الطبقة الرابعة عشر، أبو عبد الله البخاري، رقم -171)

অনুবাদ-ইসহাক বিন আহমাদ খালফ বলেন-আমি ইমাম বুখারী রহঃ কে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেছেন-আমার পিতা মালেক বিন আনাস থেকে শুনেছেন, আর তিনি হাম্মাদ বিন জায়েদকে দেখেছেন, আর তিনি ইবনুল মুবারকের সাথে দুই হাতে মুসাফাহা করেছেন।
{সিয়ারু আলামিন নুবালা, ১৪ তম তবক্বা, নং-১৭১, রাবী ইমাম বুখারী}
ইমাম বুখারীর পিতা ইবনুল মুবারক রহঃ এর সাথে দুই হাতে মুসাফাহা করেছেন। হানাফী মাযহাবেও দুই হাতে মুসাফাহা করার কথা বলা হয়েছে।

২।
ইমাম বুখারী সর্বপ্রথম উস্তাদ কে? পাঁচ বছর বয়সে তার পিতা তাকে কুরআন পড়ান।
ক) তারপর সর্বপ্রথম মক্কী বিন ইবরাহীম রহঃ এর কিতাব পড়েন।
খ) ইমাম আব্দুল্লাহ বিন মুবারকের কিতাব পড়েন।
গ) ইমাম সুফিয়ান সাওরীর আল জামেউল কুবরা পড়েন।
ঘ) আবু হাফস রহঃ এ কিতাব পড়েন।
এখানে লক্ষ্য করুন মক্বী বিন ইবরাহীম ইমাম আবু হানীফা রহঃ এ ছাত্র।
আব্দুল্লাহ বিন মুবারক রহঃ ও ইমাম আবু হানীফা রহঃ এর ছাত্র ।
ইমাম সুফিয়ান সাওরীও হানাফী।
ইমাম আবু হাফস রহঃ হানাফী।
তাহলে ইমাম বুখারী রহঃ এর পড়াশোনা শুরু হানাফী মাযহাবের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কিতাব পড়ার মাধ্যমে। যার কাছে পড়েছেন তিনিও ইমাম আবু হানীফা রহঃ এর ছাত্র।

৩।
ক) ইমাম বুখারী রহঃ এর বয়স যখন ১৫/১৬ বছর হয় তখন আরো পড়াশোনা করার জন্য ২১০ হিজরীতে নিজের পিতার ও তার ভাই আহমাদের সাথে মক্কায় গিয়ে হজ্ব করেন। তারপর সেখানে হাদীস পড়েন, তাদের মাঝে সবচেয়ে বড় উস্তাদ হল আবু আব্দুর রহমান আল মুকরীর কাছে। যিনি হলেন ইমাম আবু হানীফা রহঃ এর ছাত্র।
খ) ইমাম বুখারী যখন বসরায় গেলেন। তখন সেখানে যাদের কাছে হাদীস পড়েন, তাদের মাঝে বড় উস্তাদ হলেন ইমাম আবু আসেম রহঃ, যিনি ইমাম আবু হানীফা রহঃ এর ছাত্র।
তারপর আরো একজন বড় উস্তাদ হলেন-মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল আনসারী রহঃ। তিনিও আবু হানীফা রহঃ এর ছাত্র।
গ) তারপর কুফা গেলেন সেখানে যাদের কাছে কিতাব পড়লেন, তাদের মাঝে বড় উস্তাদ হলেন উবায়দুল্লাহ বিন মুসা। তিনিও ইমাম আবু হানীফা রহঃ এর ছাত্র।
আরেক উস্তাদের নাম আবুল ফুজাইল রহঃ তিনিও ইমাম আবু হানীফা রহঃ এর ছাত্র।
ঘ) তারপর পড়ার জন্য বাগদাদ গেলেন, সেখানে যাদের কাছে পড়েছেন। তাদের মাঝে বড় উস্তাদের নাম হল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল রহঃ। যিনি ইমাম আবু ইউসুফ রহঃ এর ছাত্র। আর ইমাম আবু ইউসুফ রহঃ ইমাম আবু হানীফা রহঃ এর খাস ছাত্র।
লক্ষ্য করুন ইমাম বুখারী রহঃ নিজের শহরে পড়াশোনা করেছেন তো ইমাম আবু হানীফা রহঃ এর ছাত্রদের কাছে পড়েছেন। অন্য শহরে গিয়ে পড়াশোনো করেছেন ইমাম আবু হানীফা রহঃ এর ছাত্রদের কাছেই পড়েছেন।
কুফা নগরীর সাথে ইমাম বুখারীর সম্পর্কঃ
ইমাম বুখারী (রহঃ) যেসব শহরে গিয়েছেন তার মাঝে কুফা নগরীতে তিনি সবচেয়ে বেশি গিয়েছেন। সেখান থেকে সবচেয়ে বেশি ইলম অর্জন করেছেন। এজন্য বুখারীর পৃষ্ঠায় পৃষ্ঠায় কুফী রাবী বিদ্যমান।
অথচ কুফার বিরুদ্ধাচারনকারীরা কার বিরুদ্ধাচরণ করছে নিজেরা বুঝতেও পারে না।
কুফাকে আবাদকারী হলেন হযরত সাদ বিন আবী ওয়াক্বাস।
আবাদের নির্দেশকারী হযরত ওমর রাঃ।
আবাদ করার জন্য প্রথম আমীর হিসেবে কুফায় আসেন তিনি হলেন আম্মার বিন ইয়াসির রাঃ।
সেখানের প্রথম শিক্ষক হলেন আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাঃ।
যারা প্রথমে আবাদ করেছেন ১০৫০ সাহাবীদের মাঝে ৭০ জনই বদরী সাহাবী। আর ৩১৩ জন রাসূল সাঃ এর সাথে হজ্বকারী সাহাবী।
তাহলে কুফা আবাদ করার হুকুম দিলেন খলীফায়ে রাশেদ রাসূল সাঃ এর প্রিয় সাহাবী হযরত ওমর বিন খাত্তাব রাঃ।
কুফা আবাদকারী হলেন নবীজী সাঃ এর সাহাবী সাদ বিন আবী ওয়াক্কাস রাঃ।
প্রথম আমীর আম্মার বিন ইয়াসীর রাঃ।
প্রথম শিক্ষক আব্দুল্লা্হ বিন মাসউদ রাঃ।
আবাদকারী সাহাবীদের মাঝে ৭০ জন বদরী সাহাবী। আর ৩১৩ জন রাসূল সাঃ এর সাথে হুদায়বিয়ার সন্ধিতে অংশগ্রহণকারী সাহাবী।
সুতরাং কুফার বদনাম করলে মূলত কার বদনাম করা হয়? বদনামতো প্রতিষ্ঠানের হয় না, হয় প্রতিষ্ঠাতার। তাহলে কুফার বদনাম করা মানে হল কুফা প্রতিষ্ঠাতার উপর বদনাম করা।
কথিত আহলে হাদীসরা একটি খোড়া যুক্তি দাঁড় করিয়ে থাকে যে, কুফাতে হযরত হুসাইন রাঃ শহীদ হয়েছেন তাই এটি অভিশপ্ত ভূমি।
কোন এলাকায় আল্লাহর কোন প্রিয় বান্দা শহীদ হলে বা কষ্ট পেলে সে স্থান যদি অভিশপ্ত হয়, তাহলে মক্কাও অভিশপ্ত হয়ে যাবে, নাউজুবিল্লাহ। কারণ মক্কায় রাসূল সাঃ কে অনেক কষ্ট দেয়া হয়েছে।
ওহুদে ৭০ জন সাহাবী শহীদ হয়েছেন।
রাসূল সাঃ এর মিম্বরে হযরত ওমর রাঃ শহীদ হয়েছেন।



মদীনার মিম্বরে হযরত উসমান রাঃ শহীদ হয়েছেন।

তায়েফে রসূল (সঃ) এর উপর আক্রমণ হয়েছে।
তাই এখন বলুন, মক্কা-মদীনা, উহুদ, তায়েফের বদনাম করাটা কতটা বুদ্ধিমানের কাজ? না চূড়ান্ত পর্যায়ের বোকামী?
তেমনি হযরত হুসাইন রাঃ শহীদ হওয়ার কারণে কুফাকে বদনাম করা যাবে না। যারা শহীদ করেছেন তাদের বদনাম হতে পারে, কিন্তু যেখানে শহীদ হয়েছেন সে স্থানের বদনাম করাটা চূড়ান্ত পর্যায়ের আহমকীর নিদর্শন।
এবার দেখুন কুফার সাথে ইমাম বুখারীর কতটা সম্পর্ক?
ইমাম বুখারী রহঃ নিজেই বলেন-
قال البخاري دخلت إلى الشام ومصر والجزيرة مرتين وإلى البصرة أربع مرات وأقمت بالحجاز ستة أعوام ولا أحصي كم دخلت إلى الكوفة وبغداد مع المحدثين (مقدمة فتح البارى، كتاب البيوع الى السلم، ذكر عدة ما لكل صحابي في صحيح البخاري موصولا ومعلقا على ترتيب حروف المعجم-1/147)
আমি সিরিয়াতে এবং মিশরে ও জাজিরাতুল আরবে গিয়েছি ৪ বার। আর হেজাযে অবস্থান করেছি ৬ বছর। আর কতবার যে কুফা আর বাগদাদে মুহাদ্দিসদের সাথে গিয়েছে তার কোন ইয়ত্তা নেই।
{মুকাদ্দিমায়ে ফাতহুল বারী)




ইমাম বুখারী হেজাযে কতদিন ছিলেন মনে আছে, মিশর, সিরিয়া ও জাজিরাতুল আরবে কতবার গেছেন মনে আছে। কিন্তু কুফা আর বাগদাদের কত অগণীত বার গেছেন তা আধিক্যের কারণে তিনি ভুলেই গেছেন।
একথা সুষ্পষ্ট প্রমাণ করে ইমাম বুখারী রহঃ এর কুফার সাথে তার ইলমী নিসবত কতটা গভীর ছিল। একারণেই বুখারী শরীফের এমন পৃষ্ঠা খুব কমই আছে যাতে কুফী বর্ণনাকারী নেই। পৃষ্ঠায় পৃষ্ঠায় কুফী রাবী। এটাও সুষ্পষ্ট প্রমাণ ইমাম বুখারী কুফার প্রতি কতটা কৃতজ্ঞ।
সুতরাং বুঝা গেল কুফার ভক্ত ছিলেন ইমাম বুখারী। বিদ্বেষী নয়। তাই ইমাম বুখারী হানাফী মাযহাবের প্রাণকেন্দ্রের ভক্ত ও ঋণী।
ইমাম যাদের কাছে পড়েছেন তাদের সম্পর্ক হানাফীদের সাথে। যেসব শহরে গিয়েছেন তাদের সাথেও হানাফীদের সম্পর্ক।

৪।
ইমাম বুখারী রহঃ পড়াশোনা শেষ করে যখন লেখালেখি ও পড়ানো শুরু করেন, তখন তিনি যত কিতাব লিখেছেন তার মাঝে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ কিতাবের নাম হল বুখারী শরীফ। বুখারী শরীফের দিকে আমরা একটু নজর দেই।
বুখারীতে শাওয়াহেদ, মুরসালসহ সর্বমোট ৯০০৮২ বর্ণনা আছে। সনদের মাঝে বুখারী রহঃ যার কাছ থেকে হাদীস নিয়েছেন তিনি হলেন ইমাম বুখারী রহঃ এর শায়েখ। আর সনদের সর্বশেষে যিনি হন তিনি হন সাহাবী রাঃ।
বুখারীতে এমন বর্ণনা অনেক আছে যাতে ইমাম বুখারীর শায়েখ ও কুফী এবং হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবীও কুফাতে অবস্থানকারী। শুধু তাই নয়, এমন বর্ণনাও আছে যার প্রতিটি বর্ণনাকারী কুফী। যেমন-
392 – حدثنا عثمان قال حدثنا جرير عن منصور عن إبراهيم عن علقمة قال قال عبد الله : صلى النبي صلى الله عليه و سلم – قال إبراهيم لا أدري – زاد أو نقص الخ (صحيح البخارى، كتاب الصلاة، باب التوجه نحو القبلة حيث كان، رقم الحديث-392)
বুখারীর এ বর্ণনাটিতে লক্ষ্য করুন-
ইমাম বুখারীর শায়েখ উসমান,
তার শায়েখ জারীর,
তার শায়েখ মানসুর,
তার শায়েখ ইবরাহীম নাখয়ী,
তার শায়েখ আলকামা,
তার শায়েখ আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাঃ।
এ হাদীসের সনদের ৬ জন রাবী আছে। আর ৬ জনই কুফী রাবী।
শুধু কি তাই? বুখারী শরীফের সর্বশেষ হাদীসের সনদের দিকে লক্ষ্য করুন-
7124 – حدثنا أحمد بن إشكاب حدثنا محمد بن فضيل عن عمارة بن القعقاع عن أبي زرعة عن أبي هريرة رضي الله عنه قال : قال النبي صلى الله عليه و سلم ( كلمتان حبيبتان إلى الرحمن خفيفتان على اللسان ثقيلتان في الميزان سبحان الله وبحمده سبحان الله العظيم )
এ হাদীসের সনদের শুধুমাত্র হযরত আবু হুরায়রা রাঃ ছাড়া বাকি সকল রাবী কুফী।
আহমাদ বিন ইশকাব,
মুহাম্মদ বিন ফুযাইল,
আমারা বিন কা’কা’ ,
আবু জুরআ সবাই কুফী।
সুতরাং বুঝা গেল যে, ইমাম যাদের কাছে পড়েছেন তারাও কুফী। যাদের সনদের হাদীস এনেছেন তারাও কুফী। ইমাম বুখারী রহঃ এর সাথে কুফার সম্পর্ক নিবিড়।


৫।
ইমাম বুখারী রহঃ বুখারীতে যেসব হাদীস এনেছেন সনদ সহকারে, তাতে ৫ সনদও আছে। ৪ সনদও আছে। ৩ সনদও আছে। ইমাম বুখারী রহঃ এর সবচেয়ে গর্ব হল ৩ সনদের উপর। সনদ কম হলে হাদীসের মাঝে শক্তিমত্বা বেশি হওয়ায় ইমাম বুখারী সুলাসিয়াত তথা ৩ সনদওয়ালা হাদীসের উপর গর্ব আছে। এবার দেখুন সেসব সুলাসিয়্যাতের কি হাল?
বুখারীতে মোট সুলাসিয়্যাত হল ২২ টি।
এ ২২টি সুলাসিয়্যাতের ১১টি সনদে ইমাম বুখারী রহঃ এর শায়েখ হলেন-মক্বী বিন ইবরাহীম। যিনি ইমাম আবু হানীফা রহঃ এর ছাত্র।
এর মাঝে ৬ টি হাদীদের বর্ণনাকারী রাবী হলেন-আবু আসেম আন নাবীল রহঃ। তিনিও ইমাম আবু হানীফা রহঃ এর ছাত্র।
এর মাঝে ৩ তিনটি হাদীসের বর্ণনাকারী রাবী মুহাম্মদুল্লাহ আব্দুল্লাহ বিন আনসারী। যিনি ইমাম আবু হানীফা রহঃ এর ছাত্র।
এর মাঝে একটি হাদীসের বর্ণনাকারী রাবী হযরত হাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া রহঃ। তিনি কুফী তথা কুফায় অবস্থানকারী ব্যক্তি।
এর মাঝে একজন রাবী হলেন ইসাম বিন খালেদ আল হিমসী। যিনি হেমসের অধিবাসী।
এবার লক্ষ্য করুন-ইমাম বুখারী রহঃ যে সুলাসিয়্যাতের উপর গর্ব, সেই ২২ টি সুলাসিয়্যাতের ২০টির বর্ণনাকারী ইমাম আবু হানীফা রহঃ এর ছাত্রের। আর একটি ইমাম আবু হানীফা রহঃ এর নিজের এলাকা কুফার। আর একজন শুধুমাত্র হেমসের অধিবাসী। তাহলে ইমাম বুখারী গর্ব করতে চান তো ইমাম আবু হানীফা রহঃ এর ছাত্র ছাড়া করতেই পারেন না।

৬।
ইমাম আবু হানীফা রহঃ মদীনার ইলম পর্যন্ত আমাদের পৌছিয়েছেন সনদসহ। ইমাম বুখারী রহঃ ও মদীনার ইলম পর্যন্ত পৌঁছিয়েছেন সনদসহ।
লক্ষ্য করুন ইমাম বুখারী রহঃ এর মদীনায় নিয়ে যাওয়ার সনদ-
حدثنا أحمد بن إشكاب حدثنا محمد بن فضيل عن عمارة بن القعقاع عن أبي زرعة عن أبي هريرة رضي الله عنه قال : قال النبي صلى الله عليه و سلم
ইমাম বুখারী রহঃ রাসূল সাঃ পর্যন্ত সনদ পৌঁছাতে মাধ্যম নিলেন ৫টি।
আহমদ বিন ইশকাব,
তারপর মুহাম্মদ বিন ফুযাইল,
তারপর আম্মারাহ বিন কা’কা’
তারপর আবু জুরআ,
তারপর আবু হুরায়রা রাঃ।
তাহলে ইমাম বুখারী রহঃ আমাদের মদীনায় পৌঁছাতে মাধ্যম বানালেন ৫টি।
এবার লক্ষ্য করুন ইমাম আবু হানীফা রহঃ আমাদের মদীনায় পৌঁছাতে কয়টি মাধ্যম ব্যবহার করেন-
عن ابى حنيفة عن عبد الله بن انيس قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم
عن ابى حنيفة عن عبد الله بن ابى اوفى قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم
عن ابى حنيفة عن عبد الله بن حارث قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم
عن ابى حنيفة عن جابر بن عبد الله قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم
ইমাম বুখারী যেখানে আমাদের মদীনায় পৌছাতে ব্যবহার করেন ৫টি মাধ্যম। আর ইমাম আবু হানীফা রহঃ ব্যবহার করেন মাত্র একটি মাধ্যম।
তিনি বর্ণনা করেন সরাসরি
হযরত আব্দুল্লাহ বিন উনাইস রাঃ থেকে।
হযরত আব্দুল্লাহ বিন আবী আওফা রাঃ থেকে।
হযরত আব্দুল্লাহ বিন হারেস রাঃ থেকে।
হযরত জাবের বিন আব্দুল্লাহ রাঃ থেকে।
যেহেতু আমরা মদীনার ইলমে পৌঁছতে চাই। আর সেখানে পৌছতে ইমাম বুখারীর মাধ্যম বেশি আর ইমাম আবু হানীফা রহঃ এর মাধ্যম কম। তাই আমরা আবু বুখারী রহঃ কে রেখে ইমাম আবু হানীফা রহঃ এর তাক্বলীদ করে দ্রুত মদীনার ইলমের শহরে পৌঁছে যাই।

৭।
ইমাম বুখারী রহঃ থেকে তার কিতাব ৯০ হাজার ছাত্ররা পড়েছেন। কিন্তু বুখারী শরীফের সনদ প্রসিদ্ধ চারজনের মাধ্যমে। যথা-
১-ইবরাহীম বিন মা’কাল বিন হাজ্জাজ আন নাসাফী রহঃ। তিনি ২৯৪ হিজরীতে ইন্তেকাল করেছেন।
২- হাম্মাদ বিন শাকের আন নাসাফী রহঃ। যিনি ৩১১ হিজরীতে ইন্তেকাল করেছেন।
৩-মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আল ফিরাবরী রহঃ। তিনি ৩২০ হিজরীতে ইন্তেকাল করেছেন।
৪-আবু তালহা মানসুর বিন মুহাম্মদ রহঃ। তিনি ২৬৯ হিজরীতে ইন্তেকাল করেছেন।
লক্ষ্য করুন-৯০ হাজার ছাত্রদের মাঝে যে চারজনের সনদ প্রসিদ্ধ বুখারীর।
এর মাঝে প্রথম দুইজন তথা ইবরাহীম বিন মা’কাল বিন হাজ্জাজ আন নাসাফী রহঃ এবং হাম্মাদ বিন শাকের আন নাসাফী রহঃ ইমাম আবু হানীফা রহঃ এর মুকাল্লিদ।
তাহলে কি বুঝা গেল? ইমাম বুখারী রহঃ যাদের কাছে পড়েছেন তারাও হানাফী। যে শহরে বেশি গেছেন সেটাও হানাফী। যাদের মাধ্যমে বুখারী প্রচারিত হয়েছে তারাও হানাফী।


Saturday, June 13, 2015

তাবিজ - ঝাড়ফুক জায়েজ ও নাজায়েজ সম্পর্কে শরীয়তের হুকুম :-

ওহাবী সালাফীদের জবাবে তাবিজ ও ঝাড়ফুক এর ব্যাপারে শরীয়তের বিধি-নিষেধ।
Lecture : Masum Billah Sunny

এক নজরে সম্পুর্ন আলোচনায় কি কি আছে তা :

STEP 1 : যেসব তাবিজ ও ঝাড়ফুক শিরিক, কুফর , নাজায়েজ তার শর্ত ও হাদিস সমুহের ব্যাখ্যা সহ আলোচিত হল।

STEP 2 : 

a) 
-i- যেসব তাবিজ ও ঝাড়ফুক জায়েজ ও সুন্নাহ তার শর্ত ও হাদিস সহ আলোচনা করা হল।
-ii- কুরআন ও হাদিসের আলোকে ঝাড়ফুক ও তাবিজের প্রমান।

b) নযর ও বাতাস লাগা সত্য এ সম্পর্কে। 

c) হাদিস থেকে ঝাড়ফুকের বিভিন্ন দোয়া।

d) তাবিজ ও ঝাড়ফুক সম্পর্কে ইমামগনের আকিদা।

e) প্রশ্নোত্তর পর্ব

``হালালকে হারাম মনে করা আর হারামকে হালাল মনে করা কুফর।`` -(আল-হাদিস)



                         STEP 1 :



যেসমস্ত ঝাড়-ফুক নাজায়েজ ও শিরিক- কুফর : 


মোট কথায় যা অকল্যানকর ও শরীয়ত বিরোধী কুফরী কালাম ব্যবহৃত তাবিজ বা আয়াত দ্বারা যে সমস্ত ঝাড়ফুক সেগুলো স্পষ্ট শিরিক-কুফর :

নিম্নে উল্লেখিত বিষয় দ্বারা ঝাড়ফুঁক বা তাবিজ জায়েয নয়:

(১) এমন শব্দ বা বাক্যের অর্থ যা বোধগম্য নয় (এর দ্বারা শরীয়ত বিরোধী কাজ সংঘঠিত হওয়ার আশংকা রয়েছে); 
যেমন : আল্লাহর নাম, দুয়ায়ে মানকুলা ইত্যাদি দ্বারা তাবিজ দেয়া জায়েজ। তবে শর্ত হল তাবিজের মধ্যে নিজস্ব মতা আছে মনে করে তার উপর ভরসা না করা। তাছাড়া কুফুরী কালাম দ্বারা তাবিজ দেয়া বা অর্থ জানা যায়না এমন কালাম দ্বারা তাবিজ দেয়া জায়েজ নয়। (আহসানুল ফাতওয়া, খন্ড ৮, পৃঃ ২৫৫)। 

(২) আরবী ছাড়া অন্য ভাষায় (ব্যবহার না করা ভাল), তবে না জায়েজ নয় তা যে কোন ভাষায় হোক না কেন তাতে কুফুরী বাক্য না থাকা অত্যবশ্যক।

(৩) কুফুরী-শিরিকী কালাম দ্বারা; 

(৪) ঝাড়-ফুঁকের মধ্যে নিজস্ব ক্ষমতা আছে মনে করা।

(৫) ঝাক-ফুক (আল্লাহর ইচ্ছা ব্যতীত) নিজের ক্ষমতায় তকদীর পরিবর্তন করতে পারে মনে করা ইত্যাদি।


যে সব হাদীছে ঝাড়ফুঁককে নিষেধ করা হয়েছে বা শিরক বলা হয়েছে তা উপরোক্ত ধরনের ঝাড়ফুঁক, সব ধরনের ঝাড়ফুঁক ওই নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত নয়। যেমন আবু দাউদ শরীফের হাদীছ -

ان الرقى والتمائم والتولة شرك

অর্থাৎ, ঝাড়ফুঁক ও তাবীজ শিরক।

পূর্বের হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে যে বৈধ পন্থায় বৈধ বিষয়ে ঝাড়ফুঁক জায়েয। বর্তমান যুগের গায়রে মুকাল্লিদ ও সালাফীরা তাবীজ-কবজকে নিষিদ্ধ এমনকি শিরক বলে থাকে। 

নিচের সমস্ত শিরিক-কুফর সংক্রান্ত হাদিস গুলোর মুল উদ্দেশ্য হল উপরের শর্তসমুহ বা কুফরী-কালাম ব্যবহৃত তাবিজ বা ইহুদী ও বিধর্মীদের বিভিন্ন শরীয়ত বিরোধী মন্ত্র Step 2 তে তাবিজ ঝাড়ফুক জায়েজ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে :
যেমন :

→ আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদের স্ত্রী যায়নাব আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদের কাছ থেকে বর্ণনা করেন: “আমি রাসূল (স) কে বলতে শুনেছি যে ঝাড়ফুঁক তাবিজ ও কবচ হচ্ছে শিরক।” আমি বললাম, ‘আপনি কেন একথা বললেন? আল্লাহর কসম, আমার চোখ দিয়ে অসুখের কারণে পানি ঝরছিল এবং আমি অমুক ইহুদীর কাছে গিয়েছিলাম, সে ঝাড়ফুঁক করতেই পানি পড়া বন্ধ হয়ে গেল।’ আব্দুল্লাহ বললেন, ‘এটা শয়তানের কারসাজি ছিল, সে তার হাত দিয়ে তোমার চোখে খোঁচা দিচ্ছিল,★ ইহুদীটি মন্ত্র উচ্চারণ করতেই সে থেমে গেল। কারণ যখন তুমি তাকে মেনে নিচ্ছিলে সে থেমে যাচ্ছিল আর যখন তুমি তার অনুগত হচ্ছিলে না তখন সে খোঁচা দিচ্ছিল। তোমার যা বলা উটিত ছিল তা হচ্ছে এই দু’আ: ইযহাবিল বা’স রাব্বান নাস ওয়া আশফি আনতা আশ শাফি’ লা শিফাআ ইল্লা শিফাউকা, শিফা’ আল লা ইউঘাদিরু সাকামান।’ (অর্থ: মন্দ দূর কর, হে মানবজাতির রব, এবং সুস্থতা দাও, তুমিই সুস্থতা দানকারী। তোমার আরোগ্য ছাড়া কোন আরোগ্য নেই, এমন আরোগ্য যা রোগের কোন চিহ্ন রাখে না।) (আবু দাউদ ৩৮৮৩; ইবন মাজাহ ৩৫৩০)

Note: ইহুদীদের মন্ত্র তো আর কুরআন হাদিস নয় তাই নিষিদ্ধ শিরিক এসব বলা হয়েছে।



→ ইবনে মাসউদ (রঃ) এর পত্নী জয়নাব (রঃ) কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, “এক (★ 0) বুড়ি আমাদের বাড়ি আসা যাওয়া করত এবং সে বাতবিসর্প - রোগে ঝাড়ফুঁক করতেন। আমাদের ছিল লম্বা খুরো বিশিষ্ট খাট। (স্বামী) আব্দুল্লাহ বিন মসউদ যখন বাড়িতে প্রবেশ করতেন, তখন গলা সাড়া বা কোন আওয়াজ দিতেন। একদিন তিনি বাড়িতে এলেন। (এবং অভ্যাস মত বাড়ি প্রবেশের সময় গলা সাড়া দিলেন।) বুড়ি তার আওয়াজ শোনামাত্র লুকিয়ে গেল। এরপর তিনি আমার পাশে এসে বসলেন । তিনি আমার দেহ স্পর্শ করলে (গলায় ঝুলানো মন্ত্র পড়া) সুতো (★ 1) তার হাতে পড়ল। তিনি বলে উঠলেন, ‘এটা কি?’ আমি বললাম, ‘সুতা পড়া, বাতবিসর্প রোগের জন্য ওতে  মন্ত্র পড়া হয়েছে (★2) ।’ একথা শুনে তিনি তা টেনে ছিঁড়ে ফেলে দিলেন এবং বললেন, ‘ইবনে মসউদের বংশধর তো শিরক থেকে মুক্ত।’ আমি রাসুল (সঃ) কে বলতে শুনেছি যে, “নিশ্চয় মন্ত্র তন্ত্র (★3) , তাবীয কবচ (★4) এবং যাদু-টোনা করা শিরক (★5) ।”

জয়নাব (রঃ) বলেন, আমি বললাম, ‘কিন্তু একদা আমি বাইরে বের হলাম। হটাৎ করেই আমাকে অমুক লোক দেখে নিল। অতঃপর আমার যে চোখটা ঐ লোকের দিকে ছিল সেই চোখটায় পানি ঝরতে লাগলো। এর পর যখনই আমি ঐ চোখে মন্ত্র পড়াই, তখনই পানি ঝরা বন্ধ হয়ে যায়। আর যখনই না পড়াই, তখনই পানি ঝরতে শুরু করে। (অতএব বুঝা গেল যে, মন্ত্রের প্রভাব আছে।)’

ইবনে মসউদ  (রঃ) বললেন, “ওটা তো শয়তানের কারসাজি (★6) । যখন তুমি ( মন্ত্র পড়িয়ে ) ওর অনুগত্য কর, তখন সে ছেড়ে দেয়। (এবং তোমার চোখে পানি আসে না)। আর যখনই তুমি তার অনুগত্য কর না, তখনই সে নিজ আঙ্গুল দ্বারা তোমার চোখে খোঁচা মারে ( এবং তার ফলে তাতে পানি আসে, যাতে তুমি মন্ত্রকে বিশ্বাস কর এবং শিরকে লিপ্ত হয়ে পড়)। তবে যদি তুমি সেই কাজ করতে, যা আল্লাহর রাসুল (সঃ) করেছেন, তাহলে তা তোমার জন্য উত্তম ও মঙ্গল হতো এবং অধিকরূপে আরোগ্য লাভ করতে। আর তা এক যে, চোখে পানি ছিটাতে এবং বলতে,

“আযহিবিল বা’স, রাব্বানা-স, ইসফি আন্তাস শা- ফী, লা সিফা-আ ইল্লা সিফ-উক, সিফা-আল লা য়্যুগা-দিরু সাকামা।”  (ইবনে মাজাহ ৩৫৩১ নং, সিলসিলাহ সহিহাহ ৩৩১ নং)

Explain :

(★ 0)  বুড়িটি ছিল ইহুদী তাই সে তো তাদের দেব-দেবীর মন্ত্রই পড়বে সে তো আর কুরআন হাদিসের মন্ত্র পড়বে না । এতে শিরিক বা কুফুরি কালাম থাকতেই পারে।

(★ 1) এটা ছিল ইহুদী মন্ত্র পঠিত সুতা।
(★ 2) ওদের দেব-দেবীর নামে মন্ত্র পড়া হয়েছে। আল্লাহ ব্যাতীত অন্য কাউকে প্রভু হিসেবে ডাকা স্পষ্ট শিরিক।
(★ 3) ইহুদী-নাসারাদের মন্ত্র
(★ 4) তাদের মন্ত্র পঠিত তাবিজ-কবজ ব্যবহার শিরিক।
(★ 5) জাদু-টোনা শব্দটি দ্বারা আরো স্পষ্ট হয়ে গেল এটা বিধর্মীদের তাবিজ-কবজ বা মন্ত্রের কথা বলা হয়েছে।
(★ 6) এটা শয়তানের চালাকী। কারন ইহুদী নাসারাগন তাদের ধর্মগ্রন্থ পরিবর্তন করে ফেলেছে। আল্লাহ, তাওরাত,  যাবুর, ইঞ্জিল ও কুরআন মাজিদে কোথাও কি নিজে ১ প্রভু হয়ে একাধিক প্রভুর ব্যপারে সমর্থন দিতে পারে? কখনোই না। সুতরাং সেসব মন্ত্র ব্যবহারকারীরা তাদের বিভিন্ন দেব-দেবীর নামে মন্ত্র পড়ে আর এটা মুলত তারা শয়তান থেকে সাহায্য চাওয়া। তাই এখানে স্পষ্ট শিরিকি তাবিজের কথাই নিষেধ করা হয়েছে।

→ ঈসা ইবন হামযা বলেন: “আমি আব্দুল্লাহ ইবন আকিমকে দেখতে গিয়েছিলাম, তাঁর মুখ জ্বরে লাল হয়ে গিয়েছিল। আমি বললাম, ‘আপনি কেন তাবিজ ব্যবহার করছেন না?’ তিনি বললেন, ‘আমরা এ থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাই। রাসূল (সা) বলেছেন: যে (ব্যক্তি) কোন ধরনের (শরীয়তবিরোধী) তাবিজ পরবে সে সেটার অধীনে আছে বলে বিবেচিত হবে… ’ ”(অর্থাৎ সে তারই উপর নির্ভরশীল) (আবু দাউদ)

Note :

কুফরী-কালাম ও শিরিকি বাক্য লিখিত তাবিজ ব্যবহার বা যাদু-টোনা শিরিক।

→ আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ একদিন তাঁর স্ত্রীকে দেখলেন একটি ★ গিঁট দেয়া সূতা গলায় পরতে। তিনি সেটা টেনে ছিঁড়ে ফেলে বললেন, “আব্দুল্লাহর পরিবার আল্লাহর সাথে অন্য কোন কিছুকে শরীক করা থেকে মুক্ত।” তারপর তিনি বললেন, “আমি আল্লাহর রাসূল (সা) কে বলতে শুনেছি: ঝাড়ফুঁক, তাবিজ ও ★ বশীকরণ (মানে জাদু-টোনার দ্বারা বশীভুত করা) এগুলি হচ্ছে শিরক।”

Note :

এর মানে হল নাজায়েজ তাবিজ। কারন ★ দিয়ে কথাটিতে বশীকরন মানে হল জাদু-টোনা যা স্পষ্ট হারাম ও শিরিক।


→ ইমরান ইবন হুসাইন বর্ণনা করেছেন যখন রাসূল (সা) এক ব্যক্তির বাহুতে ★ পিতলের বালা দেখতে পেলেন, জিজ্ঞেস করলেন, “তোমার ধ্বংস হোক! এটা কি?” সে বলল, “এটা তাকে একটা রোগ যার নাম ★ আল-ওয়াহিনা (দুর্বলতা, সম্ভবত: বাত), তা থেকে রক্ষা করবে।” রাসূল (সা) তখন বললেন “ওটা ছুঁড়ে ফেলে দাও, কারণ এটা তোমার দুর্বলতাই বৃদ্ধি করবে এবং যদি তুমি এটা পরা অবস্থায় মারা যাও, তুমি কখনও সফল হবে না।” (আহমাদ; ইবন মাজাহ; ইবন হিব্বান)

Note : তার ধারনা ছিল উক্ত পিতলের বালাই রোগমুক্তির ক্ষমতা রাখে। কিন্তু আমাদের আকিদা হল যেসব  তাবিজ বা ঝাড়ফুক জায়েজ সেগুলো শুধুমাত্র উসীলাস্বরুপ সুস্থতা দান করার মালিক আল্লাহ।
যেমন : এই হাদিসের উত্তম ব্যাখ্যা অপর হাদিসে পাওয়া যায় :

→ রাসূল (সা) বলেন “তোমরা অসুস্থতার চিকিৎসা কর, কিন্তু হারাম জিনিস দিয়ে চিকিৎসা করো না।” (আবু দাউদ, বায়হাকী)



                       STEP 2 :



যে সমস্ত ঝাড়-ফুক বা তাবিজ জায়েজ : 



১) এক কথায় সমস্ত কল্যানকর কাজে ব্যবহৃত শিরিক ও কুফর বাক্য মুক্ত ও যাতে কুরআন, হাদিস থেকে দোয়া রয়েছে বা কুরআন হাদিস সম্মত কোনকিছু ।


২) ওষুধ খেলে রোগ সেরে যায়। আল্লাহ রোগ দিল আর ওষুধ সুস্থ করে দিল এমন ভাবা শিরিক।
মুলত আল্লাহই সুস্থ করেছেন আর ওষুধ "ওসীলা বা মাধ্যম" মাত্র আর কিছু নয়। তেমনি তাবিজ বা ঝাড়ফুক ব্যবহার করাও হল "ওষুধের মতই ওসীলা স্বরুপ"

৩) ওষুধ খেলে বা তাবিজ দ্বারা ভাগ্য পরিবর্তন এমন ভাবাও ঠিক না, সুস্থ হলে এটাও আল্লাহই করেছেন বলে ভাবতে হবে। রোগ ও রোগমুক্তি কিভাবে হবে সব ভাগ্যে লিপিবদ্ধ রয়েছে।







আল-কোরআন ও হাদিস থেকে প্রমান :-



আল্লাহ্ পাক এরশাদ করেন -

و اذا مرضت فهو يشفين -

(ইব্রাহিম আ: বলেন), “আমি যখন রোগে আক্রান্ত হই তখন তিনি-ই (আল্লাহ) আমাকে রোগমুক্ত
করেন।” (সূরা শুআরা: আয়াত ৮০)


আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন মানব দেহে রোগ-বিমার দিয়ে মু’মিনদের পরীক্ষা করেন। আবার রোগের প্রতিষেধকও তিনি দান করেন। 

বুখারী শরীফে বর্ণিত একখানা হাদীসে রাসূলে পাক (দ:) এরশাদ করেন -

“আল্লাহ এমন কোনো রোগ প্রেরণ করেন না যার আরোগ্য নেই।

আল্লাহ্ পাক আরও বলেন -

 وننزل من القوأن ما هو شفاء ورحمة للمؤمنين-

“আমি কোরআনে এমন বিষয় নাযিল করি যা রোগের সুচিকিৎসা এবং মুমিনের জন্য রহমত।“ (সূরা বনী ইসরাঈল: ৮২)

আল্লাহ্ তা’আলা আরও এরশাদ করেন -

ويشف صدور قوم مؤمنين-

“তিনি মুমিনদের অন্তরের রোগ নিরাময়কারী” (সূরা তওবা: আয়াত ১৪)।

নিচে স্পষ্ট প্রমান দেয়া হল :

→ শিফা (আরোগ্য) : সুরা ফাতিহার অপর ১টি নাম হল শিফা বা আরোগ্যের সুরা। দেখুন নিচের হাদিস সমুহে। 

রেফারেন্স :

★ দারেমী হা/৩৩৭০, মুহাক্কিক : হুসাইন আসাদ সালীম, সনদ মুরসাল ছহীহ; 
★ মিশকাত হা/২১৭০।

হাদিস :

→ হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুবলেনঃ 

আমি একদিন এক স্বর্প দংশিত অর্ধমৃতরোগীকে সুরা ফাতিহা পাঠ করে ফুঁদিয়ে রোগমুক্ত করি। এতে তার পিতা খুশি হয়ে আমাকে এক পাল ছাগল দান করেন। আমি তা নিয়ে হুযুরসল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে হাযির হয়ে ঘটনা বর্ণনা করলাম। হুযুর সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেন-রান্না করে আমাকেও কিছু গোশত দিও।-সুবাহানাল্লাহ  
(আল হাদিস)

→ রুক্বইয়াহ (ফুঁকদান) : উক্ত সুরার অপর নাম (রুক্কইয়াহ বা ফুকদান) কারন ইহা পাঠ করে ঝাড়ফুক করা হত। এজন্য এ সূরাকে রাসূল (ছাঃ) ‘রুক্বইয়াহ’ (الرُّقْيَةُ) বলেছেন। কেননা এই সূরা পড়ে ফুঁক দিলে আল্লাহর হুকুমে রোগী সুস্থ হয়ে যায়। নিচের হাদিসগুলো পড়ুন :

রেফারেন্স :

★ বুখারী হা/৫৭৩৬, 
★ মুসলিম হা/২২০১ ‘সালাম’ অধ্যায়; তাফসীর কুরতুবী, ইবনু কাছীর।


→ সুরা ফাতিহা এবং সূরায়ে বাক্বারাহর শেষ তিনটি আয়াত হ’ল আল্লাহর পক্ষ হ’তে প্রেরিত বিশেষ নূর, যা ইতিপূর্বে কোন নবীকে দেওয়া হয়নি।

রেফারেন্স :

★ মুসলিম হা/৮০৬ অধ্যায়-৬, ‘সূরা ফাতিহার ফযীলত’ অনুচ্ছেদ-৪৩, 
★ মিশকাত হা/২১২৪।

→ হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) বলেন, একদা এক সফরে আমাদের এক সাথী জনৈক গোত্রপতিকে শুধুমাত্র সূরা ফাতিহা পড়ে ফুঁক দিয়ে সাপের বিষ ঝাড়েন ও তিনি সুস্থ হন...।

রেফারেন্স : 

★ বুখারী হা/৫৭৩৭ ‘চিকিৎসা’ অধ্যায়; 
★ মিশকাত হা/২৯৮৫।

এই ব্যপারে অনেক সহিহ হাদিস বর্নিত হয়েছে :

→ হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্নিত আছে, তিনি বলেনঃ

”একবার আমরা সফরে ছিলাম। একস্থানে আমরা অবতরণ করি। হঠাৎ একটি দাসী এসে বললোঃ
এ জায়গার গোত্রের নেতাকে সাপে কেটেছে। আমাদের লোকেরা এখন সবাই অনুপস্থিত। ঝাড় ফুঁক দিতে পারে এমন কেউ আপনাদের মধ্যে আছে কি? আমাদের মধ্য হতে একজন তার সাথে গেল। সে যে
```ঝাড় ফুঁকও``` জানতো তা আমরা জানতাম না। তথায় গিয়ে সে কিছু ঝাড় ফুঁক করল।

আল্লাহর অপার মহিমায় তৎক্ষণাৎ সে সম্পূর্ণ রুপে আরোগ্য লাভ করল। অনন্তর সে ৩০ টি ছাগী দিল এবং আমাদের অতিথেয়তায় অনেক দুধও পাঠিয়ে দিল। সে ফিরে আসলে আমরা তাকে জিজ্ঞাস করলাম:

তোমার কি এ বিদ্যা জানা ছিল? সে বললঃ আমি তো শুধু সুরা ফাতিহা পড়ে ফুঁক দিয়েছি। আমরা বললাম,  তাহলে এই প্রাপ্ত মাল এখনও স্পর্শ করো না। প্রথমে রসুলুল্লাহ সল্লল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করো। মদিনায় এসে আমরা রসুল্লল্লাহ সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এ ঘটনা হুবুহু বর্ণনা করলাম।তিনি বললেনঃ এটা যে ফুঁক দেওয়ার সুরা তা সে কি করে জানলো? এ মালভাগ করো। আমার জন্যেও এক ভাগ রেখো।

★ সহীহ বুখারী ”ফাযায়িলুল কুরআন” অধ্যায়।
★ সহীহমুসলিম;
★ সুনানে আবু দাউদ

→ সহীহ মুসলিমের কোন কোন বর্ণনায় আছে যে, ফুঁক দাতা হযরত আবু সাঈদখুদরী (রাঃ)।
(তাফসির ইবনে কাসির ১ম খন্ডসুরা ফাতিহার ফযীলত)


→ হযরত ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত,

নবী করীমসল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের একটি দল পানির কোন ঘাট ( কুপ) এর পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন,যাদের মধ্যে ( কুপওয়ালাগণের) একজনকে বিচ্ছু কিংবা সাপ দ্বারা দংশিত লোক ছিলো। তখন ঘাট বা কুপ ওয়ালাদের মধ্যে একজন তাঁদের নিকট এসে বলল, আপনাদের মধ্যে কেউ ঝাড়ফুঁক কারী আছেন? কুপ বা ঘাট ওয়ালাদের মধ্যে একজন লোক বিচ্ছু কিংবা সাপ দ্বারা দংশিত হয়েছে। তখন সাহাবীদের মধ্যে একজন কিছু সংখ্যক ছাগলের শর্তে গেলেন। অতঃপর সুরা ফাতিহা পড়ে ঝেড়ে দিলেন। সে সুস্থ হয়ে গেলো। তিনি তাঁর সঙ্গীদের নিকট ছাগলগুলো নিয়ে আসলেন। সাহাবীগণ তা অপছন্দ করলেন। তাঁরা বললেন, আপনি আল্লাহর কিতাবের বিনিময়ে পারিশ্রমিক নিয়েছেন? অবশেষে তাঁরা মদীনা মুনাওয়ারায় আসলেন। আর আরয করলেন,হে আল্লাহর রসুল! ইনি আল্লাহর কিতাবের বিনিময়ে পারিশ্রমিক নিয়েছেন। তখন রসুলুল্লাহ সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, নিশ্চয় পারিশ্রমিক নেয়ার সর্বাদিক উপযোগী হচ্ছে আল্লাহর কিতাব।

রেফারেন্স :

★ [ সহীহ বুখারী]
★ অন্য এক বর্ণনায় এমনি রয়েছে যে, তোমরা ঠিক কাজ করেছো। সেটা ভাগ করে নাও এবং তোমাদের সাথে আমার জন্যও এক ভাগ রেখো!”
★ [ মিশকাতশরীফ “বাবুল ইজারা” অধ্যায়,হাদিস নং২৮৫১]


→ হযরত খারেজাহ্ ইবনে সালত ( তাবেঈ) হতে বর্ণিত,
তিনি তাঁর চাচা ( সাহাবী) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন,

আমরা রসুলুল্লাহ সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট থেকে রওনা হলাম। অতঃপর আরবের একটা গোত্রের নিকট আসলাম। তারা বললো, আমরা খবর পেয়েছি যে, তোমরা ওই মাহবুব (সা) এর নিকট থেকে বড় কল্যাণ নিয়ে এসেছো। তোমাদের নিকট কি কোন ঔষধ কিংবা দম ( মন্ত্র) আছে? আমাদের নিকট এক পাগল বন্ধনে আবদ্ধ রয়েছে। আমরা বললাম, হ্যা আছে। তারা পায়ে বেড়ী পরানো এক পাগলকে নিয়ে আসলো। আমি তিনদিন যাবৎ সকাল – সন্ধ্যায় তার উপর সুরা ফাতিহা পড়ে ফুঁক দিয়েছি। আমি আমার থুথু একত্র করতাম তারপর তার উপর ফুঁকতাম। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেছেন, অতঃপর সে যেন বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে গেল। তারা আমাকে কিছু পারিশ্রমিক দিল। আমি বললাম, না। (এটা আমি খাব না) যে পর্যন্ত না রসুলুল্লাহ সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করে নেবো। হুযুর এরশাদ ফরমালেন, খাও। আমার জীবনের শপথ ! অবশ্য যে ব্যক্তি বাতিল মন্ত্র দ্বারা খায়, (তার জন্য নিষিদ্ধ)। তুমি তো খাচ্ছো সত্য মন্ত্র (কোরআনের ঝাড়ফুঁক) দ্বারা।

রেফারেন্স :

★ মুসনাদে আহমদ,
★ আবু দাউদ,
★ মিশকাতুল মাসাবিহ ”বাবুল ইজারা” অধ্যায়,হাদিসনং২৮৫৩



→ ইমাম কুরতুবী বলেন, সূরা ফাতিহাতে যে সকল ‘ছিফাত’ রয়েছে, তা অন্য কোথাও নেই। এমনকি একেই ‘আল-কুরআনুল আযীম’ বা মহান কুরআন বলা হয়েছে (হিজর ১৫/৮৭)।

রেফারেন্স :

★ তাফসীর কুরতুবী ১/১৪৮-৪৯।

→ রাসূলুললাহ (ছাঃ) তাঁকে ব্যথার স্থানে হাত রেখে তিনবার ‘বিসমিল্লাহ’ বলতে ও সাত বার

 أَعُوْذُ بِعِزَّةِ اللهِ وَقُدْرَتِهِ مِنْ شَرِّ مَا أَجِدُ وَأُحَاذِرُ 

পাঠ করতে আদেশ দিলেন এবং তাতে তিনি সুস্থ হয়ে গেলেন’।

রেফারেন্স :

★ মিশকাত হা/১৫৩৩; কুরতুবী ১/৯৮।

→ উসমান ইবনে আবুল আ’স (রঃ) রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর নিকট ঐ ব্যথার অভিযোগ করলেন, যা তিনি তার দেহে অনুভব করছিলেন। অতঃপর রাসুলুল্লাহ (সঃ) তাকে বললেন, “তুমি তোমার দেহের ব্যথিত স্থানে হাত রেখে তিনবার ‘বিসমিল্লাহ’ এবং সাতবার ‘আউযু বিইযযাতিল্লাহি অকদরাতিহি মিন সাররি মা আজিদু  অউহাযিরু’ বল।” অর্থাৎ আল্লাহর ইজ্জত এবং কুদরতের আশ্রয় গ্রহণ করছি, সেই মন্দ থেকে যা আমি পাচ্ছি এবং যা থেকে আমি ভয় করছি। 

রেফারেন্স :

★ মুসলিম হা/২২০২


→ নবী করিম সল্লল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন-“যে ব্যক্তি কোরআন মজিদের দ্বারা রোগ মুক্ত হতে পারেনি- তার জন্য আল্লাহ যেন কোন শেফা মঞ্জুর না করেন” – (আল হাদিস)

→ নবী করিম সল্লল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন-” সুরা ফাতিহা মৃত্যু ব্যতীত সবরোগের ঔষধ” (তাফসিরে কাশ শাফ)



মানব দেহের রোগ-বিমারের বিভিন্ন দিক থাকতে পারে। যেমন শারীরিক রোগ, মানুষ ও জ্বিনের কুদৃষ্টি, তাবিজ-টোনা ইত্যাদি। এ বিষয়গুলো এবং এর প্রতিকারে ঝাড়ফুঁক বা তাবিজ-দোয়া ব্যবহার কতটুকু ইসলাম বা কোরআন-হাদীছসম্মত তা নিয়ে কিছু আলোচনা করছি। এ বিষয়ে অনেকে জানতে চেয়েছেন।

প্রায় সব কল্যানকর তাবিজ ও ঝাড়ফুঁক-ই বুজুর্গদের ইজতেহাদ, অভিজ্ঞতা ও কাশফের মাধ্যমে উদ্ভূত। কোরান-হাদীছে স্পষ্ট বলা হয়নি যে অমুক তাবিজ বা অমুক ঝাড়ফুঁক দ্বারা অমুক কাজ হবে। তাই কোনো তাবিজে কাঙ্ক্ষিত ফল না হলে কোরআন-হাদীছের সত্যতা নিয়ে কিছু বলার বা ভাবার অবকাশ নেই। 
যেমন জ্বর বেশি হলে এই আয়াত পড়ে ফুঁ দিলে কাজ হয় - 

يا نار كونى بردا و سلاما على ابراهيم 

“ইয়া নারু কুনি বারদাও ওয়া সালামান আলা ইব্রাহিম” 
যার অর্থ - হে আগুন ইব্রাহিমের (আ:) জন্য শান্তিদায়ক ঠান্ডা হয়ে যাও। 

কোনো কোনো বুজুর্গ এ আয়াত দ্বারা বালিতে ফুঁ দিয়ে জ্বলন্ত আগুনে ছিটিয়ে দিয়ে বাড়িঘরে আগুন লাগলে নিভিয়ে দিয়েছেন (সুবহানাল্লাহ)। এখন যদি এ আমল দ্বারা আগুন না নিভে তাহলে কোরআনের ক্ষমতা নেই এ কথা বলা যাবে না।








তাবীজ ও ঝাড়ফুঁক কোরআন হাদীছের বাক্যাবলী দ্বারা বৈধ ও কল্যানকর উদ্দেশ্যে করা হলে তা জায়েয। 


→ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি আমল ছিলো -

عن عائشة رضى الله عنه انً النًبىً صلًى الله عليه وسلم كان اذا آوى الى فراشه كل ليلة جمع كفيه ثمً نفث فيهما فقرا بهما قل هو الله احد و قل اعوذ برب الفلق و قل اعوذ برب الناس ثمً مسح بهما ما استطاع من جسده يبدا بهما على رأسه و وجهه وما اقبل من جسده يفعل ذالك ثلاث مراتٍ-

অর্থাৎ, হযরত আয়েশা (রা:) বলেন, প্রতি রাতে বিছানায় শয়ন করার সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’হাতের তালু একত্রিত করে তাতে সূরা ইখলাছ,ফালাক ও নাস পড়ে ফুঁক দিয়ে মাথা ও মুখমণ্ডল হতে সারা শরীর তিন বার মসেহ করতেন। (তিরমিজী শরীফ, ২য় খণ্ড, ১৭৭ পৃষ্ঠা)


→ আয়িশা (রা.) বলেন, বিপদ আসার পর যা লটকানো হয় তা তামীমা (অর্থাৎ নাজায়েজ তাবীজ) এর অন্তর্ভূক্ত নয়।


→ মুসলীম শরীফের হাদীছে রয়েছে -

عن عوف بن مالك الاشجعى قال كنا نرقى فى الجاهلية فقلنا يا رسول الله كيف ترى فى ذالك ؟ فقال اعرضوا على رقاكم لا بآس بارقى ما لم يكن فيه شرك- 
(رواه مسلم فى كتاب الاسلام-باب استحباب الرقية -------- والنظرة )

অর্থাৎ, হযরত আউফ ইবনে মালিক আশজায়ী বলেন, আমরা জাহেলী যুগে (বিভিন্ন মন্ত্র দ্বারা) ঝাড়ফুঁক করতাম। তাই জিজ্ঞেস করলাম ইয়া রাসূলাল্লাহ (দ:)! এ ব্যাপারে আপনার মতামত কী? তিনি বলেন, তোমরা কী (মন্ত্র) দিয়ে ঝাড়ফুঁক করো তা আমার কাছে পেশ করো। যাতে শিরক নেই এমন কিছু দিয়ে ঝাড়ফুঁক করাতে দোষ নেই। (মুসলীম শরীফ, কিতাবুস সালাম)







→ ইমাম আবু বাকর ইবনে আবী শাইবাহ ‘মুনান্নাফ’ গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন, 

আমর ইবনে শুআইব তিনি
|
তাঁর পিতা থেকে তিনি  
|
 তাঁর বাবা থেকে (আমর ইবনে শুয়াইব এর দাদা) থেকে বর্ণনা করেন যে, 

রাসূল (স.) ইরশাদ করেন,  তোমাদের কেউ যখন ঘুম অবস্থায় ঘাবড়িয়ে উঠে, সে যেন 
এই দোয়া শিখিয়ে দিলেন (আউযুবিকালিমা – তিহিত্তা- ম্মা-তি মিন গাদাবিহি- ওয়া ইকা-বিহী- ওয়া শাররি ইবা- দিহি-ওয়া মিন হামযা- তিশ শায়া- ত্বি-নি ওয়া আই ইয়াহদুরুন। 

অর্থাৎ-আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীগুলোরআশ্রয় নিচ্ছি তাঁর অসন্তুষ্টি ও তাঁর আযাব থেকে এবং তাঁর বান্দাদের অকল্যাণ ও শয়তানদের কুমন্ত্রণাদি থেকে আর তাদের উপস্থিতি থেকে,।”)

তাহলে এগুলো তার ক্ষতি হতে দেবে না। আব্দুল্লাহ ইবনে আমর তাঁর উপযুক্ত সন্তানদের তা শিক্ষা দিতেন এবং ছোটদের গলায় তা লিখে লটকিয়ে দিতেন। 

রেফারেন্স :

★ ইমাম আবূদাউদ (রাহ.) : সুনানে আবূ দাউদ : কিতাবু-তিব্বের অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন।
★ মিশকাত শরীফ “বাবুল ইসতিআযা”অধ্যায় হাদিস নং-২৩৬১
★ তিরমিযি এবং 
★ আবু দাউদ



→ এ সম্পর্কে আরো কিছু হাদিস :


عن عمرو بن شعيب عن ابيه عن جده قال قال رسول الله صلى الله وسلم1 (১)
اذا فرغ احدكم فى نومه فليقل بسم الله اعوذ بكلمات الله التامات من غضبه وسوء عقابه و من شر عباده و من شر الشياطين -----------------عليه (اخرجه ابن ابى شيبه فى مصنف حديث رقم 24013 )

এ হাদীছে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা:) কর্তৃক তাঁর বাচ্চাদের জন্য তাবীজ লিখে দেয়ার কথা উল্লখ আছে। ( মুসান্নেফে আবি শায়ব হাদীছ নং- ২৪০১৩)।


(২) عن عمرو بن شعيب عن ابيه عن جده قال قال رسول الله صلى الله وسلم كان يعلمهم من الفزع كلمات اعوذ بكلمات الله------------------- فعلقه عليه- (اخرجه ابو داؤد فى الطب)

এ হাদীছেও হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা:) কর্তৃক তাঁর বাচ্চাদের জন্য তাবীজ লিখে দেয়ার কথা উল্লেখ আছে। ( আবু দাউদ)


(৩) 
عن ثوير قال كان مجاهد يكتب للناس التعويذ فيعلقه (اخرخه ابن ابى شيبة حديث رقم 24011)
و اخرج عن ابى جعفر و محمد بن شرين و عبيد الله بن عبد الله بن عمر و الضحاك ما يدل على انهم كانوا يبيحون كتابه التعويذ و تعليقه او ربطه بالعضد و نحوه- انظر حديث رقم -24012-24013-24015-24018)

এ রেওয়ায়েতে হজরত মুজাহিদ (রহঃ) কর্তৃক মানুষকে তাবীজ লিখে দেয়ার কথা বর্ণিত আছে এবং আবু জাফর, মুহাম্মদ ইবনে শিরিন (রহ:) আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা:)-এর পুত্র উবায়দুল্লাহ ও জাহহাক প্রমুখের দ্বারা অন্যদেরকে তাবীজ লিখে দেয়ার কথা, সূতা বাঁধা, তাবীজ হাতে বা গলায় বাঁধা ও তাবীজ লেখা বৈধ হওয়া মর্মে তাঁদের মন্তব্য বর্ণিত হয়েছে। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা হাদীছ নং- ২৪০১১, ২৪০১২, ২৪০১৪, ২৪০১৫, ২৪০১৮)


→ ”যাদুল মাআদ” নামক গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে – তাবিজ তুমার ধারন করা জায়েজ কিনা- এ প্রসংগে বিখ্যাত মুহাদ্দিস ইমাম ইবনে হিব্বান (রহ) তিনি হযরত ইমাম জাফর সাদিক ( রাঃ) কে প্রশ্ন করেন। 

হযরত ইমাম জাফর সাদিক (রাঃ) বললেনঃ ”যদি আল্লাহর কালাম হয় অথবা রসুলুল্লাহর হাদিস হয়-তাহলে ধারণ করো এবং ঐ তাবিজের (উসীলার) মাধ্যমে আল্লাহর কাছে শেফা প্রার্থনা কর”। 

রেফারেন্স :  [যাদুল মাআদ]


→ ইমাম আহমদ বিন হাম্বল (রহঃ) এর পুত্র আবদুল্লাহ (রহঃ) বলেন” আমি আমার পিতা ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বলকে হৃদকম্পন রোগী ও জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য তাবিজতুমার লিখতে দেখেছি”

রেফারেন্স : [আদিল্লাতু আহলিছ-সুন্নাহ ও অন্যান্য গ্রন্থ]



খারাপ নযর ও বাতাস লাগা :


নযর ও বাতাস লাগা ইসলাম সম্মত কি-না, তা আমাদের জানা থাকা দরকার। অর্থাৎ, সু-নযর বা কু-নযর ও জ্বীনের বাতাস বা আছর সঠিক কি-না?


→ হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন -

العين حق- ( رواه مسلم فى كتاب السلام-باب الطب و المرض و الرقى)

অর্থাৎ, নযর লাগা সত্য। (মুসলীম শরীফ, কিতাবুস সালাম)

আর বাতাস লাগার অর্থ যদি হয় জ্বিনের বাতাস বা তাদের খারাপ নযর বা খারাপ আছর লাগা, তাহলে এটাও সত্য; কেননা জ্বিন মানুষের ওপর আছর করতে সক্ষম। 

★ কোরআনে আল্লাহ্ পাক বলেন, আমি জ্বিন ও মানব জাতিকে একমাত্র আমার ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছি (সূরা বাক্বারা)। 
জ্বিনের মধ্যে মানুষের মতই মু’মেন ও বে-দ্বীন এবং দুষ্ট জ্বিনও রয়েছে। যেমন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে একই সাথে ৪০০ জ্বিন ঈমান এনেছিলো। এখনো মক্কা শরীফে মসজিদে জ্বিন রয়েছে।

★ কোরআন শরীফে একটি সূরার নাম রয়েছে ‘সূরায়ে জ্বিন’। সুতরাং আধুনিকতার দোহাই তুলে জ্বিন জাতির অস্তিত্ব অস্বীকার করার কোনো অবকাশ মুসলমানের নেই। এটাও জেনে রাখা দরকার জ্বীন কোনো কোনো জীবের আঁকারও ধারণ করতে পারে এবং মানুষের ওপর ভর করতে পারে।

→ হাদীছ শরীফে এরশাদ হয়েছে -

عن ابن عباس رضى الله عنه عن النبىِ صلى الله عليه وسلم قال : العين حق ولو كان شىءُ سابق القد ر سبقته العين و اذا استغسلتم فاغسلوا- (رواه مسلم فى كتاب السلام- باب الطب--/ رواه الترمذى فى ابواب الطب- ما جاء ان العين حق والغسل لها وقال: هذا حديث حسن صحيح- واللفظ لمسلم)

অর্থাৎ, ইবনে আব্বাস (রা:) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, নযর লাগা সত্য। যদি কোনো কিছু ভাগ্য অতিক্রম করতে পারত, তাহলে নযর তাকে অতিক্রম করত। যখন তোমাদের কাউকে ধুয়ে দিতে বলা হয়, সে যেন ধুয়ে দেয়। 

★ মুসলীম শরীফ- কিতাবুস সালাম
★ তিরমিজী শরীফ-আবওয়াবাবে তিব্বী- বাবে মা জা’আ ইন্নাল আইনা হাক্কু ওয়া গোসলু লাহা ওয়া কালা হাজা হাদীছুন সহহীহুন)। 



হাদিসের আলোকে ঝাড়ফুক সম্পর্কিত কিছু দোয়া :




→ আনাস (রাঃ) বলেছেন, রাসূল (সাঃ) অসুস্থ
ব্যাক্তিদের উপর এই দোয়া পড়ে ফু দিতেন। অসুস্থ
ব্যাক্তি দ্রুত আরোগ্য লাভ করতো।

দোয়াটি হল :


রোগ থেকে দ্রুত আরোগ্য প্রাপ্তির দোয়াঃ

ﺍَﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺭَﺏَّ ﺍﻟﻨَّﺎﺱِ ﻣُﺬْﻫِﺐَ ﺍﻟْﺒَﺎﺱِ ﺍِﺷْﻒِ ﺍَ ﻧْﺖَ ﺍﻟﺸَّﺎﻓِﻰْ ﻻَ ﺷَﺎﻓِﻰْ
ﺍِﻻَّ ﺍَ ﻧْﺖَ ﺷِﻔَﺎﺀً ﻻَﻳُﻐَﺎﺩِﺭُ ﺳُﻘْﻤًﺎ
.
`উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা রাব্বান নাছি মুযহিবাল বাছি -
ইশফি আনতা শাফি - লা শাফি ইল্লা আনতা শিফা'ন লা
ইয়োগাদিরু সুকমা।



রেফারেন্স :


★ বুখারী শরীফ খন্ড-২ পৃষ্ঠা-৮৫৫


→ নবী (সঃ) আপন পরিবারের কোন রোগী দর্শন করার সময় নিজের ডান হাত তার ব্যথার  স্থানে ফিরাতেন এবং এ দুয়াটি পরতেন,

“আযহিবিল বা’স, রাব্বানা-স, ইসফি আন্তাস শা- ফী, লা সিফা-আ ইল্লা সিফ-উক, সিফা-আল লা য়্যুগা-দিরু সাকামা।”

অর্থাৎ, হয়ে আল্লাহ! মানুষের প্রতিপালক! তুমি কষ্ট দুর কর এবং আরোগ্য দান কর। (যেহেতু) তুমি রোগ আরোগ্যকারী। তোমারই আরোগ্য দান হচ্ছে প্রকৃত আরোগ্য দান। তুমি এমন ভাবে রোগ নিরাময় কর, যে তা রোগকে নির্মূল করে দেয়। (বুখারি ও মুসলিম)



যাদু বা অন্য কোন রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিকে ঝাড়-ফুঁক করাতে কোন অসুবিধা নেই। যদি তা কুরআনের আয়াত বা অন্য কোন বৈধ দু’আর মাধ্যমে হয়ে থাকে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে প্রমাণিত আছে যে, তিনি সাহাবীদেরকে ঝাড়-ফুঁক করেছেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে ঝাড়-ফুঁকের বিভিন্ন দু’আ রয়েছে। তম্মধ্যে কয়েকটি দু’আ নিম্নে উল্লেখ করা হলঃ

رَبَّنَا اللَّهُ الَّذِي فِي السَّمَاءِ تَقَدَّسَ اسْمُكَ أَمْرُكَ فِي السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ كَمَا رَحْمَتُكَ فِي السَّمَاءِ فَاجْعَلْ رَحْمَتَكَ فِي الْأَرْضِ اغْفِرْ لَنَا حُوبَنَا وَخَطَايَانَا أَنْتَ رَبُّ الطَّيِّبِينَ أَنْزِلْ رَحْمَةً مِنْ رَحْمَتِكَ وَشِفَاءً مِنْ شِفَائِكَ عَلَى هَذَا الْوَجَعِ فَيَبْرَأَ

“হে আমাদের প্রতিপালক! আপনার নাম অতি পবিত্র। আকাশ এবং যমিনে আপনার আদেশ বাস্তবায়িত হয়। আকাশে যেমন আপনার রহমত বিস্তৃত রয়েছে, জমিনেও অনুরূপভাবে আপনার রহমত বিস্তার করুন। আপনি আমাদের গুনাহ ও অপরাধসমূহ ক্ষমা করুন। আপনি পবিত্রদের প্রভু, এই রোগীর উপর আপনার রহমত ও শিফা অবতীর্ণ করুন। এই ভাবে ঝাড়-ফুঁক করলে রোগী সুস্থ হয়ে উঠত।”

بِاسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ يُؤْذِيكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنِ حَاسِدٍ اللَّهُ يَشْفِيكَ بِاسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ

“আল্লাহর নামে তোমাকে ঝাড়-ফুঁক করছি। প্রতিটি এমন রোগ আরোগ্যের জন্যে, যা তোমাকে কষ্ট দেয়। প্রতিটি মানুষের অকল্যাণ থেকে এবং হিংসুকের বদ নজর থেকে আল্লাহ তোমাকে শিফা দান করুন। আল্লাহর নামে তোমাকে ঝাড়-ফুঁক করছি।”

أَعُوذُ بِاللَّهِ وَقُدْرَتِهِ مِنْ شَرِّ مَا أَجِدُ وَأُحَاذِرُ

আমি আল্লাহ এবং তাঁর কুদরতের উসীলায় আমার কাছে উপস্থিত ও আশংকিতকারী অনিষ্টতা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। রোগী ব্যক্তি শরীরের যেখানে ব্যথা অনুভব করবে, সেখানে হাত রেখে উপরোক্ত দু’আটি পাঠ করবে। উপরের দু’আগুলো ছাড়াও হাদীছে আরো অনেক দু’আ বর্ণিত হয়েছে।










ইমামগনের মতামত ও অন্যান্য কিতাবাদি থেকে প্রমান :



→ হানাফী মাযহাবের বিখ্যাত ফকীহ, আল্লামা শামী (রাহ.) লিখেন, নাজায়িজ তাবিজ হল ঐ সব তাবিজ যা কুরআন বহির্ভূত। 
(রাদ্দুল মুহতার, খন্ড ৫, পৃ: ২৩২)।


→ অতপর তিনি আরোও লিখেন, কুরআনে কারীম দ্বারা অথবা আল্লাহর নাম দ্বারা তাবিজ লিখলে কোন অসুবিধা নেই। (রাদ্দুল মুহতার, খন্ড ৬, পৃ:৩৩৬)।

→ ইমাম কুশাইরী (রাহ.) ঝাড়-ফুঁক এবং তাবিজকে দোয়ার বিকল্পরূপে উল্লেখ করেছেন। কারণ, দোয়া তাবিজ এবং ঝাড়-ফুঁক প্রভৃতি সবকিছুতেই আল্লাহর নামের ওছিলা গ্রহণ করে আল্লাহর নিকটই সাহায্য প্রার্থনা করা হয়, যা অবৈধ হওয়ার কোন কারণ নেই। বরং এগুলিও একান্তভাবে আল্লাহর নিকটই সাহায্য প্রার্থনার একটি পদ্ধতিরূপে গ্রহণযোগ্য। এই গ্রহণযোগ্য পদ্ধতিকে কুফুরী ও জাহেলিয়াত যুগের শেরেকী কালামের কুফুরী ও জাহেলিয়াত যুগের শেরেকী কালামের সাথে একাকার গণ্য করা মোটেও যুক্তিযুক্ত হতে পারে না।

→ তাবীজ নিয়ে আহলে হাদিসদের ইমাম ইবনে তাইমিয়ার ফতোয়া :

 قال عبد الله بن احمد قرأ ت على ابى ثنا يعلى بن عبيد ثنا سفيان عن محمد -------- عن ابن عباس قال اذا عسر على المرأة ولادتها فليكتب بسم الله لا اله الا الله الحليم الكريم سبحان الله رب العرش العظيم الحمد لله رب العالمين كانهم يوم يرونها لم يلبثوا الا عشية او ضحاها كانهم يوم يرون ما يوعدون لم يلبثوا الا ساعة من نهار بلاغ فهل بهلك الا القوم الفسقون-

এ রেওয়ায়েতে হযরত ইবনে আব্বাস (রা:) কর্তৃক বাচ্চা প্রসবের সময় প্রসূতির প্রসব বেদনা লাঘব করা ও সহজে প্রসব হওয়ার জন্য বিশেষ তাবীজ শিক্ষা দেয়ার কথা বর্ণিত হয়েছে। 

Note : এ রেওয়ায়েতটি সালাফী ও গায়রে মুকাল্লিদগণের সর্বজনমান্য ব্যক্তি ইবনে তাইমিয়া তার ফতোয়ায় উল্লেখ করেছেন। 

Reference : ফতোয়ায়ে ইবনে তাইমিয়া - ১৯ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৬৩।

→ ইবনে তাইমিয়া বলেছে -

ويجوز ان يكتب للمصاب و غيره من المرضى شيئا من كتاب الله و ذكره بلمراد المباح ويغسل وبقسى-
(فتاوى ابن تيميه ج/19 صفه/ 63)

অর্থাৎ, অসুস্থ বা বিপদগ্রস্ত লোকদের জন্য কালি দ্বারা আল্লাহ’র কিতাব, আল্লাহ’র জিকির লিখে দেয়া এবং ধুয়ে পান করানো জায়েয।

গায়রে মুকাল্লীদগণ যে আরেকজনকে ইমাম হিসেবে মান্য করেন, সেই ইমাম শাওকানীও বলেছেন, সমস্ত ফকহীগণের নিকট এ ধরনের তাবীজ জায়েয (নাইলুল আওতার)।



কোরআন শরীফের আয়াত, আল্লাহ’র নাম ও দোয়ায়ে মাছুরা (যে সব দোয়া হাদীছে উল্লেখ আছে) দ্বারা ঝাড়ফুঁক সর্বসম্মতিক্রমে জায়েয। অনেক হাদীছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও ছাহাবায়ে কেরাম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম ঝাড়ফুঁক করতেন বলে প্রমাণ রয়েছে। এসব ঝাড়ফুঁক ছিল কোরআন ও আসমায়ে হুসনা দ্বারা। এ কারণে এরূপ ঝাড়ফুঁক সর্বসম্মতিক্রমে জায়েয।

→ যেমন : 

وهى جائزه بالقران والاسماء الالهية وما فى معناها بالاتفاق- (اللمعات)

অর্থাৎ, কোরআন, আল্লাহ’র আসমায়ে হোসনা ও অনুরূপ অর্থবিশিষ্ট কিছু দিয়ে ঝাড়ফুঁক করা সর্বসম্মতিক্রমে জায়েয। (লুম’আত)



প্রশ্নোত্তর পর্ব :



সালাফী ও গায়রে মুকাল্লীদগণের দলীল ও তার জাওয়াব :

তাদের দলীল প্রথমতঃ 

ওই সব আয়াত যার মধ্যে দুঃখ-কষ্ট ও বিপদ-আপদ দূর করাকে আল্লাহ’র শান বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন -

(ক) আল্লাহ্‌ তোমাকে ক্লেশ দিলে তিনি ব্যতীত কেউই তা দূর করার নেই। আর তিনি যদি তোমার মঙ্গল চান তাহলে তাঁর অনুগ্রহ রদ করার কেউই নেই। (সূরা-ইউনুস, আয়াত-১০৭)

(খ) আল্লাহ’রই ওপর তোমরা ভরসা করো যদি তোমরা মু’মিন হয়ে থাকো। ( সূরা মায়েদা:২৩)

(গ) মু’মিনগণ যেন আল্লাহ’র ওপর-ই ভরসা করে। (সূরা ইব্রাহীম:১১)

জাওয়াব :

তাবিজ একটা উসীলা যেমন ওষুধ রোগমুক্তির জন্য উসীলা আমরা আল্লাহর প্রতিই সাহায্যপ্রার্থী হয়েছি (তাজিব-ঝাড়ফুক ও ওষুধ এর দ্বারা) এগুলোর উসীলার মাধ্যমে।

তাবীজ গ্রহণ করা উল্লেখিত আয়াতগুলোর পরিপন্থী হতো যদি তাবীজ গ্রহণ করার ক্ষেত্রে শুধু তাবীজের ওপরই ভরসা করা হতো। কিন্তু যদি ভরসা আল্লাহ’র ওপর থাকে এবং তাবীজকে ওসীলা হিসেবে গ্রহণ করা হয় যেমনটি করা হয় ওষুধ গ্রহণ করার ক্ষেত্রে, তাহলে আদৌ তা তাওয়াক্কুলের পরিপন্থী হবে না। নতুবা বলতে হবে বৈধ পদ্ধতিতে চিকিৎসা গ্রহণ করাও উক্ত আয়াতগুলোর পরিপন্থী। 




দ্বিতীয়তঃ


ওই সব আয়াত যা’তে শিরকের নিন্দাবাদ করা হয়েছে।

ক) নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ তাঁর সাথে শিরক করাকে ক্ষমা করবেন না। অন্য গুণাহ যার জন্য ইচ্ছা ক্ষমা করবেন। (সূরা নিসা:১১৬)

খ) যে ব্যক্তি আল্লাহ’র সাথে শরীক করে সে যেন আকাশ থেকে পড়ে, অতঃপর পাখি তাকে ছোঁ মেরে নিয়ে যায় কিংবা বায়ু তাকে উড়িয়ে নিয়ে গিয়ে দূরবর্তী স্থানে নিক্ষেপ করে। (সূরা হজ্ব:৩১)

জাওয়াব 

তাবীজের ওপর নিজস্ব প্রভাব বা ক্ষমতা আছে মনে করলে শিরকের প্রশ্ন দেখা দিতে পারে। এ রকম মনে না করলে শিরকের প্রশ্ন অবান্তর। আগেই উল্লেখ করেছি যে তাবীজ গ্রহণ করা জায়েয, তাও শর্ত সাপেক্ষে; এর মধ্যে তাবীজের নিজস্ব ক্ষমতা আছে বিশ্বাস না রেখে আল্লাহ’র রহমতের ওপর বিশ্বাস রাখা শর্ত।

তৃতীয়তঃ

ওই সব হাদীছ যা’তে ঝাড়ফুঁক ও তাবীজেকে শিরক বলা হয়েছে -

ক) যে তাবীজ (পুতি) লটকালো সে শিরক করলো।

খ) অবশ্যই ঝাড়ফুঁক, তাবীজ ও যাদু শিরক।

গ) এক হাদীছে রয়েছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে একদল লোক উপস্থিত হলো। অতঃপর তিনি নয় জনকে বাই’আত করান, কিন্তু একজনকে বাই’আত করেন নি। তারা বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! একজনকে বাদ রাখলেন কেন? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, তার সাথে একটি তাবীজ রয়েছে। তখন তাঁর হাত ভিতরে ঢুকালেন এবং তাবীজটি ছিঁড়ে ফেললেন। অতপর তাকেও বাই’আত করালেন এবং বললেন, যে ব্যক্তি তাবীজ ব্যবহার করলো সে শিরীক করলো।

জাওয়াব

১) ও ২) কিছু উত্তর আগেই দেয়া হয়েছে। এখানে প্রথম হাদীছ দুটোতে যে তাবীজের কথা বলা হয়েছে, তার দ্বারা শিরকপূর্ণ তাবীজ উদ্দেশ্য। তার প্রমাণ হল এখানে উল্লেখিত দ্বিতীয় হাদীছে ঝাড়ফুঁককেও শিরক বলা হয়েছে, অথচ সব ঝাড়ফুঁক শিরক নয়; স্বয়ং রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং ছাহাবায়ে কেরাম রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুমও ঝাড়ফুঁক করতেন, যা পূর্বে সহীহ হাদীছের বরাত দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে। অতএব, এখানে ঝাড়ফুঁকের বিষয়ে যে ব্যাখ্যা দেয়া হবে তাবীজের ব্যাপারেও একই ব্যাখ্যা দেয়া হবে। এ ব্যাখ্যা করতে আমরা বাধ্য এ কারণেও যে, সহীহ ছাহাবা ও তাবেয়ীনসহ পরবর্তী যুগ পরম্পরায় তাবীজ ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়, যা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। 

৩) তৃতীয় হাদীছে তাবীজ থাকার কারণে যে ব্যক্তির বাই’আত না করা এবং তার তাবীজ খুলে ফেলার কথা বলা হয়েছে, এ দ্বারা কোনোভাবেই সব ধরনের তাবীজ নিষিদ্ধ হওয়ার দলীল দেয়া যায় না। কারণ সে লোকটি ইসলাম গ্রহণের জন্যই এসেছিলো। তাই মুসলমান হওয়ার আগে সে যে তাবীজ লাগিয়েছিলো তা অবশ্যই শিরক-পূর্ণ তাবীজ ছিলো। যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষিদ্ধ বলেছেন ও শিরক বলেছেন।


ভাগ্য বা তকদীরে বিশ্বাস করা ইমান :-

Very very Important : আমরা সেই ছোট বেলাতেই "ইমানে মুফাসসাল" নামে একটা কালেমা পড়েছি যার মধ্যে আমরা ইমান এনেছি।
তাই ভাগ্যে বিশ্বাস করার নাম হল ইমান। একটা ফির্কা আছে যারা নাকি ভাগ্যে বিশ্বাস করে না। তাদেরকে কদরীয়া বলে তারা বাতিল একটা ফির্কা। আমাদের আকিদা এটাই যে ভাল মন্দ যা হবে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে আসবে। আমাদের পাপের দ্বারা আমরা দুর্ভাগ্য অর্জন করি আর পুন্যের দ্বারা ভাল কিছু।
আবার ভাগ্যে খারাপ থাকলে দোয়ার দ্বারা আল্লাহ ভাগ্য পরিবর্তনও করে দেন।

মানুষ কোন বিপদ বা পাপ করলে বলে ভাগ্যে ছিল বলেই করেছি, কোন শাস্তি বা কষ্ট ভাগ্যে ছিল বলেই পেয়েছি, জাহান্নাম ভাগ্যে ছিল বলেই পাব এসব বলে তারা ভাগ্যকে দোষারোপ করে অথচ সে নিজে জেনে শুনেই নামাজ পড়ে না, দিনে শত শত মিথ্যা বলে, মেয়েদের দিকে খারাপ নজরে তাকায়, টিভি, গান, নাচানাচি, চুরি, ওয়াদার খেলাফ করা, মানুষকে ধোকা দেয়া, এমনকি পদে পদে সে গোনাহ করছে। যা করছে তা ভুল করছে এসব জেনে শুনে, বুঝেও সজ্ঞানে পাপ করে আর শয়তানের অনুসরন করে জাহান্নামে যায় কিন্তু ঠাস করে বলে দেয় ভাগ্য খারাপ ছিল। ভাগ্যকে গাল দেয় এসব মুলত গোনাহের কাজ। যদি নিজে ঠিক না হয়ে ভাগ্যকে বসে বসে দোষ দেন তাহলে কি হবে?


★ইমানে মুফাসসাল ★


*** আমানতু বিল্লাহি ওয়া মালা-ইকাতিহি, ওয়া কুতুবিহি, ওয়া রুসুলিহি, ওয়াল ইয়াওমিল আখিরি, ওয়াল কাদরি খায়রিহি ওয়া শাররিহি মিনাল্লাহি তা-আলা ওয়াল বা'সি বা'দাল মাউত।

¤ অর্থঃঃ-আমি ইমান আনলাম-

(১) আল্লাহর প্রতি,
(২) তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি,
(৩) তাঁর কিতাবগুলোর প্রতি,
(৪) তাঁর রাসূলগণের প্রতি,
(৫) আখিরাতের প্রতি,
(৬) তাকদিরের প্রতি, যার ভালো-মন্দ আল্লাহ তায়ালার নিকট থেকেই হয় এবং,
(৭) মৃতুর পর পুনরুথানের প্রতি।



প্রশ্ন : যেহেতু তাকদীর পুর্ব হতে র্নিধারন করা থাকে , তাহলে আমার কোন কাজে যদি বিফলতা ভাগ্যে লেখা থাকে , আমি যতই পরিশ্রম করিনা কেন তাতে কি আমার উক্ত কাজ সফলকাম হবে ?

জবাব :



★  আল্লামা নাসাফী (রঃ) শারহুল আকাঈদ নামক গ্রন্থে লেখেনঃ

আল্লাহ তায়া’লা কিছু কাজ মানুষের উপর ছেড়ে দিয়েছেন , যদি কেহ ভাল কাজ করে তাহলে সে সওয়াব পাবে, আর যদি কেউ খারাপ কাজ করে তাহলে তার আযাব ভুগ করতে হবে। সুতরাং যদি কাহারো ভাগ্যে বিফলতা লেখা থাকে তাহলে সে পরিশ্রম তথা ভাল কাজের মাধ্যমে সফলকাম হতে পারে।



★ হাদিস শরীফে রাসুল (সঃ) ফরমান- "নিশ্চয় আল্লাহ্ তায়ালা আদম (আঃ)- কে সৃষ্টি করলেন, অতঃপর তিনি (তাঁর) ডান হাত দ্বারা আদম (আঃ)-এর পিঠে স্পর্শ করলেন অতঃপর তিনি তার থেকে একটি বংশধর বের করে আনলেন, অতঃপর আল্লাহ্ বললেন, আমি এদেরকে জান্নাতের জন্য সৃষ্টি করেছি, এরা জান্নাতবাসীদের ন্যায় কাজ করবে, পুনরায় তিনি (আল্লাহ্) আদমের পিঠে স্পর্শ করলেন,অতঃপর তিনি তার থেকে আরেকটি বংশধর বের করে আনলেন, তখন আল্লাহ্ বললেন, আমি এদেরকে সৃষ্টি করেছি জাহান্নামের জন্য, এরা জাহান্নামীদের ন্যায় কাজ করে ।"

Reference :

★ তিরমিজি ও
★ আবু দাউদ শরীফের সূত্রে মেশকাত শরীফ, পৃষ্ঠা-২১

★ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) হতে হযরত রাসুল (সঃ)-এর একখানা দীর্ঘ হাদিস বর্ণিত আছে । তার মর্মকথা এই যে, মানুষ তার জন্মের পূর্বে বিভিন্ন স্তর অতিক্রম করে আসে । আর তখনই তার জন্ম-মৃত্যু, ভাল-মন্দের হিসাব লিপিবদ্ধ ও সংরক্ষিত হয়ে যায় । হাদিস শরীফে আরো আছে- "তকদীর পরিবর্তন হয় না, কিন্তু দোয়া দ্বারা পরিবর্তন হয় ।" (আল-হাদিস)

★ পবিত্র কুরআন ও হাদিসের উপরোল্লেখিত বর্ণনা থেকে তকদীর সম্পর্কে দুই প্রকার ধারণা লাভ করা যায় । যথা-

১। তকদীর আল্লাহ্ করতিক পূর্ব নির্ধারিত, যা অপরিবর্তনশীল এবং
২। তকদীর মানুষের কর্মের দ্বারা সৃষ্টি হয়, যা পরিবর্তনশীল ।



                       আল-কোরআন থেকে :


★ আল্লাহ পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন, আয়াত

وَمَا أَصَابَكُم مِّن مُّصِيبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ وَيَعْفُو عَن كَثِيرٍ

"তোমাদের উপর যেসব বিপদ-আপদ পতিত হয়, তা তোমাদের কর্মেরই ফল এবং তিনি তোমাদের অনেক গোনাহ ক্ষমা করে দেন।  (শুরা ৩০)



★"তোমরা যা কিছু মঙ্গল সবই আল্লাহর দেয়া, আর যা কিছু অমঙ্গল তা তোমার নিজেরই কারণে ।" (সূরা-আন নিসা-৪, আয়াত-৭৯)


★ "একজনের কর্মের জন্য অন্য জন দায়ী নয় ।" (সূরা- বনী ঈসরাইল-১৭, আয়াত- ১৫)



★ এবং আল্লাহ তায়’লা সূরায়ে রুমে এরশাদ করেন,

ظَهَرَ الْفَسَادُ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ بِمَا كَسَبَتْ أَيْدِي النَّاسِ لِيُذِيقَهُم بَعْضَ الَّذِي عَمِلُوا لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ

"স্থলে ও জলে মানুষের কৃতকর্মের দরুন বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে। আল্লাহ তাদেরকে তাদের কর্মের শাস্তি আস্বাদন করাতে চান, যাতে তারা ফিরে আসে।" (রুম ৩০: ৪১)


★ পৃথিবীতে বা ব্যাক্তিগতভাবে তোমাদের উপরে যে বিপর্যয় আসে আমি উহা সংগঠিত করিবার পুর্বে উহা লিপিবদ্ধ থাকে; আল্লাহর পক্ষে ইহা খুবই সহজ (৫৭;২২)


★ অদৃশ্য কুঞ্জি (চাবি সমুহ) একমাত্র তাঁহার নিকট রহিয়াছে, তিনি ব্যাতিত অন্য কেহ তাহা জানে না। জলে ও স্থলে যাহা কিছু আছে তাহা তিনি অবগত, তাঁহার অজ্ঞাতসারে একটি পাতাও পড়ে না। মৃত্তিকার অন্ধকারে এমন কোন শস্যকনাও অঙ্কুরিত হয় না অথবা রসযুক্ত কিংবা শুস্ক এমন কোন বস্তু নাই যাহা সুস্পস্ট কিতাবে নাই (৬;৫৯)


★ আমারই নিকট আছে প্রত্যেক বস্তুর ভান্ডার এবং আমি উহা পরিজ্ঞাত পরিমানেই সরবরাহ করিয়া থাকি (১৫;২১)


★... আল্লাহ যাহাকে ইচ্ছা বিভ্রান্ত করেন এবং যাহাকে ইচ্ছা সৎপথে পরিচালিত করেন এবং তিনি পরাক্রমশালী , প্রজ্ঞাময়। (আল-কোরআন)


★ বল, হে সার্বভৌম শক্তির মালিক আল্লাহ। তুমি যাহাকে ইচ্ছা ক্ষমতা প্রদান কর এবং যাহার নিকট হইতে ইচ্ছা ক্ষমতা কাড়িয়া লও; যাহাকে ইচ্ছা তুমি ইজ্জত দান কর, আর যাহাকে ইচ্ছা তুমি হীন কর। কল্যান তোমার হাতেই। নিশ্চয়ই তুমি সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান। (আল-কোরআন)


★ মানুষ কর্ম ও চেস্টায় ভাগ্য পরিবর্তন হয়ঃ (আল - কোরআন)


★... এবং আল্লাহ কোন সম্প্রদায়ের অবস্থা পরিবর্তন করেন না যতক্ষন না উহারা নিজ অবস্থা নিজে পরিবর্তন করে ...।(১৩;১১)


★... কাহাকেও আমি প্রেথিত করিয়াছিলাম ভুগর্ভে এবং কাহাকেও করিয়াছিলাম নিমিজ্জিত। আল্লাহ তাহাদের প্রতি জুলুম করে নাই; তাহারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি জুলুম করিয়াছিল। (২৯;৪০)


★ ... অতঃপর উহা আল্লাহর অনুগ্রহ অস্বীকার করল , ফলে তাহারা যাহা করিত তজ্জন্য আল্লাহ তাহাদেরকে স্বাদ গ্রহন করাইলেন ক্ষুধা ও ভীতি আচ্ছাদনের। (১৬;১২২)


★ ... যে সতকর্ম করে সে নিজের কল্যানের জন্যই উহা করে এবং কেহ মন্দ কর্ম করিলে উহার প্রতিফল সে-ই ভোগ করিবে। তোমার প্রতিপালক তাঁহার বান্দাদের প্রতি জুলুম করেন না(৪১;৪৬)


★ আমি তাহাকে পথের নির্দেশ দিয়াছি, হয় সে কৃতজ্ঞ হইবে, না হয় সে অকৃতজ্ঞ হইবে। (৭৬;৩)


★ বল, সত্য তোমার প্রতিপালকের নিকট হইতে ; সুতরাং যাহার ইচ্ছা বিশ্বাস করুক ও যাহার ইচ্ছা সত্য প্রত্যাখ্যান করুক ... (১৮;২৯)

বিপদে আপদের সময় যেসব দোয়া পড়বেনঃ

বিপদ-মসিবতে পাঠ করার জন্য কতিপয় দোয়া  এবং এর জন্য আমল: ♦১) উম্মে সালমা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ও...