Wednesday, December 2, 2015

উম্মতে মুহাম্মাদী (দঃ) এর বিভিন্ন সমস্যা ও বিপদাপদ মুক্তির জন্য দোয়াঃ


1) রোগ থেকে দ্রুত আরোগ্য প্রাপ্তির দোয়াঃ

ﺍَﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺭَﺏَّ ﺍﻟﻨَّﺎﺱِ ﻣُﺬْﻫِﺐَ ﺍﻟْﺒَﺎﺱِ ﺍِﺷْﻒِ ﺍَ ﻧْﺖَ ﺍﻟﺸَّﺎﻓِﻰْ ﻻَ ﺷَﺎﻓِﻰْ
ﺍِﻻَّ ﺍَ ﻧْﺖَ ﺷِﻔَﺎﺀً ﻻَﻳُﻐَﺎﺩِﺭُ ﺳُﻘْﻤًﺎ

উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা রাব্বান নাছি মুযহিবাল বাছি -
ইশফি আনতা শাফি - লা শাফি ইল্লা আনতা শিফা'ন লা
ইয়োগাদিরু সুকমা।

`ফজিলতঃ আনাস (রাঃ) বলেছেন, রাসূল (সাঃ) অসুস্থ
ব্যাক্তিদের উপর এই দোয়া পড়ে ফু দিতেন। অসুস্থ
ব্যাক্তি দ্রুত আরোগ্য লাভ করতো। (বুখারী শরীফ খন্ড-২
পৃষ্ঠা-৮৫৫)


2) ইমান ঠিক রাখার জন্য দোয়াঃ

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বার বার এই দুয়া করতেনঃ 

يَـا مُـقَـلِّـبَ الْـقُـلُـوْبِ ثَـبِّـتْ قَـلْـبِـىْ عَـلَـى دِيْـنِـكَ 

উচ্চারণঃ ইয়া মুক্বাল্লিবাল ক্বুলুব! সাব্বিত ক্বালবী আ'লা দ্বীনিক। অর্থঃ হে হৃদয় সমূহের পরিবর্তন করার মালিক! আমার হৃদয়কে তোমার দ্বীনের উপর অবিচলভাবে প্রতিষ্ঠিত রাখো। (সুনানে তিরমিযী)

3) উম্মতে মুহাম্মাদী (দঃ) বিপদে পড়লে রাসুলুল্লাহ (দুরুদ) এই দোয়াটি পড়তে বলেনঃ

``বিসমিল্লাহিল্লাজি লা ইয়া দুররু মা ইসমিহি শাইয়ূন ফিল আরদি ওয়ালা ফিস সামায়ি। ওয়াহুয়াস সামিউল আলিম।

অর্থঃ
(আমি আমার দিন বা রাতের সূচনা করছি) ওই আল্লাহর নামে যার নামের সঙ্গে আসমান জমিনের কোনো কিছু কোনো ধরনের ক্ষতি করতে পারে না। তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বাজ্ঞ।
(আল-হাদিস)

হিজরি সনের সুত্রপাত ও হিজরতের কতিপয় কাহিনীঃ


মানুষের জীবন সময়ের সমষ্টি। সময়কে
মানুষের প্রয়োজনে ব্যবহারোপযোগী
করে আল্লাহ তাআলা প্রাকৃতিকভাবে
বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত করেছেন। যেমন:
দিন, রাত, মাস, বছর ইত্যাদি। বছরকে
আমরা সাল বা সনও বলি। বছর শব্দটির
মূল হলো উর্দু বরছ, সাল শব্দটি ফারসি
এবং সন শব্দটি আরবি; বাংলায় বর্ষ,
বৎসর ও অব্দ ব্যবহৃত হয়। 


★ আল্লাহপাক ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয়ই আকাশমণ্ডলী
পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকেই আল্লাহর
বিধানে আল্লাহর নিকট মাস গণনায়
মাস বারোটি, তন্মধ্যে চারটি
নিষিদ্ধ মাস, ইহাই সুপ্রতিষ্ঠিত
বিধান।’ (সূরা: তওবা, আয়াত: ৩৬)।

★ ‘তিনিই সূর্যকে তেজস্কর ও চন্দ্রকে
জ্যোতির্ময় করেছেন এবং উহাদের
মনজিল নির্দিষ্ট করেছেন, যাতে
তোমরা বছর গণনা ও সময়ের হিসাব
জানতে পারো। আল্লাহ ইহা নিরর্থক
সৃষ্টি করেননি। জ্ঞানী সম্প্রদায়ের
জন্য তিনি এসব নিদর্শন বিশদভাবে
বিবৃত করেন।’ (সূরা: ইউনুস, আয়াত: ৫)।

★ ‘আর সূর্য ভ্রমণ করে উহার নির্দিষ্ট
গন্তব্যের দিকে, ইহা পরাক্রমশালী
সর্বজ্ঞের নিয়ন্ত্রণ। এবং চন্দ্রের জন্য
আমি নির্দিষ্ট করেছি বিভিন্ন
মনজিল; অবশেষে উহা শুষ্ক বক্র
পুরোনো খর্জুর শাখার আকার ধারণ
করে।’ (সূরা: ইয়াসিন, আয়াত: ৩৮-৩৯)।


প্রাচীন আরবে সুনির্দিষ্ট কোনো সন
প্রথা প্রচলিত ছিল না। বিশেষ ঘটনার
নামে বছরগুলোর নামকরণ করা হতো।
যেমন বিদায়ের বছর, অনুমতির বছর,
হস্তীর বছর ইত্যাদি। ইসলামের
দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর (রা.) যখন
খেলাফতের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন,
তখন বহু দূর-দূরান্ত পর্যন্ত নতুন নতুন
রাষ্ট্র ও ভূখণ্ড ইসলামি খেলাফতের
অন্তর্ভুক্ত হয়। রাষ্ট্রের জরুরি
কাগজপত্র ইত্যাদিতেও কোনো সন-
তারিখ উল্লেখ না থাকায় অসুবিধা
হতো। ঐতিহাসিক আল-বেরুনি কর্তৃক
বিধৃত একটি বিবরণী থেকে জানা যায়
যে বিশিষ্ট সাহাবি হজরত আবু মুসা
আশআরী (রা.) একটি পত্রে উমর (রা.)-
এর কাছে অভিযোগ করেন, ‘আপনি
আমাদের কাছে যেসব চিঠি
পাঠাচ্ছেন, সেগুলোতে কোনো সন-
তারিখের উল্লেখ নেই, যার কারণে
আমাদের অনেক অসুবিধা হয়।’ বিষয়টির
গুরুত্ব অনুধাবন করে খলিফা হজরত উমর
(রা.) একটি সন চালুর ব্যাপারে সচেষ্ট
হন। প্রখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ
আল্লামা শিবলী নোমানী (রা.)
হিজরি সনের প্রচলন সম্পর্কে তাঁর
সুপ্রসিদ্ধ আল ফারুক গ্রন্থে উল্লেখ
করেন: হজরত উমর (রা.)-এর শাসনামলে
১৬ হিজরি সনের শাবান মাসে খলিফা
উমরের কাছে একটি দাপ্তরিক পত্রের
খসড়া পেশ করা হয়, পত্রটিতে মাসের
উল্লেখ ছিল; সনের উল্লেখ ছিল না।
তীক্ষ্ণ দূরদৃষ্টিসম্পন্ন খলিফা
জিজ্ঞাসা করেন, পরবর্তী কোনো
সময়ে তা কীভাবে বোঝা যাবে যে
এটি কোন সনে তাঁর সামনে পেশ করা
হয়েছিল? এ প্রশ্নের কোনো সদুত্তর
না পেয়ে হজরত উমর (রা.) সাহাবায়ে
কেরাম ও অন্য শীর্ষ পর্যায়ের জ্ঞানী-
গুণীদের নিয়ে এক আলোচনা সভার
আয়োজন করেন। এই ঐতিহাসিক
সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় হিজরতের ১৬ বছর পর
১০ জুমাদাল উলা মোতাবেক ৬৩৮
খ্রিষ্টাব্দে। 
হিজরতের বছর থেকে সন 
গণনার পরামর্শ 


দেন হজরত আলী (রা.)।


তৎকালে আরবে অনুসৃত প্রথা অনুযায়ী
পবিত্র মহররম মাস থেকেই ইসলামি বর্ষ
শুরু (হিজরি সনের শুরু) করার এবং
জিলহজ মাসকে সর্বশেষ মাস হিসেবে
নেওয়ার পরামর্শ দেন হজরত উসমান
(রা.)। (বুখারি ও আবু দাউদ)।


হিজরি সন মূলত চান্দ্রবর্ষনির্ভর।
চান্দ্রমাস ২৯ ও ৩০ দিনে হয় বিধায় ৩৫৪
বা ৩৫৫ দিনে বর্ষ পূর্ণ হয়। তাই
চান্দ্রবর্ষ ও সৌরবর্ষে সাধারণত ১০ বা
১১ দিনের পার্থক্য হয়। আরব, ইরানসহ
বিভিন্ন দেশে হিজরি সৌরবর্ষও
প্রচলিত আছে।
হিজরত
রাসুলে পাক হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর
মক্কা থেকে মদিনা মুনাওয়ারায়
হিজরতের ঘটনা মুসলমানদের জন্য বেশ
গুরুত্বপূর্ণ। সেদিকে লক্ষ করেই ইসলামি
সন প্রবর্তন করা হয়, যাকে ‘হিজরি সন’
বলা হয়। হিজরত মানে ছেড়ে যাওয়া,
পরিত্যাগ করা; দেশান্তর হওয়া ও
দেশান্তরিত করা। পরিভাষায় হিজরত
হলো ধর্মের জন্য এক স্থান ত্যাগ করে
অন্য স্থানে চলে যাওয়া। কামনা-
বাসনা বিসর্জন দেওয়া, সংযম অবলম্বন
ও আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং কাম, ক্রোধ,
লোভ, মদ, মোহ, মাৎসর্য পরিত্যাগ
করাই হিজরতের অন্তর্নিহিত দর্শন।


রাসুলে পাক হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর
সময় ইসলামের প্রথম হিজরত হয়
আবিসিনিয়ায়। কুরাইশরা যখন
মুসলমানদের জীবনকে অত্যাচারে
নিষ্পেষিত করতে লাগল, তখন রাসুল
(সা.) তাঁদের জীবন ও দ্বীন-ইমান
রক্ষার জন্য আবিসিনিয়ায় হিজরতের
অনুমতি দিলেন। এ হিজরতে অংশ
নিয়েছিলেন নিপীড়িত-নিষ্পেষিত ১৬
জন মুসলমানের একটি দল। হজরত জাফর
ইবনে আবি তালিব (রা.) ঐতিহাসিক
ওই দলের নেতা ছিলেন। ওই সময়
আবিসিনিয়ার বাদশাহ ছিলেন
আসহামা, যাঁর উপাধি ছিল নাজাশি।
তিনি তখনকার প্রচলিত খ্রিষ্টধর্মের
অনুসারী ছিলেন। হজরত জাফর (রা.)
আরবের পরিস্থিতি ও রাসুলুল্লাহ
(সা.)-এর অবস্থা বর্ণনা করলেন, সূরা
মারইয়াম তিলাওয়াত করলেন এবং
হজরত ঈসা (আ.) ও মারইয়াম (আ.)
সম্পর্কে ইসলামের আকিদা–বিশ্বাস
বর্ণনা করলেন। বাদশাহ এই সত্য শুনে
নিজে ইমান গ্রহণ করলেন এবং
মুসলমানদের রাজদরবারের মেহমান
ঘোষণা করলেন। প্রথম হিজরতটি
নবুয়তের পঞ্চম বছরে সংঘটিত হয়েছিল।
এরপর নবুয়তের সপ্তম বছরে রাসুলে পাক
হজরত মুহাম্মদ (সা.) সাহাবায়ে
কেরাম (রা.)-কে আবার হিজরতের
অনুমতি দিলেন। মুসলমানরা
দ্বিতীয়বারের মতো আবিসিনিয়ায়
হিজরত করলেন। এ হিজরতে ৮৩ জন পুরুষ
আর ১৮ জন নারী শামিল ছিলেন।
মদিনায় হিজরত
হজ ও অন্যান্য উপলক্ষকে কেন্দ্র করে
আরবের মানুষ মক্কা মুকাররমায় আসত।
হজরত মুহাম্মদ (সা.) তাদের কাছে
ইসলামের বাণী প্রচার করতেন।
নবুওয়াতের দশম বছরে হজের বিশাল
সমাবেশে কতিপয় মদিনাবাসী রাসুল
(সা.)-এর দাওয়াতে আকৃষ্ট হলেন।
হজরত সাদ বিন যুরারাহ (রা.) ও হজরত
যাকওয়ান বিন আবদি কায়স (রা.)
তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য। এ দুজন
ছিলেন আওস গোত্রের। তাঁরা
জানমাল, আত্মীয়স্বজন ইত্যাদির
পরোয়া না করে মদিনায় ব্যাপকভাবে
ইসলাম প্রচার করেন। এক বছর
অতিবাহিত না হতেই সত্যের আলোয়
মানুষের হৃদয় আলোকিত হতে শুরু করল।
পরের বছর হজের মৌসুমে মদিনার
লোকজন মক্কায় এলেন, তাঁদের মধ্য
থেকে ছয় ব্যক্তি প্রকাশ্যে ইসলাম
গ্রহণ করলেন। এরপর তৃতীয় বছর (নবুয়তের
দ্বাদশ বছর) মদিনার ১২ জন ব্যক্তি
রাসুল (সা.)-এর খেদমতে হাজির হয়ে
ইসলাম গ্রহণ করলেন। এর নাম বায়আতে
আকাবায়ে উলা (প্রথম আকাবার শপথ)।
এরপর নবুয়তের ১৩তম বছরে অর্থাৎ
চতুর্থবার ৭৩ জন রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে
সাক্ষাৎ করে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং
বায়আত নেন। এ বায়আত ‘বায়আতে
আকাবায়ে সানি’ (আকাবার দ্বিতীয়
শপথ) নামে পরিচিত।


রাসুলে পাক হজরত মুহাম্মদ (সা.)
প্রথমে মদিনাবাসীকে দ্বীনি দাওয়াত
ও তালিমের জন্য হজরত মুসআব ইবনে
উমায়ের (রা.) ও হজরত আবদুল্লাহ ইবনে
উম্মে মাকতুম (রা.)-কে প্রেরণ করলেন।
এরপর হজরত আম্মার (রা.), হজরত
বিলাল (রা.) ও হজরত সাআদ (রা.)-কে
মদিনায় প্রেরণ করলেন। অবশেষে
নবুয়তের ত্রয়োদশ বর্ষে রাসুল (সা.)
মদিনায় হিজরত করেন। রাসুল (সা.)
মদিনা মুনাওয়ারায় প্রবেশের আগে
কুবায় অবস্থান করলেন। তিনি তথায়
একটি মসজিদ নির্মাণ করলেন, যা
মসজিদে কুবা নামে পরিচিত; এটি
মদিনার প্রথম মসজিদ। এ মসজিদ
নির্মাণের সময় রাসুল (সা.) নিজে
সবার সঙ্গে পাথর-মাটি বয়ে নিয়ে
এসেছিলেন; এটি কুবায় বনি সালেম
উপত্যকায় অবস্থিত। অতঃপর রাসুল
(সা.) জুমার দিনে মদিনায় প্রবেশ
করলেন।
হজরত মুহাম্মদ (সা.) যখন মদিনায়
প্রবেশ করলেন, তখন তাঁকে বরণ করার
জন্য তাঁর উষ্ট্রীর দড়ি নিয়ে
টানাটানি শুরু হলো। একপর্যায়ে রাসুল
(সা.) বললেন, উষ্ট্রীকে ছেড়ে দাও।
যেখানে সে বসবে, সেটাই হবে আমার
বাসস্থান। তাকে এমনই নির্দেশ দেওয়া
হয়েছে। উষ্ট্রী বনু নাজ্জার গোত্রের
এলাকায় গিয়ে দাঁড়াল। এখানেই রাসুল
(সা.)-এর নানার বাড়ি ছিল। এ
গোত্রের হজরত আবু আইউব আনসারী
(রা.)-এর বাড়ির সামনে গিয়ে উষ্ট্রী
বসে পড়ল। এখানেই রাসুল (সা.)-এর
বাসস্থান নির্ধারণ করা হলো।
এখানেই গড়ে উঠল মসজিদে নববি ও
মদিনাতুর রাসুল বা রাসুলের শহর। (আল
বিদায়া ওয়ান নিহায়া, জাদুল মাআদ,
তারিখুল ইসলাম)।





তাহাজ্জুদ নামায পড়ার ফযীলতঃ





মহান আল্লাহ বলেন,

﴿ وَمِنَ ٱلَّيۡلِ فَتَهَجَّدۡ بِهِۦ نَافِلَةٗ لَّكَ عَسَىٰٓ أَن يَبۡعَثَكَ رَبُّكَ مَقَامٗا مَّحۡمُودٗا ٧٩ ﴾ (الاسراء: ٧٩) 

অর্থাৎ রাত্রির কিছু অংশে তাহাজ্জুদ কায়েম কর; এটা তোমার জন্য এক অতিরিক্ত কর্তব্য। আশা করা যায়, তোমার প্রতিপালক তোমাকে প্রতিষ্ঠিত করবেন প্রশংসিত স্থানে। (সূরা বানী ইসরাইল ৭৯ আয়াত)
তিনি আরও বলেছেন,

﴿ تَتَجَافَىٰ جُنُوبُهُمۡ عَنِ ٱلۡمَضَاجِعِ يَدۡعُونَ رَبَّهُمۡ خَوۡفٗا وَطَمَعٗا وَمِمَّا رَزَقۡنَٰهُمۡ يُنفِقُونَ ١٦ ﴾ (السجدة: ١٦) 

অর্থাৎ তারা শয্যা ত্যাগ করে আকাঙ্ক্ষা ও আশংকার সাথে তাদের প্রতিপালককে ডাকে এবং আমি তাদেরকে যে রুযী প্রদান করেছি, তা হতে তারা দান করে। (সূরা সেজদা ১৬ আয়াত)
তিনি আরও বলেছেন,   

﴿ كَانُواْ قَلِيلٗا مِّنَ ٱلَّيۡلِ مَا يَهۡجَعُونَ ١٧ ﴾ (الذاريات: ١٧) 

অর্থাৎ তারা রাত্রির সামান্য অংশই নিদ্রায় অতিবাহিত করত। (সূরা যারিয়াত ১৭ আয়াত)


হাদীসসমূহ:

1/1167. وَعَنْ عَائِشَة رَضِيَ اللهُ عَنْهَا، قَالَتْ: كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَقُومُ مِنَ اللَّيْلِ حَتَّى تَتَفَطَّرَ قَدَمَاهُ، فَقُلْتُ لَهُ: لِمَ تَصْنَعُ هَذَا، يَا رَسُولَ اللهِ، وَقَدْ غُفِرَ لَكَ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِكَ وَمَا تَأخَّرَ ؟ قَالَ: «أَفَلاَ أَكُونُ عَبْداً شَكُوراً؟»  متفقٌ عَلَيْهِ .

১/১১৬৭। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাত্রির একাংশে (নামাযে) এত দীর্ঘক্ষণ কিয়াম করতেন যে, তাঁর পা ফুলে ফাটার উপক্রম হয়ে পড়ত। একদা আমি তাঁকে বললাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! আপনি এত কষ্ট সহ্য করছেন কেন?অথচ আপনার তো পূর্ব ও পরের গুনাহসমূহকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে।’ তিনি বললেন, “আমি কি শুকরগুযার বান্দা হব না?” (বুখারী ও মুসলিম)[1]

2/1168 وَعَن المُغِيرَةِ بن شُعبة  رضي الله عنه نَحْوهُ متفقٌ عَلَيْهِ

২/১১৬৮। মুগীরা ইবনে শু‘বা হতেও অনুরূপ হাদিস বর্ণিত হয়েছে। (বুখারী ও মুসলিম)

৩/১১৬৯। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ও ফাতেমার নিকট রাত্রি বেলায় আগমন করলেন এবং বললেন, “তোমরা (স্বামী-স্ত্রী) কি (তাহাজ্জুদের) নামায পড় না?” (বুখারী ও মুসলিম)[2]

4/1170 وَعَنْ سَالِمِ بنِ عَبدِ الله بنِ عُمَرَ بنِ الخَطَّابِ  رضي الله عنهما، عَن أَبيِهِ: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «نِعْمَ الرَّجُلُ عَبْدُ اللهِ، لَوْ كَانَ يُصَلِّي مِنَ اللَّيلِ». قَالَ سالِم: فَكَانَ عَبدُ اللهِ بَعْدَ ذَلِكَ لاَ يَنامُ مِنَ اللَّيلِ إِلاَّ قَلِيلاً . متفقٌ عَلَيْهِ

৪/১১৭০। সালেম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমার ইবনে খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একবার) বললেন, “আব্দুল্লাহ ইবনে উমার কতই না ভাল মানুষ হত, যদি সে রাতে (তাহাজ্জুদের) নামায পড়ত।” সালেম বলেন, ‘তারপর থেকে (আমার আব্বা) আব্দুল্লাহ রাতে অল্পক্ষণই ঘুমাতেন।’ (বুখারী ও মুসলিম) [3]

5/1171 وَعَنْ عَبدِ اللهِ بنِ عَمرِو بنِ العَاصِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم :«يَا عَبدَ اللهِ، لاَ تَكُنْ مِثْلَ فُلاَنٍ ؛ كَانَ يَقُومُ اللَّيلَ فَتَرَكَ قِيَامَ اللَّيلِ». متفقٌ عَلَيْهِ

৫/১১৭১। আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামবললেন, “হে আব্দুল্লাহ! তুমি অমুক ব্যক্তির মত হইয়ো না। সে রাতে উঠে নামায পড়ত, তারপর রাতে উঠা ছেড়ে দিল।” (বুখারী ও মুসলিম)[4]

6/1172 وَعَنِ ابنِ مَسعُود رضي الله عنه، قَالَ: ذُكِرَ عِنْدَ النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم رَجُلٌ نَامَ لَيْلَةً حَتَّى أَصْبَحَ، قَالَ: «ذَاكَ رَجُلٌ بَالَ الشَّيطَانُ في أُذُنَيْهِ - أَوْ قَالَ: فِي أُذُنِهِ». متفقٌ عَلَيْهِ

৬/১১৭২। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এমন একটি লোকের কথা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উল্লেখ করা হল, যে সকাল পর্যন্ত ঘুমিয়ে রাত্রি যাপন করে। তিনি বললেন, “এ এমন এক মানুষ, যার দু’কানে শয়তান প্রস্রাব করে দিয়েছে।”অথবা বললেন, “যার কানে প্রস্রাব করে দিয়েছে।” (বুখারী ও মুসলিম)[5]




7/1173 وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «يَعْقِدُ الشَّيطَانُ عَلَى قَافِيَةِ رَأسِ أَحَدِكُمْ، إِذَا هُوَ نَامَ، ثَلاَثَ عُقَدٍ، يَضْرِبُ عَلَى كُلِّ عُقْدَةٍ: عَلَيْكَ لَيْلٌ طَوِيلٌ فَارْقُدْ، فَإِنِ اسْتَيقَظَ، فَذَكَرَ اللهَ تَعَالَى انحَلَّتْ عُقْدَةٌ، فَإِنْ تَوَضَّأَ، انْحَلّتْ عُقدَةٌ، فَإِنْ صَلَّى، انْحَلَّتْ عُقَدُهُ كُلُّهَا، فَأَصْبَحَ نَشِيطاً طَيِّبَ النَّفْسِ، وَإِلاَّ أَصْبحَ خَبِيثَ النَّفْسِ كَسْلاَنَ». متفقٌ عَلَيْهِ
৭/১১৭৩। আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যখন তোমাদের কেউ নিদ্রা যায় তখন) তার গ্রীবাদেশে শয়তান তিনটি করে গাঁট বেঁধে দেয়; প্রত্যেক গাঁটে সে এই বলে মন্ত্র পড়ে যে, ‘তোমার সামনে রয়েছে দীর্ঘ রাত, অতএব তুমি ঘুমাও।’ অতঃপর যদি সে জেগে উঠে আল্লাহর যিকির করে, তাহলে একটি গাঁট খুলে যায়। তারপর যদি ওযু করে, তবে তার আর একটি গাঁট খুলে যায়। তারপর যদি নামায পড়ে, তাহলে সমস্ত গাঁট খুলে যায়। আর তার প্রভাত হয় স্ফূর্তি ও ভালো মনে। নচেৎ সে সকালে ওঠে কলুষিত মনে ও অলসতা নিয়ে।” (বুখারী ও মুসলিম)[6]
8/1174 وَعَنْ عَبدِ اللهِ بنِ سَلاَمٍ رضي الله عنه: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «أَيُّهَا النَّاسُ: أَفْشُوا السَّلاَمَ، وَأَطْعِمُوا الطَّعَامَ، وَصَلُّوا بِاللَّيْلِ وَالنَّاسُ نِيَامٌ، تَدْخُلُوا الجَنَّةَ بِسَلاَمٍ». رواه الترمذي، وقال: حديث حسن صحيح
৮/১১৭৪। আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “হে লোক সকল! তোমরা ব্যাপকভাবে সালাম প্রচার কর, (ক্ষুধার্তকে) অন্ন দাও এবং লোকে যখন রাতে ঘুমিয়ে থাকবে তখন নামায পড়। তাহলে তোমরা নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” (তিরমিযী হাসান সহীহ)[7] 
9/1175 وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «أَفْضَلُ الصِّيَامِ بَعْدَ رَمَضَانَ: شَهْرُ اللهِ المُحَرَّمُ، وَأَفْضَلُ الصَّلاَةِ بَعْدَ الفَرِيضَةِ: صَلاَةُ اللَّيْلِ». رواه مسلم
৯/১১৭৫। আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “রমযান মাসের রোযার পর সর্বোত্তম রোযা হচ্ছে আল্লাহর মাস মুহাররমের রোযা। আর ফরয নামাযের পর সর্বোত্তম নামায হচ্ছে রাতের (তাহাজ্জুদের) নামায।” (মুসলিম) [8]
10/1176 وَعَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «صَلاَةُ اللَّيْلِ مَثْنَى مَثْنَى، فَإِذَا خِفْتَ الصُّبْحَ فَأَوْتِرْ بِوَاحِدَةٍ». متفقٌ عَلَيْهِ
১০/১১৭৬। আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “রাতের নামায দু’ দু’ রাকআত করে। অতঃপর যখন ফজর হওয়ার আশংকা করবে, তখন এক রাকআত বিতির পড়ে নেবে।” (বুখারী ও মুসলিম) [9] 


11/1177 وَعَنْه، قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي مِنَ اللَّيْلِ مَثْنَى مَثْنَى، وَيُوتِرُ بِرَكْعَةٍ .متفقٌ عَلَيْهِ
১১/১১৭৭। উক্ত রাবী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের বেলায় দু’ দু’ রাকআত করে নামায পড়তেন এবং এক রাকআত বিতির পড়তেন।’ (বুখারী ও মুসলিম)[10] 
12/1178 وَعَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يُفْطِرُ مِنَ الشَّهْرِ حَتَّى نَظُنَّ أَنْ لاَ يَصُومَ مِنْهُ، وَيَصُومُ حَتَّى نَظُنَّ أَنْ لاَ يُفْطِرَ مِنْهُ شَيْئاً، وَكَانَ لاَ تَشَاءُ أَنْ تَرَاهُ مِنَ اللَّيلِ مُصَلِّياً إِلاَّ رَأيْتَهُ، وَلاَ نَائِماً إِلاَّ رَأيْتَهُ . رواه البخاري
১২/১১৭৮। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘কোন কোন মাসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনভাবে রোযা ত্যাগ করতেন যে, মনে হত তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত মাসে আর রোযাই রাখবেন না। অনুরূপভাবে কোন মাসে এমনভাবে (একাদিক্রমে) রোযা রাখতেন যে, মনে হত তিনি ঐ মাসে আর রোযা ত্যাগই করবেন না। (তাঁর অবস্থা এরূপ ছিল যে,) যদি তুমি তাঁকে রাত্রিতে নামায পড়া অবস্থায় দেখতে না চাইতে, তবু বাস্তবে তাঁকে নামায পড়া অবস্থায় দেখতে পেতে। আর তুমি যদি চাইতে যে, তাঁকে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখবে না, কিন্তু বাস্তবে তুমি তাকে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখতে পেতে।’ (বুখারী) [11]
13/1179 وَعَنْ عَائِشَة رَضِيَ اللهُ عَنْهَا: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً ـ تَعْنِي فِي اللَّيلِ ـ يَسْجُدُ السَّجْدَةَ مِنْ ذَلِكَ قَدْرَ مَا يَقْرَأُ أَحَدُكُمْ خَمْسِينَ آيَةً قَبْلَ أَنْ يَرْفَعَ رَأسَهُ، وَيَرْكَعُ رَكْعَتَيْنِ قَبْلَ صَلاَةِ الفَجْرِ، ثُمَّ يَضْطَجِعُ عَلَى شِقِّهِ الأَيْمَنِ حَتَّى يَأتِيَهُ المُنَادِي للصَلاَةِ. رواه البخاري
১৩/১১৭৯। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এগার রাকআত নামায পড়তেন, অর্থাৎ রাতে। তিনি মাথা তোলার পূর্বে এত দীর্ঘ সেজদা করতেন যে, ততক্ষণে তোমাদের কেউ পঞ্চাশ আয়াত পড়তে পারবে। আর ফরয নামাযের পূর্বে দু’ রাকআত সুন্নত নামায পড়ে ডান পাশে শুয়ে আরাম করতেন। শেষ পর্যন্ত তাঁর নিকট নামাযের ঘোষণাকারী এসে হাযির হত।’ (বুখারী)[12]


14/1180 وَعَنْها، قَالَتْ: مَا كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَزيدُ - فِي رَمَضَانَ وَلاَ فِي غَيْرِهِ - عَلَى إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً: يُصَلِّي أَرْبَعاً فَلاَ تَسْألْ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ، ثُمَّ يُصَلِّي أَرْبَعاً فَلاَ تَسْألْ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ، ثُمَّ يُصَلِّي ثَلاثاً. فَقُلتُ: يَا رَسُولَ اللهِ، أَتَنَامُ قَبْلَ أَنْ تُوتِرَ؟ فَقَالَ: «يَا عَائِشَة، إِنَّ عَيْنَيَّ تَنَامَانِ وَلاَ يَنَامُ قَلْبِي».متفقٌ عَلَيْهِ
১৪/১১৮০। উক্ত রাবী রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযান ও অন্যান্য মাসে (তাহাজ্জুদ তথা তারাবীহ) ১১ রাকআতের বেশী পড়তেন না। প্রথমে চার রাকআত পড়তেন। সুতরাং তার সৌন্দর্য ও দৈর্ঘ্য সম্পর্কে প্রশ্নই করো না। তারপর (আবার) চার রাকআত পড়তেন। সুতরাং তার সৌন্দর্য ও দৈর্ঘ্য সম্বন্ধে প্রশ্নই করো না। অতঃপর তিন রাকআত (বিতির) পড়তেন। (একদা তিনি বিতির পড়ার আগেই শুয়ে গেলেন।) আমি বললাম, “হে আল্লাহর রসূল! আপনি কি বিতির পড়ার পূর্বেই ঘুমাবেন?” তিনি বললেন, “আয়েশা! আমার চক্ষুদ্বয় ঘুমায়; কিন্তু অন্তর জেগে থাকে।” (বুখারী ও মুসলিম) [13]
15/1181 وَعَنْها: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَنَامُ أَوَّلَ اللَّيلِ، وَيَقُومُ آخِرَهُ فَيُصَلِّي . متفقٌ عَلَيْهِ
১৫/১১৮১। উক্ত রাবী রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে আরও বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের প্রথম দিকে ঘুমাতেন ও শেষের দিকে উঠে নামায পড়তেন। (বুখারী ও মুসলিম)[14]
(অধিকাংশ ক্ষেত্রে তিনি এরূপ করতেন নচেৎ এর ব্যতিক্রমও করতেন।)
16/1182 وَعَنِ ابنِ مَسعُود رضي الله عنه، قَالَ: صَلَّيْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لَيْلَةً، فَلَمْ يَزَلْ قَائِماً حَتَّى هَمَمْتُ بِأَمْرِ سُوءٍ ! قِيلَ: مَا هَمَمْتَ ؟ قَالَ: هَمَمْتُ أَنْ أَجِلْسَ وَأَدَعَهُ . متفقٌ عَلَيْهِ
১৬/১১৮২। ইবনে মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে এক রাতে নামায পড়েছি। তিনি এত দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে রইলেন যে, শেষ পর্যন্ত আমি একটা মন্দ কাজের ইচ্ছা করে ফেলেছিলাম।’ ইবনে মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে জিজ্ঞাসা করা হল, ‘সে ইচ্ছাটা কি করেছিলেন?’ তিনি বললেন, ‘আমার ইচ্ছা হয়েছিল যে, তাঁকে ছেড়ে দিয়ে বসে পড়ি।’ (বুখারী ও মুসলিম) [15]


17/1183 وَعَنْ حُذَيفَةَ رضي الله عنه، قَالَ: صَلَّيْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ لَيْلَةٍ فَافْتَتَحَ البَقَرَةَ، فَقُلْتُ: يَرْكَعُ عِنْدَ المئَةِ، ثُمَّ مَضَى، فَقُلتُ: يُصَلِّي بِهَا فِي رَكْعَةٍ فَمَضَى، فَقُلتُ: يَرْكَعُ بِهَا، ثُمَّ افْتَتَحَ النِّسَاءَ فَقَرَأَهَا، ثُمَّ افْتَتَحَ آلَ عِمْرَانَ فَقَرَأَهَا، يَقرَأُ مُتَرَسِّلاً: إِذَا مَرَّ بِآيَةٍ فِيهَا تَسبِيحٌ سَبَّحَ، وَإِذَا مَرَّ بِسُؤَالٍ سَأَلَ، وَإِذَا مَرَّ بِتَعَوُّذٍ تَعَوَّذَ، ثُمَّ رَكَعَ، فَجَعَلَ يَقُوْلُ: «سُبْحَانَ رَبِّيَ العَظِيمِ»  فَكَانَ رُكُوعُهُ نَحْواً مِنْ قِيَامِهِ، ثُمَّ قَالَ: «سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ، رَبَّنَا لَكَ الحَمْدُ» ثُمَّ قَامَ طَوِيلاً قَرِيباً مِمَّا رَكَعَ، ثُمَّ سَجَدَ، فَقَالَ: «سُبْحَانَ رَبِّيَ الأَعْلَى» فَكَانَ سجُودُهُ قَريباً مِنْ قِيَامِهِ. رواه مسلم.
১৭/১১৮৩। হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে এক রাতে নামায পড়লাম। তিনি সূরা বাকারাহ আরম্ভ করলেন। আমি (মনে মনে) বললাম, ‘একশত আয়াতের মাথায় তিনি রুকু করবেন।’ (কিন্তু) তিনি তারপরও কিরাত চালু রাখলেন। আমি (মনে মনে) বললাম, ‘তিনি এরই দ্বারা (সূরা শেষ করে) রুকু করবেন।’ কিন্তু তিনি সূরা নিসা পড়তে আরম্ভ করলেন এবং সম্পূর্ণ পড়লেন। তারপর তিনি সূরা আলে ইমরান আরম্ভ করলেন এবং সম্পূর্ণ করলেন। তিনি স্পষ্ট ও ধীরে ধীরে তেলাওয়াত করতেন। যখন এমন আয়াত আসত, যাতে তাসবীহ পাঠ করার উল্লেখ আছে, তখন (আল্লাহর) তাসবীহ পাঠ করতেন। যখন কোন প্রার্থনা সম্বলিত আয়াত অতিক্রম করতেন,তখন তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতেন। যখন কোন আশ্রয় প্রার্থনার আয়াত অতিক্রম করতেন, তখন তিনি আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। (অতঃপর) তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকু করলেন। সুতরাং তিনি রুকুতে ‘সুবহানা রাবিবয়াল আযীম’ পড়তে আরম্ভ করলেন। আর তাঁর রুকু ও কিয়াম (দাঁড়িয়ে কিরাত পড়া অবস্থা) এক সমান ছিল। তারপর তিনি রুকু থেকে মাথা তুলে ‘সামি‘আল্লাহু লিমান হামিদাহ, রাববানা অলাকাল হামদ’ (অর্থাৎ আল্লাহ সেই ব্যক্তির প্রশংসা শুনলেন, যে তা তাঁর জন্য করল। হে আমাদের পালনকর্তা তোমার সমস্ত প্রশংসা) পড়লেন। অতঃপর বেশ কিছুক্ষণ (কওমায়) দাঁড়িয়ে থাকলেন রুকুর কাছাকাছি সময় জুড়ে। তারপর সেজদা করলেন এবং তাতে তিনি পড়লেন, ‘সুবহানাল্লা রাবিবয়াল আ‘লা’ (অর্থাৎ আমার মহান প্রভুর পবিত্রতা বর্ণনা করছি)। আর তাঁর সেজদা দীর্ঘ ছিল তার কিয়াম (দাঁড়িয়ে কিরাত পড়া অবস্থা)র কাছাকাছি। (মুসলিম) [16]
18/1184 وَعَنْ جَابِرٍ رضي الله عنه قَالَ: سُئِلَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَيُّ الصَّلاَةِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: «طُوْلُ القُنُوْتِ». رواه مسلم
১৮/১১৮৪। জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সর্বোত্তম নামায সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হল, তিনি বললেন, “দীর্ঘ কিয়াম-যুক্ত নামায।” (মুসলিম) [17]
19/1185 وَعَنْ عَبدِ اللهِ بنِ عَمرِو بنِ العَاصِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «أَحَبُّ الصَّلاةِ إِلَى اللهِ صَلاةُ دَاوُدَ، وَأَحَبُّ الصِّيَامِ إِلَى اللهِ صِيَامُ دَاوُدَ، كَانَ يَنَامُ نِصْفَ اللَّيلِ وَيَقُومُ ثُلُثَهُ وَيَنَامُ سُدُسَهُ وَيَصُومُ يَوماً وَيُفْطِرُ يَوْماً». متفقٌ عَلَيْهِ
১৯/১১৮৫। ‘আব্দুল্লাহ ইবনে ‘আমর ইবনে ‘আস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহর নিকট সর্বোত্তম নামায, দাউদ عليه السلام -এর নামায এবং আল্লাহর নিকট সর্বোত্তম রোযা, দাউদ عليه السلام -এর রোযা; তিনি অর্ধরাত নিদ্রা যেতেন এবং রাতের তৃতীয় ভাগে ইবাদত করার জন্য উঠতেন। অতঃপর রাতের ষষ্ঠাংশে আবার নিদ্রা যেতেন। (অনুরূপভাবে) তিনি একদিন রোযা রাখতেন ও একদিন রোযা ত্যাগ করতেন।” (বুখারী ও মুসলিম) [18]


20/1186 وَعَنْ جَابِرٍ رضي الله عنه، قَالَ: سَمِعتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُوْلُ: «إِنَّ فِي اللَّيْلِ لَسَاعَةً، لاَ يُوَافِقُهَا رَجُلٌ مُسْلِمٌ يَسْألُ اللهَ تَعَالَى خَيْراً مِنْ أَمْرِ الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ، إِلاَّ أعْطَاهُ إيَّاهُ، وَذَلِكَ كُلَّ لَيْلَةٍ». رواه مسلم
২০/১১৮৬। জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বললেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ কথা বলতে শুনেছি যে, “রাত্রিকালে এমন একটি সময় আছে, কোন মুসলিম ব্যক্তি তা পেয়েই দুনিয়া ও আখিরাত বিষয়ক যে কোন উত্তম জিনিস প্রার্থনা করলে আল্লাহ তা‘আলা অবশ্যই তাকে তা দিয়ে থাকেন। ঐ সময়টি প্রত্যেক রাতে থাকে।” (মুসলিম) [19]
21/1187 وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «إِذَا قَامَ أَحَدُكُمْ مِنَ اللَّيْلِ فَلْيَفْتَتِحِ الصَّلاَةَ بِرَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ».رواه مسلم
২১/১১৮৭। আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যখন তোমাদের কেউ রাতে নামায পড়ার জন্য উঠবে, সে যেন হাল্কা-ভাবে দু’ রাকআত পড়ার মাধ্যমে নামায শুরু করে।” (মুসলিম)[20]
22/1188 وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا، قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا قَامَ مِنَ اللَّيْلِ افْتَتَحَ صَلاَتَهُ بِرَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ . رواه مسلم
২২/১১৮৮। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রাতে (তাহাজ্জুদের) জন্য উঠতেন, তখন দু’ রাকআত সংক্ষিপ্ত নামায পড়ার মাধ্যমে আরম্ভ করতেন।’ (মুসলিম)[21]
23/1189 وَعَنْها رَضِيَ اللهُ عَنْهَا، قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم  إِذَا فَاتَتْهُ الصَّلاةُ مِن اللَّيْلِ مِنْ وَجَعٍ أَوْ غَيْرِهِ، صَلَّى مِنَ النَّهَارِ ثِنْتَيْ عَشرَةَ ركْعَةً . رواه مسلم
২৩/১১৮৯। উক্ত রাবী রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘দৈহিক ব্যথা-বেদনা বা অন্য কোন অসুবিধার কারণে যদি রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রাতের নামায ছুটে যেত, তাহলে তিনি দিনের বেলায় ১২ রাকআত নামায পড়তেন।” (মুসলিম) [22]
24/1190 وَعَنْ عُمَرَ بنِ الخَطَّابِ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ نَامَ عَنْ حِزْبِهِ، أَوْ عَنْ شَيْءٍ مِنْهُ، فَقَرَأَهُ فِيمَا بَيْنَ صَلاَةِ الفَجْرِ وَصَلاَةِ الظُّهْرِ، كُتِبَ لَهُ كَأنَّمَا قَرَأَهُ مِنَ اللَّيْلِ». رواه مسلم
২৪/১১৯০। উমার ইবনে খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি স্বীয় অযীফা (দৈনিক যথা নিয়মে তাহাজ্জুদের নামায) অথবা তার কিছু অংশ না পড়ে ঘুমিয়ে পড়ে, অতঃপর যদি সে ফজর ও যোহরের মধ্যবর্তী সময়ে তা পড়ে নেয়, তাহলে তার জন্য তা এমনভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়, যেন সে তা রাতেই পড়েছে।” (মুসলিম)[23]
25/1191 وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «رَحِمَ اللهُ رَجُلاً قَامَ مِنَ اللَّيْلِ، فَصَلَّى وَأَيْقَظَ امْرَأَتَهُ، فَإِنْ أَبَتْ نَضَحَ فِي وَجْهِهَا المَاءَ، رَحِمَ اللهُ امْرَأَةً قَامَتْ مِنَ اللَّيْلِ، فَصَلَّتْ وَأَيْقَظَتْ زَوْجَهَا، فَإِنْ أَبَى نَضَحَتْ فِي وَجْهِهِ المَاءَ». رواه أَبُو داود بإسناد صحيح
২৫/১১৯১। আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহ সেই ব্যক্তির প্রতি দয়া করুন, যে রাতে উঠে নামায পড়ে এবং নিজ স্ত্রীকেও জাগায়। অতঃপর যদি সে (জাগতে) অস্বীকার করে, তাহলে তার মুখে পানির ছিটা মারে। অনুরূপ আল্লাহ সেই মহিলার প্রতি দয়া করুন, যে রাতে উঠে নামায পড়ে এবং নিজ স্বামীকেও জাগায়। অতঃপর যদি সে (জাগতে) অস্বীকার করে, তাহলে সে তার মুখে পানির ছিটা মারে।” (আবু দাউদ, বিশুদ্ধ সূত্রে)[24]


26/1192 وَعَنْه وَعَنْ أَبي سَعِيدٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا، قَالاَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «إِذَا أَيْقَظَ الرَّجُلُ أهْلَهُ مِنَ اللَّيْلِ فَصَلَّيَا - أَوْ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ جَمِيعاً، كُتِبَا فِي الذَّاكِرِينَ وَالذَّاكِرَاتِ». رواه أَبُو داود بإسناد صحيح
২৬/১১৯২। উক্ত রাবী রাদিয়াল্লাহু আনহু ও আবূ সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু উভয় হতে বর্ণিত, তাঁরা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যখন কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রীকে রাতে জাগিয়ে উভয়ে নামায পড়ে অথবা তারা উভয়ে দু’ রাকআত করে নামায আদায় করে,তবে তাদেরকে (অতীব) যিকিরকারী ও যিকিরকারিনীদের দলে লিপিবদ্ধ করা হয়।” (আবূ দাউদ বিশুদ্ধ সূত্রে) [25]
27/1193 وَعَنْ عَائِشَة رَضِيَ اللهُ عَنْهَا: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «إِذَا نَعَسَ أحَدُكُمْ في الصَّلاَةِ، فَلْيَرْقُدْ حَتَّى يَذْهَبَ عَنْهُ النَّوْمُ، فَإِنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا صَلَّى وَهُوَ نَاعِسٌ، لَعَلَّهُ يَذْهَبُ يَسْتَغْفِرُ فَيَسُبَّ نَفْسَهُ». متفقٌ عَلَيْهِ
২৭/১১৯৩। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যখন তোমাদের কেউ নামাযের মধ্যে তন্দ্রাভিভূত হবে, তখন সে যেন নিদ্রা যায়, যতক্ষণ না তার নিদ্রার চাপ দূর হয়ে যায়। কারণ, যখন কেউ তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে নামায পড়বে, তখন সে খুব সম্ভবত: ক্ষমা প্রার্থনা করতে গিয়ে নিজেকে গালি দিতে লাগবে।” (বুখারী ও মুসলিম) [26]
28/1194 وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «إِذَا قَامَ أَحَدُكُمْ مِنَ اللَّيْلِ، فَاسْتَعْجَمَ القُرْآنَ عَلَى لِسَانِهِ، فَلَمْ يَدْرِ مَا يَقُوْلُ، فَلْيَضْطَجِع». رواه مسلم
২৮/১১৯৪। আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যখন তোমাদের কেউ রাতে উঠবে ও (ঘুমের চাপের কারণে) জিহ্বায় কুরআন পড়তে এমন অসুবিধা বোধ করবে যে, সে কি বলছে তা বুঝতে পারবে না, তখন সে যেন শুয়ে পড়ে।” (মুসলিম) [27] 




_______________________=_____________________


[1] সহীহুল বুখারী ৪৮৩৭, ১১১৮, ১১১৯, ১১৪৮, ১১৬১, ১১৬২, ১১৬৮, মুসলিম ৭৩১, ২৮২০, তিরমিযী ৪১৮, নাসায়ী ১৬৪৮-১৬৫০, আবূ দাউদ ১২৬২, ১২৬৩, ইবনু মাজাহ ১২২৬, ১২২৭
[2] সহীহুল বুখারী ১১২৭, ৪৭২৪, ৭৩৪৭, ৭৪৬৫, মুসলিম ৭৭৫, নাসায়ী ১৬১১, ১৬১২, আহমাদ ৫৭২, ৭০৭, ৯০২
[3] সহীহুল বুখারী ৪৪০, ১১২২, ১১৫৮, ৩৭৩৯, ৩৭৪১, ৭০১৬, ৭০২৯, ৭০৩১, মুসলিম ২৪৭৮, ২৪৭৯, তিরমিযী ৩২১, নাসায়ী ৭২২, ইবনু মাজাহ ৭৫১,৩৯১৯ আহমাদ ৪৪৮০, ৪৫৯৩, ৪৫৮৫, ৬২৯৪, দারেমী ১৪০০, ২১৫২
[4] সহীহুল বুখারী ১১৩১, ১১৫২, ১১৫৩, ১৯৭৪-১৯৮০, ২৪১৮-২৪২৩, ৫০৫২-৫০৫৪, ৫১৯৯, ৬২৭৭, মুসলিম ১১৫৯, তিরমিযী ৭৭০, নাসায়ী ১৬৩০, ২৩৪৪, ২৩৮৮-২৩৯৪, ২৩৯৬, ২৩৯৭, ২৩৯৯-২৪০৩, আবূ দাউদ ১৩৮৮-১৩৯১, ২৪২৭, ২৪৪৮, ইবনু মাজাহ ১৩৪৬, ১৭১২, আহমাদ ৬৪৪১, ৬৪৫৫, ৬৪৮০, ৬৪৯১, ৬৭২১, ৬৭২৫, ৬৭৫০, দারেমী ১৭৫২, ৩৪৮৬
[5] সহীহুল বুখারী ১১৪৪, ৩২৭০, মুসলিম ৭৭৪, নাসায়ী ১৬০৮, ১৬০৯, ইবনু মাজাহ ১৩৩০, আহমাদ ৩৫৪৭, ৪০৪৯
[6] সহীহুল বুখারী ১১৪২, ৩২৬৯, মুসলিম ৭৭৬, নাসায়ী ১৬০৭, আবূ দাউদ ১৩০৬, ইবনু মাজাহ ১৩২৯, আহমাদ ৭২৬৬, ৭৩৯২, ১০০৭৫, মুওয়াত্তা মালিক ৪২৬
[7] তিরমিযী ২৪৮৫, ইবনু মাজাহ ১৩৩৪, ৩২৫১, দারেমী ১৪৬০
[8] মুসলিম ১১৬৩, তিরমিযী ৪৩৮, ৭৪০, আবূ দাউদ ২৪২৯, ইবনু মাজাহ ১৭৪২, আহমাদ ৭৯৬৬, ৮১৮৫, ৮৩০২, ৮৩২৯, ১০৫৩২, দারেমী ১৭৫৭,১৭৫৮
[9] সহীহুল বুখারী ৪৭২, ৪৭৩, ৯৯১, ৯৯৩, ৯৯৫, ৯৯৮, ১১৩৭, মুসলিম ৭৪৯, তিরমিযী ৪৩৭, ৬৪১, ১৬৬৬, ১৬৬৭, ১৬৬৮, ১৬৬৯, ১৬৭০,১৬৭১, ১৬৭২, ১৬৭৩, ১৬৭৪, ১৬৮২, ১৬৯২, ১৬৯৪, আবূ দাউদ ১৪২১, ১৪৩৮, ইবনু মাজাহ ১১৭৪, ১১৭৫, ১১৭৬, ১৩২২, আহমাদ ৪৪৭৮,৪৫৪৫, ৪৬৯৬, ৪৭৭৬, ৪৮৩২, ৪৮৪৫, ৪৯৫১, ৫০১২, ৫০৬৬, ৫১০১, ৫১৯৫, ৫৩৭৬, ৪৫৩১, ৪৫৪৭, ৪৫৬৬, ৫৫১২, মুওয়াত্তা মালিক ২৬১,২৬৯, ২৭৫, ২৭৬, দারেমী ১৪৫৮
[10] ঐ
[11] সহীহুল বুখারী ১১৪১, ১৯৭২, ১৯৭৩, মুসলিম ১১৫৮, তিরমিযী ৭৬৯, ২০১৫, নাসায়ী ১৬২৭, আগ ১১৬০১, ১১৭১৯, ১২২১৩, ১২৪২১, ১২৪৭১,১২৬৫৪, ১২৭৬২, ১২৯৬০, ১২৯৯০, ১৩০৬১, ১৩২৩৮, ১৩৩০৪, ১৩৩৭০, ১৩৮৬, ১৩৪০৬
[12] সহীহুল বুখারী ৬২৬, ৯৯৪, ১১২৩, ১১৩৯, ১১৪০, ১১৬০, ১১৬৫, ৬৩১০, মুসলিম ৭২৪, ৭৩৬, ৭৩৭, ৭৩৮, তিরমিযী ৪৩৯, ৪৪০, নাসায়ী ৬৮৫, ১৬৯৬, ১৭৪৯, ১৭৬২, আবূ দাউদ ১২৫৪, ১২৫৫, ১২৬২, ১৩৩৪, ১৩৩৮, ১৩৩৯, ১৩৪০, ইবনু মাজাহ ১১৯৮, ১৩৫৮, আহমাদ ২৩৫৩৭, ২৩৫৫৩, ২৩৫৯৬, ২৩৬৬৮, ২৩৬৯৭, ২৩৭০৫, ২৩৯২৫, ২৩৯৪০, ২৪০১৬, ২৪০২৪, ২৪০৫৬, ২৪২১১, ২৪৩৩৯, ২৪৩৭৯, ২৪৪৮৬,২৪৫৮১, ২৪৭৪৫, ২৪৮১৬, ২৪৯০৭, ২৪৯৫৮, ২৫৫২০, মুওয়াত্তা মালিক ২৪৩, ২৬৪, দারেমী ১৪৪৭, ১৪৭৩, ১৪৭৫, ১৪৮৫
[13] সহীহুল বুখারী ১১৪৭, ২০১৩, ৩৫৬৯, মুসলিম ৭৩৮, তিরমিযী ৪৩৯, নাসায়ী ১৬৯৭, আবূ দাউদ ১৩৪১, আহমাদ ২৩৫৫৩, ২৩৫৯৬, ২৩৭৪৮,২৩৯২৫, ২৩৯৪০, ২৪০১৬, ২৪০৫৬, ২৪১৯৪, ২৪২১১, ২৫২৭৭, ২৫৭৫৬, ২৫৮২৬, মুওয়াত্তা মালিক ২৬৫
[14] সহীহুল বুখারী ১১৪৬, মুসলিম ৭৩৯, নাসায়ী ১৬৪০, ১৬৮০, ইবনু মাজাহ ১৩৬৫, আহমাদ ২৩৮১৯, ২৪১৮৫, ২৪৫৪, ২৫৬২৪

[15] সহীহুল বুখারী ১১৩৫, মুসলিম ৭৭৩, ইবনু মাজাহ ১৪১৮, আহমাদ ৩৬৩৮, ৩৭৫৭, ৩৯২৭, ৪১৮৭
[16] মুসলিম ৭৭২, তিরমিযী ২৬২, নাসায়ী ১০০৮, ১০০৯, ১০৪৬, ১০৬৯, ১১৩৩, ১১৪৫, ১৬৬৪, ১৬৬৫, আবূ দাউদ ৮৭১, ৮৭৪, ইবনু মাজাহ ৮৮৮, ৮৯৭, ১৩৫১, আহমাদ ২২৯৭৯, ২২৭৫০, ২২৭৮৯, ২২৮০০, ২২৮৩৩, ২২৮৫৪, ২২৮৫৮, ২২৫৬৬, ২২৮৯০, ২২৯০২, দারেমী ১৩০৬
[17] মুসলিম ৭৫৬, তিরমিযী ৩৮৭, ইবনু মাজাহ ১৪২১, আহমাদ ১৩৮২১, ১৪৭৮৮
[18] সহীহুল বুখারী ১১৩১, ১১৫২, ১১৫৩, ১৯৭৪ থেকে ১৯৮০, ৩৪১৮, ৩৪১৯, ৩৪২০, ৫০৫২, ৫০৫৩, ৫০৫৪, ৫১৯৯, ৬১৩৪, ৬২৭৭, মুসলিম ১১৫০৯, তিরমিযী ৭৭০, নাসায়ী ১৬৩০, ২৩৪৪, ২৩৮৮ থেকে ২৩৯৪, ২৩৯৬, ২৩৯৭, ২৩৯৯ থেকে ২৪০৩, আবূ দাউদ ১৩৮৮ থেকে ১৩৯১,২৪২৭, ২৪৪৮, ইবনু মাজাহ ১৩৪৬, ১৭১২, আহমাদ ৬৪৪১, ৬৪৫৫, ৬৪৮০, ৬৪৯১, ৬৭২১, ৬৭২৫, ৬৭৫০, ৬৭৯৩, ৬৮০২, ৬০৮২৩, ৬৮২৪,৬৮৩৪, ৬৮৩৭, ৬৮৭৫, ৬৮৮২, ৬৯৮৪, ৭০৫৮, দারেমী ১৭৫২, ৩৪৮৬
[19] মুসলিম ৭৫৭, আহমাদ ১৩৯৪৫, ১৪৩৩৬, ২৭৫৬৩
[20] মুসলিম ৭৬৮, আবূ দাউদ ১৩২৩, আহমাদ ৭১৩৬, ৭৬৯০, ৮৯৩১
[21] মুসলিম ৭৬৭, আহমাদ ২৩৪৯৭, ২৫১৪৯
[22] মুসলিম ৭৪৬, তিরমিযী ৪৪৫, নাসায়ী ১৭২২, ১৭২৩, ১৭২৪, ১৭২৫, ১৭৮৯, আবূ দাউদ ১৩৪২, ১৩৪৬, ১৩৫০, ২৪৩৪, ইবনু মাজাহ ১১৯১,আহমাদ ২৩৭৪৮, ২৫৬৮৭, দারেমী ১৪৭৫
[23] মুসলিম ৭৪৭, তিরমিযী ৪০৮, নাসায়ী ১৭৯০ থেকে ১৭৯২, আবূ দাউদ ১৩১৩, ১৩৪৩, ২২০, ৩৭৯, মুওয়াত্তা মালিক ৪৭০, দারেমী ১৪৭৭
[24] আবূ দাউদ ১৩০৮, নাসায়ী ১৬১০, ইবনু মাজাহ ১৩৩৬, আহমাদ ৭৩৬২
[25] আবূ দাউদ ১৩০৯, ইবনু মাজাহ ১৩৩৫
[26] সহীহুল বুখারী ২১২, মুসলিম ৭৮৬, তিরমিযী ৩৫৫, নাসায়ী ১৬২, আবূ দাউদ ১৩১০, ইবনু মাজাহ ১৩৭০, আহমাদ ২৩৭৬৬, ২৫১৩৩, ২৫১৭১,২৫৬৯৯, ২৫৭৭৭, মুওয়াত্তা মালিক ২৫৯, দারেমী ১৩৮৩
[27] মুসলিম ৭৮৭, আবূ দাউদ ১৩১১, ইবনু মাজাহ ১৩৭২, আহমাদ ২৭৪৫০
_________________________________________________________________________________









দুশ্চরিত্রা নারীকূল দুশ্চরিত্র পুরুষকুলের জন্যে এবং সচ্চরিত্রা নারীকুল সচ্চরিত্র পুরুষকুলের জন্যেঃ



আল্লাহ সুবাহানু তা'য়ালা বলেন,


الْخَبِيثَاتُ لِلْخَبِيثِينَ وَالْخَبِيثُونَ لِلْخَبِيثَاتِ وَالطَّيِّبَاتُ لِلطَّيِّبِينَ وَالطَّيِّبُونَ لِلطَّيِّبَاتِ أُوْلَئِكَ مُبَرَّؤُونَ مِمَّا يَقُولُونَ لَهُم مَّغْفِرَةٌ وَرِزْقٌ كَرِيمٌ

দুশ্চরিত্রা নারীকূল দুশ্চরিত্র পুরুষকুলের জন্যে এবং 
দুশ্চরিত্র পুরুষকুল দুশ্চরিত্রা নারীকুলের জন্যে। 
সচ্চরিত্রা নারীকুল সচ্চরিত্র পুরুষকুলের জন্যে এবং 
সচ্চরিত্র পুরুষকুল সচ্চরিত্রা নারীকুলের জন্যে। 
তাদের সম্পর্কে লোকে যা বলে, তার সাথে তারা সম্পর্কহীন। 
তাদের জন্যে আছে ক্ষমা ও সম্মানজনক জীবিকা। 
[সুরা নুর: ২৬]


বাস্তব উদাহরণঃ



বোখারা শহরে এক স্বর্ণের দোকানদার ছিলো। ঘরে ছিলো তার সুন্দরী স্ত্রী। নিয়ম অনুযায়ী একদিন রাতে লোকটি ঘরে এসে দেখল তার স্ত্রী বসে বসে কাঁদছে। কারণ জিজ্ঞেস করলে স্ত্রী বললো, আজকে অনেক বড় গোনাহ হয়ে গেছে। 

স্ত্রী বললোঃ 
যে লোকটি অনেক দিন যাবত আমাদের ঘরে দুধ দিয়ে যেত সে আজকে দুধ দেয়ার সময় আমার হাত ধরে টিপাটিপি করছে। সাবালিকা হবার পর থেকে এ পর্যন্ত আপনি ছাড়া কেউ আমার হাত ধরেনি। অভাবনীয় এই পাপাচারের কারণে আমি ক্ষোভ ও দুঃখের অনলে দগ্ধ হচ্ছি প্রতিনিয়ত; আর কান্না করছি অবিরত। 

এই কথা শুনে স্বামীর চোখ দিয়ে ঝরঝর করে অশ্রু বের হয়ে এলো। 

লোকটি বললঃ
আজকে দোকানে এক মহিলা কাস্টমারকে স্বর্ণের চূড়ি পরানোর ছলে তার হাত ধরে আমি টিপাটিপি করছিলাম, ব্যাভিচারের যেই ঋন আমি নিয়েছিলাম স্বীয় কাঁধে, সেই ঋণ তুমি শোধ করেছ। আজ এই মূহুর্তে আমি আল্লাহর কাছে তাওবা করছি আমরণ আর কখনো ব্যাভিচার করবোনা। তবে তোমার কাছে আমার একটি অনুরোধ, আগামী কাল দুধওয়ালা তোমার সাথে কি ব্যবহার করে আমাকে দয়া করে বলবে। 

পরদিন স্বামী দোকানে চলে গেলো এবং যথাসময়ে দুধওয়ালা দুধ দিতে এসে কালক্ষেপন না করে মহিলাটির পায়ে পড়ে বললো মা ! শয়তানের প্ররোচনায় প্রতারিত হয়ে গতকাল অনেক বড় গুনাহ করে ফেলেছি এবং বিনিদ্র রজনী যাপন করে মাওলার দরবারে তাওবা করেছি, এধরনের পাপাচার আর কোনদিন করবনা; দয়াকরে আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন। মহিলাটি তাকে ক্ষমা করে দিল। 

রাতে যখন স্বামী দোকান থেকে ফিরলো স্ত্রী পুরো ঘটনা তাকে জানালো পরে স্বামী আনন্দ চিত্তে বললো পরিবারের পুরুষরা যদি পরনারীর অবৈধ উৎসর্গ থেকে তাওবা করে, তাহলে পৃথিবীর তাবৎ পুরুষ সেই পরিবারের নারীদের অবৈধ সংসর্গ থেকে তাওবা করবে।

তথ্যসুত্রঃ তফসীরে রুহুল বয়ান।

Tuesday, December 1, 2015

ওযু নিয়ে আহলে হাদিসের নেতাদের মধ্যে মতবিরোধঃ



নামধারী ফিরকায়ে আহলে হাদিস লা মাঝাবীরা জবাব দাও।

কুরআন এক, হাদীস এক তাইলে তোমাদের নেতাদের মধ্যে এতো মতভেদ কেন?

****************************

ওযুতে ধারাবাহিকতা রক্ষার বিধান।

প্রথম বক্তব্য: ওযুর অঙ্গসমূহ ধারাবাহিকভাবে একের পর এক ধৌত করা ওয়াজিব। 
এটি ইবনে বায [১] ও ইবনে উসাইমিন [২] রহ. এর বক্তব্য।

দ্বিতীয় বক্তব্য: ওযুতে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা ওয়াজিব নয়। 
এটি আলবানী [৩] সাহেবের অভিমত। 

রেফারেন্স:
[১] মাজমুউ ফাতাওয়া ও মাকালাত, খ.৩, পৃ.২৯৪। খ.১০, পৃ.১০২,১০৬। আল-ফাওয়াইদুল জালিয়্যা, পৃ.৫২।

[২] আশ শরহুল মুমতা, খ.১, পৃ.২১৭-২১৮। মাজমুউ ফাতাওয়া ও রসাইল, খ.১১, পৃ.১৪১-১৪৪।

[৩]সিলসিলাতুল আহাদিসিস সহীহা, ১/১/৫২৫। হাদীস নং ২৬১। তামামুল মিন্না,পৃ.৮৮।

উৎস: নামায সংক্রান্ত মাসআলায় আরব আলেমদের মাঝে মতবিরোধ।

মুজতাহিদের প্রয়োজন কেন ? হাদিসের জ্ঞান না রেখে হাদিস বর্ননা করা বিপদজনকঃ




আল্লাহ তাআলা কুরআন শরীফে বলে দিয়েছেন -

"তোমরা যদি না জেনে থাক তবে আহলে যিকিরদেরকে জিজ্ঞাসা কর ।" (সূরা নাহল : আয়াত ৪৩ )

মুফাসসিরীনে কেরাম বলেন উক্ত আয়াতে আহলে যিকির দ্বারা উদ্দেশ্য হল ওলামায়ে কেরাম ।আর উক্ত হুকুমটি হল সাধারণ মানুষের জন্য ।



নিম্নের আয়াতটিতে এদিকেই ইশারা করা হয়েছে -

"অচিরেই আমি আপনার উপর কিছু ভারী কথা অবতীর্ণ করব ।"(সূরা মুজ্জাম্মিলঃ আয়াত - ৫)

অনুরূপভাবে হাদীস থেকে হুকুম আহকাম বের করাও অত্যন্ত কঠিন কাজ ।সাধারণ মানুষের জন্য তা একেবারেই অসম্ভব ।কেননা মুহাদ্দিসীনদের দায়িত্ব হল শুধুমাত্র হাদীস জমা করে দেয়া ।তাঁরা আমলযোগ্য হাদীস ও আমালবিহীন হাদীসের মধ্যে কোন পার্থক্য করেন না ।তাই হাদীসের কিতাবসমূহে সর্বপ্রকার হাদীস বিদ্যমান থাকে । যেমনঃ

(১)রহিত হাদীসঃ

হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যখন কুকুর তোমাদের কারো পাত্রে পানি পান করে সে যেন উক্ত পাত্রকে সাতবার ধুয়ে নেয় ।(বুখারী ,হাদীস নং -১৭২)

(২)মারজূহ হাদীসঃ

হযরত ইবনে ওমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (সাঃ)কে ঐ পানি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যা মরু ভূমিতে নিচু জায়গায় জমে থাকে এবং যেখানে চতুস্পদ জন্ত ও হিংস্র প্রাণী আসা যাওয়া করে ।তিনি বললেন পানি যখন দুই মটকা পরিমাণ হয় তখন তা আর নাপাক হয় না ।(আবু দাউদঃ হাদীস নং ৬৩)

(৩) নির্দিষ্ট স্থানের জন্য খাস হাদীসঃ

আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ (সাঃ)কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে আমরা কি বুজাআহ নামক কুয়া থেকে ওজু করব ?আর তা এমন একটি কুয়া যেখানে মহিলাদের হায়েজের নেকড়া ,মৃত কুকুরসমূহ এবং নাপাক বস্তসমূহ ফেলা হয় ।রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন পানি পবিত্র ।তাকে কোন বস্তু নাপাক করতে পারে না । (নাসাঈ শরীফঃ হাদীস নং ৩২৬)

(৪) নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য খাছঃ

হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন যখন তোমাদের কেউ মসজিদে থাকে আর সে তার পায়ুপথে বায়ু অনুভব করে সে ততক্ষণ পর্যন্ত (ওজুর নিয়তে) বাইরে বের হবে না যতক্ষণ না সে শব্দ শুনে বা গন্ধ পায় । (তিরমিজী শরীফঃ হাদীস নং - ৭৫ )

হাদীস থেকে বুঝা যায় কারো বায়ু নির্গমন হওয়া সত্ত্বেও যদি সে শব্দ বা গন্ধ না পায় তবে তার ওজু ভঙ্গ হবে না ।হাদীসটি সম্পূর্ণ সহীহ ।কিন্তু এটা সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না ।খাস কিছু ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ।শুধু হাদীস পড়ে এটা বোঝা যায় না ।

(৫) নির্দিষ্ট সময়ের জন্য খাছঃ

ইবনে উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কুকুরকে হত্যা করার আদেশ দিয়েছেন ।(মুসলিম শরীফঃ হাদীস নং - ৩৯৮৮ )



বুকের উপর হাত বাধার দলিলের অবস্থাঃ পর্ব ৩

মুয়াম্মাল ইবনে ইসমাইলের রেওয়ায়েতঃ

তাঁর  বিবরণ অনুযায়ী তিনি (মুয়াম্মাল ইবনে ইসমাইল) ইমাম সুফিয়ান ছাওরী রাহ

তিনি আসেম ইবনে কুলাইব থেকে, 

তিনি তার  পিতা থেকে, 

তিনি ওয়াইল ইবনে হুজর রা. থেকে বর্ণনা করেছেন, 


সনদসহ রেওয়ায়েতটির আরবী পাঠ এই-

أخبرنا  أبو طاهر، نا أبو بكر، نا أبو موسى، نا مؤمل، نا سفيان، عن عاصم بن كليب،  عن أبيه، عن وائل بن حجر قال : صليت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم، ووضع  يده اليمنى على يده اليسرى على صدره.


``আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে নামায পড়লাম। তিনি তাঁর ডান হাত বাম হাতের উপর বুকের উপর রাখলেন। ``

-সহীহ ইবনে খুযায়মা ১/২৭২, হাদীস : ৪৭৯




মুয়াম্মাল ইবনে ইসমাইলের পূর্ণ বিবরণ সঠিক নয়। হাদীস শাস্ত্রের নীতি অনুসারে এ বর্ণনায় على صدره ‘বুকের উপর’ কথাটা ‘মুনকার’। অর্থাৎ সুফিয়ান ছাওরী রাহ.-এর বর্ণনায় তা ছিল না। মুয়াম্মাল ইবনে ইসমাইল ভুলক্রমে তা বাড়িয়ে দিয়েছেন। 

কারণ সুফিয়ান ছাওরী রাহ. থেকে এই হাদীস মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ ফিরয়াবী ও আবদুল্লাহ ইবনুল ওয়ালীদ রাহ.ও বর্ণনা করেছেন। 
তাঁরা দু’জনই ছিকা ও শক্তিশালী রাবী। তাঁদের রেওয়ায়েতে على صدره ‘বুকের উপর’ কথাটা নেই। 

দেখুন : মুসনাদে আহমদ ৪/৩১৮; আলমুজামুল কাবীর তবারানী ২২/৩৩।



রেওয়ায়েত দুটির সনদসহ আরবী পাঠ নিম্নরূপ :

قال الإمام أحمد : حدثنا عبد الله بن الوليد، حدثني سفيان، عن عاصم بن كليب عن أبيه عن وائل بن حجر قال : ... ورأيته ممسكا بيمينه على شماله في الصلاة ... 
وقال الإمام الطبراني : حدثنا عبد الله بن محمد بن سعيد بن أبي مريم ثنا محمد بن يوسف الفريابي  ثنا سفيان عن عاصم بن كليب عن أبيه عن وائل بن حجر قال : رأيت النبي صلى  الله عليه وسلم يضع يده اليمنى على اليسرى وإذا جلس افترش رجله اليسرى ...
قال  الراقم : ومحمد بن يوسف الفريابي ذكره المزي في الرواة عن الثوري وابن  عيينة كلهيما إلا أنه يستظهر برواية الدارقطني أنه الثوري. ففي إتحاف  المهرة 13/662
 تحت حديث : سمعت النبي صلى الله عليه وسلم إذا قال غير المغضوب عليهم ولا الضالين قال آمين، يمد بها صوته : قط في الصلاة ... وعن يحي بن صاعد، عن ابن زنجوية، عن الفريابي، عن الثوري، عن سلمة، نحوه. أي عن حجر أبي العنبس عن وائل بن حجر.

وقد ذكرهما صاحب أنيس الساري 10/335 في الرواة عن الثوري. رقم الحاشية : (1)

_________________

এটা  শুধু পাওয়া যায় মুয়াম্মাল ইবনে ইসমাইল রাহ.-এর বর্ণনায়, যাঁর সম্পর্কে  জারহ-তাদীলের ইমামদের সিদ্ধান্ত এই যে, তিনি সাধারণভাবে বিশ্বস্ত ও  সত্যবাদী হলেও রেওয়ায়েতের ক্ষেত্রে তাঁর প্রচুর ভুল হয়েছে। 



এমনকি ইমাম  বুখারী রাহ. তাকে ‘মুনকাররুল হাদীস’ বলেছেন।

ইমামগণের মন্তব্য নীচে উল্লেখ করা হল-

قال  البخاري : منكر الحديث، وقال أبو حاتم الرازي : صدوق شديد في السنة كثير  الخطأ، يكتب حديثه، وقال أبو زرعة الرازي : في حديثه خطأ كثير، وقال ابن  سعد : ثقة كثير الغلط، وقال الساجي : صدوق، كثير الخطأ وله أوهام يطول  ذكرها. وقال الدارقطني : ثقة كثير الخطأ.

দেখুন : তাহযীবুল কামাল ১৮/৫২৬; তাযীবুত তাহযীব ১০/৩৪০; মীযানুল ইতিদাল ৮৯৪৯; আলমুগনী ফী যুআফা ৬৫৪৭


সালাফীদের 
নেতা 

আলবানীও সিলসিলাতুয যয়ীফার অনেক জায়গায় তাঁকে জয়ীফ বলেছেন এবং তাঁর সম্পর্কে ইমামগণের মন্তব্য উদ্ধৃত করেছেন। 

দেখুন : সিলসিলাতুয যয়ীফা ১/১৩১; ২/২৪৬, ৩/১৭৯; ৩/২২৭; ৪/৪৫৫ ইত্যাদি।


দ্বিতীয়ত  : 


ইমাম সুফিয়ান ছাওরী রাহ

তিনি আসেম ইবনে কুলাইব থেকে, 


ওয়াইল ইবনে হুজর রা.-এর বিবরণ বর্ণনা করেছেন। 

★★★ আসিম ইবনে কুলাইব থেকে এই হাদীস আরো বর্ণনা করেছেন : 

১. শোবা ইবনুল হাজ্জাজ, 
২. বিশর ইবনুল মুফাদ্দাল 
৩. কায়স ইবনুর রাবী 
৪. যাইদা ইবনে কুদামা 
৫. আবদুল ওয়াহিদ ইবনে যিয়াদ
৬. খালিদ ইবনু আবদিল্লাহ 
৭.আবু ইসহাক 
৮. আবুল আহওয়াস 
৯. আবদুল্লাহ ইবনে ইদরীস, 
১০. মুসা ইবনে আবী আয়েশা 
১১.  আবু আওয়ানা প্রমুখ হাদীসের বিখ্যাত ইমাম ও ছিকা রাবীগণ। তাঁরা সকলে আসিম  ইবনে কুলাইব থেকে নামাযে হাত বাঁধার হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। 
কিন্তু কেউ 
 على صدره ‘বুকের উপর’ 
 কথাটা বর্ণনা করেননি।


এঁদের রেওয়ায়েতগুলোর জন্য দেখুন যথাক্রমে : 


১. মুসনাদে আহমদ ৪/৩১৯, হাদীস : ১৮৮৭৮
২.  সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ৭২৬; সুনানে নাসায়ী, কুবরা, হাদীস : ১১৮৯;  মুজতাবা, হাদীস : ১২৬৫; মুসনাদে বাযযার-আলবাহরুয যাখখার, হাদীস : ৪৪৮৫;  আলমু’জামুল কাবীর তবারানী ২২/৩৭
৩. আলমুজামুল কাবীর, তবারানী ২২/৩৩
৪. মুসনাদে আহমদ ৪/৩১৮; আলমুজামুল কাবীর ২২/৩৫
৫. মুসনাদে আহমদ ৪/৩১৬
৬. সুনানে কুবরা বায়হাকী ২/১৩১
৭. আলমুজামুল আওসাত তবারানী ২/৪২৩
৮. মুসনাদে আবু দাউদ ত্বয়ালিসী ২/৩৫৮, হাদীস : ১১১৩; আলমুজামুল কাবীর তাবারানী ২২/৩৪
৯. সহীহ ইবনে হিববান ৫/২৭১; মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৩/৩১৭
১০. মুসনাদে বাযযার আলবাহরুয যাখখার, হাদীস : ৪৪৮৯
১১. মারিফাতুস সুনানি ওয়াল আছার বায়হাকী ৩/৫০

এ  থেকে বোঝা যায়, আসিম ইবনে কুলাইব বুকের উপর হাত বাঁধার কথা বর্ণনা  করেননি। তাহলে সুফিয়ান ছাওরীর সঠিক বর্ণনায় তা কীভাবে থাকতে পারে?
তো এই সকল ইমাম ও ছিকা রাবীর বর্ণনার সাথে তুলনা করলে পরিষ্কার বোঝা যায়, এ হাদীসে على صدره অংশটা মুনকার তথা অগ্রহণযোগ্য। 
উল্লেখ্য, কুলাইব ইবনে শিহাব ছাড়া অন্যদের সূত্রেও ওয়াইল ইবনে হুজর রা.-এর এই হাদীস বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু কোনো সহীহ সনদে على صدره ‘বুকের উপর’ কথাটা পাওয়া যায় না। 
দেখুন : বুগয়াতুল আলমায়ী ফী তাখরীজিয যায়লায়ী, নসবুর রায়াহর হাশিয়ায় ১/৩১৬


বিপদে আপদের সময় যেসব দোয়া পড়বেনঃ

বিপদ-মসিবতে পাঠ করার জন্য কতিপয় দোয়া  এবং এর জন্য আমল: ♦১) উম্মে সালমা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ও...