Saturday, August 15, 2015

ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল সম্পর্কে পূর্ববর্তী মুহাদ্দিসদের অভিমত :-



১. ইমাম আলী ইবন আল মাদীনী (মৃঃ ২৩৪ হিজরি) বলেছেনঃ “আল্লাহ তা’আলা রাসুলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর পর দুই জন ব্যাক্তির মাধ্যমেই ইসলামকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, একজন হলেন আবু বকর(রাদিয়াল্লাহু আনহু) অপরজন হলেন আহমাদ ইবন হাম্বল”  [তবকাত আল-হানাবিলাহ, পৃঃ ১/৩১]

২.  ইমাম আব্দুল ওয়াহহাব আল ওয়াররাক বলেনঃ “আমি ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বলের মত আর কাউকে দেখিনি, তাকে জিজ্ঞাসা করা হল আপনি অন্যের চেয়ে ইমাম আহমাদের মাঝে জ্ঞান বা মর্যাদার বেশী পেয়েছেন কি? তিনি বললেনঃ ইমাম আহমাদ এমন একজন ব্যাক্তি যাকে ৬০,০০০ (ষাট হাজার) প্রশ্ন করা হল, তিনি সকল প্রশ্নের জবাবে হাদ্দাছানা ওয়া আখবারানা অর্থাৎ শুধু হাদীস হতে জাবাব দিয়েছেন অন্য কিছু বলেন নি”  [তবকাত আল-হানাবিলাহ, পৃঃ ১/৯]
বিঃ দ্রঃ  ৬০,০০০ (ষাট হাজার) প্রশ্নের জবাব ইমাম আহমাদ শুধু মাত্র হাদীস হতে দিয়েছেন, অন্য কিছু বলেন নি, এ থেকেই ইমাম আহমাদের জ্ঞান সম্পর্কে বুঝা যায়।

৩. ইমাম আবু হাতীম মুহাম্মাদ বিন ইদ্রীস আর-রাযী (মৃঃ ২৭৭ হিজরি) বলেছেনঃ “সহীহ ও যইফ(দুর্বল) হাদীস সম্পর্কে আহমাদ ইবন হাম্বল খুব ভাল বুঝতেন” [Al-Jarh wat ta’deel: 1/302]

৪. ইমাম আবু হাতীম আরো বলেছেনঃ “যদি তুমি কোন মানুষকে দেখ আহমাদ ইবন হাম্বলকে ভালবাসতে তাহলে যেনে রেখ সে একজন সুন্নাহ এর অনুসারী” [Al-Jarh wat ta’deel: 1/308]
ইমাম আবু হাতীম, আহমাদ ইবন হাম্বলকে আলী ইবন আল-মাদীনী থেকেও বড় ফকীহ বলে ঘোষণা দিয়েছেন। [Al-Jarh wat ta’deel: 1/209]

৫. ইমাম আবু রাজা কুতাইবা বিন সা’ইদ (মৃঃ ২৪০ হিজরি) বলেছেনঃ “আহমাদ ইবন হাম্বল হলেন পুড় পৃথিবীর ইমাম” [Al-Jarh wat ta’deel: 1/295]

৬. ইমাম আবু রাজা কুতাইবা আরো বলেছেনেঃ “যদি আহমাদ ইবন হাম্বল সাক্ষ্য দিয়ে থাকেন ছাওরী,মালিক,আওযাই এবং লাইছ ইবন সা’দ এর যুগের তাহলে তিনি(ইমাম আহমাদ) তাদের থেকেও উচ্চতর”
(আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন শাবওয়াইহ বলেন) আমি আবু রাজা কুতাইবাকে জিজ্ঞাসা করলামঃ “আহমাদ ইবন হাম্বলকে কি তাবেয়ীদের সাথে তুলনা করা হত?”
তিনি(ইমাম আবু রাজা কুতাইবা) জবাবে বললেনঃ “(হ্যাঁ, তাকে(ইমাম আহমাদ) তুলনা করা হত) প্রখ্যাত তাবেয়ীদের সাথে”     [Al-Jarh wat ta’deel: 1/293,2/69]
বিঃ দ্রঃ
উপরে উল্লেখিত ছাওরী হলেন সুফিয়ান ছাওরী যিনি প্রখ্যাত ইমাম ও মুজতাহিদ ছিলেন।
উপরে উল্লেখিত মালিক হলেন ইমাম মালিক যিনি প্রখ্যাত ইমাম ও মুজতাহিদ ও মালিকি মাযহাবের প্রতিষ্ঠাতা।
উপরে উল্লেখিত আওযাই হলেন প্রখ্যাত ইমাম ও মুজতাহিদ ইমাম আওযাই।
উপরে উল্লেখিত লাইছ ইবন সা’দ হলেন ইমাম ও মুজতাহিদ এবং লাইছী মাযহাবের প্রবর্তক।

৭. ইমাম আবু রাজা কুতাইবা আরো বলেছেনেঃ “আহমাদ ইবন হাম্বল আর এখানে নেই, দ্বীনের(ধর্মের) চাড়া মরে গেছে” [Hilyat al-Awliyaa: 9/168]

৮. ইমাম আবু রাজা কুতাইবা আরো বলেছেনেঃ “আস-সাওরী এখানে নেই, ন্যায়পরায়নতা মরে গেছে; আহমাদ(ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল) এখানে নেই, মানুষেরা দ্বীনের(ধর্মের) মধ্যে বিদ’আত প্রবেশ করিয়ে ফেলবে”  [Taareekh Baghdaad: 4/417]

৯. ইমাম আবু উবাইদ আল-কাসীম বিন সালাম (মৃঃ ২২৪ হিজরি) বলেছেনঃ “জ্ঞান চার জনের মধ্যে শেষ হয়েছে(আহমাদ,ইবন আল-মাদীনী,ইবন মঈন এবং আবু বকর ইবন আবী শায়বাহ), আহমাদ ইবন হাম্বল তাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় ফকীহ ছিলেন”    [Al-Jarh wat ta’deel: 1/293]

১০. আবু ছাওর ইবরাহীম বিন খালীদ আল-ফকীহ (মৃঃ ২৪০ হিজরি) বলেছেনঃ “আহমাদ ইবন হাম্বল বড় ফকীহ ছিলেন সুফিয়ান ছাওরী থেকে”  [Al-Jarh wat ta’deel: 1/293]


১১. ইমাম আলী ইবন আব্দুল্লাহ আল-মাদীনী (মৃঃ ২৩৪ হিজরি) বলেছেনঃ “আমাদের সঙ্গীদের মধ্যে আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ ইবন হাম্বল(ইমাম আহমাদ) থেকে বড় হাফীয অন্য কেউ নেই”   [Al-Jarh wat ta’deel: 1/295; 2/69]

১২. ইমাম ইবন আল-মাদীনী আরো বলেছেনঃ “আহমাদ ইবন হাম্বল আমাদের নেতা(ইমাম)”  [Hilyat al-Awliyaa: 9/165,171 ; Taareekh Baghdaad: 4/417 ;  Manaaqib Ahmad: page-109]

১৩. আমর বিন মুহাম্মাদ বিন বুকায়র আল-নাকীব (মৃঃ ২৩২ হিজরি) বলেছেনঃ “যদি আহমাদ ইবন হাম্বল হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে আমাকে সঙ্গতি দেয়, তাহলে আমি ভ্রুক্ষেপ করি না যে কে আমার বিরধিতা করছে”   [Al-Jarh wat ta’deel: 1/296]

১৪. মুহাদ্দিস কবীর ইমাম আহমাদ বিন সিনান আল-ওয়াসিতি (মৃঃ ২৫৯ হিজরি) বলেছেনঃ “ইয়াযীদ বিন হারুন(মৃঃ ২০৬ হিজরি) কে আহমাদ ইবন হাম্বল থেকে অন্য কাউকে বেশী প্রশংসা করতে আমি দেখি নি। যখন তিনি আমাদের নিকট কোন হাদীস বর্ণনা করতেন তখন তাকে(ইমাম আহমাদ) তার(ইয়াযীদ বিন হারুন) সাথে বসাতেন; এবং যখন আহমাদ অসুস্থ হলেন, তার(ইমাম আহমাদ) সুস্থ হওয়ার খবর নেওয়ার জন্য  ইয়াযীদ বিন হারুন তার(ইমাম আহমাদ) কাছে গমন করতেন”   [Al-Jarh wat ta’deel: 1/297]

১৫. আসমা উল রিজাল এর একজন প্রখ্যাত ইমাম, ইমাম ইয়াহইয়া ইবন মঈন (মৃঃ ২৩৩ হিজরি) বলেছেনঃ “মানুষেরা বলে যে আহমাদ ইবন হাম্বল এর মত আমার হওয়া উচিত, না আল্লাহর শপথ! আমি আহমাদ ইবন হাম্বল এর মত হতে পারব না”   [Al-Jarh wat ta’deel: 1/298]

১৬. আবু আল আব্বাস মুহাম্মাদ বিন আল হুসাইন বিন আব্দুর রাহমান আল-আনমাতি (মৃঃ ২৯৩ হিজরি) বলেছেনঃ “আমরা একটি জনসমাবেশে ছিলাম যেখানে ইয়াহইয়া ইবন মঈন, আবু খাইথামাহ জুহাইর বিন হারব, প্রধান আলেমদের একটি দল উপস্থিত ছিল।  তারা আহমাদ ইবন হাম্বল এর প্রশংসা করছিলেন এবং তার গুনাবলী ব্যক্ত করছিলেন, তাই একজন বললোঃ ‘এসব কথা বলার ক্ষেত্রে সীমা অতিক্রম করবেন না।’ ইয়াহইয়া ইবন মঈন বললেনঃ ‘আহমাদ ইবন হাম্বল এর বেশী প্রশংসা করা কি
নিন্দামূলক কাজ? এমনকি যদি আমরা তার প্রশংসা করা শুরু করি আমাদের সকল সমাবেশে তার পরও আমরা তার সম্পূর্ণ গুনাবলী বর্ণনা করে শেষ করতে পারব না’”  [Hilyat al-Awliyaa: 9/169, 170 ; Taareekh Baghdaad: 4/421]

১৭. মুহাদ্দিস আবু জা’ফর মুহাম্মাদ বিন হারুন আল-মাখরামি (মৃঃ ২৬৫ হিজরি) বলেছেনঃ  “যদি তুমি কাউকে দেখ যে সে আহমাদ ইবন হাম্বলকে হীন করছে তাহলে যেনে রাখ সেই ব্যক্তি একজন পথভ্রষ্ট বিদ’আতী”  [Al-Jarh wat ta’deel: 1/309]

১৮. ইমাম ইবরাহীম বিন ইসহাক বিন ইবরাহীম বিন বাশীর আল-হারবী (মৃঃ ২৮৫ হিজরি) বলেছেনঃ “সা’ঈদ ইবন আল-মুসাইয়াব তার জমানায় ইমাম ছিলেন, সুফইয়ান ছাওরী তার জমানায় ইমাম ছিলেন, এবং আহমাদ ইবন হাম্বল তার জমানায় ইমাম ছিলেন”  [Hilyat al-Awliyaa: 9/167 ; Taareekh Baghdaad: 4/417]

তিনি আরো বলেছেনঃ “আমি আহমাদ ইবন হাম্বল কে দেখেছি; নারীরা তার(আহমাদ ইবন হাম্বল) মত কাউকে জন্ম দেওয়া থেকে বঞ্চিত”  [Taareekh Baghdaad: 7/73]

১৯. যখন ইমাম মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া আল-নিসাবুরী আল-ধাহলী (মৃঃ ২৫৮ হিজরি) শুনেছিলেন ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল এর মৃত্যুর খবর, তখন তিনি বলেছিলেনঃ “বাগদাদের সকল মানুষ তাদের গৃহে দুঃখিত আহমাদ ইবন হাম্বল এর জন্যে”  [Hilyat al-Awliyaa: 9/170]

২০. ইমাম আবু আল-ওয়ালীদ হিশাম বিন আব্দুল মালিক আত-তিয়ালসি আল-বাহিলী আল-বাসারী (মৃঃ ২২৭ হিজরি) বলেছেনঃ “বাসরাহ এবং কুফাতে আহমাদ ইবন হাম্বল থেকে অন্য কেউ আমার বেশী প্রিয় নয়”  [Hilyat al-Awliyaa: 9/171 Chain Hasan ; Taareekh Dimashq: 5/299 Chain Hasan]

২১. প্রখ্যাত ইমাম এবং ফাকীহ, আবু মুহাম্মাদ ইশহাক বিন ইবরাহীম বিন মাখলাদ আল-হানধালী আল-মারওয়াযী, ইশহাক বিন রাহওয়াহ নামে পরিচিত (মৃঃ ২৩৮ হিজরি) বলেছেনঃ “যদি আহমাদ ইবন হাম্বল এখানে না থাকতেন, এবং তার জীবন বিসর্জন না দিতেন তাহলে (আমি মনেকরি) ইসলাম বিলুপ্ত হয়ে যেত”  [Hilyat al-Awliyaa: 9/171, Chain Hasan]


২২. মুহাদ্দিস আবু আল-হাসান ইদরীস বিন আব্দুল করীম আল-হাদ্দাদ আল-মাকরী আল-বাগদাদী (মৃঃ ২৯২ হিজরি) বলেছেনঃ “আমি আমাদের উলামাদের দেখেছি, যেমন হাইথাম বিন খারিজাহ, মুস’আব আয-যুবাইরি, ইয়াহইয়া ইবন মঈন, আবু বকর বিন আবী শাইবাহ, উসমান বিন আবী শাইবাহ, মুহাম্মাদ বিন আব্দুল মালিক বিন আবী আশ-শাওারীব, আলী ইবন আল-মাদীনী, উবাইদুল্লাহ ইবন উমার আল-কাওারেরী, আবু খায়থামা জুহাইর বিন হারব, আবু মা’মার আল-কাতী’ঈ, মুহাম্মাদ বিন জাফর আল-ওয়ারকানী, আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আয়্যুব শাহীব আল-মাঘাআযি, মুহাম্মাদ বিন বাক্কার আর-রায়্যাআন, আমর বিন মুহাম্মাদ আল-নাকীদ, আবু আর-রাবী আল-যাহিরানী, এবং আর অনেক জ্ঞানী ও ফকীহ। তারা সকলে আহমাদ ইবন হাম্বল এর প্রশংসা করতেন। তারা তাকে(আহমাদ ইবন হাম্বল) জালীল উল-ক্বাদর বলে বিবেচনা করতেন এবং তাকে সম্মান করতেন। তারা তার তারীফ করতেন, তারা প্রায়ই তাকে(আহমাদ ইবন হাম্বল) তাদের সালাম সমর্পণ করতে চাইতেন(যখন তার কাছে দেখা করতে যেতেন)”  [Hilyat al-Awliyaa: 9/171 ; Taareekh Baghdaad: 4/416 ; Taareekh Dimashq: 5/312]

২৩. আসমা উল রিজাল রাস্ত্রের ইমাম, আবু সা’ইদ ইয়াহইয়া ইবন সা’ইদ বিন ফারুখ আল-কাত্তান আল-বাসরী (মৃঃ ১৯৮ হিজরি) বলেছেনঃ “আহমাদ ইবন হাম্বল এবং ইয়াহইয়া ইবন মঈন এর মত অন্য কেউ কখনই আমাদের কাছে আসে নাই”  [Hilyat al-Awliyaa: 9/165, Chain Hasan]
তিনি আরও বলেছেনঃ “বাগদাদ থেকে এমন কেউ কখনই আমার কাছে আসে নাই, যে আহমাদ বিন হাম্বল থেকে আমার কাছে বেশী প্রিয়”  [Taareekh Dimashq: 5/295, Chain Hasan]

২৪.  আল মুহাদ্দিস আল-সুদুক, ইমাম আবু আল-কাসীম আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল আযীয আল-বাঘায়ি (মৃঃ ৩১৭ হিজরি) বলেছেনঃ “আহমাদ ইবন হাম্বল আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি পুড় পৃথিবীর ইমাম”  [Al-Kaamil by ibn Adee: 1/128, Chain Hasan]

২৫. আবু আল হাসান আব্দুল ওয়াহহাব বিন আবুল হাকাম বিন নাফী’ আল-ওয়াররাক আল-বাগদাদী (মৃঃ ২৫১ হিজরি) বলেছেনঃ “তিনি(আহমাদ ইবন হাম্বল) তার যুগের সবচেয়ে জ্ঞানী মানুষ ছিলেন”  [Taareekh Baghdaad: 4/418,419 Chain Hasan ; Narrated ibn al-Jawzee in Manaaqib Al-Imaam Ahmad: p. 142]

২৬. মুহাদ্দীস কবীর, আহমাদ বিন ইবরাহীম বিন কাসীর বিন যায়দ আদ-দাউরাকী আন-নুকরী আল-বাগদাদী (মৃঃ ২৪৬ হিজরি) বলেছেনঃ “যদি তুমি কাউকে আহমাদ ইবন হাম্বল সম্পর্কে দুর্বল(মন্দ) কিছু বলতে শুন তাহলে সেই ব্যক্তির ইসলাম(দ্বীন) আছে কিনা তা সন্দেহ কর”  [Taareekh Baghdaad: 4/420 Chain Hasan Garib ; Manaaqib Al-Imaam Ahmad of ibn al-Jawzee: p.494,495]

২৭. ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবন ইদরীস বিন আব্বাস আশ-শাফিঈ আল-মুতলাবী আল-মাক্কী আল-মিসরি {ইমাম শাফিঈ নামে পরিচিত, তিনি শাফিঈ মাযহাবের ইমাম,মুজতাহীদ} (মৃঃ ২০৪ হিজরি) বলেছেনঃ “আমি বাগদাদ থেকে বের হয়ে আহমাদ ইবন হাম্বল থেকে বড় কোন ফকীহ, বড় কোন কঠোর তপস্বী, বেশী আল্লাহ ভীরু এবং বেশী জ্ঞানী আর কাউকে পাই নি”  [Ma’rifah Uloom ul-Hadeeth By Haakim: p. 72  H. 140, Chain Hasan ; Taareekh Baghdaad: 4/419 ;  Taareekh Dimashq: 5/298 ; Manaaqib Al-Imaam Ahmad of ibn al-Jawzee: p. 107]

২৮.  ইমাম শাফিঈ, ইমাম আহমাদ কে বলেছেনঃ “হে আবু আব্দুল্লাহ! আপনি আমাদের থেকে বেশী সহীহ বর্ণনা(হাদীস এর বর্ণনা) জানেন, তাই যদি কোন সহীহ বর্ণনা থাকে তাহলে আমাকে জানাবেন(বর্ণনাটির সম্পর্কে) যাতে আমি এটি(বর্ণিত হাদীস) অনুসরন করতে পারি”  [Hilyat al-Awliyaa: 9/170]

২৯. আবু নাসর আল-ফাথ বিন শাখরাফ বিন দাওদ বিন মুযাহীম আল-আবিদ (মৃঃ ২৭৩ হিজরি) বলেছেনঃ “এবং ইবন হাম্বল(আহমাদ ইবন হাম্বল) তার সময়ের (সবচেয়ে বড় আলেম ছিলেন)”
এটি শুনে, আবু আব্দুল্লাহ আল-হারিছ বিন আসাদ আল-মুহাসিবী আল-বাগদাদী (মৃঃ ২৪৩ হিজরি) বলেছেনঃ “আহমাদ ইবন হাম্বল অনেক কষ্ট সহ্য করেছেন যা সুফইয়ান আছ-ছাওরী এবং আল-আওযায়ী এর সাথে ঘটেনি”  [Hilyat al-Awliyaa: 9/167 Chain Hasan ; Manaaqib Al-Imaam Ahmad of ibn al-Jawzee: p. 121 Chain Hasan]

৩০. হাফিজ আবু ইয়া’লা আল-খালীল বিন আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন খালীল আল-খালেলী আল-কুযওয়াইনী (মৃঃ ৪৪৬ হিজরি) ইমাম আহমাদ সম্পর্কে বলেছেনঃ “এবং তিনি(আহমাদ ইবন হাম্বল) তার সময়ের সবচেয়ে বড় ফকীহ ও ন্যায়নিষ্ঠ ব্যাক্তি ছিলেন”  [Al-Irshaad fi Ma’rifah Uloom ul-Hadeeth: 2/597 T.302]


৩১. আবু আল-হাসান আলী বিন ইসমাইল বিন ইশহাক বিন সালীম আল-আশ’আরী (আবুল হাসান আশ’আরী নামে পরিচিত) (মৃঃ ৩২৪ হিজরি) বলেছেনঃ “আমাদের অভিমত এবং যেই আকীদা আমরা অনুসরন করি তা হল দৃঢ় ভাবে ধরা আল্লাহর কিতাব এবং রাসুল মুহাম্মাদ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সুন্নাহ, যা সাহাবীদের থেকে বর্ণিত হয়েছে তা, তাবেয়ী এবং হাদীসের আইম্মা থেকে আমরা আশ্রয় গ্রহন করি। এবং আমরা তাও অনুসরন করি যা আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন হাম্বল (ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল) বলেছেন- আল্লাহ তার চেহারাকে উন্নীত করুক এবং তার মর্যাদা বৃদ্ধি করুক এবং তাকে সবচেয়ে ভাল বিনিময় দান করুক। যদি কোন ব্যাক্তি তার (ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল) কথার বিরুদ্ধে যায় তাহলে আমরা সেই ব্যক্তির কাছ থেকে বিরত থাকব, কারন তিনি (ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল) ছিলেন ইমাম আল-ফাযেল, এবং রা’ঈস আল-কামীল। আল্লাহ তার (ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল) মাধ্যমে সত্যকে স্পষ্ট করেছেন এবং পথভ্রষ্টতাকে দূরীভূত করেছেন। তিনি (ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল) মানহাযকে (পথকে) স্পষ্ট করেছেন (মানুশের জন্য) এবং ধ্বংস করেছেনঃ বিদ’আতীদের
বিদ’আতকে, পথভ্রষ্টদের পথভ্রষ্টতাকে, সন্দিহানদের সন্দেহকে। আল্লাহ তার দয়া দেখাক এই মুকাদ্দাম ইমামকে এবং শ্রেষ্ঠ বন্ধুকে এবং সকল মুসলিম আইম্মাদের।”  [Al-Ibaanah An Usool ad-Diyaanah: p.8]

৩২. হাফীজ আমীর আবু নাসর আলী বিন হিবাতুল্লাহ (ইবন মাকুলা নামে পরিচিত) (মৃঃ ৪৭৫ হিজরি) বলেছেনঃ “তিনি (ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল) বর্ণনায় ইমাম ছিলেন এবং জুহদে বিশিষ্ট ছিলেন এবং ন্যায়পরায়ণ ছিলেন; সাহাবী ও তাবেয়ীদের মাযহাব সম্বন্ধে তিনি সবথেকে বেশী জানতেন”  [Al-Ikmaal: 2/563 ; Taareekh Dimashq: 5/287, Chain Saheeh up to Ibn Makoola]

৩৩. হাফীয আবু ফারজ আব্দুর রাহমান বিন আলী বিন মুহাম্মাদ ইবন আল-জাওজী (মৃঃ ৫৯৭ হিজরি) বলেছেনঃ “তিনি(ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল) ছিলেন একজন ইমাম… তিনি(ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল) তার মধ্যে হাদীস,ফিকাহ,জুহদ এবং ন্যায়পরায়ণতা সংরক্ষন করে রেখেছিলেন”  [Al-Muntazim fi Taareekh al-Malook: 11/286]

৩৪. ইমাম আবু বকর আহমাদ ইবন আলী বিন ছাবীত আল-খাতীব আল-বাগদাদী (মৃঃ ৪৬৩ হিজরি) বলেছেনঃ “তিনি (ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল) মুহাদ্দিসদের ইমাম ছিলেন, দ্বীনের(ইসলাম) সাহায্যকারী ছিলেন, সুন্নাতের রক্ষক ছিলেন, দুঃখে ধৈর্যশীল ছিলেন”  [Taareekh Baghdaad: 4/412 T.2317]

৩৫. আসমা উল রিজাল এর প্রখ্যাত ইমাম, হাফিজ মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন উছমান আয-যাহাবী (ইমাম যাহাবী নামে পরিচিত) (মৃঃ ৭৪৮ হিজরি) ইমাম আহমাদ সম্পর্কে বলেছেনঃ “এটি বাস্তবতা যে তিনি (ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল) একজন ইমাম ছিলেন, এবং এটি সত্য যে তিনি ছিলেন শায়খ উল ইসলাম”  [Siyar A’laam al-Nabula: 11/177]

৩৬. হাফীজ আবু আল-ফাজল আহমাদ বিন আলী ইবন হাজার আল-আসকালানী (ইবন হাজার আসকালানী নামে পরিচিত) (মৃঃ ৮৫২ হিজরি) বলেছেনঃ “আহমাদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন হাম্বল… তিনি আইম্মাদের মধ্য থেকে একজন ছিলেন, তিনি ছিলেন ছিকাহ,হাফিজ,ফাকীহ,হুজ্জাহ(দলীল)”  [Taqreeb at-Tahdheeb: 96]


৩৭. মুসা বিন উবায়দুল্লাহ বিন ইয়াহইয়া খাকান (মৃঃ ৩২৫ হিজরি) ইমাম আহমাদের প্রশংসায় বলেছেনঃ “তুমি দেখবে যে (প্রত্যেক) বিদ’আতী আহমাদের (ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল) প্রতি ঘৃণা পোষণ করে, এবং তোমার জানা উচিত যে (প্রত্যেক) ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তি ইবন হাম্বলকে (ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল) ভালোবাসে”  [Manaaqib Al-Imaam Ahmad of ibn al-Jawzee: p. 431]

৩৮. শামস উদ-দ্বীন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ আল-জাজরী (মৃঃ ৮৩৩ হিজরি) বলেছেনঃ “তিনি(ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল) ছিলেন শায়খ উল-ইসলাম এবং সুন্নাহ’র শাইখ, এবং তিনি (ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল) সেই ব্যাক্তি যিনি এই উম্মাহকে(মুসলিম উম্মাহ) দয়া করেছেন”  [Al-Mus’ad Al-Ahmad fi Khatm Musnad Al-Imaam Ahmad, With Tahqeeq of Ahmad Shaakir: 1/35]

৩৯. ইমাম হাজ্জাজ বিন আবী ইয়াকুব ইউসুফ বিন হাজ্জাজ আশ-শা’ইর আছ-ছাকাফী আল-বাগদাদী (মৃঃ ২৫৯ হিজরি) বলেছেনঃ “আমি একবার আহমাদের (ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল) কপালে চুমু দিলাম এবং বললাম, ‘হে আবু আব্দুল্লাহ! তুমি সুফইয়ান(ইমাম সুফইয়ান ছাওরী) এবং মালিকের(ইমাম মালিক) পর্যায়ে পৌঁছে গেছ’”  [Manaaqib Ahmad: p.134]

৪০. ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল এর শিক্ষক, হাফিজ আবু বকর আব্দুর রাজ্জাক বিন হাম্মাম বিন নাফি আল-হুমায়রি আস-সানা’আনী (মৃঃ ২২১ হিজরি) (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক এর লেখক) বলেছেনঃ “আহমাদ বিন হাম্বল এর মত কেউ আমাদের কাছে কখনও আসে নাই”  [Manaaqib al-Imaam Ahmed  by Ibn Al-Jawzee: p.69 Chain Hasan]

৪১.  হাফিয ইবন হিব্বান(মৃঃ ৩৫৪হিজরি) বলেছেনঃ “সে(ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল) ছিলেন হাফিজ,ফকীহ,অসাধারন। আল্লাহ উম্মাতে মুহাম্মাদ কে তার(ইমাম আহমাদ) মাধ্যমে সাহায্য করেছেন। তিনি একটি আশ্রয়স্থল এর মত ছিলেন এবং মানুষেরা তার মধ্যে আশ্রয় খুজতো” [Ath-Thiqaat Of Ibn Hibban: vol.8 p. 18/19]

৪২. মুহাম্মাদ ইবন সা’দ ইবন মুনী আল-হাশমী আল-বাসরী আল-বাগদাদী (মৃঃ ২৩০ হিজরি) বলেছেনঃ “সে(ইমাম আহমাদ) নির্ভরযোগ্য,যথাযথ,সত্যবাদী,কাসীরুল হাদীস(প্রচুর হাদীস বর্ণনাকারী)” [Tabaqaat ibn sa’d: 7/354]


বিভিন্ন গ্রন্থে ইমাম আহমদ (রহ) থেকে বর্নিত হাদিস সংখ্যা :



★ সহীহ বুখারী তে ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল থেকে বর্ণিত হাদীস রয়েছে ৫ টি, সেগুল হলঃ আরবী সহীহ বুখারী এর ৩৭৭,২১০৮,৪৪৭৩,৫১০৫,৫৮৭৯ নং হাদীস।

★ সহীহ মুসলিম এ ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল থেকে বর্ণিত হাদীস রয়েছে ১৯ টি, সেগুল হলঃ আরবী সহীহ মুসলিম এর ৪২০/১৬৬, ৫১৯/২১৫, ১১১৭/৫০২, ১৩১৩/৫৮১, ১৬৪৪/৭১০, ৩০৯৫/১২৮৪, ৩১৩৯/১২৯৮, ৩৯৬২/১৫৫১, ৪৩৭৭/১৬৭৬, ৪৫৭৪/১৭৫৬, ৪৬৯৬/১৮১৪, ৪৯৯৬/১৯৩৪, ৫৪৪৫/২০৮১, ৫৪৭৯/২০৯২, ৫৬০৪/২১৩৯, ৫২১০/২১৪৩, ৬০১৩/২৩০৯, ৬২৫৬/২৪২১, ৬৩০৯/২৪৪৯ নং হাদীস।

★ সুনানে আবু দাউদ এ ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল থেকে বর্ণিত হাদীস রয়েছে ১০ টি, সেগুল হলঃ আরবী সুনানে আবু দাউদ এর ৩৮৫,৫১৭,১৪২৮,১৮৩৭,১৯০৭,১৯৫১,২০১৬,২৩৭০,২৩৭৪,৪০০০ নং হাদীস।

★ সহীহ ইবন খুজাইমাহ এ ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল থেকে বর্ণিত হাদীস রয়েছে ১ টি, তা হলঃ আরবী সহীহ ইবন খুজাইমাহ ১/৫৯ হাদীস ১১২।

★ ইমাম ইবন হিব্বান এর সহীহ(আল-ইহসান) গ্রন্থে ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল থেকে বর্ণিত হাদীস রয়েছে ২৪ টি। [সেগুলর নম্বর আমি উল্লেখ করছি না]

★ ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবন ইসমাইল আল-বুখারী(রাহিমাহুল্লাহ) , আসমা উল রিজাল শাস্ত্রে ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল এর কথাকে দলীল হিসাবে গ্রহন করেছেন। [Kitab ad-Du’afa Of Imaam Bukhari- 80,110,240,260,355 ; Al-Tareekh Al-Kabeer 7/291]





সালাতে হাত কোথায় বাধব? (পর্ব ২)



ওয়ায়িল ইবন হুজর(রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর "হাত বাধা" সম্পর্কিত হাদীসটির বিভিন্ন সুত্র নিম্নরুপ, কিন্তু এগুলোরে ""বুকের উপর হাত রাখার"" বর্ননাটি সম্পুর্ন অনুপস্থিত :



সৌদি আরবের প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস শাইখ মুকবিল ইবন হাদী আল-ওয়াদায়ীর উপস্থাপনায় শাইখ খালীদ ইবন আব্দুল্লাহ আশ-শায়ি’ ‘আল-ইলাম বি তাখয়ীরিল মুসাল্লী বিমকানি ওয়াদয়িল ইয়াদাইনি বা’দা তাকবীরাতিল ইহরাম’(তাকবীর তাহরীমার পরে হস্তদ্বয়ের অবস্থান মুসল্লীর ইচ্ছাধীন হওয়া অবগতকরন) নামে একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন। তাদের গবেষণায় ওয়ায়িল ইবন হুজর(রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীসটির বিভিন্ন সুত্র নিম্নরুপঃ

(১) মুসনাদে আহমাদ (৪/৩১৮) আব্দুস সামাদ, যায়েদা থেকে।
(২) মুসনাদে আহমাদ (৪/৩১৮) ইউনূস ইবন মুহাম্মাদ, আব্দুল ওয়াহিদ থেকে।
(৩) মুসনাদে আহমাদ (৪/৩১৮) আব্দুল্লাহ ইবন ওয়ালীদ, সুফিয়ান থেকে।
(৪) মুসনাদে আহমাদ (৪/৩১৮) আসওয়াদ ইবন আমির, যুহাইর থেকে।
(৫) মুসনাদে আহমাদ (৪/৩১৯) আসওয়াদ ইবন আমির, শু’বা থেকে।
(৬) সুনানে আবু দাউদ (৭২৬ নং) মুসাদ্দাদ, বিশর ইবনুল মুফাদ্দাল থেকে।
(৭) সুনানে আবু দাউদ (৭২৭ নং) হাসান ইবন আলী, আবুল ওয়ালীদ, যায়েদা থেকে।
(৮) সুনানে ইবন মাজাহ (৮১০ নং) আলী ইবন মুহাম্মাদ, আব্দুল্লাহ ইবন ইদরীস ও বিশর ইবনুল মুফাদ্দাল থেকে।
(৯) সুনানে নাসাঈ (৮৮৯ নং) সুওয়াইদ ইবন নাসর, ইবনুল মুবারাক, যায়েদা থেকে।
(১০) সহীহ ইবন খুযাইমা (৪৭৭ নং) আব্দুল্লাহ ইবন সাঈদ, ইবন ইদরীস থেকে।
(১১) সহীহ ইবন খুযাইমা (৪৭৮ নং) হারুন ইবন ইসহাক, ইবন ফুদাইল থেকে।

উপরের ১১টি সনদে হাদীসটি(ওয়ায়িল ইবন হুজরের হাদীস) বর্ণিত হয়েছে আসিম ইবন কুলাইব থেকে, তার পিতা থেকে, ওয়ায়িল ইবন হুজর থেকে। এগুলোতে যায়েদাহ, সুফিয়ান, শু’বা, আব্দুল ওয়াহিদ, ইবন ইদরীস কূফী, বিশর ইবনুল মুফাদ্দাল, যুহাইর ইবন মুআবিয়া, ইবন ফুদাইলঃ এ আট জন নির্ভরযোগ্য রাবী হাদীসটি আসিম ইবন কুলাইব থেকে বর্ণনা করেছেন। তারা ডান হাত বাম হাতের উপর রাখা বা ধরার কথা বলেছেন কিন্তু ★★★ কেউই ‘বুকের উপর’ কথাটি বলেন নি।

(১২) সহীহ মুসলিম (১/৩০১) যুহাইর, আফফান, হাম্মাম, মুহাম্মাদ ইবন জুহাদাহ থেকে
(১৩) মুসনাদে আহমাদ (৪/৩১৬) ওকী, মাসঊদী, আব্দুল জাব্বার ইবন ওয়ায়িল, পরিবারের লোকজন থেকে ওয়ায়িল থেকে
(১৪) মুসনাদে আহমাদ (৪/৩১৭) আফফান, হাম্মাম, মুহাম্মাদ ইবন জুহাদাহ, আব্দুল জাব্বার, আলকামা ও মাওলা থেকে ওয়ায়িল থেকে
(১৫) মুসনাদে আহমাদ (৪/৩১৮) ইয়াহইয়া ইবন আবী বুকাইর, যুহাইর, আবূ ইসহাক, আব্দুল জাব্বার থেকে উপরের সনদে
(১৬) মুসনাদে আহমাদ (৪/৩১৮) হাসান ইবন মূসা, যুহাইর, আবূ ইসহাক, আব্দুল জাব্বার ইবন ওয়ায়িল থেকে …
(১৭) সুনানে দারিমী (১/২৮৩) আবূ নুআইম, যুহাইর, আবূ ইসহাক আব্দুল জাব্বার ইবন ওয়ায়িল থেকে …
(১৮) মুসনাদে আহমাদ (৪/৩১৬) মুহাম্মাদ ইবন জা’ফার, শু’বা, সালামাহ ইবন কুহাইল, হাজর ইবন আবিল আনবাস, আলকামা থেকে …
(১৯) মুসনাদে আহমাদ (৪/৩১৬) ওকী, মূসা ইবন উমাইর, আলকামা থেকে …।

★★★ এদের কারো বর্ণনাতেই ‘বুকের উপর’ কথাটি নেই।

অর্থাৎ, সুফিয়ান সাওরী, আব্দুল ওয়াহীদ ইবন যিয়াদ, শু’বা, যুহাইর, যায়েদা ইবন কুদামা, বিশর ইবনুল মুফাদ্দাল, আব্দুল্লাহ ইবন ইদরীস ও মুহাম্মাদ ইবনুল ফুদাইলঃ আট জন আসিম ইবন কুলাইবের সুত্রে বর্ণনা করেছেন। আর মুহাম্মাদ ইবন জুহাদাহ, আবূ ইসহাক ও মাসঊদীঃ তিন জন আব্দুল জাব্বার ইবন ওয়ায়িল থেকে বর্ণনা করেছেন। আর হাজর ইবন আবিল আনবাস ও মুসা ইবন উমাইর দুজন আলকামা থেকে বর্ণনা করেছেন।

★ মোট ১৩ জন রাবী (তাদের অধিকাংশই প্রসিদ্ধ হাদীসের ইমাম) তারা কেউ ‘বুকের উপর’ কথাটি উল্লেখ করেন নি।
★ শুধু মুআম্মাল ইবন ইসমাঈল এর বর্ণনাতেই ‘বুকের উপর’ কথাটি রয়েছে। মুআম্মাল দুর্বল হওয়ার কারনে তার হাদীস দুর্বল। উপরন্তু সকল নির্ভরযোগ্য রাবীর বিপরীত বর্ণনা হওয়ার কারনে তা ‘মুনকার’ অর্থাৎ, অত্যন্ত দুর্বল বা আপত্তিকর।

★ ইরাকের প্রসিদ্ধ হাদীস গবেষক ড. মাহির ইয়াসীন বলেন যে, মুআম্মাল ইবন ইসমাঈল এ হাদীসটি(আলোচ্য ‘খ’ নং হাদীসটি) ইমাম সুফিয়ান সাওরী থেকে বর্ণনা করেছেন। অথচ সুফিয়ান সাওরী সালাতে হস্তদ্বয় নাভীর নিচে রাখতে বলেছেন। এতে প্রমান হয় যে, ‘বুকের উপর’ কথাটি সুফিয়ান সাওরী বর্ণনা করেন নি; বরং মুআম্মাল ভুলে কথাটি সংযোজন করেছেন। কারন সুফিয়ান বর্ণিত হাদীসে ‘বুকের উপর’ কথাটি থাকলে তিনি তার বিপরীতে মত প্রকাশ করতেন না।[42]


অর্থাৎ, ইবন খুযাইমাতে বর্ণিত উপরোক্ত ‘বুকে’ হাত বাধার হাদীস অত্যন্ত দুর্বল, যা মোটেও দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।



(গ) ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল বলেনঃ

“আমাদেরকে ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ বলেন, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি বলেন, আমাদেরকে সিমাক ইবন হারব বলেন, তিনি কাবীসাহ ইবন হুলব থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি বলেন, আমি নাবীউল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দেখলাম…, তিনি এটিকে(হস্তদ্বয়কে) বুকের উপর রাখলেন। ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ ব্যাখ্যা করে দেখানঃ ডান হাতকে বাম হাতের উপর, কব্জির উপর।”[43]

উপরোক্ত হাদীসের সমস্যা মূলত তিনটি, যথাঃ

(১) হাদীসের সনদে থাকা একজন রাবী ‘কাবীসাহ ইবন হুলব’ অজ্ঞাত পরিচয়।
(২) হাদীসটি ‘শাযয’ [44]।
(৩) হাদীসটি মুদাল্লাস।

হাদীসটির প্রথম সমস্যা হলো ‘কাবীসাহ ইবন হুলব’। সিমাক ছাড়া কেউ তার কাছ থেকে হাদীস বর্ণনা করেন নি, আর ইমাম ইবনুল মাদীনী এবং ইমাম নাসায়ী ‘কাবীসাহ ইবন হুলব’কে ‘মাজহূল’ বা অজ্ঞাত পরিচয়[45] বলেছেন। হাফিয ইবন হাজার তাকবীরে তাকে ‘মাকবূল’ বলেছেন।
হাদীসটির দ্বিতীয় সমস্যা হচ্ছে হাদীসটি ‘শাযয’। মুহাদ্দিসগন একমত যে, ‘শাযয’ হাদীস অত্যন্ত দুর্বল এবং অগ্রহণযোগ্য। উপরোক্ত হাদীসের এক বর্ণনায়[46] ‘বুকের উপর’ কথাটি নেই আর উপরোক্ত বর্ণনায় তা আছে। শাইখ মুকবিল এবং শাইখ খালিদ ‘আল-ই’লাম’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছন যে, হাদীসটির উপরোক্ত বর্ণনাটি ‘শাযয’। কারন এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া আল-কাত্তান সুফিয়ান থেকে, সিমাক থেকে কাবীসাহ থেকে…। এ বর্ণনায় ‘বুকের উপর রাখলেন’ কথাটি রয়েছে। এ হাদীসটি ইয়াহইয়া ছাড়াও নিম্নের কয়েকজন প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস ‘সুফিয়ান সাওরী’ থেকে বর্ণনা করেছেনঃ

(১) ওয়াকী ইবনুল জাররাহ(মৃঃ ১৯৬ হিজরী), তিনি ইলমুল হাদীসের প্রসিদ্ধ ইমাম ও হাফিযুল হাদীস। ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল তার মুসনাদে(৫/২৬৬) হাদীসটি আবূ বকর ইবন আবী শাইবা থেকে, ওয়াকী থেকে সুফিয়ান থেকে … সংকলন করেছেন।

(২) আব্দুর রহমান ইবন মাহদী(মৃঃ ১৯৮ হিজরী), তিনি ইলমুল হাদীসের প্রসিদ্ধতম ইমাম ও হাফিযুল হাদীস। দারাকুতনী তার সুনান গ্রন্থে(১/২৮৫) হাদীসটি আব্দুর রহমান ইবন মাহদী থেকে সুফিয়ান থেকে সংকলন করেছেন।

(৩) আব্দুর রাযযাক ইবন হাম্মাম সানআনী (মৃঃ ২১১ হিজরী), তিনি ইলমুল হাদীসের প্রসিদ্ধ ইমাম ও হাফিযুল হাদীস। তিনি তার মুসান্নাফ গ্রন্থে(১/২৮৫) সুফিয়ান সাওরী থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

(৪) হুসাইন ইবন হাফস ইবনুল ফাদল হামদানী (মৃঃ ২১০ হিজরী), তিনি ইসপাহানের প্রসিদ্ধ কাযী ও মুফতী ছিলেন। ইমাম মুসলিম তার বর্ণনা গ্রহন করেছেন। ইবন হাজার আসকালানী তাকে ‘সত্যপরায়ণ’ বলেছেন। বাইহাকী তার সুনান গ্রন্থে(২/২৯৫) হুসাইন ইবন হাফস ইবনুল ফাদল হামদানী থেকে সুফিয়ান সাওরী থেকে… হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

(৫) মুহাম্মাদ ইবন কাসীর আল-আবদী (মৃঃ ২৩৩ হিজরী), তিনি ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম স্বীকৃত সিকাহ বা নির্ভরযোগ্য রাবী। ইবন কানি ‘‘মু’জামুস সাহাবা’ গ্রন্থে(৫/১৬৩) এবং আবূ নুআইম ইসপাহানী ‘‘মা’রিফাতুস সাহাবা’ গ্রন্থে(৫/১৬৩) মুহাম্মাদ ইবন কাসীর আল-আবদী থেকে সুফিয়ান সাওরী থেকে হাদীসটি সংকলন করেছেন।

★ তারা কেউই ‘বুকের উপর রাখলেন’- এই অতিরিক্ত কথাটুকু বর্ণনা করেন নি। শুধু তাই নয়; ইয়াহয়া এবং উপরের সকল রাবীর উস্তাদ সুফিয়ান সাওরী ছাড়া অন্যান্য যে সকল রাবী এ হাদীসটি সিমাক ইবন হারব থেকে বর্ণনা করেছেন তারাও এই অতিরিক্ত কথাটুকু(‘বুকের উপর রাখলেন’ কথাটি) বলেন নিঃ


(১) শারীক, সিমাক থেকেঃ মুসনাদে আহমাদ ৫/২২৬
(২) শু’বা, সিমাক থেকেঃ মুসনাদে আহমাদ ৫/২২৬, সুনানে আবু দাউদ ১/২৭৩
(৩) আবুল আহওয়াস, সিমাক থেকেঃ মুসনাদে আহমাদ ৫/২২৬
(৪) যায়েদা, সিমাক থেকেঃ মুসনাদে আহমাদ ৫/২২৭
(৫) আবসাত ইবন নাসর, সিমাক থেকেঃ তাবারানী, কাবীর ২২/১৬৪
(৬) হাফস ইবন জামী, সিমাক থেকেঃ তাবারানী, কাবীর ২২/১৬৫
(৭) যাকারিয়া ইবন আবী যায়েদা, সিমাক থেকেঃ তাবারানী, কাবীর ২২/১৬৭
(৮) ইসরাঈল, সিমাক থেকেঃ ইবন কানি, মু’জামুস সাহাবাহ ৩/১৯৮
(৯) কাইস ইবন রাবী, সিমাক থেকেঃ ইবন কানি, মু’জামুস সাহাবাহ ৩/১৯৯

★ এরা সকলেই(উপরের ৯ জন) সিমাক থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন কিন্তু তাদের কেউই ‘বুকের উপর’ কথাটি বর্ণনা করেন নি। এতে প্রমান হয় যে, এ হাদীসে ‘বুকের উপর রাখলেন’ কথাটি সিমাক বলেন নি।
তার নয় জন ছাত্রের কেউই তা(‘বুকের উপর রাখলেন’ কথাটি) বর্ণনা করেন নি।

★ দশম ছাত্র সুফিয়ান সাওরীর কোনো ছাত্রই তা বলেন নি।

★ শুধু ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ তা বলেছেন।

→ ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ আল-কাত্তান (মৃঃ ১৯৮ হিজরী), :

তিনি ইলমুল হাদীসের সুপ্রসিদ্ধ ইমাম। তবে তিনি এ হাদীসটির বর্ণনায়

* ইমাম ওয়াকী,
* ইবন মাহদী,
* ইমাম আব্দুর রাযযাক ও অন্যান্য প্রসিদ্ধ ইমাম ও নির্ভরযোগ্য রাবীদের বিপরীত বর্ণনা করেছেন; ফলে তার বর্ণনাটি ‘শাযয’ বলে গণ্য।

★ সর্বোপরি ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ হাদীসটি সুফিয়ান সাওরীর সুত্রে বললেন; অথচ আমরা দেখেছি যে, সুফিয়ান সাওরীর মত ছিল সালাতে নাভীর নিচে হাত রাখা।



এতে প্রমান হয় যে, ‘বুকের উপর’ কথাটি সুফিয়ান সাওরীর বর্ণনায় ছিল না; ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ ভুল করে তা সংযোজন করেছেন।


শাইখ মুকবিল এবং শাইখ ওয়ালিদের মতে ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল এ কারনের এ হাদীস গ্রহন করেন নি। তিনি(ইমাম আহমাদ) নিজেই হাদীসটি সংকলন করেছেন(তার মুসনাদ গ্রন্থে), তা সত্ত্বেও তিনি নিজেই সালাতে হস্তদ্বয় বুকে রাখা মাকরুহ বলে সুস্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করেছেন।

প্রসিদ্ধ হাম্বলী ফকীহ মুহাম্মাদ ইবন মুফলিহ (মৃঃ ৭৬৩ হিজরী) বলেনঃ

“হস্তদ্বয় বুকের উপর রাখা মাকরুহ। তিনি(ইমাম আহমাদ) সুস্পষ্টভাবে এ কথা বলেছেন, যদিও আহমাদ নিজেই এ হাদীস সংকলন করেছেন।”[47]

ইমাম আবু দাউদ ইমাম আহমাদের বিভিন্ন ফিকহী মত নিজে তার কাছ থেকে শুনে গ্রন্থাকারে লিপিবদ্ধ করেন। উক্ত গ্রন্থে বুকে হাত রাখা সম্পর্কে ইমাম আহমাদের মত প্রসঙ্গে ইমাম আবু দাউদ বলেনঃ

“আমি তাকে(ইমাম আহমাদ) বলতে শুনেছি, হস্তদ্বয় বুকের নিকট রাখা মাকরুহ[48]।”[49]

★ হাদীসটির তৃতীয় সমস্যা হচ্ছে হাদীসটি ‘তাদলীস’। তাদলীস-কারী (মুদাল্লিস) রাবী তার কোনো উস্তাদের হাদীস সরাসরি তার থেকে না শুনে তার কোনো দুর্বল ছাত্রের মাধ্যমে শুনলে ছাত্রের নাম উল্লেখ না করে তার উস্তাদের নাম উল্লেখ করেন। এজন্য মুদাল্লিস রাবী ‘আমি নিজে শুনেছি’ না বললে তার হাদীস দুর্বল বলে গণ্য। কাবীসাহ ‘মুদাল্লিস’ রাবী। তিনি তার পিতা থেকে হাদীসটি শুনেছেন বলে জানান নি, শুধু বলেছেনঃ “পিতা থেকে”। এজন্য হাদীসটি ‘মুদাল্লাস’। শাইখ খালিদ শায়ি বলেন, এ অতিরিক্ত কথাটুকুর(‘বুকের উপর রাখলেন’) কারনের ইমাম তিরমিযী এটিকে গ্রহন করেন নি। তিনি(ইমাম তিরমিযী) কাবীসার যেই বর্ণনাটি ‘হাসান’ বলেছেন সেটিতে এ অতিরিক্ত কথা নেই। কাজেই তিরমিযীর বর্ণনাকে হাসান বলার কারনে এ বর্ণনাকে(‘বুকের উপর রাখলেন’ কথা যুক্ত বর্ণনাকে) হাসান বলার সুযোগ নেই। শাইখ খালিদ শায়ি বলেনঃ
“আল্লামা আলবানী(শাইখ নাসিরুদ্দীন আলবানী)(রাহিমাহুল্লাহ) সিফাতুস সালাত (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নামায) গ্রন্থে বলেছেনঃ ‘তিরমিযী কাবীসা বর্ণিত কোনো কোনো সনদকে হাসান বলেছেন।’ আল্লামা আলবানীর(রাহিমাহুল্লাহ) এ কথাটি সঠিক নয়, বরং এটি তার অসতর্কতা। কারন ‘বুকের উপর’- এ অতিরিক্ত কথাটুকু যে বর্ণনায় নেই তিরমিযী(রাহিমাহুল্লাহ) শুধু সে বর্ণনাকেই হাসান বলেছেন। অতিরিক্ত কথাটুকু-সহ বর্ণনাটি তিরমিযী গ্রহন করেন নি। কাজেই তিরমিযীর মত দ্বারা এ অতিরিক্ত কথাটুকুর হাসান হওয়া সমর্থন করা সঠিক নয়।”[50]

অর্থাৎ, কাবীসাহ বর্ণিত ‘বুকে হাত রাখা’ সম্পর্কিত হাদীসটি অত্যন্ত দুর্বল তাই দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।



(ঘ) ইমাম আবু দাউদ বলেনঃ


“আমাদেরকে আবূ তাওবা বলেছেন, আমাদেরকে হাইসাম ইবন হুমাইদ বলেছেন, আমাদেরকে সাওর বলেছেন, তিনি সুলাইমান ইবন মূসা থেকে, তিনি তাউস থেকে[51], তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাতের মধ্যে থাকা অবস্থায় তার ডান হাতকে তার বাম হাতের উপর রাখতেন, অতঃপর উভয়কে বুকের উপর চেপে ধরতেন।”[52]
উপরোক্ত হাদীসটিতে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, তাবিয়ী তাউস সরাসরি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন কোনো সাহাবীর নাম উল্লেখ না করে, আমরা জানি তাবিয়ীগন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখেননি। তাই এই হাদীসটি ‘মুরসাল’[53]। আর হাদীসতাত্ত্বিকভাবে ‘মুরসাল’ হাদীস দুর্বল বলে গণ্য। হাদীসটির সনদের পর্যালোচনাঃ

(ক) হাদীসের প্রথম রাবীঃ আবূ তাওবা রাবী ইবন নাফি(মৃঃ ২৪১ হিজরী), তিনি ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম স্বীকৃত নির্ভরযোগ্য রাবী।
(খ) হাদীসের দ্বিতীয় রাবীঃ হাইসাম ইবন হুমাইদ, তাকে কিছু মুহাদ্দিস দুর্বল বলেছেন তার ‘কাদারিয়া’ মতের কারনে।
(গ) হাদীসের তৃতীয় রাবীঃ সাওর ইবন ইয়াযিদ, তিনি ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম স্বীকৃত নির্ভরযোগ্য রাবী।
(ঘ) হাদীসের চতুর্থ রাবীঃ সুলাইমান ইবন মূসা সত্যপরায়ণ রাবী। তবে মৃত্যুর অল্প আগে তার স্মৃতি বিলোপ ঘটে। ইমাম মুসলিম তার বর্ণনা গ্রহন করেছেন।
(ঙ) হাদীসের পঞ্চম রাবীঃ তাউস ইবন কাইসান(মৃঃ ১০৬ হিজরী) ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম স্বীকৃত সুপ্রসিদ্ধ নির্ভরযোগ্য তাবিয়ী।

এভাবে আমরা দেখেছি যে, হাইসাম ইবন হুমাইদ ছাড়া এ সনদের রাবীগন ইমাম মুসলিম শর্তানুসারে নির্ভরযোগ্য। হাইসাম ইবন হুমাইদ-কে কেউ কেউ কিছুটা দুর্বল বলে গণ্য করেছেন।
এছাড়াও হাদীসটি মুরসাল। তাউস তাবিয়ী। তিনি কার কাছ থেকে হাদীসটি শুনেছেন তা বলেন নি। মুরসাল হাদীস গ্রহনের বিষয়ে ফকীহগন মতভেদ করেছেন। হাদীসতাত্ত্বিকভাবে মুরসাল হাদীস দুর্বল বলে গণ্য।
শাইখ নাসিরুদ্দীন আলবানী(রাহিমাহুল্লাহ) এ হাদীস সম্পর্কে বলেনঃ

“এ হাদীসটি মুরসাল হলেও তা সকলের নিকটই প্রমান হিসেবে স্বীকৃত। অধিকাংশ আলীম মুরসাল হাদীসকে প্রমান হিসেবে গ্রহন করেছেন। তাদের মতে তো এটি গ্রহণযোগ্য। আর যারা মুরসাল হাদীস অন্য বর্ণনা দ্বারা প্রমানিত না হলে গ্রহন করেন নি তাদের নিকটও এ মুরসাল হাদীসটি গ্রহণযোগ্য; কারন এ হাদীসটির দুটি প্রমান করেছেঃ

প্রথম প্রমান ওয়ায়িল ইবন হুজর(রাদিয়াল্লাহু আনহু) এর হাদীস(‘খ’ নং হাদীস যা ইবন খুজাইমাও সংকলন করেছেন)…, বাইহাকী দুটি সনদে হাদীসটি সংকলন করেছেন। এর দুটি বর্ণনার একটি অন্যটির শক্তি বৃদ্ধি করে।
দ্বিতীয় প্রমাণ কাবীসাহ ইবন হুলব থেকে বর্ণিত(আলোচ্য ‘গ’ নং হাদীস)। এ তিনটি হাদীস প্রমাণ করে যে ‘বুকের উপর’ হস্তদ্বয় রাখাই সুন্নাত। এ তিনটি হাদীস যিনি একত্রে বিচার করবেন তিনি সন্দেহমুক্ত হবেন যে, এগুলো প্রমাণ হিসেবে পেশ করার যোগ্য। পক্ষান্তরে নাভীর নিচে হাত রাখার হাদীস সর্বসম্মতভাবে দুর্বল। নববী, যাইলাই ও অন্যান্য আলীম তা উল্লেখ করেছেন।”[54]


শাইখ মুকবিল ও শাইখ খালিদ শায়ি দ্বিবিদভাবে ভিন্নমত পোষণ করেছেনঃ

প্রথমতঃ এ হাদীসটি(‘ঘ’ নং তাউস এর মুরসাল হাদীসটি) মুরসাল হওয়া ছাড়াও এর অন্য দুর্বলতা যে, এর বর্ণনাকারী সুলাইমান ইবন মূসা এবং বিশেষত হাইসাম ইবন হুমাইদের বিষয়ে মুহাদ্দিসগনের আপত্তি রয়েছে। ইলমে হাদীসের ইমামগনদের বক্তব্য পর্যালোচনা করলে বুঝা যায় যে, কোনো রাবীর বর্ণনা কিছু দুর্বলতা থাকলেই শুধু তারা তাকে ‘সিকাহ’ বা নির্ভরযোগ্য না বলে ‘সাদুক’ বা সত্যপরায়ন বলেছেন। এ সকল রাবীর বর্ণনা অন্যান্য রাবীদের বর্ণনার সাথে যাচাই করে গ্রহন করতে হয়। অন্য সকল রাবীর বিপরীতে শুধু তাদের বর্ণিত হাদীসকে প্রমাণ হিসেবে গ্রহন করা যায় না। যারা মুরসাল হাদীসকে এককভাবে প্রমাণ হিসেবে গ্রহন করেছেন এবং যারা অন্যান্য প্রমাণ সাপেক্ষ গ্রহন করেছেন সকলেই একমত যে, মুরসাল হাদীস তখনই প্রমাণ বা গ্রহণযোগ্য বলে গণ্য হয় যখন তার সনদ ‘তাবিয়ী’ পর্যন্ত ‘সহীহ’ হয়। এ হাদীসটিকে(আলোচ্য ‘ঘ’ নং তাউসের হাদীস) এ পর্যায়ের ‘সহীহ মুরসাল’ বলে গণ্য করা যায় না।

দ্বিতীয়তঃ অন্য যে দুটো হাদীসকে শাইখ আলবানী এ হাদীসের প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন সে হাদীসদুটোও ‘শাযয’ ও ‘মুদাল্লাস’ হওয়ার কারনে অত্যন্ত দুর্বল বলে গণ্য। এজন্য এদুটো হাদীস প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। এজন্য এ তিনটি হাদীস একত্রে গ্রহণযোগ্য বলে প্রমানিত হয় না।[55]

কেউ কেউ কিছু হাদীসের এ অংশ দ্বারাও ‘বুকে হাত রাখা’ প্রমাণ করতে চানঃ “তিনি(রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার ডান হাত তার বাম হাতের তালুর পিঠ, কব্জি ও বাহুর উপর রাখলেন।” শাইখ আলবানী হাদীসের এ অংশকে ‘বুকে হাত রাখার’ পক্ষে প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

শাইখ নাসিরুদ্দীন আলবানী বলেছেনঃ

“এ কথা জানতে হবে যেমন হাদীসে বলা হয়েছেঃ তিনি তার ডান হাত তার বাম হাতের তালুর পিঠ, কব্জি ও বাহুর উপর রাখলেন। এতে প্রমানিত হয় যে, তিনি হস্তদ্বয়কে তার বুকের উপর রেখেছিলেন।”[56]

প্রকৃতপক্ষে হাদীসের এ অংশটি শাইখ আলবানীর এ দাবীর পক্ষে নিশ্চিত প্রমান নয়। হাদীসের ঠিক এই একই অংশ দিয়ে ইমাম ইবনুল মুনযির নাভীর উপরে বা নিচে হাত রাখার কথা বলেছেন।
পূর্ববর্তী মুহাদ্দিসগন ‘ডান হাত’ বলতে হাতের ‘করতল’ বুঝেছেন। আর ডান হাতের করতলকে বাম হাতের পাতা ও কব্জিসহ বাহুর কিয়দাংশের উপর রাখলে হস্তদ্বয় বুকের উপর থেকে শুরু করে নাভীর নিচে পর্যন্ত রাখা সম্ভব।[57]






রেফারেন্স সমুহ :





[42] . ড. মাহির ইয়াসীন, আসার ইলালিল হাদীস ফী ইখতিলাফিল ফুকাহা, ৬/৬৮। আরো দেখুনঃ ইমাম নববী, আল-মাজমূ, ৩/৩১৩ ; ইমাম ইবন কুদামা, আল-মুগনী, ১/৫৪৯
[43] . মুসনাদে ইমাম আহমাদ
[44] . শাযয এর সংজ্ঞাঃ কোনো হাদীস যদি অধিকাংশ নির্ভরযোগ্য রাবী এককভাবে বর্ণনা করেন, কিন্তু তাদের বিপরীতে একজন নির্ভরযোগ্য রাবী অন্যরূপ বর্ণনা করেন তবে হাদীসটিকে ‘শাযয’ বলা হয়।
[45] . অজ্ঞাত পরিচয় এর অর্থ হলো উক্ত রাবী বা বর্ণনাকারী সম্পর্কে জানা যায় না, তাই উক্ত রাবীর হাদীস গ্রহণযোগ্য কিনা তাও জানা যায় না।
[46] . বর্ণনাটি হচ্ছেঃ
ইমাম তিরমিযী বলেনঃ “আমাদেরকে কুতাইবা বলেছেন, আমাদেরকে আবুল আহওয়াস বলেছেন, তিনি সিমাক ইবন হারব থেকে, তিনি কাবীসাহ ইবন হুলব থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের ইমামতি করতেন, তখন তিনি তার বাম হাতকে ডান হাত দিয়ে ধরতেন।” [সুনানে তিরমিযী, ২/৩২]
ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল হাদীসটি সংকলন করেছেন ইবন আবী শাইবা থেকে, ওকী থেকে, সুফিয়ান সাওরী থেকে সিমাক থেকে। তার বর্ণনায়ঃ “তখন তিনি তার ডান হাতকে বাম হাতের উপর রাখতেন।” [মুসনাদে আহমাদ, ৫/২২৬]
ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। আর শাইখ আলবানী হাদীসটিকে ‘হাসান সহীহ’ বলেছেন। পক্ষান্তরে শাইখ শুআইব আরনাঊত বলেনঃ “কাবীসাহ অজ্ঞাতপরিচয় রাবী হওয়ার কারনে এ সনদটি দুর্বল।” [আলবানী, সহীহ ওয়া যায়ীফ সুনানিত তিরমিযী, ১/২৫৬ ; মুসনাদে ইমাম আহমাদ(শুআইব আরনাঊতের টীকা সহ), ৫/২২৬]
[47] . ইবন মুফলিহ, আল-ফুরু, ২/১০৯
[48] . ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল(রাহিমাহুল্লাহ) নিজে সালাতে ‘বুকে হাত রাখা’ বিষয়ে হাদীস সংকলন করেছেন তার ‘মুসনাদ’ গ্রন্থে, কিন্তু তিনি নিজেই তা গ্রহন করেন নি, এ থেকে বিষয়টি সুস্পষ্ট হয় যে, উক্ত হাদীসটি দুর্বল বলে ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল তা গ্রহন করেন নি। আর ইমাম আহমাদ সালাতে ‘বুকে হাত রাখা’কে মাকরুহ বলতেন, যা পরবর্তীতে ইমাম ইবন তাইমিয়্যাহও বলেছেন। যদি আলোচ্য হাদীসটি অত্যন্ত দুর্বল না হতো তাহলে ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল হাদীসটি পাওয়া সত্ত্বেও ‘বুকে হাত রাখা’কে মাকরুহ বলতেন না। ইলমে হাদীস সম্পর্কে যার প্রাথমিক জ্ঞান রয়েছে তিনিও জানেন যে, ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল হাদীস শাস্ত্রে একজন নক্ষত্রতুল্য ইমাম ও হাফীযুল হাদীস ছিলেন। তিনি সেই ব্যক্তি ছিলেন যাকে ৪০ হাজার প্রশ্ন করা হয়েছিল আর প্রশ্নের জবাবে ইমাম আহমাদ শুধুই হাদীস বলেছিলেন। আর ইসলামী ইতিহাস সম্পর্কে যার প্রাথমিক জ্ঞান রয়েছে তিনিও জানেন যে, ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল কোরআন এবং সুন্নাহর দৃঢ় অনুসারী ছিলেন, এর জন্য তাকে সহ্য করতে হয়েছিল কঠোর শাস্তি। তিনি ছিলেন বিদ’আতীদের আতঙ্ক। তাই ‘বুকে হাত রাখা’ সম্পর্কিত হাদীস পাওয়া সত্ত্বেও তার বিপক্ষে মত প্রকাশ করার অর্থ এই যে, ‘বুকে হাত রাখা’ সম্পর্কিত হাদীসগুলো অত্যন্ত দুর্বল।
[49] . ইমাম আবু দাউদ, মাসায়েলে আহমাদ, পৃঃ ৩১
[50] . মুকবিল ওয়াদায়ী ও খালিদ শায়ি, আল-ই’লাম, পৃঃ ১৭
[51] . তাউস, ইনি হচ্ছেন তাবিয়ী তাউস ইবন কাইসান(মৃঃ ১০৬ হিজরী), তাউস সরাসরি বলেছেনঃ ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাতের মধ্যে…’। এরুপ হাদীসকে মুরসাল বলা হয়। এরুপ হাদীস দুর্বল বলে গণ্য।
[52] . সুনানে আবু দাউদ, খণ্ড-১, হাদীসঃ ৭৫৯ [ইসলামী ফাউনডেশন বাংলাদেশ]
[53] . মুরসাল হাদীসের সংজ্ঞাঃ কোনো হাদীসে যদি তাবিয়ী তার পরবর্তী বর্ণনাকারীর নাম উল্লেখ না করে সরাসরি ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ থেকে বর্ণনা করেন তাহলে সেই হাদীসকে মুরসাল হাদীস বলা হয়। এরুপ হাদীস দুর্বল বলে গণ্য। কেননা তাবিয়ী কার কাছ থেকে হাদীসটি শুনেছেন তা তিনি বলেন নি।
[54] . আলবানী, আহকামুস জানাইয, পৃঃ ১১৮-১১৯
[55] . ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর, সালাতের মধ্যে হাত বাধার বিধান, পৃঃ ৪৭
[56] . বিস্তারিত আলোচনাঃ ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর, সালাতের মধ্যে হাত বাধার বিধান, পৃঃ ২০-২২, ৪৭
[57] . মুকবিল ওয়াদায়ী ও খালিদ শায়ি, আল-ই’লাম, পৃঃ ১৭







Friday, August 14, 2015

সালাতে কোথায় হাত বাধতে হবে? (পর্ব ১)

উত্তরঃ এ ব্যাপারে চার ধরনের বর্ননা পাওয়া যায় :

★ সালাতে হাত রাখবে বুকে[1],
★ বুকের নীচে নাভীর উপরে[2] (সর্বোত্তম)
★ নাভীর নিচে[3]। (সর্বোত্তম)
★ গলা বা কন্ঠনালীর নিচে হাত বাধা [26]

সুত্র :

[1] . সুনানে আবু দাউদ, তাউস কর্তৃক বর্ণিত মুরসাল(যঈফ) হাদীস; ইবনু খুজাইমাতে বর্ণিত যঈফ হাদীস।(বিস্তারিত আলোচনা সামনে আসছে)
[2] . সুনানে আবু দাউদ, আলী(রাদিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত যঈফ হাদীস।
[3] . সুনানে আবু দাউদ, আলী(রাদিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত যঈফ হাদীস।
[26], বায়হাকী : সুনানে কুবরা



হানাফী মাযহাবের মত[4],
শাফিয়ী মাযহাবের একটি মত[5],
ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বলের প্রসিদ্ধ মত[6],
হাম্বলী মাযহাবের প্রসিদ্ধ মত[7] অনুসারে সালাতে হাত নাভীর নিচে রাখা উত্তম,
ইমাম ইসহাক ইবন রাহাওয়াইহি, সুফিয়ান সাওরী প্রমুখ মুহাদ্দিস ফকীহও এ মতটি গ্রহন করেছেন।[8]
ইমাম মালিক ইবন আনাস এবং আহমাদ ইবন হাম্বলের একটি মত[9], এবং
শাফিয়ী মাযহাবের মূল মত[10] অনুসারে সালাতে হাত নাভীর উপরে বুকের নিচে রাখা উত্তম। কিছু হানাফী ফকীহ বলেছেন যে শাফিয়ীদের মতে বুকে হাত বাধবে কিন্তু এরুপ কোনো কথা শাফিয়ী ফকীহগন বর্ণনা করেছেন বলে জানা যায় না।

সুত্র :

[4] . মারগীনানী, আল-হেদায়া, ১/৪৭
[5] . ইমাম নববী, আল-মাজমূ ৩/৩১০-৩১৩ ; মুবারকপুরী, তুহফাতুল আহওয়াযী ৩/৮৩
[6] . ইবনুল কায়্যিম, বাদাইউল ফাওয়াইদ, ৩/৯১ ; ইবন কুদামা, আল-মুগনী ১/৫১৪-৫১৫
[7] . আলী ইবন সুলাইমান মারদাবী, আল-ইনসাফ, ২/৩৫
[8] . শাওকানী, নাইলুল আওতার, ২/২০৩
[9] . ইবনুল কায়্যিম, বাদাইউল ফাওয়াইদ, ৩/৯১ ; ইবন কুদামা, আল-মুগনী ১/৫১৪-৫১৫ ; শাওকানী, নাইলুল আওতার, ২/১৮৯ ; বাকর আবু যাইদ, লা জাদীদা ফী আহকামিস সালাত, পৃঃ ১২
[10] . ইমাম নববী, আল-মাজমূ ৩/৩১০-৩১১




এ ব্যাপারে বিখ্যাত মুহাদ্দিসগ এর বক্তব্য :




প্রখ্যাত শাফিয়ী ফকীহ ও মুহাদ্দিস ইমাম নববী(রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ

“হস্তদ্বয় বুকের নিচে এবং নাভীর উপরে রাখবে। এটিই হচ্ছে মাযহাবের লিপিবদ্ধ নিশ্চিতকৃত সঠিক মত। এ বিষয়ে আবূ ইসহাক মারওয়াযীর আরেকটি প্রসিদ্ধ মত আছে, তা হলো, হস্তদ্বয় নাভীর নিচে রাখতে হবে। প্রথম মতটিই (আমাদের)মাযহাব।”[11]

প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস ও হাম্বলী ফকীহ আল্লামা ইবনুল জাওযী (রহ) (মৃঃ ৫০৮ হিজরী) বলেনঃ

“ডান হাত বাম হাতের উপর বুকের নিচে রাখবে। এটি (ইমাম)শাফিয়ীর মত। আহমাদ(ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল) থেকে বর্ণিত মত যে, হস্তদ্বয় নাভীর নিচে রাখবে। তার অন্য মত বিষয়টি মুসাল্লীর ইচ্ছাধীন। আমাদের(হাম্বলী মাযহাবের) মতটিই(নাভীর নিচে রাখা) সালাতের বিনয় ও বিনম্রতার জন্য বেশী উপযোগী।”[12]

ইমাম নববী(রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ

“তাকবীরে তাহরীমার পর ডান হাত বাম হাতের উপর রাখা মুসতাহাব। এভাবে হস্তদ্বয় বুকের নিচে নাভীর উপরে রাখবে। এটিই আমাদের(শাফিয়ী মাযহাবের) প্রসিদ্ধ মত। অধিকাংশ ফকীহ এ মত গ্রহন করেছেন। আবু হানীফা, সুফিয়ান সাওরী, ইসহাক ইবন রাহাওয়াইহি এবং আমাদের মাযহাবের আবূ ইসহাক মারওয়াযী বলেন যে, হস্তদ্বয় নাভীর নিচে রাখবে। আলী(রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে এ দু মাযহাবের পক্ষে দুটি বর্ণনা রয়েছে। ইমাম আহমাদ(ইবন হাম্বল) থেকে দুটি মত বর্ণিত উপরের দুটি মাযহাবের মত। ইমাম আহমাদের তৃতীয় মত যে, এ বিষয়ে উত্তম বলে কিছু নেই; কাজেই বিষয়টি মুসাল্লীর ইচ্ছাধীন। ইমাম আওযায়ী এবং ইবনুল মুনযির এ মত গ্রহন করেছেন। ইমাম মালিক থেকে দুটি মত বর্ণিতঃ এক মতে হস্তদ্বয় বুকের নিচে রাখবে, অন্য মতে হস্তদ্বয় একটির উপর অন্যটি রাখবে না, বরং ঝুলিয়ে রাখবে। মালিকী মাযহাবের অধিকাংশ আলিম দ্বিতীয় মতটি বর্ণনা করেছেন এবং এটিই তাদের নিকট অধিক প্রসিদ্ধ।”[13]

এখানে আমরা দেখছি যে, ইমাম নববী(রাহিমাহুল্লাহ) ফকীহগনের ৪টি মত উল্লেখ করেছেনঃ

(১) নাভীর উপরে বুকের নিচে রাখা,
(২) নাভীর নিচে রাখা,
(৩) বিষয়টি মুসল্লীর ইচ্ছাধীন,
(৪) হস্তদ্বয় ঝুলিয়ে রাখা।

(কিন্তু) বুকের উপরে রাখা বা গলার নিচে রাখার মত দুটি তিনি উল্লেখ করেন নি।…পূর্ববর্তী কোনো ফকীহ এ মত দুটি গ্রহন করেছেন বলে জানা যায় না।[14]
তবে সমসাময়িক কিছু আলীম বুকের উপর হাত বাধার মত প্রকাশ করেছেন।[15]
অপরদিকে ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল[16] এবং
প্রসিদ্ধ হাম্বলী ফকীহ, মুজতাহিদ ও মুহাদ্দিস শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবন তাইমিয়্যাহ[17] বুকে হাত বাধাকে ‘মাকরুহ’ বা অপছন্দনীয় বলে মন্তব্য করেছেন।

শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবন তাইমিয়্যাহ(রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেনঃ

“এবং সে (সালাতে)হাত বাধবে নাভীর নিচে অথবা বুকের নিচে(নাভীর উপরে), এর কোনোটিই অপছন্দনীয় নয়(দুটিই বৈধ)।”[18]


প্রসিদ্ধ হাম্বলী ফকীহ ইমাম মুওয়াফফাক উদ্দীন ইবন কুদামাহ(মৃঃ ৬২০ হিজরী) বলেনঃ

“হস্তদ্বয় রাখার স্থান সম্পর্কে ইমাম আহমাদ থেকে একাধিক মত বর্ণিত হয়েছে। এক বর্ণনায় তিনি বলেছেনঃ নাভীর নিচে রাখবে। অন্য বর্ণনায় তিনি বলেছেনঃ নাভীর উপরে রাখবে। তৃতীয় বর্ণনায় তিনি বলেনঃ মুসল্লী এ বিষয়ে স্বাধীন, সে যেখানে ইচ্ছা রাখতে পারে; কারন সবই হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। বিষয়টি প্রশস্ত।”[19]

সুনানে তিরমিযী গ্রন্থের লিখক, প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস ইমাম মুহাম্মাদ ইবন ঈসা আত-তিরমিযী(রাহিমাহুল্লাহ) সালাতে হস্তদ্বয় রাখার একটি হাদীস উল্লেখ করে বলেনঃ

“সাহাবীগন, তাবিয়ীগন ও পরবর্তী যুগের আলীমগন এ হাদীসের উপর আমল করেন। তারা মত প্রকাশ করেন যে, সালাতের মধ্যে মুসল্লী তার ডান হাত বাম হাতের উপর রাখবে। তাদের কারো মতে হস্তদ্বয় নাভীর উপরে রাখবে। আর কারো মতে হস্তদ্বয় নাভীর নিচে রাখবে। বিষয়টি তাদের মতে প্রশস্ত।”[20]

ইমাম তিরমিযীর ভাষ্য অনুসারে হাত রাখাই(বাধাই) সুন্নাত, রাখার স্থানটির বিষয় প্রশস্ত, নাভীর উপরে বা নিচে রাখা যেতে পারে। লক্ষনীয় যে, তিনি এখানে গলার নিচে বা বুকের উপরে হাত রাখার মত উল্লেখ করেন নি।


ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল(রাহিমাহুল্লাহ) এবং ইমাম ইসহাক ইবন রাহাওয়াইহি(রাহিমাহুল্লাহ) এই দুই প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিসগনের প্রসিদ্ধ ছাত্র, মুহাদ্দিস ও ফকীহ ইমাম ইসহাক ইবন মানসূর আল-কাওসাজ আল-মারওয়াযী(মৃঃ ২৫১ হিজরী) তাদের দুজন থেকে ফিকহী মাসআলা জিজ্ঞাসা করে তা সংকলন করেন। তার বইটির নাম ‘মাসাইলুল ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল ওয়া ইমাম ইসহাক ইবন রাহাওয়াইহি’। এ গ্রন্থে তিনি(ইমাম মারওয়াযী) বলেনঃ

“আমি (ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বলকে) বললামঃ যদি বাম হাতের উপর ডান হাত রাখে তাহলে হস্তদ্বয় কোথায় রাখবে? তিনি বললেনঃ নাভীর উপরে ও নিচে, কোনোটিতেই অসুবিধা নেই, সবই আমার মতে প্রশস্ত। ইসহাক(ইমাম ইসহাক ইবন রাহাওয়াইহি) বলেনঃ তিনি(ইমাম আহমাদ) যেমন বলেছেন। নাভীর নিচে রাখা হাদীসের আলোকে শক্তিশালী এবং বিনয়ের জন্য বেশী উপযোগী।”[21]

ইমাম ইবনুল মুনযির(মৃঃ ৩১৯ হিজরী)(রাহিমাহুল্লাহ) সালাতে হাত রাখার স্থান সম্পর্কে ইমাম ইসহাক ইবন রাহাওয়াইহি এর মত উল্লেখ করে বলেনঃ

“ইসহাক বলেছেনঃ নাভীর নিচে রাখা হাদীসের দৃষ্টিতে অধিক শক্তিশালী ও বিনম্রতার জন্য অধিক উপযোগী।”[22]

কেউ কেউ দাবী করেন যে, ইমাম ইসহাক ইবন রাহাওয়াইহি(রাহিমাহুল্লাহ) সালাতে ‘বুকে’ হাত রাখতেন, শাইখ নাসীরুদ্দিন আলবানী(রাহিমাহুল্লাহ)ও এই দাবী করেছেন এবং ‘বুকে’ হাত রাখার জন্য শাইখ আলবানী ইমাম ইসহাকের প্রশংসাও করেছেন। শাইখ আলবানী(রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেনঃ

“এ সুন্নাতটির(সালাতে বুকে হস্তদ্বয় রাখা) বিষয়ে মানুষদের মধ্যে সবচেয়ে সৌভাগ্যবান ইমাম ইসহাক ইবন রাহাওয়াইহি। মারওয়াযী তার মাসাইল গ্রন্থের ২২২ পৃষ্ঠায় লিখেছেনঃ ‘ইসহাক আমাদের নিয়ে বিতর পড়তেন। … তিনি কুনূতের মধ্যে হস্তদ্বয় উত্তোলন করতেন, রুকুর পূর্বে কুনূত পড়তেন এবং তার হস্তদ্বয় তার স্তনদ্বয়ের উপর অথবা স্তনদ্বয়ের নিচে রাখতেন।’”[23]


ইমাম মারওয়াযী(রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেনঃ

‘ইসহাক আমাদের নিয়ে বিতর পড়তেন। … তিনি কুনূতের মধ্যে হস্তদ্বয় উত্তোলন করতেন, রুকুর পূর্বে কুনূত পড়তেন এবং তার হস্তদ্বয় তার স্তনদ্বয়ের উপর অথবা স্তনদ্বয়ের নিচে রাখতেন।’
এটি দ্বারা শাইখ আলবানী বলেছেন যে, ইমাম ইসহাক সালাতে হস্তদ্বয় বুকে রাখতেন। কিন্তু মারওয়াযীর গ্রন্থের টীকাকার[24] বলেনঃ

“এখানে কাওসাজ(ইমাম মারওয়াযী)এর কথার অর্থ হলো, ইসহাক ইবন রাহাওয়াইহি কুনুতের সময় হস্তদ্বয় উত্তোলন করে তার স্তনদ্বয়ের বরাবর বা স্তনদ্বয়ের নিচে দুআর জন্য তুলে রাখতেন। এর অর্থ এ নয় যে, তিনি হস্তদ্বয় স্তনদ্বয়ের উপরে বা নিচে রাখতেন।
এর প্রমাণ হলো, ইবন কুদামা মুগনী গ্রন্থের ২/৫৮৪-এ ইমাম আহমাদের মত উল্লেখ করেছেন যে, কুনুতের সময় দু হাত দুআর জন্য বুক পর্যন্ত উঠাবে। এরপর বলেনঃ ইসহাকও এ মত পোষণ করেছেন। দ্বিতীয় বিষয় হলো, ইসহাক(রাহিমাহুল্লাহ) ফরয বা বিতর কোনো সালাতেই বুকের উপর হাত রাখার মত পোষণ করতেন না; বরং তিনি নাভীর নিচে হাত রাখার মত পোষণ করতেন, যা কাওসাজ(ইমাম মারওয়াযী) নিজেই উদ্ধৃত করেছেন।
… কাজেই শাইখ আলবানী(রাহিমাহুল্লাহ)-এর বক্তব্যে আপত্তির অবকাশ আছে। কাওসাজের(ইমাম মারওয়াযীর) পূর্বাপর বক্তব্য শাইখ আলবানীর বক্তব্য সমর্থন করে না।”[25]




‘গলার নিচে’ হাত বাধা সম্পর্কিত হাদীসের পর্যালোচনাঃ



(ক) ইমাম বাইহাকী বলেনঃ “আমাদেরকে আবূ যাকারিয়া ইবন আবী ইসহাক বলেন, আমাদেরকে হাসান ইবন ইয়াকূব বলেন, আমাদেরকে ইয়াহইয়া ইবন আবী তালিব বলেন, আমাদেরকে যাইদ ইবনুল হুবাব বলেন, আমাদেরকে রাওহ ইবনুল মুসাইব বলেন, আমাকে আমর ইবন মালিক নুকরী বলেন, তিনি আবুল জাওযা থেকে, তিনি ইবন আব্বাস(রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি সূরা কাওসারে (তোমার রব্বের জন্য সালাত আদায় কর এবং নাহর কর)- আল্লাহর এ কথার ব্যাখ্যায় বলেনঃ ‘নাহর’ করার অর্থ ডান হাতকে বাম হাতের উপর সালাতের মধ্যে ‘নাহর’ বা কণ্ঠনালীর কাছে রাখা।”[26]

হাদিস পর্যালোচনা :

এ হাদীসের ভিত্তি রাওহ ইবনুল মুসাইব[27] নামক রাবীর উপর। এই রাবীর বিষয়ে :

★ ইমাম ইয়াহইয়া ইবন মঈন বলেনঃ (صويلح) কোনো রকম গ্রহনযোগ্য।
★ রাযী বলেনঃ কোনো রকম গ্রহণযোগ্য তবে শক্তিশালী নয়।
★  ইবন আদী বলেন, লোকটি অনেক অনির্ভরযোগ্য হাদীস বর্ণনা করেছেন। ইবন হিব্বান বলেনঃ লোকটি নির্ভরযোগ্য রাবীদের সূত্রে জাল[28] হাদীস বর্ণনা করে; তার হাদীস গ্রহন করা বৈধ নয়। তার(রাওহ ইবনুল মুসাইবের) উস্তাদ আমর ইবন মালিক আন-নুকরী সম্পর্কে ইবন আদী বলেনঃ মুনকারুল হাদীসঃ লোকটি আপত্তিকর হাদীস বর্ণনাকারী এবং হাদীস চুরি করে।[29]
অর্থাৎ এই মাউকূফ হাদীসটির সনদ অত্যন্ত দুর্বল বলে প্রমানিত হলো।[30]



বুকের উপর বা বুকে হাত বাধা সম্পর্কিত হাদীসসমূহের পর্যালোচনাঃ


(ক) ইমাম বাইহাকী বলেনঃ

“আমাদেরকে আবূ সা’দ আহমাদ ইবন মুহাম্মাদ সূফী বলেন, আমাদেরকে আবূ আহমাদ ইবন আদী বলেন, আমাদেরকে ইবন সায়িদ বলেন, আমাদেরকে ইবরাহীম ইবন সাঈদ বলেন, আমাদেরকে মুহাম্মাদ ইবন হুজর আল-হাদরামী বলেন, আমাকে সায়ীদ ইবন আব্দুল জাব্বার ইবন ওয়ায়িল তার পিতা থেকে তার মাতা থেকে ওয়ায়িল(রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি বলেনঃ আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হলাম। তিনি মাসজিদের দিকে উঠে যেয়ে মিহরাবে ঢুকলেন, অতঃপর তাকবীর বলে হস্তদ্বয় উঠালেন, অতঃপর তার ডান হাত বাম হাতের উপরে বুকের উপরে রাখলেন।”[31]

শাইখ নাসীরুদ্দিন আলবানী উল্লেখ করেছেন যে, (উপরোক্ত)হাদীসটি তিনটি কারনে (যঈফ)দুর্বলঃ

(১) মুহাম্মাদ ইবন হুজর হাদরামী দুর্বল। তার বিষয়ে ইমাম বুখারী বলেনঃ তার বিষয়ে আপত্তি আছে। ইমাম বুখারীর এ কথার অর্থ লোকটি অত্যন্ত দুর্বল। (ইমাম)যাহাবী বলেনঃ লোকটি আপত্তিকর হাদীস বর্ণনা করেছেন।
(২) সায়ীদ ইবন আব্দুল জাব্বারের বিষয়েও আপত্তি রয়েছে। নাসাঈ বলেনঃ তিনি শক্তিশালী নন। ইবন হিব্বান তাকে নির্ভরযোগ্যদের তালিকায় উল্লেখ করেছেন।
(৩) ‘আব্দুল জাব্বারের মাতা’ একেবারেই অজ্ঞাত পরিচয়।[32]
অর্থাৎ উপরের হাদীসটি অত্যন্ত দুর্বল[33] এবং দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।

(খ) ইমাম ইবন খুযাইমা বলেনঃ

“আমাদেরকে আবূ তাহির বলেন, আমাদেরকে আবূ বকর বলেন, আমাদেরকে আবূ মূসা বলেন, আমাদেরকে মুআম্মাল(ইবন ইসমাঈল) বলেন, তিনি সাওরী থেকে, তিনি আসিম ইবন কুলাইব থেকে তিনি তার পিতা থেকে, তিনি ওয়ায়িল(রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি বলেনঃ আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে সালাত আদায় করলাম এবং তিনি তার ডান হাত তার বাম হাতের উপর তার বুকের উপর রাখলেন।”[34]



উপরোক্ত হাদীসটিকে ‘সহীহ’ দাবী করে সমসাময়িক কিছু আলীমগন বুকে হাত বাধার পক্ষে মত দিয়েছেন।[35] অপরদিকে কেউ কেউ উপরোক্ত হাদীসটির মধ্যে কিছুটা দুর্বলতা আছে বলে মন্তব্য করেছেন এবং এর উপর আমল করেছেন।[36] তবে উপরোক্ত হাদীসটি নিতান্তই দুর্বল যা আমরা আলোচনা করবো।
উপরোক্ত হাদীসের মূল সমস্যা দুইটি, যথাঃ

(১) হাদীসটির সনদে থাকা মুআম্মাল ইবন ইসমাঈল দুর্বল রাবী হিসেবে বিবেচিত।
(২) ওয়ায়িল ইবন হুজর থেকে আসিম ইবন কুলাইবের সনদে আরো কিছু সহীহ হাদীস হাত বাধার পক্ষে বর্ণিত হয়েছে তবে সেখানে হাত কোথায় রাখবে তা বর্ণিত হয়নি[37], তাই হাদীসটি ‘মুনকার’ বা ‘আপত্তিকর’ ও ‘অত্যন্ত দুর্বল’ বলে গণ্য।

হাদিস পর্যালোচনা :

মুআম্মাল ইবন ইসমাঈল সম্পর্কে :

★ ইমাম আবূ হাতিম রাযী বলেন, তিনি সত্যপরায়ণ; তবে খুব বেশী ভুল করেন।
★ ইমাম বুখারী বলেনঃ তিনি মুনকারুল হাদীস বা আপত্তিকর হাদীস বর্ণনাকারী। ইমাম বুখারী অত্যন্ত দুর্বল বা মিথ্যা হাদীস বর্ণনাকারীদেরকেই মুনকারুল হাদীস বলেন।
★ ইবন হাজার আসকালানী বলেনঃ সত্যপরায়ণ; তবে সৃতিশক্তি খারাপ।[38]

★ ইবনুল কায়্যিম বলেনঃ “মুহাদ্দিসগন সুফিয়ান সাওরী থেকে, আসিম ইবন কুলাইব থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি ওয়ায়িল ইবন হুজর(রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি বলেনঃ ‘আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে সালাত আদায় করলাম। তখন তিনি তার ডান হাত তার বাম হাতের উপর, বুকের উপর রাখলেন।’ ‘বুকের উপর’ কথাটি মুআম্মাল ইবন ইসমাঈল ছাড়া কেউ বলেন নি।”[39]

★ ইবনুল কায়্যিম অন্যত্র বলেনঃ “তিনি(ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল) বলেনঃ … বুকের উপর হাত রাখা মাকরুহ; কারন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি ‘তাকফীর’ করতে নিষেধ করেছেন। আর ‘তাকফীর’ অর্থ বুকের উপর হাত রাখা।
মুআম্মাল সুফিয়ান থেকে, আসিম ইবন কুলাইব থেকে তার পিতা থেকে ওয়ায়িল বর্ণনা করেছেন যে, নাবীউল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার হাত বুকের উপর রাখেন। অথচ এ হাদীসটিই আব্দুল্লাহ ইবন ওয়ালীদ সুফিয়ান থেকে বর্ণনা করেছেন; কিন্তু তিনি ‘বুকের উপর’ কথাটি উল্লেখ করেন নি।”[40]


★ আব্দুল্লাহ ইবন ওয়ালীদের বর্ণনা ইমাম আহমাদ সংকলন করেছেনঃ “আমাদেরকে আব্দুল্লাহ ইবনুল ওয়ালীদ বলেন, আমাকে সুফিয়ান বলেছেন, তিনি আসিম ইবন কুলাইব থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি ওয়ায়িল ইবন হুজর(রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকেঃ আমি নাবীউল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে দেখলাম যে, তিনি তার ডান হাত বাম হাতের উপর দিয়ে ধরে রেখেছেন।”

বিষয়টি সুস্পষ্ট যে, ওয়ায়িল ইবন হুজর(রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে অনেকেই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন; কিন্তু কেউই ‘বুকের উপর’ কথাটি বলেন নি। ওয়ায়িলের হাদীসটি আসিম ইবন কুলাইবের সুত্রেও অনেকেই বর্ণনা করেছেন কিন্তু তারাও কেউ ‘বুকের উপর’ কথাটি বলেন নি। এমনকি আসিম ইবন কুলাইব থেকে সুফিয়ান সাওরীর মাধ্যমে একই সনদে অন্যান্য রাবী বর্ণনা করেছেন কিন্তু কেউই ‘বুকের উপর’ কথাটি বলেন নি। শুধুমাত্র ‘মুআম্মাল ইবন ইসমাঈল’ ‘বুকের উপর’ কথাটি বলেছেন।

এখানে ইবনুল কায়্যিম বুকে হাত রাখা অপছন্দ করার বিষয়ে ইমাম আহমাদের মতের দলীল ব্যাখ্যা করেছেন। বুকে হাত রাখার কথা মুআম্মাল-এর হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে; কিন্তু মু’আম্মাল নিজে দুর্বল রাবী। উপরন্তু তিনি নির্ভরযোগ্য রাবীদের বিপরীতে বর্ণনা করেছেন। কাজেই তার বর্ণনা ‘মুনকার’ বা ‘আপত্তিকর’ ও ‘অত্যন্ত দুর্বল’ বলে গণ্য।[41]



রেফারেন্স সমুহ :



[11] . ইমাম নববী, আল-মাজমূ, ৩/৩১০-৩১১
[12] . ইবনুল জাওযী, আত-তাহকীক, ১/৩৩৯
[13] . ইমাম নববী, শারহ সহীহ মুসলিম, ৪/১১৪
[14] . ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর, সালাতের মধ্যে হাত বাধার বিধান, পৃঃ ১০

[15] . যেমনঃ সৌদি আরবের বিগত প্রধান মুফতী শাইখ আব্দুল আযীয ইবন আব্দুল্লাহ ইবন বায, শাইখ মুহাম্মাদ ইবন সালীহ আল-উসাইমীন, শাইখ মুহাম্মাদ নাসীরুদ্দীন আলবানী, শাইখ সাঈদ ইবন আলী আল-কাহতানী, শাইখ মুহাম্মাদ ইবন ইবরাহীম আত-তুওয়াইযিরী। এছাড়াও বাঙ্গালী কিছু আলীম যেমনঃ ড. মুহাম্মাদ সাইফুল্লাহ, ড. মনজুরে ইলাহী, ড. আসাদুল্লাহ গালীব, মুফতী কাজী ইবরাহীম, শাইখ মতিউর রহমান মাদানী, শাইখ সাইফুদ্দীন বিলাল মাদানী, শাইখ আবুল হামীদ ফাইযী আল-মাদানী।

[16] . ইবনুল কায়্যিম, বাদাইউল ফাওয়াইদ, ৩/৯১-৯২
[17] . ইবন তাইমিয়্যাহ, শারহ উমদাহ আল-ফিকহ ফিল মাযহাব আল-হাম্বলী, পৃঃ ৬৭
[18] . ইবন তাইমিয়্যাহ, শারহ উমদাহ আল-ফিকহ ফিল মাযহাব আল-হাম্বলী, পৃঃ ৬৭
[19] . ইবন কুদামা, আল-মুগনী, ১/৫৪৯
[20] . সুনানে তিরমিযী, ২/৩২
[21] . মারওয়াযী, মাসাইলুল ইমাম আহমাদ ওয়া ইসহাক, ১/৫৫১-৫৫২
[22] . ইবনুল মুনযির, আল-আউসাত, ৪/১৮৫-১৮৭
[23] . আলবানী, ইরওয়াউল গালীল, ২/৭১
[24] . মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়য়ের গবেষণা বিভাগ।
[25] . মারওয়াযী, মাসাইলুল ইমাম আহমাদ, টীকা, ৯/৪৮৫১
[26] . বাইহাকী, আস-সুনানুল কুবরা, ২/৩১
[27] . অর্থাৎ, উপরোক্ত হাদীসের সনদের মধ্যে এই রাবী বিদ্যমান এবং এই রাবী যদি দুর্বল হয় তাহলে উপরোক্ত হাদীসও দুর্বল বা যঈফ বলে প্রমানিত হবে।
[28] . জাল অর্থাৎ বানোয়াট হাদীস, যা হাদীস নয় বরং কারো বানানো কথা হাদীস বলে চালিয়ে দেওয়া।
[29] . ড. ইবরাহীম আনীস, আম-মু’জামুল ওয়াসীত, ১/৫০৯ ; ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর, সালাতের মধ্যে হাত বাধার বিধান, পৃঃ ৩০
[30] . ইবনুল মুলাক্কিন, সিরাজ উদ্দীন উমার ইবন আলীঃ আল-বাদরুল মুনীর, ৪/৮১ ; বাকর আবু যাইদ, লা জাদীদা ফী আহকামিস সালাত, পৃঃ ৯
[31] . বাইহাকী, আস-সুনানুল কুবরা, ২/৩০
[32] . আলবানী, সিলসীলা যায়ীফাহ, ১/৬৪৩-৬৪৭
[33] . মুকবিল ওয়াদায়ী ও খালীদ শায়ি, আল-ই’লাম বি তাখয়ীরিল মুসাল্লী, পৃঃ ১০-১৩
[34] . সহীহ ইবন খুযাইমা, ১/২৪৩। [বিঃ দ্রঃ ইমাম ইবন খুযাইমা তার হাদীস গ্রন্থের নাম ‘সহীহ’ রাখলেও এতে সহীহ ও যঈফ সকল প্রকার হাদীস বিদ্যমান, এটি ইলমুল হাদীস সম্পর্কে প্রাথমিক জ্ঞান সম্পূর্ণ সকল মানুষই জানেন।]
[35] . যেমনঃ শাইখ মতিউর রহমান মাদানী। আর শাইখ আব্দুল হামীদ ফাইযী দাবী করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (সালাতে) উভয় হাতকে বুকের উপর রাখতেন।[সালাতে মুবাশশির (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), পৃঃ ১৪৪]
[36] . যেমনঃ শাইখ মুহাম্মাদ ইবন সালীহ আল-উসাইমীন, তিনি বলেছেনঃ “হাদীসটিতে সামান্য দুর্বলতা থাকলেও এক্ষেত্রে বর্ণিত অন্যান্য হাদীসের তুলনায় এটিই সর্বাধিক শক্তিশালী।” [ইবন উসাইমীন, ফাতওয়া আরকানুল ইসলাম, পৃঃ ২৯৮]
[37] . এখানে এরুপ দুটি হাদীস উল্লেখ করছি যা ওয়ায়িল ইবন হুজর থেকে বর্ণিত কিন্তু ‘বুকের উপর’ কথাটি নেই।


ইমাম মুসলিম বলেনঃ “আমাদেরকে যুহাইর ইবন হারব বলেন, আমাদেরকে আফফান বলেন, আমাদেরকে হাম্মাম বলেন, আমাদেরকে মুহাম্মাদ ইবন জুহাদাহ বলেন, আমাকে আব্দুল জাব্বার ইবন ওয়ায়িল বলেন, তিনি আলকামা ইবন ওয়ায়িল ও তাদের একজন মাওলা থেকে, তারা ওয়ায়িল ইবন হুজর(রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি দেখেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সালাত শুরু করতেন তখন তার দু হাত উঠালেন- হাম্মাম হাত উঠানোর বর্ণনা দিয়ে বলেনঃ তার কান পর্যন্ত – আল্লাহু আকবর বলেন। এরপর তিনি তার কাপড় জড়িয়ে নিলেন। অতঃপর তিনি তার ডান হাত বাম হাতের উপর রাখলেন।” [সহীহ মুসলিম, কিতাবুস সালাত, ১/৩০১]
ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল বলেনঃ “আমাদেরকে ইউনুস ইবন মুহাম্মাদ বলেন, আমাদেরকে আব্দুল ওয়াহিদ বলেন, আমাদেরকে আসিম ইবন কুলাইব তার পিতা থেকে, তিনি ওয়ায়িল ইবন হুজর(রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি বলেনঃ আমি নাবীউল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আগমন করলাম আর বললাম, তিনি কিভাবে সালাত আদায় করেন তা আমি দেখবো। তিনি বলেনঃ তিনি তখন কিবলামুখী হলেন, আল্লাহু আকবার বললেন এবং তার কাধদ্বয় পর্যন্ত হস্তদ্বয় উঠালেন। তিনি বলেনঃ এরপর তিনি তার ডান হাত দিয়ে বাম হাত ধরলেন।” [ইমাম আহমাদ, মুসনাদে আহমাদ, ৪/৩১৬(শুআইব আরনাউতের টীকাসহ)]
উপরোক্ত হাদীসটি ওয়ায়িল ইবন হুজর থেকে ‘আসিম ইবন কুলাইব’ এর সুত্রে বর্ণিত কিন্তু এখানেও ‘বুকের উপর’ কথাটি নেই। শুধুমাত্র ‘মুআম্মাল ইবন ইসমাঈল’ এর বর্ণনায় ‘বুকের উপর’ কথাটি রয়েছে। যেহেতু ‘মুআম্মাল ইবন ইসমাঈল’ এর বর্ণনা তার থেকে শক্তিশালী রাবীর বর্ণনার বিরুদ্ধে যাচ্ছে সেহেতু ‘মুআম্মাল ইবন ইসমাঈল’ এর বর্ণিত ‘বুকের উপর’ হাত বাধার হাদীসটি মুনকার বা দুর্বল অর্থাৎ দলীল হিসেবে অগ্রহনযোগ্য।


[38] . ইবন হাজার, তাহযীবুত তাহযীব, ১০/৩৩৯-৩৪০ ; তাকরীবুত তাহযীব, পৃঃ ৫৫৫
[39] . ইবনুল কায়্যিম, ই’লামুল মুওয়াক্কিয়ীন, ২/৪০০
[40] . ইবনুল কায়্যিম, বাদাইউল ফাওয়াইদ, ৩/৯১
[41] . বিস্তারিত জানতে পড়ুনঃ ড.খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যার এর ‘সালাতের মধ্যে হাত বাধার বিধান’ বইটি। উক্ত বইটির পিডিএফ ডাউনলোড করতে ভিসিট করুনঃ http://www.quranheart.com
















Wednesday, August 5, 2015

মিলাদুন্নবী (সা) সম্পর্কে ৪০ টি বই ডাউনলোড লিংক :


ঈদে মীলাদুন্নবী (সঃ) উদযাপন এবং মিলাদ-ক্বিয়ামের দলীল সম্বলিত বই/নিবন্ধ/রচনাবলী
--------------------------------------------------------------------------------------
শরীয়তের দৃষ্টিতে সকল ঈদের সেরা ঈদ ঈদে মীলাদুন্নবী (সঃ) উদযাপন এবং মীলাদ ও ক্বিয়াম শরীফের দলীলসমূহ জানতে নিম্নোক্ত কিতাব এবং নিবন্ধসমগ্র ডাউনলোড করে সংগ্রহে রাখুন। ধন্যবাদ।

১। আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের দলীল
মূলঃ আল্লামা সাইয়্যেদ ইউসুফ হাশেম রেফায়ী
ডাউনলোডঃ http://www.mediafire.com/download/fz7r019dl4zrc6d/Ahle+Sunnah+Wal+Jamaat-er+Dalil.pdf

২। আহলে সুন্নাহর দৃষ্টিতে ঈদে মীলাদুন্ননবী (দঃ)
অনুবাদঃ কাজী সাইফুদ্দীন হোসেন
ডাউনলোডঃ http://www.mediafire.com/download/3ut0ay6lj9y19xv/Ahlus+Sunnahr+Dristi-te+Eid-e+Miladunnabi.pdf

৩। আকায়েদে আরবায়াহ
মূলঃ মুফতী মোহাম্মদ আলী আকবর
ডাউনলোডঃ http://www.mediafire.com/download/c3y1uk8xra2os98/Akayed-e+Arbayah.pdf

৪। আল-কুরআন ও সহীহ্‌ হাদীসের আলোকে ঈদে মীলাদুন্নবী (সঃ)
মূলঃ মাওলানা মুহাম্মদ ইকবাল হোছাইন আল্‌কাদেরী
ডাউনলোডঃ http://www.mediafire.com/download/344i4co5tq0eacq/Al-Quran+o+Sahih+Hadith-er+Aloke+Eid+Miladunnabi+%28saws%29.pdf

৫। আন্‌-নি'মাতুল কুবরা আলাল আলাম ফী মাওলিদে সাইয়্যিদে উলদে আযম
মূলঃ আল্লামা ইবনে হাজার হাইছামী (রঃ)
ডাউনলোডঃ http://www.mediafire.com/download/7b4ycsxb1rf42v0/An+nimatul+Qubra+Alal+%27Alam+Fi+Mawlid-e+Uld-e+Azam.pdf#39;Alam_Fi_Mawlid-e_Uld-e_Azam.pdf

৬। বিশ্বনবীর জন্ম ইতিহাস ও মীলাদ শরীফের হুকুম
মূলঃ হাফেয মুহাম্মদ আবদুল হক এলাহাবাদী মুহাজিরে মক্কী (রঃ)
অনুবাদঃ মাওলানা কারামত আলী নিযামী
ডাউনলোডঃ http://www.mediafire.com/download/xq4pq7ye0uedcp1/Bishyo+nabir+jonmo+iteehas+o+milad+sharif-er+hukum.pdf

৭। ঈদে মীলাদুন্নবী (সঃ) কি কেন ও ফযীলত
মূলঃ হযরত সৈয়দ শাহ্‌ মোহাম্মদ জুনায়েদ ওসমানী
ডাউনলোডঃ http://www.mediafire.com/download/45mslqaf2fsheqq/Eid-e+Miladunnabi+%28SAWS%29+ki+keno+o+fazilat.pdf

৮। কুরআন হাদীসের আলোকে ঈদে মীলাদুন্নবী (দঃ) ও জুলুস
প্রকাশনঃ বাংলাদেশ আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামায়াত ফাউন্ডেশন
ডাউনলোডঃ http://www.mediafire.com/download/e0snt8nle3tqse0/Eid-e+Miladunnabi+%28Saws%29+published+by+Bangladesh+Ahle+Sunnah+Wal+Jammat+Foundation.pdf

৯। ঈদে মীলাদুন্নবী বা মৌলুদে খায়রুল বারিয়াহ্‌
মূলঃ মাওলানা খাজা মোহাম্মদ ছাইফুদ্দিন নক্‌শেবন্দী মুজাদ্দেদী
ডাউনলোডঃ http://www.mediafire.com/download/t4iqeeaushdicee/Eid-e+Miladunnabi+ba+Mawlud-e+Khairul+Bariyah.pdf

১০। ঈদে মীলাদুন্নবী ও মীলাদ মাহফিল
মূলঃ মাওলানা সাইয়্যেদ মুহাম্মাদ সাফওয়ান নোমানী এবং সাইয়্যেদ মুহাম্মাদ নাঈমুল ইহসান বারাকাতী
ডাউনলোডঃ http://www.mediafire.com/download/54v47sx4i2284a1/Eid-e+Miladunnabi+o+Milad+Mahfil.pdf

১১। ঈদে মীলাদুন্নবীই হচ্ছে সর্বশ্রেষ্ঠ ঈদ
মূলঃ মুফতী মোহাম্মদ আলী আকবর
ডাউনলোডঃ http://www.mediafire.com/download/z0cdeoinrcjgb13/Eid-e+Miladunnabi-e+hocche+sorbo-shresthho+Eid.pdf

১২। ফাসায়েলে হাফতে মাসায়ালা
মূলঃ হযরত হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কী (রঃ)
ডাউনলোডঃ http://www.mediafire.com/download/lr2ckwrpnc8jnyg/Fasayel-e+Haft-e+Masalaa.pdf

১৩। ফয়সালা ২০০৯
প্রকাশনঃ আহলা দরবার শরীফ, চট্টগ্রাম
ডাউনলোডঃ http://www.mediafire.com/download/r77c3v59vi6x6g3/Faysala+%282009%29+-+Published+from+Ahla+Darbar+Sharif.pdf

১৪। হাকীকতে মীলাদে মুস্তফা (সঃ)
প্রকাশনঃ মুহাম্মদী কুতুবখানা
ডাউনলোডঃ http://www.mediafire.com/download/wtc5wv3n1pwgsi6/Haqiqat-e+Milad-e+Mustafa+%28SAWS%29.pdf

১৫। হাকীকতে মীলাদ
মূলঃ আল্লামা শেখ মোহাম্মদ আব্দুল করিম সিরাজনগরী
ডাউনলোডঃ http://www.mediafire.com/download/zjz5m17t828u43k/Haqiqat-e+Milad.pdf

১৬। হাকীকতে মুহাম্মদী ও মীলাদে আহাম্মদী
মূলঃ মাওলানা মোহাম্মাদ বেশারাতুল্লাহ (রঃ)
ডাউনলোডঃ http://www.mediafire.com/download/63xowrt41v0qp9n/Haqiqat-e+Muhammadi+o+Milad-e+Ahmadi.pdf

১৭। হুসনুল মাকাসীদ ফী আমালিল মাওলিদ ও ...
মূলঃ ইমাম জালাল উদ্দীন সুয়ুতী (রঃ)
অনুবাদঃ মাওলানা ছালিক আহমদ
ডাউনলোডঃ http://www.mediafire.com/download/vo1tz1he46vi1ao/Husnul+Maqasid+Fi+Amalil+Mawlid+o+Immaul+Ajkiya+bi+Hayatul+Ambiya.pdf

১৮। ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিতে ঈদে মীলাদুন্নবী (সঃ)
প্রকাশনঃ জাতীয় ঈদে মীলাদুন্নবী উদযাপন কমিটি, বাংলাদেশ
ডাউনলোডঃ http://www.mediafire.com/download/dusaaqthpyhbwj6/Islami+Shariat-er+Dristite+Eid-E+Miladunnabi+%28SAWS%29+Udjaapon.pdf

১৯। জা'আল হক্ক (২য় খন্ড)
মূলঃ মুফতী আহমদ ইয়ার খান নঈমী (রঃ)

ডাউনলোডঃ http://www.mediafire.com/download/z9uuz6hbyxx0xuk/Ja%27al+Haq+%28Part+2%29.pdf#39;al_Haq_(Part_2).pdf

২০। কিশোরগঞ্জে মীলাদ-ক্বিয়ামের বাহাস
মূলঃ হযরত আল্লামা মোহাম্মদ রুহুল আমিন (রঃ)
ডাউনলোডঃ http://www.mediafire.com/download/sw5c8cqgbporuqm/Kishorganj-e+Milad-Qiyam-er+Bahas.pdf


২১। মীলাদুন্নবী (সঃ)
মূলঃ আল্লামা সৈয়দ আহমদ সাঈদ কাযেমী (রঃ)
অনুবাদঃ মুহাম্মদ জয়নুল আবেদীন জুবাইর
ডাউনলোডঃ http://www.mediafire.com/download/lnrx6xcbisg267c/Milaadunnabi+%28SAWS%29.pdf

২২। দারুল ফতোয়া অস্ট্রেলিয়াঃ মীলাদুন্নবী (দঃ)
অনুবাদঃ কাজী সাইফুদ্দিন হোসেন
ডাউনলোডঃ http://www.mediafire.com/download/h4uyhhhm6t2ra77/Milad+Bishoyok+Australian+Fatwa.pdf

২৩। মীলাদুন্নবী (দঃ) উদযাপনের বৈধতা
মূলঃ ডঃ ঈসা আল-মানী আল-হুমায়রী (আরব আমিরাত)
অনুবাদঃ কাজী সাইফুদ্দিন হোসেন
ডাউনলোডঃ http://www.mediafire.com/download/wzwhjylw84q4jxf/Milad+Bishoyok+Dubai+Fatwa.pdf

২৪। মীলাদ-ক্বিয়ামের বিধান
মূলঃ আল্লামা হাফেয মোহাম্মদ আবদুল জলিল (রঃ)
ডাউনলোডঃ http://www.mediafire.com/download/qc66v5ytzddn6ub/Milad+o+Qiyam-er+Bidhaan.pdf

২৫। মীলাদে মুস্তফা (সঃ)
মূলঃ মুহাম্মদ আজিজুল হ আল-কাদেরী
অনুবাদঃ উপাধ্যাক্ষ্য মুহাম্মদ আবদুল অদুদ
ডাউনলোডঃ http://www.mediafire.com/download/rwdgjq16xk160jt/Milad-e+Mustafa+%28SAWS%29.pdf

২৬। মীলাদে সুয়ুতী ও মীলাদ ক্বিয়ামের দলীল
অনুবাদঃ মাওলান মোহাম্মদ আবদুল মান্নান
ডাউনলোডঃ http://www.mediafire.com/download/1s4h4af1hzp2a73/Milad-i-Suyuti+%26+Milad-Qiaum+er+Dolil.pdf

২৭। মীলাদ-ক্বিয়াম ও দেওবন্দী আলেমগণ
প্রকাশনঃ মাকতাবাতুস সুন্নাত ওয়াল জামায়াত
ডাউনলোডঃ http://www.mediafire.com/download/7su4vnd2obxl2t6/Milad-Qiyam+o+Deobandi+Alem-gon.pdf

২৮। মীলাদুন্নবী (সঃ)
মূলঃ ড. তাহের আল কাদ্‌রী
অনুবাদঃ অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল হাই
ডাউনলোডঃ http://www.mediafire.com/download/sctnzcx32aroh4g/Miladunnabi+%28Saws%29.pdf

২৯। মীলাদুন্নবী (সঃ) সকল ঈদের সেরা
মূলঃ প্রফে. ড. মোহাম্মদ মাসউদ আহ্‌মদ (যুক্তরাজ্য)
অনুবাদঃ নিজামউদ্দীন মাহমুদ
ডাউনলোডঃ http://www.mediafire.com/download/fs74gfsl5fu7hx5/Miladunnabi+Sokol+Eid-er+Shera+%28Translated+from+UK%29.pdf

৩০। নূরনবী (সঃ)
মূলঃ আল্লামা হাফেয মোহাম্মদ আবদুল জলিল (রঃ)
ডাউনলোডঃ http://www.mediafire.com/download/wdgx4sx5cwd92vb/Nurnabi+%28SAWS%29.pdf

৩১। ঐক্যের ডাক
মূলঃ আল্লামা কাজী মু'তাসিম বিল্লাহ
ডাউনলোডঃ http://www.mediafire.com/download/r0p9tqgs7e9cm8i/Oikyer+Daak.pdf

৩২। পবিত্র মিলাদুন্নবী (সঃ) সংকলন
মূলঃ শায়খ খন্দকার গোলাম মাওলা নক্‌শেবন্দী
ডাউনলোডঃ http://www.mediafire.com/download/5mcana1r7uzvdnw/Pobitro_Miladunnabi_(saws)_sonkolon.pdf

৩৩। পবিত্র কুরআন ও হাদীসের আলোকে ঈদে মওলুদ শরীফের মাহফিল ও ক্বিয়াম
মূলঃ আল্লামা সাইয়্যিদ মুহাম্মাদ ইবনে সাইয়্যিদ আলাভী আল-মালাকী (রঃ)
অনুবাদঃ মাওলানা মোহাম্মদ মোরশেদ আলম হাতিয়ুভী
ডাউনলোডঃ http://www.mediafire.com/download/52o09mklz07mga5/Pobitro+Quran+o+Hadith-er+Aloke+Mawlud+Sharif-er+Mahfil+o+Qiyam.pdf

৩৪। কুরআন হাদীসের আলোকে ঈদে মীলাদুন্নবী (সঃ)
প্রকাশনঃ আল হাশেমীয়া সোসাইটি
অনুবাদঃ কাজী সাইফুদ্দীন হোসেন
ডাউনলোডঃ http://www.mediafire.com/download/r9l0d5z561u6yfd/Quran+Hadith-er+Aloke+Eid-e+Miladunnabi+%28saws%29.pdf

৩৫। কুরআন হাদীসের আলোকে পবিত্র ঈদে মীলাদুন্নবী (সঃ) (স্মরণিকা ২০১২ ইং)
প্রকাশনঃ বাংলাদেশ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত
ডাউনলোডঃ http://www.mediafire.com/download/mkm668o2kcb9hkg/Quran+Hadith-er+Aloke+Pobitro+Eid-e+Miladunnabi+%28SAWS%29.pdf

৩৬। শরীয়তের আলোকে জশনে মীলাদুন্নবী (সঃ)
মূলঃ প্রফে. ড. আল্লামা তাহের আল কাদেরী
অনুবাদঃ মাওলানা মুহাম্মদ জয়নুল আবেদীন জুবাইর
ডাউনলোডঃ http://www.mediafire.com/download/1qhdl9g9cvkkysu/Shariat-er+Aloke+Jashne+Miladunnabi+%28SAWS%29.pdf

৩৭। সিরাজাম মুনীরা ও মীলাদ নামা
মূলঃ সাইয়্যেদ মুহাম্মাদ নাঈমুল ইহসান বারাকাতী
ডাউনলোডঃ http://www.mediafire.com/download/6bpobh6mnb6mbhj/Sirajam+Munira+o+Milad+Namaa.pdf

৩৮। সকল যুগের সেরা ঈদ ঈদে মীলাদুন্নবী (সঃ)
মূলঃ আল্লাম মুফতী কাজী মুহাম্মদ আবদুল ওয়াজেদ
ডাউনলোডঃ http://www.mediafire.com/download/7gfjami40mk4j5v/Sokol+Juger+Shera+Eid+Eid-e+Miladunnabi+%28SAWS%29.pdf

৩৯। তকী ওসমানীর মীলাদ বিরোধী ফতোয়ার রদ
মূলঃ ড. জি. এফ. হাদ্দাদ দামেশ্‌কী
অনুবাদঃ কাজী সাইফুদ্দীন হোসেন
ডাউনলোডঃ http://www.mediafire.com/download/3ss6bdk6whdbcbk/Taqi+Usmani-r+Milad+Birodhi+Fatwar+Radd.pdf

৪০। মীলাদুন্নবী বনাম সীরাতুন্নবী
মূলঃ কে. জি. এম. বিন আনোয়ার
ডাউনলোডঃ http://www.mediafire.com/download/d4g4ribcu5dcc0m/Miladunnabi+bonam+Siratunnabi+%28SAWS%29.pdf


Monday, August 3, 2015

দুর্বল হাদিস একাধিক সূত্রে বর্ণিত হলে হাসান এর পর্যায়ে পৌঁছে যায় :-



এ প্রসঙ্গে হাদিসের নীতিমালাঃ

দলীল নং-১

আল্লামা মোল্লা আলী ক্বারী(রহঃ) বলেন,
“দ্বঈফ হাদিসও একাধিক সনদে বর্ণিত হলে হাসান হাদিস এর পর্যায়ে পৌঁছে যায়।”
★মিরকাতঃ৩/৭৭পৃঃ,হাদিসঃ১০০৮

দলীল নং-২

তিনি অন্যস্থানে বলেন,
“একাধিক সনদে যদিও দ্বঈফ হাদিস বর্ণিত হয় তবে বর্ণিত ঐ হাদিস হাসান বলে গণ্য হবে বা উপনীত হবে”।
★মোল্লা আলী ক্বারীঃআসারুল মারফূআঃ৪৮১পৃঃ

দলীল নং-৩

আল্লামা কামালুদ্দীন ইবনে হুম্মাম(রহঃ) বলেন,
“হাদিসের সমস্ত রাবী দুর্বল প্রমানিত হওয়া সত্ত্বেও বিভিন্ন তরিকায় বর্ণিত হওয়ার কারণে তা হাসানে পরিণত হয়ে যায়।”
★আল্লামা হুম্মামঃ ফতহুল কাদীরঃ১/৩০৬পৃঃ

দলীল নং-৪

ইমাম শারানী(রহঃ) বলেন,
“নিঃসন্দেহে জমহুর মুহাদ্দিসগণ দুর্বল হাদিসকে অধিক সনদে বর্ণিত হওয়ার কারণে দলীল হওয়ার যোগ্যতা রুপে মেনে নিয়েছেন এবং সেটিকে কোন সময় সহীহ আবার কোন সময় হাসানের সহিত মিলিয়েছেন।এই প্রকারের দুর্বল হাদিস সমূহ ইমাম বায়হাকীর সুনানে কোবরার মধ্যে পাওয়া যায়, যাকে ইমাম মুজতাহিদীন এবং আসহাবে আইয়াম্মা দলীল হিসেবে গ্রহণের জন্য ইচ্ছা পোষণ করেন।”
★ইমাম শারানীঃমিযানুল কোবরাঃ১/৬৮পৃঃ

দলীল নং-৫

ইমাম সৈয়ুতী(রহঃ) বলেন,
“মাতরুক ও মুনকার হাদিস বিভিন্ন তরিকায় বর্ণিত হওয়ার কারণে দ্বঈফ হাদিসের মর্যাদায় উপনীত হয়।আবার কখনো হাদিসে হাসানের মর্যাদায় উপনীত হয়ে থাকে।”
★ ইমাম সৈয়ুতীঃতাআকিবাত আলা মওজুআত,কিতাবুল মানাকিবঃ৭৫পৃঃ

দলীল নং-৬

আল্লামা শায়খ আবদুল হক মোহাদ্দেস দেহলভী(রহঃ) বলেনঃ
“আর দ্বঈফ হাদিস যদি বিভিন্ন সনদে বর্ণিত হওয়ার দরুন হাসান লিগাইরিহী হওয়ার মর্যাদায় উপনীত হয়, তা দলীল হওয়া সম্পর্কে আলিমগণ একমত হয়েছেন”।
★আবদুল হক দেহলভী কৃতঃ মুকাদ্দামাতুশ শায়খঃ২৫পৃঃ

দলীল নং-৭

আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী(রহঃ) বলেন,
“যখন দ্বঈফ হাদিস অন্য কোন সনদ বা বর্ননা দ্বারা শক্তিশালী হয় অর্থাৎ- দুর্বলতা দূর হয়ে যায়, তখন তা হাসান লিগাইরিহী রুপে গৃহিত হবে”।
★উমদাদুল ক্বারী শরহে বুখারীঃ১/৯পৃঃ,দারুল ফিকর ইসলামিয়্যাহ,বৈরুত।

দলীল নং-৮

আল্লামা মুফতি আমিমুল ইহসান বারাকাতী(রহঃ) বলেন,
“আর দ্বঈফ হাদিস যদি বিভিন্ন সনদে বর্ণিত হয়, গ্রহণীয় হওয়ার প্রমাণ দ্বারা শক্তিশালী হয়, তবে তা হাসান লিগাইরিহী হয়ে যাবে”।
★মিযানুল আখবারঃ৭পৃঃ

Sunday, August 2, 2015

নুরনবী (সা) এর ছায়াবিহীন কায়া :

আজকাল ওহাবি ও আহলে হাদিসের দল রাসুলাল্লাহ (সা) এর ছায়া ছিল বলে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।
এখানে নির্ভরযোগ্য হাদিস ও লক্ষ লক্ষ হাদিসের হাফিজ যারা ছিলেন তাদের আকিদা থেকে প্রমান করব রাসুল (সা) এর ছায়া ছিল না।

নুরনবী (সা) এর ছায়াবিহীন কায়া 
লেখক ও সংকলক : মাসুম বিল্লাহ সানি 


  • হাদিস ১ :

★ ইমাম আব্দুর রাজ্জাক ইবনে হুমাম (রহ) :

হযরত আব্বাস (রা) থেকে বর্নিত হাদিসের ১ম সনদ :

ইমাম বুখারী (রহ) এর দাদা ও উস্তাদ ইমাম আব্দুর রাজ্জাক ইবনে হুমাম (রহ) তিনি 
|
ইবনে যুরাইয (রহ) হতে তিনি 
|
হযরত নাফে (রহ) হতে তিনি 
|
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) হতে ,

হযরত আব্বাস (রা) বলেন, " রাসুলাল্লাহ (সা) এর ছায়া ছিল না।
তার ছায়া সুর্যের আলোতে পড়তো না এবং ওনার নুরের আলো সুর্যের আলোর উপর প্রাধান্য বিস্তার করত এবং তিনি (রাতে) বাতির আলোর সামনে দাঁড়ালেও বাতির আলোর উপর তার নুরের আলো প্রাধান্য বিস্তার করত। 

(ইমাম আব্দুর রাজ্জাক : জদউল মুফকুদ মিন মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক ১/৫৬ পৃ : হাদিস ২৫)

সনদ পর্যালোচনা :

১ম রাবী : ইমাম আব্দু রাজ্জাক (রহ) :

১. আহমাদ ইবন সালীহ (রঃ) বলেন, “আমি একবার আহমাদ বিন হাম্বল (রঃ) কে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি হাদীস শাস্ত্রে আব্দুর রাজ্জাকের থেকে আর কাউকে পেয়েছেন? আহমাদ বিন হাম্বল (রঃ) বলেন, না”।
[আসকলানী, তাহজিবুত তাহজিব ২/৩৩১]

২. আব্দুর রাজ্জাক রাহমাতুল্লাহি আলাইহি হলে মুসলিম উম্মাহের সর্বশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দীস ইমাম বুখারী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি এর দাদা উস্তাদ। 

২য় রাবী : হযরত ইবনে যুরাইয (রহ) সম্পর্কে রিজালশাস্ত্রের ইমামগন বলেন,
তিনি সিকাহ (বিশ্বস্ত/নির্ভরযোগ্য) ছিলেন। তিনি একজন মর্যাদাবান বর্ননাকারী ছিলেন। তবে তিনি তাদলিস করতেন ও মুরসাল করতেন।

রেফারেন্স : 
★ ইবনে হাজর আসকালানী : তাকরিবু-তাহযীব : ১/১৪২ রাবী নং ৪১৯৩
★ ইবনে হাজর আসকালানী : তাহযীবুত-তাহযীব : ২/৬১৬
★ ইবনে মিযযি : তাহযীবুত - কামাল : ১৮/৩৩৮

৩য় রাবী : হযরত নাফে (রহ) [ওফাত ১১৭ হি] তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে উমরের আজাদকৃত গোলাম। তিনি একজন উচ্চস্তরের ফকিহ ছিলেন, সিকাহ তথা বিশ্বাস্ত এবং দৃঢ় বা শক্তিশালী রাবী ছিলেন। 

রেফারেন্স :

★ ইবনে হাজর আসকালানী : তাকরিবু-তাহযীব : ২/১৮৮ রাবী নং ৭০৮৬
★ ইবনে হাজর আসকালানী : তাহযীবুত-তাহযীব : ২৯/২৯ পৃ
★ ইবনে মিযযি : তাহযীবুত - কামাল : ৪/২১০

৪র্থ রাবী : হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) তিনি একজন প্রসিদ্ধ সাহাবী কারো জানার বাকি রাখে না।



  • হাদিস ২ :



★ ইমাম আহমদ ইবনে আলী মাকরিজী (রহ) :

হযরত আব্বাস (রা) থেকে বর্নিত হাদিসের ২য় সনদ :

উপরোক্ত হাদিসের মতন ও সনদের সমর্থনে অন্য একটি হাদিস রয়েছে : এ হাদিসটি ইমাম তকিউদ্দিন আহমদ ইবনে আলী মাকরীযী (রহ) [ওফাত ৮৪৫ হি] তিনি উক্ত সনদটি বর্ননা করেন এভাবে,

আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ গাদ্দাফী (রহ)
|
(তাবেয়ী) আমর ইবনে আবি আমর (রহ) [ওফাত ১৫০ হি]
|
মুহাম্মদ ইবনুস সায়িব (রহ) [ওফাত ১৪৬ হি]
|
(তাবেয়ী) আবু সালেহ বাযাম (রহ) 
|
হযরত ইবনে আব্বাস (রা) 

হাদিসটি :

আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ গাদ্দাফী (রহ) বলেন আমাদেরকে (তাবেয়ী) আমর ইবনে আবি আমর (রহ) বলেন, তিনি বলেন আমাকে মুহাম্মদ ইবনুস সায়িব (রহ) বলেন, তিনি বলেন আমাকে (তাবেয়ী) আবু সালেহ বাযাম বলেন, তিনি হযরত ইবনে আব্বাস (রা) হতে তিনি (রা) বলেন,

রাসুলাল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর ছায়া ছিল না........।

রেফারেন্স :

★ আল্লামা ইমাম মাকরিযী : ইমতাউল আসমা'আ বিমা লিন্নাবিয়্যি মিনাল আহওয়াল : ২/১৭০ পৃ : দারুল কুতুব ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, লেবানন।




  • হাদিস ৩ :




★ যুগবরন্যে ইমাম হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মোবারক (রহ) ও
★ ইমাম হাফেজ ইবনে জাওজী (রহ) হযরত ইবনে আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) হতে সহিহ সনদে বর্ননা করেন,

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর ছায়া ছিল না।
তিনি যখনই সুর্যের মুখোমুখি দন্ডায়মান হতেন তার নুর সুর্যের আলোর উপর প্রবল থাকত এবং তিনি (রাতে) প্রদীপের আলোতে দন্ডায়মান হলে তার নুরের দ্যুতি ওটার দীপ্তিকে ম্লান করে দিত।

রেফারেন্স :

★ মোল্লা আলী কারী : জামেউল ওয়াসায়িল : ১/২১৭ পৃ :
★ ইমাম যুরকানী : শরহে মাওয়াহিব : ৪/২২০
★ ইমাম মুনাদী : শরহে শামায়েল : ১/৪৭
★ আল্লামা শফী উকাড়বী : জিকরে জামিল : ৩২৪ পৃ:
★ ইমাম ইবনে জাওজী : কিতাবুল ওয়াফা




  • হাদিস ৪ :




★ ইমাম আন-নাসাফী (রহ) :

বিশ্ববিখ্যাত উসুলবিদ ইমাম আবুল বারাকাত নাসাফী (রহ) তিনি তার বিখ্যাত তফসীর গ্রন্থে একটি হাদিস উল্লেখ করেন : আমিরুল মুমেনীন হযরত উসমান ইবনে আফফান (রা) বলেন, রাসুলাল্লাহ (সা) এর ছায়া জমীনে আল্লাহ ফেলেন নি কারন যাতে কোন মানুষ ওনার ছায়ার উপর পা রাখতে না পারে।

রেফারেন্স :

★ নাসাফী : তফসীরে মাদারিক : ২/৪৯২ পৃ : সুরা নুর এর ব্যাখ্যায়
★ আল্লামা শফী উকারবী : শামে কারবালা : ৩২৪ পৃ:
★ আল্লামা শফী উকারবী : জিকরে জামিল
★ আল্লামা গোলাম রাসুল সাঈদী : তাওজিহুল বয়ান : ২৪২ পৃ
★ আহমদ ইয়ার খান নঈমী : রিসালায়ে নুর : ২৫ পৃ:




  • হাদিস ৫ :




★ ইমাম হাকিম তিরমিজী (রহ) :-

® তাবেয়ী হযরত যাকওয়ান রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু বলেন,

انًّ رسول الله صلى الله عليه وسلم لم يكن يرى له ظل فى شمس ولا قمر

অনুবাদঃ হুজুর সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ছায়া না সূযালোকে দেখো যেতো না চন্দ্রালোকে।

দলিল -
★ ইমাম হাকিম তিরমিযী : নাওয়াদিরিল উসূল : ১/২৯৮ পৃ:
★ ইমাম সুয়ুতী : খাসায়েসুল কোবরা : ১/১২২ : হাদিস ৩২৮
★ ইমাম কুস্তালানী : মাওয়াহিবে লাদুন্নীয়া : ২/১২০ পৃ:
★ ইমাম যুরকানী : শরহে মাওয়াহিব : ৪/২২০ পৃ:
★ শায়খ সুলায়মান জুমাল : ফতোয়ায়ে আহমদিয়া পৃ ১৪৮
★ শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দিসে দেহলভী : মাদারেজুন নবুওয়াত : ১/১৪২ পৃ:
★ ইমাম ইউসুফ নাবহানী : যাওয়াহিরুল বিহার : ৩/১৪২ পৃ :
★ ইমাম ইউসুফ নাবহানী : হুজ্জাতুল্লাহি আলাল আলামিন : ৬৬৮ পৃ:
★ ইমাম মাহদী আল-ফার্সী : মাতালিউল মুসাররাত : পৃ ৩৬৫
★ আল্লামা ইবনে সালেহ : সুবলুল হুদা ওয়ার রাশাদ : ২/৯০ পৃ :
★ আ'লা হযরত ইমাম আহমদ রেযা খান : নুরুল মোস্তফা : ৮২ পৃ:
★ আল্লামা ইমাম মুকরিযী : আল ইমতাউল আসমা : ১০/৩০৮ পৃ:
★ আল্লামা ইমাম মুকরিযী : মাকারুম বিখাসায়েসুন্নবী : ২/২৩৫ পৃ:
★ আল্লামা ইমাম শফী উকাড়বী : জিকরে জামিল : ৩২৪ পৃ:
★ আল্লামা ওমর বিন আব্দুল্লাহ সিরাজুদ্দিন : ফতোয়ায়ে সিরাজিয়া : ১/২৯৭ পৃ:




  • হাদিস ৬ :




ইমাম সুয়ুতী (রহ) :-

® ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি তাঁর কিতাব ‘খাসায়েসে কোবরায়’ হুজুর সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ছায়া ছিল না এই বিষয়ে একটি অধ্যায় রচনা করেছেন এবং এই যাকওয়ানের হাদীস বর্ণনা করে বলেন,

قال ابن سبع من خصائصه صلى الله عليه وسلم انّ ظله كان لا يقع على الارض وانه كان نورا فكان اذا مضى فى الشمس او القمر لاينظر له ظل

অনুবাদঃ ইবনে সাবা (রহ) বলেছেন, এটা হুজুর সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বৈশিষ্ট্যাবলীর অন্তর্গত যে, হুজুর সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ছায়া যমীনে পড়তো না এবং তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ নূর। তিনি যখন সূযালোক কিংবা চন্দ্রালোকে চলতেন, তাঁর ছায়া দেখা যেতো না।

রেফারেন্স :

★ ইমাম যুরকানী : শরহে মাওয়াহিব : ৪/২০২ পৃ :
★ ইমাম সুয়ুতী : খাসায়েসুল কোবরা : ১/১২২ : হাদিস ৩২৮
★ শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দিসে দেহলভী : মাদারেজুন নবুওয়াত : ১/১৪২ পৃ:
★ ইমাম ইউসুফ নাবহানী : হুজ্জাতুল্লাহি আলাল আলামিন : ৬৬৮ পৃ:
★ ইমাম মাহদী আল-ফার্সী : মাতালিউল মুসাররাত : পৃ ৩৬৫
★ আ'লা হযরত ইমাম আহমদ রেজা : নুরুল মোস্তফা : ৮২ পৃ:
★ শিফাউস সুদুর





                            মুহাদ্দিসগনের আকিদা :



১-৬ নাম্বার হাদিস সহ ইমামগনের আকিদা উল্লেখ করলাম তাই ২য় বার উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই।


৭) ইমাম কাজী আয়াজ (রহ) :

"রাসুলাল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নবুওয়াত ও রিসালাতের প্রমানাদির মধ্যে এটাও উল্লেখ করা হয়েছে যে তার শরীর মোবারকের সুর্যালোক ও চন্দ্রালোকে কোন ছায়া হতো না কারন ছিলেন নুর। তার শরীর ও পোষাকে মাছি পর্যন্ত বসত না।

রেফারেন্স :

★ ইমাম কাজী আয়াজ : শিফা শরীফ : ১/৪৬২ পৃ:
★ ইমাম সাখাভী : মাকাসিদুল হাসানা : ৮৫ পৃ: হাদিস ১২৬




Saturday, August 1, 2015

There were no Shadow of our Prophet Muhammad صلى الله عليه وسلم :-


From Hadith


Hadith 1: Sayyidina Hakeem Tirmidhi in his book Nawaadirul-Usool narrates from Sayyidina Zakwaan , a close Companion of the Prophet صلى الله عليه وسلم , the following Hadith: "The shadow of the Prophet صلى الله عليه وسلم could not be seen in the brightness of the sun, nor in moonlight".


Hadith 2: Allamah Ibn al-Jawzi in his Kitabul-Wafa narrates a hadith from Sayyidina Abdullah ibn Abbas  the cousin of the Prophet صلى الله عليه وسلم in which he said: "The Messenger of Allah had no shadow, not while standing in the sun, but the brilliance of his light (nur) surpassed the rays of the sun; nor while sitting before a burning light, but his luminous light excelled the lustre of the light".


Hadith 3: Imam Nasafi in his Tafseer Madaarik narrates from Sayyidina Uthman ibn Affan , the son-in-law of the Prophet  that he said to the Prophet صلى الله عليه وسلم : "Allah Almighty does not let your shadow fall on the ground, so that no foot of man can fall on it".


Hadith 4: Imam Jalaludeen Suyuti in his Khasaa'is al-Kubra narrates from Ibn Saba : "This is also a unique feature of the Prophet صلى الله عليه وسلم that his shadow did not touch the ground, because he was light (nur), and when he used to walk in the sunshine his shadow could not be seen."




                         From Scholars




Prophet صلى الله عليه وسلم did not possess a shadow :


★ Qadi Iyad (radiyallahu ta'ala anhu) :

Imam Qadi Iyad in his Ash-Shifa states:"The Prophet صلى الله عليه وسلم did not possess a shadow in the brightness of the sun or in the moonlight, because he was light (nur)".

★ Imam Ahmad Qastalani (radiyallahu ta'ala anhu)

Imam Ahmad Qastalani states in Al-Mawahibul-laduniyya: "That the Prophet صلى الله عليه وسلم did not possess a shadow in the brightness of the sun or moonlight is proven from the ahadith of Tirmidhi of Ibn Zakwaan and Ibn Saba ."

★ Shaykh Abdul Haq Muhaddith Dehlvi (radiyallahu ta'ala anhu)

Shaykh Abdul Haq Muhaddith Dehlvi states in Madaarij an-nubuwwah: "The Prophet's صلى الله عليه وسلم shadow did not appear in sunshine nor in moonlight".

★ Mawlana Jalaluddin Rumi (radiyallahu ta'ala anhu)

Maulana Jalaluddin Rumi in his Mathnawi states: "Let alone the Prophet صلى الله عليه وسلم , even if an ordinary servant of the Prophet صلى الله عليه وسلمreaches the stage of inner mortality (baqa), then like the Prophet صلى الله عليه وسلم, his shadow too disappears"

★ Hazrat Hakeem Tirmidi (radiyallahu ta'ala anhu) in his book "Nawaa Da Rul Usool" narrates a tradition from Hazrat Zakwaan (radiyallahu ta'ala anhu). "The shadow of the Holy Prophet (Sallal Laahu Alaihi Wasallam) could not be seen in the brightness of the sun, nor in moonlight."

★ Seyedena Abdullah Ibn Mubarak and Haafiz Ibn Jouzi narrate from Hazrat Abdullah Ibn Abbas (radiyallahu ta'ala anhu): "The Holy Prophet (Sallal Laahu Alaihi Wasallam) did not possess a shadow, neither in the brightness of the sun, nor in the brightness of a light, but His brightness used to overpower the brightness of the sun and the brightness of a light."


★ Allama Husain Ibn Muhamed Dayaar Bakri (radiyallahu ta'ala anhu) states: "The Holy Prophet (Sallal Laahu Alaihi Wasallam) shadow should not appear on the earth neither was it seen in the sunshine nor in the moonlight."

★ Allama Sulayman Jamal (radiyallahu ta'ala anhu) states: "The Holy Prophet (Sallal Laahu Alaihi Wasallam) shadow should not appear in sunshine nor in the moonlight."

★ Imaam Rabbani Mujaddid Alif Saani (radiyallahu ta'ala anhu) states: "The Holy Prophet (Sallal Laahu Alaihi Wasallam) did not posses a shadow. The reason being that in the Aalme Shahaadat everything's shadow is much more lighter than that material, and it is the greatness of the Holy Prophet(Sallal Laahu Alaihi Wasallam) that nothing is lighter than him so how can he have a shadow."


★ Imam ibn Hajar Makki al-Haytami (radiyallahu ta'ala anhu)

Imam Haytami writes: "He became light to the extent that if he walked in sunlight or moonlight he did not have a shadow. The reason is that shadows pertain only to dense bodies whereas he has been purified by Allah from all the bodily attributes of denseness and he has turned him into light unadulterated and pure, and entirely devoid of shadow." (Sharh Qaseedah Hamziyyah, Afdalul Qurra)

★ Imam Burhanuddin al-Halabi (radiyallahu ta'ala anhu)

Imam Halabi writes:"If he walked in sunlight or in moonlight he had no shadow because he was light." (Seerat-ul-Halbiyah)

★ Imam Rabbani Mujaddid-e-Alfi Thaani (radiyallahu ta'ala anhu)

Imam Rabbani writes: "Indeed the Prophet (sallallahu 'alaihi wasallam) did not have a shadow. This is because in this world, the shadow of a being is always more fine than the actual being itself and in this universe, there is nothing more fine than the Prophet (sallallahu 'alaihi wasallam), hence, how could it be possible that he possessed a shadow"? (Maktubaat Shareef, Vol.3, p.187, Lucknow)

★ Shah Abdul `Azeez Muhaddith-e-Dehlwi (radiyallahu ta'ala anhu)

Shah Abdul `Azeez writes concerning the Shadowless Prophet (sallallahu 'alaihi wasallam):

"His (sallallahu 'alaihi wasallam) shadow did not fall upon the Earth". (Tafseer-e-`Azeezi)

★ Imam al-Zurqani also states that Imams Ibn al-Jawzi and Abd Allah ibn al-Mubarak have reported on the authority of Sayyiduna Abd Allah ibn Abbas (Allah be pleased with him) that the Messenger of Allah (Allah bless him & give him peace) did not have a shadow. (See: Sharh al-Zurqani, 7/200)






বিপদে আপদের সময় যেসব দোয়া পড়বেনঃ

বিপদ-মসিবতে পাঠ করার জন্য কতিপয় দোয়া  এবং এর জন্য আমল: ♦১) উম্মে সালমা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ও...