Monday, July 6, 2015

ইমাম আবু হানীফা (রাহ) কে যারা মুর্খতার বশত সমালোচনা করে তারা না জেনেই করে :-



ইমাম আবু হানীফা (রাহ) কে যারা সমালোচনার চোখে দেখে, হানাফী মাযহাবের যারা সমালোচনা করে, তারা সেটা নাজেনে, না বুঝেই করে থাকে। অথবা ষড়যন্ত্র মুলক ভাবে করে থাকে। ইতোপূর্বে এমন ঘটনা অনেক ঘটেছে।

তেমনি এক ঘটনা ঘটেছিল ইমাম আবু হানীফা (রাহ) এর সমসাময়িক আরেকজন বিখ্যাত ইমাম, ইমাম আওযা’ঈ (রাহ) এর সাথে।
ঘটনাটি উল্লেখ করছি।


★ বিশ্ববিখ্যাত মুহাদ্দিস আব্দুল্লাহ বিন মুবারক (রাহ) বলেন,
আমি ইমাম আওযা’ঈ (রাহ) এর সাথে দেখা করতে শাম দেশে যাই, শাম দেশের বৈরুত নগরীতে তাঁর সাথে আমার দেখা হয়।
তিনি আমাকে দেখে বললেন-

يا خراساني من هذا المبتدع الذي خرج بالكوفة يكنى أبا حنيفة؟

হে খুরাসানী, কুফা নগরীর এ বেদআতী কে, যাকে আবু হানীফা বলা হয়?
ইবনুল মুবারক (রাহ) বলেন,
আমি তাঁর কথার কোন উত্তর না দিয়ে বাড়ী ফিরে এসে আবু হানীফা (রাহ) এর কিতাব নিয়ে বসি এবং তিন দিন ধরে তাঁর কিতাব থেকে বিভিন্ন মাসআলা লিপিবদ্ধ করি।
তৃতীয় দিন আবার আমি ইমাম আওযা’ঈ (রাহ) এর নিকট যাই। ইমাম আওযা’ঈ (রাহ) মসজিদের আযান দিতেন এবং নিজেই ইমামতি করতেন।
তিনি আমাকে দেখে বললেন,
তোমার হাতে এটি কী কিতাব?
আমি তাঁর হাতে কিতাবটি তুলে দিলাম। তিনি ঐসকল মাস’আলাগুলো দেখতে লাগলেন যা মাস’আলাগুলোর ক্ষেত্রে আমি লিখেছিলামঃ قال النّعمان অর্থাৎ নু’মান বলেছেন।
(এখানে ইবনুল মুবারক আবু হানীফা না লিখে উনার নাম নুমান লিখেছিলেন।)


★ ইমাম আওযা’ঈ (রাহ) আযানের সময় হয়ে যাওয়ায় আযান দিতে গেলেন এবং তারপর আবার তা দেখতে থাকেন। এমন সময় নামাজের সময় হয়ে গেলে কিতাবটি জামার পকেটে রেখে নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে আমার নিকট এসে বললেন,
“হে খুরাসানী, এ নুমান বিন সাবিত কে?”
আমি উত্তরে বললাম,
তিনি ইরাকের এক শায়েখ, যার সাথে আমার দেখা হয়েছিল।
(এখানে তিনি আবু হানীফা নামটি উল্লেখ করলেন না।)


★ ইমাম আওযা’ঈ (রাহ) তখন বললেন,

هذا نبيل من المشايخ، اذهب فاستكثر منه.

ইনি তো একজন শ্রেষ্ঠ শায়েখ। তাঁর নিকট তুমি যাও এবং তাঁর থেকে অধিক ইলিম অর্জন কর।
আমি তখন বললাম,

هذا أَبُو حنيفة الذي نهيت عنه.

উনিই হচ্ছেন সেই আবু হানীফা যার ব্যাপারে আপনি নিষেধ করেছিলেন!!

★ ইবনুল মুবারক (রাহ) বলেন,
পরবর্তীতে ইমাম আওযা’ঈ এর সাথে মক্কা শরীফে ইমাম আবু হানীফা (রাহ) এর সাক্ষাত হয়েছিল।তখন তাদের উভয়ের মধ্যে ঐ মাস’লাগুলো নিয়ে আলোচনা হলো। ইমাম আবু হানীফা (রাহ) তাকে মাস’আলাগুলোর ব্যাখ্যা ভালভাবে বুঝিয়ে দিলেন।
ইবনুল মুবারক বলেন,
ইমাম আবু হানীফার নিকট থেকে সরে আসার পর আমি ইমাম আওযা’ঈ (রাহ)কে জিজ্ঞেস করলাম, ইমাম আবু হানীফা (রাহ)কে কেমন দেখলেন?

তিনি জবাব দিলেন,

استغفر الله- لقد كنت في غلط ظاهر- الزم الرجل فانه بخلاف ما بلغني عنه-

আমার ভুল ধারণার জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি। সত্যিই আমি বড় ভুলের মধ্যে ছিলাম। তুমি তাঁর সঙ্গ কখনো ত্যাগ করবে না। মূলত তাঁর সম্পর্কে আমাকে যা জানানো হয়েছে, তা বাস্তবতার সম্পূর্ণ বিপরীত।

রেফারেন্সঃ
১/আসারুল হাদীসঃ১২৪
২/ তারীখু বাগদাদঃ১৩/৩৩৮
৩/তারীখু দিমাশকঃ৩২/৩৯৯
______________________________

ইমাম আওযা'ঈ এর নিকট যে বা যারা ইমাম আবু হানীফা (রাহ) এর বিরুদ্ধে অপপ্রচার করেছিল, এদের উত্তরসূরী, এদের গোস্টি আজো আছে। আমাদেরকে নানাভাবে তাঁর বিরুদ্ধে, হানাফী মাযহাবের বিরুদ্ধে মনকে বিষিয়ে তোলার জন্য দিনরাত কাজ করে চলেছে। এদেরকে চিনে রাখুন।
এরা ধোঁকাবাজ।
এরা ষড়যন্ত্রকারী।
এরা সত্য গোপনকারী।
এদের বিরুদ্ধে নিজে সচেতন হোন। এবং সচেতনতা গড়ে তুলুন।

লিখেছেন : কলম সৈনিক

সূরা ফাতিহা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য :-


সুরা : ফাতিহা :
সূরা ১, আয়াত ৭, শব্দ ২৫, বর্ণ ১১৩।

بِسْمِ اللہِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্ল­াহর নামে (শুরু করছি)।[1]

(১) যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি জগত সমূহের প্রতিপালক।
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
(২) যিনি করুণাময় কৃপানিধান।
 الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ
(৩) যিনি বিচার দিবসের মালিক।
الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
(৪) আমরা কেবলমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং কেবলমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি।
 مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ
(৫) তুমি আমাদেরকে সরল পথ প্রদর্শন কর।
 إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ
(৬) এমন ব্যক্তিদের পথ, যাদেরকে তুমি পুরস্কৃত করেছ।
اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ
(৭) তাদের পথ নয়, যারা অভিশপ্ত ও পথভ্রষ্ট হয়েছে। (আমীন! তুমি কবুল কর!)
صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ
সূরা (السُّوْرَةُ) অর্থ উঁচু স্থান, সীমানা প্রাচীর। আয়াত (الآيَةُ) অর্থ নিদর্শন। কুরআনের একাধিক আয়াত সম্বলিত একটি অংশকে ‘সূরা’ এবং অনেকগুলি আয়াত সম্বলিত এক একটি ভাগকে ‘পারা’ (الْجُزْءُ) বলা হয়। কুরআনের শব্দ ও বাক্যসমূহ আল্লাহর অস্তিত্বের প্রমাণ হিসাবে এগুলিকে আয়াত বা নিদর্শন বলা হয়। পবিত্র কুরআনে ৩০টি পারা ও ১১৪টি সূরা রয়েছে। কুরআনের সবচেয়ে বড় সূরা হ’ল ‘বাক্বারাহ’ এবং ছোট সূরা হ’ল ‘কাওছার’। প্রত্যেক সূরার শুরুতে বিসমিল্লাহ রয়েছে, কেবল সূরা তওবাহ ব্যতীত। পবিত্র কুরআনের আয়াত সংখ্যা ৬২০৪ থেকে ৬২৩৬, শব্দ সংখ্যা ৭৭৪৩৯ এবং বর্ণ সংখ্যা ৩,৪০,৭৫০ (কুরতুবী)। ঈমানের সাথে কুরআনের প্রতিটি বর্ণ পাঠে ১০টি করে নেকী হয়’।[2] রামাযান মাসে এই নেকীর পরিমাণ ১০ থেকে কেবল ৭০০ গুণ নয় বরং এর কোন সংখ্যা-সীমা থাকে না। কেননা তখন আল্লাহ নিজ হাতে সীমাহীন নেকী দান করে থাকেন।[3]

‘সূরাতুল ফাতিহাহ’ অর্থ মুখবন্ধ বা ভূমিকার সূরা। ইমাম কুরতুবী বলেন, একে ‘ফাতিহাহ’ এজন্য বলা হয় যে, এই সূরার মাধ্যমে কুরআন পাঠ শুরু করা হয়। এই সূরার মাধ্যমে কুরআনের সংকলন কাজ শুরু হয়েছে এবং এই সূরার মাধ্যমে ছালাত শুরু করা হয়’।[4] এটি মক্কায় অবতীর্ণ ১ম ও পূর্ণাঙ্গ সূরা। এতে ৭টি আয়াত, ২৫টি কালেমা বা শব্দ এবং ১১৩টি হরফ বা বর্ণ রয়েছে।[5] সূরাটি কুরআনের মূল, কুরআনের ভূমিকা ও ছালাতের প্রতি রাক‘আতে পঠিতব্য সাতটি আয়াতের সমষ্টি ‘আস-সাব‘উল মাছানী’ নামে ছহীহ হাদীছে[6] ও পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছে। যেমন আল্লাহপাক এরশাদ করেন, وَلَقَدْ آتَيْنَاكَ سَبْعاً مِّنَ الْمَثَانِيْ وَالْقُرْآنَ الْعَظِيْمَ ‘আমরা তোমাকে প্রদান করেছি বারবার পঠিতব্য সাতটি আয়াত ও মহান কুরআন’ (হিজর ১৫/৮৭)।



১. নামকরণ :

ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেন, সূরাটির নাম ‘উম্মুল কিতাব’ এজন্য রাখা হয়েছে যে, এই সূরার মাধ্যমেই পবিত্র কুরআনের সংকলন কার্য শুরু করা হয়েছে এবং এই সূরা পাঠের মাধ্যমে ছালাত শুরু করা হয়ে থাকে।[7] আরবরা প্রত্যেক বস্ত্তর উৎস, সারগর্ভ বস্ত্ত বা কোন কাজের অগ্রভাগ, যার অনুগামী শাখা-প্রশাখা সমূহ রয়েছে, তাকে ‘উম্ম’ (أُمٌّ) বলে। যেমন মক্কাকে উম্মুল ক্বোরা (أم القرى) বলা হয়, পৃথিবীর প্রথম ও শীর্ষ মর্যাদাবান নগরী হওয়ার কারণে এবং এটাই পৃথিবীর নাভিমূল ও এখান থেকেই পৃথিবী বিস্তৃতি লাভ করেছে’ (ইবনু জারীর, কুরতুবী, ইবনু কাছীর)। অতএব সূরা ফাতিহাকে উম্মুল কুরআন (أم القرأن) এজন্য বলা হয়েছে যে, এটা দিয়েই কুরআন শুরু হয়েছে এবং এর মধ্যে কুরআনের সমস্ত ইল্ম শামিল রয়েছে’ (কুরতুবী)।

সূরা ফাতিহার নাম সমূহ :

বিভিন্ন হাদীছ, আছার ও বিদ্বানগণের নামকরণের মাধ্যমে অন্যূন ৩০টি নাম বর্ণিত হয়েছে। তন্মধ্যে ছহীহ হাদীছসমূহে এসেছে ৮টি। যেমন : (১) উম্মুল কুরআন (কুরআনের মূল)। (২) উম্মুল কিতাব (কিতাবের মূল)। (৩) আস-সাব‘উল মাছানী (সাতটি বারবার পঠিতব্য আয়াত)। (৪) আল-কুরআনুল ‘আযীম (মহান কুরআন)।[8] (৫) আল-হামদু (যাবতীয় প্রশংসা)। (৬) ছালাত।[9] (৭) রুক্বিয়াহ (ফুঁকদান)।[10] (৮) ফাতিহাতুল কিতাব (কুরআনের মুখবন্ধ)।[11] এ নামে সকল বিদ্বান একমত। কারণ এ সূরা দিয়েই কুরআন পাঠ শুরু হয়। কুরআনুল কারীম লেখা শুরু হয় এবং এটা দিয়েই ছালাত শুরু হয় (কুরতুবী)।

এতদ্ব্যতীত অন্য নামগুলি যেমন : (৯) শিফা (আরোগ্য)[12], (১০) আসাসুল কুরআন (কুরআনের ভিত্তি)। ইবনু আববাস (রাঃ) এ নামকরণ করেছেন (ইবনু কাছীর)। (১১) কাফিয়াহ (যথেষ্ট)। ইয়াহইয়া ইবনু আবী কাছীর এ নামকরণ করেছেন। কারণ এটুকুতেই ছালাত যথেষ্ট এবং এটি ব্যতীত ছালাত হয় না (কুরতুবী)। (১২) ওয়াফিয়াহ (পূর্ণ)। সুফিয়ান বিন উয়ায়না এ নামকরণ করেছেন। কারণ এ সূরাটি সর্বদা পূর্ণভাবে পড়তে হয়। আধাআধি করে দু’রাক‘আতে পড়া যায় না (কুরতুবী)। (১৩) ওয়াক্বিয়াহ (হেফাযতকারী)। (১৪) কান্য (খনি)। এছাড়াও ফাতিহাতুল কুরআন, সূরাতুল হাম্দ, শুক্র, ফাতিহাহ, মিন্নাহ, দো‘আ, সওয়াল, মুনাজাত, তাফভীয, মাসআলাহ, রা-ক্বিয়াহ, নূর, আল-হাম্দুলিল্লাহ, ইল্মুল ইয়াক্বীন, সূরাতুল হাম্দিল ঊলা, সূরাতুল হাম্দিল কুছরা’। এইভাবে নাম বৃদ্ধির ফলে সূরা ফাতিহার মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে।[13]

প্রকাশ থাকে যে, পবিত্র কুরআনের সূরা সমূহের এক বা একাধিক নামকরণ, মাক্কী ও মাদানী সূরার আগে-পিছে সংযোজন ও আয়াত সমূহের বিন্যস্তকরণ সবকিছু ‘তাওক্বীফী’ অর্থাৎ আল্লাহর ‘অহি’ কর্তৃক প্রত্যাদিষ্ট ও রাসূল (ছাঃ) কর্তৃক সন্নিবেশিত, যা অপরিবর্তনীয়।[14] এর মধ্যে গূঢ় তত্ত্বসমূহ নিহিত রয়েছে।

অবতরণকাল :

সর্বপ্রথম সূরা ‘আলাক্ব-এর প্রথম পাঁচটি আয়াত মক্কায় নাযিল হয়।[15] অতঃপর কয়েক দিন অহি-র বিরতিকাল শেষে সূরা মুদ্দাছ্ছির-এর প্রথম ৫টি আয়াত নাযিল হয়।[16] অন্য বর্ণনায় ৭টি আয়াতের কথা এসেছে।[17] তারপরে সর্বপ্রথম পূর্ণাংগ সূরা হিসাবে সূরা ফাতিহা নাযিল হয়।[18]

বিষয়বস্ত্ত :

সূরা ফাতিহার মূল বিষয়বস্ত্ত হ’ল দো‘আ বা প্রার্থনা। একারণেই এই সূরার অন্যতম নাম হ’ল ‘সূরাতুদ দু‘আ’। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন,أَفْضَلُ الذِّكْرِ لآ إِلَهَ إِلاَّ الله ُوَأَفْضَلُ الدُّعَاءِ اَلْحَمْدُ ِللهِ ‘শ্রেষ্ঠ যিক্র হ’ল লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং শ্রেষ্ঠ দো‘আ হ’ল ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বা সূরা ফাতিহা’।[19]এর দ্বারা একথাই বুঝানো হয়েছে যে, মহাগ্রন্থ আল-কুরআন হ’তে ফায়েদা পেতে গেলে তাকে অবশ্যই উক্ত নিয়তে আল্লাহর নিকটে প্রার্থনা করতে হবে। এই সূরাতে বর্ণিত মূল দো‘আ হ’ল ৫ম আয়াত, إِهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيْمَ ‘তুমি আমাদেরকে সরল পথ প্রদর্শন কর’! বস্ত্ততঃ সমস্ত কুরআনই উক্ত প্রার্থনার বিস্তারিত জওয়াব।


ফাযায়েল :

(১) এই সূরা কুরআনের সর্বাধিক মর্যাদামন্ডিত সূরা। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, যার হাতে আমার জীবন তার কসম করে বলছি, তাওরাত, যবূর, ইনজীল এবং কুরআনে এই সূরার তুলনীয় কোন সূরা নেই।[22]

(২) এই সূরা এবং সূরায়ে বাক্বারাহর শেষ তিনটি আয়াত হ’ল আল্লাহর পক্ষ হ’তে প্রেরিত বিশেষ নূর, যা ইতিপূর্বে কোন নবীকে দেওয়া হয়নি।[23]


(৪) হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) বলেন, একদা এক সফরে আমাদের এক সাথী জনৈক গোত্রপতিকে শুধুমাত্র সূরা ফাতিহা পড়ে ফুঁক দিয়ে সাপের বিষ ঝাড়েন ও তিনি সুস্থ হন...।[28] এজন্য এ সূরাকে রাসূল (ছাঃ) ‘রুক্বইয়াহ’ (الرُّقْيَةُ) বলেছেন।[29] কেননা এই সূরা পড়ে ফুঁক দিলে আল্লাহর হুকুমে রোগী সুস্থ হয়ে যায়।

(৫) ইমাম কুরতুবী বলেন, সূরা ফাতিহাতে যে সকল ‘ছিফাত’ রয়েছে, তা অন্য কোথাও নেই। এমনকি একেই ‘আল-কুরআনুল আযীম’ বা মহান কুরআন বলা হয়েছে (হিজর ১৫/৮৭)।

এই সূরার ২৫টি কলেমা কুরআনের যাবতীয় ইল্মকে শামিল করে। এই সূরার বিশেষ মর্যাদা এই যে, আল্লাহ এটিকে নিজের ও নিজের বান্দার মধ্যে ভাগ করে নিয়েছেন। একে বাদ দিয়ে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা সম্ভব নয়। সেজন্যই একে ‘উম্মুল কুরআন’ বা ‘কুরআনের সারবস্ত্ত’ বলা হয়েছে। পবিত্র কুরআন মূলতঃ তিনটি বিষয়ে বিভক্ত। তাওহীদ, আহকাম ও নছীহত। সূরা ইখলাছে ‘তাওহীদ’ পূর্ণাঙ্গভাবে থাকার কারণে তা কুরআনের এক তৃতীয়াংশের মর্যাদা পেয়েছে। কিন্তু সূরা ফাতিহাতে তিনটি বিষয় একত্রে থাকার কারণে তা ‘উম্মুল কুরআন’ হওয়ার মহত্তম মর্যাদা লাভে ধন্য হয়েছে।[30]

রাসূলুললাহ (ছাঃ) তাঁকে ব্যথার স্থানে হাত রেখে তিনবার ‘বিসমিল্লাহ’ বলতে ও সাত বার أَعُوْذُ بِعِزَّةِ اللهِ وَقُدْرَتِهِ مِنْ شَرِّ مَا أَجِدُ وَأُحَاذِرُ পাঠ করতে আদেশ দিলেন এবং তাতে তিনি সুস্থ হয়ে গেলেন’।[40]

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন, لاَ يُدْخِلُ أحدًا منكم عملُه الجنةَ وَلاَ يُجِيْرُهُ مِنَ النَّارِ وَلاَ أَنَا إِلاَّ بِرَحْمَةِ اللهِ ‘কারু আমল তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে না কিংবা জাহান্নাম থেকে রেহাই দেবে না, এমনকি আমাকেও নয়, আল্লাহর রহমত ব্যতীত’।[41] তাই শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ’ পাঠের মাধ্যমে মূলতঃ আল্লাহর রহমত ও অনুগ্রহ কামনা করা হয়।


বিসমিল্লাহ সূরা ফাতিহার অংশ কি-না :

একদল বিদ্বান একে সূরা ফাতিহার অংশ বলেন এবং জেহরী ছালাতে বিসমিল্লাহ সরবে পড়েন। আরেকদল বিদ্বান একে সূরা ফাতিহার অংশ বলেন না এবং জেহরী ছালাতে এটি নীরবে পাঠ করেন। শেষোক্ত বিদ্বানগণের বক্তব্যই সঠিক। কেননা বিসমিল্লাহ সূরা ফাতিহার অংশ হওয়ার কোন ছহীহ দলীল নেই। ইতিপূর্বে আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণিত ছহীহ মুসলিম-এর হাদীছটিতে সূরা ফাতিহাকে আল্লাহ ও বান্দার মধ্যে যে ভাগ করা হয়েছে,[42] সেখানে বিসমিল্লাহর কোন উল্লেখ নেই। বস্ত্ততঃ কুরআনের সকল আয়াতই মুতাওয়াতির। কোন আয়াতেই কোন মতভেদ নেই। ইবনুল ‘আরাবী বলেন, বিসমিল্লাহ সূরা ফাতিহার অংশ না হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, এতে মতভেদ রয়েছে। অথচ কুরআনে কোন মতভেদ নেই’। বরং এটি সূরা নমলের একটি আয়াত মাত্র, যা দুই সূরার মধ্যে পার্থক্যকারী হিসাবে পঠিত হয়।[43]

হযরত আনাস বিন মালেক (রাঃ) বলেন, আমি রাসূল (ছাঃ), আবুবকর, ওমর ও ওছমান (রাঃ)-এর পিছনে ছালাত আদায় করেছি। তাঁরা সর্বদা আলহামদু লিল্লাহি রবিবল ‘আলামীন দিয়েই ক্বিরাআত শুরু করতেন। ক্বিরাআতের শুরুতে বা শেষে তাঁদেরকে কখনো সরবে বিসমিল্লাহ পড়তে শুনিনি’।[44]


References :



[1]. এটি সূরা নমলের ৩০ আয়াত। যা সূরা তওবা ব্যতীত প্রতিটি সূরার শুরুতে পার্থক্যকারী হিসাবে পঠিত হয়। এতে ৪টি শব্দ ও ১৯টি বর্ণ রয়েছে।

[2]. তিরমিযী হা/২৯১০, দারেমী; মিশকাত হা/২১৩৭ ‘কুরআনের ফযীলতসমূহ’ অধ্যায়।

[3]. মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/১৯৫৯, ‘ছওম’ অধ্যায়।

[4]. আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আহমাদ আনছারী আল-খাযরাজী আল-কুরতুবী (মৃঃ ৬৭১ হিঃ/১২৭৩ খৃঃ), আল-জামে‘ লি আহকামিল কুরআন, ওরফে তাফসীরুল কুরতুবী, তাহকীক : আব্দুর রাযযাক আল-মাহদী (বৈরূত : দারুল কিতাবিল ‘আরাবী ১৪২৪/২০০৪ খৃঃ) ১/১৫০ পৃ:।

[5]. ইমাদুদ্দীন আবুল ফিদা ইসমাঈল বিন ওমর ইবনু কাছীর আল-কুরায়শী আদ-দিমাশক্বী (৭০১-৭৪ হিঃ/১৩০১-৭৩ খৃঃ), তাফসীরুল কুরআনিল ‘আযীম, ওরফে তাফসীর ইবনু কাছীর (কায়রো : দারুল হাদীছ ১৪২৩ হিঃ/২০০২ খৃঃ), ১/৪৮ পৃ:।

[6]. যেমন হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণিত মরফূ হাদীছে এসেছে- রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, أُمُّ الْقُرْآنِ هِىَ السَّبْعُ الْمَثَانِى وَالْقُرْآنُ الْعَظِيمُ (বুখারী হা/৪৭০৪ ‘তাফসীর’ অধ্যায়, ‘সূরা হিজর’ অনুচ্ছেদ; আহমাদ হা/৯৭৮৭, সনদ ছহীহ)। অন্য বর্ণনায় এসেছে- وقال أيضا اَلْحَمْدُ ِللهِ أُمُّ الْقُرْآنِ وَأُمُّ الْكِتَابِ وَالسَّبْعُ الْمَثَانِى (তিরমিযী হা/৩১২৪, আবুদাঊদ হা/১৪৫৭, সনদ ছহীহ)।

[7]. বুখারী, ‘তাফসীর’ অধ্যায়-৬৫, অনুচ্ছেদ-১ ‘ফাতিহাতুল কিতাব’-এর শুরুতে।

[8]. হিজর ১৫/৮৭; বুখারী তা‘লীক্ব হা/৪৭০৪; আহমাদ হা/৯৭৮৭, তিরমিযী হা/৩১২৪, আবুদাঊদ হা/১৪৫৭।

[9]. মুসলিম হা/৩৯৫, নাসাঈ হা/৯০৯; মিশকাত হা/৮২৩।

[10]. বুখারী হা/৫৭৩৬, মুসলিম হা/২২০১।

[11]. বুখারী হা/৭৫৬, মুসলিম হা/৩৯৪, ৮০৬; মিশকাত হা/৮২২, ২১২৪।

[12]. দারেমী হা/৩৩৭০, মুহাক্কিক : হুসাইন আসাদ সালীম, সনদ মুরসাল ছহীহ; মিশকাত হা/২১৭০।

[13]. আব্দুস সাত্তার দেহলভী, তাফসীরে সূরায়ে ফাতিহা (করাচী : মাকতাবা আইয়ূবিয়াহ, ৪র্থ সংস্করণ, ১৩৮৫/ ১৯৬৫), পৃঃ ৬৮-৯২। গৃহীত : ‘খাযীনাতুল আসরার’; সুয়ূতী, ‘আল-ইতক্বান’; ভুপালী, ‘আদ-দীনুল খালিছ’।

[14]. মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/২০৯৮-৯৯; বুখারী হা/৪৫৩৬; তাফসীর কুরতুবী ১/৬০।

[15]. ইবনু কাছীর ৪/৫৬৪।

[16]. বুখারী, ফাৎহুল বারী হা/৩-এর ব্যাখ্যা, ১/৩৭; ঐ, হা/৪৯২৬ ‘তাফসীর’ অধ্যায়-৬৫, অনুচ্ছেদ-৫।

[17]. ইবনু কাছীর ৮/২৩৫। গৃহীত : ত্বাবারাণী, সনদ যঈফ, তাহকীক ইবনু কাছীর।

[18]. মান্না‘ আল-ক্বাত্ত্বান, মাবাহিছ ফী উলূমিল কুরআন (কায়রো : মাকতাবা ওয়াহবাহ, ১৩শ সংস্করণ ২০০৪ খৃঃ) পৃঃ ৬৪।

[19]. তিরমিযী হা/৩৩৮৩, ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/২৩০৬।


[22]. বুখারী হা/৪৭০৩; আহমাদ, তিরমিযী, মিশকাত হা/২১৪২।

[23]. মুসলিম হা/৮০৬ অধ্যায়-৬, ‘সূরা ফাতিহার ফযীলত’ অনুচ্ছেদ-৪৩, মিশকাত হা/২১২৪।


[28]. বুখারী হা/৫৭৩৭ ‘চিকিৎসা’ অধ্যায়; মিশকাত হা/২৯৮৫।

[29]. বুখারী হা/৫৭৩৬, মুসলিম হা/২২০১ ‘সালাম’ অধ্যায়; তাফসীর কুরতুবী, ইবনু কাছীর।

[30]. তাফসীর কুরতুবী ১/১৪৮-৪৯।


[40]. মুসলিম হা/২২০২, মিশকাত হা/১৫৩৩; কুরতুবী ১/৯৮।

[41]. মুসলিম হা/২৮১৭, মিশকাত হা/২৩৭২।

[42]. মুসলিম হা/৩৯৫; মিশকাত হা/৮২৩।

[43]. কুরতুবী ১/১২৯-১৩০; আলোচনা দ্রষ্টব্য ছালাতুর রাসূল (ছাঃ) ৪র্থ সংস্করণ, পৃ: ৮৬-৮৭।

[44]. মুসলিম হা/৩৯৯, আহমাদ হা/১৩৩৬১।








শয়তানের ধোঁকা থেকে বাঁচার উপায় হল সুন্নাহর অনুসরন করা :-



(১) আল্লাহ্র কাছে শয়তান থেকে আশ্রয় চাওয়া :
শয়তান যখনই মানুষকে ধোঁকা দেওয়ার চেষ্টা করবে তখন আল্লাহ্র কাছে আশ্রয় চাইতে হবে। আল্লাহ বলেন, وَإِمَّا يَنْزَغَنَّكَ مِنَ الشَّيْطَانِ نَزْغٌ فَاسْتَعِذْ بِاللهِ إِنَّهُ سَمِيْعٌ عَلِيْمٌ- ‘শয়তানের কুমন্ত্রণা যদি তোমাকে প্ররোচিত করে, তবে তুমি আল্লাহ্র আশ্রয় প্রার্থনা কর, তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ’ (আ‘রাফ ৭/২০০; ফুছছিলাত ৪১/৩৬)। শয়তান থেকে সব সময় আল্লাহ্র কাছে আশ্রয় চাইতে হবে। তবে কুরআন-হাদীছে নিম্নোক্ত কয়েকটি স্থানের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে-
(ক) কুরআন তিলাওয়াতের সময় : কুরআন তিলাওয়াত একটি ইবাদত। কুরআনের প্রতিটি হরফ পাঠের বিনিময়ে ১০টি করে নেকী রয়েছে।১ তাই কুরআন তিলাওয়াতের সময় যাতে শয়তান ধোঁকা দিতে না পারে সেজন্য কুরআন তিলাওয়াতের পূর্বে আল্লাহ্র কাছে শয়তান থেকে আশ্রয় চাওয়ার নিদের্শ দিয়ে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, فَإِذَا قَرَأْتَ الْقُرْآنَ فَاسْتَعِذْ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ. ‘যখন তুমি কুরআন তিলাওয়াত করবে তখন অভিশপ্ত শয়তান থেকে আল্লাহ্র কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করবে’(নাহল ১৬/৯৮)।
(খ) পায়খানা-প্রসাবখানায় প্রবেশের সময় : রাসূলুল্লাহ  (ছাঃ) টয়লেটে প্রবেশের সময় বলতেন, بِسْمِ اللهِ اَللَّهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ- (বিসমিল্লা-হি আল্লা-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযুবিকা মিনাল খুবুছি ওয়াল খাবা-ইছ)। অর্থ : ‘আল্লাহ্র নামে প্রবেশ করছি। হে আল্লাহ! আমি পুরুষ ও স্ত্রী জিন হ’তে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি’।২
(গ) যাদুতে আক্রান্ত হ’লে বা নযর লাগলে : আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) জিন ও ইনসানের নযর লাগা হ’তে আল্লাহ্র নিকট আশ্রয় চাইতেন। কিন্তু যখন সূরায়ে ফালাক্ব ও নাস নাযিল হ’ল, তখন তিনি সব বাদ দিয়ে কেবল ঐ দু’টি সূরা দ্বারা আল্লাহ্র কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন’।৩
(ঘ) মসজিদে প্রবেশের সময় : আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনিল আছ (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) যখন মসজিদে প্রবেশ করতেন, তখন তিনি বলতেন, أَعُوْذُ بِاللهِ الْعَظِيْمِ وَبِوَجْهِهِ الْكَرِيْمِ وَسُلْطَانِهِ الْقَدِيْمِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ- (আ‘ঊযুবিল্লা-হিল আযীম ওয়া বিওয়াজহিহিল কারীম ওয়া সুলত্বা-নিহিল কাদীম মিনাশ শায়তানির রাজীম)। ‘আমি মহান আল্লাহর নিকট বিতাড়িত শয়তান হ’তে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। যিনি প্রাচীন রাজত্ব ও মর্যাদাপূর্ণ চেহারার অধিকারী’। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আরো বলেন, ‘যদি তুমি এটা বল, তখন শয়তান বলে, সে আমার কাছ থেকে সারাদিনের জন্য নিরাপত্তা পেয়ে গেল’।৪
(ঙ) ছালাতে ওয়াসওসা দিলে : ওছমান বিন আবুল ‘আছ (রাঃ) নবী করীম (ছাঃ)-কে বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল (ছাঃ)! শয়তান আমার মধ্যে এবং আমার ছালাত ও ক্বিরাআতের মধ্যে অন্তরায় হয়ে আমার ক্বিরাআতে জটিলতা সৃষ্টি করে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, এ হচ্ছে শয়তান, যাকে ‘খিনযাব’ বলা হয়। তুমি তার আগমন অনুভব করলে আল্লাহ্র নিকট তিনবার আশ্রয় প্রার্থনা করবে এবং বাম দিকে তিনবার থুক ফেলবে। তিনি (ওছমান) বলেন, এরপর থেকে আমি এমনটি করি। ফলে আল্লাহ তাকে আমার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দেন’।৫
(চ) রাগের সময় : রাগ শয়তানের পক্ষ থেকে আসে। তাই রাগের সময় শয়তান থেকে আল্লাহ্র কাছে আশ্রয় চাইতে হবে। সুলায়মান ইবনু সূরাদ (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর সঙ্গে উপবিষ্ট ছিলাম। তখন দু’জন লোক গালাগালি করছিল। তাদের একজনের চেহারা লাল হয়ে গিয়েছিল এবং তার রগগুলো ফুলে গিয়েছিল। তখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, আমি এমন একটি দো‘আ জানি, এই লোকটি তা পড়লে তার রাগ দূর হয়ে যাবে। সে যদি পড়ে ‘আঊযুবিল্লা-হি মিনাশ শায়তানির রাজীম’ তবে তার রাগ চলে যাবে। তখন সুলায়মান তাকে বলল, নবী (ছাঃ) বলেছেন, তুমি আল্লাহ্র নিকট শয়তান থেকে আশ্রয় চাও। সে বলল, আমি কি পাগল হয়েছি’।৬



(ছ) খারাপ স্বপ্ন দেখলে : ক্বাতাদাহ (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, الرُّؤْيَا الصَّالِحَةُ مِنَ اللهِ وَالْحُلُمُ مِنَ الشَّيْطَانِ فَإِذَا حَلَمَ أَحَدُكُمْ حُلُمًا يَخَافُهُ فَلْيَبْصُقْ عَنْ يَسَارِهِ وَلْيَتَعَوَّذْ بِاللهِ مِنْ شَرِّهَا فَإِنَّهَا لاَ تَضُرُّهُ- ‘সৎ ও ভাল স্বপ্ন আল্লাহ্র পক্ষ থেকে হয়ে থাকে। আর মন্দ স্বপ্ন শয়তানের পক্ষ থেকে হয়ে থাকে। কাজেই তোমাদের কেউ যখন ভয়ানক মন্দ স্বপ্ন দেখে তখন সে যেন তার বাম দিকে থুকু ফেলে এবং শয়তানের ক্ষতি হ’তে আল্লাহ্র নিকট আশ্রয় চায়। তাহ’লে এমন স্বপ্ন তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না’।৭
(জ) বাড়ি হ’তে বের হওয়ার সময় : আনাস                                                                                                                                                                                                বিন মালেক (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, مَنْ قَالَ يَعْنِيْ إِذَا خَرَجَ مِنْ بَيْتِهِ بِسْمِ اللهِ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللهِ لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللهِ يُقَالُ لَهُ كُفِيْتَ وَوُقِيْتَ وَتَنَحَّى عَنْهُ الشَّيْطَانُ- ‘যে ব্যক্তি ঘর থেকে বের হওয়ার সময় বলে ‘বিসমিল্লা-হি তাওয়াক্কালতু ‘আলাল্লা-হি ওয়া লা হাওলা ওয়ালা কুউওয়াতা ইল্লা বিল্লা-হ’ তখন তার জন্য বলা হয়, তোমার জন্য যথেষ্ট হয়েছে, তুমি রক্ষা পেয়েছ এবং শয়তান তার থেকে দূরে সরে যায়’।৮ অপর একটি হাদীছে এসেছে, فَيَقُولُ لَهُ شَيْطَانٌ آخَرُ كَيْفَ لَكَ بِرَجُلٍ قَدْ هُدِيَ وَكُفِيَ وَوُقِيَ-  ‘তার জন্য অন্য শয়তান বলে, ঐ লোককে তুমি কিভাবে পথভ্রষ্ট করবে যে ইতিমধ্যে হেদায়াতপ্রাপ্ত হয়েছে, তার জন্য যথেষ্ট হয়েছে এবং রক্ষা পেয়েছে’।৯
(ঝ) স্ত্রী সহবাসের সময় : ইবনু আববাস (রাঃ) হ’তে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ স্ত্রীর কাছে এসে যেন বলে, بِسْمِ اللهِ اَللَّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ وَجَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا- (বিসমিল্লাহি আল্লা-হুম্মা জান্নিবনা শায়তানা ও জান্নিবিশ শায়তানা মা রাযাকতানা)। অর্থ- বিসমিল্লাহ। হে আল্লাহ! আমাদেরকে শয়তানের প্রভাব থেকে দূরে রাখ। আর আমাদের যে সন্তান দান করবে তাকেও শয়তানের প্রভাব থেকে বাঁচিয়ে রাখ’। অতঃপর তাদেরকে যে সন্তান দেয়া হবে শয়তান তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না’।১০
(ঞ) কাউকে বিদায় দেওয়ার সময় : আবদুল্লাহ ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) হাসান ও হুসাইন (রাঃ)-কে আল্লাহ্র আশ্রয়ে সোপর্দ করতেন এবং বলতেন, তোমাদের পিতা ইবরাহীম (আঃ) ইসমাঈল ও ইসহাক্বকে এই বলে আল্লাহ্র আশ্রয়ে সোপর্দ করতেন, أَعُوْذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لاَمَّةٍ- ‘আমি আল্লাহ্র পরিপূর্ণ বাণীগুলির আশ্রয় নিচ্ছি প্রত্যেক শয়তান ও দুশ্চিন্তা সৃষ্টিকারী বস্ত্ত হ’তে এবং প্রত্যেক অনিষ্টকর দৃষ্টি হ’তে’।১১
(২) কুরআন তিলাওয়াত করা :
(ক) সূরা বাক্বারাহ পাঠ করা : রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, لَا تَجْعَلُوْا بُيُوْتَكُمْ مَقَابِرَ إِنَّ الشَّيْطَانَ يَنْفِرُ مِنَ الْبَيْتِ الَّذِيْ تُقْرَأُ فِيْهِ سُوْرَةُ الْبَقَرَةِ- ‘তোমাদের ঘরগুলোকে কবরে পরিণত করো না। যে ঘরে সূরা বাক্বারাহ পাঠ করা হয়, সে ঘর থেকে শয়তান পালিয়ে যায়’।১২
(খ) আয়াতুল কুরসী পাঠ করা : আবূ আউয়ূব আনছারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তাঁর খেজুর বাগানে ছোট্ট একটি মাচান ছিল। তিনি তাতে শুকনো খেজুর রাখতেন। রাতে শয়তান জিন এসে মাচান থেকে খেজুর নিয়ে যেত। তিনি এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর কাছে নালিশ করলেন। তিনি বললেন, যাও, এটিকে তুমি যখন দেখতে পাবে তখন বলবে বিসমিল্লা-হ, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তোমাকে ডেকেছেন। রাবী বলেন, জিন আসতেই তিনি তাকে ধরে ফেলেন। সে তখন কসম করে বলল যে, আর কখনও আসবে না। কাজেই তাকে তিনি ছেড়ে দিলেন। অতঃপর তিনি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর কাছে আসলে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমার বন্দী কি করেছে? তিনি বললেন, সে শপথ করেছে যে, সে আর কখনো আসবে না। তিনি বললেন, সে মিথ্যা বলেছে এবং সে তো মিথ্যা বলায় অভ্যস্ত। রাবী বলেন, এরপর তিনি তাকে আবার ধরলেন। এবারও সে শপথ করে বলল যে, সে আর আসবে না। তিনি তাকে ছেড়ে দিলেন। অতঃপর তিনি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর কাছে হাযির হ’লে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কি হে! তোমার বন্দীর কি খবর? তিনি বলেন, সে কসম করে বলেছে যে, সে আর আসবে না, এজন্য আমি তাকে ছেড়ে দিয়েছি। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, সে এবারও মিথ্যা বলেছে, আর সে মিথ্যা বলায় অভ্যস্ত। রাবী বলেন, তিনি আবার তাকে ধরে ফেলেন এবং বলেন, আমি তোমাকে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর কাছে না নিয়ে ছাড়ছি না। সে বলল, আমি আপনাকে একটি বিষয় স্মরণ করাতে চাই। আপনি আপনার ঘরে ‘আয়াতুল করসী’ পাঠ করবেন। তাহ’লে কোন শয়তান বা অন্য কিছু এতে প্রবেশ করতে পারবে না। এবার তিনি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর কাছে হাযির হ’লে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমার বন্দী কি করেছে? রাবী বলেন, আমি রাসূল (ছাঃ)-কে জিনের কথা বললাম। তিনি বললেন, ‘সে মিথ্যাবাদী হ’লেও একথাটি সত্য বলেছে’।১৩ উবাই বিন কা‘ব (রাঃ)-এর ব্যাপারেও এ রকম একটি ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।১৪
(৩) ইখলাছ অবলম্বন করা :
শয়তান সকলকে ধোঁকা দিয়ে জাহান্নামী করতে পারলেও ইখলাছ অবলম্বনকারীকে ধোঁকা দিতে পারে না। শয়তান আল্লাহ্র কাছে এই ওয়াদা করেছে যে,  قَالَ رَبِّ بِمَا أَغْوَيْتَنِيْ لأُزَيِّنَنَّ لَهُمْ فِي الْأَرْضِ وَلأُغْوِيَنَّهُمْ أَجْمَعِيْنَ- إِلاَّ عِبَادَكَ مِنْهُمُ الْمُخْلَصِيْنَ- ‘সে (শয়তান) বলল, হে আমার পালনকর্তা! আপনি যেমন আমাকে পথভ্রষ্ট করেছেন, আমিও তাদের সবাইকে পৃথিবীতে নানা সৌন্দর্যে আকৃষ্ট করব এবং তাদের সবাইকে পথভ্রষ্ট করব। তাদের মধ্যে আপনার একনিষ্ঠ বান্দাদের ব্যতীত’ (হিজর ১৫/৩৯-৪০)। অন্য আয়াতে এসেছে, قَالَ فَبِعِزَّتِكَ لَأُغْوِيَنَّهُمْ أَجْمَعِيْنَ- إِلَّا عِبَادَكَ مِنْهُمُ الْمُخْلَصِيْنَ- ‘সে (শয়তান) বলল, হে আমার প্রতিপালক! আপনার কসম, আমি তাদের সবাইকে পথভ্রষ্ট করব। তাদের মধ্যে আপনার একনিষ্ঠ বান্দাদের ব্যতীত’ (ছোয়াদ ৩৮/৮২-৮৩)।
(৪) সকালে উঠে ফজর ছালাত আদায় করা :
মানুষ রাত্রে ঘুমানোর পরে শয়তান মানুষকে বেশী ঘুমানের জন্য এবং ফজর ছালাত কাযা করানোর জন্য বহু চেষ্টা করে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন,
يَعْقِدُ الشَّيْطَانُ عَلَى قَافِيَةِ رَأْسِ أَحَدِكُمْ إِذَا هُوَ نَامَ ثَلاَثَ عُقَدٍ يَضْرِبُ كُلَّ عُقْدَةٍ عَلَيْكَ لَيْلٌ طَوِيْلٌ فَارْقُدْ فَإِنِ اسْتَيْقَظَ فَذَكَرَ اللهَ انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ، فَإِنْ تَوَضَّأَ انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ، فَإِنْ صَلَّى انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ، فَأَصْبَحَ نَشِيْطًا طَيِّبَ النَّفْسِ وَإِلاَّ أَصْبَحَ خَبِيْثَ النَّفْسِ كَسْلاَنَ-
‘যখন তোমাদের কেউ ঘুমায় শয়তান তার মাথার পিছন দিকে তিনটি গিরা দেয় এবং প্রত্যেক গিরার উপর মোহর মেরে বা থাবা মেরে বলে, রাত অনেক আছে তুমি নিশ্চিন্তে ঘুমাও। যদি সে জাগে ও দো‘আ পড়ে তাহ’লে একটি গিরা খুলে যায়। তারপর সে ওযূ করলে আরও একটি গিরা খুলে যায়। অতঃপর সে ছালাত আদায় করলে অপর গিরাটিও খুলে যায় এবং সে সকালে প্রফুল্ল­ মনে, পবিত্র অন্তরে সকাল করে। অন্যথা সে সকালে উঠে কলুষিত অন্তর ও অলস মনে’।১৫
অন্যত্র রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ যখন ঘুম থেকে উঠে এবং ওযূ করে তখন তার উচিৎ তিনবার নাক ঝেড়ে ফেলা। কারণ শয়তান তার নাকের ছিদ্রে রাত কাটিয়েছে’।১৬
আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর সামনে এক ব্যক্তি সম্পর্কে আলোচনা করা হ’ল, যে সকাল পর্যন্ত ঘুমিয়ে কাটিয়েছে, ছালাতের জন্য (যথাসময়ে) জাগ্রত হয়নি, তখন তিনি বললেন, ‘শয়তান তার কানে পেশাব করে দিয়েছে’।১৭
(৫) আল্লাহকে স্মরণ করা :
আল্লাহকে স্মরণ করলে শয়তান কাছে আসতে পারে না। আল্লাহ্র স্মরণ থেকে মানুষ যখন দূরে চলে যায়, তখন শয়তান তাদের বন্ধু হয়। আল্লাহ বলেন, وَمَنْ يَّعْشُ عَنْ ذِكْرِ الرَّحْمَنِ نُقَيِّضْ لَهُ شَيْطَاناً فَهُوَ لَهُ قَرِيْنٌ، وَإِنَّهُمْ لَيَصُدُّوْنَهُمْ عَنِ السَّبِيْلِ وَيَحْسَبُوْنَ أَنَّهُم مُّهْتَدُوْنَ- ‘যে ব্যক্তি দয়াময় আল্লাহ্র স্মরণ থেকে চোখ ফিরিয়ে নেয়, আমি তার জন্য এক শয়তান নিয়োজিত করে দেই, অতঃপর সে-ই হয় তার সঙ্গী। শয়তানরাই মানুষকে সৎ পথে বাধা দান করে, আর মানুষ মনে করে যে, তারা সৎ পথেই রয়েছে’ (যুখরুফ ৪৩/৩৬-৩৭)।
(৬) তাহলীল পাঠ করা :
আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,
مَنْ قَالَ لاَ إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ فِيْ يَوْمٍ مِائَةَ مَرَّةٍ كَانَتْ لَهُ عَدْلَ عَشْرِ رِقَابٍ وَكُتِبَتْ لَهُ مِائَةُ حَسَنَةٍ وَمُحِيَتْ عَنْهُ مِائَةُ سَيِّئَةٍ وَكَانَتْ لَهُ حِرْزًا مِنَ الشَّيْطَانِ يَوْمَهُ ذَلِكَ حَتَّى يُمْسِيَ وَلَمْ يَأْتِ أَحَدٌ بِأَفْضَلَ مِمَّا جَاءَ بِهِ إِلاَّ أَحَدٌ عَمِلَ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ-
‘যে ব্যক্তি প্রতিদিন ১০০ বার বলবে ‘লা ইলাহা ইল্ল­াল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকালাহু লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল­ী শাইইন কাদীর’। অর্থ: ‘আল্ল­াহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তিনি এক, তাঁর কোন শরীক নেই, সমস্ত রাজত্ব তাঁর। সমস্ত প্রসংশা তাঁর, তিনি সমস্ত বস্ত্তর উপর শক্তিশালী’। সে ১০টি গোলাম আযাদ করার সমান ছওয়াব পাবে। তার নামে লেখা হবে ১০০টি নেকী এবং তার নাম থেকে ১০০টি গুনাহ মুছে ফেলা হবে। সেদিন সন্ধ্যা হওয়া পর্যন্ত শয়তানের সংশ্রব থেকে সংরক্ষিত থাকবে। আর ক্বিয়ামতের দিন কেউ তার চাইতে ভাল আমল আনতে পারবে না, একমাত্র সেই ব্যক্তি ছাড়া যে তার চাইতে বেশী আমল করেছে’।১৮



(৭) জামা‘আতবদ্ধভাবে থাকা :
ইসলাম মুসলিম জাতিকে জামা‘আতবদ্ধ থাকার নির্দেশ দিয়েছে। কারণ একাকী থাকা শয়তানের কাজ। জামা‘আতে ছালাত আদায়ের নির্দেশ দিয়ে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,
مَا مِنْ ثَلَاثَةٍ فِيْ قَرْيَةٍ وَلَا بَدْوٍ لَا تُقَامُ فِيْهِمُ الصَّلَاةُ إِلَّا قَدْ اسْتَحْوَذَ عَلَيْهِمُ الشَّيْطَانُ فَعَلَيْكُمْ بِالْجَمَاعَةِ، فَإِنَّمَا يَأْكُلُ الذِّئْبُ مِنَ الْغَنَمِ الْقَاصِيَةِ-
‘যে গ্রামে বা প্রান্তরে তিনজন লোকও অবস্থান করে অথচ তারা জামা‘আত কায়েম করে ছালাত আদায় করে না, তাদের উপর শয়তান সওয়ার হয়ে যায়। কাজেই জামা‘আতের সাথে ছালাত পড়া তোমাদের জন্য অপরিহার্য। কারণ দলত্যাগী বকরীকে বাঘে ধরে খায়’।১৯ সফর অবস্থায় জামা‘আতের সাথে থাকার কথা উল্লেখ করে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, الرَّاكِبُ شَيْطَانٌ وَالرَّاكِبَانِ شَيْطَانَانِ وَالثَّلَاثَةُ رَكْبٌ- ‘একজন সওয়ার হচ্ছে একটি শয়তান (শয়তানের মত), দু’জন সওয়ার দু’টি শয়তান, আর তিনজন সওয়ার হচ্ছে কাফেলা’।২০
(৮) তিলাওয়াতের সিজদা আদায় করা :
আবু হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,
إِذَا قَرَأَ ابْنُ آدَمَ السَّجْدَةَ فَسَجَدَ اعْتَزَلَ الشَّيْطَانُ يَبْكِيْ يَقُوْلُ يَا وَيْلَهُ وَفِيْ رِوَايَةِ أَبِيْ كُرَيْبٍ يَا وَيْلِيْ أُمِرَ ابْنُ آدَمَ بِالسُّجُوْدِ فَسَجَدَ فَلَهُ الْجَنَّةُ وَأُمِرْتُ بِالسُّجُوْدِ فَأَبَيْتُ فَلِيَ النَّارُ-
‘যখন আদম সন্তান সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করে  সিজদা করে, তখন শয়তান দূরে সরে গিয়ে কাঁদতে থাকে আর বলে যে, হায়! আবূ কুরাইবের বর্ণনায় এসেছে, হায় দুর্ভোগ আমার জন্য। বনী আদমকে সিজদার আদেশ দেয়া হ’লে সে সিজদা করল ও জান্নাতী হ’ল। আর আমাকে সিজদার আদেশ দিলে আমি অবাধ্য হ’লাম ও জাহান্নামী হ’লাম’।২১
(৯) তাশাহ্হুদের সময় ডান হাতের আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করা :
নাফে‘ (রাঃ) বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু ওমর (রাঃ) যখন ছালাতে (শেষ বৈঠকে) বসতেন, তখন তিনি তার হাত হাটুর উপরে রাখতেন, আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করতেন এবং চক্ষু সেখানে রাখতেন। অতঃপর তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ   (ছাঃ) বলেছেন, لَهِيَ أَشَدُّ عَلَى الشَّيْطَانِ مِنَ الْحَدِيْدِ يَعْنِي السَّبَّابَةَ- ‘এটি অর্থাৎ তর্জনী আঙ্গুল নাড়ানো শয়তানের বিরুদ্ধে লোহা অপেক্ষা কঠিন’।২২
(১০) আযান ও ইক্বামত :
আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘যখন ছালাতের আযান দেওয়া হয়, তখন শয়তান বায়ু নিঃসরণ করতে করতে পিছু হটে যায়। আযান শেষ হয়ে গেলে আবার ফিরে আসে। তারপর ইক্বামতকালে শয়তান আবার হটে যায়। ইক্বামত শেষে সে এসে মানুষ ও তার অন্তরের মাঝে অবস্থান নেয় এবং বলতে শুরু করে যে, তুমি এটা স্মরণ কর, ওটা স্মরণ কর। শেষ পর্যন্ত লোকটি ভুলেই যায় যে, সে ছালাত তিন রাক‘আত পড়ল, নাকি চার রাক‘আত। তারপর তিন রাক‘আত পড়ল, নাকি চার রাক‘আত পড়ল তা নির্ণয় করতে না পারলে সে যেন দু’টি সিজদা করে নেয়’।২৩
(১১) সিজদায়ে সহো করা :
ছালাতে শয়তান বিভিন্নভাবে মানুষের মনে খটকা সৃষ্টি করে। ফলে মানুষ ছালাতের মধ্যে কত রাক‘আত পড়েছে তা ভুলে যায়। তাই শয়তান ছালাতে খটকা সৃষ্টি করলে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) সহো সিজদার নির্দেশ দিয়েছেন।২৪
(১২) ছালাতের কাতার সোজা করা ও ফাঁকা না রাখা : ছালাতে কাতার সোজা করে দাঁড়ানো যরূরী। আর দু’জনের মাঝখানে ফাঁকা রাখা ঠিক নয়। কারণ ফাঁকা রাখলে শয়তান মাঝখানে দাঁড়ায়। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,
رُصُّوْا صُفُوْفَكُمْ وَقَارِبُوْا بَيْنَهَا وَحَاذُوْا بِالْأَعْنَاقِ فَوَالَّذِيْ نَفْسِيْ بِيَدِهِ إِنِّيْ لَأَرَى الشَّيْطَانَ يَدْخُلُ مِنْ خَلَلِ الصَّفِّ كَأَنَّهَا الْحَذَفُ-
‘তোমাদের কাতারগুলোকে মিলাও এবং পরস্পর নিকটবর্তী হয়ে যাও, আর কাঁধের সাথে কাঁধ মিলাও। সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ! আমি শয়তানদেরকে কাতারের মধ্যে এমনভাবে ঢুকতে দেখি, যেমন ছোট ছাগল ঢোকে’।২৫ অন্যত্র রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘ছালাতের জন্য কাতারবদ্ধ হও, কাঁধ মিলাও, ফাঁকা বন্ধ কর, নিজের ভাইয়ের প্রতি কোমল হও এবং শয়তানের জন্য পথ ছেড়ে দিও না’।২৬
(১৩) ঘরে প্রবেশকালে ও খাবার সময় বিসমিল্লাহ বলা এবং ডান হাতে আহার করা :
বাড়িতে বা গৃহে প্রবেশকালে বিসমিল্লাহ বলে প্রবেশ করতে হবে। কেননা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,
إِذَا دَخَلَ الرَّجُلُ بَيْتَهُ فَذَكَرَ اللهَ عِنْدَ دُخُوْلِهِ وَعِنْدَ طَعَامِهِ قَالَ الشَّيْطَانُ لاَ مَبِيْتَ لَكُمْ وَلَا عَشَاءَ، وَإِذَا دَخَلَ فَلَمْ يَذْكُرِ اللهَ عِنْدَ دُخُوْلِهِ قَالَ الشَّيْطَانُ أَدْرَكْتُمْ الْمَبِيْتَ وَإِذَا لَمْ يَذْكُرِ اللهَ عِنْدَ طَعَامِهِ قَالَ أَدْرَكْتُمْ الْمَبِيْتَ وَالْعَشَاءَ-
‘যখন কোন ব্যক্তি তার গৃহে প্রবেশ করে এবং প্রবেশকালে ও খাওয়ার সময় আল্লাহকে স্মরণ করে, তখন শয়তান (তার অনুসারীদেরকে) বলে, এই ঘরে তোমাদের জন্য রাত্রি যাপনের কোন সুযোগ নেই এবং খাদ্যও নেই। আর যখন সে আল্লাহ্র নাম ছাড়া প্রবেশ করে তখন শয়তান বলে, তোমরা রাত্রি যাপনের জায়গা পেলে। আর যখন সে খাওয়ার সময় আল্লাহকে স্মরণ করে না তখন শয়তান বলে, তোমরা থাকা ও খাওয়া উভয়টির সুযোগ পেলে’।২৭
খাওয়ার আগে বিসমিল্লাহ বলে ডান হাতে খাবার খেতে হবে। বিসমিল্লাহ না বললে শয়তান সেই খাবারে অংশ নেয়। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, إِنَّ الشَّيْطَانَ لَيَسْتَحِلُّ الطَّعَامَ أَنْ لاَ يُذْكَرَ اسْمُ اللهِ عَلَيْهِ- ‘শয়তান সেই খাদ্যকে নিজের জন্য হালাল করে নেয়, যাতে ‘বিসমিল্লাহ’ বলা হয় না’।২৮
ডান হাতে খাবার খাওয়ার জন্য রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, لِيَأْكُلْ أَحَدُكُمْ بِيَمِيْنِهِ وَلِيَشْرِبْ بِيَمِيْنِهِ وَلِيَأْخُذْ بِيَمِيْنِهِ وَلِيَعْطَ بِيَمِيْنِهِ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَأْكُلُ بِشِمَالِهِ وَيَشْرِبُ بِشِمَالِهِ وَيُعْطِيْ بِشِمَالِهِ وَيَأْخُذُ بِشِمَالِهِ-  ‘তোমাদের কেউ যেন তার ডান হাত দ্বারা পানাহার করে এবং ডান হাত দ্বারা আদান-প্রদান করে। কেননা শয়তান বাম হাত দ্বারা পানাহার করে এবং বাম হাত দ্বারাই আদান-প্রদান করে’।২৯
(১৪) খাদ্য পরিপূর্ণভাবে খাওয়া, এমনকি পড়ে গেলে সেটা উঠিয়ে নেওয়া :
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘তোমাদের কারও খাবারের কোন লোকমা পড়ে গেলে সে যেন তা উঠিয়ে নেয় এবং তার ময়লা পরিস্কার করে খেয়ে ফেলে। শয়তানের জন্য যেন রেখে না দেয়। আর আঙ্গুল চেটে না খাওয়ার সময় সে হাযির হয়। কাজেই তোমাদের কারও কোন লোকমা  পড়ে গেলে, তার ময়লা পরিস্কার করে খেয়ে ফেলা উচিৎ এবং শয়তানের জন্য রেখে দেওয়া উচিত নয়’।৩০
(১৫) শয়নকালে আয়াতুল কুরসী পাঠ করা :
আবু হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহ্র রাসূল (ছাঃ) আমাকে রামাযানের যাকাত সংরক্ষণের দায়িত্ব প্রদান করলেন। অতঃপর আমার নিকট এক আগন্তুক আসল। সে তার দু’হাতের অাঁজলা ভরে খাদ্যশস্য গ্রহণ করতে লাগল। তখন আমি তাকে ধরে ফেললাম এবং বললাম, আমি অবশ্যই তোমাকে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নিকট নিয়ে যাব। তখন সে একটি হাদীছ উল্লেখ করল এবং বলল, যখন তুমি বিছানায় শুতে যাবে, তখন আয়াতুল কুরসী পড়বে, তাহ’লে সর্বদা আল্লাহ্র পক্ষ হ’তে তোমার জন্য একজন হেফাযতকারী থাকবে এবং সকাল হওয়া অবধি তোমার নিকট শয়তান আসতে পারবে না। তখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, ‘সে তোমাকে সত্য বলেছে, অথচ সে মিথ্যাচারী এবং শয়তান ছিল’।৩১
(১৬) যথাসম্ভব হাই তোলা থেকে বিরত থাকা :
হাই তুললে শয়তান হাসতে থাকে এবং মুখ দিয়ে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। তাই যথাসম্ভব হাই তোলা থেকে বিরত থাকা অথবা হাই আসলে হাত দিয়ে মুখ চেপে ধরতে হবে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, إِذَا تَثَاوَبَ أَحَدُكُمْ فَلْيُمْسِكْ بِيَدِهِ عَلَى فِيْهِ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَدْخُلُ- ‘তোমাদের কারো হাই আসলে, সে যেন তার হাত মুখের উপরে দেয়। কারণ (এ সময়) শয়তান ভিতরে ঢুকে পড়ে’।৩২
অন্যত্র রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘হাই তোলা শয়তানের পক্ষ হ’তে হয়ে থাকে। কাজেই তোমাদের কারো যখন হাই আসবে তখন যথাসম্ভব তা রোধ করবে। কারণ তোমাদের কেউ হাই তোলার সময় যখন ‘হা’ বলে তখন শয়তান হাসতে থাকে’।৩৩



(১৭) রাতে ঘরের বাতি নিভিয়ে খাবার পাত্র ঢেকে রাখা :
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘(রাতে) তোমাদের ঘরের বাতি নিভিয়ে দাও এবং আল্লাহ্র নাম স্মরণ কর। তোমার পানি রাখার পাত্রের মুখ ঢেকে রাখ এবং আল্লাহ্র নাম স্মরণ কর। তোমরা বাসন-কোসন ঢেকে রাখ এবং আল্লাহ্র নাম স্মরণ কর। সামান্য কিছু হ’লেও তার ওপর দিয়ে দাও’।৩৪
(১৮) কারো প্রতি অস্ত্র দ্বারা ইশারা না করা :
ঠাট্টা করতে করতে অনেক সময় মানুষ আনাকাঙ্খিত কিছু কাজ করে ফেলে। আর এ কাজ করতে শয়তান সাহায্য করে। তাই কারো প্রতি অস্ত্র দ্বারা ইঙ্গিত থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকতে হবে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,
لَا يُشِيْرُ أَحَدُكُمْ إِلَى أَخِيْهِ بِالسِّلَاحِ فَإِنَّهُ لَا يَدْرِيْ أَحَدُكُمْ لَعَلَّ الشَّيْطَانَ يَنْزِعُ فِيْ يَدِهِ فَيَقَعُ فِيْ حُفْرَةٍ مِّنَ النَّارِ-
‘তোমাদের কেউ যেন তার ভাইয়ের প্রতি অস্ত্র দ্বারা ইশারা না করে। কেননা সে জানে না হয়তো শয়তান তার হাতে আঘাত করবে। ফলে সে জাহান্নামের গর্তে নিক্ষিপ্ত হবে’।৩৫
(১৯) ঈমান আনা ও আল্লাহ্র ওপর ভরসা করা :
ঈমান আনার সাথে সাথে সৎকাজ করতে হবে এবং আল্লাহর উপর ভরসা করতে হবে। তাহ’লে শয়তানের অনিষ্ট থেকে মুক্ত থাকা যাবে। আল্লাহ বলেন,  إِنَّهُ لَيْسَ لَهُ سُلْطَانٌ عَلَى الَّذِيْنَ آمَنُواْ وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُوْنَ- ‘তার (শয়তানের) কোন আধিপত্য নেই তাদের উপর যারা ঈমান আনে ও তাদের প্রতিপালকের উপরই নির্ভর করে’ (নাহল ১৬/৯৯)।
(২০) নির্দিষ্ট কিছু আমল :
জাবির (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘রাত যখন আচ্ছন্ন হয় তখন তোমাদের শিশু-কিশোরদের ঘরে আটকে রাখবে। কারণ শয়তান এ সময়ে ছড়িয়ে পড়ে। তারপর রাতের কিছু সময় পার হয়ে গেলে তাদেরকে ছেড়ে দিবে এবং দরজা বন্ধ করে আল্লাহ্র নাম নেবে। বাতি নিভিয়ে দিবে ও আল্লাহ্র নাম উচ্চারণ করবে। পানপাত্রের মুখ বেঁধে রাখবে ও আল্লাহ্র নাম উচ্চারণ করবে এবং পাত্র ঢেকে রাখবে ও আল্লাহ্র নাম উচ্চারণ করবে। তার উপর কিছু একটা ফেলে রেখে হ’লেও তা করবে’।৩৬



পরিশেষে বলব, শয়তান মানুষের আজন্ম শত্রু। তার কবল থেকে মুক্তি লাভের জন্য সকাল-সন্ধ্যা কুরআন তেলওয়াত করতে হবে এবং আল্লাহর উপর ভরসা রেখে উপরোক্ত কাজগুলি নিষ্ঠার সাথে পালন করতে হবে। তাহ’লে তার ধোঁকা থেকে বেঁচে থাকা যাবে। আল্লাহ আমাদেরকে শয়তানের অনিষ্ট থেকে পরিত্রাণ লাভের তাওফীক্ব দিন-আমীন!

১ . তিরমিযী হা/২৯১০; মুসতাদরাকে হাকেম হা/২০৯২; মিশকাত হা/২১৩৮,  হাদীছ ছহীহ।
২. বুখারী, মুসলিম, ইবনু মাজাহ হা/২৯৭; মিশকাত হা/৩৩৭।
৩. বুখারী হা/২৮২২, ৬৩৬৯; নাসাঈ, ইবনু মাজাহ, ছহীহ তিরমিযী, হা/২৪২৫।
৪. আবু দাউদ হা/৪৬৬, ‘ছালাত’ অধ্যায়, ‘মানুষ মসজিদে প্রবেশের সময় যা বলবে’ অনুচ্ছেদ, হাদীছ ছহীহ।
৫. মুসলিম হা/২২০৩; মিশকাত হা/৭৭ ‘ঈমান’ অধ্যায়।
৬. বুখারী হা/৩২৮২ ‘সৃষ্টির সূচনা’ অধ্যায়; মুসলিম হা/২৬১০।
৭. বুখারী ‘সৃষ্টির সূচনা’ অধ্যায় ‘ইবলীস ও তার বাহিনী’ অনুচ্ছেদ হা/৩২৯২।
৮. আবূদাঊদ হা/৫০৯৫; তিরমিযী হা/৩৪২৬ ‘দো‘আ’ অধ্যায়; ইবনু হিববান হা/২৩৭০; মিশকাত হা/২৪৪৩, হাদীছ ছহীহ।
৯. আবূদাঊদ হা/৫০৯৫ ‘আদব’ অধ্যায়; হাদীছ ছহীহ, ছহীহ তিরমিযী, হা/৩৬৬৬।
১০. বুখারী হা/১৪১, ৩২৭১ ‘অযূ’ অধ্যায়; মুসলিম হা/১৪৩৪ ‘ত্বালাক’ অধ্যায়; আহমাদ হা/১৯০৮।
১১. বুখারী হা/৩৩৭১ ‘নবীদের কাহিনী’ অধ্যায়।
১২. মুসলিম হা/৭৮০; রিয়াযুছ ছালেহীন হা/১০১৮; মিশকাত হা/২১১৯।
১৩. ছহীহ তিরমিযী হা/২৮৮০।
১৪. ছহীহ ইবনে হিববান, হা/৭৮১, ২/৬১ পৃঃ; নাসাঈ, ত্বাবারাণী, ছহীহ তারগীব, হা/৬৬২, ১/৪১৭ পৃঃ, হা/১৪৭০, ২/১৮৮ পৃঃ।
১৫. বুখারী হা/৩২৬৯ ‘সৃষ্টির সূচনা’ অধ্যায়; মুসলিম, মিশকাত হা/১২১৯; বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/১১৫১।
১৬. বুখারী হা/৩২৯৫; মুসলিম হা/২৩৮।
১৭. বুখারী হা/১১৪৪ ‘তাহাজ্জুদ’ অধ্যায়; মুসলিম হা/৭৭৪।
১৮. বুখারী হা/৬৪০৩; মুসলিম, রিয়াযুছ ছালেহীন হা/১৪১০।
১৯. আবূদাঊদ হা/৫৪৭; রিয়াযুছ ছালেহীন হা/১০৭০; মিশকাত হা/১০৬৭, হাদীছ হাসান।
২০. আবূদাঊদ হা/২৬০৭; তিরমিযী হা/১৬৭৪; মিশকাত হা/৯৫৯; রিয়াযুছ ছালেহীন হা/৩৯১০; সিলসিলা ছহীহাহ হা/৬৪, হাদীছ হাসান।
২১. মুসলিম. মিশকাত হা/৮৯৫; ইবনু মাজাহ হা/১০৫২।
২২. আহমাদ, মিশকাত হা/৯১৭ ‘তাশাহুদ’ অনুচ্ছেদ, হাদীছ হাসান।
২৩. বুখারী হা/৩২৮৫ ‘সৃষ্টির সূচনা’ অধ্যায় ।
২৪. বুখারী হা/৩২৮৫ ‘সৃষ্টির সূচনা’ অধ্যায়।
২৫. আবূদাউদ হা/৬৬৭ হাদীছ ছহীহ; মিশকাত হা/১০৯৩; রিয়াযুছ ছালেহীন হা/১০৯২।
২৬. আবূদাউদ হা/৬৬৬; হাদীছ ছহীহ, রিয়াযুছ ছালেহীন হা/১০৯১।
২৭. মুসলিম ‘খাদ্য’ অধ্যায় হা/২০১৮; মিশকাত হা/৪১৬১।
২৮. মুসলিম, মিশকাত হা/৪১৬১ ‘খাদ্য’ অধ্যায়।
২৯. সিলসিলা ছহীহাহ হা/১২৩৬।
৩০. মুসলিম, রিয়াযুছ ছালেহীন হা/১৬৪।
৩১. বুখারী হা/৩২৭৫ ‘সৃষ্টির সূচনা’ অধ্যায়।
৩২. মুসলিম, মিশকাত হা/৪৭৩৭ ‘হাচি ও হাই তোলা’ অনুচ্ছেদ।
৩৩. বুখারী হা/৩২৮৯ ‘সৃষ্টির সূচনা’ অধ্যায়; মুসলিম হা/২৯৯৪।
৩৪. বুখারী হা/৩২৮০ ‘সৃষ্টির সূচনা’ অধ্যায়; মুসলিম হা/২০১২; আহমাদ হা/১৪৮৩৫।
৩৫. বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৩৫১৮।
৩৬. বুখারী, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, অনুঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ১ম খন্ড, পৃঃ ১৫৭।




আল্লাহর ও রাসুল (সা) এর এর নাম পাশাপাশি রাখা শিরিক এই জঘন্য অপবাদের দাতভাঙা জবাব :-


একটা পোস্ট পড়ে ভিষন চমকে উঠলাম।
website হল : ahlehadeethbd
এজন্যই বলি এগুলো হল বর্তমান যুগের সবচেয়ে বড় ফিত্নাবাজ।

They said that :

******আজকাল আরবীতে আললাহ (الله) লিখে তা বিভিন্ন মসজিদে, গাড়ীর মাথায়, বাড়ীতে ও বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে ব্যবহার করা হচ্ছে। যা নিঃসন্দেহে বিদ‘আত ও চরম বেআদবীও বটে। অনেকে একপাশে আরবীতে ‘আল্লাহ’ (الله) অন্যপাশে ‘মুহাম্মাদ’ (محمد) লিখেন। যার মাধ্যমে উভয়কে মর্যাদার দিক থেকে সমান গণ্য করা হয় (এর মানে শিরিক) এবং বরকত হাছিলের উদ্দেশ্যে এগুলি করা হয়। অথচ শরী‘আতে এর কোন দলীল নেই (মানে বিদআত)। এগুলি শয়তানী ধোঁকা ব্যতীত কিছু নয়।******

Ans 1 :

a) এখানে উক্ত ব্যক্তি সুন্নী মুসলমানদের শিরিকের ফতোয়া দিচ্ছে এজন্য যে (আল্লাহ ও মুহাম্মদ সা. নাম সমুহ পাশাপাশি রাখার কারনে) অথচ সে নিজেও জানে না যাদের অপবাদ দিল সেই লক্ষ-কোটি সুন্নী মুসলমান দের উপর আরোপিত অপবাদের গোনাহ হিসেবে সমস্ত কোটি মানুষের শিরিকের পাপ তার মাথায় পড়বে।

b) সে এখানে জেনে হোক না জেনে হোক কুফরি করল।

c) আল-কুরআন থেকে আল্লাহ-রাসুলের নাম পাশাপাশি রাখার প্রমান দিচ্ছি মধ্যে শুধু ""ও"" শব্দটি রয়েছে।

★ বলুন, `````আল্লাহ ও রসূলের````` আনুগত্য প্রকাশ কর।
★ সুরা ইমরান: ৩২
★ সূরা জ্বিন ২৩
★ সূরা-আনফাল-৪৫-৪৬
★ আল কুরআন (৮); ২০,২১
★ সূরা আন-নিসা-১৪
★ সূরা নিসা - ৫৯
★ সূরা নিসা - ৮০
★ সূরা আনফাল - ১৩

★ "যে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের আনুগত হবে, তিনি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। (সুরা নিসা - ১৩)

★ আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলকে রাজী রাখাই অত্যাবশ্যক - যদি তারা মোমেন হয়ে থাকে। (সুরা তওবা - ৬২)

★ তারা কি একথা অবগত নয় যে, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে শক্রুতা করেছে- তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন। (সূরা তওবা - ৬৩)

★ কোন বিষয়ে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল নির্দেশ দেয়ার পর ঐ বিষয়ে কোন ঈমানদার পুরুষ এবং কোন ঈমানদার নারীর ভিন্নমত পোষন করার অধিকার নেই। (সূরা আহযাব - ৩৬)

★ আর যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হবে - তারা স্পষ্ট গোমরাহীর মধ্যে পতিত হয়ে গিয়েছে। ( সুরা আহযাব - ৩৬)।

★ যারা আল্লাহ ও তাঁর প্রিয় রাসূলকে কষ্ট দেয়, আল্লাহ তাদেরকে দুনিয়া ও পরকালের লা'নত করবেন বা অভিশপ্ত করবেন। (সুরা আহযাব - ৫৭)।

★ যারা আল্লাহ ও তাঁর প্রিয় রাসূলের বিরুদ্ধাচরন করেছে - তারা অপদস্ত হয়েছে। (সূরা - মুজাদালাহ্ - ৫)
আনুগত্য সম্পর্কে আরো দেখুন :-

★ আলে ইমরানের ১৩২নং আয়াত
★ সূরা মায়িদাহর ৯২নং আয়াত
★ সূরা আনফালের ১নং, ২০নং
★ সুরা রা নূরের ৫৪নং ও ৫৬নং আয়াত আরো অনেক আয়াতে।


Ans 2 : এজন্যই বলি Ahlus-Sunnah ব্যাতীত সব বাতিল আর নবীজী (সা) এর শানে গোস্তাখী করে । কারন আপনে হয়ত ওহাবী-সালাফী দের এসব ঘাটেন না তাই জানেনও না।
তাই উচিত হবে সেখানে চুপ থাকেন অথবা যাচাই-বাছাই করে সত্যতা জেনে নিন অথবা যে জেনে প্রমানসহ বলছে তাকে বিশ্বাস করুন।



মুনাফিক ও কাফিরদের অবস্থা সম্পর্কে আল্লাহ যা বলেছেন তাদের সাথে অনেকটাই মিলে যায় :

সুরা নং ২ আল-বাকারা :

2|6|নিশ্চিতই যারা কাফের হয়েছে তাদেরকে আপনি ভয় প্রদর্শন করুন আর নাই করুন তাতে কিছুই আসে যায় না, তারা ঈমান আনবে না।

2|7|আল্লাহ তাদের অন্তকরণ এবং তাদের কানসমূহ বন্ধ করে দিয়েছেন, আর তাদের চোখসমূহ পর্দায় ঢেকে দিয়েছেন। আর তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি।

2|8|আর মানুষের মধ্যে কিছু লোক এমন রয়েছে যারা বলে, আমরা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান এনেছি অথচ আদৌ তারা ঈমানদার নয়।

2|9|তারা আল্লাহ এবং ঈমানদারগণকে ধোঁকা দেয়। অথচ এতে তারা নিজেদেরকে ছাড়া অন্য কাউকে ধোঁকা দেয় না অথচ তারা তা অনুভব করতে পারে না।

2|10|তাদের অন্তঃকরণ ব্যধিগ্রস্ত আর আল্লাহ তাদের ব্যধি আরো বাড়িয়ে দিয়েছেন। বস্তুতঃ তাদের জন্য নির্ধারিত রয়েছে ভয়াবহ আযাব, তাদের মিথ্যাচারের দরুন।

2|11|আর যখন তাদেরকে বলা হয় যে, দুনিয়ার বুকে দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি করো না, তখন তারা বলে, আমরা তো মীমাংসার পথ অবলম্বন করেছি।

2|12|মনে রেখো, তারাই হাঙ্গামা সৃষ্টিকারী, কিন্তু তারা তা উপলব্ধি করে না।

2|13|আর যখন তাদেরকে বলা হয়, অন্যান্যরা যেভাবে ঈমান এনেছে তোমরাও সেভাবে ঈমান আন, তখন তারা বলে, আমরাও কি ঈমান আনব বোকাদেরই মত! মনে রেখো, প্রকৃতপক্ষে তারাই বোকা, কিন্তু তারা তা বোঝে না।

2|14|আর তারা যখন ঈমানদারদের সাথে মিশে, তখন বলে, আমরা ঈমান এনেছি। আবার যখন তাদের শয়তানদের সাথে একান্তে সাক্ষাৎ করে, তখন বলে, আমরা তোমাদের সাথে রয়েছি। আমরা তো (মুসলমানদের সাথে) উপহাস করি মাত্রা।

2|15|বরং আল্লাহই তাদের সাথে উপহাস করেন। আর তাদেরকে তিনি ছেড়ে দিয়েছেন যেন তারা নিজেদের অহংকার ও কুমতলবে হয়রান ও পেরেশান থাকে।

2|16|তারা সে সমস্ত লোক, যারা হেদায়েতের বিনিময়ে গোমরাহী খরিদ করে। বস্তুতঃ তারা তাদের এ ব্যবসায় লাভবান হতে পারেনি এবং তারা হেদায়েতও লাভ করতে পারেনি।

2|17|তাদের অবস্থা সে ব্যক্তির মত, যে লোক কোথাও আগুন জ্বালালো এবং তার চারদিককার সবকিছুকে যখন আগুন স্পষ্ট করে তুললো, ঠিক এমনি সময় আল্লাহ তার চারদিকের আলোকে উঠিয়ে নিলেন এবং তাদেরকে অন্ধকারে ছেড়ে দিলেন। ফলে, তারা কিছুই দেখতে পায় না।

2|18|তারা বধির, মূক ও অন্ধ। সুতরাং তারা ফিরে আসবে না।

2|19|আর তাদের উদাহরণ সেসব লোকের মত যারা দুর্যোগপূর্ণ ঝড়ো রাতে পথ চলে, যাতে থাকে আঁধার, গর্জন ও বিদ্যুৎচমক। মৃত্যুর ভয়ে গর্জনের সময় কানে আঙ্গুল দিয়ে রক্ষা পেতে চায়। অথচ সমস্ত কাফেরই আল্লাহ কর্তৃক পরিবেষ্ঠিত।

2|20|বিদ্যুতালোকে যখন সামান্য আলোকিত হয়, তখন কিছুটা পথ চলে। আবার যখন অন্ধকার হয়ে যায়, তখন ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকে। যদি আল্লাহ ইচ্ছা করেন, তাহলে তাদের শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি ছিনিয়ে নিতে পারেন। আল্লাহ যাবতীয় বিষয়ের উপর সর্বময় ক্ষমতাশীল।

2|21|হে মানব সমাজ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তার এবাদত কর, যিনি তোমাদিগকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদিগকে সৃষ্টি করেছেন। তাতে আশা করা যায়, তোমরা পরহেযগারী অর্জন করতে পারবে।




বাতিল কেমনে চিনবেন ১ নাম্বার উপায় :

Number 1 :

যেকোন কাজ যেকোন topics নিয়ে কথা বললেই তারা (বিদআত- শিরিক) এই ২ দুটি শব্দ বলবেই।

Number 2:

তারা সব কাজের জন্য বেহুদা দলিল কি রেফারেন্স কি এসব বলে চক্ষু বন্ধ করে চিল্লাবে। অত:পর রেফারেন্স পেলে তাদের মনমত না হলে বলে দিবে জাল হাদিস বলে চলে যাবে।

Number 3:

তারা কোন ইসলামিক Scholars চিনে না তাই তাদের ফতোয়া তাদের কাছে মুল্যহীন। বলে যে কুরআন হাদিসের বাইরে।

জবাব : আপনি কি ১-১০ লক্ষ হাদিস মুখস্ত করতে পেরেছেন?
তাইলে শরীয়ত কি জিনিস বুঝতেন। যে আল-কোরআনের ৬৬৬৬টি আয়াত মুখস্ত করেছে অর্থসহ সে বুঝবে যে কুরআনে কি আছে আর কি নেই। আপনি কি বুঝবেন?অবশ্যই না।
বাকি রইল হাদিস : আপনি যেখানে ১০০০ হাদিস মুখস্ত করতে পারলে নিজেকে বহু বড় পন্ডিত মনে করে (না জেনে) ফতোয়া জারি করতে পারেন জাল নাকি সহিহ ওনারা কি ১ -১০ লক্ষ হাদিস মুখস্ত করে কুরআন হাদিসের বিরোদ্ধে ফতোয়া দিবে আপনার তাই মনে হয়?

তাদের যুক্তি আপনি নিজেই কুরআন ও সহিহ হাদিস পড়েন :
নিজে যদি লক্ষ লক্ষ হাদিস পড়তে পারতাম তাইলে জানতাম শরীয়তে কি আছে কি নেই। হাদিসের সংখ্যা যে কত আছে তা আল্লাহই ভাল জানেন। তাইলে কি শুধু ১০ হাজার হাদিস দিয়ে কি ইসলাম পুর্ন হয়ে গেল? তাইলে এত কষ্ট করে লক্ষ লক্ষ হাদিস কেন মুহাদ্দিসগন মুখস্ত করলেন?
আমরা সবাই পারব না জন্যেই যে এসব পেরেছে তাদের ফতোয়া অনুসরন করি কারন তারা কুরআন হাদিসের বাইরে কোন ফতোয়া দেন না।

আল্লাহ ওই সমস্ত বাতিল খান্নাস (মানুষ শয়তান) থেকে আমাদেরকে হেফাযত করুন।- আমিন

Sunday, July 5, 2015

এক আয়াতে ৩৭ লক্ষ ৮০ হাজার নেকী :-


যদি আল্লাহ চান ১ আয়াত পড়ার বিনিমতে পেতে পারেন ৩৭ লক্ষ ৮০ হাজার সওয়াব।
Note :  আমি এই সম্পুর্ন পোস্টটির ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণসহ আমি লিখলাম আল্লাহ ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করুন।
আমরা অনেক নেকীর আমল করে থাকি তাই সবাইকে বলব কোন আমলকেই ছোট করে দেখবেন না।
হয়ত সেই ছোট আমলটির কারনে আল্লাহ খুশি হয়ে ১০-৭০০ গুন সওয়াব বৃদ্ধি করে দিতে পারেন।
আল্লাহ অনেক মহান। তাই তিনি আমাদের নেক আমল গুলোকে ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি করে থাকেন।

★ সুরা মুজাম্মেল :

"" তোমরা তোমাদের আত্মার জন্য অগ্রে যাকিছু পাঠাবে তা আল্লাহর নিকট উতকৃষ্টরুপে এবং পুরষ্কার হিসেবে বর্ধিত রুপে পাবে।""

সুরা-আর রাহমানের অসাধারন এই আয়াতটিতে যে কি রহমত আর বরকত আছে তা আমি জানি না তবে বারবার প্রমান পাই। যেকোন বিপদ আর অসুখ-বিসুখে।

★ ফাবিআইয়্যি আলা---ই রাব্বি কুমাতো কাজ্জিবান।
(সুরা আর-রাহমান)

অর্থ : তবে তোমরা তোমাদের রবের কোন অনুগ্রহকে অস্বীকার করবে?
-- ইয়া আল্লাহ ইয়া আল্লাহ ক্ষমা করুন কোন দিন তা পারব না :'( :'(

★ এই আয়াত উক্ত সুরায় কত বার আছে? কত হরফ? কত সওয়াব?

- এই আয়াতটি সুরা আর-রহমানে ৩০ বার পুনরাবৃত্তি হয়েছে।

- উক্ত আয়াতে ১৮ টি হরফ আছে ।

- ১বার পড়লে ৩০ আয়াত পড়া হয়ে যাবে তাই ৩০ আয়াতেরই সওয়াব হবে।

- যেহেতু আল-কোরআন তেলাওয়াতে প্রতি হরফের বিনিময়ে আল্লাহ ১০টি নেকী দিবেন।
তিরমিযী হা/২৯১০;
মুসতাদরাকে হাকেম হা/২০৯২;
মিশকাত হা/২১৩৮,  হাদীছ ছহীহ।

হাদিসে আছে তাই দেখুন :

১৮ (হরফ) *১০ (নেকী) *৩০ (বার) = ৫৪০০ নেকী (সুবাহানাল্লাহ)


- রমজান ছাড়া অন্যান্য মাসে আল্লাহ পাক ১০ থেকে ৭০০ গুন পর্যন্ত আল্লাহ ওনার ইচ্ছামত সওয়াব দিয়ে থাকেন। যেমন :

হাদীসে কুদসীতে আল্লাহ বলেন,

كُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ يُضَاعَفُ

الْحَسَنَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا إِلَى

سَبْعِ مِائَةِ ضِعْفٍ قَالَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ

إِلاَّ الصَّوْمَ فَإِنَّهُ لِيْ وَأَنَا أَجْزِي بِهِ

"মানব সন্তানের প্রতিটি নেক আমলের প্রতিদান দশ থেকে সাতশত গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়ে থাকে। আল্লাহ তা'আলা বলেন, কিন্তু সিয়ামের বিষয়টি ভিন্ন। কেননা সিয়াম শুধুমাত্র আমার জন্য, আমিই এর প্রতিদান দেব।
reference :
→ মুসলিম
→ আহমাদ, মুসনাদ ২/৫০৩

তাহলে যদি ধরি-
- ৫৪০০*৭০০= ৩৭৮০০০০ (৩৭ লক্ষ ৮০ হাজার সওয়াব) সুবাহানাল্লাহ

Note : আপনি হয়ত ১ টি ছোট সুরা পড়েছেন কিন্তু আপনি এই ভাবে চিন্তা করে দেখুন হাজার হাজার নেকী আল্লাহ দিতেও পারেন। তাই সবুর থাকুন। আল্লাহর কোন ইবাদতকে নগন্য বা ছোট মনে করবেন না।

★ শিক্ষা : নিশ্চই আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ের  গুরুত্ব অসীম তাই এর তাগিদ এই যে :

মানুষ আল্লাহর করুনা আর অনুগ্রহ ভুলে যায়। আল্লাহ তাকে কতকিছুই না দান করেছেন অথচ কেউ স্বীকারই করে না আবার কেউ সময়ই পায় না স্বীকার করার।
দেহের প্রতিটি অঙ্গ প্রত্যঙ্গ আল্লাহর নিয়ামত-রহমত-করুনা। যার নাই সে বুঝে ১টা চোখ, ১টা হাত, ১টা পা এর মুল্য কত অসীম তার কাছে। অথচ আল্লাহ পাক শুধু চান বান্দাকে যা দিয়েছেন তাতেই সন্তুষ্ট থেকে আলহামদুলিল্লাহ বলুক, সবুর থাকুন আর নিয়ামতের প্রশংসা করুক। হায় আফসোস এটুকুই আমরা পারি না কি জবাব দিব কাল মারা গেলে?

★ আল্লাহ শান আর তার দয়া ও করুনা সম্পর্কে পড়লে চোখে পানি চলে আসে :

★ হাদিস ১ :

রাসূল (সাঃ) বলেছেন,
শয়তান বলল: "ইয়া আল্লাহ! তোমার
ইজ্জতের কসম,নিশ্চয় আমি তোমার
বান্দাদেরকে বিভ্রান্ত করতে থাকব
যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের দেহে প্রাণ
থাকবে।
""অতঃপর মহান আল্লাহ বললেন,আমার
ইজ্জতের কসম ! আমি তাদেরকে মাফ
করতে থাকব যে পর্যন্ত তারা আমার
কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকবে।"
(হাদীসে কুদসী)

★ হাদিস ২ :

আল্লাহ বলেন,

যখন বান্দা আমার দিকে এক বিঘত অগ্রসর হয়, তখন আমি তার দিকে এক হাত অগ্রসর হই।
যখন সে আমার দিকে এক হাত অগ্রসর হয়, তখন আমি তার দিকে দু’হাত অগ্রসর হই।
আর যখন সে আমার দিকে হেঁটে আসে, তখন আমি তার দিকে দৌড়ে যাই।

(বুখারীঃ ৭৫৩৬, মুসলিমঃ ২৬৭৫)

★ হাদিস ৩ :

দুই জাহান্নামীর প্রতি আল্লাহর দয়া- সুবহানাল্লাহ

হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (দ) বলিয়াছেনঃ জাহান্নামীদের মধ্যে হইতে দুই ব্যক্তি খুব শোর- চিৎকার করিতে থাকিবে। তাহাদের চিৎকার শুনিয়া মহান রব্ব ফেরেশতাদিগকে বলিবেনঃ এই ব্যক্তিদ্বয়কে দোযগ হইতে বাহির করিয়া আন। যখন তাহাদিগকে উপস্থিত করা হইবে আল্লাহ্ জিজ্ঞেস করিবেন, কি কারনে তোমরা দুইজন এত শোর-চিৎকার করিতেছ ? তাহারা বলিবে, আমরা এইরূপ করিয়াছি যাহাতে আপনি আমাদের প্রতি রহম করেন।

তখন আল্লাহ্ বলিবেনঃ তোমাদের উভয়ের প্রতি আমার অনুগ্রহ এই যে, জাহান্নামের যেই স্থানে তোমরা অবস্থানরত ছিলে এখন সেখানে চলিয়া যাও এবং সেই স্থানেই তোমরা নিজেদেরকে স্বেচ্ছায় নিক্ষেপ কর। এই নির্দেশ শুনিয়া উভয়ের একজন স্বেচ্ছায় নিজেকে দোযখে নিক্ষেপ করিবে। তখন আল্লাহ্ দোযখের আগুনকে তাঁহার জন্য শীতল ও আরামদায়ক করিয়া দিবেন।

কিন্তু দ্বিতীয় ব্যক্তিটি দাঁড়াইয়া থাকিবে, সে নিজেকে ঊহাতে নিক্ষেপ করিবে না। তখন পরওয়ারদিগার তাহাকে বলিবেনঃ যেইভাবে তোমার সাথী নিজেকে দোযখে নিক্ষেপ করিয়াছে, কিসে তোমাকে অনুরূপভাবে নিক্ষেপ করা হইতে বিরত রাখিল? তখন যে বলিবে, হে আমার রব্ব! আমি এই আশা রাখি যে, যেই জায়গা হইতে তুমি একবার আমাকে বাহির করিয়াছ, পুনরায় সেখানে আমাকে ফেরত পাঠাইবে না। অতঃপর রাব্বুল আলামীন বলিবেনঃ তুমি যেই আশা পোষণ করিয়াছ, তাহা পূরন করা হইল। তখ আল্লাহ্ তা’য়ালা তাঁহার বিশেষ অনুগ্রহে তাহাদের দুইজনকে জান্নাতে প্রবেশ করাইবেন।--- সুবাহানাল্লাহ

( তিরমিযী, মেশকাত শরীফঃ ৫৩৬৫(৩৫)।

আল্লাহ পাক আমাদের ক্ষমা করুন


Saturday, July 4, 2015

চাদ দেখে রোজা রাখা ও চাদ দেখে রোজা ভঙ্গ করা :-


ইমাম বোখারি, মুসলিম ও অন্যন্য হাদিস বিশারদরা বর্ণনা করেছেন,

أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "إذا رأيتم الهلال فصوموا وإذا رأيتموه فأفطروا فإن غم عليكم فاقدروا له" [أخرجه البخاري رقم 1900، ومسلم رقم 1080/8].

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, তোমরা চাঁদ দেখতে পেলে রোজা রাখবে আবার চাঁদ দেখতে পেলে রোজা ভঙ্গ করবে। আর আকাশ (মেঘাচ্ছন্ন হয়ে) ঢেকে থাকলে গণনা করবে। (বোখারি ১৯০০ ও মুসলিম ৮/১০৮০)

ইমাম আহমাদ ও ইমাম নাসায়ি রহ. আব্দুল্লাহ বিন ওমর রা. থেকে বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,

"لا تصوموا حتى تروا الهلال ولا تفطروا حتى تروه"

চাঁদ না দেখে তোমরা রোজা রাখবে না আবার চাঁদ না দেখে ইফতার (ভঙ্গ) করবে না।

ইমাম তাবারানী রহ. তালক্ব বিন আলী রা. থেকে উদ্ধৃত করেছেন,

"أن الله جعل هذه الأهلة مواقيت فإذا رأيتموه فصوموا وإذا رأيتموه فأفطروا" [أخرجه الطبراني في معجمه الكبير 8/397 رقم 8237].

আল্লাহ তাআলা এ চাঁদসমূহকে নির্দিষ্ট সময় নির্ধারক হিসাবে নির্ধারণ করেছেন। সুতরাং তোমরা তা দেখতে পেলে রোজা পালন করবে আবার দেখতে পেলে ভঙ্গ (ইফতার) করবে। (আল মু’জাম আল কাবির)

وروى الحاكم عن ابن عمر رضي الله عنهما: "جعل الله الأهلة مواقيت للناس فصوموا لرؤيته وأفطروا لرؤيته" [أخرجه الحاكم في المستدرك 1/423 وأحمد في المسند 4/ 23 والدارقطني في سننه 2/163 وقال الحاكم: صحيح على شرط الشيخين ووافقه الذهبي].

ইমাম হাকেম রহ. ইবনে ওমর রা. হতে বর্ণনা করেন, আল্লাহ তাআলা চাঁদসমূহকে নির্দিষ্ট সময় নির্ধারক বানিয়েছেন। সুতরাং তোমরা তা দেখে রোজা রাখবে আবার তা দেখেই রোজা ভঙ্গ করবে। [হাকেম/আল মুস্তাদরাক:১/৪২৩, আহমাদ/আল-মুসনাদ:৪/২৩, দারাকুতনী/সুনান:২/১৬৩, ইমাম হাকেম একে ইমাম বোখারি ও ইমাম মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহিহ বলে মন্তব্য করেছেন। ইমাম যাহাবী এর সমর্থন করেছেন।]

রোজা রেখে রক্তদান করলে কি রোজা ভেঙে যায়?


Ans. by: Masum Billah Sunny
আমাদের অনেকে মধ্যে একটা ভুল ধারণা প্রচলিত আছে যে রোজা রেখে রক্ত দিলে নাকি রোজা ভেঙে যায়। এটা আসলে কুসংস্কার।


★ হাদীস শরীফ মোতাবেক শরীয়তের সাধারণ উসুল হলো “শরীরের ভিতর থেকে কোন কিছু বের হলে ওযূ ভঙ্গ হয় এবং বাইর থেকে কোন কিছু শরীরের ভিতরে প্রবেশ করলে রোজা ভঙ্গ হয়।”

★ রোজার ব্যাপারে ইমাম আযম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি–এর যে উসুল, অর্থাৎ “বাইরে থেকে রোজাবস্থায় যে কোন প্রকারে বা পদ্ধতিতে শরীরের ভিতর কিছু প্রবেশ করলে, যদি তা পাকস্থলী অথবা মগজে প্রবেশ করে, তবে অবশ্যই রোজা ভঙ্গ হয়ে যাবে।”




শারীরিকভাবে সমর্থ হলে রোজা রেখে রক্ত দিতে কোনো অসুবিধা নেই।

রক্ত দিলে রক্ত বের করা হয় তা সেলাইন বা সিরিঞ্জ এর মাধ্যমে ।

প্রশ্ন হল  রক্ত বের  হলে/করলে রোজা ভাঙবে কিনা?

এই জবাবে যুক্তি দেয়া যায় রোজা রাখা অবস্থায় শিংগা লিগিয়ে দু:ষিত রক্ত বের করে চিকিৎসা সম্পর্কিত হাদিস সমুহ :-



★ জামে তিরমিজী এর ৮/ সাওম (রোজা) অধ্যায় হতে হাদিসের মানঃ - ৭৭৩ বিশর ইবনুূু হিলাল আল-বাসরী (রহঃ) ইবনুূু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম এবং সিয়াম অবস্থায়ও শিংগা লাগিয়েছেন। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি সহীহ।

★ জামে তিরমিজী এর ৮/ সাওম (রোজা) অধ্যায় হতে হাদিসের মানঃ - ৭৭৪ আবূ মূসা মুহাম্মদ ইবনুূু মূসান্না (রহঃ) ইবনুূু আব্বাস (র:) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিয়াম অবস্থায় শিংগা লাগিয়েছেন। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই সনদে হাদীসটি হাসান-গারীব।


★ জামে তিরমিজী এর ৮/ সাওম (রোজা) অধ্যায় হতে হাদিসের মানঃ - ৭৭৫ আহমাদ ইবনুূু মানী (রহঃ) ইবনুূু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা ও মদীনার মাঝে ইহরাম এবং সিয়াম অবস্থায় শিংগা লাগিয়েছেন। এই বিষয়ে আবূ সাঈদ, জাবির ও আনাস (রাঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।

★ ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, ইবনুূু আব্বাস (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। কতক সাহাবী ও আলিম এই হাদীস অনুসারে অভিমত গ্রহণ করেছেন। তাঁরা সাওম পালনকারীর জন্য শিংগা লাগানোতে কোন দোষ আছে বলে মনে করেন না। এ হল ইমাম সুফিয়ান সাওরী, মালিক ইবনুূু আনাস ও শাফেঈ (রহঃ) এর অভিমত।

★ আবূ বকর ইবনুূু আবূ শায়বা, যূহায়র ইবনুূু হারব ও ইসহাক ইবনুূু ইবরাহীম (রহঃ) ইবনুূু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম অবস্হায় শিংগা লাগিয়ে ছিলেন।
(মুসলিম ২৭৫৬)

★ আবূ বকর ইবনুূু আবূ শায়বা (রহঃ) ইবনুূু বুহায়না (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম অবস্হায় মক্কায় যাওয়ার পথে নিজের মাথার মধ্যস্হলে শিংগা লাগিয়েছিলেন।
(মুসলিম ২৭৫৭)

★ হযরত আকরামা (রা) থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, ‘নবী করিম (স) হজের জন্যে ইহরাম বাঁধা অবস্থায় শরীর থেকে শিংগার মাধ্যমে রক্ত বের করেছেন এবং রোজা অবস্থায়ও শরীর থেকে শিংগার মাধ্যমে রক্ত বের করেছেন।’

★ হযরত সাবিত আল বানানী থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, ‘হযরত আনাস বিন মালেক (রা)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছে যে, রোজাদারের জন্যে শিংগা লাগিয়ে শরীর থেকে রক্ত বের করাকে আপনি কি অপছন্দ করেন? জবাবে তিনি বলেন, না আমি অপছন্দ করি না। তবে দুর্বল হয়ে পড়ার ভয় থাকলে ভিন্ন কথা।’ (সহীহ আল বোখারী ১:২৬০)

★ একইভাবে শিংগা লাগানোও অপছন্দ নয়। অর্থাৎ দুর্বল হয়ে পড়ার ভয় না থাকলে রোজা অবস্থায়ও শিংগা লাগিয়ে রক্ত বের করা যায়। [শামী কিতাব ২:৩৯৯]

★ রোজা অবস্থায় তেল ও সুগন্ধী ব্যবহার করলে রোজা ভাঙেনা। একইভাবে শিংগা লাগালেও রোজার ক্ষতি হয় না। [হেদায়া কিতাব ১:২১৭]



এটাও জেনে রাখা ভাল -

★★★ শিংগা কি? শিংগা লাগালে কি গোসল করতে হয়?

জবাব ১:

★ শিংগা হলো গরু বা মহিষের শিং দিয়ে তৈরি বিশেষ এক রকম নল যা দিয়ে মানবদেহের দুষিত রক্ত, পুঁজ বের করা হতো দেহকে ব্যথামুক্ত করার জন্য।

জবাব ২ : জ্বি হ্যা।

★ সুনানে আবু দাউদ এর ১/ পবিত্রতা অধ্যায় হতে হাদিসের মানঃ - ৩৪৮। উছমান ইবনুূু আবূ শায়বা আবদুল্লাহ্ ইব্নুয-যুবায়ের (রাঃ) থেকে আয়িশা (রাঃ) -র সূরে বর্ণিত। তিনি (আয়শা) তাকে ইবনুূু যুবায়ের) বলেনঃ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চারটি কাজের জন্য গোসল করতেন- স্ত্রী সহবাসের পর, জুমুআর দিন, শিংগা লাগানোর পর এবং মৃত ব্যক্তির গোসল দেওয়ার পর (তা ছাড়াও তিনি ইহ্রাম, কা’বায় প্রবেশের পূর্বে ও অন্যন্য কাজের জন্যও গোসল করতেন।)

তাই মুমুর্ষ রোগীকে রক্ত দেয়া পুন্যের কাজ যদি নিজের ক্ষতি না হয় শক্তিশালী হয় তবে পারবে।

কারন রক্ত দিলে পানি পিপাসা পায়। অনেকে মাথা ঘুরে পরেও যায়। তখন কাযা করলে সেটা ১টা রোজা পরে রাখতে হবে। আর যদি ইচ্ছাকৃত ভাবে ভাংগে তবে ৬০টা রোজা একাধারে রাখতে হবে ১টা মধ্যে ভেংগে গেলে পুনরায় ১ থেকে ৬০ টা রাখতে হবে।
আল্লাহ ভাল জানেন।



বিপদে আপদের সময় যেসব দোয়া পড়বেনঃ

বিপদ-মসিবতে পাঠ করার জন্য কতিপয় দোয়া  এবং এর জন্য আমল: ♦১) উম্মে সালমা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ও...