Friday, March 6, 2015

হযরত উম্মুহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মহান ও পবিত্র জীবনী সংক্ষেপে (পর্ব ২)

প্রথম পর্বের পর :-




০৮. উম্মুল মু’মিনীন হযরত যয়নব বিনতে খুযায়মা আলাইহাস সালাম

পরিচিতিঃ পিতা খুযায়মা ইবনুল হারিছ, বনু হিলাল গোত্রের লোক ছিলেন । উনাকেও উম্মুল মাসাকিন বলা হতো ।

রসুলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সঙ্গে নিকাহ মুবারকঃ উম্মুল মু’মিনীন হযরত যয়নব বিনতে খুযায়মা আলাইহাস সালাম-উনার ইতিপূর্বে দু’টি বিবাহ হয়। উনার দ্বিতীয় স্বামী হযরত আবদুল্লাহ ইবনে জাহাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আন্হু তিনি উহুদের জিহাদে শাহাদত প্রাপ্ত হলে হিজরী ৪ সনে নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সঙ্গে উনার নিকাহ মুবারক অনুষ্ঠিত হয।

বিছাল শরীফঃ হযরত যয়নব বিনতে খুযায়মা আলাইহাস সালাম রসুলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সাথে হিজরী ৪ সনে উনার নিকাহ মুবারক অনুষ্ঠিত হওয়ার পর মাত্র দুই কি তিন মাস জীবিত ছিলেন । অত:পর তিনি বিছাল শরীফ প্রাপ্ত হন । জান্নাতুল বাকীতে উনার দাফন মুবারক অনুষ্ঠিত হয়। (ইছাবা)

ফযীলত ও মর্যাদাঃ তিনি গরীব দু:খীদেরকে অত্যধিক দান খয়রাত করতেন । এজন্য উনাকে “উ¤মুল মাছাকীন” (দরিদ্রদের মাতা) বলে ডাকা হতো । সুবহানাল্লাহ !

উ¤মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম-উনার পরে তিনিই এই সৌভাগ্য লাভ করেন যে, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার হায়াত মুবারকে ও উপস্থিতিতে তিনি বিছাল শরীফ প্রাপ্ত হন এবং স্বয়ং রসুলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জানাযায় ইমামতি করেন। সুবহানাল্লাহ ! (উসুদুল গাবা, ইছাবা)

০৯. উম্মুল মু’মিনীন হযরত জুওয়ায়রিয়া আলাইহাস সালাম

পরিচিতিঃ তিনি ছিলেন বনু মুস্তালিক গোত্রের সর্দ্দার-এর কন্যা । হিজরী ৫ সনে বনু মুস্তালিকের অভিযানে এই গোত্রের পরাজয়ের পর তিনি যুদ্ধ বন্দিনী হিসাবে মুসলমানদের হস্তগত হন। উনার পূর্ব স্বামী মুসাফি‘ বিন ছাফওয়ান আল-মুস্তালাকী এই জিহাদে নিহত হয়েছিল (উসুদুল গাবা,ইছাবা) . তিনি বিপন্ন হয়ে নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সাহায্য ও আশ্রয় প্রার্থনা করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে এই নিকাহ মুবারক অনুষ্ঠিত হয় ।

যুদ্ধবন্দী ও যুদ্ধবন্দীনীদের মুক্তিঃ ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম যখন শুনলেন যে হযরত জুয়ায়রিয়া আলাইহাস সালাম-উনাকে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিকাহ করেছেন, উনারা এর স¤মান স্বরূপ বনু মোস্তালিক গোত্রের সমস্ত যুদ্ধবন্দী ও বন্দিনী বিনা পণে মুক্ত করে দেন । এজন্য বলা হতো, কোন মহিলা হযরত জুয়ায়রিয়া আলাইহাস সালাম-উনার মত উনার গোত্রের জন্য এতটা সৌভাগ্য আনয়ন করতে পারে নি (উসুদুল গাবা). সুবহানাল্লাহ ! উনার পিতাও হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার দরবার শরীফে হাযির হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন । (সিয়ারু আলামিন নুবালা)

বিছাল শরীফঃ হিজরী ৫৬ সালে প্রায় ৭০ বৎসর বয়সে হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আন্হু-উনার খিলাফত আমলে তিনি বিছাল শরীফ প্রাপ্ত হন । জান্নাতুল বাকীতে উনার দাফন মুবারক হয় ।

ফযীলত ও মর্যাদাঃ হযরত জুয়ায়রিয়া আলাইহাস সালাম অত্যন্ত ইবাদত গুজার ছিলেন । তিনি খুব বেশী নফল নামায পড়তেন এবং নফল রোযা রাখতেন। উনার সুদীর্ঘ সময় নফল নামায সম্পর্কে অনেক বর্ণনা রয়েছে।[সূত্র : উসুদুল গাবা, ইছাবা, অন্যান্য সীরত গ্রন্থ]

১০. উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছাফিয়া আলাইহাস সালামউম্মুল মু’মিনীন হযরত ছাফিয়া আলাইহাস সালাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনাকে খুবই মহব্বত করতেন। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন অন্তিম রোগে শায়িত, হযরত ছাফিয়া আলাইহাস সালাম ক্রন্দন করে বললেন: হে আল্লাহ পাক-উনার রসুল ! আপনার সমস্ত কষ্ট যদি আমার উপর আপতিত হতো ! অন্যান্য উম্মুহাতুল মু’মিনীনগণ ইহা শুনে আশ্চর্যান্বিত হলেন। নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উত্তরে বললেন: আল্লাহ পাক-উনার কসম ! তিনি সত্য বলেছেন। সুবহানাল্লাহ ! (ইছাবা)

তিনি দানশীলা ছিলেন । উনার একটি বাড়ী ছিল যা তিনি উনার হায়াত মুবারকেই দান করে দেন (তাবাকাত). তিনি যখন প্রথমে মদীনা শরীফে আসেন, উনার কানের স্বর্ণের রিংগুলি অন্যান্য উম্মুহাতুল মু’মিনীনগণকে এবং সাইয়্যিদাতুন নিসাঈ আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম-উনাকে হাদিয়া হিসাবে দিয়ে দেন (যারকানী) . সুবহানাল্লাহ !

হিজরী ৩৫ সনে শত্র“রা যখন হযরত উছমান যুন্নুরাইন আলাইহিস সালাম-উনার গৃহ অবরোধ করে এবং খাদ্য ও পানীয় সরবরাহ বন্ধ করে দেয়, উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছাফিয়া আলাইহাস সালাম কিছু খাদ্য নিয়ে হযরত উছমান যুন্নুরাইন আলাইহিস সালাম-উনার গৃহের দিকে অগ্রসর হন । কিন্তু শত্র“রা উনাকে বাধা দান করে । অত:পর তিনি হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম-উনাকে দিয়ে এই খাদ্য দ্রব্যগুলি হযরত উছমান যুন্নুরাইন আলাইহিস সালাম-উনার নিকট পৌঁছাতে সমর্থ হন। সুবহানাল্লাহ !

তিনি বহু সংখ্যক হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন । বিভিন্ন বর্ণনা থেকে জানা যায়, দূর দুরান্তর থেকেও অনেক মহিলা তা’লীম গ্রহণ করার জন্য উনার নিকট আগমন করতেন । সুবহানাল্লাহ ! সূত্র : উসুদুল গবা, ইছাবা, তাবাকা, অন্যান্য সীরত গ্রন্থ।

১১. উম্মুল মু’মিনীন হযরত রায়হানা আলাইহাস সালাম

পরিচিতিঃ পিতার নাম শামউন, ইহুদী সম্প্রদায়ভূক্ত । বনু কুরায়জা গোত্রের আল-হাকাম ছিল উনার স্বামী ।

ইসলাম গ্রহণ ও রসুলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সঙ্গে বিবাহ মুবারক বনু কুরায়জা গোত্র বিশ্বাসঘাতকতা করলে, অন্যান্যদের ন্যায় উনার স্বামী অভিযুক্ত হয়ে নিহত হয় এবং তিনি যুদ্ধ বন্দিনী হয়ে পড়েন । অত:পর হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সঙ্গে উনার বিবাহ মুবারক অনুষ্ঠিত হয় ।

বিছাল শরীফঃ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ১০ম হিজরীতে বিদায় হজ্জ হতে প্রত্যাবর্তন করার পর উনার বিছাল শরীফের কয়েক মাস পূর্বে (এক বর্ণনামতে ১০ মাস) তিনি বিছাল শরীফ প্রাপ্ত হন । জান্নাতুল বাকীতে উনার দাফন মুবারক অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় চার বছর তিনি নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সান্নিধ্যে থাকেন ।

পরিচিতিঃ তিনি ছিলেন ইহুদী হুয়াই বিন আখতাবের কন্যা। ইতিপূর্বে উনার দু’টি নিকাহ হয়েছিল। উনার দ্বিতীয় স্বামী কিনানা বিন আল-হুক্বায়ক খায়বরের জিহাদে নিহত হয় ।

রসুলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সাথে নিকাহ মুবারকঃ খায়বর বিজয়ের পরে যখন যুদ্ধ বন্দিনীগণকে একত্রিত করা হলো, হযরত দাহিয়া কালবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আন্হু এসে বললেন : হে আল্লাহ পাক-উনার রসুল ! যুদ্ধ বন্দিনীগণ হতে আমাকে একজন দান করুন । হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করলেন : আপনি যে কোন একজন নিয়ে যান। তিনি হযরত ছাফিয়া আলাইহাস সালাম-উনাকে নিতে ইচ্ছা প্রকাশ করলেন । ছাহাবায় কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ-উনারা এতে আপত্তি উত্থাপন করে বললেন: তিনি বনু কুরাইজা ও বনু নাদ্বিরের সর্দ্দারের আহলিয়া ছিলেন । উনাকে নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ভিন্ন অন্য কেউ গ্রহণ করা ঠিক হবে না। ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের অনুরোধ অনুযায়ী হযরত দাহিয়া কালবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আন্হু-উনাকে অন্য যুদ্ধ বন্দিনী দেয়া হলো এবং হযরত ছাফিয়া আলাইহাস সালাম-উনাকে মুক্ত করে দেয়ার পর উনার সাথে নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার নিকাহ মুবারক অনুষ্ঠিত হয়। সুবহানাল্লাহ !


বিছাল শরীফঃ হিজরী ৫৬ সালে প্রায় ৭০ বৎসর বয়সে হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আন্হু-উনার খিলাফত আমলে তিনি বিছাল শরীফ প্রাপ্ত হন । জান্নাতুল বাকীতে উনার দাফন মুবারক হয় ।

ফযীলত ও মর্যাদাঃ হযরত জুয়ায়রিয়া আলাইহাস সালাম অত্যন্ত ইবাদত গুজার ছিলেন । তিনি খুব বেশী নফল নামায পড়তেন এবং নফল রোযা রাখতেন। উনার সুদীর্ঘ সময় নফল নামায সম্পর্কে অনেক বর্ণনা রয়েছে।[সূত্র : উসুদুল গাবা, ইছাবা, অন্যান্য সীরত গ্রন্থ]

১০. উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছাফিয়া আলাইহাস সালাম

পরিচিতিঃ তিনি ছিলেন ইহুদী হুয়াই বিন আখতাবের কন্যা। ইতিপূর্বে উনার দু’টি নিকাহ হয়েছিল। উনার দ্বিতীয় স্বামী কিনানা বিন আল-হুক্বায়ক খায়বরের জিহাদে নিহত হয় ।

রসুলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সাথে নিকাহ মুবারকঃ খায়বর বিজয়ের পরে যখন যুদ্ধ বন্দিনীগণকে একত্রিত করা হলো, হযরত দাহিয়া কালবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আন্হু এসে বললেন : হে আল্লাহ পাক-উনার রসুল ! যুদ্ধ বন্দিনীগণ হতে আমাকে একজন দান করুন । হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করলেন : আপনি যে কোন একজন নিয়ে যান। তিনি হযরত ছাফিয়া আলাইহাস সালাম-উনাকে নিতে ইচ্ছা প্রকাশ করলেন । ছাহাবায় কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ-উনারা এতে আপত্তি উত্থাপন করে বললেন: তিনি বনু কুরাইজা ও বনু নাদ্বিরের সর্দ্দারের আহলিয়া ছিলেন । উনাকে নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ভিন্ন অন্য কেউ গ্রহণ করা ঠিক হবে না। ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের অনুরোধ অনুযায়ী হযরত দাহিয়া কালবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আন্হু-উনাকে অন্য যুদ্ধ বন্দিনী দেয়া হলো এবং হযরত ছাফিয়া আলাইহাস সালাম-উনাকে মুক্ত করে দেয়ার পর উনার সাথে নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার নিকাহ মুবারক অনুষ্ঠিত হয়। সুবহানাল্লাহ !

বিছাল শরীফঃ হিজরী ৫০ সনে ৬০ বৎসর বয়স মুবারকে তিনি বিছাল শরীফ প্রাপ্ত হন । জান্নাতুল বাকীতে উনার দাফন মুবারক অনুষ্ঠিত হয় । তিনি উনার পরিত্যক্ত স¤পদের এক তৃতীয়াংশ উনার বোনের ছেলের জন্য উইল করে যান।

ফযীলত ও মর্যাদাঃ উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছাফিয়া আলাইহাস সালাম অত্যন্ত বুদ্ধিমতি ও আলিম মহিলা ছিলেন । খয়বরের জিহাদের পূর্বে হযরত ছাফিয়া আলাইহাস সালাম স্বপ্নে দেখেন যে, উনার কক্ষে চন্দ্র উদিত হয়েছে । তিনি এই স্বপ্নের কথা উনার পিতাকে জানালে উনার পিতা উনার মুখে খুব জোরে আঘাত করে, যাতে উনার মুখে দাগ পড়ে যায়। অত:পর পিতা উনাকে বলে : তুমি আরবদের ক্ষমতার নীচে তোমার গর্দ্দান প্রসারিত করে দিবে । সুবহানাল্লাহ ! যখন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সঙ্গে উনার নিকাহ মুবারক অনুষ্ঠিত হয়, তখন উনার মুখে উক্ত দাগ দেখে এ স¤মন্ধে জিজ্ঞেস করলে তিনি সমস্ত ঘটনা বর্ণনা করেন ।


ফযীলত ও মর্যাদাঃ উ¤মুল মু’মিনীন হযরত রায়হানা আলাইহাস সালাম তিনি অত্যন্ত অমায়িক ব্যবহার ও পূত-পবিত্র চরিত্রের অধিকারিণী ছিলেন। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি সন্তুষ্ট ছিলেন । সুবহানাল্লাহ ! সুত্র : উসুদুল গাব, ইছাবা

১২. উম্মুল মু’মিনীন হযরত মারিয়া কিবতিয়া আলাইহাস সালাম

তিনি ছিলেন ঈসায়ী ধর্মাবলম্বীঃ পরিচিতি ও রসুলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সঙ্গে বিবাহ মুবারক নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মিসরের শাসনকর্তা মুকাওকিস-এর নিকট ইসলামের দাওয়াত দিয়ে একখানা পত্র লিখেন। তিনি ছিলেন একজন ঈসায়ী ধর্মাবলম্বী আলেম, রোম সম্রাটের প্রশাসক রূপে নিয়োজিত । মুকাউকিস হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার পত্র যথাযথ স¤মানের সাথে গ্রহণ করে এই মর্মে জবাব দেন : আমি আপনার পত্র পাঠ করেছি এবং যা কিছু আপনি বলেছেন তা অনুধাবন করেছি । আমার জানা আছে যে, এখনও একজন নবীর আবির্ভাব অবশিষ্ট রয়েছে এবং তিনি আসবেন । কিন্তু আমার ধারণা ছিল যে, তিনি শাম (সিরিয়া) দেশে আবির্ভূত হবেন । আমি আপনার পবিত্র পত্র-বাহক-উনার প্রতি স¤মান প্রদর্শন করেছি । হাদিয়া স্বরূপ আপনার জন্য দু’টি মেয়ে প্রেরণ করছি । এরা দুই সহোদরা এবং নিতান্ত সম্ভ্রান্ত পরিবারের । ইহা ছাড়া দুলদুল নামক একটি বাহন ও কিছু কাপড় হাদিয়া হিসাবে পাঠানো হচ্ছে। এই দুইটি মেয়ের মধ্যে ছিলেন হযরত মারিয়া কিবতিয়া আলাইহাস সালাম এবং উনার বোন হযরত সীরিন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা। উনারা ছিলেন ঈসায়ী ধর্মাবলম্বী। ইসলাম গ্রহণ করার পর হযরত মারিয়া কিবতিয়া আলাইহাস সালাম-উনাকে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিকাহ করেন এবং উনার বোন হযরত সীরিন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা-উনাকে হযরত হাস্সান বিন ছাবিত রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-উনাকে হাদিয়া হিসাবে প্রদান করেন ।

বিছাল শরীফঃ হিজরী ১৬ সালে মুহররম মাসে হযরত উমর ফারুক আলাইহিস সালাম-উনার খিলাফত কালে মদীনা শরীফে তিনি বিছাল শরীফ প্রাপ্ত হন। হযরত উমর ফারুক আলাইহিস সালাম উনার জানাযার নামায পড়ান । (উসুদুল গাবা)

ফযীলত ও মর্যাদাঃ হিজরী ৮ সনে হযরত মারিয়া কিবতিয়া আলাইহাস সালাম-উনার রেহেম শরীফে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার একটি পুত্র সন্তান বিলাদত শরীফ লাভ করেন । নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক রেখেছিলেন হযরত ইব্রাহীম আলাইহাস সালাম। তিনি খুব ছোট অবস্থায় বিছাল শরীফ প্রাপ্ত হন । ঐতিহাসিক বালাজুরীর বর্ণনা অনুযায়ী তিনি ১৮ মাস হায়াত মুবারকে ছিলেন । উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম ব্যতীত অপর কোন উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের রেহেম শরীফে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার আর কোন সন্তান বিলাদত শরীফ লাভ করেন নি । সুবহানাল্লাহ ! হুয়ূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছিলেন উনার পুত্র হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তিনি জীবিত থাকলে ছিদ্দীক্ব এবং নবীর মর্তবা লাভ করতেন। সুবহানাল্লাহ ! (খাছায়েছুল কুবরা)।


বর্ণিত আছে যে, হযরত মারিয়া কিবতিয়া আলাইহাস সালাম মিসরের আনসানা অঞ্চলের হাফন নামক গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন । হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম-উনার সুপারিশক্রমে হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি হাফন বাসিদের খারাজ (ভূমি কর) মাফ করে দিয়েছিলেন । ইহা উ¤মুল মু’মিনীন হযরত মারিয়া ক্বিবতিয়া আলাইহাস সালাম-উনার স¤মানার্থে করা হয়েছিল । সুবহানাল্লাহ ! সুত্র : উসুদুল গাবা, ইছাবা, সিয়ারুচ্ছাহাবা, খাছায়েছুল কুবরা, অন্যান্য সীরত গ্রন্থ

১৩. উম্মুল মু’মিনীন হযরত মায়মুনা আলাইহাস সালাম

পরিচিতিঃ তিনি বিধবা ছিলেন । হযরত আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-উনার আহলিয়া হযরত উম্মুল ফদ্বল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-উনার বোন ছিলেন । (উসুদুল গাবা)

রসুলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সঙ্গে নিকাহ মুবারকঃ কথিত আছে যে, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার চাচা হযরত আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-উনার অনুরোধেই এই নিকাহ মুবারক অনুষ্ঠিত হয়। তখন হযরত মায়মুনা আলাইহাস সালাম-উনার বয়স মুবারক ছিল ৫১ বছর। বিখ্যাত যোদ্ধা হযরত খালিদ বিন ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আন্হু-উনার আপন খালা ছিলেন এই হযরত মায়মুনা আলাইহাস সালাম। এই নিকাহ মুবারক ছিল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সর্বশেষ নিকাহ মুবারক। এই নিকাহ মুবারকের পর পরই হযরত খালিদ বিন ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আন্হু তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন । সুবহানাল্লাহ !

বিছাল শরীফঃ হিজরী ৫১ সনে প্রায় ৯৫ বৎসর বয়স মুবারকে সারাফ নামক স্থানে তিনি বিছাল শরীফ প্রাপ্ত হন । এখানেই রসুলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সঙ্গে উনার নিকাহ মুবারক অনুষ্ঠিত হয়েছিল । হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আন্হু উনার জানাযার নামায পড়ান।

ফযীলত ও মর্যাদাঃ উম্মুল মু’মিনীন হয়রত ছিদ্দীকা আলাইহাস সালাম উনার উচ্চশিত প্রশংসা করতেন । তিনি বলেন : হযরত মায়মুনা আলাইহাস সালাম অত্যন্ত খোদাভীরু এবং আত্মীয় স্বজনের হক স¤পর্কে অত্যন্ত সজাগ । উনার অভ্যাস ছিল দাস-দাসী ক্রয় করে মুক্ত করে দেয়া । এজন্য তিনি মাঝে মাঝে টাকা কর্জ করতেন। একবার তিনি খুব বড় অঙ্কের টাকা কর্জ করেন । উনাকে যখন জিজ্ঞেস করা হলো, কিভাবে পরিশোধ করবেন, উত্তরে তিনি বললেন : কোন লোকের যদি সদিচ্ছা থাকে যে সে ধারকৃত টাকা পরিশোধ করবে, তবে আল্লাহ পাক তিনি নিজেই ইহা পরিশোধের ব্যবস্থা করে দেন (তাবাকাত). সুবহানাল্লাহ ! তিনি নারী জাতীর আদর্শ ছিলেন। ধার্মিকতা ও চরিত্র সংশোধনের জন্য তিনি নারী সমাজকে উপদেশ দিতেন । [সূত্র : উসুদুল গাবা, ইছাবা, তাবাকাত, অন্যান্য সীরত গ্রন্থাবলী]

পর্যালোচনাঃ পৃথক পৃথকভাবে উম্মুহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালামগন উনাদের সংক্ষিপ্ত জীবনী মুবারক আলোচনা দ্বারা ইহা সুস্পষ্টভাবে বুঝা যায় যে, উনারা সকলই বিশেষ বিশেষ গুণাবলীতে গুণান্বিতা ছিলেন। তদুপরি নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়ার কারণে উনাদের মর্যাদা বহুগুণে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়েছে । এ বিষয়ে সমস্ত উম্মতে হাবীবীর ইজমা‘ হয়েছে যে, যে মাটি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-জিসিম মুবারক স্পর্শ করে আছে (অর্থাৎ উনার রওজা শরীফের মাটি) তা আরশে মু‘য়াল্লা থেকে অধিকতর মর্যাদার অধিকারী । সুবহানাল্লাহ !



হযরত উম্মুহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মহান ও পবিত্র জীবনী সংক্ষেপে (পর্ব ১)


উম্মুল মু‘মিনীন অর্থ হচ্ছে মু‘মিনদের মাতা, আর উম্মুহাতুল মু’মিনীন অর্থ হচ্ছে মু’মিনদের মাতাগণ। হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে :   إن الجنة تحت أقدام أمهاتكم (অর্থাৎ নিশ্চয়ই জান্নাত হচ্ছে তোমাদের মায়ের ক্বদমের নীচে)

এই হাদীছ শরীফ থেকেই বুঝা যায় মাতার সম্মান কিরূপ।  মু’মিনদের মাতা বলতে  আজওয়াজে মুত্বাহহারাত অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার পবিত্র আহলিয়াগণ উনাদেরকে বুঝায়।

উম্মুহাতুল মু’মিনীনগণ উনারা সংখ্যায়  ১৩ জন ছিলেন । তম্মধ্যে ৮ জন ছিলেন কুরাইশ গোত্রের :

হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম
হযরত আয়েশা ছিদ্দীকা আলাইহাস সালাম
হযরত উম্মে সালামা আলাইহাস সালাম
হযরত হাফছা আলাইহাস সালাম
হযরত যয়নব বিনতে জাহাশ আলাইহাস সালাম
হযরত উম্মে হাবিবাহ আলাইহাস সালাম
হযরত সাওদা আলাইহাস সালাম
হযরত মায়মুনা আলাইহাস সালাম
দুই জন ছিলেন অন্যান্য আরব গোত্রের :

হযরত যয়নব বিনতে খুযায়মা আলাইহাস সালাম, বনু হিলাল গোত্রের
হযরত জুওয়ায়রিয়া আলাইহাস সালাম, বনু মুছতালিক গোত্রের।
দুইজন ছিলেন ইয়াহুদী সম্প্রদায় থেকে :

হযরত ছাফিয়া আলাইহাস সালাম
হযরত রায়হানা আলাইহাস সালাম।
আর একজন ছিলেন ঈসায়ী সম্প্রদায় থেকে:

হযরত মারিয়া কিবতিয়া আলাইহাস সালাম ।



হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তো ছিলেন বেমেছাল, আল্লাহ পাক উনার পরেই উনার শান। সাধারণ উম্মতের জন্য মহান আল্লাহ পাক নির্দ্ধারণ করে দিয়েছেন শর্ত ও ক্ষমতা অনুসারে উর্দ্ধে ৪ জন আহলিয়া রাখা যাবে।

খালিক্ব, মালিক, রব্ব, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব-উনাকে তিনি এই নির্দ্ধারিত সীমার উর্দ্ধে আহলিয়া গ্রহণ করার ইখতিয়ার দিয়েছিলেন, যা কালাম পাকে উল্লেখ রয়েছে। সাধারণ অন্যান্য নবী-রসুলদেরও অনেক খাছ বৈশিষ্ঠ্য রয়েছে যা সাধারণ মানুষ থেকে ভিন্ন । যেমন পূর্ববর্তি নবীদের মধ্যে দেখা যায় হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম উনার ১০০ জন আহলিয়া ছিলেন। হযরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম উনার ৭০০ আহলিয়া এবং ৩০০ বাঁদী ছিলেন এবং উনার সর্বশেষ আহলিয়া ছিলেন হযরত বিলকিস আলাইহাস সালাম। এই সংখ্যাধিক্যতা নবীদের মু’জিযার অন্তর্ভূক্ত । খালিক্ব, মালিক, রব্ব, মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাদের এত অধিক সংখ্যক আহলিয়া রাখার জন্য ইখতিয়ার দিয়েছিলেন এবং এর শক্তি-সামর্থও দিয়েছিলেন।  সকল নবীগণই মা’ছুম, উনারা সর্বাবস্থায় নফসানী খাহেশাতের উর্দ্ধে। উনারা ওহী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হওয়ার কারণে আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি ও মর্জির খেলাফ কোন কাজ করেন না । হযরত শাহ আবদুল হক্ব মুহাদ্দিছে দেহলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার লিখিত মাদারিজুন নবুওওত কিতাবে উল্লেখ করেছেন যে, হুয়ূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে জান্নাতী ৪০ জন পুরুষের শক্তি দেয়া হয়েছিল ।

তিনি বলেন:  এ সম্পর্কে আরো সুস্পষ্ট বর্ণনা এ রকম এসেছে যে, জান্নাতী একজন পুরুষ দুনিয়ার একশত পুরুষের সমান শক্তির অধিকারী হবে । অপর এক বর্ণনায় এসেছে, হুয়ূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেছেন : একবার হযরত জিব্রাঈল আলাইহিস সালাম খাবার ভর্তি একটি ডেগ আমার নিকট নিয়ে আসলেন । আমি তা থেকে কিছু খাবার গ্রহণ করলাম । তাতে আমার ভিতরে ৪০জন পুরুষের সমান পুরুষত্বশক্তি এসে গেল (মাদারিজুন নবুওওত)।


এখন উম্মুহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের অবস্থার প্রতি লক্ষ্য করলে আমরা দেখতে পাই, সাধারণ মানুষ যুবক বয়সে  একজন যুবতী স্ত্রী পছন্দ করে থাকে । কিন্তু আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তদ্রুপ করেন নি। উনার যখন প্রথম নিকাহ মুবারক অনুষ্ঠিত হয় তখন উনার বয়স মুবারক ছিল ২৫ বছর, আর উনার প্রথমা আহলিয়া উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার বয়স মুবারক ছিল ৪০ বছরের উর্দ্ধে। উনার জীবিত অবস্থায় তিনি অন্য কোন আহলিয়া গ্রহণ করেন নি । উনার বিছাল শরীফের পরে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার বয়স মুবারক যখন ৫০ বছরের উর্দ্ধে তখন ৫২ বছর বয়স্কা উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছাওদা আলাইহাস সালাম উনার নিকাহ মুবারক অনুষ্ঠিত হয়।  এ সময় উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম-উনার সঙ্গেও খালিক্ব, মালিক, মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দেশক্রমে উনার নিকাহ মুবারক অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্দেশ সম্পর্কে উনার সংক্ষিপ্ত জীবনী মুবারক আলোচনায় আমরা পরে আলোচনা করব। সে সময় উনার বয়স মুবারক ছিল মাত্র ৬ বছর। মক্কা শরীফে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার ২৮ বছর বৈবাহিক হায়াত মুবারকের মধ্যে যদিও এই তিনটি নিকাহ মুবারক অনুষ্ঠিত হয়, এ সময় শুধু একজন আহলিয়া উনার সঙ্গে ছিলেন অর্থাৎ হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার বিছাল শরীফের পরে হযরত সাওদা আলাইহাস সালাম।  হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম অল্প বয়স্ক হওয়ার কারণে আরো ৩ বছর পর মদীনা শরীফে উম্মুল মু’মিনীন হিসাবে আজওয়াজে মুত্বাহহারাত উনাদের অন্তর্ভূক্ত হন ।

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনা শরীফে উনার ১০ বছর হায়াত মুবারকের শেষের দিকে, উনার বয়স মুবারক যখন ৫৮ থেকে ৬০ বছর, তখন বাকী দশটি নিকাহ মুবারক অনুষ্ঠিত হয় । এই দশ জন উম্মুহাতুল মু’মিনীন উনাদের মধ্যে একমাত্র হযরত মারিয়া কিবতিয়া আলাইহাস সালাম ব্যতীত সকলই ছিলেন বিধবা। হযরত মারিয়া কিবতিয়া আলাইহাস সালাম, যিনি ছিলেন ঈসায়ী স¤প্রদায়ের, উনাকে মিসরের শাসনকর্তা মুকাওকিস হাদিয়া হিসাবে পাঠিয়েছিলেন।  এই নিকাহ মুবারক সমূহ করা হয়েছিল বিশেষ বিশেষ কারণ ও উদ্দেশ্যে এবং খালিক, মালিক, রব্ব, মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দেশে, এতে দুনিয়াবী কোন লোভ লালসা ছিল না।


নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হায়াত মুবারকের শেষ  সময়টি ছিল সামাজিকভাবে অত্যন্ত দুর্যোগপূর্ণ, ঘন ঘন সারিয়া জিহাদের কারণে অনেক মুসলমান রমণী স্বামী হারা, পিতৃ হারা ইয়াতীম হয়ে পড়েন । পক্ষান্তরে বিজয় অভিযানের কারণে বহু বিধর্মী মহিলা বন্দীনী গণীমত হিসাবে মুসলমানদের হস্তগত হয় । তৎকালে পৃথিবীর অন্যান্য দেশের ন্যায় আরবে বহু-বিবাহের প্রচলন ছিল। ইসলামের প্রারম্ভে অনেকের ৮/১০ জন স্ত্রী ছিল । তম্মধ্যে ইসলামী আইন অনুযায়ী ৪ জন রেখে বাকী স্ত্রীদের তালাক দিতে হয়েছে।  সাধারণত: বিধবা বিবাহ করা  একটা বিরাট ঝামেলার ব্যাপার, উনারা বয়স্কা হয়ে থাকেন এবং উনাদের সন্তান সন্ততি থেকে থাকেন, উনাদের ভরণ পোষণের ব্যাপার রয়েছে । এমতাবস্থায় সর্ব-প্রথম আল্লাহ পাক উনার হাবীব বিধবাদের আশ্রয় দিয়ে ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মধ্যে বিধবা বিবাহের প্রতি উৎসাহ দেখিয়েছেন, নতুবা তখনকার পরিস্থিতিতে এক বিরাট সামাজিক বিশৃঙ্খলা দেখা দিত ।

কুরআন শরীফে খালিক, মালিক, রব্ব, মহান আল্লাহ পাক একাধিক বিবাহ সংক্রান্ত যে নির্দেশ মুবারক দিয়েছেন, তাতে বুঝা যায় সাধারণত: এক বিবাহ হচ্ছে আদর্শ, আর একাধিক বিবাহ হচ্ছে বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে এবং শর্ত সাপেক্ষে।  ফিকির করলে বুঝা যায়, হুয়ূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ছিলেন মানব জাতির সর্ব বিষয়ে আদর্শ। মক্কা শরীফে উনার ৫৩ বছর হায়াত মুবারকে ২৮ বছর বৈবাহিক হায়াত মুবারক ছিল এক বিবাহের আদর্শ এবং মদীনা শরীফে উনার হায়াত মুবারকের শেষ ১০ বছর ছিল বহু বিবাহের আদর্শ। কারণ একাধিক আহলিয়ার সঙ্গে কি ভাবে জীবন যাপন করতে হয়, তারও আদর্শ তিনি রেখেছেন। এ ছাড়াও এর মধ্যে আমাদের ধারণার উর্দ্ধে আরো অনেক হিকমত রয়েছে, যা খালিক্ব, মালিক, রব্ব মহান আল্লাহ পাক তিনি ভাল জানেন।



ফাযায়েল-ফযীলত

এখন আমরা উনাদের ফাযায়েল ফযীলত সম্পর্কে  আলোচনা করব ।  কুরআন শরীফের কয়েকটি আয়াত শরীফ থেকে সমস্ত উম্মুহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম-উনাদের অতুলনীয় ফাযায়েল ফযীলত বুঝা যায় :-

সুরা আহযাবের ৬ নং আয়াত শরীফে নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনাদেরকে উম্মুহাতুল মু’মিনীন বলে উল্লেখ করেছেন, যেমন :-

ألنَّبِيُّ أوْلَى  بِالْمُؤْمِنِيْنَ مِنْ أنْفُسِهِمْ وَ أزْوَاجُهُ أمُّهَاتُهُمْ

(নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ঈমানদারগণের নিকট উনাদের প্রাণের চেয়েও অধিক প্রিয় । আর উনার আহলিয়া আলাইহিন্নাস সালাম উনারা মু’মিনগণের মাতা). এই আয়াত শরীফের প্রেক্ষিতে উনাদের একটি লক্বব মুবারক  أمهات
المؤمنين

(মু’মিনগণের মাতা). এই হিসাবে হযরত আদম আলাইহিস সালাম থেকে ক্বিয়ামত পর্যন্ত যত মু’মিন লোক ছিলেন, এখন আছেন এবং ভবিষ্যতে থাকবেন উনাদের সকলেরই মাতা হচ্ছেন হযরত উম্মুহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম।  মনে হয়, এই একটি মাত্র লক্বব মুবারকই উনাদের ফাযায়েল ফযীলত প্রকাশের জন্য যথেষ্ঠ। সুবহানাল্লাহ !

খালিক, মালিক, রব্ব, মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাদেরকে বেমেছাল পুত:পবিত্রা ও সুমহান চরিত্র মুবারকের অধিকারিণী করে সৃষ্টি করেছেন সেজন্য উনাদের আরেকটি লক্বব মুবারক হচ্ছে  أزواج
مطهرات

(আজওয়াজে মুত্বাহহারাত অর্থাৎ পুত:পবিত্রা আহলিয়াগণ)  অর্থাৎ উনাদের চরিত্র সকল প্রকার কলুষ-মুক্ত। সুবহানাল্লাহ!

আবার আজওয়াজে মুত্বাহহারাত সকলই আহলে বায়ত শরীফ উনাদের অন্তর্ভূক্ত। খালিক্ব, মালিক, রব্ব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন :-

إنَّمَا يُرِيْدُ اللهُ لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ أهْلَ الْبَيْتِ وَ يُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيْرًا -

(হে আহলে বায়ত অর্থাৎ নবী পরিবার ! আল্লাহ পাক অবশ্যই চান আপনাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং আপনাদেরকে পরিপূর্ণরূপে পবিত্র করতে অর্থাৎ আপনাদেরকে পবিত্র করেই সৃষ্টি করেছেন।)  এই আয়াত শরীফ নবী পরিবার উনাদের সকলেরই বিশেষ মর্যাদা, পবিত্রতা ও বৈশিষ্ট্য প্রমাণ করে । (সুরা আহযাব/৩৩)

সুরা আহযাবের ৫৩ নং আয়াত শরীফে উল্লেখ করা হয়েছে :-

وَلَا أنْ تَنْكِحُوْا
أزْوَاجَهُ مِنْ بَعْدِهِ أبَدًا

(নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার বিছাল শরীফের পর উনার আহলিয়া আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে তোমরা বিবাহ করতে পারবে না) . এই একই সুরার ৩২ নং আয়াত শরীফে উল্লেখ করা হয়েছে :-

َا نِسَاءَ النَّبِيِّ لَسْتُنَّ كَاَحَدٍ مِّنَ النِّسَاءِ

(অর্থ: হে নবী পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার আহলিয়াগণ অর্থাৎ উম্মুল মুমিনীনগণ ! আপনারা অন্যান্য নারীদের মত নন) । আল্লাহ পাক উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেমন অন্য কোন পুরুষ বা সাধারণ মানুষের মত নন, উনারাও অন্য কোন সাধারণ নারীর মত নন। এই সব আয়াত শরীফ থেকে বুঝা যায়, খালিক্ব, মালিক, রব্ব, মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাদের মর্যাদাকে অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যতের সকল স্ত্রী জাতীর উপরে স্থান দিয়ে উনাদেরকে পৃথক করে সম্মান দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!

সুরা আহযাব উনার আয়াত শরীফ ২৮ :-

يَا أيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِّأزْوّاجِكَ إنْ كُنْتُنَّ تُرِدْنَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا وَ زِيْنَتَهَا فَتَعَالَيْنَ اُمَتِّعْكُنَّ وَ اُسَرِّحْكُنَّ

سَرَاحًا جَمِيْلًا -

(অর্থ : হে নবী পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ! আপনি আপনার আহলিয়াগণ উনাদেরকে বলুন, আপনারা যদি  পার্থিব জীবন ও উহার সৌন্দর্য কামনা করেন, তবে আসুন, আমি আপনাদের ভোগ-সামগ্রীর ব্যবস্থা করে দেই এবং সৌজন্যের সাথে বিদায় দেই ।)


খায়বরের জিহাদের পরে মুসলমানদের প্রচূর গণীমত হাসিলের কারণে রাষ্ট্রীয় বায়তুল মালে প্রাচূর্য আসলে হযরত উম্মুহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা উনাদের খোর-পোষের পরিমাণ কিছুটা বৃদ্ধির আর্জি পেশ করলে উক্ত আয়াত শরীফ নাযিল হয়। এর অর্থ এই নয় যে, উনারা পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য কামনা করেছিলেন। হযরত উমর ফারুক আলাইহিস সালাম-উনার সময় যখন ইসলামী খিলাফতের আয়ের উৎস অনেক বেড়ে গেল এবং সর্বত্র প্রাচূর্যে ভরপূর হয়ে গেল, তখন উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম-উনাদের বার্ষিক ভাতা ১০ হাজার দিরহাম নির্দ্ধারণ করা হয়।  (ইছাবা). এতদ্ব্যতীত উম্মুহাতুল মু’মিনীন হিসাবে হাদিয়া তোহফাও উনাদের নিকট যখেষ্ট আসত। কিন্তু হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা সকলই এতই দানশীল ছিলেন যে, নিজের প্রয়োজন পরিমান সম্পদও জমা রাখতেন না। সম্পদ হাতে  আসার সঙ্গে সঙ্গেই উনারা গরীবদেরকে দান করে দিতেন। একবার উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার নিকট এক লক্ষ দিরহাম হাদিয়া আসে । এই অর্থ হাতে আসার পর সারাদিন তিনি গরীবদেরকে দান করতে থাকেন এবং সন্ধ্যার পূর্বেই সমস্ত অর্থ বিতরণ করে শেষ করেন । ঘটনাক্রমে সেদিন তিনি রোযা রেখে ছিলেন । উনার দাসী উনাকে জানাল যে, ইফতার করার জন্য ঘরে কিছুই নেই। উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীকা আলাইহাস সালাম বললেন : ইতোপূর্বে তুমি কেন আমাকে জানালে না ?  উক্ত হাদিয়ার অর্থ হতে আমাদের ইফতারের জন্য কিছু রাখতে পারতাম (সিয়ারু আলামিন নুবালা). সুবহানাল্লাহ !  উম্মুহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সকলের মধ্যেই দানশীলতার এই বিশেষ গুণটি বিদ্যমান ছিল । উনাদের পবিত্র জীবনে পার্থিব জীবনের ভোগ বিলাসের নাম-গন্ধও ছিল না । উনাদের বসবাসের হুযরা সমূহও ছিল মসজিদের সাথে সংযুক্ত, পরবর্তীতে সবগুলিই মসজিদে রূপান্তরিত হয় । হুযরা সমূহ দৈর্ঘ দশ হাত ও প্রস্থ সাত বা আট হাত ছিল, উচ্চতা হাত উঠালে ছাদ স্পর্শ করা যেতো ।


১।  উম্মুল মু’মিনীন হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম

পরিচিতি উম্মুল মু’মিনীন হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি মক্কা শরীফের অত্যন্ত সম্ভ্রান্ত ও ঐশ্বর্যশালী মহিলা, জাহিলী যুগে  উনার লক্বব মুবারক ছিল ‘ত্বাহিরা’ (পবিত্রা), কুবরাও উনার অপর একটি লক্বব মুবারক এবং এই মুবারক লক্ববেই   তিনি প্রসিদ্ধ ছিলেন। তিনি ছিলেন নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার প্রথমা আহলিয়া। তিনি কুরাঈশ গোত্রের সন্মানিত শাখা-গোত্র বনু আছাদে বিলাদত শরীফ লাভ করেন ।

বিলাদত শরীফ হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি আমুল ফীল (আবরাহার হস্তী বাহিণীর বছর)-এর ১৫ বছর পূর্বে বিলাদত শরীফ লাভ করেন।

প্রাথমিক জীবন প্রথম জীবনে হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম-উনার পর পর দু’টি নিকাহ মুবারক   হয়েছিল । প্রথম স্বামীর নাম ছিল আবু হালা। তিনি জাহেলী যুগেই মারা যান। এই সংসারে হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম-উনার  দু’টি পুত্র সন্তান ছিলেন – হযরত হিন্দ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হযরত হালা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। উভয়ই ছিলেন বিশিষ্ট ছাহাবী।  হযরত হিন্দ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হুয়ূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম  উনার হুলিয়া মুবারক  (দৈহিক অবয়ব মুবারক) উনার অতি সুন্দর বর্ণনা দিয়েছেন, যা ইতিহাস ও সীরত গ্রন্থ সমূহে অত্যন্ত মসহুর ।

হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার দ্বিতীয় স্বামীর নাম ছিল আত্বীক বিন ‘আবিদ। আবু হালার ইনতিকালের পর উনার সাথে হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম-উনার নিকাহ মুবারক অনুষ্ঠিত হয়েছিল।  এই সংসারে হযরত হিন্দ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা নামে উনার এক কন্যা সন্তান ছিলেন।

ব্যবসা-বানিজ্য কুরাঈশদের মত হযরত  কুবরা আলাইহাস সালাম-উনার আয়ের উৎস ছিল ব্যবসা বানিজ্য । উনার ব্যবসার মালের চালান সিরিয়ায় যেত এবং উনার একার জিনিষপত্র সমগ্র কুরাঈশদের  জিনিষপত্রের সমান   হতো।  উল্লেখযোগ্য যে মক্কা শরীফে চাষোপযোগী কৃষি জমি নেই, এজন্য এখানকার অধিবাসীগণ বিশেষ করে কুরাইশগণ ব্যবসা করেই জীবন ধারণ করতেন। যেহেতু সমস্ত কুরাইশ গোত্রের সকলের ব্যবসার সমান ছিল উনার ব্যবসার পুঁজি ও মালামাল, উনার ব্যবসায়ের এ বিশালতা থেকে উনার স¤পদের প্রাচূর্য স¤পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করা যায়।

নিকাহ মুবারক নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ,  হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সঙ্গে যখন বিবাহ মুবারক হয় তখন উনার বয়স মুবারক ৪০ বছরের উর্দ্ধে । আর নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার বয়স মুবারক ছিল ২৫ বছর । সুবহানাল্লাহ !

ইসলাম গ্রহণ সকল মুসলমান এ ব্যাপারে একমত যে, উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি সর্বপ্রথম রসুলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার উপর ঈমান আনয়ন করেন । (সিয়ারু আলামিন নুবালা)

ইসলামের জন্য সমুদয় ধন-স¤পদ ওয়াক্ফ ইসলাম গ্রহণের পর উম্মুল মু’মিনী হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সমুদয় ধন-স¤পদ ইসলাম প্রচার ও প্রসারের জন্য ওয়াক্ফ করে দেন । সুবহানাল্লাহ !  নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ব্যবসা বানিজ্য ছেড়ে আল্লাহ পাক-উনার ইবাদতে ও ইসলাম প্রচারে নিমগ্ন হলেন । এতে আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে যাওয়াতে সঞ্চিত অর্থ দ্বারাই জীবন যাপন করতেন।

উনার রেহেম শরীফে রসুলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সন্তান সন্ততি মশহুর মত অনুযায়ী উনার রেহেম শরীফে নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার তিন জন পুত্র সন্তান ও চার জন কন্যা সন্তান বিলাদত শরীফ লাভ করেন ।  তিন জন পুত্র সন্তান  হচ্ছেন : (১) হযরত কাসিম আলাইহিস  সালাম,   (২) হযরত ত্বইয়্যিব আলাইহিস সালাম এবং (৩) হযরত ত্বাহির আলাইহিস সালাম । আর চার জন কন্যা সন্তান হচ্ছেন (১) হযরত  যায়নব  আলাইহাস সালাম,   (২) হযরত রুকাইয়া আলাইহাস সালাম,  (৩) হযরত উ¤েম কুলছুম আলাইহাস সালাম এবং (৪) সাইয়্যিদাতু নিসাঈ আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম ।   পুত্র সন্তানগণ-উনারা সকলই অপ্রাপ্ত বয়সে বিছাল শরীফ লাভ করেছেন। কন্যা সন্তানগণ-উনাদের মধ্যে হযরত যয়নব আলাইহাস সালাম-উনার বিবাহ মুবারক হয়েছিল হযরত আবুল ‘আছ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-উনার সাথে । হযরত রুকাইয়া আলাইহাস সালাম ও হযরত উ¤েম কুলছুম আলাইহাস সালাম-উনাদের নিকাহ মুবারক হয়েছিল হযরত উছমান যুন্নুরাইন আলাইহিস সালাম -উনার সাথে, একজনের বিছাল শরীফের পর অন্যজনের । আর সাইয়্যিদাতুন নিসাই আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম-উনার বিবাহ মুবারক হয়েছিল হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু ওয়া আলাইহিস সালাম উনার সঙ্গে ।

কাফিরদের  দ্বারা নির্যাতন-ভোগ মক্কা শরীফের সর্বাপেক্ষা ঐশ্বর্যশালীনী, অগাধ ধন-সম্পদের অধিকারিনী, পুত:পবিত্র চরিত্রের অধিকারিনী ত্বাহিরা, হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার ৬৫ বছর হায়াত মুবারকের মধ্যে নবুয়ত প্রকাশের পূর্ব পর্যন্ত প্রায় ৫৫ বছর দুনিয়াবী সুখ শান্তিতে স্বাভাবিকভাবেই জীবন যাপন করছিলেন। অত:পর উনার শেষ জীবনে নবুয়ত প্রকাশের পর থেকে কাফিরদের বিরোধিতা শুরু হলো এবং ক্রমেই তা বৃদ্ধি পেতে লাগল । তিনি ধৈর্য সহকারে সমস্ত পরিস্থিতির মুকাবিলা করেন। কাফিরদের বিরোধিতা ও নির্যাতনের জন্য রসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মনে যে আঘাত পেতেন, উম্মুল মু’মিনীন হযরত  কুবরা আলাইহাস সালাম-উনার সান্ত¦না বাক্য দ্বারা তা দূরীভূত হতো। সুবহানাল্লাহ !

শি‘য়াবে আবু তালিবে অবরূদ্ধ জীবন নির্যাতনের সবচেয়ে কঠিনতম দিনগুলি ছিল শিয়াবে আবু তালিবের তিন বছরের অবরুদ্ধ জীবন। নবুয়ত প্রকাশের ৭ম বছর মুহররম মাসে কুরাঈশগণ এইরূপ একটি অঙ্গীকার নামা তৈরী যে, বনু হাশিম যতক্ষণ পর্যন্ত নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনাকে হত্যার জন্য তাদের নিকট সোপর্দ্দ না করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের সাথে কেউ আত্মীয়তার স¤পর্ক স্থাপন করবে না, ক্রয় বিক্রয় করবে না, তাদের সাথে মেলামেশা ও কথাবার্তা স¤পূর্ণরূপে বন্ধ রাখবে এবং তাদের নিকট কোন খাদ্য সামগ্রী পৌঁছতে দিবে না । উপায়ান্তর না দেখে বনু হাশিম আবু কুবায়েশ পর্বতের “শি‘য়াবে আবী তালিব” নামক গিরিপথে আশ্রয় গ্রহণ করলেন। ইহা ছিল হাশিম গোত্রের মিরাছী সুত্রে প্রাপ্ত গিরিপথ । আবু তালিব এবং উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সঙ্গে ছিলেন । দীর্ঘ তিন বছর পর্যন্ত উনারা এই গিরিপথে অবস্থান করেন ।  এখানে এত কষ্টে উনাদের জীবন যাপন করতে হয়েছে যে, খাদ্যের অভাবে গাছের পাতা পর্যন্ত খেতে হয়েছে ।

পঞ্চাশের অধিক বিপদগ্রস্থ ব্যক্তি অতি দু:খ কষ্টের মধ্য দিয়ে সেই পার্বত্য গিরিপথে জীবন যাপন করতে থাকেন। অবশেষে দুশমনের মধ্যেই দয়ার সঞ্চার হলো । তাদের পক্ষ হতেই লিখিত অঙ্গীকার ভঙ্গ করার  উদ্যোগ গ্রহণ করা হলো।  নবুয়ত প্রকাশের ১০ম বছরে  তারা উনাদেরকে বের করে নিয়ে আসলেন। সুবহানাল্লাহ !

বিছাল শরীফ আবু তালিব গিরিপথ (শি‘য়াবে আবু তালিব) থেকে বের হওয়ার পরপরই আবু তালিব ও উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম-উনাদের স্বাস্থ্য ভেঙ্গে গেল। অবশেষে একই বছরে উভয়ই বিছাল শরীফ প্রাপ্ত হন । সুবহানাল্লাহ !

শি‘য়াবে আবু তালিব থেকে বের হওয়ার পরে নামায ফরয হওয়ার পূর্বে  (নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ,  হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার স্ব-শরীরে মিরাজ শরীফ সংঘটিত হওয়ার পূর্বে) নবুয়ত প্রকাশের ১০ম বছরে ১৭ই মাহে রমাদ্বান শরীফে ৬৫ বছর বয়স মুবারকে হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি বিছাল শরীফ প্রাপ্ত হন।  মক্কা শরীফের জান্নাতুল মা’লা নামক কবরস্তানে উনার দাফন মুবারক সম্পন্ন হয় । জান্নাতুল মা‘লায় উনার মাযার শরীফ-এর স্থান এখনও চিহ্ণিত রয়েছে  (উসুদুল গাবা, ইছাবা) ।

হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম-উনার বিছাল শরীফের পর নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন: এইদিন উ¤মতের উপর এমন দু’টি মুছিবত আপতিত হয় যে, আমি বুঝে উঠতে পারছি না যে, আমি কোন্টির উপর বেশী দু:খ করব । এ দু’টি মুছিবত হচ্ছে হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম ও আবু তালিব-উনাদের ওফাত শরীফ। এই দু:খ ও চিন্তার কারণেই উক্ত বছরের নাম রাখা হয় عام
الحزن

(‘আমুল হুযন অর্থাৎ দু:খের বছর)।  সুবহানাল্লাহ !

ফযীলত ও মর্যাদা উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি ছিলেন সেই পবিত্রা নারী যিনি নবুয়ত প্রকাশের পূর্বেও মূর্তিপূজা করতেন না ।

উনার উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য-সমূহের মধ্যে একটি এই ছিল যে,  তিনি প্রায় ২৫ বছর পর্যন্ত নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার পবিত্র ছোহবত মুবারকে কাটান এবং একমাত্র হযরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম তিনি ব্যতীত হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সকল সন্তান উনারই রেহেম শরীফে বিলাদত শরীফ লাভ করেন  (ইবনে সা’দ). এতদ্ব্যতীত এই সৌভাগ্যও তিনি লাভ করেন যে, তিনি জীবিত থাকতে নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আর দ্বিতীয় আহলিয়া গ্রহণ করেন নি। সুবহানাল্লাহ !

উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম-উনার আভিজাত্য, স¤মান ও মর্যাদা সর্বজন স্বীকৃত। হযরত জিব্রাইল আলাইহিস সালাম তিনি আল্লাহ পাক-উনার পক্ষ হতে উনার জন্য সালাম নিয়ে আসতেন । এক হাদীছ শরীফের বর্ণনায় জানা যায়, একবার নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম-উনাকে বললেন : হে হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম !  স্বয়ং আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম-উনার মাধ্যমে  আপনাকে সালাম দিয়েছেন । উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি উক্ত সালামের জওয়াব দিলেন এভাবে :-

و السلام عليك، و على جبرائيل عليه السلام، وإن الله هو السلام -

(অর্থ : ইয়া রসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ! আপনার প্রতি এবং হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম-উনার প্রতিও আমার সালাম । আর আল্লাহ পাক তিনি তো নিজেই সালাম (শান্তি দাতা) অর্থাৎ  তিনি অন্য কোন সালামের মুখাপেক্ষী নন । (  সুবহানাল্লাহ ! এই জওয়াব থেকে উনার তীক্ষœ বুদ্ধিমত্তা ও  গভীর জ্ঞানের পরিচয় পাওয়া যায় ।  নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সারা জীবন উনার কথা স্মরণ করতেন । সুবহানাল্লাহ! [সূত্র-সমূহ : উসুদুল গাবা, ইছাবা,  তাবাকাত, তফসীরে মাজহারী, অন্যান্য সীরত গ্রন্থাবলী]

২. উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়েশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম

পরিচিতি পিতা হযরত আবু বকর ছিদ্দীক আলাইহিস সালাম, মাতার নাম হযরত উম্মে রুমান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা। কুরাইশ বংশের বনু তায়ম শাখায় বিলাদত শরীফ । নবুয়ত প্রকাশের ৪র্থ বছরে তিনি বিলাদত শরীফ লাভ করেন।

নিকাহ মুবারক হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম-উনার বিছাল শরীফের পরে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনাকে স্বপ্নে হযরত আয়েশা ছিদ্দীকা আলাইহাস সালাম-উনার প্রতিকৃতি দেখিয়েছিলেন। নবীদের স্বপ্নও ওহী হয়ে থাকে, যেমন হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম স্বপ্নে আদীষ্ট হয়ে উনার প্রিয় পুত্র হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম উনাকে কুরবানী করার জন্য প্রস্তুত হয়েছিলেন। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই স্বপ্ন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার নিকট বর্ণনা করেন। হুয়ূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন : আমাকে পর পর দুই বার আপনাকে (স্বপ্নে) দেখানো হয়েছে । আমি দেখলাম এক ব্যক্তি আপনাকে রেশমী বস্ত্র পরিয়ে আমাকে বলছেন: ইনি আপনার আহলিয়া। আমি বস্ত্র একটুখানি সরিয়ে আপনাকে দেখছিলাম এবং মনে মনে বলছিলাম: এই স্বপ্ন আল্লাহ পাক উনার তরফ হতে হয়ে থাকলে আল্লাহ পাক তিনি অবশ্যই বাস্তবায়িত করবেন। অন্য বর্ণনায় আছে, হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম উনার বিছাল শরীফে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অত্যধিক মর্মপীড়া অনুভব করেন । হযরত জিব্রাইল আলাইহিস সালাম হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনাকে দোলনায় নিয়ে হুয়ূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট আগমন করেন এবং বলেন, এই শিশুটি আপনার মনের দু:খ বেদনা এবং মর্মপীড়া দূর করে দিবেন। তিনি হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার স্থলাভিষিক্ত হবেন । সুবহানাল্লাহ ! এ দু’টি বর্ণনা হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সূয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার খাছায়েছুল কুবরা কিতাবে উল্লেখ করেছেন । এতদ্ব্যতীত বুখারী শরীফ উনার একটি হাদীছ শরীফেও অনুরূপ বর্ণনা রয়েছে । এসব বর্ণনা থেকে বুঝা যায় হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার শিশু অবস্থায় (মাত্র ৬ বছর বয়স মুবারকে) নিক্বাহ মুবারক হওয়াটা ছিল খালিক্ব, মালিক, রব্ব, মহান আল্লাহ পাক উনারই মর্জি অনুযায়ী এবং উনারই নির্দেশে ।


নবুয়ত প্রকাশের ১০ম সনে, হিজরতের তিন বছর পূর্বে, যখন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার বয়স মুবারক ৬ বছর, মক্কা শরীফে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সঙ্গে উনার নিকাহ মুবারক অনুষ্ঠিত হয় । কিন্তু আরো তিন বছর পরে মদীনা শরীফে তিনি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সঙ্গে বসবাস করতে থাকেন । তখন উনার বয়স মুবারক হয়েছিল ৯ বছর। (উসুদুল গাবা, ইছাবা). সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাদানী জিন্দেগী মুবারকের সম্পূর্ণ ১০ বছর সময় উনার সর্বাপেক্ষা প্রিয় আহলিয়া হিসাবে উনার পবিত্র ছোহবতে তিনি অবস্থান করেছেন। হিজরী ৫৮ সনে ১৭ই মাহে রমদ্বান শরীফে হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আন্হু-উনার খিলাফতের শেষের দিকে ৬৭ বছর বয়স মুবারকে তিনি বিছাল শরীফ প্রাপ্ত হন ।

উনার আবাসিক পবিত্র হুযরা শরীফ ছিল বর্তমানে মসজিদে নববী শরীফে যেখানে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার রওযা শরীফ সেখানে।

উনার সম্পূর্ণ জীবনী মুবারকে অনেক ঘটনাবলী ঘটেছে, যার বর্ণনা অনেক দীর্ঘ। আমরা এখন উনার ফযীলত সংক্রান্ত কয়েকটি বিষয় আলোচনা করব ।

ফযীলত ও মর্যাদা নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন :-

فضل عائشة على النساء كفضل الثريد على سائر الطعام

(অর্থ: অন্যান্য মহিলাদের উপর হযরত আয়েশা ছিদ্দীকা আলাইহাস সালাম-উনার মর্যাদা অন্যান্য সকল খাদ্যের উপর “আছ-ছারীদ” (এক প্রকার উত্তম খাদ্য)-এর ন্যায় ।) সুবহানাল্লাহ ! এই হাদীছ শরীফ উনার বিশিষ্ট মর্যাদার পরিচায়ক ।

উনার উছীলায় তায়াম্মুমের হুকুম জারি হয়, যদ্ধারা সমস্ত উম্মত উপকৃত হয়। নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম-উনারা সহ একটি সফরে ছিলেন । সফরে উম্মুল মু‘মিনীন হযরত আয়েশা ছিদ্দীকা আলাইহাস সালাম তিনিও ছিলেন । পথে আবওয়া নামক স্থানে উনার একটি হার হারিয়ে গেলে উহা অনুসন্ধানের জন্য সেখানে রাত্রি যাপন করেন । এ স্থানটিতে পানি ছিল না বিধায় অযুর পানির ব্যবস্থা করা গেল না। তখন আল্লাহ পাক এই আয়াত শরীফ নাযিল করেন : فَتَيَمَّمُوْا صَعِيْدًا طَيِّبًا – (পাক মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করুন) সুরা নিসা-৪২ . সুবহানাল্লাহ !

একবার হযরত মু‘য়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি এক লক্ষ দিরহাম উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার নিকট হাদিয়া পাঠান । এই অর্থ হাতে আসার পর সারাদিন তিনি গরীবদেরকে দান করতে থাকেন এবং সন্ধ্যার পূর্বেই সমস্ত অর্থ বিতরণ করে শেষ করেন । ঘটনাক্রমে সেদিন তিনি রোযা রেখে ছিলেন । উনার দাসী উনাকে জানাল যে, ইফতার করার জন্য ঘরে কিছুই নেই। উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীকা আলাইহাস সালাম বললেন : ইতোপূর্বে তুমি কেন আমাকে জানালে না ? উক্ত হাদিয়ার অর্থ হতে আমাদের ইফতারের জন্য কিছু রাখতে পারতাম (সিয়ারু আলামিন নুবালা). সুবহানাল্লাহ ! উনার বোনের পুত্র হযরত উরওয়া ইবনে যুবায়র রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত ছিদ্দিক্বা আলাইহাস সালাম উনার দানশীলতা ও যোহদ সম্পর্কে বলেন : আমি স্বচক্ষে উনাকে দেখেছি ৭০ হাজার দিরহাম মানুষের মধ্যে দান করতে অথচ উনার পোষাকে ছিল তালী লাগানো । এতদসত্বেও তিনি নতুন কাপড় খরিদ করতেন না ।

হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার বিছাল শরীফের পরে তিনি ৪৮ বছর দুনিয়াবী হায়াত মুবারকে ছিলেন । এই সুদীর্ঘ সময়ে নারী জাতীর শিক্ষা দীক্ষায় উনার ব্যাপক ভূমিকা ছিল । জ্ঞান গরীমা-শিক্ষা দীক্ষায় উনার জুড়ি ছিল না । বড় বড় ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম এবং তাবেয়ীনে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম-উনারা কঠিন কঠিন মাসয়ালা জিজ্ঞেস করার জন্য উনার নিকট আগমন করতেন ।

ইসলামী ফিকাহ বা আইন শাস্ত্রের এক চতুর্থাংশ উনার বর্ণিত হাদীছ শরীফ হতে গৃহীত । (ইছাবা). বর্ণিত আছে যে, ফিকাহ শাস্ত্রে হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালালাম উনার ফতোয়া এত বেশী আছে যে, তা দিয়ে কয়েক খন্ডে কয়েকটি কিতাব তৈরী হতে পারে (ই’লামুল মু’মিনীন : ইবনে ক্বাইয়েম)। ফারায়েজ শাস্ত্রেও উনার বিশেষ দক্ষতা ছিল । অনেক বড় বড় ছাহাবা ফারায়েজ বিষয়ে অনেক মীমাংসা ও মন্তব্য উনার নিকট থেকে জেনে নিতেন (তাবাকাত). সুবহানাল্লাহ !


হাদীছ শরীফ বর্ণনায় প্রথম স্থান হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আন্হু-উনার, দ্বিতীয় স্থান হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিযাল্লাহু তায়ালা আন্হু-উনার এবং তৃতীয় স্থান ছিল হযরত ছিদ্দীকা আলাইহাস সালাম-উনার । তিনি হাফিজে কুরআন ছিলেন । উনার মেধা ছিল অত্যন্ত তীক্ষœ ।

হাদীছ শরীফ ছাড়াও আরবী সাহিত্যে উনার পূর্ণ পান্ডিত্য ছিল । বহু কবির অনেক বড় বড় কবিতা উনার মুখস্ত ছিল। ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি আদাবুল মুফরাদ নামক কিতাবে লিখেছেন : কা’ব বিন মালিকের পুরা কাছীদা উনার মুখস্ত ছিল, সেই কছীদায় কম-বেশী ৪০টি কবিতা ছিল । সুবহানাল্লাহ ! কা’ব ছাড়াও অন্যান্য জাহেলী যুগের এবং ইসলামী যুগের অসংখ্য কবির অনেক কবিতা উনার মুখস্ত ছিল, যা তিনি উপযুক্ত স্থানে আবৃত্তি করতেন, হাদীছ শরীফের কিতাব সমূহেও সে সবের উল্লেখ রয়েছে।

আরব ইতিহাস বিষয়ে উনার সমকক্ষ আলেম কেউ ছিলেন না । জাহেলী যুগের আরব অবস্থা, তাদের বিভিন্ন প্রথা, তাদের বংশ বিদ্যা, তাদের সামাজিক জীবন বিষয়ে তিনি এমন কিছু কথা বলেছেন, যা অন্যত্র দু®প্রাপ্য । ইসলামের ইতিহাস সম্পর্কেও কিছু কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা উনার নিকট থেকে বর্ণিত রয়েছে।

কুরআন শরীফের তফসীরে উনার বিপুল অধিকার ছিল । মুসলিম শরীফের শেষাংশে উনার তফসীরের একটি বড় অংশ উদ্ধৃত করা হয়েছে। তিনি লিখতে ও পড়তে জানতেন । হযরত উরওয়া ইবনে যুবায়র রহমতুল্লাহি আলাইহি, যিনি ছিলেন উনার বোনের পুত্র এবং একজন বিশিষ্ট তাবেয়ী, একবার উনাকে বলেন : আপনার ফিকাহের ইলেম, শে‘র আশ‘য়ার-এর ইলেম, যুদ্ধ বিগ্রহের ইলেম, বংশাবলীর ইলেম, ইত্যাদি দেখে আমি আশ্চর্য হই না, কিন্তু আপনার চিকিৎসা শাস্ত্রের ইলেম দেখে আমি আশ্চর্য হই, ইহা কিভাবে এবং কোথা থেকে আসল ? সুবহানাল্লাহ ! অর্থাৎ দেখা যায়, চিকিৎসা শাস্ত্রেও উনার যথেষ্ট দক্ষতা ছিল ।

ওয়াজ নছিহতে উনার বিশেষ খ্যাতি ছিল । বিখ্যাত তাবেয়ী হযরত ইবনে সীরীন রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন : আমি চার খলীফা এবং পরবর্তী খলীফাদের খুতবা শুনেছি, কিন্তু উনার মত এত সুন্দর, এত পরিপূর্ণ কালাম কোন মাখলুকের যবান থেকে শুনি নি । সুবহানাল্লাহ ! নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যেমন জাওয়ামিউল কালিম ছিলেন অর্থাৎ আল্লাহ পাক উনাকে সকল ইলেম হাদিয়া করেছিলেন, বুঝা যায় এই জ্ঞান-ভান্ডারের একটি হিস্যা তিনি পেয়েছিলেন ।

উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি যে কেবল এইসব জ্ঞানে শিক্ষিতা ছিলেন তা নয়, তিনি অন্যদেরকেও এইসব শিক্ষায় দক্ষ করে তুলতেন । উনার হাতে যাঁরা প্রশিক্ষণ পেয়েছেন, স্ত্রী-পুরুষ মিলিয়ে প্রায় দুই শত হবে । তম্মধ্যে আত্মীয়তায় ঘনিষ্ঠ কয়েকজন পুরুষ তাবেয়ী এবং বিশিষ্ট কয়েকজন মহিলা তাবেয়ীর নাম এইরূপ :-

হযরত উরওয়া ইবনে যুবায়র রহমতুল্লাহি আলাইহি (বোনের পুত্র), হযরত ইমাম কাশিম বিন মুহম্মদ বিন আবু বকর রহমতুল্লাহি আলাইহি (ভ্রাতুষ্পুত্র), হযরত আবু সালমা বিন আবদির রহমান বিন আবু বকর রহমতুল্লাহি আলাইহি (ভ্রাতুষ্পুত্র), হযরত মাসরুক রহমতুল্লাহি আলাইহি (উপনাম আবু আয়েশা–উনার পালক-পুত্র), হযরত উমরা রহমতুল্লাহি আলাইহা, হযরত ছুফিয়া বিনতে শায়বা রহমতুল্লাহি আলাইহা, হযরত আয়েশা বিনতে তাহলা রহমতুল্লাহি আলাইহা প্রমূখ ।


উনার বিছাল শরীফের সময় নিকটবর্তী হলে তিনি ওছীয়ত করেন যে, উনাকে যেন নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সাথে রওযা শরীফে দাফন করা না হয়, বরং জান্নাতুল বাকীতে অন্যান্য উম্মুহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম-উনাদের সাথে উনাকে দাফন করা হয়। সুবহানাল্লাহ ! (মুস্তাদরাক হাকিম) হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ছিদ্দীকা আলাইহাস সালাম-উনার ঘরেই বিছাল শরীফ প্রাপ্ত হয়েছিলেন এবং উনার ঘরেই উনার রওযা শরীফ। সুতরাং সেখানে উনারও মাযার শরীফ থাকা উনার অধিকার ছিল । কিন্তু এই অধিকার তিনি স্বেচ্ছায় ত্যাগ করেন । (উসুদুল গাবা, ইছাবা)

তিনি হজ্জের কঠিন অনুগামী ছিলেন এবং প্রতি বছর হজ্জ করতেন, গোলামদের খুবই স্নেহ করতেন, তাদেরকে ক্রয় করে মুক্ত করে দিতেন । যেসব গোলাম তিনি মুক্ত করে দিয়েছিলেন তাদের সংখ্যা ৬৬. সুবহানাল্লাহ !

উনার ভাতিজা হযরত ইমাম কাশিম বিন মুহম্মদ বিন আবু বকর রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন : যতবারই আমি উনার হুযরা শরীফের সামনে দিয়ে যেতাম উনাকে সালাম করতাম । একদিন যখন সেখান দিয়ে যাচ্ছিলাম দেখলাম তিনি নামাযে আছেন, আর পড়ছেন :-

فَمَنَّ اللهُ عَلَيْنَا وَ وَقَانَا عَذَابَ السَّمُوْمِ -

(অর্থ : আল্লাহ পাক তিনি আমাদের উপর দয়া করেছেন এবং আমাদেরকে সামুম (গরম বাতাস — অর্থাৎ দোজখের শাস্তি) থেকে রক্ষা করেছেন ) (সুরা ত্বুর/২৭) . তিনি কাঁদছিলেন এবং বার বার এই আয়াত শরীফ পড়ছিলেন । এদিকে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে আমার পা ধরে গেল । তাই বাজারে চলে গেলাম আমার কিছু কেনাকাটার জন্য । তারপর যখন আবার প্রত্যাবর্তন করলাম, দেখলাম তিনি তখনও দাঁড়িয়ে নামায পড়ছেন ও কাঁদছেন ।

উনার বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য যা অন্যান্য উম্মুহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মধ্যে ও ছিল না, যেমন তিনি উম্মুল মু‘মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম-উনাদের মধ্যে সর্বাধিক হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন । হযরত জিব্রাইল আলাইহিস সালাম উনাকে সালাম জানাতেন । তিনি হযরত জিব্রাইল আলাইহিস সালাম-উনাকে স্বচক্ষে দেখেছিলেন । অন্য কোন উম্মুল মু‘মিনীন দেখেন নি ।-তিনি ছিলেন ছায়েমুদ্দাহর — সারা বছর রোযা রাখতেন । সুবহানাল্লাহ ! সূত্র-সমূহ : উসুদুল গাবা, ইছাবা, সিয়ারু আলামিন নুবালা, তাবাকাত, মাদারিজুননবুয়ত, অন্যান্য সীরত গ্রন্থাবলী

পর্যালোচনা

দেখা যায়, উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি সুদীর্ঘ ২৫ বছর হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার মক্কা শরীফে অবস্থান কালীন সময়ে উনার ছোহবত মুবারকে ছিলেন । তম্মধ্যে ১৫ বছর নবুয়ত প্রকাশের পূর্বে এবং ১০ বছর নবুয়ত প্রকাশের পরে । নবুয়ত প্রকাশের পর ১০টি বছর ছিল মক্কা শরীফের কাফির মুশরিকদের চরম জুলুম অত্যাচার ও অস্বীকৃতির সময় । এ সময়ে হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম-উনাকে কি পরিমাণ শারীরিক ও মানসিক কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে তা শিয়াবে আবু তালিবের তিন বছরের বন্দী জীবন সম্পর্কে চিন্তা করলেনই অনুমান করা যায়। আর উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীকা আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার মদীনা শরীফে তশরীফ নেয়ার পর থেকে বিছাল শরীফ পর্যন্ত ১০ বছর উনার ছোহবত মুবারকে ছিলেন । মুনাফিকদের সার্বক্ষণিক আভ্যন্তরীন শত্রুতা এবং কাফিরদের সাথে অবিরত সারিয়া-জিহাদের কারণে এ সময়টিও ছিল প্রতিটি মুহূর্ত আশঙ্কাপূর্ণ। দেখা যায় নবুয়ত প্রকাশের পরে উনাদের উভয়ের প্রত্যেকের ১০ বছর ছোহবত মুবারক-এর সময় সমান এবং ১৭ই রমাদ্বান শরীফে একই তারিখে বিছাল শরীফ-এর মধ্যে এক অপরূপ সামঞ্জস্য রয়েছে । তাছাড়া উনাদের দু’জনের জন্যই হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার মহব্বত ছিল অপরিসীম ।



দ্বীন-ইসলাম নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার ২৩ বছর আনুষ্ঠানিক নবুওয়ত প্রকাশের সময়ে ক্রমে ক্রমে পরিপূর্ণতা লাভ করেছে। প্রথম ১০ বছর অর্থাৎ ইহার প্রারম্ভে হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি হুয়ূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত, কষ্টভোগ এবং সম্পদের দ্বারা দ্বীন-ইসলাম-উনার ভিত্তিমূল মজবুত করেছেন। আর হযরত ছিদ্দীকা আলাইহাস সালাম তিনি নবুওয়ত প্রকাশের শেষের দশ বছরে হুয়ূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র ছোহবতে থেকে অপরিসীম জ্ঞানের অধিকারিনী হয়েছিলেন, যা তিনি নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার বিছাল শরীফের পরে প্রায় ৪৮ বছর পর্যন্ত (উনার বিছাল শরীফ হয় ৫৮ হিজরীতে) সমস্ত উম্মতে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, বিশেষ করে সমস্ত স্ত্রী জাতীর শিক্ষা দীক্ষায় ব্যপৃত থাকেন । সুবহানাল্লাহ !

মহিলাদের জন্য সকল উম্মুহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম বিশেষ করে উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম এবং উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনারা অনুসরণযোগ্য অনুপম আদর্শ রেখে গিয়েছেন ।

০৩. উম্মুল মু’মিনীন হযরত সাওদা বিনতে যাম‘য়া আলাইহাস সালাম

প্রাথমিক জীবন: উম্মুল মু’মিনীন হযরত সাওদা বিনতে যাম‘য়া আলাইহাস সালাম তিনি কুরাইশ গোত্রের বনু আমির শাখায় বিলাদত শরীফ, পূর্ব পুরুষ মদীনা শরীফের বনু নাজ্জার বংশীয় ছিলেন। উনার প্রথম নিকাহ মুবারক অনুষ্ঠিত হয় বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত সাক্রান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-উনার সঙ্গে ।

একবার হযরত সাওদা আলাইহাস সালাম স্বপ্নে দেখলেন যে, হুয়ূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্মুখ দিক থেকে আসছেন এবং শেষ পর্যন্ত উনার ঘাড়ের উপর হুয়ূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পা মুবারক রাখছেন । হযরত সাওদা আলাইহাস সালাম উনার স্বামীর নিকট এ স্বপ্নটি ব্যক্ত করলে উনার স্বামী বললেন : এ স্বপ্ন সত্য হলে আমার মৃত্যুর পর হুয়ূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আপনাকে বিবাহ করবেন। এর পর হযরত সাওদা আলাইহাস সালাম আর এক রাত্রে স্বপ্নে দেখলেন : আসমান থেকে চাঁদ উনার নিকট নেমে এসেছে এবং তিনি শায়িত অবস্থায় আছেন। তিনি এ স্বপ্নটি স্বামীকে বললে স্বামী বললেন: ইহা সত্য স্বপ্ন হলে, আমি আর কয়েকদিন মাত্র জীবিত থেকে মারা যাব। আমার মৃত্যুর পর আপনার বিবাহ হবে। ঐদিনই হযরত সাকরান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু রোগাক্রান্ত হন এবং কয়েক দিনের মধ্যেই বিছাল শরীফ প্রাপ্ত হন (খাছায়েছুল কুবরা)।

নিকাহ মুবারকঃ হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার বিছাল শরীফের পরে মক্কা শরীফে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সাথে উনার নিকাহ মুবারক অনুষ্ঠিত হয়। এই সময় হযরত সাওদা আলাইহাস সালাম-উনার বয়স মুবারক হয়েছিল ৫২ বছর ।

নবী পরিবারের তত্ত্বাবধায়কঃ উনার নিকাহ মুবারকের পর থেকে অর্থাৎ নবুয়ত প্রকাশের দশম বছর রমাদ্বান শরীফ থেকে শুরু করে একাদশ হিজরীর মাহে রবীউল আউয়াল শরীফ পর্যন্ত আনুমানিক সাড়ে চৌদ্দ বছর পর্যন্ত তিনি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার পবিত্র ছোহবত লাভ করেন।

বিছাল শরীফঃ হিজরী ২২ সনে হযরত উমর ফারুক আলাইহিস সালাম উনার খিলাফত আমলে ৭৭ বছর বয়স মুবারকে তিনি বিছাল শরীফ লাভ করেছিলেন । (তাবাকাত) ।

ফযীলত ও মর্যাদাঃ তিনি ছিলেন অত্যন্ত ধর্মপরায়ণ । হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার বিছাল শরীফের পরে তিনি কঠোর পর্দ্দা করতেন । এমনকি হজ্জ ও উমরার জন্যও ঘর হতে বের হতেন না । উ¤মুল মু’মিনীন, হযরত ছিদ্দীকা আলাইহাস সালাম উনার ধর্ম-পরায়ণতার প্রশংসা করে বলতেন : আমার ইচ্ছা হয় আমার রুহ যদি উনার শরীরে প্রবেশ করত। সুবহানাল্লাহ !


দানশীলতা ছিল উনার উল্লেখযোগ্য গুণ । একবার হযরত উমর ফারুক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার খিদমতে দিরহামপূর্ণ একটি থলি প্রেরণ করেন (সম্ভবত: উনার জন্য নির্দ্ধারিত ভাতা)। তিনি বাহককে জিজ্ঞাসা করেন, ইহাতে কি রয়েছে ? বাহক বললেন, দিরহাম । তিনি বলেন : খেজুরের মত থলিতে দিরহামও পাঠান হয় নাকি ? অত:পর তিনি উনার খাদিমাকে উক্ত দিরহামগুলি অভাবগ্রস্থ লোকদের মধ্যে তৎক্ষণাৎ বন্টনের নির্দেশ দেন (ইবনে সা‘দ). তিনি তায়েফের চামড়া দাবাগাত করে ব্যবহার উপযোগী করতেন এবং বিক্রয় করে প্রাপ্ত আয় উদারভাবে সৎকর্মে ব্যয় করতেন । সুবহানাল্লাহ !

০৪. উম্মুল মু’মিনীন হযরত উম্মে সালামা আলাইহাস সালাম

পরিচিতিঃ উনার নাম ছিল হিন্দ, উপনাম উম্মে সালামা (সালামা উনার পুত্রের নাম), কুরাইশ গোত্রের মাখযুম বংশে বিলাদত শরীফ।

প্রাথমিক জীবন ও ইসলাম গ্রহণঃ হযরত উম্মে সালামা আলাইহাস সালাম-উনার প্রথম নিকাহ মুবারক হয় হযরত আবু সালামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আন্হু-উনার সঙ্গে, যিনি “আছ-ছাবিকুন আল-আউয়ালুন” (প্রথম যুগের মুসলমান)-উনাদের অন্তর্ভূক্ত ছিলেন ।

হিজরতঃ তিনি উনার প্রথম স্বামী হযরত আবু সালামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-উনার সঙ্গে প্রথমে হাবশায় হিজরত করেছিলেন । কিছুকাল সেখানে থেকে আবার মক্কা শরীফে ফিরে আসেন । অত:পর কাফিরদের প্রতিরোধের কারণে হযরত আবু সালামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু একাকী মদীনা শরীফে হিজরত করেন । স্বামীর হিজরতের পরে হযরত উম্মে সালামা আলাইহাস সালামও মদীনা শরীফে হিজরত করেন। ঐতিহাসিকদের মত অনুযায়ী তিনিই প্রথম মহিলা ছাহাবী যিনি হিজরত করে মদীনা শরীফে আসেন ।

প্রথম স্বামীর বিছাল শরীফ ও হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সাথে নিকাহ মুবারকঃ উনার প্রথম স্বামী হযরত আবু সালামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আন্হু-উনার বিছাল শরীফের পরে হিজরী ৪ সনে নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সাথে উনার নিকাহ মুবারক অনুষ্ঠিত হয় ।

হিজরী ৬১ সনে সংঘটিত কারবালার মার্মান্তিক ঘটনা হযরত হুসাইন আলাহিস সালাম-উনার শাহাদত তিনি স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ্য করেন । এই ঘটনায় তিনি এতই চিন্তিত ও মর্মাহত হন যে, তিনি মর্চ্ছিতা হয়ে পড়েছিলেন। (মসনদে আহমদ) হিজরী ৬৩ সনে অনুষ্ঠিত হাররার হৃদয়-বিদারক ঘটনাও তিনি প্রত্যক্ষ করেন । এ সময় উমাইয়া শাসকগণের নির্দেশে মদীনা শরীফে অভিযান চালিয়ে অনেক আলেম উলামাকে নৃশংসভাবে শহীদ করা হয়েছিল। নাউজু বিল্লাহ !

বিছাল শরীফঃ উম্মুল মুমিনীনদের মধ্যে তিনি সর্বশেষে বিছাল শরীফ লাভ করেন এবং হযরত মায়মুনা আলাইহাস সালাম ব্যতীত অন্য সবার চেয়ে দীর্ঘায়ূ লাভ করেন। তিনি ৮৫ বছর বয়স মুবারকে ৬৩ হিজরী সনে (হাররার ঘটনার বছর) বিছাল শরীফ প্রাপ্ত হন । উমাইয়া শাসকদের প্রতি বিরক্ত হয়ে তিনি ওছীয়ত করে যান যেন তৎকালীন মদীনা শরীফের উমাইয়া শাসকগণের তরফ থেকে নিযুক্ত গভর্ণর ওলীদ বিন উতবা উনার জানাযার নামায না পড়ান । সেই অনুযায়ী ওলীদ অরণ্যের দিকে চলে যায় এবং নিজেই হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আন্হু উনাকে পাঠিয়ে দেয়। তদনুযায়ী তিনিই উনার জানাযার নামায পড়ান । সুবহানাল্লাহ !

ফযীলত ও মর্যাদাঃ তিনি অত্যন্ত জ্ঞানী, বুদ্ধিমতী, অত্যন্ত উন্নত চরিত্রের অধিকারিণী ও দানশীলা ছিলেন । সমস্যা সমাধানে বিশেষ দক্ষ ছিলেন । উনার প্রদত্ত ফতোয়া সমূহ একত্র করলে একটি কিতাব হয়ে যাবে। তিনি ফকীহ ছাহাবিয়াদের অন্তর্ভূক্ত ছিলেন । ইমামুল হারামাইন বলতেন : সঠিক মতামতের ক্ষেত্রে নারী জাতীর পূর্ণ ইতিহাসে উম্মুল মু’মিনীন হযরত উ¤েম সালামা আলাইহাস সালাম-উনার নজীর খুজে পাওয়া দুষ্কর। সুবহানাল্লাহ !


শিক্ষা দীক্ষায় উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীকা আলাইহাস সালাম-উনার পরেই উনার স্থান ছিল । হাদীছ শরীফ মুখস্ত রাখা ও স্মরণ শক্তির ব্যাপারে তিনি প্রায় উ¤মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীকা আলাইহাস সালাম-উনার অনুরূপ ছিলেন। অনেক ছাহাবী এবং শীর্ষ স্থানীয় তাবেয়ীগণ উনার নিকট থেকে হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন (তাবাকাত, ইছাবা). পূর্ণ কুরআন শরীফ উনার মুখস্ত ছিল (ফতহুল বারী). তিনি বিশুদ্ধভাবে সুস্পষ্ট কন্ঠে কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করতেন এবং উনার উচ্চারণ পদ্ধতি ঠিক নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার উচ্চারণ পদ্ধতির অনুরূপ সুস্পষ্ট হতো (মসনদে আহমদ ইবনে হাম্বাল). সুবহানাল্লাহ !

তিনি নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনাকে অত্যন্ত মহব্বত করতেন । নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার কয়েকটি চূল মুবারক নিজের নিকট বরকত স্বরূপ সংরক্ষণ করে রেখেছিলেন । সুবহানাল্লাহ !

উনার একটি রূপার পাত্র ছিল, তাতে তিনি চূল মুবারক সংরক্ষণ করেছিলেন। ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের কেউ কোন দু:খ-বেদনা পেলে এক পেয়ালা পানি এনে উনার সামনে রাখতেন, তিনি চূল মুবারকটি সেই পানিতে ডুবিয়ে দিতেন । সেই পানির বরকতে উনার সকল দু:খ কষ্ট দূর হয়ে যেত (আনসাবুল আশরাফ, ছাহাবিয়াত)।
সুত্র সমূহ : উসুদুল গাবা, ইছাবা, বুখারী শরীফ, ইবনে মাজা শরীফ, তাবাকাত, আনসাবুর আশরাফ, ছাহাবিয়াত,
অন্যান্য সীরত গ্রন্থাবলী।

০৫. উম্মুল মু’মিনীন হযরত হাফছা আলাইহাস সালাম

পরিচিতিঃ তিনি ছিলেন হযরত উমর ফারুক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আন্হু-উনার কন্যা, উনার বংশ ছিল কুরাইশ গোত্রের বনু ‘আদী বিন কা‘ব শাখার অন্তর্ভূক্ত।

রসুলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সাথে নিকাহ মুবারকঃ হযরত হাফছা আলাইহাস সালাম-উনার প্রথম স্বামীর বিছাল শরীফের পর উনার পিতা হযরত উমর ফারুক আলাইহিস সালাম উনার এই বিধবা মেয়ের বিবাহের ব্যাপারে খুব পেরেশান হয়ে পড়েন । অত:পর হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সঙ্গে উনার বিবাহ মুবারক অনুষ্ঠিত হয়।

বিছাল শরীফঃ হিজরী ৪৫ সনে শাবান মাসে তিনি বিছাল শরীফ প্রাপ্ত হন । তখন ছিল হযরত মু‘য়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আন্হু-উনার খিলাফত কাল । তখন উনার বয়স মুবারক হয়েছিল ৬৩ বছর । (ইছাবা)



ফযীলত ও বুযূর্গীঃ উম্মুল মু’মিনীন হযরত হাফছা আলাইহাস সালাম অধিক রোযা রাখতেন এবং অধিক নামায পড়তেন ও ইবাদত করতেন (ইবনে সা’দ). বিদ্যাবত্তা ও জ্ঞানে উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীকা আলাইহাস সালাম-উনার পরেই উনার স্থান ছিল। উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীকা আলাইহাস সালাম উনার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করতেন । তিনি বলতেন : হযরত হাফছা আলাইহাস সালাম সত্যিই উনার বাপের মেয়ে অর্থাৎ উনার বাপ হযরত উমর ফারুক আলাইহিস সালাম-উনার ন্যায় তিনি ছিলেন দৃঢ়মনা । সুবহানাল্লাহ ! কুরআনে পাক উনার সংরক্ষক হিসাবে হযরত হাফছা আলাইহাস সালাম-উনার উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে । কারণ হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি কুরআন পাক উনার যে সংকলনটি প্রস্তুত করেছিলেন, তা হযরত উমর ফারুক আলাইহিস সালাম উনার মাধ্যমে হযরত হাফছা আলাইহাস সালাম উনার নিকট পৌঁছে, যা তিনি হযরত উছমান যুন্নুরাইন আলাইহিস সালাম উনার নিকট অর্পন করেন, যা কুরআন পাক উনার ঝঃধহফধৎফ পড়ঢ়ু হিসাবে গৃহীত হয় ।

বিছাল শরীফের পূর্বে তিনি উনার ভাই হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আন্হু-উনাকে নির্দ্দেশ দিয়ে যান, যেন উনার সমস্ত অর্থ স¤পদ গরীব-দু:খীদের মধ্যে দান করে দেয়া হয় । উনার নির্দেশ কার্যকর করা হয় । সুবহানাল্লাহ ! (ইবনে সা’দ, সিয়ারু আলামিন নুবালা, উসুদুল গাবা, ইছাবা, অন্যান্য সীরত গ্রন্থাবলী)

০৬. উম্মুল মু’মিনীন হযরত যয়নব বিনতে জাহাশ আলাইহাস সালাম

পরিচিতিঃ তিনি ছিলেন রসুলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার ফুফাতো বোন ।

হযরত যায়েদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-উনার সঙ্গে নিকাহঃ এক সময় হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সঙ্গে উনার নিকাহের প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল, কিন্ত রসুলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন উনাকে নিকাহের আগ্রহ প্রকাশ করেন নি। অত:পর রসুলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার নির্দ্দেশে উনার পালক পুত্র হযরত যায়েদ বিন হারেছা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আন্হু-উনার সঙ্গে উনার নিকাহ অনুষ্ঠিত হয় ।

নিকাহ-বিচ্ছেদঃ কুরাঈশ বংশের সম্ভ্রান্ত মহিলা হযরত যয়নব আলাইহাস সালাম-উনার নিকাহ হযরত যায়েদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আন্হু-উনার সাথে সুখের হয় নি । শেষ পর্যন্ত উনাদের মনোমালিন্য এতটুকু পৌঁছে গেল যে, হযরত যায়েদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আন্হু হযরত যয়নব আলাইহাস সালাম-উনাকে তালাক দিতে বাধ্য হন এবং তিনি নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনাকে এ বিষয়ে অবহিত করেন ।



রসুলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সঙ্গে নিকাহ মুবারকঃ ইতোমধ্যে আল্লাহ পাক-উনার তরফ থেকে এই মর্মে আয়াত শরীফ নাযিল হয় — মহান আল্লাহ পাক-উনার ইচ্ছা আরবে যে কু-প্রথা প্রচলিত আছে, পালক পুত্রকে আপন পুত্রের সমান জ্ঞান করা হয়, এই কু-প্রথা রহিত করা । পালক পুত্র নিজের পুত্র নয়। অত:পর হযরত যয়নব আলাইহাস সালাম উনার সঙ্গে আল্লাহ পাক-উনার নির্দ্দেশক্রমে নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার নিকাহ মুবারক অনুষ্ঠিত হয়। সুবহানাল্লাহ !

বিছাল শরীফঃ তিনি হিজরী ২০ সালে ৫৩ বছর বয়স মুবারকে বিছাল শরীফ প্রাপ্ত হন । জীবিত থাকতেই তিনি উনার কাফন প্রস্তুত করে রেখেছিলেন । তিনি ওছীয়ত করে যান যে হযরত উমর ফারুক আলাইহিস সালাম যদি আর একটি কাফনের ব্যবস্থা করেন, তবে উনার কাফনটি যেন গরীবদের মধ্যে বন্টন করা হয় । তিনি আরো ওছীয়ত করে যান যে, উনার লাশ মুবারক যেন রসুলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার লাশ মুবারককে যে খাটিয়ায় বহন করে নেয়া হয়েছিল, সে খাটিয়ায় বহন করে নেয়া হয় । উনার ওছীয়ত মত তা-ই করা হয়। হযরত উমর ফারুক আলাইহিস সালাম উনার জানাযার নামায পড়ান। সুবহানাল্লাহ !

হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম-উনাদেরকে বলেছিলেন : أسرعكن بى لحوقا اطولكن باعًا – (আপনাদের মধ্যে যার হাত সবচেয়ে লম্বা তিনি আমার সঙ্গে সর্ব-প্রথম সাক্ষাত করবেন). রসুলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার বিছাল শরীফের পর উম্মাহাতুল মুমিনীনগণ উনাদের মধ্যে তিনিই সর্ব-প্রথম বিছাল শরীফ প্রাপ্ত হন । সুবহানাল্লাহ ! পরে সকলেই বুঝতে পারলেন যে হাত লম্বা দ্বারা অত্যধিক দানশীলা বুঝানো হয়েছে।

ফযীলত ও মর্যাদাঃ উম্মুল মু’মিনীন হযরত যয়নব আলাইহাস সালাম অন্যান্য উম্মুহাতুল মুমিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মধ্যে উল্লেখ করতেন: অন্যান্যদের নিকাহ মুবারক উনাদের পিতা-মাতা ব্যবস্থা করেছেন, আর উনার নিকাহ মুবারক স্বয়ং আল্লাহ পাক তিনি আসমানে ব্যবস্থা করেছেন (ইছাবা). সুবহানাল্লাহ!

হযরত যয়নব আলাইহাস সালাম খুব বেশী দান খয়রাত করতেন। তিনি হাতের কাজ করতেন এবং উহা বিক্রয় করে দান খয়রাত করতেন । উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীকা আলাইহাস সালাম উনার সন্মন্ধে বলতেন, দ্বীন সংক্রান্ত ব্যাপারে হযরত যয়নব আলাইহাস সালাম অপেক্ষা উত্তম কোন মহিলা আমি দেখি নি, যিনি ছিলেন অত্যন্ত খোদাভীরু, অত্যন্ত সত্যবাদীনি, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষাকারীনি, শ্রেষ্ঠ আমানতদার ও দান-খয়রাত-কারীনি । তিনি উম্মুল মু’মিনীন হযরত সাওদা আলাইহাস সালাম উনার ন্যায় কঠোর ভাবে পর্দ্দা পালন করতেন । হুয়ূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিছাল শরীফের পরে হজ্জ ও ওমরা করার জন্যও ঘর থেকে বের হন নি, যদিও এ বিষয়ে হুয়ূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুমতি ছিল ।

হযরত উমর ফারুক আলাইহিস সালাম সকল উম্মুহাতুল মুমিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের জন্য বার্ষিক ভাতা (১০ হাজার দিরহাম) নির্দ্ধারণ করেন, অত:পর প্রথম বার উনার বার্ষিক ভাতা উনার নিকট পাঠালেন। তিনি ইহা গ্রহণ করে তৎক্ষণাৎ আত্মীয়-স্বজন ও ইয়াতিমদের মধ্যে বন্টন করে দিলেন । অত:পর দোয়া করলেন : আয় আল্লাহ পাক ! হযরত উমর ইবনে খাত্তাব আলাইহিস সালাম-উনার ভাতা যেন এর পর আমার নিকট আর না পৌঁছে । অত:পর এক বছর শেষ না হতেই তিনি বিছাল শরীফ প্রাপ্ত হন । পরের বছর হযরত উমর ফারুক আলাইহিস সালাম-উনার প্রদত্ত ভাতা আর উনাকে গ্রহণ করতে হয় নি (ইছাবা). সুবহানাল্লাহ ! (সূত্র সমূহ : উসুদুল গাবা, ইছাবা, তাবাকাত)




০৭. উম্মুল মু’মিনীন হযরত উম্মে হাবিবাহ আলাইহাস সালাম

পরিচিতিঃ উনার পিতা হযরত আবু সুফিয়ান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (ইসলাম গ্রহণের পূর্বে) কুরাঈশ কাফিরদের নেতা ছিলেন।

ইসলাম গ্রহণ ও হিজরতঃ উনার প্রথম বিবাহ হয়েছিল উবায়দুল্লাহ বিন জাহাসের সঙ্গে । অত:পর ইসলামের প্রাথমিক যুগে উভয়ে একসঙ্গে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন । হযরত উম্মে হাবিবাহ আলাইহাস সালাম উনার স্বামীর সাথে হাবশায় হিজরত করেছিলেন । হাবশায় অবস্থানকালে উনার স্বামী উবায়দুল্লাহ ইসলাম ত্যাগ করে খৃষ্টান হয়ে যায় । হযরত উম্মে হাবিবাহ আলাইহাস সালাম তাকে ত্যাগ করত: সেখানে পৃথকভাবে জীবন যাপন করতে থাকেন । স্বামীর বহু চাপ সৃষ্টি সত্বেও তিনি ইসলাম ধর্ম ত্যাগে রাজী হন নি । ইসলাম ত্যাগ করে উবায়দুল্লাহ বিভিন্ন পাপ কাজে লিপ্ত হয়ে পড়ে এবং শীঘ্রই মাত্রাতিরিক্ত মদ্যপানের ফলে মৃত্যুমুখে পতিত হয় । নাউজু বিল্লাহ !

রসুলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সঙ্গে উনার নিকাহ মুবারকঃ ইতিমধ্যে নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিজরত করে মদিনা শরীফে চলে আসেন । তিনি উবায়দুল্লাহ ইবনে জাহাসের ইসলাম ত্যাগ এবং হযরত উম্মে হাবিবাহ আলাইহাস সালাম-উনার ঈমানী দৃঢ়তা ও আশ্রয়হীনতার উপরোক্ত সংবাদ পান । অত:পর হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে নিকাহ মুবারকের প্রস্তাব দিলে হাবশার বাদশাহ নাজ্জাসী রহমতুল্লাহি আলাইহি রহমতুল্লাহি আলাইহি-উনার মধ্যস্থতায় এই বিবাহ মুবারক অনুষ্ঠিত হয় । সুবহানাল্লাহ ! উনার পিতা হযরত আবু সুফিয়ান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তখনও ইসলাম গ্রহণ করেন নি। উনার নিকাহ মুবারকের কথা শুনে বলেছিলেন : ইহা তো এমন সম্ভ্রান্ত কুফু, যা প্রত্যাখ্যান করা যায় না ।

বিছাল শরীফঃ হিজরী ৪৪ সনে ৭৩ বছর বয়স মুবারকে উনার সৎভাই হযরত মু‘য়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আন্হু-উনার খিলাফত আমলে তিনি বিছাল শরীফ প্রাপ্ত হন ।

ফযীলত ও মর্যাদাঃ হযরত উম্মে হাবিবাহ আলাইহাস সালাম ইসলামের জন্য স্বীয় জন্ম ভুমি ত্যাগ করে সুদুর হাবশায় হিজরত করেন এবং সেখানে উনার স্বামী বিধর্মী হয়ে গেলে তিনি তৎক্ষণাৎ তাকে পরিত্যাগ করেন । ফলত: তিনি সমুদয় বিপদ তুচ্ছ করে ঈমানের দৃঢ়তায় ইসলামের প্রতি প্রগাঢ় ভক্তি ও চারিত্রিক মাহাত্মের পরিচয় দিয়েছিলেন । তিনি অমায়িক ও অত্যন্ত বুদ্ধিমতী ছিলেন। তিনি সর্বদা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার আদর্শ অনুসরণ করে চলতেন এবং উনাকে অপরিসীম মহব্বত করতেন। একটি ঘটনা থেকে তা বুঝা যায় । একবার উনার পিতা কুরাইশ নেতা হযরত আবু সুফিয়ান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ইসলাম গ্রহণ করার পূর্বে হুদায়বিয়ার সন্ধির মেয়াদ বৃদ্ধি করার জন্য মদীনা শরীফে আগমন করেন। এ উপলক্ষে তিনি উনার মেয়ে হযরত উম্মে হাবিবা আলাইহাস সালাম-উনার সাথে সাক্ষাত করতে উনার ঘরে আসেন । তিনি ঘরে প্রবেশ করে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার বিছানা মুবারকে বসছিলেন, ঠিক এ সময় হযরত উম্মে হাবিবাহ আলাইহাস সালাম উক্ত বিছানা উল্টিয়ে ফেলেন । উনার পিতা উনাকে জিজ্ঞেস করেন : তোমার এ বিছানা কি তোমার পিতা অপেক্ষা অধিকতর প্রিয় ? হযরত উম্মে হাবিবাহ আলাইহাস সালাম উত্তর দিলেন : ইহা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার পবিত্র বিছানা। আপনি যেহেতু কাফির, আপনি অপবিত্র । তাই এ বিছানায় আপনি বসতে পারেন না । সুবহানাল্লাহ ! তখন হযরত আবু সুফিয়ান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন : আমার পরে তোমার স্বভাব অনেক মন্দ হয়ে গিয়েছে । সুত্র সমূহ : উসুদুল গাবা,ইছাবা, অন্যান্য সীরত গ্রন্থাবলী







স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত এবং স্ত্রীকে প্রহার করা সম্বন্ধে :-


স্বামী-স্ত্রীর দাম্পত্য জীবনে আল্লাহ তায়ালা চান তারা যেন পরস্পর সুখে ও স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে পারে। কিন্তু, মাঝে মাঝে বিভিন্ন কারণে তাদের সেই মধুর জীবনে অমানিশার কালো মেঘ উকি দিতে পারে। সেসব বিষয়ের সমাধান নিয়েই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আলোচনা করেছেন সুরা নিসার ৩৪ ও ৩৫ নং আয়াতে।
আল্লাহ তায়ালা বলেন:

وَاللَّاتِي تَخَافُونَ نُشُوزَهُنَّ فَعِظُوهُنَّ وَاهْجُرُوهُنَّ فِي الْمَضَاجِعِ وَاضْرِبُوهُنَّ فَإِنْ أَطَعْنَكُمْ فَلَا تَبْغُوا عَلَيْهِنَّ سَبِيلًا إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيًّا كَبِيرًا (34) وَإِنْ خِفْتُمْ شِقَاقَ بَيْنِهِمَا فَابْعَثُوا حَكَمًا مِنْ أَهْلِهِ وَحَكَمًا مِنْ أَهْلِهَا إِنْ يُرِيدَا إِصْلَاحًا يُوَفِّقِ اللَّهُ بَيْنَهُمَا إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيمًا خَبِيرًا   (৩৫)

অর্থাৎ, তোমরা যে সমস্ত স্ত্রীদের মধ্যে অবাধ্যতার আশংকা কর তাদেরকে সদুপদেশ দাও, তাদের শয্যা ত্যাগ কর এবং প্রহার কর। যদি তাতে তারা তোমাদের অনুগত হয়ে যায় তাহলে তাদের সম্বন্ধে (বড় ধরণের) আর কোন সিদ্ধান্ত নিওনা। আল্লাহ তায়ালা সবার উপরে শ্রেষ্ঠ। আর যদি তাদের মধ্যে বিরোধের আশংকা কর তাহলে, তার পরিবার ও তোমার পরিবারের মধ্যকার একেকজন লোককে দিয়ে শালিস করতে প্রেরণ কর। তারা উভয়ের মাঝে মীমাংসা চাইলে আল্লাহ তায়ালা তাওফিক দিয়ে দিবেন। নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা সর্বজ্ঞ ও সবকিছু অবহিত। (সুরা নিসা: ৩৪-৩৫)

এই আয়াত দু’টোতে আল্লাহ তায়ালা স্বামী স্ত্রীর মধ্যে কোনরূপ সমস্যা ও মনোমালিন্যতার সৃষ্টি হলে তা সমাধানের বেশ কয়েকটা সমাধান দিয়ে দিয়েছেন। ইসলাম কর্তৃক প্রদত্ত অধিকারের বাইরে স্ত্রী তার স্বামীর অবাধ্য হলে সেগুলো অবলম্বন করে সমস্যা সমাধানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে আয়াতগুলোতে। নিম্নে ক্রমানুসারে সেগুলো উল্লেখ করা হল।

১। বুঝিয়ে শুনিয়ে তাকে সংশোধন করতে হবে।
২।নিজের ঘরের মধ্যেই তার বিছানা পৃথক করে দেবে।ঘরের বাইরে বিছানা করে দিলে ব্যাপারটা তৃতীয়পক্ষের কানে চলে যেতে পারে।ফলে,সহজে সমাধানের পথ রুদ্ধ হয়ে যেতে পারে।
৩।মৃদু প্রহার করবে।অমানুসিকভাবে প্রহার ইসলামে নিষিদ্ধ।
৪।ছেলে-মেয়ে উভয়ের পক্ষ থেকে একজন করে লোক নিয়ে সালিশ করতে হবে।
  ৫। উপরের একটা বিষয় অনুসরণের দ্বারাই যদি স্ত্রী সংশোধিত হয়ে যায় তাহলে,পরবর্তী দফা বাস্তবায়নের কোন প্রয়োজন নেই।সংশোধনের পর কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে এখানে নিষেধ করা হয়েছে।



ইসলামিক স্কলারগণ এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন: স্ত্রী যদি কোন অপরাধ করে থাকে তাহলে, তাকে বুঝিয়ে শুনিয়ে সংশোধন করতে হবে। কারণ, সেও মানুষ। আর মানুষ মাত্রই ভুল করে থাকে। তাকে বুঝাতে পারলে সামনে তার এ ভুল আর হবে না। যদি তাতেও তার সংশোধন না হয় তাহলে, তার শয্যা পৃথক করে দিতে হবে। এখানে ঘর পৃথক করতে নিষেধ করে দেয়া হয়েছে। কেননা, ঘর পৃথক করে দিলে সংশোধনের পরিবর্তে আরও ক্ষতির সমুহ সম্ভাবনা রয়েছে। সেজন্য তাকে নিজ ঘরের মধ্যে রেখেই পৃথক শয্যায় রাখতে হবে যেন সে, তার ভুল বুঝতে পেরে ফিরে আসে। তখন ফিরে আসলে ভাল কথা। এখানে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের উচিত বিষয়টা তৃতীয় কারও কানে না দিয়ে নিজেদের মধ্যে মিটমাট করে নেওয়ার ব্যবস্থা করা। নিজেদের সমস্যা নিজেরা সমাধান করে নেয়ার চেয়ে উত্তম সমাধান পৃথিবীতে আর দ্বিতীয়টি নেই। নিজেদের ভিতরের এ ব্যাপারটা তৃতীয়পক্ষ জেনে ফেললে তাতে সমস্যার সমাধান হওয়া কিছুটা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। এতে স্বামী স্ত্রীর মধ্যকার দ্বিতীয় জনের (যার বিরুদ্ধে তৃতীয় পক্ষের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে) মনোকষ্ট হওয়াটাই স্বাভাবিক। ফলে, তাদের মধ্যকার বিশ্বাসে ফাটল ধরতে পারে।

তবে, এখানে আরেকটা কথা বলতে হয়-তা হল সর্বদা স্বামীর উদার দিল সম্পন্ন হওয়া উচিত। এমনও হতে পারে যে, স্ত্রী তার ভুল বুঝতে পেরে ফিরে আসতে চায়; কিন্তু, মনের মধ্যকার লজ্জা ভাঙ্গতে পারছে না। সেই পরিস্থিতি স্বামীকেই আচ করে নিতে হবে। তাহলে, আশা করা যায় দাম্পত্য জীবনে অমানিশার কালো মেঘ উকি দিতেও সাহস পাবে না ইনশাল্লাহ। সর্বোপরি একে অপরের জন্য ত্যাগ স্বীকার করার মানসিকতা থাকা দরকার।

উপরোক্ত উপদেশ এবং শয্যা-ত্যাগেও যদি সে সংশোধন না হয় তাহলে, তাকে মৃদু প্রহারের অনুমতি দেয়া হয়েছে। তবে, শর্ত করা হয়েছে যে, প্রহার যেন কঠোর না হয়।

তবে, বহু সংখ্যক হাদীসে প্রহারকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। কারণ, ভালবাসা ও মহব্বতে যত সহজে কাজ হয়, মারধর করে ততসহজে সে কাজ করানো যায় না। একজন ছাত্রকে ভালবেসে যতটুকু শিক্ষা দেয়া যায়, প্রহার করে ততটুকু শিক্ষা দেয়া সম্ভব হয় না।

রাসুল (সাঃ) বলেছেন:- তোমাদের মধ্যে ওই ব্যক্তি উত্তম নয় যে, তার স্ত্রীদেরকে প্রহার করে।

আবু দাউদ শরীফসহ বেশ কিছু হাদীসের কিতাবে এসেছে- রাসুল (সাঃ) বলেছেন:
لاَ تَضْرِبُوا إِمَاءَ اللَّهِ
অর্থাৎ, তোমরা আল্লাহর বান্দীদেরকে (স্ত্রীদেরকে) মারধোর করো না। (আবু দাউদ, নাসায়ী, দারেমী, মুসতাদরাকে হাকেম, বায়হাকী)

একবার রাসুল (সাঃ) এর বাড়ীতে প্রচুর সংখ্যক মহিলা (বায়হাকী শরীফে এসেছে ৭০জনের কথা) এসেছিলেন তাদের স্বামীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করতে যে, হে আল্লাহর রাসুল (সাঃ)! আমার স্বামী আমাকে প্রহার করে। পরের দিন সকাল বেলা রাসুল (সাঃ) ঘোষণা করে দিলেন, গতরাতে আমার পরিবারের কাছে অনেক মহিলা এসেছিলেন তাদের স্বামীর বিরুদ্ধে মারধোর করার অভিযোগ নিয়ে। শুনে রাখ! আল্লাহর কসম, ঐ ব্যক্তিরা ভাল নয়। (আমার মতে এর সর্বোত্তম অনুবাদ হল-ওরা মানুষ নয়!! অর্থাৎ, মানুষেরা এমন কাজ করতে পারে না। ) (আবু দাউদ, বায়হাকী, নাসায়ী, ইবনে হিব্বান,মুসনাদে শাফেয়ী, মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক )

বুখারীসহ বিভিন্ন হাদীসের কিতাবে বলা হয়েছে যে, রাসুল (সাঃ) বলেছেন:
فَاضْرِبُوهُنَّ ضَرْبًا غَيْرَ مُبَرِّحٍ

অর্থাৎ, …….. তাদেরকে এমনভাবে প্রহার কর যেন তা “মুবাররিহ” না হয়।

“মুবাররিহ” এর ব্যাখ্যায় হযরত আ’তা (রাঃ) বলেছেন: আমি মুফাসসিরদের সরদার হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) কে এর অর্থ জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বলেছেন-এর অর্থ হচ্ছে মিসওয়াক কিংবা অনুরুপ কিছু দিয়ে প্রহার করা। (তাফসীরে কুরতুবী, তাফসীরে বগভী,ফাতহুল ক্বাদীর, রুহুল মাআ’নী, তাবারী, শা’রাবী,খাযেন,বাহরুল মুহীত, তাফসীরে ইবনে হাতেম,দুররুল মানসুর)

উল্লেখ্য যে, এখানে মিসওয়াক বা অনুরুপ কিছু দিয়ে মৃদু প্রহার করার অনুমতি রয়েছে তবে, তা দিয়ে গুতা দেয়ার অনুমতি নেই।


আমরা সকলেই জানি শুরাইহ নামক একজন বিচারক ছিলেন হযরত আলী (রাঃ) এর খেলাফত আমলে। তিনি ছিলেন ন্যায় বিচারের একজন মুর্ত প্রতীক। আলী (রাঃ) খলীফা (রাষ্ট্রপ্রধান) থাকাকালে তিনি একবার আলী (রাঃ) এর বিরুদ্ধেও বিচারে রায় দিয়েছিলেন। তার দাম্পত্য জীবনের একটা ঘটনা খুবই প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। উক্ত ঘটনা নিম্নে উল্লেখ করা হল।


বিচারক শুরাইহ বনী তামীম গোত্রের এক মেয়েকে বিবাহ করেছিলেন। বিবাহ পরবর্তী একান্ত সাক্ষাতের দিনের কথা প্রসংগে তিনি বলেছেন:


সেদিন আমি ওজু করলাম। তিনিও (স্ত্রী) ওজু করলেন। আমি নামাজ পড়লাম তিনিও আমার সাথে নামাজে দাড়ালেন। নামাজ শেষ করে আল্লাহ তায়ালার কাছে দুয়া করলাম তিনি যেন তার মধ্যে বরকত দান করেন এবং তার সকল অনিষ্ট থেকে আমাকে হেফাজত করেন।

তিনি হামদ ও সানা পড়ে কথাবার্তা শুরু করলেন। তাদের কথোপকথন নিম্নে উপস্থাপিত হল।

স্ত্রী: আমি আপনার নিকট একজন অপরিচিত মেয়ে। আমি জীবনে কখনো আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির পথ ছাড়া অন্য কোন পথে চলি নাই। আর আপনিও আমার কাছে অপরিচিত। আমি আপনার স্বভাব সম্বন্ধে জানি না। আপনি কি কি পছন্দ করেন আর কি কি অপছন্দ করেন তা আমার জানা নেই। সুতরাং, সে বিষয়গুলো আমাকে বলে দিলে আমি আপনার পছন্দানুযায়ী কাজ করব এবং, অপছন্দনীয় কাজ বা জিনিস থেকে দূরে থাকব।

কাজী শুরাইহ: (গুনে গুনে বলে দিলেন) আমি অমুক অমুক জিনিস, কথা, কাজ ও খাদ্যকে পছন্দ করি। আর অমুক অমুক জিনিস, কথা, কাজ ও খাদ্যকে অপছন্দ করি।

স্ত্রী: আপনি আপনার শ্বশুর বাড়ীর আত্মীয়দের সম্বন্ধে বলুন। আপনি কি চান যে, তারা আপনার বাড়ীতে বেড়াতে আসুক?

কাজী শুরাইহ: আমি বিচারক মানুষ। আমি চাই না যে, তারা আমাকে বিরক্ত করুক। (বিরক্তির পর্যায়ে না গেলে সমস্যা নেই )

স্ত্রী: আপনার প্রতিবেশীর মধ্যকার কাদেরকে আপনার বাড়ীতে আসতে অনুমতি দিবেন?

কাজী শুরাইহ: অমুক অমুক আসতে পারে। (এক এক করে সব বর্ণনা করে দিলেন)

কাজী শুরাইহ বলেন: আমি ঐ দিন তার কাছে শ্রেষ্ঠ রাত অতিবাহিত করলাম। তার নিকট ৩ দিন থেকে কোর্টে (বিচারিক কাজে) গেলাম। এরপর থেকে এমন কোন দিন পাইনি যে দিনটা আমার কাছে আগের দিনের চেয়ে উত্তম নয়।

এভাবে একবছর অতিবাহিত হল। কাজী শুরাইহ দেখলেন তার বাড়ীতে একজন বৃদ্ধা মহিলা উপদেশ ও নসীহতমুলক কথাবার্তা বলছে।

কাজী শুরাইহ: (স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে) যায়নাব! এই বৃদ্ধা লোকটি কে?

স্ত্রী: আমার শ্রদ্ধেয় মা জননী।

কাজী শুরাইহ: (শাশুড়ীকে উদ্দেশ্য করে) আমাদের বাড়ীতে আপনাকে স্বাগতম।

শাশুড়ী: হে, আবু উমাইয়া! (কাজী শুরাইহীর উপাধী, অর্থ হল-উমাইয়ার পিতা। আরবদের বৈশিষ্ট্য হল- তারা বড় সন্তানের নাম ধরে পিতাকে ডাকে) আপনারা কেমন আছেন? কেমন যাচ্ছে আপনাদের দৈনন্দিন জীবনযাপন?

কাজী শুরাইহ: আলহামদুলিল্লাহ, খুব সুন্দরভাবেই চলছে আমাদের জীবনযাপন।

শাশুড়ী: আপনার স্ত্রীকে কেমন পেয়েছেন?

কাজী শুরাইহ: আলহামদুলিল্লাহ, আমি তাকে অত্যন্ত উত্তম স্ত্রীরূপে পেয়েছি। তাকে পেয়েছি জীবনের উত্তম সংগীনী হিসেবে। আপনারা তাকে উত্তমরূপেই মানুষ করে গড়ে তুলেছেন। তাকে উত্তমভাবে আদব-কায়দা শিক্ষা দিয়েছেন।

শাশুড়ী: মহিলাদের দুই অবস্থায় কখনো মন খারাপ থাকে না। প্রথমটি হল-স্বামীর কাছ থেকে কিছু পেলে আর পুত্র সন্তান প্রসব করলে। যদি এমন কোন বিষয় দেখেন যা আপনাকে ক্রোধান্বিত করে তার ঔষধ হচ্ছে-প্রহার করা।……

কাজী শুরাইহ বলেন আমার বাড়ীতে আমার শাশুড়ী প্রতি বছর একবার করে আসতেন। আমাদের বাড়ীতে এসে তার কলিজার টুকরা সন্তানকে বিভিন্ন উপদেশ এবং নসীহত করে যেতেন।

তিনি বলেন: আমি এ স্ত্রীর সাথে গত বিশ বছর দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করলাম অথচ, তার উপর আমি কখনো রাগ করিনি(রাগান্বিত হওয়ার মত কিছু পাইনি)। অন্য কথায় বলা যায়-আমাদের ভিতর বিগত বিশ বছরের দাম্পত্য জীবনে কোন মনমালিন্যের ঘটনা সংঘটিত হয়নি। তবে, শুধুমাত্র একদিন আমি তার উপর রাগান্বিত হয়েছিলাম। তবে, সেদিনকার পরিস্থিতির জন্য আমি নিজেই দোষী ছিলাম। বরং, আমিই তার উপর জুলুম করেছিলাম। বাস্তবে তার কোন দোষ ছিল না।

এ ঘটনাটা আমাদের দাম্পত্য জীবনের জন্য একটা আদর্শ হতে পারে।

হযরত খাজা গরীব নেওয়াজ মঈনুদ্দিন চিশতী আজমীরী (রঃ)


হুযুরপাক নুরে মুজাসসাম রাসুলুল্লাহ হাবিবুল্লাহ  হযরত মুহম্মদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরবর্তী সময়ে তার প্রচারিত ইসলামকে পৃথিবীতে ছড়িয়ে দেয়ার দায়িত্ব পালন করেন সূফী সাধকরা। তারা নিজেদের জীবনকে সংকটাপন্ন করে সুদূরে পাড়ি জমিয়েছেন এবং ইসলাম প্রতিষ্ঠিত করেছেন যথাযথভাবে। আল্লাহর ইচ্ছাই তাদের ইচ্ছায় পরিণত হয়েছে। তেমনি এক মহান সাধক হলেন হযরত খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী (রঃ)। তিনি ধর্মাকাশের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনি তার সাধনার মাধ্যমে এই ভারতবর্ষে প্রতিষ্ঠিত করেছেন আল্লাহ ও রাসুলের ধর্মকে। হযরত খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী (রঃ )-এর প্রতিষ্ঠিত তরিকাকে বলা হয় চিশতীয়া তরিকা। চিশতীয়া তরিকার আদি মুর্শিদ হলেন হযরত মুহম্মদ (দঃ)। রাসুল (দঃ)-এর আধ্যাত্মিক শিক্ষা হযরত আলী (কঃ) হয়ে হাসান-আল-বসরীর মাধ্যমে অধীনস্ত সিলসিলায় বয়ে এনেছে। চিশতীয়া তরিকার চিশতী উপাধি প্রথম শুরু হয় হযরত খাজা আবু ইসহাক শামী চিশতী থেকে। তিনি সিরিয়ার অধিবাসী ছিলেন।

তিনি তাঁর মুর্শিদের আদেশে আফগানিস্তানের চিশতী নামক স্থানে বসতি স্থাপন করেন। এখান থেকেই তিনি তাসাউফ ও সিলসিলার প্রচার-প্রসার শুরু করেন। চিশতীয়া উপাধি এখান থেকেই শুরু হয়। খাজা বাবা এই তরিকায় সূত্রবদ্ধ হয়ে তরিকার দায়িত্ব পালনের ভার নেন। তাই তিনি এই তরিকার ইমাম ও কুতুব। তিনি ১১৮৫ খ্রিঃ/৫৮১ হিঃ সালে ভারতবর্ষে আগমন করে ইসলামের তওহিদ, সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব প্রচার করেন। চিশতিয়া তরিকার ইমাম ও কুতুব হযরত খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী (রঃ) ১১৪২ খ্রিঃ /৫৩৬ হিঃ সালে ইরান ও আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী জেলার সানজারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম সৈয়দ গিয়াস উদ্দীন সঞ্জরি (রহঃ) এবং মাতার নাম সৈয়্যেদা উম্মেওয়ারা বিবি (রহঃ)। তিনি পিতৃকুল ও মাতৃকুল উভয়দিক থেকেই ইমাম হাসান ও ইমাম হোসাইনের বংশধর। খাজাবাবা খাজা উসমান হারুনীর খেদমতে তাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। দীর্ঘসময় তিনি তার মুর্শিদের সেবায় নিয়োজিত থাকেন।

মুর্শিদের সান্নিধ্যে তিনি অনেক স্থান ভ্রমণ করেন এবং অনেক গুণী সাধক কামেলদের সান্নিধ্য লাভ করে মারেফতের তত্ত্ব সম্পর্কে প্রভূত জ্ঞানলাভ করেন। খাজা বাবা (রহঃ) তাঁর মুর্শিদ কেবলার সঙ্গে হজব্রত পালন শেষে মদিনায় গমন করেন। মদিনায় স্বীয় মুর্শিদ হযরত খাজা ওসমান হারুনী তাঁকে রাসুলের হাতে সঁপে দেন। নবীজী খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী (রঃ)-কে হিন্দুস্থানে গিয়ে ইসলাম প্রচারের জন্য নির্দেশ দেন। খাজা উসমান হারুনী (রহঃ) তাঁর প্রিয় শিষ্যকে সঙ্গে নিয়ে মদিনা থেকে স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের উদ্দেশে মক্কায় ফিরে আসেন। মক্কায় তরিকতপন্থীদের ইমাম, হাকিকত বিশারদ, আউলিয়াকুল করা হয়। পরে ওহাবি আন্দোলনে তাঁর মাজারসহ সকল মাজার নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হয়েছে। মুর্শিদের ওফাতের পর খাজাবাবা দারুণ ব্যথিত হৃদয় নিয়ে হিন্দুস্থানের পথে রওনা হন। খাজাবাবা (রহঃ) হুজুর বেরীর (রহঃ) দরজায় দুছত্র ফারসি কবিতা লিখেছিলেন যা আজো শ্রদ্ধার সঙ্গে সকলে পড়ে থাকেন। কবিতাটি হলো ‘গঞ্জে বখশ জগতের প্রেরণা ও খোদার নূরে। (তিনি অসামর্থ্যদের পীরে কামেল আর কামেলদের পথপ্রর্দশক।’) লাহোর ত্যাগ করে তিনি দিল্লি ও পরে রাজপুত শক্তির কেন্দ্রবিন্দু আজমিরে আস্তানা করেন। খাজা বাবার অপার মহিমায়, মানব প্রেম ও চারিত্রিক মাধুর্যে মোহিত হয়ে হিন্দু প্রভাবশালীদের প্রবল বাধা বিপত্তির মধ্যেও দলে দলে লোক ইসলাম গ্রহণ করে তাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণ করতে থাকে। এতে হিন্দু রাজা ক্ষিপ্ত হয়ে খাজাবাবাকে আজমির ত্যাগের নির্দেশ দেন। খাজাবাবা ঐ সময় বলেছিলেন ‘আমি পৃর্থিরাজকে জীবিত বন্দী করে শিহাবুদ্দীন ঘোরীর হাতে তুলে দিলাম।’ তাঁর এই ভবিষদ্বাণী অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়িত হয়েছিল।


এভাবে ভারতবর্ষে মুসলমান রাজত্ব কায়েম হয়। ভারতবষের্র দিল্লি ও আজমির মুসলিম শাসনে আসার পর মধ্যপ্রাচ্য থেকে সূফী সাধক, দরবেশ ফকিররা ভারতবর্ষে এসে ইসলাম প্রচার করেন। এঁদের মধ্যে প্রায় সবাই খাজাবাবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁর দোয়া ও অনুমতি নিয়ে দূর-দূরান্তের বিশেষ এলাকায় ছড়িয়ে পড়েন এবং বসতি স্থাপন করে ইসলাম প্রচার করে জীবনপাত করেছেন। হযরত খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী (রঃ) এক মহান মুবান্নিগ। যাঁর প্রচেষ্টার ফসল হলো ভারতবর্ষে ইসলামের সূর্যের উদয়। এবং উদয়ের ফলান্তে এদেশের মানুষ ইসলামের শান্তি লাভ করে। শরিয়ত-মারেফতের আলোতে উদ্ভাসিত হয়ে সত্যিকারের পথ ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ প্রাপ্তি হয়। চিশতীয়া তরিকার উত্থান বহুপূর্বে হলেও ভারতবর্ষে খাজাবাবা এই তরিকায় দিয়েছেন এক নতুন পরিচিতি। তিনি তরিকতের সাধনায় মানুষকে দিয়েছেন প্রকৃত মুসলমান হওয়ার শিক্ষা। খোদার পথের সাধনায় প্রথমে মানুষের ৩টি বিষয় রপ্ত করতে হবে ‘মানব প্রেম, সত্যিকারের মানবতা, আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা, অন্তর্ধ্যানে স্মরণে রাখা।’ এই বিষয়ে সর্বদাই নিজেকে নিয়োজিত রেখে তরিকার সাধনা করতে হবে। হযরত মুহম্মদ (দঃ) থেকে হযরত আলী এবং হযরত আলী থেকে হাসান বসরী এই তালিম লাভ করেন। সিনা -ব-সিনায় চলে আসা এই তালিম হযরত ওসমান হারুনীও লাভ করেন। এই তালিমগুলো লিপিবদ্ধ ছিল না। হযরত খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী (রহঃ) সুশৃঙ্খলভাবে সাজিয়ে গুছিয়ে লিপিবদ্ধ করেন।

চিশতীয়া তরিকার শাজরা শরিফ
* হুযুরপাক নুরে মুজাসসাম রাসুলুল্লাহ হাবিবুল্লাহ  হযরত মুহম্মদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
১) হযরত আলী (কঃ)
২) হযরত হাসান বসরী (রাঃ)
৩) হযরত আবদুল ওয়াহেদ (রঃ)
৪) হযরত খাজা ফজর (রঃ)
৫) হযরত ইব্রাহিম ইবনে আদম বালখী (রঃ)
৬) হযরত খাজা হোবায়ারা (রঃ)
৭) হযরত খাজা মোমশাদ (রঃ)
৮) হযরত আবু এহছাক (রঃ)
৯) খাজা আঃ এবনে ছামায়ান (রঃ)
১০) খাজা মোহম্মদ (রঃ)
১১) খাজা নাসিরউদ্দীন (রঃ)
১২) খাজা মওদুদ চিশতী (রঃ)
১৩) কাজা হাজি শরীফ জেন্দান (রঃ)
১৪) খাজা ওসমান হারুনী (রঃ)
১৫) খাজা গরিবে নেওয়াজ মঈনুদ্দিন চিশতী (রঃ) এই তরিকা মতে আব, আতশ, খাক, বাদ (পানি, আগুন, মাটি, বায়ু, এবং নুর (জ্যোতি)-কে আনাসির-এ খামসা বা পঞ্চভূত বলে। সমুদয় জড়বস্তু ও জড়দেহে (প্রাণী দেহে) আনাসিরে আর্বা বা চতুর্ভূত যেমন পানি, আগুন, মাটি ও বায়ুর সংমিশ্রণ ঘটেছে। আর চতুর্ভূতের মূলে রয়েছে নূর বা এক জ্যোর্তিময় সত্তা।

প্রত্যেক আনাসির বা ভূতে পাঁচটি করে সিফাত অথবা গুণ বিদ্যমান রয়েছে। তা আবার তিন শ্রেণীতে বিভক্ত; যথার্থ আহাদিয়াত, ওয়াহাদাত, ওয়াহেদিয়াত। নিজকে জানার তথা দেহতত্ত্বের তালিম থেকে এর পরিচিতি লাভ করা যায়। এই তালিমের চূড়ান্ত পর্যায়ে উন্নীত না হওয়া পর্যন্ত কেউ চিশতীয়া তরিকায় সিদ্ধিলাভ করতে পারে না অথার্ৎ সূফী দরবেশ হতে পারে না। হযরত খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী কাদেরিয়া তরিকায় কলেমার তালিম নিয়েছিলেন বলে কেউ কেউ চিশতীয়া তরিকার সঙ্গে সঙ্গে কাদেরিয়া তরিকার তালিমও রপ্ত করে থাকেন। নকতাবিহীন বার বর্ণ বিশিষ্ট কালেমা তাকওয়ার তাৎপর্য ও হাকিকতের পরিচিতি লাভই কাদেরিয়া তরিকার সার্থক তালিম। হযরত খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী মানুষের মাঝে যে উপদেশের বাণী রেখে গেছেন তা শুধু তরিকতপন্থীদের নয় সকল মানুষের জীবনের পাথেয় হওয়া উচিত।

তিনি বলেছেন-

* কোনো মুসলমান ভাইকে হেয় জ্ঞানে উৎপীড়নে যে ক্ষতি হয়, অন্য কোনো পাপ কাজে মানুষের সেই পরিমাণ ক্ষতি হয় না।

*কেয়ামতের আজাব থেকে মুক্তি পেতে হলে বিপন্ন, দুস্থ ও উৎপীড়িতদের খেদমত করতে হবে। অভাবগ্রস্তদের অভাব মোচন করে এবং ক্ষুধার্তদের আহার প্রদান করে।

* দানশীলতা নেয়ামতের চাবি।

*তিনি প্রকৃত আরেফ যিনি কোনো অভাবগ্রস্ত ব্যক্তিকে খালি হাতে ফেরান না।

* নেককার ব্যক্তির সংশ্রব নেক কর্ম থেকে উত্তম। পক্ষান্তরে পাপকর্ম থেকে ব্যক্তির সংশ্রব অধিকতর মন্দ।

* আ্ল্লাহ পাক যাদের ভালোবাসেন তাদের মাথার ওপর বারিধারার মতো বিপদ বর্ষণ করেন।

* পৃথিবীতে প্রত্যেক জামানায় হাজার হাজার অলি-আল্লাহ বিদ্যমান থাকেন। তাদের অনেকেই থেকে যান দৃষ্টির আড়ালে। সুতরাং পৃথিবীকে কখনই আউলিয়া শূন্য মনে করো না।

 * সর্বাবস্থায় বদনে প্রশান্তি এবং হাসির আভা বিদ্যমান থাকা আরেফ ব্যক্তিদের অন্যতম লক্ষণ। * আরেফের মস্তকে বিরামহীনভাবে নূর বর্ষিত হয়।

 * নীরবতা আরেফের স্বভাব।

 * আরেফ ঐ ব্যক্তি যিনি নিজেরে হৃদয়কে দুনিয়া ও আখেরাত উভয়ের আকর্ষণ থেকে মুক্ত রাখতে সক্ষম হয়েছেন। প্রতি মুহূর্তে আল্লাহর হাজার হাজার তাজাল্লি তার ওপর বিকশিত হয়।

 * তিনটি বস্তুর মাধ্যমে ইমানের পরিপূর্ণতা লাভ হয়। আল্লাহ ভীতি, আল্লাহপ্রাপ্তির কামনা, আল্লাহর প্রেম।

* তারাই প্রকৃত প্রেমিক, যাদের হৃদয় প্রতি মুহূর্তে জিকিরে নিমগ্ন থাকে, কিন্তু মুখ দেখে তা বোঝা যায না।

* তরিকতপন্থীদের জন্য ৫টি জিনিস দেখা এবাদত হিসেবে গণ্য মাতাপিতাকে দেখা, কুরআন শরিফ দেখা, আলেমে রব্বানীকে দেখা, বায়তুল্লাহ শরিফ দেখা, স্বীয় মুর্শিদকে দেখা।

হযরত খাজা মঈনুদ্দীন চিশতী (রহঃ) ৬৩৩ হিজরীর ৫ রজব দিবাগত রাত অর্থাৎ ৬ রজব সুবহে সাদেকের সময় ইন্তেকাল করেন। তখন তার বয়স হয়েছিল ৯৭ বছর। গরীবে নেওয়াজের বড় সাহেবজাদা হযরত খাজা ফখরুদ্দীন চিশতী (রহঃ) তার নামাজে জানাজায় ইমামতি করেন। জীবনের শেষ পর্যায়ে তিনি হযরত খাজা কুতুবুদ্দীন বখতিয়ার খাকী (রহঃ) কে খিলাফতের দায়িত্ব অর্পন করে সিলসিলার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখেন। প্রতিবছর ১লা রজব হতে ৬ রজব পর্যন্ত আজমির শরীফে খাজা বাবার মাজারে অনুষ্ঠিত হয় ওরস মোবারক। খাজা বাবার প্রত্যেকটি কার্যক্রম ছিল অলৌকিকতায় ভরপুর। খাজা গরীবে নেওয়াজ (রঃ) এর জীবদ্দশায় আজমিরবাসীগণ হজ্জ সমাপনান্তে প্রত্যাবর্তন করে প্রায়শঃ বলতো “হুজুর, কা’বা শরীফ হতে কখন আজমিরে আগমন করেছেন?” উপস্থিত লোকজন প্রত্যুত্তরে বলতো “তিনি এ বছর হজ্জে গমন করেননি।” হজ্জ হতে প্রত্যাবর্তনকারীগণ বলতো, “তাকে আমরা অক্ষ খাজা বাবাকে কা’বা শরীফ তাওয়াফ করতে দেখেছি। উপরোক্ত ঘটনা দ্বারা প্রমা ণিত হয় যে, তিনি রাতে সশরীরে খানায়ে কা’বা প্রদক্ষিণ করতেন এবং ভোরে আজমিরে উপস্থিত হয়ে বা জামায়াতে ফজরের নামাজ আদায় করতেন।

একদিন গরীবে নেওয়াজ (রহঃ) সফররত অবস্থায় সাতজন অগ্নি উপাসকের একটি দলকে অগ্নিকুন্ডের পাশে পুজারত অবস্থায় দেখেন, সেখানে গিয়ে উপস্থিত হন। অগ্নি উপাসকগণ হযরতের নূরাণী চেহারা দেখামাত্র তার পায়ে জড়িয়ে ধরেন। খাজা সাহেব তাদের অগ্নিপুজার উপকারিতা সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা বলেন, “হুজুর আমরা নরকের আগুন হতে রক্ষা পাবার জন্য, এর পুজা করে আসছি।” তাদের জবাব শুনে খাজা বাবা (রহঃ) বলেন, “ওহে বোকার দল। খোদার আদেশ ব্যতীত আগুনের কোনরূপ কর্মশক্তি নাই। যে প্রভূর আদেশে আগুন কর্মক্ষম, তার উপাসনা না করে কেন তার সৃষ্টির উপাসনায় মত্ত রয়েছ?” আগুনের পূজারিগণ খাজা বাবা (রঃ) কে উদ্দেশ্য করে বলেন, তাহলে আগুন কি আপনার ক্ষতি সাধন করতে পারে না? উত্তরে খাজা সাহেব বললেন, “মঈনুদ্দীনের কথা রাখ, খোদার হুকুম ব্যতীত তার পায়ের জুতারও কোনরূপ ক্ষতিসাধন করতে পারবে না।” এ কথা বলার সাথে সাথে খাজা বাবা নিজের জুতা জোড়া অগ্নিকুন্ডে ফেলে দিলেন। কিছুক্ষণ পর সবাই দেখল যে খাজা সাহেবের জুতা জোড়া বহাল রয়েছে আগুনে স্পর্শ করেনি। উক্ত আগুনের পূজারিগণ খাজা সাহেবের অলৌকিক ঘটনা প্রত্যক্ষ করে গভীর আস্থার সাথে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং বহুদিন পর্যন্ত তারা খাজা সাহেবের কাছে অবস্থান করেন।

একবার এক বৃদ্ধ লোক খাজা সাহেবের দরবারে এসে নগরীর হাকিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলল, “হুজুর নগরীর হাকিম অন্যায়ভাবে আমার ছেলেকে হত্যা করে আমাকে পুত্রহারা করেছে। তার বিয়োগ ব্যথা আমি সহ্য করতে না পেরে আপনার কাছে এসেছি। দয়া করে এর একটা বিহিত ব্যবস্থা করুন। খাজা (রঃ) তখন ওজুরত অবস্থায় ছিলেন। বৃদ্ধের এ কথা শুনে তার দয়ার সাগর উথলিয়ে উঠল। নিজের লাঠিখানা হাতে নিয়ে বৃদ্ধের বাসগৃহে যান। মৃত যুবকের কাছে উপস্থিত হয়ে তিনি কিছুক্ষণ মৌণভাব অবলম্বন করেন। উপস্থিত জনগণ, সাথী খাদেমগণ এবং বহু গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ পরবর্তী ঘটনা দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে থাকেন। অল্পক্ষণ পরে খাজা সাহেব মৌণতা ভঙ্গ করে খন্ডিত মস্তক শরীরের সাথে যুক্ত করে যুবককে উদ্দেশ্য করে বলেন, “হে যুবক! তুমি যদি সত্যিই নিরপরাধ হও, তবে খোদার হুকুমে জিন্দা হও।” উপরোক্ত বাক্য উচ্চারণের সাথে সাথে নিহত যুবক কালেমা শরীফ পাঠ করতে করতে দাঁড়িয়ে গেল। পিতার হাতে পুনরুজ্জীবিত ছেলেকে অর্পন করে তিনি তার সঙ্গীদের নিয়ে স্বীয় আস্তানায় ফিরে আসেন।

Wednesday, March 4, 2015

ইসলামের ইতিহাসে এক মারাত্মক ফিত্না হল ওহাবী নজদী ফিৎনা :-



★ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন ” আমি নজদের জন্য কি করে দোয়া করবো ? কারন নজদ থেকেই তো ভুমিকম্প ও ফিৎনার সৃষ্টি (শুরু) হবে , এবং এখান থেকেই শয়তানের মাথার দিকটার আবির্ভাব ঘটবে।” অর্থাৎ ফিত্নাবাজ দলের প্রধান অংশ এখান থেকেই আবির্ভুত হবে।

দলীল-
√ বুখারী শরীফ -২/১০৫১
√ মিশকাত শরীফ ৫৮২ পৃষ্ঠা- ইয়ামন ও শামের বর্ননা অধ্যায় !

★ the Prophet (s) said, “There (in NAJD ) is the place of earthquakes and afflictions and from there comes out the side of the head of Satan ( শয়তানের মাথার দিকটার আবির্ভাব ঘটবে).”
Sahi Bukhari (Book #88 , Hadith #214 )


তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নামে আত্মপ্রকাশ করেছে যখন তাদের মুখোশ উন্মোচন হয়ে যায় তখন তাদের পরিচয় পাল্টে ফেলে। যেমন : তাদেরই ১টা দল হেফাজতে ইসলাম নাম দিয়েছিল যদিও এটা রাজনিতিক ফায়দা ছাড়া আর কোন উদ্দেশ্য ছিল না। তেমনি বর্তমানে প্রচলিত ইলিয়াসী ""তাবলিগ"" এর আকিদা হল ""ওহাবীদের"" অনুরুপ (same) আকিদা।

হাদিসে পাকে চির অভিশপ্ত নজদ আর আব্দুল ওহাব নজদীর জন্ম সেই নজদ প্রদেশেই। ভবিষ্যতবাণী হিসেবে সেই ""শয়তানের শিং"" যার প্রভাব আজ সারা পৃথিবীতে বিস্তার করছে ওহাবীয়া ওরফে তাবলিগ or ohabism, Dewbond movement নামে।


Origin Ohabism Fitnah :


ওহাবীদের প্রধান নেতা Muhammad ibn ʿAbd al-Wahhāb

Full name : Muhammad ibn Abd al-Wahhab
Born : 1703 'Uyayna, Najd
Died : 1792 (aged 88–89) Emirate of Diriyah
Era :  18th century
Region : present day Saudi Arabia
Main interests : Aqeedah
Notable ideas : Views on innovations within Islam, Islamic monotheism and polytheism, Takfeer of Associanists who supplicate to dead saints and prophets for divine providence[1][2]

Influenced by : এরা হল প্রাথমিক সুত্রপাতকারী
Ibn Taymiyyah
Mohammad Hayya Al-Sindhi
Ibn Qayyim Al-Jawziyya

Influenced : আব্দুল ওহাবের প্রধান শিষ্য এরা
Abd al-Aziz ibn Abd Allah ibn Baaz
Muhammad ibn al Uthaymeen
Muhammad Nasiruddin al-Albani
Syed Ahmed Khan

Muhammad ibn ʿAbd al-Wahhab (/wəˈhɑːb/; Arabic: محمد بن عبد الوهاب‎; 1703 – 22 June 1792)[3] was a preacher and scholar from Nejd in central Arabia who founded an Islamic movement today often known as "Wahhabism", although many adherents see this as a derogatory term coined by his opponents, and prefer it to be known as "Salafism".[4][5][3][6]


রেফারেন্স সমুহ :- সার্বজনীন wiki থেকে দেখে নিন [১-৬]

http://en.m.wikipedia.org/wiki/Muhammad_ibn_Abd_al-Wahhab




এই কুখ্যাত শয়তান ইবনে আব্দুল ওহাব নজদী পরিচয় সম্পর্কে কিতাবে বর্নিত আছে :-

” ইবনে আব্দুল ওহাব নজদী ১১১৪ হিজরী মুতাবিক ১৭০৩ সালে আরবের নজদ প্রদেশে জন্মগ্রহণ করে। তার পিতার নাম আব্দুল ওহাব। বড় ভাইয়ের নাম সুলাইমান। পিতা ও ভ্রাতা দুজনেই ওই সময় বিজ্ঞ আলেম হিসাবে খ্যাত ছিলেন। কিন্তু আব্দুল ওহাবের কনিষ্ঠ পুত্র ইবনে ওহাব অত্যন্ত উদাসীন ও গোঁড়া চরিত্রের অধিকারী ছিলো। সে তার পিতা ও ভ্রাতার মতের বিপরীত চলতো এবং প্রায়ই তাদের বিরুদ্ধাচরণ করতো এবং মনগড়া নতুন মত প্রচার করে ফিৎনা পয়দা করতো। ১১৪০ হিজরী হতে এই নজদী ফিৎনার সৃষ্টি হয়। সে পবিত্র মক্কা শরীফ মদীনা শরীফের নিরীহ লোকদের পাইকারী হত্যা করে। হেরেমাইন শরীফাইনের বসবাস কারী স্ত্রী- কন্যা দের ধর্ষন করেছে। পুরুষদের দাস এবং মহিলাদের দাসীতে পরিনত করেছে। সাইয়্যিদ বংশের অনেককে শহীদ করেছে। এমনকি মসজিদে নববী শরীফের মূল্যবান সব বিছানা ও ঝাড়বাতি গুলো সে নজদে নিয়ে যায়। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনাদের মাজার শরীফগুলোকে এবং আহলে বাইত শরীফ উনাদের মাজার শরীফ গুলো ভেঙ্গে চুরমার করে দিয়েছে। এমনকি হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার রওজা শরীফ ভেঙ্গে দেয়ার জন্য একদল নজদী অনুসারী উদ্যাত হলে আল্লাহ এক সাপ পাঠিয়ে তাদের হত্যা করলেন।”


এরা নিজে বেপর্দা কিন্তু মানুষকে পর্দার বয়ান করে।

দলীল–
√ ফতোয়ায়ে শামী
√ ইশয়াতে হক্ব
√ সাইফুল মাজাহাব
√ সাইফুল জব্বার


এই প্রসঙ্গে হানাফী মাযহাবের বিখ্যাত কিতাব ” রদ্দুল মুখতার ” কিতাবে বর্নিত হয়েছে–

كما وقع في زماننا في اتباع عبد الوهاب الذين خرجوا من نجد وتغلبوا علي الحرمين وكانوا ينتحلون الي الحنا بلة لكن هم اعتقدوا انهم هم المسلمون وان من خللف اعتقادهم مشركون و استباعوا بذلك قتل اهل السنة و قتل علماء هم

অর্থ- যেমন আমাদের সময় সংঘটিত আব্দুল ওহাব নজদীর অনুসারীদের লোমহরর্ষক ঘটনা প্রনিধান যোগ্য। তারা নজদ থেকে বের হয়ে মক্কা মদীনার উপর অধিপত্য বিস্তার করেছিলো। তারা নিজেদের হাম্বলী মাজহাবের অনুসারি বলে দাবি করতো। আসলে তাদের দৃঢ় বিশ্বাস ছিলো, তারাই শুধু মুসলমান বাকি সবাই মুশরিক। এজন্য তারা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের অনুসারীদের হত্যা করা জায়িয মনে করেছে , এবং অনেক আলেম কে হত্যাও করেছে !”

দলীল-
√ রদ্দুল মুখতার-৩ খন্ড ৪২৭ পৃষ্ঠা – বাবুল বুগাত !

এছাড়া অনুরুপ বর্ণনা বিখ্যাত তাফসীর গ্রন্থ ” তাফসিরে সাবী ” ৩ খন্ড ২৫৫ পৃষ্ঠায় ও বর্নিত আছে !

এই ইবনে ওহাব নজদীর কিছু কুফরী আক্বীদা –
* মুসলমান দের তুলনায় কাফিররা লা ইলাহা ইল্লাহ এর অর্থ ভালো জনতো ! ( কাশফুল শুবহাত ৩য় অধ্যায় ৭ পৃষ্ঠা )

* নবীজী মক্কা শরীফের নেককার কাফিরদের মূর্তি ভেঙ্গে অন্যায় করেছেন !( কাশফুল শুবহাত ২য় অধ্যায়)

* রওজা শরীফ জিয়ারত নিষেধ !

* ৬০৬ হিজরী হতে তার সময় পর্যন্ত সবাই কাফের !

* নবীগন রওজা পাকে জীবীত নন !

* চার ইমামের অধিকাংশ কথাই ভুয়া !

নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক।

দলীল–
√আব্দুল ওহাব নজদী রচিত কিতাবুল আক্বায়িদ


ওহাবী মতবাদ কিভাবে সৃষ্টি হলো জানতে Confession of a British Spy বইটি পড়ুন। (গুগলে সার্চ করলে বইটি পাবেন)



দেওবন্দী মৌলবীরা এই নজদীর প্রতি কি ধারনা রাখতো সেটা দেখুন তাহলেই হিসাব সহজে মিলাতে পারবেন।

(১) দেওবন্দী দের ইমাম রশীদ আহমদ গাঙ্গুহী বলেছে-

” মুহম্মদ ইবনে আব্দুল ওহাব নজদীর অনুসারী কে ওহবী বলা হয় । তার আক্বীদা ভালো ছিলো !”

দলীল-
√ ফতোয়ায়ে রশিদীয় ১/১১৯ – তাকলীদ অধ্যায় !

(২) আশরাফ আলী থানবীর খলীফা শামসুল হক ফরিদপুরী লিখেছে –

” অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষার্ধে আরব দেশে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওহাব নামক এক ধর্মীয় নেতা এবং রাষ্ট্রীয় নেতা গুজারিয়াছেন। ক্ষুদ্র রাষ্ট্র হইলেও তিনি বেশ প্রভাবশালী ছিলেন আরব দেশে বেশ প্রভাব বিস্তার করিয়াছিলেন। অনেকগুলো সংস্কার মূলক কাজও তিনি করিয়াছিলেন !’

দলীল-
√ তাছাউফ তত্ত্ব ৩৮ পৃষ্ঠা !

(৩) বাংলাদেশের ওহবী মতবাদ প্রচারকারী দেওবন্দীদের মাসিক মদীনা পত্রিকায় লিখা হয়েছে –

” শায়েখ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব নজদি ছিলেন আরবের একজন সংস্কারক (মুজাদ্দিদ) আলেম। ধর্মের নামে ভন্ডামীর বিরুদ্ধে তিনি আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন।”

দলীল-
√ মাসিক মদীনা- সেপ্টেম্বর,২০১০ সংখ্যা ! ৫০ পৃষ্ঠা !


★★★ এবার এদের সম্পর্কে কিছু ভবিষ্যতবানী হাদিস থেকে *****







♦HADITH---

Hazrat Abu Huzaifa (Radiallhu Anhu) narrates a Hadith concerning the leaders of the mischief makers: “I swear by Allah that the Holy Prophet (Sallal Laahu Alaihi Wasallam) has not left out a single leader of Fitna from this day to the day of Qiyamah. Their followers would number 300 or more and further gave their names and that of their tribes.” (Abu Dawood)

♦HADITH---

Narrated Ibn ‘Umar: The Prophet (s)said, “O Allah! Bestow Your blessings on our Sham! O Allah! Bestow Your blessings on our Yemen.” The People said, “And alsoon our NAJD .” He said, “O Allah! Bestow Your blessings on our Sham(north)! O Allah! Bestow Your blessings on our Yemen.” The people said, “O Allah’s Apostle! Andalso on our NAJD .” I think the third time the Prophet (s) said, “There (in NAJD ) is the place of earthquakes and afflictions and from there comes out the side of the head of Satan.” Sahi Bukhari (Book #88 , Hadith #214 )



♦HADITH----

Abdullah bin Umar (Radiallhu Anhu) narrates in Muslim Shareef: “The Holy Prophet (Sallal Laahu Alaihi Wasallam) once emerged from the room of his wife, Hazrat Ayesha (Radiallahu Anha) and pointing towards Najd exclaimed:
‘This is the center of Kufr from where the horn of Shaitaan will rise’.”
(Muslim Shareef Vol. ii, PP. 1394)

♦HADITH----

Malik related to me from Abdullah ibn Dinar Radi Allahu anhu that Abdullah ibn Umar Radi Allahu anhu said, “ I saw the Messenger of Allah Salla Allahu ta’ala ‘alayhi wa Sallam pointing at the EAST ( Najd) and saying, ‘The cause of dissension is here. The cause of dissension is here, from where the helpers of shaytan arise.’ “

IMAM MALIK’S Radi Allahu anhu MUWATTA (Book #54, Hadith #54.11.29)

♦HADITH---

Sahl b. Hunaif reported Allah’s Apostle Salla Allahu ta’ala ‘alayhi wa Sallam as saying: There would arise from the east( Najd) a people with shaven heads. Sahi Muslim (Book#005, Hadith #2338)

(Mishkat Shareef pp/309 – Prints may vary and pages may be different in other publications)


♦HADITH----

Ibn ‘Umar reported
that he heard Allah’s Messenger (may peace be upon him) as saying (in a state) that he had turned his face towards the EAST ( Najd) : Behold, turmoil would appear from this side, from where the horns of Satan would appear.

Sahi Muslim
(Book #041 , Hadith #6938 )

U can seE here also::- this hadith in some different narration

Sahi Muslim
(Book #041 , Hadith #6939 )

Sahi Muslim
Book #041 , Hadith #6940 )

Sahi Muslim
(Book #041 , Hadith #6942 )

Sahi Muslim
(Book #041 , Hadith #6943 )

Sahi Muslim
(Book #001 , Hadith #0087 )

Sahi Muslim
(Book #001 , Hadith #0088 )


♦HADITH----

It is reporter on the authority of Abu Huraira that the Messenger of Allah (may peace and blessings be upon him) observed: There came the people of Yemen who are soft of hearts, tender in feelings: the beliefis that of the Yemenites, the sagacity is that of the Yemenites and the summit of unbelief is towards the EAST ( Najd)
.
Sahi Muslim
(Book #001 , Hadith #0092 )

♦HADITH----

It is reported on the authority of Jabir b. Abdullah that the Messengerof Allah (may peace and, blessings be upon him) observed: The callousness of heart and sternness is in the EAST ( Najd) and faith is among the people of the Hijaz(Medina).

Sahi Muslim
(Book #001 , Hadith #0095 )

★NAJD IS THE CENTRAL EASTERN PART OF ARABIA LYING EXACTLY TO THE EAST OF HEJAZ OR MEDINAH, PRESENTLY CALLED AS RIYADH HAIL , BURRAYDAH THE CAPITAL OF HYPOCRITES WAHHABIS AND SALAFIS , THE BIRTHPLACE OF THE GREAT DEVILS AND FITNAH IBN ABDUL WAHHAB AND THE PRESENT WAHHABI SALAFI SAUD DYNASTY



♦HADITH----

It is reported in Mishkat from Hazrat Abu Said Khudri (Radiallhu Anhu) who narrates that: “Once we
were in the presence
and company of the Holy Prophet (sallallahu alai hi wa sallam). He was distributing the booty (Spoils ofWar) when a person
named Zul-Khawaisara, who was from the tribe of Bani Tamim(Prominent Najd Tribe) addressed the Holy Prophet
(sallallahu alai hi wa sallam) “Oh Muhammad Be Just!” “. The Prophet(Sallal Laahu Alaihi Wasallam) replied: “A Great pity
that you have doubts, if I am unjust then who will be just, you are a loser and a failure. “
Zul-Khawaisara’s attitude infuriated
Hazrat Umar (Radiallhu Anhu) and he pleaded with the Prophet (sallallahu alai hi wa sallam)to permit
him to slay
Zul-Khawaisara. The Prophet (sallallahu alai hi wa sallam) remarked: “Leave him, as his slaying will serve no good purpose,
as he is not the only individual but there are a host of others like him and and if you compare their
prayers and fasting to
that of yours, you yourself will feel ashamed. These are the people whowill recite the Quran but it will
not go beyond their
throats, with all these apparent virtues they will leave the fold of Deen just like the arrow leaves the
bow.

Miskhat Shareef, pp/535 /

Sahi Bukhari 9:527 & 8:184

SAHI BUKHARI (Book #84 , Hadith #67 )






                              IMPORTANT NOTE :



                              1) Ibn ‘Abd al-Wahhab :

""" belonged to the """"Bani Tamim tribe"""". He was born in Uyayna village near the town of Huraimila in the Najd Desert
in 1111 A.H. (1699) and died in 1206 (1792).

                              2) Zul Khuwaisra :

– the man who showed so much disrespect to the Prophet (Sallal Laahu Alaihi Wasallam) was from the """"tribe of Bani
Tamim(a Prominent Tribe of Najd)""""

                                     NOTE :

THE HADITH OF NAJD (নজদ) AND EAST (পুর্বাঞ্চল) ARE

1.NAJD IS NAJD AND IRAQ IS IRAQ
2.PROPHET MUHAMMAD (SAW) CLEARLY
distinguished between Najd and
Iraq. (রাসুলুল্লাহ সা. স্পষ্টভাবে নজদ ও ইরাকের পার্থক্য সহিহ হাদিসে দ্বারা করে দিয়েছেন আমি নিজে পড়েছি এগুলো সম্পর্কে অনেক হাদিস আছে)

------------------------------------



♦Narrated Ibn ‘Umar: I took part in a Ghazwa towards NAJD along with Allah’s Apostle and we clashed with the enemy, and we lined up for them.

Sahi Bukhari
(Book #59 , Hadith #455 )


♦It is also established in the authentic Sunna that after Abu Talib’s death by about three years, in the 10th year of the Hijra,

""""""""""""""""on the
actual night that the Prophet was preparing to leave Makka for Madina, they plot to kill him by the
collective hand of a conspiracy of the tribes was hatched up by Iblis in the guise of a venerable old man
(shaykh jalîl) who, when asked who he was, he simply answered”An old man from Najd” (shaykhun min
Najd). The reports go on to refer to him as “The Old Man from
Najd” (al-shaykh al-najdî).


★Hadith cited by Ibn Hisham, al-Sira al-Nabawiyya (3:6-8);
★al-Tabari, Tafsir (9:227-228) and
★Tarikh (1:566-567);
★Ibn Kathir, Tafsir (“sahîh” 2:303 on verse 8:30) and
★al-Bidaya wa al-Nihaya;
★al-Suyuti,
★al-Durr al-Manthur (verse 8:30).


HADITH----

Hazrat Imraan, the son of Hazrat Haseen (Radiallhu Anhu) reports:

that the Prophet (Sallal Laahu Alaihi Wasallam) disliked three tribes life long.

(1) Banu Saqeef;

(2) Banu Hanifa(a Najd Tribe );

(3) Banu Umayya.

Hadith (Tirmizi Shareef)

♦IMPORTANT NOTE :
Ibn ‘Abd al-Wahhab belonged to theBani Tamim tribe

________________________________

Zul Khuwaisra – the man who showed so much disrespect to the Prophet (Sallal Laahu Alaihi Wasallam) was from the tribe of Bani
Tamim(a Prominent Tribe of Najd).

"""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
The royal family of Saudi Arabia, Al Saud , , trace their lineage to """"""""Banu Hanifa Tribe of Najd""""""""""""""""
Moulana Muhammad Ali Jauhar""""""""""""""""
has made the following observations about the Wahhabi Najdi
Jamaat



♦HADITH----

Sahl b. Hunaif reported Allah’s Apostle Salla Allahu ta’ala ‘alayhi wa Sallam as saying: There would arise from the east( Najd) a people with shaven heads.

Sahi Muslim (Book#005, Hadith #2338)

visit here for more details. here shown this najd with map :-
এই লিংকে বিস্তৃত ভাবে ম্যাপ সহ দেয়া হয়েছে :-

https://najd2.wordpress.com/










Tuesday, March 3, 2015

লোক দেখানো আমল বা রিয়াকারীর শাস্তি :-

© আমাদের সকল কাজ ও ইবাদত আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হওয়া উচিত :-


★ “আপনি বলুনঃ নিশ্চয়ই আমার সালাত, আমার কোরবানি এবং আমার জীবন ও মৃত্যু - বিশ্ব-প্রতিপালক আল্লাহরই জন্য।”
সুরা আল-আনআ’মঃ ১৬২।


© শিরিক ও এর প্রকারভেদ :-

শিরক একটি আরবি শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ সমকক্ষ করা, মিলানো, সংমিশ্রণকরা, একত্রকরণ, অংশীদার, ভাগাভাগি, সমান করা, সম্পৃক্ত করা

★ আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, তুমি যদি শিরক করো, তাহলে তোমার আমল নিষ্ফলহয়ে যাবে এবং তুমি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। (সূরা জুমার :৬৫)।

শিরক দুই প্রকার :
(১) শিরিকে আকবর বা বড় শিরিক। যেমন : আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে আল্লাহর সমকক্ষ মনে করা এবং তার ইবাদত করা,
(২) শিরিকে আসগর বা ছোট শিরিক। যেমন : লোকদেখানোর উদ্দেশ্যে সৎ কাজকরা।



এই পোস্টের মুল আলোচনা রিয়া :-


© রিয়া কি?


★ রিয়া হল লোকের প্রশংসা কুড়ানোর জন্য কোন ইবাদাত করা। { ফাতহুল মাজীদ, পৃঃ- ৫৩০}


© রিয়ার ছোট বা গুপ্ত শিরিক এবং এর পরিনাম সম্পর্কে :-


★ লোক দেখানো নামাজ মুনাফিকদের ১টি কাজ ছিল :-

وَإِذَا قَامُوا إِلَى الصَّلَاةِ قَامُوا كُسَالَىٰ يُرَاءُونَ النَّاسَ وَلَا يَذْكُرُونَ اللَّـهَ إِلَّا قَلِيلًا

আর এই মুনাফিকরা যখন নামাযে দাঁড়ায় তখন অলসভাবে দাঁড়ায়, লোকদের দেখায় এবং আল্লহ তায়া’লার যিকির খুবই কম করে। (সূরা নিসাঃ ১৪২)


★ فَوَيْلٌ لِّلْمُصَلِّينَ

অতএব দুর্ভোগ সেসব নামাযীর, [সুরা মাউন: ৪]

الَّذِينَ هُمْ عَن صَلَاتِهِمْ سَاهُونَ

যারা তাদের নামায সম্বন্ধে বে-খবর; [সুরা মাউন: ৫]

الَّذِينَ هُمْ يُرَاؤُونَ

যারা তা লোক-দেখানোর জন্য করে [সুরা মাউন: ৬]



★ রিয়া তথা লোক দেখানো ইবাদাত করা ছোট শির্ক। যা কবীরা গুণাহর চাইতেও ভয়ংকর।


★ রিয়াকে গুপ্ত শির্ক বলা হয়েছে। যা মাসীহ দাজ্জালের চাইতেও মারাত্মক। { ইবনু মাজাহ, হা/ ৫২০৪}


★ রাসুল (সা) যুগে রিয়াকে ছোট শিরকে গণ্য করা হতো। { তাবারানী, হা/ ৭১৬০; হাকিম, ৪/ ৩২৯ ; ছহীহ তারগীব, ১/ ১৮}


★ মাহমুদ ইবন লুবাইদ বর্ণনা করেছেন:
 “রাসূল (সা) বলেছেন, ‘তোমাদের জন্য আমি যা সবচেয়ে বেশী ভয় করি, তা হল ছোট শিরক বা শিরক আল আসগার।’ সাহাবীরা জিজ্ঞাসা করলেন, ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ, ছোট শিরক কি?’ তিনি উত্তর দিলেন, ‘রিয়া (লোক দেখানোর জন্য কাজ করা), নিশ্চয়ই আল্লাহ পুনরুত্থান দিবসে প্রতিদান দেওয়ার সময় লোকদের বলবেন, ”পার্থিব জীবনে যাদেরকে দেখানোর জন্য তোমরা কাজ করেছিলে, তাদের কাছে যাও এবং দেখ তাদের কাছ থেকে কিছু আদায় করতে পার কিনা।’ ” (আহমাদ, বায়হাকী,তাবারানী,বাগাভী)


★আরেকটি হাদীসে মাহমুদ ইবন লুবাইদ বলেন,
 “রাসূল (সা) বের হয়ে এলেন এবং ঘোষণা করলেন, ‘হে জনগণ, গোপন শিরক সম্বন্ধে সাবধান!’ লোকেরা জিজ্ঞাসা করল, ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ, গোপন শিরক কি?’ তিনি বললেন, ‘যখন কেউ সালাতে দাঁড়ায় এবং লোকে তাকিয়ে দেখছে জেনে তার সালাত সুন্দরভাবে আদায়ের চেষ্টা করে; এটাই গোপন শিরক।’ ”
{ ইবনু মাজাহ, হা/ ৪২৭৯ ; আহমাদ, ৩/ ৩০; ইবনু খুযাইমাহ, হা/ ৯৩৭ }


★  হযরত যুনদুব (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
যে ব্যক্তি মানুষকে শোনানোর জন্য এবং মানুষের নিকট প্রসিদ্ধি লাভ করার জন্য কোন আমল করে আল্লাহ তাআলা তার অবস্থা মানুষকে শুনিয়ে দিবেন। (অথাৎ কিয়ামতের দিন সমস্ত মানুষের সামনে তার দোষ-ক্রটি প্রকাশ করে তাকে অপমান ও অপদস্ত করবেন।) আর যে ব্যক্তি মানুষকে দেখানোর জন্য আমল করে আল্লাহ তাআলা তাকে রিয়াকারীর শাস্তি দিবেন।

(বুখারী- ২/৯৬২, মুসলিম- ২/৪১২, তিরমিযী- ২/৬১,ইবনে মাজাহ- ২/৩১০, মুসনাদে আহমাদ- ৩/৪০, শুয়াবুল ঈমান- ৫/৩৩০, তারগীব- ১/৩১, মেশকাত- ৪৫৪)
কোন কোন আলেম এর উদ্দেশ্যে এভাবে বর্ণনা করেছেন যে, রিয়াকারীকে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তার প্রাপ্ত ছওয়াব শুধু দেখাবেন, দিবেন না । ছওয়াব দেখে সে খুব আফসোস করতে থাকবে।


★ রাসূলে আকরাম (সাঃ) বলেছেনঃ
“কিয়ামাতের দিন যখন আল্লাহ তায়ালা তাঁর সত্ত্বার কিয়দংশ উন্মোচিত করবেন, তখন ঈমানদার নারী-পুরুষগণ সকলেই তাঁর সম্মুখে সিজদায় পড়ে যাবে। তবে সিজদা থেকে বিরত থাকবে কেবল ঐ সমস্ত লোক, যারা দুনিয়াতে মানুষকে দেখানোর জন্য ও প্রশংসা পাওয়ার জন্য সিজদা (সালাত আদায়) করতো। তারা সিজদা করতে চাইবে বটে, কিন্তু তাদের পিঠ ও কোমর কাঠের তক্তার মত শক্ত হয়ে যাবে (ফলে সিজদা করতে পারবে না)।”
বুখারী, মুসলিম, মিশকাতঃ ৫৩০৮।


★ হান্নাদ (রহঃ) আবূ মূসা রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল কেউ বাহাদুরী প্রদর্শনের জন্য লড়াই করে, কেউ গোত্রীয় গৌরব রক্ষার্থে লড়াই করে আর কেউ রিয়াকারী করে লড়াই করে এদের মধ্যে কোনটি আল্লাহর পথে? তিনি বললেন, যে ব্যক্তি এই জন্য লড়াই করে যেন আল্লাহর নাম সমুন্নত হয় সে ব্যক্তই আল্লাহর পথে প্রতিষ্ঠিত। এই বিষয়ে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ মূসা রাদিয়াল্লাহু আনহ বর্ণিত রিওয়ায়াতটি হাসান-সহীহ।
হাদিস নম্বরঃ 1652
গ্রন্থের নামঃ জামে তিরমিজী (ইফাঃ)



★ আবু হুরায়রা (রা:) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, ‘ক্বিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম যে ব্যক্তির বিচার করা হবে, সে হবে একজন (ধর্মযুদ্ধে শাহাদাত বরণকারী) শহীদ। তাকে আল্লাহ্‌র নিকট উপস্থিত করা হবে। অতঃপর আল্লাহ্‌ পাক তাকে (দুনিয়াতে প্রদত্ত) নেয়ামতসমূহের কথা স্মরণ করিয়ে দিবেন। আর সেও তা স্মরণ করবে। এরপর আল্লাহ্‌ তাআলা তাকে জিজ্ঞেস করবেন, দুনিয়াতে তুমি কি আমল করেছ? উত্তরে সে বলবে, আমি তোমার সন্তুষ্টির জন্য (কাফেরদের সাথে) লড়াই করেছি। এমনকি শেষ পর্যন্ত শহীদ হয়েছি। তখন আল্লাহ্‌ বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছ, বরং তোমাকে যেন বীর-বাহাদুর বলা হয়, সেজন্য তুমি লড়াই করেছ। আর (তোমার অভিপ্রায় অনুযায়ী) তোমাকে দুনিয়াতে তা বলাও হয়েছে। অতঃপর তার ব্যাপারে আদেশ দেওয়া হবে। তখন তাকে উপুড় করে টেনে-হিঁচড়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।

অতঃপর সে ব্যক্তিকে বিচারের জন্য উপস্থিত করা হবে, যে নিজে দ্বীনী ইলম শিক্ষা করেছে এবং অপরকে শিক্ষা দিয়েছে। আর পবিত্র কুরআন অধ্যয়ন করেছে (এবং অপরকে শিক্ষা দিয়েছে)। তাকে আল্লাহ্‌ পাকের দরবারে হাযির করা হবে। অতঃপর তিনি তাকে নেয়ামতসমূহের কথা স্মরণ করিয়ে দিবেন এবং সেও তা স্মরণ করবে। অতঃপর আল্লাহ্‌ তাআলা তাকে জিজ্ঞেস করবেন, এই সমস্ত নেয়ামতের শুকরিয়া জ্ঞাপনের জন্য তুমি কি আমল করেছ? উত্তরে সে বলবে, আমি স্বয়ং দ্বীনী ইলম শিক্ষা করেছি এবং অপরকে শিক্ষা দিয়েছি এবং তোমার সন্তুষ্টির নিমিত্তে কুরআন তেলাওয়াত করেছি।

তখন আল্লাহ্‌ বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছ। আমার সন্তুষ্টির জন্য নয়, বরং তুমি এজন্য ইলম্ শিক্ষা করেছ, যেন তোমাকে ‘বিদ্বান’বলা হয় এবং এজন্য কুরআন অধ্যয়ন করেছ, যাতে তোমাকে‘ক্বারি’ বলা হয়। আর (তোমার অভিপ্রায় অনুযায়ী ) তোমাকে বিদ্বান ও ক্বারীও বলা হয়েছে। অতঃপর (ফেরেশতাদেরকে) তার সম্পর্কে নির্দেশ দেওয়া হবে। সুতরাং তাকে উপুড় করে টানতে টানতে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।

অতঃপর এমন এক ব্যক্তিকে বিচারের জন্য আল্লাহ্‌র দরবারে উপস্থিত করা হবে, যাকে আল্লাহ্ তাআলা বিপুল ধন-সম্পদ দান করে বিত্তবান করেছিলেন। তাকে আল্লাহ্‌ তাআলা প্রথমে প্রদত্ত নেয়ামতসমূহের কথা স্মরণ করিয়ে দিবেন। আর সে তখন সমস্ত নেয়ামতের কথা অকপটে স্বীকার করবে। অতঃপর তিনি তাকে জিজ্ঞেস করবেন, এই সমস্ত নেয়ামতের শুকরিয়ায় তুমি কি আমল করেছ? উত্তরে সে বলবে, যে সমস্ত ক্ষেত্রে ধন- সম্পদ ব্যয় করলে তুমি সন্তুষ্ট হবে, তোমার সন্তুষ্টির জন্য সেসব খাতের একটি পথেও ব্যয় করতে ছাড়িনি। আল্লাহ্‌ তাআলা বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছ। আমার সন্তুষ্টির জন্য নয়; বরং তুমি এই উদ্দেশ্যে দান করেছিলে, যাতে তোমাকে বলা হয় যে, সে একজন ‘দানবীর’। সুতরাং (তোমার অভিপ্রায় অনুসারে দুনিয়াতে) তোমাকে ‘দানবীর’বলা হয়েছে। অতঃপর (ফেরেশতাদেরকে) তার সম্পর্কে নির্দেশ দেওয়া হবে। নির্দেশ মোতাবেক তাকে উপুড় করে টানতে টানতে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে । [মুসলিম হা/১৯০৫ ‘নেতৃত্ব’অধ্যায়, অনুচেছদ-৪৩; মিশকাত-আলবানী হা/২০৫, ‘ইলম’অধ্যায় ]


★ ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় যেকোনো শিরক থেকে বাঁচার গুরুত্বপূর্ণ একটা দুয়াঃ

আবু মুসা বলেন, “একদিন আল্লাহর রাসূল (সা) এক ভাষণে বললেন ‘হে লোকসকল, শিরককে ভয় কর, কারণ এটি পিঁপড়ার চুপিসারে চলার চেয়েও গুপ্ত।’ যারা আল্লাহ চেয়েছিলেন জিজ্ঞাসা করল, ‘আমরা কিভাবে এ থেকে বেঁচে থাকব যদি তা পিঁপড়ার চলার চেয়েও গুপ্ত হয়, ইয়া রাসূলুল্লাহ?’ তিনি বললেন,


اللَّهُمَّ  إِنِّي أَعُوذُ بِكَ أَنْ أُشْرِكَ بِكَ وَأَنَا أَعْلَمُ، وَأَسْتَغْفِرُكَ لِمَا لاَ أَعْلَمُ

উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা ইন্নী আ’উযুবিকা আন উশরিকা বিকা ওয়া আনা আ’লাম, ওয়া আস-তাগফিরুকা লিমা লা আ’লাম।

অনুবাদঃ হে আল্লাহ! আমার জানা অবস্থায় তোমার সাথে শিরক করা থেকে তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আর আমার অজানা অবস্থায় কোনো শিরক হয়ে গেলে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
আহমাদ ৪/৪০৩, হাদীসটি সহীহ, সহীহ আল-জামে ৩/২৩৩।
হিসনুল মুসলিমঃ পৃষ্ঠা ২৪৬।

বিপদে আপদের সময় যেসব দোয়া পড়বেনঃ

বিপদ-মসিবতে পাঠ করার জন্য কতিপয় দোয়া  এবং এর জন্য আমল: ♦১) উম্মে সালমা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ও...