Sunday, June 18, 2017

কেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতই একমাত্র সঠিক দল?



® অসংখ্য সহিহ হাদিসে এসেছে,

"নিশ্চয় বনী ইসরাঈল ছিল ৭২ দলে বিভক্ত।  
আর আমার উম্মত হবে ৭৩ দলে বিভক্ত। 
১টি দল ব্যতীত এই সব দলই জাহান্নামে যাবে।
সাহাবায়ে কিরাম জিজ্ঞেস করলেন-সেই দলটি কারা? 

নবীজী সাঃ বললেন-যারা আমার ও আমার সাহাবাদের মত ও পথ অনুসরণ করবে।


Note: 
ইমান (আকিদা) ও আমলগত দিক থেকে - 
→ রাসুলের অনুসরণের নাম ""সুন্নাত"""
→ আর সাহাবাগন-তাবেঈ-তাবে তাবেঈগনের অনুসরণ মানে """ঐক্যবদ্ধ/জামায়াত"""
অর্থাৎ উল্লেখিত শব্দগুলোর বিশ্লেষণ হল (সুন্নাত ওয়াল জামাত)

[explained 
by 
Masum 
Billah Sunny]









Reference :
★ তিরমিযিঃ সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং-২৬৪১, 
★ তাবারানীঃ আল মু’জামুল কাবীর, হাদীস নং-৭৬৫৯, 
★ তাবারানীঃ আল মু’জামুল আওসাত, হাদীস নং-৪৮৮৯, ★ কানযুল উম্মাল ফি সুনানিল আকওয়াল ওয়াল আফআল, হাদীস নং-১০৬০।


® রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন,
(আমার) এই উম্মাহ পথভ্রষ্টতা (বা গোমরাহীর) উপর কখনও একত্রিত হবে না (অর্থাৎ ভ্রান্তির উপর এই জামায়াত ঐক্যমত পোষন করবে না) এবং আল্লাহর সাহায্য রয়েছে সেই জামায়াতের সাথে।
(অনুবাদ- মাসুম)


Reference :
★ Ibn Majah 3940 Sahih
★ Suyuti : Jami’ Saghir 2221
★ Tirmidhi : Kitabul Fitan 2093
★ Abu Dawud 3711 
★ Nasa’i : Sunan Kubra, 3483
★ Bayhaqi : Asma’ wa Sifat (p. 322 Sahih)
★ Bayhaqi Shu’ab al-Iman (6:67 #7517), 
★ Abu Nu’aym (Hilya, 3:37, 9:238),
★ Mostadrak Al Hakim (1:115-16, 4:556 Sahih), ‘
★ Abd ibn Humayd (Al Musnad, #1218), 
★ Imam Ahmad (Al Musnad, #25966), 
★ Darimi : As-Sunan (#54, Da’if), 
★ Diya’ al-Maqdisi (7:129), 
★ Quda’i (1:167 #239), 
★ Daraqutni in his Sunan (4:245), 
★ Ibn Abi Shayba (8:604, 672, 683), 
★ Tabarani in his Mu’jam al-Kabir (1:153, 1:186, 3:209, 12:447, and 17:239-40, Sahih)
★ Haythami in his Majma’ 5:218-19
★ Mu’jam al-Awsat (5:122, 6:277, 7:193), 
★ Ibn Abi ‘Asim in his Kitab as-Sunna (p. 39-41 #80-85, p. 44 #92), and others.
And it is well-known and authentic.

খারিজীদের ভ্রান্ত আকিদাসমুহঃ


খারিজীদের ভ্রান্ত আকীদা ও মতবাদসমূহঃ
১) যারা মুসলমান হওয়ার দাবিদার হয়ে অন্য মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং এহেন পরিস্থিতিতে যুদ্ধরত হতে বের হয়ে না আসে তারা কাফির । (নাউজুবিল্লাহ)
২) খারিজীরা তাদের ধারনায় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী । তাদের মতে, খলীফাকে অবশ্যই সমগ্র মুসলিম কর্তৃক নির্বাচিত হতে হবে । কোন বিশেষ শ্রেনী-গোত্র কিংবা সম্প্রদায়ের মধ্যে খিলাফত সীমাবদ্ধ থাকবে না বরং ধর্মীয় দৃষ্টিকোনে যে কোন মুসলমান এ পদে অধিষ্ঠিত হতে পারবে । (নাউজুবিল্লাহ)
৩) তারা হযরত আবু বকর (রাঃ) ও হযরত উমার (রাঃ) কে ইসলামের বৈধ খলীফা বলে মনে করে এবং অন্যান্য খলীফাকে অবৈধ বলে ঘোষনা করে । (নাউজুবিল্লাহ)
৪) কবীরা গুনাহ খারিজীদের কাছে কুফরীর শামিল । কোন মুসলমান নামায, রোযা ও অন্যান্য ফরয কাজসমূহ পালন না করলে কিংবা কবীরা গুনাহে লিপ্ত হলে সে কাফির হয়ে যায় । (নাউজুবিল্লাহ)
৫) তাদের মতে, যে মুসলমান কবীরা গুনাহ করে এবং তওবা না করে মারা যায় সে চিরস্থায়ী জাহান্নামী । (নাউজুবিল্লাহ)
৬) খারিজীদের মতে, যারা তাদের আকীদার সঙ্গে একমত না, তারা ধর্মদ্রোহী তথা কাফির । এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা অপরিহার্য । (নাউজুবিল্লাহ)
৭) যে ব্যক্তি শক্তি থাকা সত্ত্বেও সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজের নিষেধ না করে সে কাফির । (নাউজুবিল্লাহ)
৮) খারিজী সম্প্রদায় আরও বিভিন্ন বিষয়ে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'আতের বিপরীত আকীদা পোষন করে । যেমন তারা 'মোহসিন' (বিবাহিত) যিনাকারীকে রজম করার শাস্তি অস্বীকার করে । চুরির অপরাধে বাহুর গোড়া পর্যন্ত হাত কাটার শাস্তি নির্ধারণ করে । মহিলাদের মাসিক হায়িয অবস্থায়ও তাঁর জিম্মায় নামায পড়া ওয়াজিব বলে মনে করে ইত্যাদি । (নাউজুবিল্লাহ)
তথ্যসূত্র
ফাতাওয়া ওয়া মাসাইল (ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ)

সংগ্রহিতঃ
http://www.sunnipediabd.com/wiki/

Saturday, June 17, 2017

খারিজী ফিত্নার উৎস ও ইতিহাস সম্পর্কে বিস্তৃত আলোচনাঃ

খারিজীরা ইসলামের সর্বপ্রথম বিপথগামী সম্প্রদায় । আকীদা, আমল ও খিলাফত সম্পর্কে বিতর্ক সৃষ্টি করে তারা নিজেদেরকে মুসলিম উম্মাহ্‌ থেকে আলাদা করে ফেলে । রাজনীতির ক্ষেত্রে তারা পুনঃ পুনঃ বিদ্রোহ করে সাময়িকভাবে খিলাফতে রাশিদার শেষ দুই বছর এবং উমাইয়া আমলে মুসলিম রাষ্ট্রের পূর্বাংশে অশান্তি সৃষ্টি করে; হযরত আলী (রাঃ) এর বিরুদ্ধে আব্বাসীগণকে যুদ্ধে পরোক্ষভাবে সাহায্য করেছিল।


'আল-মিলাল ওয়ান নাহল' গ্রন্থে উদ্ধৃত হয়েছেঃ
খারিজী ঐ সম্প্রদায়ের লোকদের বলা হয় যারা এমন নিয়মতান্ত্রিক ইমামের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষনা করে তাঁর আনুগত্য থেকে বের হয়ে যায়; যার ইমামতের আনুগত্যের প্রতি মুসলিম জনগন একমত পোষণ করেছেন । চাই এ বিদ্রোহ সাহাবায়ে কিরামের যামানার আইম্মায়ে রাশিদীনের বিরুদ্ধে হোক কিম্বা তাবিঈনের সময়কার মুসলিম জনগন স্বীকৃত ইমামগণের বিরুদ্ধে হোক অথবা পরবর্তী যুগের প্রতিষ্ঠিত ইমামগণের বিরুদ্ধে হোক, সকলেই খারিজীদের অন্তর্ভূক্ত ।
— ইমাম শাহরাস্তনী (রহঃ) [1808-1864]  : আল-মিলাল ওয়ান নাহল, ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা ১৪৪
download full kitab: https://catalog.hathitrust.org/Record/006551349

★ ↑ সংক্ষিপ্ত ইসলামিক বিশ্বকোষ, ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা ৩৮৬-৩৮৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ
★ ফাতাওয়া ওয়া মাসাইল (ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ)

খারিজী শব্দটির অর্থ হলো দলত্যাগী । মুসলিম জামা'আতকে পরিত্যাগ করায় খারিজীরা উক্ত নামে অভিহিত করা হয় ।

হযরত আলী (রাঃ) কে শহীদ করে তারাঃ

ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায় ৬৫৭ খৃষ্টাব্দে হযরত আলী (রাঃ) ও হযরত মুয়াবিয়া (রাঃ) এর মধ্যে সিফফিন নামক স্থানে তুমুল যুদ্ধ বাঁধে । যুদ্ধে হযরত মু'আবিয়া (রাঃ) নিশ্চিত পরাজয় অনুধাবন করেন । ফলে তাঁর দলের কতক লোক কুরআন শরীফ উর্দ্ধে উত্তোলন করে হযরত আলী (রাঃ) এর কাছে সন্ধির প্রস্তাব করেন । হযরত আলী (রাঃ) ও তাঁর অধিকাংশ সঙ্গী সন্ধি প্রস্তাবে সম্মত হন এবং দু'দল থেকে এতে দু'জন সালিস নিযুক্ত করা হয় । কিন্তু হযরত আলী (রাঃ) এর একদল সমর্থক এ সালিসী প্রস্তাবের বিরোধিতা করে এবং আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত অন্য কারো ফয়সালা চলবে না; এ আওয়াজ তুলে তাঁর দল পরিত্যাগ করে । এ দলত্যাগী খারিজীরা আব্দুল্লাহ ইবন ওয়াহাবকে তাদের দলপতি নির্বাচন করে, তাঁর নেতৃত্বে নাহরাওয়ান নামক স্থানে শিবির স্থাপন করে । পরে খারিজীরা বিপুল উদ্দীপনা নিয়ে হযরত আলী (রাঃ) এর বিরুদ্ধে প্রচারনা প্রচারনা চালাতে থাকে । হযরত আলী (রাঃ) এ সংবাদ পেয়ে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধযাত্রা করেন । নাহরাওয়ানে সংঘটিত যুদ্ধে খারিজীদের নেতা আব্দুল্লাহ ইবন ওয়াহাবসহ বহুসংখ্যক খারিজী নিহত হয় । এতে খারিজীরা অতিশয় ক্রোধান্বিত হয়ে হযরত আলী (রাঃ), হযরত মু'আবিয়া (রাঃ) ও তাঁর উপদেষ্টা মিসরের শাসনকর্তা আমর ইবন আস (রাঃ) কে ইসলামের শত্রু হিসেবে স্থির করে এ তিনজনকে হত্যা করার জন্য বদ্ধপরিকর হয় । হযরত মু'আবিয়া ও হযরত আমর ইবন আস (রাঃ) কোনোক্রমে বেঁচে যান । কিন্তু হযরত আলী (রাঃ) আততায়ী আব্দুর রহমান ইবন মুলযিমের হাতে শহীদ হন ।

খারিজীদের অন্যান্য ইসলাম বিরোধী ষড়যন্ত্রঃ

হযরত আলী (রাঃ) এর শাহাদাতের পর খারিজীরা নীরবে বসে থাকেনি । উমাইয়া শাসকদের বিরুদ্ধে দীর্ঘকালধরে প্রচারনা চালাতে থাকে এবং আব্বাসীয়দের সাথে যোগাযোগ করে উমাইয়াদের পতন ত্বরান্বিত করে । আব্বাসীয় শাসকগণ যখন মসনদে সমাসীন হন, তখন খারিজীরা তাদেরও বিরোধিতা করে । এবং মেসোপটেমিয়া পূর্ব আরব ও উত্তর আফ্রিকার উপকূলে অশান্তির সৃষ্টি করে । 

খারিজী সম্প্রদায়ের ধ্বংসঃ
অবশেষে মিসরের ফাতেমী শাসকগণ খারিজীদের শক্তি সমূলে ধ্বংস করে দেন । ফলে রাজনৈতিক প্রচারণা বর্জন করে তারা শুধু একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ে পরিণত হয় ।

খারিজীদের সম্পর্কে হাদিসে বর্নিত ভবিষ্যৎবানীঃ

আব্দুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) হারুরিয়াদের সম্পর্কে বর্ননা প্রসঙ্গে বলেন, নবী করিম (সঃ) বলেছেন, তারা ইসলাম থেকে এমনভাবে বেরিয়ে যাবে যেমন তীর শিকার ভেদ করে বের হয়ে যায় । (সহিহ হাদিস)

পোস্টটি নেয়া হয়েছে এখান থেকেঃ-
http://www.sunnipediabd.com/wiki/%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%9C%E0%A7%80

সেহরী না খেলে কি রোজা ভেঙে যায়?

ধন্যবাদ খুবই দরকারি একটি প্রশ্ন। সেহেরী খাওয়া হচ্ছে সুন্নত আর রোজা  পালন করা ফরজ্‌।কোন একটি সুন্নতের কারনে কোন ফরজ ইবাদত  বাদ দেয়া বা ক্ষতিগ্রস্ত  করা যেতে পারে না। আর রোজার কোন মৌখিক নিয়ত আদতে নেই, মনে মনে যে যে প্রস্তুতি নেয়া হয় যে কোন ধর্মীয় কাজের জন্যে সেটাই নিয়ত। এটা রোজার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। তাই কেউ যদি অনিচ্ছাকৃত কারনে সেহেরী খেতে সক্ষম না হয়, এমন কি এক ফোঁটা পানি পান করার সুযোগ না পায় তবুও তার ফরজ রোজা চালিয়ে যাওয়া বাধ্যতামূলক। তবে আল্লাহ মানুষের অনিচ্ছাকৃত ত্রুটিগুলো ক্ষমা করেন।
যদি কেউ রোজা রাখতে অক্ষম অর্থাৎ অসুস্থ হয়ে গিয়ে সব ধরনের ফরজ নামাজ ছেড়ে দেয়ার আশংকা থাকে কিংবা দুরবর্তী কোন সফরে থাকে সে ক্ষেত্রে সে রোজা ভাঙতে পারবে কিন্তু কেউ যদি এক গ্লাস পানি পান করারও সুযোগ পায় তবে সেই পানিটুকুই  তার সেহেরী হিসেবে গণ্য হবে আর তার আমল নামায় একটি সুন্নত লেখা হবে। সেহেরী খাওয়া হয়নি এই অজুহাতে রোজা পালন থেকে বিরত থাকা ফরজের বরখেলাপ যেটা কবিরাহ গুনাহ।
Allah knows All.

হাজারো কষ্ট আর কুরবানীর মধ্য দিয়ে ইসলাম জীবিত হয়েছিল আজ আমাদের একি অবস্থা?

আপনি কি খুব কষ্টে আছেন? ইবাদত করতে খুব কষ্ট হয়? নিজের রক্ত ঝরিয়ে ইসলাম পেতে হয় নি তো তাই অল্প তেই ধৈর্যহারা।


তোমার কষ্ট বেশি নয় বন্ধু! 
বিসমিল্লাহ। আলহা’মদুলিল্লাহ। ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আ’লা রাসুলিল্লাহ। 
তোমার থেকে অনেক বেশি কষ্ট পেয়েছেন আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম। সমস্ত নবী ও রাসুলদের সর্দার, বিশ্বজগতের জন্যে রহমত স্বরূপ, এই পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ, আল্লাহর নিকট সবচাইতে প্রিয়তম বান্দা. . .এতো বড় মর্যাদা থাকা সত্ত্বেও কত কষ্ট পেয়েছেন তিনি, তাহলে তুমি কে? তুমি তাঁর কথা স্বরণ করে সান্ত্বনা নাও।

(★) মহানবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যখন তোমাদের কেউ মসিবতে (অর্থাৎ দুঃখ-কষ্ট কিংবা বিপদ-আপদে) পড়ে, তখন সে যেন আমার জীবনের মসীবতের কথা স্বরণ করে (সান্ত্বনা নেয়)। কারণ আমার জীবনের মসীবত তোমাদের সবার মসিবতের চাইতে বড়।” [ইবনে সা’দ, সহীহুল জামিঃ ৩৪৭] . 

(★) হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (সাঃ) এর চাইতে অধিক রোগ যাতনা ভোগকারী অন্য কাউকে দেখিনি। (হাদিস ৫৫০)


(★) মহানবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জন্মের পূর্বে, মায়ের গর্ভে থাকা অবস্থাতেই তাঁর পিতা মারা যান। ছয় বছর বয়সে তাঁর মাতাও ইন্তিকাল করেন। আট বছর বয়সে দাদা ইন্তিকাল করেন। 
(★) নামাযের সেজদারত অবস্থাতে তাঁর ঘাড়ে উটের নাড়ি-ভূড়ি চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিলো। এতো ভারী ছিলো যে, সেই নাড়ি-ভূড়ির কারণে তিনি সেজদাহ থেকে মাথা তুলতে পারছিলেন না। 
(★) তায়েফে পাথর ছুঁড়ে তাঁকে এতো আহত করার হয়েছিলো যে, শরীরের আঘাত থেকে রক্তের ধারা প্রবাহিত হয়ে তাঁর দুইপা রঙ্গিন হয়ে গিয়েছিলো। আঘাতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন আবার জ্ঞান ফিরে আসে পুনরায় পাথর মারা হয়।
(★) নিকট আত্মীয়-স্বজনদেরকে সহ তাঁকে একঘরে করে ‘শিবে আবী তালেব’ নামক একটি পাহাড়ের উপত্যকায় দুই বা তিনি বছর ধরে অবরোধ করে রাখা হয়েছিলো। সে সময় খাবার না পেয়ে, চরম দারিদ্রতা ও ক্ষুদার কারণে তাঁরা সবাই পশুর চামড়া এবং গাছের পাতা চিবিয়ে খেতে বাধ্য হয়েছিলেন। 
(★) এমনকি নিজের মাতৃভূমি থেকে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছিলো। জীবন রক্ষার জন্যে তিনি মদীনাতে হিজরত করে চলে যান। 
(★) তাঁর কত সাথী ও অনুসারীদেরকে হত্যা করা হয়েছিলো। 
(★) উহুদের যুদ্ধে তাঁর দাঁত ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছিলো। 
(★) তাঁর নিষ্পাপ, পবিত্র স্ত্রীর চরিত্র সম্পর্কে জঘন্য অপবাদ দেওয়া হয়েছিলো। 
(★) একটি মাত্র মেয়ে ছাড়া তাঁর দুই ছেলে এবং তিন মেয়ে, কলিজার টুকরা মোট পাঁচজন সন্তান তাঁর জীবদ্দশায়, চোখের সামনেই মৃত্যু বরণ করেছিলেন। 
(★) ক্ষুদার তাড়নায় তিনি পেটে পাথর বেঁধেছিলেন, দিনের পর দিন তাঁর বাড়িতে রান্নার জন্যে চুলা জ্বলতোনা। 
(★) লোকেরা তাঁকে পাগল, কবি, মিথ্যাবাদী, জাদুকর ইত্যাদি বলে গালি দিতো।
(★) কতবার তাঁকে খুন করার চেষ্টা করা হয়েছিলো। একবার তাঁর মাথার উপরে পাথর ফেলে দিয়ে তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিলো, আল্লাহর তাঁকে রক্ষা করেছিলেন। আরেকবার এক ইহুদী মহিলা খাবারের সাথে বিষ মিশিয়ে দিয়েছিলো। সেই খাবার খেয়ে একজন সাহাবী মৃত্যুবরণ করেছিলেন, আর এই বিষের যন্ত্রনায় কলিজা ছিঁড়ে গেলে যেমন কষ্ট হয়, তেমনি কষ্ট তিনি মৃত্যুর পূর্বে ভোগ করেছিলেন।


তুমি আরো জানো যে, 

★ করাত দিয়ে চিড়ে যাকারিয়া নবীকে দুই খন্ড করে হত্যা করা হয়েছিলো। 
★ যাকারিয়ার পুত্র আরেক ইয়াহইয়া নবীকেও খুন করা হয়েছিলো। 
★ইব্রাহীম নবীকে বিশাল বড় আগুনে ফেলে দেওয়া হয়েছিলো। 
★ চরম বালা (পরীক্ষা) দেওয়া হয়েছিলো আইয়ুব নবীকে (দেহ মোবারকে ধৈর্যের পরীক্ষা স্বরুপ পচন ধরেছিল)।
★ মসীবতে ফেলা হয়েছিলো ইউনুস নবীকে (মাছ খেয়ে ফেলেছিল)। 
★ হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছিলো ঈসা নবীকে। 

আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি শান্তি ও দয়া বর্ষণ করুন। 

★ এছাড়াও মসজিদের ভেতরে নামায পড়া অবস্থাতে খঞ্জর মেরে শহীদ করা হয়েছিলো দ্বিতীয় খলিফা উমারকে।
★ ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে ক্বুরান তেলাওয়াত করা অবস্থাতে খুন করা হয়েছিলো তৃতীয় খলিফা উসমানকে।
★ বিষাক্ত ছুরি মেরে হত্যা করা হয়েছিলো চতুর্থ খলিফা আলীকে। 
★ বর্শা দিয়ে লজ্জাস্থানে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছিলো এই উম্মতের প্রথম শহীদ সুমাইয়াকে। 
★ শহীদদের সর্দার, নবীর প্রাণপ্রিয় আপন আপন চাচা ও দুধভাই হামযাকে হত্যা করা হয়েছিলো, মৃত্যুর পরে তাঁর কলিজা খেয়েছিলো এক মুশরেক মহিলা (হিন্দা), অবশ্য পরে সেই মহিলা ইসলাম গ্রহণ করেছিলো রাসুলের কাছেই।
★ একজন ক্বুরানের হাফেজ সাহাবীকে বর্শা দিয়ে এমনভাবে বিদ্ধ করেছিলো যে সেই বর্শা বুকের একপাশ দিয়ে ঢুকে আরেকপাশ দিয়ে বের হয়ে গিয়েছিলো। তবুও মৃত্যুর পূর্বে সে চিৎকার করে বলেছিলো, কাবার রব্বের কসম! আমিতো সফলকাম হয়ে গেছি। আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট থাকুন।
★ কারবালায় নির্মম ভাবে শহীদ করা ইমাম হোসাইন (রা) ও আহলে বাইয়াতগণকে।

আহা এত কষ্টের মধ্য দিয়ে দ্বীন ইসলাম জিন্দা হয়েছিল। আজ আমাদের দ্বীনের একি করুন দশা।
আল্লাহ 
পাক 
আমাদের 
হেদায়াত ক
রুন।


কুরআন তেলাওয়াত শুনে আসমান থেকে ফেরেশতা নেমে আসলঃ-


হযরত আবু সাঈদ খুদরী ( রাঃ ) থেকে বর্ণিত। উসাইদ ইবনে হুদাইর ( রাঃ ) বলেন যে, তিনি একরাতে নিজের ঘরে বসে নামাজের মধ্যে সূরা বাকারা পড়ছিলেন। তাঁর ঘোড়াটি নিকটেই বাধা ছিল। হঠাৎ ঘোড়াটি লম্ফ- ঝম্ফ শুরু করে দিলো। তিনি তখন তেলাওয়াত বন্ধ করলেন ঘোড়াটি শান্ত হয়ে গেলো। তিনি যখন পুনরায় তেলাওয়াত শুরু করলেন ঘোড়াটি আবার লাফ-ঝাপ শুরু করে দিলো। অতঃপর তিনি পাঠ বন্ধ করলেন। ঘোড়াটিও শান্ত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলো। তিনি আবার কুরআন পড়া শুরু করলে ঘোড়াটিও দৌড়ঝাঁপ করতে লাগলো। তিনি সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করে নিলেন। কারন তাঁর ছেলে ইয়াহিয়া ঘোড়ার নিকটেই ছিল। তাঁর ভয় হল ঘোড়া হয়তো লাফালাফি করে ছেলেকে আহত করতে পারে। তিনি ছেলেকে এর কাছ থেকে সরিয়ে দিয়ে আসমানের দিকে মাথা তুললেন। তিনি ছাতার মত একটি জিনিস দেখতে পেলেন এবং তাঁর মধ্যে আলোকবর্তিকার মতো একটি জিনিস দেখলেন। সকালবেলা তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে গিয়ে এই ঘটনা বর্ণনা করলেন। তিনি বললেন- হে ইবনে হুদাইর, তুমি পড়তে থাকলে না কেন? হে ইবনে হুদাইর, তুমি পড়তে থাকলে না কেন? রাবী বলেন- আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল, আমার ভয় হল ঘোড়াটি না আবার আমার ছেলে ইয়াহিয়াকে পদদলিত করে। কেননা সে এর কাছেই ছিল। আমি নামাজ শেষ করে সালাম ফিরিয়ে ছেলেটির কাছে গেলাম। আমি আসমানের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে হঠাৎ দেখতে পেলাম- যেন একটি ছাতা এবং তাঁর মধ্যে একটি আলোকবর্তিকা জ্বলজ্বল করছে।

আমি ( ভয় পেয়ে ) সেখান থেকে চলে আসলাম ( অর্থাৎ খোলা আকাশের নীচ থেকে ) যেন আমার দৃষ্টি পুনরায় সেদিকে না যায়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন- তুমি কি জান এগুলো কি? তিনি বললেন, না। রাসুলুল্লাহ ( সাঃ ) বললেন- এরা ছিল ফেরেশতা। তোমার কুরআন পড়ার আওয়াজ শুনে তারা কাছে এসে গিয়েছিলো। তুমি যদি তেলাওয়াত অব্যাহত রাখতে তাহলে তারা ভোর পর্যন্ত অপেক্ষা করতো এবং লোকেরা তাঁদের দেখে নিতো কিন্তু তারা লোক চক্ষুর অন্তরাল হতো না। —– ( বুখারী ও মুসলিম )

মুমিন ও মুনাফিকের মধ্যে কুরআন তেলাওয়াতকারীর পার্থক্যঃ



★ হযরত আবু মুসা আশয়ারী ( রঃ ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- যে মুমিন কুরআন পাঠ করে সে কমলা লেবুর সাথে তুলনীয়। এর ঘ্রাণও উত্তম এবং স্বাদও উত্তম। আর যে মুমিন কুরআন পাঠ করে না সে খেজুরের সাথে তুলনীয়। এর কোন ঘ্রান নেই কিন্তু তা সুমিষ্ট। আর যে মুনাফিক কুরআন পাঠ করে না সে মাকাল ফল তুল্য। এর কোন ঘ্রাণও নেই এবং স্বাদও অত্যন্ত তিক্ত। আর যে মুনাফিক কুরআন পাঠ করে সে রাইহান ফলের সাথে তুলনীয়। এর ঘ্রান অত্যন্ত সুমিষ্ট কিন্তু স্বাদ অত্যন্ত তিক্ত। ———–( বুখারী ও মুসলিম )


★ অপর বর্ণনায় আছে, “যে মুমিন বাক্তি কুরআন পাঠ করে এবং তদানুযায়ী কাজ করে সে কমলা লেবু সদৃশ। আর যে মুমিন ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে না কিন্তু তদানুযায়ী কাজ করে সে খেজুর তুল্য।”

বিপদে আপদের সময় যেসব দোয়া পড়বেনঃ

বিপদ-মসিবতে পাঠ করার জন্য কতিপয় দোয়া  এবং এর জন্য আমল: ♦১) উম্মে সালমা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ও...